দ্বাদশ অধ্যায়

মনজিৎ গাইন

মন্টু বলে— দাদা, আমাদের মানিকহীরাতে একজন খুব বড়ো করে বাড়ি করছে, তার বাড়িতে যাবে না কি?

—যেতে তো হবেই। এখন আমাদের ভয়ে আশেপাশে সবাই জুজু হয়ে রয়েছে। এই সময়েই যা গোছানোর আমাদের গুছিয়ে নিতে হবে।

অতনু মন্টুকে বলে— মন্টু, তুই আর কিছু ছেলে জোগাড় করতে পারবি না, যারা তোর মতো জোয়ান-মদ্দ হবে?

—হ্যাঁ-হ্যাঁ, ছেলের কী অভাব, আমি ঠিক জোগাড় করে ফেলব।

—ওদের বলে দিস, শুধু টাকা নয়, টাটকা মেয়েছেলেও পাবে আমাদের সঙ্গে গেলে। মন্টু, বল কীরকম লাগল?

—প্রথমে মনে একটু ভয় ছিল, কিন্তু মেয়েটাকে ধরে টেনে আনতে আনতেই আমার শাবল পুরো সোজা। ও যা লাগছিল না ওকে চষতে আর ওর মাইগুলো ডলতে। অনেকদিন ধরে শুধু ফ্যাল-ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকতাম, তারপর সুযোগ এসে গেল, আর ওটারে ছাড়ি। আর শুধু আমারে জিজ্ঞাসা করছ কেন, তোমরাও সবাই তো মেয়েটাকে চষেছ, তোমরাও তো ভালো মতো মজা লুটেছ।

—আমরাও মজা লুটেছি সেটা ঠিক, কিন্তু তুই যে ওকে প্রথম চষলি, আর প্রথম চষায় একটা বীরত্ব আছে না?

—তবে প্রথমে মেয়েটা খুব হাত-পা ছুড়ছিল, তারপর ছোড়া হাত-পা চেপে ধরায় একেবারে ঠান্ডা।

অতনু এবার সুকুমারদাকে ধরে— দাদা, তাহলে মানিকহীরাতে কবে বেরোচ্ছ?

—দেরি করে কী হবে, আজ রাতেই একবার ঘুরে আসি।

রাতের বেলা দরজায় ঠক-ঠক। সঞ্জয় ওর ছোটো ছোটো দুটো ছেলেমেয়ে নিয়ে সবে শুয়েছে। আবারও ঠক-ঠক। সঞ্জয় বলে—এত রাতে বাইরে কারা?

—আমরা, দরজা খোলো, তোমার সঙ্গে খুব দরকার।

—এত রাতে আবার আমার সঙ্গে কী দরকার?

—দরকার আছে, দরজাটা খোলো আগে।

সঞ্জয় বিছানা ছেড়ে দরজা খুলতে যায়, ওর বউ গীতা ওকে বলে— দেখো, এত রাতে সাবধানে দরজা খোলো। সুটিয়ায় কী হয়েছে শুনেছ তো?

—অত ভয় পেলে চলে না, সেটা তো সুটিয়ায় হয়েছে। আমাদের মানিকহীরাতে ওসব ভয় নেই।

—তবুও সাবধান, সুটিয়ার থেকে মানিকহীরা তো আর বেশি দূর নয়।

—তুমি শুয়ে পড়ো, তোমার চিন্তা করতে হবে না, আমি দেখছি।

সঞ্জয় এগিয়ে যায় দরজার দিকে। ও সামনের দরজার খিল আর তালাটা খোলে। দেখে ক-জন দাঁড়িয়ে আছে।

—কী ব্যাপার, এত রাতে?

—তোমার সঙ্গে একটু দরকার ছিল।

—তাই বলে এত রাতে?

সঞ্জয়ের কথায় বিরক্তির ছাপ স্পষ্ট। ওরাও যেন সেটা বুঝতে পারে।

—না, তোমাকে আর এত রাতে বেশি বিরক্ত করব না, আসল কথায় আসা যাক।

—হ্যাঁ, তাড়াতাড়ি বলে ফেলুন কী বলতে চান।

—আমাদের কিছু টাকা লাগবে।

—টাকা, কীসের টাকা, কেন টাকা লাগবে?

সঞ্জয় তাদের এই কথা শুনে যেন সত্যিই আকাশ থেকে পড়ে। ওরা বলছেটা কী!

কিন্তু ওরা ওর কাছ থেকে টাকা ঠিক নেবেই।

—তুমি আশেপাশের খবর রাখো তো, পাশের সুটিয়ায় কী হয়েছে তোমার কানে গিয়েছে, না যায়নি? ওখানে একটা ইয়ং মেয়ে ছিল, আমরা সবাই মিলে ওটাকে চষেছি, হেব্বি মজা! একেবারে আজকের দিনের দ্রৌপদী বানিয়ে দিয়েছি। তোমার ঘরে আবার তো তোমার ডাগর বউ আছে। টাকা না পেলে তোমার বউরে চষে আমরা পয়সা উশুল করে নেব।

ওদের এই মারাত্মক হুমকি শুনে সঞ্জয়ের শিরদাঁড়া দিয়ে একটা ঠান্ডা স্রোত বয়ে যায়। তাহলে সুটিয়ায় কমল মাস্টারের বাড়িতে এই জন্তুগুলোই গিয়েছিল। এরা তো তাহলে মারাত্মক। কমল মাস্টারের বোন এদেরই গ্যাংরেপের শিকার হয়ে আজকে কথা হারিয়ে ফেলেছে। ওর বাবা ওই অত্যাচার দেখতে না পেরে ওখানেই হার্ট-ফেল করে মারা যায় আর কমল মাস্টারের যা অবস্থা এখন। একটা সুখের সংসার ছারখার করে এবারে ওরা তাকে টার্গেট করেছে। ওদের দাবি না মানলে, গীতারেও ওরা এইভাবে শেষ করবে। ও সেটা সহ্য করতে পারবে না। সঞ্জয়ের মনে এইসব ভাবনাচিন্তা পরপর উঠে আসতে থাকে।

অতনু এক ঝলকে বুঝে নেয় সঞ্জয়ের মনের ভাব। ওকে ভালোই চমকাতে পেরেছে ওরা। সুটিয়ার ঘটনাটা তাহলে ভালোই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। ও জানে এই ঝোঁকেই কোপ বসাতে হবে। ও বলে— দেখো, আমরা এমনিতে খারাপ না, মেয়েমানুষের গায়ে হাত দিতে আমাদেরও খারাপ লাগে, কিন্তু কী করব বলো, কেউ যদি আমাদের দাবি মতো টাকা না দেয়, তখনই আমরা বাড়ির মেয়েগুলোকে নিয়ে একটু টানাটানি করি। নাহলে খুব সম্মান করি। এই তো তোমার বউ আমাদের বউদি হয়। দেখো, বউদি বলেই আমি ডাকছি— ও বউদি, দাদাকে বোলো তো পরের সপ্তায় দু-লাখ রেডি করে রাখতে, আমরা টাকাটা নিতে আসব আর তার সঙ্গে তোমার হাতের মিষ্টি চা খেয়ে যাব।

সঞ্জয়ের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ে। দু-লাখ টাকা! ও এত তাড়াতাড়ি কোথা থেকে পাবে? ও বলে— এত টাকা আমি একসঙ্গে কোথা থেকে এর মধ্যে জোগাড় করব? তোমরা যদি তোমাদের দাবিটা একটু কমাতে, তাহলে সুবিধা হত।

—কত কমাব, বলে ফেলো।

—আমি অনেক কষ্ট করে পঞ্চাশ হাজারের মতো সামনের সপ্তায় দিতে পারব।

—যেটা তুমি মনে করবে, তবে বাকি দেড় লাখ আমরা তোমার বউয়ের শরীর থেকেই উশুল করে নেব। তুমি পঞ্চাশ হাজার দিলে আমরা সবাই না, তিনজন তোমার বউয়ের সঙ্গে ওই কী বলে না ওটা, ও হ্যাঁ, রেপ করব। দেড়লাখ তুমি দেবে না তাই তিনজনে মানে তুমি বুঝতে পারছ তোমার বউয়ের রেট। এক-একজনের জন্যে পঞ্চাশ হাজার। বিশাল হাই রেট। ঠিক আছে, আমরা তাহলে চলি, যা বলার আমরা বলে গেলাম। এরপর তুমি যা ঠিক করবে তাই হবে। তুমি চাইলে টাকা দিও নাহলে বউরে দিও, একেবারে সোজা-সাপটা ব্যাপার। আর হ্যাঁ, থানা-পুলিশ ওসব করে কিছু হবে না, ওসব আমাদের পকেটে পোরা। ওখানে গেলে আগে আমরা খবর পেয়ে যাব তখন কিন্তু খুব মুশকিল হবে।

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%