জয়ন্ত দে

অমিত্রসূদন আজ একটু আগেই বাড়ি ফিরেছিল। হয়তো এত তাড়াতাড়ি ফিরত না। কিন্তু শকুন্তলা অস্থির, আজ দুপুর থেকে টিভিটা চলছে না। ইদানীং টিভিই শকুন্তলার একমাত্র সঙ্গী, অবসর বিনোদন। বছর তিনেক হল টিভিটা কিনেছে। দেওয়াল জোড়া বেশ বড় টিভি। দামটাও অনেক। তিন বছরের মধ্যে সেটা খারাপ হয়ে যাবে!
শকুন্তলার মাথায় আগুন জ্বলছে। সে রিমোট টিপছে। ইলেকট্রিক প্লাগ খুলছে, লাগাচ্ছে, সেটটপ বক্স ঠিক করছে, এ-রিমোট সে-রিমোটের সুইচ টিপছে আর ফোন করছে অমিত্রসূদনকে। ইদানীং সে সবকিছুতেই বড্ড বেশি অধৈর্য আর উতলা হয়ে পড়ে।
আসলে শকুন্তলার কখনই ইচ্ছে ছিল না তার আগের পুরোনো টিভিটা বাতিল করার। শেষ যেবার খারাপ হল, মেকানিক এসে সামান্য এদিক ওদিক করে টিভিটা সারিয়ে দিয়েছিল। আর সেই সঙ্গে বলেছিল, ‘বউদি এই টিভিটা এক্সচেঞ্জ করবেন না বা কাউকে দেবেন না। এরম জিনিস আর পাবেন না। কী কালার, কী ছবি দেখেছেন!’
শকুন্তলার মাথায় সেটাই গেঁথে ছিল। কিন্তু অমিত্রসূদন আর আর্যনীল মিলে দেওয়াল জোড়া এই টিভিটা কিনে সেটা বাতিল করে দিল। তাও শকুন্তলা সেটাকে এ-বাড়ির অন্য কোনও একটা ঘরে চালু রাখতে
চেয়েছিল। কিন্তু এতখানি জায়গা জুড়ে থাকা জিনিসটাকে আর ঠাঁই দিতে চাইনি অমিত্রসূদন। একদিন দুম করে কাজের মেয়েটিকে টিভিটা দিয়ে দিল।
কাজের মেয়েটি নিয়েছিল, তার বাড়িতে সে টিভিটি ঠিক আছে, নিয়মিত চলছে এটা শকুন্তলা মাঝে-মাঝেই জেনে নিত। তার মনে হত যাক অন্তত চলছে! কিন্তু হঠাৎ করে সেই কাজের মেয়েটি কাজ ছেড়ে দিতে শকুন্তলার টিভি সংক্রান্ত সব রাগ ক্ষোভ গিয়ে পড়েছে অমিত্রসূদনের ওপর। তাই টিভি খারাপের কথা শুনেই সাড়ে আটটা নাগাদই বাড়ি চলে এসেছে অমিত্রসূদন।
এসে এটা সেটা নেড়েচেড়ে দেখেছে এ-বাড়ির সবচেয়ে প্রভাবশালী ও সরব বস্তুটি নিশ্চুপ হয়ে দেওয়ালে লটকে আছে। অমিত্রসূদন বলল, ‘কাল সকালেই কোম্পানিতে খবর দেব—।’
শকুন্তলা বলল, ‘এখনকার জিনিস মানেই ফালতু, টাকা গায়ে কুটকুট করে। ওই টিভিটা থাকলে অন্তত সিরিয়ালগুলো দেখা যেত।’
অমিত্রসূদন জানে এ-সময় নীরবতাই ধর্ম! নীরবতাই বর্ম!
এমনিতেই গত তিন-চার দিন এ-বাড়ির হাওয়া গরম ছিল। কাল থেকে সবে একটু স্বাভাবিক হয়েছে, তারমধ্যে টিভি খারাপ হয়ে এ কী বিড়ম্বনা! খারাপ হওয়ার আর কোনও সময় পেল না!
অমিত্রসূদন এ-ঘর ও-ঘর করছিল। সে নতুন একটা স্ক্রিপ্ট লিখছিল, সেটা নিয়ে বসার ইচ্ছে ছিল। কিন্তু ক’দিন ধরে মনটা বড়ই বিক্ষুব্ধ।
সে যা ভেবেছিল, জীবন যেন সে খাতে বইছে না। বড়ই বেতাল হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে ছেলেটা। ছেলেটা পড়াশোনায় খারাপ নয়, ঠিক আছে। কিন্তু চিন্তার জায়গাটা অন্য। মনে হচ্ছে বন্ধু-বান্ধবগুলো ঠিক নয়। অবশ্য এটাও ঠিক অমিত্রসূদনের বাবাও মনে করতেন তাঁর ছেলের বন্ধু-বান্ধবগুলো ঠিক নয়। যাদের সঙ্গে অমিত্রসূদন সেই দিনগুলো কাটিয়েছে তাদের বেশিরভাগই আজ জীবনে প্রতিষ্ঠিত। কেউ কেউ স্বনামে মঞ্চ, টিভি, সংবাদপত্র আলো করে আছে।
আজ বাবা থাকলে নিশ্চয়ই খুশি হতেন। বুঝতে পারতেন, তাঁর সেদিনের ধারণা ভুল ছিল। অমিত্রসূদন এভাবেও ভাবে। কিন্তু একটা জায়গায় এসে সে বড্ড দিশাহারা হয়ে যায়। সেটা হল, ইদানীং আর্যনীলের ভাব ভঙ্গি বড়ই অদ্ভুত হয়ে গিয়েছে। সে যেন আর মাটিতে পা দিয়ে হাঁটে না। নিজেকে টাটা বিড়লার ঘরের ছেলে বলে মনে করে। কিছুতেই যেন বুঝতে চাইছে না। ওর রুচিবোধ নিয়েও প্রশ্ন জাগে। সবকিছুতেই ভয়ঙ্করভাবে রিঅ্যাক্ট করছে।
অমিত্রসূদন ওকে আর বুঝতে পারছে না। বোঝাতেও পারছে না।
বেশ কিছুদিন আগে, অমিত্রসূদনের এক পরিচিত আর্যনীলকে একটা ঘড়ি উপহার দিয়েছিল। বেশ দামি ঘড়ি। ঘড়িটি আর্যনীল কোনওদিন পরেনি। কিন্তু এই সোমবার হঠাৎ স্কুল যাওয়ার সময় সে ঘড়িটা খুঁজতে শুরু করল। শকুন্তলাকে প্রায় বাধ্য করল ঘড়িটা আলমারি থেকে বের করে দিতে। সেই ঘড়ি পরে সে স্কুলে গেল। যাওয়ার সময়ই শকুন্তলা বলেছিল, ‘ঘড়িটা পরে যাচ্ছিস যা, সাবধান, ভেঙেটেঙে আনিস না।’ সেদিন আর্যনীল ঘড়িটা ভেঙে আনেনি, কিন্তু হারিয়ে এসেছিল।
কী না টিফিন ব্রেকে ঘড়িটা খুলে ব্যাগে রেখেছিল, এসে আর খুঁজে পায়নি। সারা ক্লাস তন্নতন্ন করে খুঁজেছিল, পায়নি। কেউ নিশ্চয়ই সেটা চুরি করেছিল, তাকে আর ধরা যায়নি।
এত বড় স্কুলে এমন একটা কাণ্ড শকুন্তলা যেন বিশ্বাস করতে পারছিল না।
এত বড় স্কুলে চোর! স্কুল জানতে পেরেও ব্যবস্থা নিতে পারল না। ওদের সেকশানের কোনও ছেলেই নিশ্চয়ই ঘড়িটা চুরি করেছে। টিচাররা যদি কড়াভাবে বিষয়টা দেখত, ঠিকভাবে তল্লাশি করত তাহলে নিশ্চিত কারও না কারও ব্যাগ থেকে ঘড়িটা বেরিয়ে পড়ত। স্কুল কোনও দায়িত্ব নিল না। হিসেবমতো নিষ্পৃহ থেকে একজন স্টুডেন্টকে চোর হতে, চুরিবিদ্যায় সাহস জোগাল। কেউ যদি লোভে পড়ে কোনও ভুল করে থাকে, তাকে অপরাধ করার দিকে ঠেলে দিল। সাহস দিল।
আর্যনীলের স্কুলটা ভারতের সেরা স্কুলগুলোর মধ্যে একটা। সেই স্কুলের একজন ছাত্র আর এক ছাত্রের ব্যাগ খুলে ঘড়ি চুরি করে নেবে? তাহলে স্টুডেন্টদের কী শিক্ষা দিচ্ছে স্কুল? যারা এত বড় বড় নীতিশিক্ষার কথা বলে! সেই ঘড়ি নিয়ে ছাত্রটি বাড়ি যাবে। তার বাবা মা নতুন একটা ঘড়ি দেখে কোনও প্রশ্ন তুলবে না? এরা সব কোন পরিবারের!
এটা যদি ঘটনার প্রথম অংশ হয়, দ্বিতীয় অংশটি ঘটল বাড়িতে।
বাড়ি আসতেই শকুন্তলা জেনে গিয়েছিল ঘড়িটি খুইয়ে আসার কথা। চিৎকার চেঁচামেচি বকুনি যা হওয়ার হয়ে গিয়েছিল। আর্যনীলও মনখারাপ করে বিছানায় মুখ গুঁজে পড়ে ছিল। কিছুই খায়নি। শকুন্তলার রাগ কমলে ছেলেকে খাওয়ানোর চেষ্টা করল। ততক্ষণে আস্তে আস্তে বিষয়টা স্কুলের দিকেই চলে যাচ্ছিল। সন্ধে নাগাদ আর্যনীল চাউমিনও খেল। ঘরের পরিস্থিতি একটু একটু করে স্বাভাবিক হচ্ছিল। তখনই আর্যনীল পড়ল শকুন্তলার জেরার মুখে।
জেরায় সে জানাল, টিফিন ব্রেকে ব্যাগে ঘড়ি রেখে মিউজিক রুমে গিয়েছিল।
‘মিউজিক রুমে যেতে ঘড়ি খুলতে হল কেন?’
বেঞ্চ পিটিয়ে গান হবে, নতুন ঘড়ি তাই জন্যই সে ব্যাগে রেখে গিয়েছিল। শকুন্তলা জানতে চেয়েছিল, ‘তোর সঙ্গে কারা ছিল?’
‘অভ্রদারা।’
‘অভ্র কেন? ওই অভ্র তোর ক্লাসের নয়, সিনিয়ার।’
‘তাতে কী হয়েছে?’
‘তোকে বলা হয়েছে না, তুই ওই অভ্রদের গ্রুপের সঙ্গে মিশবি না। ওরা গাঁজা খায়, ড্রাগ খায়, সারা স্কুলের সবচেয়ে খারাপ গ্রুপ। মারপিট করে।’
আর্যনীল চিৎকার করে, ‘হ্যাঁ! তুমি সব জানো।’
শকুন্তলাও চিৎকার করে, ‘তোর ঘড়ি হারায়নি, চুরিও যায়নি, ওই ঘড়ির অন্য কিছু হয়েছে।’
‘মানে? কী বলতে চাইছ তুমি? আর্যনীল ঠিকরে ওঠে।’
‘তুই আমাকে বোকা পেয়েছিস? আজ কী ছিল যে খুঁজে খুঁজে তোকে ঘড়িটা পরে যেতে হল? নিশ্চয়ই অন্য কোনও ব্যাপার আছে।’
‘কী ব্যাপার আছে? ঠিক আছে, চুরি হয়েছে কি না তুমি রোহিতকে ফোন করে জেনে নাও।’
আর্যনীল ফোনটা এগিয়ে দেয়।
‘আমি কাউকে ফোন করব না। আমি তোকে বিশ্বাস করি না। ওই গাঁজাখোর, ড্রাগখোররা তোর কাছ থেকে ওই ঘড়ি কেড়ে নিয়েছে।’
‘হ্যাঁ, আমার কাছে থেকে কেড়ে নেবে, আর আমি দিয়ে দেব!’
আর্যনীল মুখ বেঁকিয়ে শকুন্তলার কথা তুচ্ছ করে দেয়।
‘তোর কাছে নিশ্চয়ই সে টাকা পেত। ধার শোধ করেছিস। নইলে ওই ঘড়ি তুই বিক্রি করে দিয়েছিস।’
‘যা বাব্বা! বিক্রি করব কেন?’
‘কেন করবি সেটা তুই জানিস। গাঁজা খেয়েছিস, না মদ খেয়েছিস, না জুয়া খেলেছিস, সেটা তুই জানিস।’
শকুন্তলা আরও কিছু বলত, কিন্তু তার আগে হাতের মোবাইলটা ছুড়ে মারে আর্যনীল। বছরখানেকের আগে কেনা মোবাইলটা ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যায়। হায় হায় করে ওঠে শকুন্তলা। আর্যনীল তার ঘরে গিয়ে দড়াম করে দরজা বন্ধ করে দেয়।
শকুন্তলা মনে করে সেদিন সে ঠিকই ধরেছিল, অভ্র ছেলেটা ভালো নয়। অভ্রকে বেশ কয়েকবার স্কুল থেকে সাসপেন্ড করেছে। কিছুদিন আগে অভ্রর মা সবার সামনে হাউ হাউ করে কেঁদে ফেলেছিল। সান্ত্বনা দেওয়ার সময় শকুন্তলা বুঝেছিল, অভ্রর মা লজ্জায় অপমানে কাঁদছে না। কাঁদছে ক্রমশ ছেলেটা হারিয়ে যাচ্ছে দেখে। ছেলের এই অবস্থা দেখে ওর বাবাও নাকি মানসিক রোগীতে পরিণত হয়েছে। অভ্র ঘরের জিনিস দেদার চুরি করছে, বিক্রি করছে; লুকিয়ে নেশা করা ছাড়া আর কিছু বোঝে না। ডাক্তার অভ্রকে কোনও রিহ্যাবে পাঠানোর পরামর্শ দিয়েছে। কিন্তু রিহ্যাবে পাঠালে স্কুল যাওয়াটা বন্ধ হয়ে যাবে। তবু শকুন্তলা মনে করে অভ্রকে ওরা রিহ্যাবে পাঠালেই ভালো করত। অন্তত আর পাঁচটা ছেলে বাঁচত। শকুন্তলার মতো অভ্রকে এই স্কুলের সব অভিভাবকই ভয় পায়। অভ্রর মায়ের কষ্টটা শকুন্তলার বুকে বড় বাজে। শকুন্তলা অভ্রর মায়ের কাছে প্রথম প্রথম শুনেছিল ওর ঘরের কোনও লক নেই।
আগে আর্যনীল এমনভাবে ঘরের দরজা বন্ধ করলে শকুন্তলা বা অমিত্রসূদন খুব আতঙ্কিত হত। ওই ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে অজানা আশঙ্কায় কাঁটা হয়ে থাকত। বার বার আকুল হয়ে বলত, ‘দরজা খোল, দরজা খোল আর্য।’ কিন্তু এখন আর তা বলার প্রয়োজন নেই। কেন না কোনও দরজারই লক নেই। লক ভাঙা। আর্যর ঘরের লকটা স্কুলের স্যারের কথাতেই ভাঙিয়েছিল শকুন্তলা। লক ভাঙার ব্যাপারে অমিত্রসূদনের একটু দ্বিধা ছিল। কিন্তু শকুন্তলাই বলল, ‘এই সহজ সমাধানটা ওদের ক্লাস টিচারই করে দিয়েছেন। উনি নিশ্চয়ই উলটোপালটা কিছু বলবেন না। এতগুলো ছেলেকে বছরের পর বছর দেখছেন। ওনারা স্টুডেন্ট সাইকোলজি বোঝেন।’
অমিত্রসূদন আর হ্যাঁ না কিছু বলেনি। লক ভাঙা নিয়ে প্রথমদিকে আর্য খুব ঝামেলা করেছিল। দু’দিন খায়নি, চুপচাপ শুয়ে থেকেছিল।
শকুন্তলা বলেছিল, ‘লক খোলা হয়েছে তোর জন্য। তুই কথায় কথায় ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিস। তোর বাবা আমি দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে থাকি হাপিত্যেস করে।’
‘দাঁড়িয়ে থাকো কেন? আমি তো তোমাদের দাঁড়িয়ে থাকতে বলিনি।’
ইদানীং আর দাঁড়িয়ে থাকতে হয় না। তবে আর্য এখনও দড়াম করে দরজা বন্ধ করে। পুরোনো বাড়ি, মজবুত দরজা বলে এখনও টিকে আছে। ফ্ল্যাট বাড়ি হলে এতদিনে দরজা দেওয়াল ছেড়ে খুলে বেরিয়ে আসত। সুনিধির মা শকুন্তলাকে বলেছে, ‘আমার মেয়ে কোনও কথা অপছন্দ হলেই দড়াম করে দরজা বন্ধ করে দেয়। ব্ল্যাকমেল।’ ক’দিন আগে নাকি পুরো দরজাটা ফ্রেম-সহ দেওয়াল থেকে বেরিয়ে এসেছে। নতুন দরজা বসানোর সময় সুনিধির মা ঘরের ভেতর থেকে কোনও লক রাখেনি। সুনিধির বাবা একটু কিন্তু কিন্তু করছিল—মেয়ে, তার ঘরে লক থাকবে না? সুনিধির মা বলেছে, ‘না, থাকবে না।’ এখন অনেক নিশ্চিন্ত।
সেদিন ঘড়ির সঙ্গে মোবাইলটাও গেল। অমিত্রসূদন সবটা জেনেছিল অফিস থেকে ফিরে। ভাঙা টুকরো টুকরো মোবাইলটা টেবিলের ওপর রাখা। কার দোষ, কার ভুল—এই সংসারে তখন অখণ্ড নীরবতা। এ ঝক্কি অমিত্রসূদন নিতে পারে না।
ডাক্তারের কথা অ্যাডোলেশন পিরিয়ড, বয়ঃসন্ধিকালের সমস্যা।
সব ঠিক আছে। কিন্তু এত রাগ কেন?
সেই নীরবতা সবে কাল কেটেছিল। একটু স্বাভাবিক হাওয়া বইছিল। আজ তার মধ্যে টিভি খারাপ।
আরও খারাপ হাওয়া বয়ে আনল এই অচেনা ফোন।
এটা আর পাঁচটা সামান্য কোনও ফোন নয়, একজন মানুষ মারা গিয়েছে। একটি অল্প বয়েসি ছেলে। তার ছেলেরই বন্ধু। কেন মারা গেল সে? কীভাবে তার মৃত্যু হল? আর সেই মৃত্যুর সূত্র ধরে তার ছেলেকে পুলিশ ডাকছে কেন? মৃত্যু টপকে এখন এই ডাকই টালমাটাল করে দিল অমিত্রসূদনকে। সে নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করল। ওরা তো কিছুই বলল না। বলল, ‘আপনার ছেলে সব জানে।’ অমিত্রসূদনকে আর্যর কাছ থেকে সব জানতে হবে...।
ফোনটা করা হয়েছে একটা ল্যান্ড লাইন থেকে। অমিত্রসূদন ঠিক বিশ্বাস করে উঠতে পারেনি। সে রিংব্যাক করে দেখে নিয়েছে—সত্যিই ফোনটা যেখান থেকে এসেছে সেটা থানা। যাদবপুর থানা।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন