মনজিৎ গাইন
সুকুমার, অতনু এখন এদের সবার মনে খুব আনন্দ। ভালো মাল বাগানো গিয়েছে। মন্টুর মনে শুধু একটু দুঃখ— উফ, বউদিটা যা সেক্সি ছিল না, আমার তো জিভ দিয়ে জল এসে গেছিল।
—সবসময় জিভে জল আনলে হবে, এত নোলা করবি না মন্টু। আতঙ্ক তৈরি করতে গেলে, কথার দাম রাখতেও হবে। ওরা টাকা দিয়েছে, ওদের বাড়ির মেয়ে-বউকে আমরা টাচ করিনি। টাকা না পেলে ওটারে ছিঁড়ে খেতাম।
মন্টুর সুর আবার অন্যরকম— তবে অতনুদা-সুকুমারদা, টাকা না দিলে তখন মজা বেশি। বলতে গেলে একেবারে ঝাক্কাস! সুটিয়ার ওই মেয়েটা যা ছিল না, এখনও ভোলা যাচ্ছে না।
অতনু ওকে শাসন করে— আবার মন্টু, তুই যে বড্ড লাফাচ্ছিস। এখন বেশি লাফাস না। দম ফুরিয়ে যাবে, ঠিক সময় হলে লাফাস।
—আমি সবসময় লাফানো ঝাঁপানোর জন্যে তৈরি, তোমরা একবার বলেই দেখো না।
—অ্যাই মন্টু, আমাদের দলটাকে আর একটু বড়ো করতে হবে, তুই কিছু ছেলে জোগাড় কর। বলবি, টাকাপয়সার পাশাপাশি কচি মেয়ের টাটকা শরীরও পাবে আমাদের সঙ্গে থাকলে।
—বেশ, তাহলে তো চিন্তাই নেই। আমি ক-দিনের মধ্যেই বেশ কিছু ছেলেকে জোগাড় করে ফেলছি।
—দেখিস, সেগুলো যেন আবার ভিতু না হয়।
—না-না, একটাও ভিতুকে নিয়ে আনব না। সব ক-টা ডাকাবুকোকেই ধরে আনব, তোমরা দেখে নিও।
* * *
মন্টুর ক-টা বন্ধু আছে। ও প্রথমে ওদেরকেই ধরে— একটা ভালো কাজ আছে করবি?
—কী কাজ?
—লোককে চমকে দেওয়ার কাজ।
—তাহলে তো পুলিশ-ফুলিশের ভয় আছে। অত ঝক্কিতে আমরা যেতে পারব না।
—ভালো টাকা দেবে কিন্তু পার্টি।
—না-না, ওসব ঝক্কির মধ্যে আমরা থাকব না।
—দ্যাখ, টাকার সঙ্গে সঙ্গে যদি অন্য কিছু তোদের দেয়, তোরা এ কাজ করবি?
—কী দেবে মদ, সে আমরা এমনিতেই অনেক পাই।
—মদ না, মেয়েছেলে পাবি।
—না-না, ওসব বাজারের মেয়েছেলের হাজারো ব্যামো। শেষপর্যন্ত আমাদের কি এডস বাঁধানোর ধান্দায় আছিস? পাড়ার মেয়েছেলে দিবি না, বিষ দিবি, আমরা যে কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না।
—পাড়ার মেয়েছেলে না, টাটকা মেয়েছেলে পাবি।
—এই মন্টু, আমাদের সঙ্গে আর ফাউ ফাউ বকিস না তো! টাটকা মেয়েছেলে কি গাছে ফলে, না আকাশ থেকে পড়ে, যে তুই আমাদের টাটকা মেয়েছেলের জোগান দিবি? যত্তসব ফাউ বকা। তুই আমাদের বন্ধু, না শত্রু বল তো?
—ওরে, আমি ফাউ বকছি না, যেসব জায়গায় আমরা গিয়ে চমকাব, তারা যদি মালকড়ি না ছাড়ে, ওদের বাড়ির মেয়েগুলোকে নিয়ে আমরা যত খুশি চষি। কেউ আটকাবার নেই। আর আটকাবেই বা কী করে, আমাদের হাতে অনেকগুলো মেশিন থাকবে, কেউ ট্যাঁ-ফোঁ করে?
—তারপর পুলিশ যদি ঝামেলা করে, তখন কে বাঁচাবে ওদের হাত থেকে?
—সেসব আমাদের দাদাদের দায়িত্ব। আরে এইসব পুলিশ-ফুলিশ আমাদের দাদাদের পকেটে গোঁজা থাকে। অতসব ভাবিস না, সোজা আমাদের দলে তোরা চলে আয়, একেবারে বিন্দাস মজা। টাকা প্লাস টাটকা।
বন্ধুগুলোর মনটা এবারে মন্টুর সঙ্গে কাজ করার জন্যে আগ্রহী হয়। কিন্তু ওদের মন থেকে আশঙ্কা যাচ্ছে না। মন্টু সত্যি বলছে তো? নাকি এই লাইনে নামিয়ে দিয়ে একেবারে ফাঁসিয়ে দিতে চায়। ওরা মন্টুকে যাচাই করে— মন্টু, তুই কি এদের সঙ্গে থেকে বিন্দাস মজা পেয়েছিস?
—সে না পেলে আর তোদের বলি।
মন্টুর এই কথা শুনে বাবুয়া, শামু, টুকাইরা বেশ আগ্রহী হয় ওর সঙ্গে এই কাজে যেতে। তবুও ওরা মন্টুকে যাচাই করে— মন্টু, তুই কোথায় বিন্দাস মজা পেয়েছিস রে?
—ওই তো সুটিয়ায় যেটা ঘটল জানিস না, গ্যাংরেপ। আরে, মেয়েটা হেবি সেক্সি ছিল। প্রথমে তো আমাকেই সুযোগ দিল। ওফ, বিন্দাস মজা।
—আমরাও প্রথমে সুযোগ পাব তো?
—না পেয়ে আর যাবি কোথায়, দেখিস আবার শাবল পোঁতার সময় হলে যেন নার্ভাস হয়ে পড়িস না।
—কেন, নার্ভাস হব কেন?
—বা রে, মেয়েটা চিল্লোবে, হাত-পা ছুড়বে, তার মধ্যে কিন্তু তাকে রেপ করতে হবে, একটুও ভয় পেলে চলবে না।
—না-না, আমরা একটুও ভয় পাব না।
মন্টু ওদের সবাইকে সুকুমারদা, অতনুদার কাছে নিয়ে যায়। মন্টু বলে— দাদারা, দেখো কাদের এনেছি।
ওরা দুজনে এদের সবাইকে একবার দেখে নেয়। তারপর অতনু বলে— মন্টু, এদের সবাইকে ভালোভাবে বুঝিয়ে দিয়েছিস তো কী কাজ করতে হবে, পরে আবার যেন বেগড়বাই না মারে দেখিস।
—না-না, তোমাদের একেবারে চিন্তা করতে হবে না। এদের আমি ভালো করে বুঝিয়ে দিয়েছি।
—পরের কাজে এদের নিয়ে যাওয়া যাবে?
—হ্যাঁ, অসুবিধে হবে না।
* * *
ওদের এবারের টার্গেট সুটিয়ারই প্রহ্লাদ। ও ফুলের ব্যবসা করে ভালোই পয়সা করেছে। সবসময় ওর হাতে কাঁচা টাকা।
সেদিন রাতে ওর বাড়িতে টোকা পড়ল। প্রহ্লাদ সাড়া দেয়— কে, কে দরজায়?
—আমরা প্রহ্লাদদা।
—তোমরা কারা?
—আমরা বর্ডার পার্টি।
এই উত্তর শুনে প্রহ্লাদের বুকে ঢিব ঢিব শুরু হয়ে যায়। বর্ডার পার্টির নামে এখন চারিদিকে ভীষণ আতঙ্ক। ও ভয়ে ভয়ে বাড়ির মেয়েদের বলে ভিতরের ঘরে গিয়ে দরজা দিতে। আবার দরজায় টোকা পড়ে— কী হল, দরজা খোলো, আমরা কতক্ষণ এইভাবে দাঁড়াব।
—আমি এত রাতে দরজা খুলতে পারব না।
—তাহলে আমরা দরজা ভেঙে ঢুকব।
বলার সঙ্গে সঙ্গেই প্রহ্লাদের দরজায় পরপর লাথি পড়তে লাগল। ও বুঝতে পারল এদের হাত থেকে বাঁচা যাবে না। ও নিজে এগিয়ে গিয়ে দরজা খোলে।
সঙ্গে সঙ্গে খান কুড়ি ছেলে হুড়মুড়িয়ে ভিতরে ঢোকে— কী ব্যাপার, আগে দরজা খুলছিলিস না কেন? খুব সাহস বেড়ে গিয়েছে তোর, দে টাকা দে।
প্রহ্লাদ অবাক হয়ে বলে— টাকা, টাকা আমি কোথায় পাব?
অতনু এই কথা শুনে ওর বাজখাঁই গলায় ধমক দেয়— টাকা নেই মানে, আমরা কি তাহলে তোর মুখ দেখতে এসেছি? অনেক কাঁচা টাকা করেছিস ফুলের ব্যবসা ফেঁদে, তাড়াতাড়ি লাখ দুই টাকা বার কর, নাহলে তোর সামনে বিপদ আছে।
—বলছি তো আমার কাছে টাকা নেই।
—আবারও বলছি টাকা বার করে দে, আমরা ভালোয় ভালোয় টাকা না পেলে তোর একেবারে সর্বনাশ করে দেব।
—বিশ্বাস করো আমার কাছে অত টাকা নেই।
অতনু সঙ্গে সঙ্গে হাঁকে— মন্টু, দেখ তো বাড়ির মেয়েগুলোকে এরা কোথায় লুকিয়েছে।
—দেখছি দাদা।
মন্টু দলবল নিয়ে বাড়ির ভিতরে হানা দিল। ভেতরের ঘরে দরজা বন্ধ দেখে ওরা বুঝতে পারল এই ঘরেই মেয়েগুলো রয়েছে। ওরা দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকল। তারপর টেনে হিঁচড়ে মেয়েগুলোকে বার করল। প্রহ্লাদের মা, বোন, বউ কেউ ওদের হাত থেকে নিস্তার পেল না। এক এক করে প্রত্যেকেই নিজেদের লালসা মেটাল ওদের ওপর। ওরা কত করে হাতে-পায়ে ধরল— আমাদের এই সর্বনাশ তোমরা কোরো না।
কিন্তু কে শোনে কার কথা? ওদের পাশবিক অত্যাচার কোনোভাবেই শেষ হতে চাইল না। একবারের পরে আরেকবার, এক-একজন দুই-তিনবার করে ওদের রেপ করতে লাগল। একজনকে ছেড়ে আর একজনকে।
পাশের বাড়ির দীপা বউদি ছুটে এসেছিল ওদের সম্মান বাঁচাতে। কিন্তু দীপা বউদিও ওদের অত্যাচারের শিকার হল। ওকে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে শাড়ি-ব্লাউজ ছিঁড়ে ফেলে ধর্ষণ করতে লাগল। একজন করে ওকে রেপ করছে আর অন্য দুইজন ওর দুই থাই চেপে ধরে বন্দুকের বাঁট দিয়ে বাড়ি দিতে লাগল।
যন্ত্রণায় দীপা বউদির চোখ-মুখ নীল হয়ে যাচ্ছে। শয়তানগুলো আওয়াজ দিচ্ছে— খুব সাহস হয়েছে তোর, আমাদের হাত থেকে বাঁচাতে এসেছিস, নে এবার সহ্য কর।
রাত যখন শেষ, ভোরের আলো ফুটছে, তখন ওরা বেরিয়ে গেল। অবশ্য যাওয়ার আগে প্রহ্লাদকে শাসিয়ে গেল— তুই যদি পুলিশে যাস, তোকে কিন্তু জানে মেরে দেব।
প্রহ্লাদ বলে— না আমি যাব, তোদের মতো শয়তানদের আমি ফাঁসিতে ঝোলাব!
—তোর এত বড়ো সাহস! দেখ, তবে মজা দেখ।
এই বলে মন্টু, বাবুয়া, শামুরা প্রহ্লাদের ওপরে ঝাঁপিয়ে পড়ল। কিল, চড়, ঘুসি সমানে চলছে। বন্দুকের বাঁটের বাড়িতে প্রহ্লাদের মাথা ফাটল। তারপর যাওয়ার আগে বলে গেল— একে কোনো হসপিটালে, কোনো ডাক্তারের কাছে কেউ নিয়ে যেতে পারবে না।
ওরা চলে গেল। প্রহ্লাদ যন্ত্রণায় ককাচ্ছে। বাড়ির মেয়েদের ওই অবস্থা। থানা পুলিশ দূরের কথা, বর্ডার গ্যাঙের ভয়ে ওরা ডাক্তারের কাছেও যেতে পারল না। সবসময় ওরা আতঙ্কে ভুগছে। এই বুঝি বর্ডার গ্যাঙ আবার ফেরত আসে।
* * *
প্রহ্লাদের বাড়িতে অবশ্য বর্ডার গ্যাঙ ফেরত আসেনি। ওরা ফেরত এসেছিল সুকান্তদের বাড়িতে। যে রাতে ওরা ওই বাড়ির মেয়েদের গ্যাংরেপ করল, সেদিনই ওরা শাসিয়ে গিয়েছিল পুলিশে যাবি না, তাহলে আরও সর্বনাশ করব।
কিন্তু সুকান্ত সে কথা মানেনি। ও পরের দিন থানায় যায় অভিযোগ লেখাতে। থানার অফিসারের কাছে সুকান্ত কান্নায় ভেঙে পড়ে— স্যার, আমাদের ওরা সর্বনাশ করে দিয়েছে, আপনি ওদের ফাঁসিতে ঝোলান।
—কী হয়েছে আগে বলুন।
—স্যার, কাল রাতে আমার বাড়ির সব মেয়েকে ওরা সবাই মিলে গ্যাংরেপ করেছে।
—কী সব ফালতু কথা বলছেন।
—না স্যার, ফালতু কথা নয়, সত্যি সত্যি ওরা আমাদের বাড়ির মেয়েদের ওপরে জন্তুর মতো অত্যাচার করেছে।
—কারা করেছে এসব?
—সুকুমার, অতনু, মন্টু আরও অনেকজন মিলে।
—ঠিক আছে, আমি দেখছি ব্যাপারটা, আপনি ঠান্ডা মাথায় বাড়ি যান।
সুকান্ত বাড়ি চলে এসেছিল। কিন্তু সেইরাতেই ফিরে এল বর্ডার পার্টি। এসেই চিৎকার— বারবার বারণ করলাম তাও তোরা পুলিশে গেলি, এবারে তোদের বাঁচায় কে?
তারপর মেয়েদের ধরে আবার ওরা রেপ করল। তার পরের দিন আবার, এইভাবে টানা পনেরো দিন ধরে চলল সুকান্তদের বাড়িতে মেয়েদের ধর্ষণ করা। কেউ ওদের সাহায্যে এগিয়ে এল না। সবাই নিজেদের বাড়ির মেয়েদের আড়াল করতে ব্যস্ত।
* * *
বর্ডার গ্যাঙের একেবারে রামরাজত্ব শুরু হয়েছে সুটিয়া আর তার আশেপাশের গ্রামগুলোতে। যেখানেই ওরা টাকা চাইছে, তাই পেয়ে যাচ্ছে। মেয়েদের ধর্ষণ করার লোভে দলে দলে ইয়ং ছেলেরা বর্ডার পার্টিতে নাম লেখাচ্ছে। রাস্তাঘাটে মেয়েরা বেরোলে তাদের ধরে নিয়ে গিয়ে বর্ডার পার্টির ছেলেরা গ্যাংরেপ করছে। সুটিয়ায় একটা বাড়িতে বনগাঁ থেকে আত্মীয় আসছিল। রাস্তায় বর্ডার গ্যাঙের ছেলেদের নজর পড়ে ওদের ওপর। তারপর পাশের ধান খেতে নিয়ে গিয়ে ওদের দুটো মেয়েকে গ্যাংরেপ করা হয়।
সুটিয়ায় বাইরের থেকে কেউ আর আসে না। অনেকেই সুটিয়া ছেড়ে চলে যাচ্ছে। তবে ছেড়ে যাওয়া বাড়িঘর কাউকে ওরা বিক্রি করতে পারছে না। প্রায় জলের দরে সুকুমার আর অতনু সেগুলো নিজেদের নামে লিখিয়ে নিচ্ছে।
মানুষ পুলিশ, প্রশাসনের কাছে যেতে ভয় পাচ্ছে। রাজনৈতিক নেতারা বর্ডার পার্টির ভয়ে চুপ। মানুষজনেরা দিশেহারা।
* * *
এদিকে বর্ডার পার্টিও তাদের দলে আরও নতুন ছেলে নিতে চায়। যেকোনো ভাবে ওরা দলে লোক বাড়াবে। অতনু সুকুমারকে বলে— সুকুমারদা, আরও কিছু ছেলে নিতে হবে।
—ঠিক আছে, মন্টুকে বলি।
সুকুমার আর অতনু মিলে মন্টুকে আরও নতুন ছেলে জোগাড় করতে বলে। মন্টুও তক্কে তক্কে থাকে।
সেদিনকে হঠাৎ করে মন্টুর চোখে দৃশ্যটা ধরা পড়ল। একটা ছেলে সাইকেলে করে একটা স্কুল ফেরত মেয়ের পিছনে আসছে, ছেলেটা সমানে বলছে— স্নেহা, একটু শোনো না।
—না, আমি তোমায় আগেই তো বলেছি, তোমাকে আমার পছন্দ হয় না।
—কেন স্নেহা, আমি যে তোমায় এত ভালোবাসি তার কি কোনো মূল্যই নেই?
—বললাম তো নেই আর তোমায় কতবার বারণ করেছি এইভাবে আমার পিছন পিছন আসতে। এরপরে যদি কোনোদিন তোমাকে এইভাবে আসতে দেখি তাহলে কিন্তু বাড়িতে জানাব। একদম তুমি আমার পিছন পিছন আসবে না।
—তুমি এরকমভাবে বোলো না স্নেহা, আমার কষ্ট হয়।
—ফালতু আমার সঙ্গে একদম বকবে না।
এই বলে মেয়েটা গটগট করে এগিয়ে যায়। ছেলেটা হতাশ হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে। মন্টু আস্তে আস্তে ওর দিকে এগিয়ে যায়, ছেলেটার পাশে গিয়ে মন্টুর মন্তব্য— মেয়েটা তোমায় তো একেবারেই পাত্তা দিল না।
ছেলেটা ওর দিকে একবার তাকাল, কিন্তু কোনো উত্তর দিল না। মন্টু আরও খোঁচা দেয়— তুমি মেয়েটাকে খুব ভালোবাস, তাই না?
—হ্যাঁ, খুব ভালোবাসি।
—কিন্তু মেয়েটা ওরকম করছে তোমার তো খুব খারাপ লাগছে?
—হ্যাঁ, সে একটু খারাপ লাগছে।
—তুমি কি মেয়েটাকে পুরোপুরিভাবে পেতে চাও?
—হ্যাঁ, সে অবশ্যই। কিন্তু কীভাবে?
—তোমাকে আমাদের দলে যোগ দিতে হবে, তাহলেই মেয়েটাকে তুমি পাবে।
—তাই স্নেহাকে আমি পাব! তাহলে আমি তোমাদের দলে অবশ্যই যোগ দেব।
সেদিন রাতেই ওই ছেলেটা যার নাম দেবেশ, তাকে নিয়েই বর্ডার পার্টি স্নেহার বাড়িতে হানা দিল। স্নেহাকে ওর মায়ের হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে দেবেশের হাতে মন্টু তুলে দিল। অতনু চ্যাঁচাল— দেবেশ, মেয়েটার বড়ো গুমোর ছিল, এখানে ওর গুমোর ভেঙে দে, সবার সামনেই ওকে রেপ কর।
দেবেশ ওর ওপরে ঝাঁপিয়ে পড়ল। তারপর দেবেশের প্রসাদ পেল সবাই। দেবেশ ওদের দলের এখন চাঙ্গা ঘোড়া। এইরকম অনেক চাঙ্গা ঘোড়া ওরা বর্ডার পার্টিতে ঢোকাল। কোনো ছেলের কোনো মেয়েকে পছন্দ হলে, তাকে সেই মেয়েকে রেপ করার লোভ দেখিয়ে ওরা দলে নিত। প্রায় একশো জনের দল এখন ওদের। সুটিয়ার ইয়ং ছেলেরা বলতে গেলে সবাই এই দলে। মানুষজনের আতঙ্ক হয়ে এরা দিন দিন বাড়তে লাগল। প্রত্যেক ঘরে ঘরেই ধর্ষিতা মেয়েদের হাহাকার। বর্ডার পার্টির হাত থেকে প্রতিকার কোথায়? পুলিশ, নেতারা নাকে তেল দিয়ে ঘুমোচ্ছে।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইনএই বইয়ে প্রাপ্তবয়স্কদের উপযোগী বিষয়বস্তু রয়েছে।
পড়া চালিয়ে যেতে নিশ্চিত করুন যে আপনার বয়স ১৮ বছর বা তার বেশি।