আইহোল

মহুয়া মল্লিক

শশশশ...ঠোঁটের উপর তর্জনী ঠেকিয়ে ঝিল বলে উঠল। আমি ননস্টপ বকে যাচ্ছিলাম সদ্য কেনা লিপস্টিকের শেডগুলো নিয়ে। ভুলেই গিয়েছিলাম, কেন এখানে এসেছি। আসলে ঝিল আর আমি এক কলেজে পড়াশোনা করলেও কোনোদিনই তেমন বন্ধুত্ব ছিল না, বরং অভিকে ঘিরে আমাদের দু'জনের মধ্যেই তীব্র একটা প্রতিযোগিতা চলত। কে অভির কতটা কাছে যেতে পারবে তাই নিয়ে দুজনের মধ্যে একটা ঠান্ডা লড়াই চলত সবসময়। ক্যম্পাসিংয়েই আমরা তিনজন তিনদিকে ছিটকে গিয়েছিলাম। অভি প্লেসমেন্ট পেল দিল্লিতে, আমি ব্যাঙ্গালোরে আর ঝিল কলকাতার একটা মোটামুটি কোম্পানিতে।

মাস দুয়েক আগে রাজাজী নগর গিয়েছিলাম একটা কাজে। ফেরার সময় অরিওন মলে একটু ঘুরে বেড়াচ্ছিলাম। উইন্ডো শপিং করে ক্লান্ত হয়ে একসময় ফুড কোর্টে চীজ স্যান্ডুইচ আর কফি নিয়ে বসেছিলাম। ঝিল মনে হয় শপিং করতে এসেছিল। ওকে এখানে দেখে অবাক হয়ে গেছিলাম। আমাকে দেখেই উজ্জ্বল হাসিতে মুখ ভরিয়ে এগিয়ে এসেছিল। ''ফোন নাম্বারটা চেঞ্জ করেছিস কেন? মেইলও করেছিলাম, যায়নি দেখলাম।'' হ্যাঁ, আসলে, দুটো সিম হ্যান্ডেল করার মতো আমার এলেম নেই রে, আর ঐ মেইলটা বহুদিন এক্সেস করা হয় না। কথাগুলো বলতে বলতেই দেখেছিলাম ঝিলের সুন্দর মুখটায় এক পোঁচ কালি লেপে গেল যেন। ঢিলটা ঠিক জায়গাতেই লেগেছে। আসলে পাড়াতে স্টেডি বয়ফ্রেন্ড থাকা সত্ত্বেও অভির পিছনে তো কম পড়েনি!

দরজায় কান ঠেকিয়ে ঝিল আমার দিকে তাকিয়ে বলল, ''শুনতে পাচ্ছিস কুহু''? ওর দেখাদেখি আমিও কানটা ঠেকালাম। পাক্কা দু'মিনিট শোনার চেষ্টা করলাম, ধুস কোথায় কী! ভালো করে ঝিলকে দেখলাম। চোখের তলায় কালি, মুখেও একটা কালচে ছোপ। ওর কি খুব কাজের প্রেশার চলছে? নাকি অনেক রাত ও ঘুমায়নি? কোনও মানসিক সমস্যায় ভুগছে নাকি?

ঝিল ততক্ষণে ব্যাগ থেকে চাবি বার করে দরজা খুলে ফেলেছে। ওর পিছনে পিছনে ফ্ল্যাটের মধ্যে ঢুকে এলাম। একটা ভ্যাপসা গন্ধ নাকে এসে ঝাপটা মারল। প্রথম দিনই যখন ওর কাছে শুনেছিলাম শেট্টীহাললিতে ফ্ল্যাট নিয়েছে একটু অবাক হয়েছিলাম। আমাদের মতো কর্পোরেট চাকুরেরা এদিকটা এড়িয়ে চলে। এমনিতে অসুবিধা নেই, তবে ঐ ঝাঁ চকচকে ব্যাপারটা নেই। ঝিলের চিৎকারে আমার চিন্তাজাল ছিন্ন হল। সোফার উপরে ব্যাগগুলো রেখে দৌড়ে গেলাম। ''দেখ কুহু দেখ, ফ্যানটা চলছে, আর আমার সমস্ত জিনিস কেমন লন্ডভন্ড করে ছড়িয়ে রেখেছে।''

ভালো করে তাকিয়ে দেখলাম, সারা ঘরে ওর জামাকাপড় আর কাগজপত্র দলা পাকিয়ে ছুঁড়ে ছুঁড়ে ফেলা হয়েছে। মাথার মধ্যে প্রথমেই যেটা এল, এত তাড়াতাড়ি দুটো ট্রলি ব্যাগ খুলে ওর পক্ষে সব এভাবে ছড়িয়ে ফেলা সম্ভব না। তার মানে ও অফিস যাবার আগেই এটা করে গেছে! যদি তাই হয়, কেন করেছে? আমার তো আজ আসার কথা ছিল না। হঠাৎ দেখা হয়ে গেল, ও অনেকদিন বলছিল ওর এখানে এসে একটা উইকেন্ড কাটিয়ে যেতে তাই চলে এলাম। যদিও রবিবার অবধি আমি মোটেও থাকব না। কাল লাঞ্চ করেই চলে যাব। আমার সামনেই হাঁটু মুড়ে মেঝেতে বসে পড়ল ঝিল, তারপর দু পায়ের মাঝে মুখটা গুঁজে ফুঁপিয়ে উঠল, ''রোজ কিছু না কিছু কান্ড, আমি পাগল হয়ে যাব কুহু।''

এই ভেঙে পড়া ঝিলকে আমি দেখিনি। ধীরে ধীরে ওর কাছে এগিয়ে এলাম, মাথায় হাত রেখে বললাম, ''তুই ফ্রেশ হয়ে নে, আমি এগুলো গুছিয়ে নিচ্ছি।''

ডিনার করেই এসেছিলাম আমরা। দুটো মাগে কফি নিয়ে ব্যাল্কনিতে বসে গল্প করছিলাম দু'জনে। কলেজের দিনগুলোতে ফিরে যাচ্ছিলাম একটু একটু করে। ঝিলই জিজ্ঞেস করল, ''অভির সঙ্গে যোগযোগ আছে তোর?'' আমি মাথা নাড়লাম। ওর কাছে জানতে পারলাম অভি বিয়ে করেছে, গুজরাটি বউকে নিয়ে সুখে সংসার করছে। আমি হেসে উঠলাম, ''করলেই ভালো, যা প্লেবয় টাইপ ছিল, তবু আমরা দুজনেই বোকার মতো...''

কুহু, ওদিকে দেখ... ওর দৃষ্টি অনুসরণ করে তাকাতেই দেখি, কোথাও কিছু নেই। ঝিল বিড়বিড় করে ওঠে, এইমাত্র ছিল, জমাট বাঁধা একটা অন্ধকার। আমি আবার ভালো করে দেখলাম কোথাও কিছু নেই। ও মনে হয় হ্যালুসিনেট করছে, ওর কাউন্সেলিং দরকার। এইসব চিন্তাভাবনার মাঝেই আমাকে অবাক করে দিয়ে ব্যাল্কনিতে টাঙানো দোলনাটা দুলতে শুরু করল। কোথাও এক ফোঁটা হাওয়া নেই তবুও অস্বাভাবিক জোরে দুলছে দোলনাটা। ক্যাঁচ ক্যাঁচ করে আওয়াজ হচ্ছে।

দুই

এই ঘটনার পরে সারারাত দুচোখের পাতা এক করা সম্ভব না। ঝিল এতদিন এগুলোই আমাকে বলার চেষ্টা করেছে, আমি পাত্তা দিইনি। তবে তীব্র একটা কৌতূহল ছিল বলেই আজ এসেছি। ঝিল বলছিল, আজকের মতো ভয় আমি কোনোদিন পাইনি, আমার মনে হয়, তুই এসেছিস বলে বিরক্ত হয়েছে।

''তুই ঠিক কি কি ফীল করিস?''

দরজায় চাবি খুলছি, মনে হচ্ছে ভিতরে কেউ গান করছে, বা রান্নাঘরে খুন্তি নাড়ানোর আওয়াজ পাচ্ছি। একমনে কাজ করছি কেউ যেন দরজার সামনে দিয়ে হেঁটে গেল। ঘুমোবার চেষ্টা করছি, গ্যাসের তীব্র গন্ধ, ছুটে গিয়ে দেখি অভেনের নব খোলা, কিন্তু বিশ্বাস কর, আমার মনে আছে আমি বন্ধ করেছিলাম নবটা। কারুর অস্তিত্ব প্রতি মুহূর্তে টের পাই কিন্তু আজকের মতো এত সামনে কিছু দেখিনি, দেখলি তো হাওয়া ছাড়াই দোলনাটা...

''তুই ঘুমিয়ে পড় ঝিল, আমি জেগে আছি, তোর ভয় নেই।''

অসহায় মেয়ের মতো ঝিল আমার দিকে তাকিয়ে বলে উঠল, ''আমি তাহলে একটু ঘুমিয়ে নিই?'' মেয়েটা বহুকাল দুচোখের পাতা এক করতে পারেনি। আমার একটু ভরসায় বাচ্চা মেয়ের মতো নিষ্পাপ সরলতায় চোখ দুটো বন্ধ করে ফেলল। আমি জেগে থাকলাম, নার্ভগুলো এত উত্তেজিত হয়ে আছে আমার ঘুম আসবে না কিছুতেই। সারারাত ঝিলকে নিয়ে ভাবছিলাম। ওর জন্য বন্ধুদের বলে দেখি, যদি অন্য কোথাও ব্যবস্থা করতে পারি। বা কারুর সঙ্গে শেয়ারিং—এর ব্যবস্থাও যদি করা যায়! এভাবে একা থাকলে মেয়েটা হার্টফেল করে মরে যাবে যে কোনোদিন। যতদিন না কিছু পাওয়া যাচ্ছে আমার কাছে থাকতেই পারে, তবে খুব বেশিদিন আমিও রাখতে পারব না। আমার প্রাইভেসী কারুর কাছেই খুলে ফেলতে আমি নারাজ, এতে লোকজন আমায় সেলফিশ ভাবে, তা ভাবুক। ভোরের আলো ফুটতেই বিছানা থেকে উঠে পড়লাম। ঝিল অঘোরে ঘুমচ্ছে। আস্তে আস্তে দরজাটা বন্ধ করে দিলাম। ব্ল্যাক কফি বানিয়ে বারান্দায় বেরিয়ে এসে দোলনাটায় বসলাম। কাল রাতের আতঙ্কের ছিটেফোঁটাও নেই। বরং রাত্রে বুঝতে পারিনি, এটা আবাসনের একদম শেষ প্রান্ত। উঁচু পাঁচিলের ও—প্রান্তে জঙ্গল শুরু হয়েছে। গাছগাছালির ফাঁক দিয়ে একটা ছোট্ট জলাশয় চোখে পড়ল। সবুজের সৌন্দর্যে মনটা একদম ফ্রেশ হয়ে গেল। আমার মতো মানুষের জন্য থাকার জন্য আদর্শ জায়গা। কবিতার বই আর কফি নিয়ে এই দোলনায় বসে আমি ঘন্টার পর ঘন্টা কাটিয়ে দিতে পারি।

ব্যাগ থেকে এক সেট পোশাক বার করে স্নান করতে গেলাম। তোয়ালে, সাবান টয়লেটেই কাল রেখে দিয়েছি। সাবানটা হাতে নিতেই চমকে উঠলাম, ভিজে ভিজে, যেন একটু আগেই কেউ এটা মেখে স্নান করেছে। টয়লেটের দরজা খুলে ঝিলের ঘরে উঁকি দিলাম, মেয়েটা একইভাবে ঘুমিয়ে আছে। মাঝে উঠে আবার শুয়েছে এমন চিহ্ন আমার অভিজ্ঞ চোখে ধরা পড়ল না। গত রাত্রের ভিজে সাবান এই গরমেও শুকায়নি দেখে মনে মনে হোঁচট খেলাম। ঝিলের আর আমার শ্যাম্পুর ব্র্যান্ড এক দেখে মনের সুখে শ্যাম্পু করে ফেনা সহ চুলটা জড়িয়ে রাখলাম। সারা গায়ে সাবান মাখলাম। তারপর শাওয়ার খুলে দাঁড়ালাম। চোখ বন্ধ করে গুনগুন করছিলাম একটা হিন্দি গানের কলি। সাবান শ্যাম্পুর ফেনার সঙ্গে রাত জাগার ক্লান্তিও ধুয়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ মনে হল দুটো হাত পেট থেকে উপরের দিকে উঠে আসছে, গা শিরশির করে উঠল। তাড়াতাড়ি চোখ খুললাম। সাবানের ফেনায় চোখ ঝাপসা তবু দুটো পুরুষালি হাতের করতল আর ডান হাতের অনামিকায় সবুজ পাথরের আংটিটা চোখে পড়ল। চোখমুখ ভালো করে ধুয়ে তাকাতেই আর কিছু দেখতে পেলাম না। আর এই বন্ধ দরজার ভিতর কেউ আসবেই বা কী করে! ঝিলের মনের অসুখটা কি আমার মধ্যেও সংক্রমিত হচ্ছে? তাই যদি হয় কাল রাত্রে দোলনাটা ওভাবে দুলে উঠল কেন? ধুস, নিশ্চয় রাতচরা পাখি বা কোনও ছোট প্রাণী বসেছিল, আমাদের দেখে পালিয়ে যাবার সময়...

তিন

সাত দিন পরে ঝিলের ফোন, ''তুই যেভাবে বলেছিলি আইহোলটা ওভাবেই লাগিয়ে ফেলেছি।'' মাথা কিনে নিয়েছিস, মেন্টাল পেশেন্ট একটা, কোথায় মন দিয়ে কেরিয়ার করবে, দু চারটে প্রেম, উইকেন্ডে মালদার পার্টনারের সঙ্গে লং ড্রাইভ, হাল্কা সেক্স, তা না ছায়া ধরার চেষ্টা করছে। তুই কি ভাবিস আমি তোর গুল ধরতে পারি না? অভি আর গুজরাটি মেয়ের সঙ্গে বিয়ে সংসার! সে দিল্লির অফিস বাইবাই করে কবেই ব্যাঙ্গালোর চলে এসেছিল, আর কার জন্য এসেছিল সেটাও তুই জানিস। শুধু আমাকে বাজিয়ে দেখতে চেয়েছিলি আমি কতটা জানি? ওই বাস্টার্ডটার সঙ্গে আমি যোগাযোগ করিওনি, দেখাও করিনি। তবে জানতাম শেট্টিহাললির দিকেই উঠেছে। ওমনি তুইও ওর পিছু নিয়ে এখানে...

''অ্যাই কুহু, শুনছিস?''

''হ্যাঁ হ্যাঁ শুনছি তো। তুই আর ভয়টয় পাসনি তো?''

''নাহ রে, ভয় ঠিক না, বলতে পারিস একটা এডজাস্টমেন্ট হয়ে গেছে। যে যার মতো থাকি। মাঝে মাঝে মনে হয় কেউ যেন পলক ফেলার আগে সরে গেল। আইহোলটা আজকেই বসালাম, তুই যেমন পজিশনে বলেছিলি ওভাবে। সোমবার দেখব, ফেরার পর যদি কিছু দেখতে পাই। ভাবছি হালকা একটা আলো জ্বালিয়ে যাব, তাহলে ঘরের ভিতরটা বোঝা যাবে।''

পাগলের প্রলাপ শুনে উইকেন্ডটা মাটি করতে চাই না। আহেলীর বাড়িতে লাঞ্চ করে গ্রুপে আজ লং ড্রাইভে যাব। স্নান করতে ঢুকে গেলাম। শ্যাম্পু সাবানে মাখামাখি হয়ে বহুদিন পর অভির কথা মনে পড়ল। আর ঠিক তখনই মনে পড়ে গেল ওর ডান হাতের অনামিকায় একটা পান্নার আংটি থাকত সবসময়।

আশ্চর্য! ঐ প্লেবয় মার্কা ছেলেটার প্রতি একরাশ ঘৃণা ছাড়া আরও কিছু যে মনের কোণে এভাবে রয়ে গেছে এই বোধটাতে হোঁচট খেলাম। নিজেকে সামলেও নিলাম খুব দ্রুত।

বেশ কয়েকদিন হয়ে গেছে, ঝিলের ফোন আসেনি। কে জানে কেমন আছে? মাঝে মাঝে ওর প্রতি মায়া হয়। কেন যে ওর প্রতি ক্ষেপে যাই এভাবে! কলেজ লাইফে ও না থাকলে হয়ত অভি আমার হয়ে যেত বলেই কি? অভি তো ছুটে এসছিল আমার কাছেই, পারিনি তো গ্রহণ করতে? সত্যি বলতে কী, আমার এসব প্রেম ভালোবাসা আসে না, প্রতিযোগিতায় হেরে যাওয়াটা নিতে পারি না বলে কলেজে পাল্লা দিয়ে অভির কাছে রঙিন তিতলির মতো উড়ে বেড়াতাম। ঝিল বরং নিবিড় করে ভালোবাসতে পারে। ভালোবাসার টানেই তো চোরাবালিতে একটু একটু করে ডুবে যেতেও ভয় পায় না।

আরও একটা উইকেন্ড এসে গেল। শনিবার ডিনার প্যাক করে সরাসরি ঝিলের কাছে চলে গেলাম। কেমন আছে মেয়েটা কে জানে! দরজার কাছে এসে কলিংবেলের দিকে আঙুল বাড়িয়েও থমকে গেলাম। দরজায় কান পাতলাম, ফিসফিসে আওয়াজ আর কাঁটা চামচের টুংটাং ভেসে আসছে। হাতের প্যাকেটগুলোর দিকে তাকালাম, ঝিল তো ডিনারে বসে গেছে মনে হচ্ছে। হঠাৎ মনে পড়তে আইহোলে চোখ রাখলাম। যা ভেবেছি বোকা মেয়েটা ওপাশটা খোলা রেখেছে, যে কেউ ঘরের ভিতরটা অনায়াসে দেখতে পাবে। সব কী শিখিয়ে দেওয়া যায় নাকি? চোখটা একটু এ—পাশ ও—পাশ করতেই যা দেখলাম, শিরদাঁড়া দিয়ে একটা ঠাণ্ডা স্রোত বয়ে গেল। ডাইনিং টেবিলে দু প্লেট খাবার সাজানো। একটা মোমবাতি জ্বলছে দূরে ক্যাবিনেটের মাথায়। গোটা ঘরে একটা আলো—আঁধারী রহস্যময় পরিবেশ। ঝিলের মুখোমুখি চেয়ারটা ফাঁকা ঠিকই কিন্তু দেওয়ালে একটা জমাট ছায়া। ছায়ার ঠোঁট অল্প ফাঁক হয়ে যাচ্ছে, চামচে করে অল্প খাবার ঠোঁটের মধ্যে উঠে আসছে। ডান হাতের আঙুলগুলো বড় স্পষ্ট, এমনকি অনামিকার পাথরটা পর্যন্ত বোঝা যাচ্ছে, শুধু সবুজের বদলে পাথরটা জমাট অন্ধকারের।

ঠিক সেই সময়েই দরজার উপরে আঁটা প্লেটটায় এপার্টমেন্টের নাম্বারটা চোখে পড়ল। MIG 4G7, গত বছর এই নাম্বারের একটা ঠিকানায় ঝকঝকে তরুণ ইঞ্জিনিয়ার অভিরূপ সেন সুইসাইড করেছিল। এতবার টিভিতে নাম্বারটা দেখিয়েছিল আজও মনে রয়ে গেছে। খাবারের প্যাকেটগুলো নামিয়ে রেখে ফেরার পথ ধরলাম। ভালো থাক ওরা, দুই দুনিয়ার মাঝে অজানা রহস্যে মোড়া এক আলাদা পৃথিবীতে।

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%