উনিশ

জয়ন্ত দে

এক গা জ্বালা-পোড়া নিয়ে শকুন্তলার ঘুম ভাঙে ভোরবেলায়। হয়তো একটু বেশিই তাড়াতাড়ি। কাল সারা রাত ঘুম হয়নি। কেমন যেন ভয় হচ্ছিল, মনে হয়েছিল, অনেকগুলো আলো চলে যাচ্ছে পরপর। তার পিছনে কী ভয়ঙ্কর অন্ধকার! এক পা এগোলেই মাথা ঠুকে যাবে, এক পা পিছোলেই খাদে পড়ে যাবে। অদ্ভুত একটা জায়গায় সে দাঁড়িয়ে আছে। ভোররাতে হয়তো ঘুম এসেছিল। কিন্তু সে ঘুমও বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। মাথার ভেতর প্রচণ্ড জ্বালা নিয়ে সে উঠে বসল। আর মাথার ভেতর হাত বোলাতে গিয়ে তার আঙুলের ডগায় উঠে এল এক খাবলা চুল।

কী অদ্ভুত! চুল পড়ার তো একটা নিয়ম আছে। একটু একটু করে ঝরবে। কিন্তু এ যেন সব চুলের গোড়াগুলো নরম হয়ে গেছে। সব আলগা হয়ে উঠে এল আঙুলের ডগায়। যত বার সে আঙুলগুলোকে চিরুণির মতো করে আঁচড়াচ্ছে, ততবারই আঙুলে আঙুলে অজস্র চুল। বিছানা বালিশেও গোছা গোছা থোকা থোকা চুল পড়ে। সে ঘরের আলো জ্বালিয়ে অবাক চোখে তাকিয়ে থাকল কিছুক্ষণ।

সে পরীক্ষা করার জন্য যতবার হাতের আঙুলগুলো চুলের ভেতর চিরুণি করে চালাল, ততবার আঙুলে এক নুটি চুল জড়িয়ে গেল। ভয় পেল শকুন্তলা। এ কী রোগে ধরল তাকে!

দেওয়ালের দিকে মুখ করে অকাতরে ঘুমাচ্ছে অমিত্রসূদন। না, এখন তাকে ডেকে এই চুল ঝরার কথাগুলো বলা শোভা পায় না। কিন্তু কেন এমন হল?

সে বার বার আয়নার সামনে দাঁড়াল, কিন্তু একবারের জন্যও আর চুলে হাত দিল না।

একটু বেলা হতেই ফোন করেছিল ছোটবেলার বন্ধু অজন্তাকে। অজন্তা সারাদিন রূপচর্চা করে। ঘরোয়া এটা ওটা থেকে পার্লার। মাঝে ওর একবার এমন হয়েছিল। রাতারাতি নাকি মাথার একটা অংশ ফাঁকা হয়ে গিয়েছিল। তারপর ডাক্তার দেখিয়ে সামলানো গেছে। এছাড়াও অজন্তাকে ফোন করার আর একটা কারণ, স্কুলের মায়েদের মতো ও আর্যর কোনও ব্যাপার জানে না। একটা দুটো কথার পরেই আর্যকে নিয়ে পড়বে না। অজন্তা সব শুনে বলল, ‘অ্যালোপেশিয়া। তুই ইমিডিয়েট ডাক্তার দেখা। আমার মাথায় রাতারাতি এক টাকার কয়েনের মতো অংশ টাক পড়ে গিয়েছিল। আমি একজন ভালো ডাক্তার পেয়েছিলাম। তিনিই ঠিক করে দিয়েছিলেন। তবে আমাকে খুব ভুগিয়েছিল।’

‘হ্যাঁ ডাক্তার দেখাব।’

‘দেখাব নয়, আজ কালের মধ্যেই যা।’

‘না রে এই কদিন ব্যস্ত থাকব।’

‘কী একদম রাজকার্য করছিস, যে সময় হবে না। আমি তোকে আমার সেই ডাক্তারের ফোন নম্বর পাঠাচ্ছি, কল করে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে নে। বলবি আর্জেন্ট আছে, অ্যাপয়েন্টমেন্ট দিতেই হবে। চাপাচাপি করতে হবে, প্রথম থেকেই ট্রিটমেন্ট করা। এটা দীর্ঘমেয়াদি ঝামেলা। আমি তোকে ফোন নম্বর পাঠাচ্ছি।’

ফোন নম্বর পাঠিয়েছিল অজন্তা। শকুন্তলা একটা স্মাইলি পাঠিয়ে দিল। তারপর সারাদিন ধরে ফোন ডাক্তারবাবুর নম্বরটা সে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখল, কিন্তু ফোন করল না। আজ লালবাজার যেতে হবে না। আজ ছুটি। আর্য গতকাল বেরিয়েই বলেছিল, ‘কাল আমাদের ডাকবে না। আসতে হবে না।’ শকুন্তলার বিশ্বাস হয়নি, তবে কিছু বলেনি। কিন্তু মনে হয়েছিল, আর্যকে ওরা প্রবোধ দিয়েছে। রাতে ঠিক ফোন করবে লালবাজারের শয়তানগুলো! দুটো তিনটে চারটে—একটা টাইম বলে দেবে।

শকুন্তলা গতকাল বাড়ি এসেছিল খুব কষ্টে। মোমবাতির আলোগুলো যেন শুধু আলো নয়, তীব্র আগুন। চোখ বন্ধ করলেই সেই আগুন মাখা আলোগুলো তার চোখের ভেতর নাচছে। পথ থেকে সেই আলোগুলো সে কুড়িয়ে নিয়ে এসেছে। মিছিলটাকে পাশ কাটিয়ে ট্যাক্সিটা খুব ধীরে ধীরে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। ট্যাক্সির জানলার সামনে বসে শকুন্তলা। অন্যদিকে অমিত্রসূদন, অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে। শকুন্তলার হঠাৎ মনে হল, আবিরের মাকে সে দেখবে, সে সোজা হয়ে বসল, আবিরের মাকে দেখতেই হবে। তার বুকের ভেতর পাথরের মতো কান্না জমে। কোথায় আবিরের মা? কোথায়? সে দূর থেকে তার মাথায় হাত বুলিয়ে দেবে। যদি কোনও ভুল হয়ে থাকে, সে মা হয়ে ক্ষমা চেয়ে নেবে। তার ছেলে যদি কোনও অন্যায় করে থাকে, পাপ করে থাকে, সে যাই শাস্তি পাক সহ্য করে নেবে।

মোমবাতির আলোগুলো সারারাত তার মাথার ভেতর জ্বলেছে!

অমিত্রসূদন অফিস চলে গেছে।

শকুন্তলা স্নানের সময় তীক্ষ্ণ চোখে দেখল—জলে জলে কি তার সব চুল ধুয়ে গেল? সে খুব সাবধানে জল ঢালছিল মাথায়—না, তেমন তো নয়। সারাদিন কেমন এক দুঃশ্চিন্তার ঘোরে ছিল। বার বার ডাক্তারের ফোন নম্বরটা দেখেছে। না, ক’দিন পরে, এদিকের ঝামেলা মিটলে, একটু স্বস্তি এলেই সে যাবে। আজ ভাত খেয়ে দুপুরে একটু ঘুমাবে। সে স্নান করেই আর্যকে স্নান করতে বলল। কতদিন পরে নিজের মতো করে আজ দুপুরটা সে কাটাবে—

বাথরুমের দরজায় এসে টোকা দিল আর্য, ‘মা!’

শকুন্তলার স্নান হয়ে এসেছিল। বলল, ‘কী রে?’

‘তোমার চান হয়ে গেলে একটু তাড়াতাড়ি বের হও।’

শকুন্তলা দরজা খুলে বেরিয়ে এল। ‘কী হয়েছে?’

ফ্যাসফেসে গলায় আর্য বলল, ‘দেখো, দেখো, একটা শুয়োরের বাচ্চা বাড়ির সামনে এসে কী করছে?’

‘কী!’ আর্যর মুখে এভাবে প্রথম খিস্তি শুনল শকুন্তলা। আবারও বলল, ‘কী বলছিস তুই!’

‘যাও, জানলার সামনে যাও—শুয়োরের বাচ্চাটাকে দেখো—? বাস্টার্ড!’

‘কেন বাজে কথা বলছিস! কে?’

‘ওই কোন একটা চ্যানেলের—ওই টেকো রিপোর্টারটা সঙ্গে একজন ক্যামেরাম্যান আছে। আমাদের বাড়ির ছবি তুলছে, আর তোমার ওই বুড়ি মাসিমাকে কী সব বলছে?’

আর্যর কথা শুনে জানলার সামনে নয় শকুন্তলা সরাসরি বারান্দার দিকে যাচ্ছিল। ভয়ার্ত গলায় চিৎকার করে উঠল আর্য—তুমি বোকার মতো বারান্দার দিকে যাচ্ছ কেন! ওদিকে গেলে তোমার ছবি তুলে নেবে।

ঠিকই তো! শকুন্তলা ঠিকরে সরে আসে। তারপর আর্যর পাশাপাশি চোরের মতো এসে দাঁড়ায় জানলার সামনে। টিভি চ্যানেলে বোতল বগলে নিয়ে এই রিপোর্টারই তো সেদিন নাচন কোদন করছিল। হ্যাঁ, হ্যাঁ ঠিক চিনতে পেরেছে তাকে শকুন্তলা।

আর্য বলল, ‘ওর সঙ্গে একজন ক্যামেরাম্যান আছে—। ওই দেখো, ওই পাশের ফ্ল্যাটের বারান্দায় দাঁড়ানো লোকটাকে নীচে নামতে বলছে—।’

শকুন্তলা বলল, ‘তোর বাবাকে ফোন কর। বাড়ির সামনে এসে কেন এমন বাঁদরামি করছে।’

‘আমার ইচ্ছে করছে একটা উইকেট নিয়ে যাই—। মেরে ওর মাথা ভেঙে দিই।’

‘তোর বাবাকে ফোন করে বল। তোর বাবা তো সেদিন বড়মুখ করে বলল—ওরা আমাদের বাড়ির সামনে আসবে না। তাহলে এখানে এল কেন?’

‘এ বাবার অফিসের নয়—টিভি চ্যানেলের। এই টেকো মালটাকে আমি মাঝেমাঝেই চ্যানেলে দেখি।’

‘তুই তোর বাবাকে ফোন করে বল।’

অমিত্রসূদন ফোন পেল—চুপ করে সবটা শুনল। শকুন্তলা আর আর্য উত্তেজিত, কিন্তু ভীত সন্ত্রস্ত তাদের গলা। শকুন্তলা ঠক ঠক করে কাঁপছে। অমিত্রসূদন কথাগুলো কাকে বলবে—তার নিজের অফিসের কাউকে? কাকে? কাকে? সে কিছুতেই খুঁজে পেল না। যাকে বলা যায়—যাকে বলে ওদের থামানো যায়।

হঠাৎ মনে হল অবিনাশ। সে অবিনাশকে ফোন করল। ফোন বাজতেই অবিনাশ ধরল।

‘বল?’

‘অবিনাশ একটা উপকার করবি?’

‘বল রে।’

‘৫৬ ঘণ্টার একজন রিপোর্টার বাড়ির সামনে গিয়ে আশপাশের বাড়ির লোকজনকে ডেকে ডেকে আর্যর কথা বলছে। আমাদের বাড়ির দিকে ক্যামেরা তাক করে বসে আছে। ওকে কি থামানো যায়? এটা কি ঠিক হচ্ছে?’

অবিনাশ কিছুক্ষণ চুপ করে থাকল। বলল, ‘দেখ, আমি তোকে কথা দিয়েছিলাম আমাদের চ্যানেলের কেউ তোদের ডিসটার্ব করবে না। কেউ যায়নি। এতে আমাদের ক্ষতি হচ্ছে। আমাকে অনেক কথাও শুনতে হচ্ছে। কিন্তু আমরা যাইনি বলে অন্য কেউ যাবে না, সেটা কী করে বলি?’

‘অবিনাশ ওরা নাবালক। ওদের নাম পরিচয় জানানো কি ঠিক? সব প্রফেশনের একটা এথিক্স আছে। আমি পালটা ওদের ছবি তুলতে বলছি—।’

অবিনাশ হাসে। ‘আরে ওরা আমাদের লোক নয়। এখন তুই যদি বলিস তোর এথিক্স বা হুমকি ওদের পৌঁছে দিতে তাহলে আমি পারব না। আমি বরং একটা রিকোয়েস্ট করতে পারি, বলতে পারি—কাকের মাংস কাকের না খাওয়া ভালো।’

চুপ করে থাকল অমিত্রসূদন।

অবিনাশ বলল, ‘তুই তো এটাই ভেবেছিলি, ঘরের দরজা জানলা বন্ধ করে বসে থাকলে কেউ জানতে পারবে না। তুই ওদের দরজা জানলা বন্ধ করে থাকতে বল। আমি দেখছি, কী করা যায়?’

‘না, থাক তোকে কিছু বলতে হবে না। ঠিক আছে। সরি তোকে ডিসটার্ব করলাম।’

অমিত্রসূদন ফোন কেটে দিল।

ফোন করল শকুন্তলাকে। খুব ঠান্ডা গলায় ডাহা মিথ্যে কথা বলল অমিত্রসূদন। বলল, ‘আমি ওদের অফিসের ওপর মহলে বলে দিয়েছি। ওরা এক্ষুনি ওকে ফোন করে ফিরে যেতে বলবে। শোনো, ওরা যা করে, যা বলে বলুক। ও কী করবে, সবাইকে ঘটনাটা জানাবে, এর বেশি কিছু নয়। সবাই আমাদের চেনে। এ পাড়ায় আমরা দু’দিনের লোক নই। তুমি চিন্তা করো না, চুপ করে থাকো। জানলা বা বারান্দার দিকে কেউ যেও না। ও আর কিছুক্ষণের মধ্যেই ওরা চলে যাবে।’

‘জানি ও থাকবে না, কিন্তু ও আমাদের বড় ক্ষতি করে দিল।’ শকুন্তলা কান্না চেপে বলল।

শান্ত গলায় অমিত্রসূদন বলল, ‘আমার কিছু করার নেই। আর কী ক্ষতি করবে আমাদের?’

অমিত্রসূদনের কথার মাঝেই শকুন্তলা কিছু বলার চেষ্টা করল, কিন্তু পারল না। কান্নায় ভেঙে পড়ল। ‘এরা সবাই তোমাকে চেনে, আর এরা সবাই সত্যিটা জানে, তাহলে কেন ওরা এমন করবে? এই তোমাদের সততা? তুমিই তো বার বার বলো আজ মিডিয়া আছে বলে অনেক সত্য বেরিয়ে আসে, তাহলে এখন মিডিয়া কোন সত্যের জন্য লড়ছে? শুধুই ব্যবসা!’

অমিত্রসূদন শান্ত থাকার চেষ্টা করছে। ‘শোনো, তুমি এমন করলে আর্যর মনের উপর খুব চাপ পড়বে। আর্য কী প্রচণ্ড চাপ নিচ্ছে একবার ভাবো। আমাদের উচিত ওকে সাহায্য করা। পুলিশ তো বলছে ওরা কিছু করেনি। আর আমরাও পুলিশকে বলেছি যদি ওরা কিছু করে তাহলে সত্যি বেরিয়ে আসুক। প্রয়োজনে শাস্তি পাক। এছাড়া তোমার আমার আর কিছু করার নেই।’

‘তোমাদের সব ব্যবসা! সব বিজনেস! অ্যাক্সিডেন্ট-এ যদি একজন মরে থাকে, তোমরা তাহলে দল বেঁধে ষোলোজন ছেলে মেয়েকে মারছ। ওরা খুনি নয়, তোমরা খুনি!’

অমিত্রসূদন ফোন ধরে থাকল। একসময় ফোন কেটে গেল।

শকুন্তলা নিজেকে সামলাল। আর্যকে বলল, ‘তুই জানলার সামনে থেকে সরে আয়।’

‘ওরা আমাকে দেখতে পাচ্ছে না।’ আর্যর চোখে মুখে একটু আগে প্রচণ্ড একটা ভয় ছিল। আস্তে আস্তে তা কেটে যাচ্ছে। ‘বুঝলে মা ওরা ওই মাসিমাকে সব বলে গেল। তার পাশের বাড়ির ডিম্পির মাও এসে শুনল। খবরে দেখছে, কাগজে পড়ছে, এখন চোখের সামনে আমাকে দেখবে।’

শকুন্তলা দেখছে ডিম্পির মা চোখ বড় বড় করে কথা বলছে।

আর্য বলল, ‘ডিম্পির মা এবার নির্ঘাত টিভি চ্যানেলের ডিসকাশনে বসে যাবে। বলবে আমি আর্যনীলদের উলটো দিকের বাড়িতে থাকি। ওর মা খুব ভালো। বাবা খুব ভালো। ছেলেটা বাপ মায়ের মুখে চুনকালি দিল।’

শকুন্তলার বিষণ্ণ মুখের দিকে তাকিয়ে আর্য যেন হঠাৎ মজায় মেতে উঠল। ‘মা ওই রিপোর্টার ছেলেটার টাকটা কিন্তু খুব চকচকে! কিছু মাখে মনে হয়? কী মাখে? ডিম্পির মাকে ফোন করে বলো ওকে একটু জিগ্যেস করতে।’

শকুন্তলা চাপা গলায় বলল, ‘আর্য থাম!’

আর্য বলল, ‘তুমি কান্না থামাও। এবার আমি বিখ্যাত হয়ে যাব। কাল থেকে সবাই দেখবে আমাদের বাড়ির দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে যাবে। এত দিনে এত এত স্টেজে নাটক করে বাবি যা করতে পারেনি, আমি তা কত সহজে করে দিলাম। বাবি কিন্তু পরে এটা নিয়ে একটা নাটক নামাতে পারে—জন্মদিনে রক্তপাত! না, রক্তাক্ত জন্মদিন! বাবি কি নাটকের ইংরেজি নাম দেবে—তাহলে হতে পারে ব্লাড-ডে, বার্থ-ডে! নাকি ব্লাডি বার্থডে! পাবলিক কোনটা খাবে বলোতো?’

‘আর্য থাম!’

‘তোমাকে এখন থেকে সবাই একবারে চিনবে—বলবে, ওই যে আর্যর মা। আরে আর্যকে চিনিস না—? আরে আবির কেস—ওই যে রয়্যাল গার্ডেন—জন্মদিনের পার্টি—নাবালকরা মদ খেয়ে—বড়লোক বাপের বখে যাওয়া সন্তানরা!’

‘আর্য থাম!’

‘না, আমি থামব না! আমরা সবাই খারাপ! খারাপ ছেলে! বখে যাওয়া! নষ্ট! পচা মাল!’

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%