জয়ন্ত দে

দুটো খবরের কাগজ আসে এ-বাড়িতে। একটা বাংলা। এই খবরের কাগজে কাজ করে অমিত্রসূদন। আর একটা ইংরেজি। অমিত্রসূদন লেট রাইজার। সকালের কাগজটা শকুন্তলাই আগে পড়ে। কিন্তু আজ সে জানলার সামনে দাঁড়িয়েছিল। গোপালের থেকে খবরের কাগজটা আজ অমিত্রসূদন হাতে হাতেই নিল। নিয়ে পুরো সিঁড়ি ভেঙে দোতলায় উঠল না। সিঁড়ির মুখেই খুলে দেখল—রাজীব বা অবিনাশের কথাই সত্যি। দুটো খবরের কাগজই সেকেন্ড লিড করেছে খবরটা; ‘রয়্যাল গার্ডেনে জন্মদিনের পার্টিতে খুন’।
খুন!
জিজ্ঞাসার চিহ্ন পর্যন্ত নেই—সরাসরি বলে দিল খুন? খুন কে বলল—পুলিশ? পুলিশ তাহলে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছে গিয়েছে? অমিত্রসূদন সিঁড়ির ধারে দাঁড়িয়ে ঘামছিল। চারপাশ ঝাপসা লাগছে। আর্য কি তাহলে তাকে মিথ্যে কথা বলছে? এত বড় মিথ্যে কথা!
উপরে আসতে ফ্যাসফেসে গলায় শকুন্তলা বলল, ‘কী লিখেছে?’
অমিত্রসূদন কাগজটা ওর হাতে দিয়ে বাথরুমে ঢুকল। মনে হচ্ছিল তার মাথা টলছে, চোখ মুখ অন্ধকার হয়ে আসছে। তাকে শান্ত হতে হবে— মিথ্যে! মিথ্যে! মিথ্যের কালো মেঘ ঘনিয়েছে চারিদিকে। হয় আর্য, নয় পুলিশ, নাহলে মিডিয়া?
তার এখন কিছুক্ষণ একা থাকা দরকার। একদম একা। সে জলের কল খুলে দিল। বন্ধ কমোডের ওপর বসে থাকল অনেকক্ষণ। তার মনে হচ্ছে, সামনে আসন্ন এক যুদ্ধ! যা আর্য ঘুম ভেঙে উঠলেই শুরু হয়ে যাবে।
দীর্ঘ সময় ধরে সে ব্রাশ করল। ব্রাশ করতে করতে দু-তিনবার ওয়াক উঠে এল। বাইরে বেরিয়ে বলল, ‘বাজার করতে হবে?’
আজ রোববার। রোববার যে কোনও বাঙালি বাড়ির বাজার করার দিন। রোববার হয় মাটন, নয় চিকেন।
‘বাজার!’ বিস্ময়ে তার দিকে তাকিয়ে থেকে শকুন্তলা বলল, ‘না, কিছু লাগবে না।’
‘মাছ আছে? মাছ নিয়ে আসি, মাছের ঝোল ভাত করো।’
অমিত্রসূদন বাজারের ব্যাগ নিয়ে বেরিয়ে পড়ল। এই ঘটনার কথা এখনও তার চারপাশের কেউ জানে না। পাড়া প্রতিবেশীরা জানে না। অমিত্রসূদন বুঝতে পারছিল, আস্তে আস্তে এরাও জানবে, আজ একটু পর থেকেই হয়তো পালটে যাবে তাদের জীবনযাপন। আর তারা আমআদমি থাকবে না। সে জানে। সে খুব জানে। আগে থেকেই বুঝতে পারছে। দীর্ঘ পঁচিশ বছর মিডিয়ার সঙ্গে থেকে সে জানে এধরনের কথাগুলো কী দ্রুত একজন মানুষ, একটা পরিবারকে আলাদা করে দেয়। আর পাঁচজনের থেকে আলাদা করে, এদের গায়ে অদৃশ্য একটা চিহ্ন এঁকে দেয়।
অনেকদিন পরে সবার সঙ্গে মিশে অমিত্রসূদন বাজারের মধ্যে হেঁটে বেড়ালো, ঘুরে বেড়ালো। কাল থেকে, কিংবা পরশু থেকে সে কী সবার সঙ্গে মিশে অথবা সবার চোখের আড়াল হয়ে এমন করে ঘুরে বেড়াতে পারবে? একজনও কি তাকে দেখে ফিসফিস করবে না? বলবে না...
অমিত্রসূদনের হঠাৎ মনে হল, সে কি বেশি ভাবছে? বেশি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ছে? সে কি আতঙ্কগ্রস্ত? অনেকদিন আগের কথা, একসময় রোজ খবরের কাগজ খোলার সময় তার মনে হতো, সে তার একজন প্রিয় মানুষের অ্যাক্সিডেন্টের খবর দেখবে। একজন অতি প্রিয় মানুষ, তার জামাইবাবুর নাম দেখবে কাগজে। কেন মনে হত সে জানে না। একদিন একজন সিনিয়রকে পুরোটা খুলে বলল। তিনি সব শুনে বললেন, ‘জামাইবাবু, দিদির হ্যাজবেন্ড। ভাই নয়, বোন নয়, মা নয়, দিদির বর। আশ্চর্য! খুব ভালোবাসিস তাকে?’ অমিত্রসূদন ঘাড় নেড়েছিল, ‘হ্যাঁ। খুব ভালোবাসি। সে না থাকলে আমরা খুব বিপদে পড়ে যাব। আমি এখানে আর ক’ টাকা মাইনে পাই। এ টাকায় এক সপ্তাহও চলবে না। বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে এই দিদির হ্যাজবেন্ডই আমাদের সংসারটা টানছে।’ সিনিয়র কলিগ ভদ্রলোক চোখ বুজে ঘাড় নাড়লেন। বললেন, ‘আসলে জামাইবাবু নয়, তুই তোর বিপদের কথা ভাবছিস। টাকাটা বন্ধ হলে তোরা বিপদে পড়ে যাবি। তাই—।’
আজ অমিত্রসূদন কি আর্য নয়, আত্মজ নয়, তার নিজের বিপদের কথা ভাবছে? তাকে ঘিরে যে একটা দুনিয়া—সেটা আসন্ন বিপদে কতখানি বদলে যাবে তার হদিশ করছে! তার নাট্যমঞ্চের আলো কি অন্ধকার হয়ে গেল, না কি পর্দা পড়ল হঠাৎই!
অমিত্রসূদন এসে দাঁড়াল একটা খবরের কাগজের স্টলের কাছে। ছেলেটা অমিত্রসূদনকে চেনে একজন খবরের কাগজের রিপোর্টার বলে। একটু যেন কোথাও বেশি খাতিরও করে। ওকে দেখেই বলল, ‘আইজ ত কাগজ গরম করে দিসে বড়লোকের বানচোত গুলান। মাল খেয়ে দিসে একডারে টপকাইয়া।’
অমিত্রসূদন বাক্যহীনভাবে অন্য দুটো বাংলা কাগজ, আর একটা ইংরেজি কাগজ কিনল। বাইরের একটা চায়ের দোকান থেকে একটা চা নিয়ে বসল। সব কাগজগুলো খুলে পর পর রয়্যাল গার্ডেনের খবরগুলো পড়ে ফেলল নিমেষে। চা শেষ করে আবার বাজারে ঢুকল। এক কিলো কাটা পোনা, এক কিলো মুরগির মাংস, তিন কিলো আলু, দু’কিলো পিঁয়াজ, আদা, রসুন, লঙ্কা কিনল। চিনি, দু’রকম ডাল, কফি, গুঁড়ো দুধ, দুটো তেলের প্যাকেট কিনে বাড়ি ফিরল। তার আগে রাস্তায় ডাস্টবিনে তিনখানা খবরের কাগজ ফেলে দিল।
দু’হাত ভরে এত বাজার নিয়ে বাড়ি ঢুকতে শকুন্তলা অবাক। আজ এত বাজার! রবিবারে এমনই বাজার হয়, তা বলে আজ?
অমিত্রসূদন হালকা গলায় বলল, ‘কাগজে দেখছিলাম নিম্নচাপ হয়েছে, খুব ঝড় বৃষ্টি হতে পারে। মুগ, মুসুর, আর পোস্তও আছে। ঘরে চাল, আটা আছে তো? দেখে বলো নইলে আবার যেতে হবে।’
অমিত্রসূদন যেন আসন্ন লড়াইয়ের আগাম রসদ সংগ্রহ করছে।
শকুন্তলা কী ভাবল, সে কিছু দেখেনি, নিম্নচাপের খবর তার নজর এড়িয়ে গেছে? তবে ভালো করেছে, ক’দিন আর বাজারে যেতে হবে না। বাড়ির পাশেই একটা মুদিখানা দোকান আছে, দোকানটার সামনে নিত্য সকালে একটা আড্ডা বসে, পুরো এলাকার খবরাখবর চলে। ভালোই হল ক’দিন ওই দোকানমুখো হতে হবে না।
আর্য ঘুম থেকে উঠে পড়েছে। শকুন্তলার কাছে এসে বলল, ‘মা আমি কি বাইরে যাব?’
‘বাইরে যাবি মানে?’
‘কাল বলছিলে না চুল কাটার কথা—? আমি চুল কাটাতে যেতাম।’
অমিত্রসূদন দেখছিল, একদিনেই আর্য যেন কেমন থমকে গিয়েছে! ও কেন এভাবে থমকে যাবে?
‘রোববার খুব ভিড় হবে। তাহলে এখনই যা।’ শকুন্তলা বলল।
অমিত্রসূদন টাকা এগিয়ে দিল। আর্য চুল কাটাতে চলে গেল। সিঁড়িতে আর্যর লাফিয়ে লাফিয়ে নামার শব্দ, সারা বাড়ি কাঁপিয়ে দড়াম করে দরজা বন্ধ হল। কাল পর্যন্ত এই শব্দ, এই আওয়াজে অমিত্রসূদন বিরক্ত হত। আশ্চর্য! আজ এই শব্দ আওয়াজ তাকে কেমন চনমনে করে দিল। মনে হল, এগুলোই যেন জীবন আর সত্য। এই শব্দ প্রাণের। এই শব্দ তাকে বিশ্বাস দিচ্ছে, ভরসা দিচ্ছে। বলল, ‘চা দাও।’
আর্য ফিরল প্রায় ঘণ্টা দেড়েক পরে। ওর সারা মুখ রাগে লাল, থমথম করছে। শকুন্তলা ভেবেছিল, চুল কেটে খুশি হয়নি, নির্ঘাত ছোটবড়, আঁকাবাঁকা কিছু করেছে। সে আগ বাড়িয়েই বলল, ‘বাহ্ বেশ ভালো চুল কেটেছে—।’
আর্য দোতলায় উঠেই বলল, ‘আমাদের নিউজ পেপারগুলো কোথায়, দাও তো—। সেলুনের নিউজ পেপারে দেখলাম রিপোর্ট করেছে—খুন! সবাই ওখানে আলোচনা করছে। আমি শুধু বলেছি, খুন নয়, অ্যাক্সিডেন্ট। তাতে সবাই কেমন হই হই করে উঠল। আমি যেন ফালতু কথা বলছি, বাজে কথা বলেছি। তার মধ্যে একজন আওয়াজ দিল—“তোমার বাবা তো কাগজে আছেন না? তোমার কাছে কি এটা এক্সক্লুসিভ খবর? তাহলে তোমার বাবাদের কাগজেও খুন লিখছে কেন?” একজন বলল, “সব চ্যানেলেই নাকি খুন বলেছে—!”’ আর্য ছটফট করে, ‘দেখি, বাবিদের কাগজটা কোথায়—দেখি কী লিখেছে?’
অমিত্রসূদন পড়ার ঘর থেকে বেরিয়ে এল, ‘কী হয়েছে—?’
মুখ বেঁকিয়ে আর্য বলে, ‘এই জন্যে এই সেলুনটায় যাই না, যত ফালতু লোকজনের ভিড়—থার্ড ক্লাস হিন্দি গান চলছে—আর পণ্ডিতগুলো বসে আছে। আমার সব কথায় এমনভাবে হাসছিল, যেন আমি কিছু জানি না, সব ওরা জানে—।’
শকুন্তলা চাপা গলায় বলল, ‘তুই ওদের আবার উলটোপালটা কিছু বলিসনি তো—? তুই ওখানে ছিলিস টিলিস—।’
‘না, না, আমাকে কি বোকা পেয়েছ? অনেকক্ষণ ধরে মার্ডার মার্ডার বলে চিৎকার করছিল, মদের বোতল ভেঙে নাকি পেটে ঢুকিয়ে দিয়েছে—এসব গল্প দিচ্ছিল, আমি তাই ওদের একটু অরিজিনালটা বলতে গিয়েছিলাম; কিন্তু দেখলাম ওরা আমার থেকেও বেশি জানে—সব ইডিয়ট!’
অমিত্রসূদন বলল, ‘ছাড়, কিছু হলে সাধারণ মানুষজন নানা কথা বলবেই।’
‘বলবে মানে—বেসলেস ভাবে বলবে? বাবি তোমাদের কাগজটা কোথায় দাও তো, দেখি কী লিখেছে—।’
অমিত্রসূদন বলল, ‘দিচ্ছি, তোর গা মাথা থেকে চুল পড়ছে—যা, আগে স্নান করে আয়—।’
আর্য উঠল, রাগে গরগর করতে করতে স্নান করতে চলে গেল। যাওয়ার আগে বলে গেল, ‘সব কাগজগুলো দাও আমি এসে পড়ব।’
আর্য চলে যেতেই শকুন্তলা চাপা গলায় বলল, ‘টিভিটা খারাপ হয়ে ভালো হয়েছে—শোনো, খবরের কাগজগুলো সরিয়ে রাখো, বলে দেব, গোপালের শরীর খারাপ।’
অমিত্রসূদন বলল, ‘না, কী দরকার! ওকে আগে খেতে দাও, তারপর আমি কাগজ দিচ্ছি।’
‘কাগজ দেবে—?’
‘হ্যাঁ, দেব।’
আর্য বেরিয়ে এল স্নান করে, ওকে খুব সুন্দর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন লাগছে। বড় চুলের বাচালতা যেন মুছে গেছে নিমেষে। শকুন্তলা খাবার এগিয়ে দিল। আর্য খেতে খেতে বলল, ‘নিউজ পেপারগুলো কোথায়, দিলে না—?’
আর্য অস্থির যেন, মুখে একটু খাবার দিয়ে উঠে গেল অমিত্রসূদনের ঘরের দিকে।
ফোন এসেছে অমিত্রসূদনের। ফোন করেছে অবিনাশ।
‘কাল তুই আমাকে বলতেই পারতিস—আর্য ওই পার্টিতে ছিল।’
‘কী আর বলব, সবই তো তুই জানিস। আমার আলাদা করে বলার কিছু ছিল না।’
‘না, সাসপেক্টেড কে তার নাম তো জানলি; তখন তোর একবার বলা উচিত ছিল।’
‘হ্যাঁ, তোর দিক থেকেও বলা উচিত ছিল। আমি আর কী বলব? আমার ওটুকুই জানার দরকার ছিল।’
‘না, আমাকে অন্য একজনের কাছ থেকে শুনতে হল—।’
‘আমি মনে করেছিলাম, তুই জানিস। কেন না সতেরোজনের নাম, বাবার নাম, বার্থ সার্টিফিকেট, বাড়ির ঠিকানা—সব তোর কাছে আছে। তোর হাতের সামনে। চোখ বোলালে আমার নাম, আর্যনীলের নাম তুই পেয়ে যাবি। আমি আর তোকে আলাদা করে কী বলব?’
‘না। আমি অত মন দিয়ে দেখিনি—সবাই নাবালক। সবারই ভবিষ্যৎ আছে। দুর্ভাগ্যক্রমে একটা খুনখারাবিতে জড়িয়ে পড়েছে—তাই তাদের নাম-ধামগুলো দেখিনি।’
‘এই দেখ, একটু দেখলে তোকে আর অন্যের মুখ থেকে শুনে কষ্ট পেতে হত না।’
‘না, না, আমার খুব খারাপ লাগছে, আর্যর মতো ভালো ছেলে—।’
‘হ্যাঁ আমারও খুব খারাপ লাগছে. এই বয়েসে একটা বন্ধুর মৃত্যু— সামলাতে সময় লাগবে।’
‘শোন শুধু মৃত্যু হলে, আজকালকার ছেলেমেয়েরা অনেক স্ট্রং ঠিক সামলে নেবে। কিন্তু—একটা মার্ডার কেসে জড়িয়ে পড়লে—পুলিশ কোর্ট—খুব মুশকিল—অনেককিছুই এলোমেলো হয়ে যাবে।’
‘ওটা মার্ডার নয়, অ্যাক্সিডেন্ট।’
‘আর্য বলছে—?’
‘আমি ছিলাম না। ওর কাছ থেকেই যা শোনার শুনেছি।’
‘পুলিশ কিন্তু অন্য কথা বলছে রে—ওদের ফার্স্ট রিপারকেশন ছিল—মার্ডার। সেখান থেকে কিন্তু সরে আসেনি। এখনও সন্দেহজনক বিষয় বলেই দেখছে—।’
‘হ্যাঁ, মিডিয়াও তাই বলছে, কারও কোনও সন্দেহ নেই, সবাই বুঝে গেছে ওটা খুনই—এভাবেই দেখছে—।’
‘আসলে জন্মদিনের পার্টি—, ছেলে মেয়ে—মদ, হুল্লোড়— মদের বোতল ভাঙাভাঙি—।’
‘অবিনাশ, আমি আজ মোটামুটি সব কাগজগুলোই পড়েছি, এরকমই সব লিখেছে, উনিশ-বিশ। আর ওদের কথাও শুনেছি, যার সঙ্গে লেখা কথাগুলোর সব মিল পাচ্ছি, শুধু একটা জায়গায় মিল পাচ্ছি না, সেটা ওই মদের বোতল ভাঙাভাঙি আর খুনখারাবি, মানে মার্ডার। আশা করি ইনভেস্টিগেশনে সব পরিষ্কার হয়ে যাবে।’
‘মদের বোতল ভেঙে কিন্তু মারা গেছে!’
‘আমার ছেলেও তাই বলেছে—।’
‘ওকে কি থানা থেকে কোনও ফোন টোন করেছে—।’
‘না, কাল তোর কথামতো ভেবেছিলাম রাতে ধরপাকড় হবে, তবে এখনও ফোন আসেনি, বা ধরে নিয়ে যায়নি।।’
‘শুনলাম, পুলিশ বন্ধুদের সবাইকে ডেকেছে—তোদের কাছে ফোন আসবে—।’
‘হ্যাঁ, আজ আমার ছুটি। আজ ডাকলে আমি নিয়ে যাব। কাল হলে মুশকিল। ওর মাকে দিয়ে পাঠাতে হবে। নাহলে একাই যাবে।’
‘কোনও লইয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিস না কি?’
‘না।’
‘করে রাখতে পারিস। প্রয়োজন হলে বলিস।’
‘আচ্ছা রে, নিশ্চয়ই বলব।’
অমিত্রসূদন ঘরের বাইরে এসে দেখল, খাবার টেবিলের নীচে ফ্যানের হাওয়ায় খবরের কাগজগুলো ফরফর করে উড়ছে। যেন আজকের সমস্ত সংবাদপত্রের পাতাগুলো অফুরান উল্লাসে মেতেছে! আর ধ্বংসস্তূপের মতো খাবার টেবিলে বসে আর্যনীল!
একই সঙ্গে অমিত্রসূদন ও শকুন্তলার দুটো ফোন বেজে উঠল। শকুন্তলার চেনা নম্বর। লোকাল কেবল টিভির অফিস থেকে। ফোন ধরতেই বলল, ‘বউদি একবার টিভিটা চালিয়ে দেখে নিন তো, এখন সব লাইন ঠিক হয়ে গেছে। কাল দুপুর থেকে আমাদের সব লাইন বসে গিয়েছিল। আর প্রবলেম হবে না, যদি হয় ফোন করবেন।’
অস্ফুটে শকুন্তলা বলল, ‘ও, তোমাদের লাইনে গোলমাল ছিল? অথচ আমি তোমাদের কাল দুপুরেই ফোন করেছিলাম। আমাকে একজন বলল, “লাইন একদম ওক্কে। আপনার টিভির প্রবলেম।” ঠিক আছে, দেখছি—।’
অমিত্রসূদনের বেজে ওঠা ফোন নম্বরটি অচেনা। ফোন ধরতেই বলল, ‘আর্যনীল দাশগুপ্ত। আজ তিনটের সময় যাদবপুর থানা। ছেলেকে সঙ্গে আনবেন, ওর স্কুলের আইডেন্টিটি কার্ড, বার্থ সার্টিফিকেট আর মোবাইল ফোনটা। সঙ্গে বাবা মা আসতে পারেন, অন্য কাউকে অ্যালাউ করব না। আর একটা কথা, জায়গা এবং সময় কাউকে জানাবেন না। মিডিয়ার ডিস্টার্বেন্স আছে। এটা আপনাদের ছেলেমেয়েদের কথা ভেবেই বলা। দুপুর তিনটে—যাদবপুর থানা।’
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন