মনজিৎ গাইন
পুরো ঘটনাটাই বরুণকে কুরে কুরে খাচ্ছে। এটা কি মানুষের জীবন? যেখানে মেয়েদের এইভাবে নির্যাতিতা হতে হয়, ধর্ষিতা হতে হয়, সেখানে কি আর মানুষ থাকে?
বরুণের নিজের ওপর ঘৃণা হয়। ও কিছুতেই এই বর্ডার পার্টির অত্যাচার বন্ধ করতে পারছে না। ও বারবার থানায় যাচ্ছে। থানার অফিসার বলছেন— দেখুন বরুণবাবু, আপনি যা বলছেন সবই বিশ্বাস করলাম, কিন্তু যাদের ওপর নির্যাতন হয়েছে তারা যদি থানায় এসে অভিযোগ না করে তাহলে আমাদের কিছু করার নেই। শুধু আপনার কথার ওপর ভিত্তি করে আমরা তো আর কাউকে অ্যারেস্ট করতে পারি না। সেটা কোনোমতেই আইন নয়।
—কিন্তু সুকান্ত বলে একজন তো থানায় এসে অভিযোগ করেছিল।
—হ্যাঁ, করেছিল।
—তাহলে আপনারা ওদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন নিলেন না কেন?
—কিন্তু সেই অভিযোগ তো আর নেই।
—তার মানে?
—সুকান্তবাবু যে সেই অভিযোগ তার ক-দিন বাদেই তুলে নিলেন। আমাদের তদন্ত করার কোনো সুযোগই তো উনি দিলেন না।
—সুকুমার, অতনু এরা ওর বাড়ির মেয়েদের ওপর অত্যাচার করে এই অভিযোগ তুলিয়েছে। আপনারা যদি কোনো অ্যাকশন না নেন, তাহলে এদের বিরুদ্ধে কেউ অভিযোগ জানাতেই সাহস পাবে না।
—আমরা অবশ্যই অ্যাকশন নেব, কিন্তু একটা কেউ আগে অভিযোগ জানাক যে তাকে কেউ ধর্ষণ করেছে।
বরুণ থানা থেকে বেরিয়ে আসে, ও জানে পুলিশ এই বর্ডার পার্টির কেনা। ও যারা রেপ হয়েছে তাদের বাড়ি বাড়ি যায়, তাদের বোঝায় পুলিশে অভিযোগ জানাতে। কিন্তু কেউ থানায় যেতে রাজি নয়। সুকান্তর ঘটনা সবার মনে তখনও জ্বলজ্বল করছে। ওইরকমভাবে ওরা কেউ পুলিশে গেলে যদি ওদেরও ওইভাবে প্রতিদিন অতজন মিলে রেপ করে, তখন কী হবে? কেউ রাজি হয় না।
বরুণ পারে না কাউকে রাজি করাতে। এদিকে বর্ডার পার্টির কানেও বরুণের এই কাজের কথা গিয়েছে। অতনু সুকুমারকে বলছে— দাদা, বরুণ তো আবার খুব বাড়িয়েছে, আমাদের বিরুদ্ধে থানায় যাচ্ছে, ওকে সরিয়ে দেব?
সুকুমার অতনুকে থামায়— না অতনু, বরুণকে শেষ করার মতো ভুল করা যাবে না।
—কেন, ও আমাদের বিরুদ্ধে মানুষ খ্যাপাচ্ছে, ওকে না সরালে যে খুব মুশকিল।
—খ্যাপালেও কেউ কি খেপছে? কেউ আমাদের বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস করবে না। শুধু সুটিয়া কেন, আমাদের ভয়ে আশেপাশের সব গ্রামগুলোই ভয়ে একেবারে সিঁটিয়ে রয়েছে।
—কিন্তু শত্রুর শেষ রাখা কি আমাদের পক্ষে নিরাপদ হবে?
—নখ-দাঁতহীন শত্রু আমাদের বিরুদ্ধে কিছুই করতে পারবে না। কিন্তু ওকে যদি মার্ডার করি, তাহলে খবরের কাগজের হেডলাইন হবে, ওপরতলার নজর পড়বে, তখন কিন্তু আমাদের বেশ ক্ষতিই হবে।
—হ্যাঁ, সেটা ঠিকই বলেছ দাদা। ও একটা কলকাতার ইস্কুলে মাস্টারি করে, আর ওকে মারলে কলকাতার লোকেরা জেনে গেলে বেশ হইচই হবে, তখন আমাদেরই অসুবিধা হবে।
—কিন্তু চুপ করে থাকলে হবে না। ওকে এবারে একটু কড়কে দিতে হবে।
—সেই ভালো, ওকে এবার জবরদস্ত একটা শাসানি দিতে হবে।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইনএই বইয়ে প্রাপ্তবয়স্কদের উপযোগী বিষয়বস্তু রয়েছে।
পড়া চালিয়ে যেতে নিশ্চিত করুন যে আপনার বয়স ১৮ বছর বা তার বেশি।