আঠেরো

জয়ন্ত দে

‘কিছু খাবি?’

‘না।’

‘কেক আছে, খেয়ে নে।’

‘প্লিজ একটু চুপ করো।’

শকুন্তলা জানলার বাইরে তাকায়। ট্যাক্সির সামনে আর্য। পিছনের দুই জানলায় দু’জন।

আজ চারটেয় ডেকেছিল। কিন্তু ছেড়ে দিল খুব তাড়াতাড়ি। সাড়ে তিনটে নাগাদ ঢুকে পড়েছিল আর্য আর শকুন্তলা। কিন্তু আর্যদের আজ চুপচাপ বসিয়ে রাখল। মাঝে মাঝেই এক একজনকে ডাকছে। দু’ দু’বার আর্যকে ডেকে নিয়ে গিয়েছিল ভিতরে। ভেতরে চারটে ছেলে বসে।

তাদের দু’জনকে বিনিতা শ্রীবাস্তব ও আরও দু’জনে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। আর্যকে দূর থেকে তাদের দেখাল আরশাদ। বলল, ‘এদের মধ্যে কাকে কাকে চিনিস?’

‘আমি একজনকেই চিনি—’

‘কে—? আদিল?’

‘হ্যাঁ। তুমি কী করে বুঝলে?’

‘এই বোঝাটাই আমাদের চাকরি। এবার বল, কী করে চিনলি?’

‘আগে আমাদের স্কুলে পড়ত।’

‘তোর ক্লাসে পড়ত?’

‘এরা এক একটা ক্লাসে দু’বছর তিন বছর করে থাকে। সবাই এদের চেনে। সব স্টুডেন্টরাই এদের ভয় পায়। এর বাবা শুনেছি মাফিয়া। এই সব ছেলে ফাদার থেকে হেডমাস্টার সবাইকেই চমকায়। কেউ ওদের ঘাঁটায় না।’

‘ডেঞ্জারাস ছেলে তাহলে! তুই কোনওদিন কথা বলেছিস?’

‘একবার—স্পোর্টসের সময়।’

‘তোকে চেনে?’

‘চিনতে পারে—।’

‘কেন?’

‘আমাকে আবিরের সঙ্গে দেখেছে—।’

‘এরা আবিরের বন্ধু?’

‘হ্যাঁ। স্কুলে আবির এদের সঙ্গেই মিশত।’

‘ওরা কি রোহিতের বন্ধু?’

‘রোহিতের সঙ্গে চেনাজানা আছে, কিন্তু রোহিতের বন্ধু নয়।’

‘তুই কী করে জানলি?’

‘রোহিতের বন্ধু হলে আমি জানতাম।’

‘কেন এত জোর দিয়ে বলছিস?’

‘কারণ, লাস্ট বছর দুয়েক ধরে রোহিত সবকিছু আমাকে বলে। আমরা সবসময়ই একসঙ্গে থাকি।’

‘খুব ভালো বন্ধুত্ব তোদের। অথচ সেদিন রোহিত তোকে প্রথমে বলেনি কোন হাসপাতাল যাচ্ছে। তুই ভেবেছিলি আবিরকে যেখানে নিয়ে গিয়েছে সেখানে যাচ্ছে। কিন্তু রোহিত গেল ওর মা যে হাসপাতালে ভর্তি সেখানে— কেন? ও তো ব্লাফ দিল!’

‘হয়তো ওর বাবা বলেছিল।’

‘তাই কি? নাকি কোনও ভয় পেয়েছিল? হঠাৎ এমন করল কেন? ও কি খুব ভিতু? নাকি ফালতু ঝামেলায় জড়াবে না? নাকি অন্যকিছু— কোনটা?’

‘রোহিত ওর বাবার কথায় চলে। ওই যে ড্রাইভার আঙ্কেল—ওই ড্রাইভার আঙ্কেল হিসেব মতো রোহিতের বডিগার্ড। ইচ্ছে করলেই রোহিত কিছু করতে পারে না, করার চেষ্টা করলেই ওই ড্রাইভার আঙ্কেল ওর বাবাকে ফোন করে দেবে। ওর বাবা আবার সেটা ওর মাকে বলে দেবে। রোহিত ওর মাকে প্রচণ্ড ভয় পায়। ওর বাবার থেকেও বেশি। আন্টি প্রচণ্ড রাগী। শুনেছি, ছোটবেলায় ওর হাত পা বেঁধে ছাদে রেখে দিত।’

‘তাহলে রোহিত খুব দুষ্টু ছিল? কিন্তু এখন তো ছোট নয়। তবু মাকে ভয় পায়!’

‘মাকে বেশি ভালোবাসে। এখন ওর মা অসুস্থ, কোনও কমপ্লেন শুনলে কষ্ট পাবে, টেনশন করবে, রোহিত তাই খুব সাবধানে চলে। যাতে মায়ের কোনও টেনশন না হয়।’

‘ভেরি গুড! তাহলে বলছিস বাবার কথা শুনেই রোহিত চলে আসে তোকে আর শ্রুতিকে নিয়ে।’

‘হ্যাঁ। তবে আমি আবিরের হসপিটালে যেতে চেয়েছিলাম, রোহিত আমাকে যেতে দেয়নি। রোহিত কি ওটা লিখেছে?’

‘ওর খাতা আমি দেখিনি।’

‘নাও লিখতে পারে। আসলে এমন যে হবে কেউ তো স্বপ্নেও ভাবেনি।’

‘তুই আবিরকে পড়ে যেতে দেখেছিস?’

‘না।’

‘হ্যাঁ, তাই তো? তুই যেখানে ছিলিস সেখানে আরও দুটো মেয়ে ছিল—শ্রুতি আর নেহা।’

‘না, শ্রুতি আর রূপকথা।’

‘ওই একই হল, তোদের নামগুলো আমার মনে থাকে না।’

‘হ্যাঁ। ওরা নিশ্চয়ই এটা লিখেছে।’

‘আমি কারও খাতা দেখিনি। আচ্ছা, গাড়িতে তোকে একা পেয়ে রোহিত কী বলল?’

‘আমি গাড়িতে ওঠার আগেই ড্রাইভার আঙ্কেল ভালো করে আমার হাত ধুইয়েছিল। গাড়িতে বসে রোহিত বার বার বলছিল, “গাড়ির কোথাও রক্ত লাগেনি তো?” এছাড়া বলছিল, “চিন্তা করিস না, ও আবির। এক্ষুনি ঠিক হয়ে যাবে। কালই দেখবি বেরিয়ে পড়েছে। আবার ড্রামাবাজি করছে!”’

‘হ্যাঁ, অনেকটা রক্ত বেরিয়ে গেছে। বোতলটা কি ওর বগলেই ছিল? পুরো বোতলটা ও একা খেয়েছে?’

‘না, ওই বোতল থেকে আমরাও একটু একটু খেয়েছি। পরের ভদকার বোতল তো ম্যাজিক মোমেন্ট। কম দামি ড্রিঙ্কস। ওই সব জিনিস আবির খায় না। ওর অ্যাবসিলিউটের বোতলে অল্প হলেও মদ ছিল। সেটাই ও খাচ্ছিল। আমি খবরের কাগজের ছবিতে দেখেছি, তোমরা ওখান থেকে সব এভিডেন্স কালেক্ট করেছ, নিশ্চয়ই ভাঙা বোতলটা পেয়েছ?’

‘সব পেয়েছি, আবার যাব। এই আদিল শেখ ছেলেটা কেমন?’

‘জানি না।’

‘যা জানিস সেটা বল?’

‘ভালো না।’

‘কেন?’

‘শুনেছি ড্রাগ নেয়, ড্রাগের ধান্দা করে।’

‘তুই কোনওদিন ড্রাগ নিয়েছিস?’

‘না।’

‘রোহিত?’

‘না।’

‘আবির?’

‘জানি না।’

‘আবিরের বেলায় না বললি-না কেন?’

‘আমি যেটা জানি না সেটা কী করে বলব?’

‘তুই জানিস আবিরকে কেন স্কুল থেকে টিসি দিয়েছিল?’

‘সেটা ফাদার বা হেডস্যার বলতে পারবে, তুমি ওদের জিজ্ঞাসা করো।’

‘তুই কি শুনেছিস?’

‘আমরা যা শুনেছিলাম সেটা ভুলও হতে পারে—।’

‘তবু ভুলটাই বল।’

‘বলার মতো কিছু নয়, ওর নামে কোনও কমপ্লেন জমা পড়েছিল। ওকে নাকি এয়ারপোর্ট থানা ধরেছিল। ওর গাড়িতে যারা ছিল তাদের সঙ্গে ড্রাগের কোনও ব্যাপার ছিল—এটুকুই। কোকেন। সত্যি মিথ্যে জানি না। তোমরা এয়ারপোর্ট থানায় খোঁজ নিলে সত্যিটা জানতে পারবে।’

‘আমরা খোঁজ নিচ্ছি। ওই আদিল শেখের পাশে যে বসে আছে, তার নাম রাজেন্দ্র প্রসাদ, রাজুভাইয়া। ওধারের ছেলেটার নাম হুক্কাকাশি। ওর ভালো নাম—।’

‘আমি এই নামগুলো সবই শুনেছি।’

‘স্কুলে?’

‘কোনও গোলমাল হলে অনেকেই এদের নামে ভয় দেখাত।’

‘তুই তাহলে এই প্রথম ওদের দেখলি? এদের সঙ্গে তোদের বন্ধু আবিরের বন্ধুত্ব ছিল। ওরাই বলেছে। এবার একটা কথা খুব ভালো করে ভেবে বল—; এধরনের কোনও ছেলে সেদিন এক মুহূর্তের জন্যও আসেনি তো? তোদের সতেরোজনের বাইরে অন্য কেউ?’

‘না, ওদিন এরা কেউ ধারে কাছে আসেনি।’

‘ঠিক বলছিস?’

‘হ্যাঁ।’

‘কিন্তু খবর আছে এদের কেউ এসেছিল ওখানে, কী যেন নাম বাড়িটার?’

‘রয়্যাল গার্ডেন।’

‘হ্যাঁ, রয়্যাল গার্ডেন। ওখানে কাউকে দেখিসনি?’

‘আমি ওদের ছায়াও দেখিনি।’

‘কিন্তু ওই রয়্যাল গার্ডেনের সিকিউরিটিরা বলছিল—।’

‘কী বলছিল?’

‘কী বলেছে সেটা আমি শুনিনি। পরে শুনব। আচ্ছা, ওদিন এদের নাম কেউ বলেনি। একবারের জন্য হলেও?’

‘না।’

‘কনফার্ম!’

‘হ্যাঁ, শুধু শুধু ওদের ডেকেছ—আচ্ছা এই কেসের সঙ্গে ওদের কী কানেকশন আছে, যে ওদের ডেকেছ? আমার মনে হয়, সিকিউরিটিরাও তেমন কিছু বলবে না। ওরা শুধু চিৎকার করেছিল খুন, খুন বলে।’

আরশাদ হাসে।

‘আবিরের মা আজ সিএম-এর কাছে যাচ্ছে—তাই আমরা তার আগেই সব দিক থেকে দেখে নিতে চাই, যেন তদন্তে কোনও ফাঁক না থাকে। এমনকী দেখে নিতে চাই, আবির কে? কেমন ছেলে? কাদের সঙ্গে মিশত? কতটা নেশা করত? ড্রাগ নিত কি নিত না? স্কুল থেকে কেন টিসি দিল? সব, সব। তোদের যেমন দেখছি, তেমন আবিরকেও দেখতে হচ্ছে।’

‘তার মানে আবিরের এই মৃত্যুতে যেমন আমাদের অশান্তি ভোগ করতে হচ্ছে, বাংলা কথায় হ্যারাস করা হচ্ছে, তেমনই আবিরও মরে গিয়ে রেহাই পাচ্ছে না। তাকেও রেহাই দিচ্ছ না, সে-ও অশান্তি ভোগ করছে!’

‘একদম ঠিক বলেছিস—আমাদের ইনভেস্টিগেশনে তোরা সতেরোজনই আছিস। আবির মারা গেছে বলে সে কিন্তু মাইনাস নয়। বরং ইনভেস্টিগেশনের মধ্যমণি আবির। তাকে ভালো করে জানলেই সবটা জলের মতো পরিষ্কার হয়ে যাবে। ওয়ান প্লাস সিক্সটিন।’

‘তোমরা আবিরকে ছেড়ে দাও আঙ্কেল। আবির মরে গেল অথচ আমরা বন্ধুরা ওর জন্য কাঁদিনি। সবাই আমাদের দিকে এমন করে আঙুল তুলেছে, যে আমরা আর কাঁদার সময় পেলাম না। সবাই নিজেদের বাঁচাতেই ব্যস্ত হয়ে পড়েছি। এই যে রোজ কাগজে পাতার পর পাতা একই কথা লেখা হচ্ছে—আর আমরা প্রতি মুহূর্তে ভাবছি কোনও ভুল কথা লিখে ফেললাম না তো? সব ঠিক ঠিক লিখেছি তো? কোনও কথা গোপন করিনি, লুকাইনি? আমি ফেঁসে যাব না তো? আমরা বন্ধুর জন্য চোখের জল ফেললাম না, শুধু কালি খরচ করছি। এই ক’দিনে নিশ্চয়ই তোমাদের একটা ধারণা হয়েছে—ঘটনাটা কী? কী ঘটেছে? তাহলে আর আবিরকে টানছ কেন? কেন এবার থামছ না?’

‘কেন টানছি—কেন থামছি না? এটা তোর বাবাকে গিয়ে জিজ্ঞাসা কর। তোর বাবারা যেদিন টিভিতে চ্যানেলে কাগজে তোদের নিয়ে ব্যবসা করা বন্ধ করবে—সেদিন আমরা সহজ কথা সহজে বলে দেব। মনে রাখিস, দ্বিতীয় দিনেই আমাদের কাছে পরিষ্কার হয়ে গেছে দুধ কা দুধ, পানি কা পানি। তুই ম্যাচিউরড ছেলে তুই আমাদের কথা বুঝতে পারবি বলে আমি তোকে বলছি। তুই আজকের খবরের কাগজ দেখেছিস?’

‘না, দেখিনি। দেখতে ইচ্ছে করছে না।’

‘শোন, আজকের খবরে কাগজে আছে আমরা তোদের রয়্যাল গার্ডেনে নিয়ে গিয়ে পুরো সিচ্যুয়েশনটা রিকনস্ট্রাকশন করব। করে দেখব—সেদিন কী ঘটেছে। এটা কিন্তু আমাদের প্ল্যানে নেই। এটা আজকের দু’দুটো সংবাদপত্র প্ল্যান করে খবরটা করেছে। বাংলা কথা খবরটা পাবলিককে খাওয়াচ্ছে। আমরা আগেই বেশ কয়েকবার রয়্যাল গার্ডেন ঘুরে এসেছি, আমাদের যা দেখার দেখে এসেছি, শুনে এসেছি। সিসিটিভি ফুটেজ নিয়ে এসেছি। কিন্তু খবরের কাগজ, চ্যানেল খবর বিক্রি করার জন্য ওখানে তোদের হাজির করিয়ে নাটক করাতে চাইছে। এই নাটক হলে ওদের আবার একদিনের বিজনেস হবে।’

আর্যনীল ফ্যাকাশে চোখে মাথা নিচু করে।

আরশাদের চোয়াল শক্ত হয়।

‘আমি তোকে বোঝাতে পেরেছি, এখন তোর বাবারা দল বেঁধে সেরেফ বিজনেস করছে। তোদের নিয়ে, পাবলিককে নিয়ে। ওরাও কিন্তু সত্যিটা জানে। আর বাধ্য হয়ে কোনও কোনওভাবে আমাদের ওদের সাথ দিতে হচ্ছে। ওদের সুতোয় নাচতে হচ্ছে। এই যেমন একটু আগে আমাদের কাছে নির্দেশ এসেছে কাল রয়্যাল গার্ডেনে গিয়ে ইনভেস্টিগেশন করতে হবে। আমাদের সব কাজ শেষ। আর একটা জিনিস শুধু হাতে আসা বাকি, সেটা পেলেই আমরা ঘোষণা করে দেব। কিন্তু তার আগে আমাদেরও মিডিয়ার সঙ্গে তাল মিলিয়ে নাচতে হবে। বানচোদ! সরি!’

‘আমাদের কি কাল রয়্যাল গার্ডেনে যেতে হবে?’

‘না, আমরা ডিসিশন নিয়েছি, ওই নাটক আমরাই করব। ওরা চাইছে তোদের, যাতে চ্যানেলগুলো সারাদিন একটা ওয়ানডে ক্রিকেট ম্যাচ পায়।’

‘কাল তাহলে আমাদের এখানে আসতে হবে না।’

‘না, কাল তোদের ছুটি।’

‘সিওর? না রাতে আবার ফোন করবে?’

‘না, কাল আমাদের ছ’জন অফিসার রয়্যাল গার্ডেন যাব। মিডিয়াও যাবে। আমরা আবার সব কিছু দেখব—। এবার যেটা দেখব, সেটা মিডিয়াও দেখবে, তারা পাবলিককে দেখাবে। এতে পাবলিক শান্ত হবে।’

‘তাহলে আঙ্কেল আরও দু’জনকে তোমরা ওখানে গিয়ে ডেকে কথা বলো, প্রথমজন সেই সিকিউরিটি গার্ড—যে চিৎকার করছিল—খুন, খুন। সে কেন খুন খুন বলে চিৎকার করল? আর যে পুলিশটি টিভি ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে বলল, মার্ডার! সে কী করে মার্ডার বলে জানিয়ে দিল? তোমরা যেমন আমাদের অনেক প্রশ্ন করছ, এগুলোও তেমন আমার প্রশ্ন?’

‘তোকে জানিয়ে রাখি—সেই সিকিউরিটি গার্ড আর পুলিশকর্মীটিকে কাল ডাকা হয়েছিল। সিকিউরিটি গার্ডটি খুন কথাটার মানেই জানে না। আর পুলিশকর্মীটির যুক্তি—তার পারিপার্শ্বিকতা থেকে মনে হয়েছিল। সে ভুল স্বীকার করেছে। তাকে ভর্ৎসনা করা হয়েছে।’

ট্যাক্সিটা ব্রেক কষে।

আর্য তাকিয়ে দেখে তাদের ট্যাক্সির আগে আগে চলেছে মোমবাতির মিছিল। শ’ দুয়েক মানুষ। তাদের হাতে ধরা মোমবাতি। শুষ্ক চোখে আর্যনীল দেখে বড় ব্যানারে লেখা ‘জাস্টিস ফর আবির’!

ট্যাক্সির ভেতর আতঙ্কে কুঁকড়ে যায় শকুন্তলা। চোখের সামনে দিয়ে চলেছে, ‘জাস্টিস ফর আবির’!

অমিত্রসূদন নির্লিপ্ত চোখে অন্যদিকে তাকিয়ে থাকে। কিন্তু কী করে এড়িয়ে যাবে। ‘জাস্টিস ফর আবির’!

আর্য দেখে তার স্কুলের কয়েকজন বন্ধু—তাদের হাতে মোমবাতি।

ট্যাক্সি ড্রাইভার ঠান্ডা গলায় বলে, ‘এক লেড়কা কো ফ্রেন্ড লোক মার দিয়া না, উসকে লিয়ে—।’

শুষ্ক চোখে, খসখসে গলায় আর্য বিড় বিড় করে: ‘জাস্টিস ফর আবির! জাস্টিস ফর আবির!’

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%