মহুয়া মল্লিক
প্রথম দেখাতেই জোসেফের বেশ পছন্দ হয়ে গেল বাড়িটা। কাঠের দোতলা বাড়ি, ছিমছাম দেখতে। খোলা বারান্দা, সামনে পিছনে বাগান। গেটের কাছে একটা সুগার মেপল গাছ, পাতায় পাতায় রঙ ধরতে শুরু করেছে। কমন এরিয়ার মধ্যেই দুটো একই মাপের একই রকম বাড়ি দাঁড়িয়ে, ঠিক যেন যমজ বাড়ি। একটায় ল্যান্ডলর্ড পিটার তাঁর পরিবার নিয়ে থাকেন। আরেকটাই ভাড়া দেবেন বলে লোকাল সাইটে বিজ্ঞাপন দিয়েছিলেন। কথায় কথায় জানা গেল দ্বিতীয় বাড়িটা তাঁর ভাইয়ের। কর্মসূত্রে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় থাকেন। ভাড়াও বেশ কম, মোটামুটি শান্ত পাড়া। নেটে দেখে নিয়েছেন ক্রইম ফ্রি এরিয়া। জোসেফ একাউন্ট নাম্বার নিয়ে সঙ্গে সঙ্গে ছ'মাসের ভাড়া ট্রান্সফার করে দিলেন। পল এতক্ষণ দরজার আড়াল থেকে জোসেফকে দেখছিল, পাপা এমন নির্ঞ্ঝাট ভাড়াটে পেয়ে বেশ খুশি। কিন্তু জোসেফ হঠাৎ একটা উদ্ভট দাবী করে বসলেন, 'আপনাকে ফোনেই বলেছিলাম, পিছনের বাগানটা আমার পুরোটা চাই, আমার একটু গাছপালার শখ। আপনাদের মুরগীছানা বা বাচ্চারা যেন না যায়, চাইলে আমি এক্সট্রা টাকাও পে করব'।
পিটার বললেন, 'আমার মনে আছে। এমনিতে আমরা ওদিকটায় খুব একটা যাই না। ঐ বার—বি—কিউ পার্টি থাকলে বা ছেলে কখনো খেলতে যায়। সেও খুব কম। ঠিক আছে ওদিকটা আপনি ব্যবহার করুন। এর জন্য এক্সট্রা কিছু দিতে হবেনা'। জোসেফ কিন্তু নিজের অধিকার কায়েম করার জন্য বাগানের জন্য কিছু ক্যাশ পিটারের হাতে গুঁজে দিলেন। পল দরজার আড়াল থেকে সবটাই দেখছিল। লোকটাকে তার একটুও পছন্দ হচ্ছিল না। সে এবার বারান্দায় বেরিয়ে এল। পলের বাবা ছেলের একমাথা সোনালী চুলগুলো ঘেঁটে দিয়ে বললেন, 'এই আমার ছেলে পল। খুব শান্ত বাচ্চা'। জোসেফ মনে হয় হাসতে জানে না। চুপচাপ পলের দিকে তাকিয়ে, কোটের পকেট থেকে কয়েকটা টফি বারকরে এগিয়ে দিলেন। পলের একটুও নিতে ইচ্ছা করছিল না। মানুষটাকেই তার একটুও পছন্দ হয়নি। পিটার ইশারা করতে দুটো টফি তুলে নিল। বাকীগুলো পকেটে ভরে নিয়ে জোসেফ বলে উঠলেন, 'তাহলে ঐ কথাই রইল সেপ্টেম্বরের এক তারিখ আমি শিফট করে যাব, আপনি একটু ক্লীন করিয়ে রাখবেন'। 'শিওর, এটা তো আমার কর্তব্য। পলের পাপা, জোসেফকে এগিয়ে দিতে দিতে বললেন। একটু পরেই হুড খোলা জিপে স্টার্ট দিয়ে জোসেফ বেরিয়ে গেলেন। পলের মনখারাপ করছিল। পিছনের বাগানে ওক গাছের ডালে তার প্রিয় দোলনাটা বাঁধা আছে। ঐ জায়গাটা তার সব থেকে প্রিয়। এই আঙ্কেলটা মনে হয়না আর ওদিকে যেতে দেবে। অফিসে চাকরী করে কিনা সেটাও বোঝা গেলনা। সেটা হলে অন্তত অনেকটা সময় বাড়ির বাইরে থাকত। পল ইচ্ছামত পিছনের বাগানটা ব্যবহার করতে পারত।
তার মম এমিলি অফিস থেকে ফিরল। গাড়ি থেকে নেমেই চিৎকার করে ওকে ডাকল, 'পল কাম অন, কী এনেছি তোমার জন্য দেখ'। পল শুকনো মুখে এগিয়ে যায়, এমিলি তার হাতে দাবার একটা প্যাকেট তুলে দেয়। পলের মুখে হাসি ফুটে ওঠে। অনলাইনে একটু আধটু খেলাটার সম্পর্কে তার আইডিয়া হয়েছে, কদিন ধরেই আব্দার করছিল। মম আর পাপা এত ব্যস্ত সময়ই পাচ্ছিল না। আজ জিনিসটা হাতে পেয়ে মনে মনে খুশি হয়ে উঠল।
ডিনার টেবিলে জোসেফের কথা উঠল। এমিলি সব শুনে বললেন, 'ভালোই তো। একা মানুষ থাকবেন, ঝামেলা ঝঞ্ঝাট কম। বাগানের কথাটা শুনেও এমিলির মনে ভাবান্তর এলো না, বরং কিছুটা যেন নিশ্চিন্ত বোধ করলেন, পল আর যখন তখন এদিকে যেতে পারবেনা ভেবে। পল স্পষ্ট দেখল পাপা আর মমের মধ্যে চোখে চোখে একটা কথা হয়ে গেল।
পাপা একবার পলের দিকে তাকালেন। পল চামচে করে চিকেন স্টু মুখে তুলছিল। আজ ওর একটুও খিদে নেই, কিন্তু সে জানে পুরো বোলটা তাকে শেষ করে উঠতে হবে। পাপা এইসময় বলে উঠলেন, 'আমাদের দোতলায় ভাবছি একটা দোলনা লাগিয়ে দেব পলের জন্য'। পল পাপার দিকে একবার তাকিয়ে ধীরে ধীরে টেবিলে মুখ নামিয়ে নেয়। ওরা কিছুতেই বুঝবেনা, পলের বাগানের ঐ জায়গাটা আর দোলনাটাই পছন্দের।
পল দোতলার জানলা দিয়ে দেখছিল, জোসেফ বাগানটা ফেন্সিং করে ঘিরে দিচ্ছে। কদিন আগই লম্বা লম্বা টবে বীজ ছড়িয়েছে। জানে মাস দুয়েক পরে স্নো ফল শুরু হবে, তখন গাছগুলো বাইরে রাখা যাবে না। তাই বড় বড় লম্বা টবে গাছ লাগাচ্ছে। পাপা মুরগিছানাগুলোকে বেশির ভাগ সময়ই আটকে রাখছে, ফেন্সিংটা দেওয়া হয়ে গেলে ওদের সামনের বাগানে ছাড়বে। ওরা বদ্ধ অবস্থায় ছটফট করছে। পলের এসব ভালো লাগছে না। ইচ্ছ করে ছুটে গিয়ে কাঠের দরজাটা খুলে ওদের মুক্ত করে দিতে। একটা লোক এসে ওদের সবকিছু এভাবে পালটে দিতে পারেনা। পাপা আর মম অনেকটা সময় বাইরে থাকে। কিন্তু পল? স্কুল থেকে ফিরে তাকে তো একা একা বাড়িতেই থাকতে হয়। খুব ছোট বেলায় স্কুলের বাস থেকে 'মর্নিং বার্ড' ক্রেশ তাকে পিক করে নিত। এখন সে টুয়েলভ প্লাস। গত দু বছর ধরে বাড়িতেই থাকে। মেন দরজার সামনে কার্পেটের নিচে চাবী রেখে যায় মম। সে দরজা খুলে ঘরে ঢোকে। টেবিলে হটপটে খাবার রাখা থাকে, একেকদিন ফ্রীজ থেকে খাবার বার করে গরম করেও খেতে হয়। তারপর হোম ওয়ার্ক সেরে, ড্রয়িং করতে বসে বারান্দায় বা পিছনের বাগানে খেলতে চলে যায়। একেকদিন স্টোরি বুক নিয়ে ওক গাছের তলায় বসে। জোরে জোরে গল্প পড়ে। এই লোকটা এসে...।
পল দেখে কাজ করতে করতেই লোকটা অবাক চোখে বাগানের দিকে তাকিয়ে আছে। ধীরে ধীরে মুখের পেশীগুলো দৃঢ় হয়ে উঠছে। জোসেফের দৃষ্টি অনুসরণ করে পল দেখল, দোলনাটা জোরে জোরে দুলছে। বাগানে কেউ নেই, হাওয়াও দিচ্ছেনা। কিন্তু দোলনাটা অস্বাভাবিক গতিতে দুলেই যাচ্ছে। পলের মুখে সূক্ষ্ম একটা হাসির রেখা ফুটে উঠল। সে জানলা থেকে সরে গেল। স্টাডি টেবিলে বসে গেল ম্যাথসের খাতাটা নিয়ে। আজ সানডে, পাপা মম সবাই বাড়িতেই আছে। ফাঁকি দিলেই বকুনি জুটবে।
ম্যাথ সলভ করতে করতেই বুঝতে পারছিল, নিচে একটা শোরগোল হচ্ছে। একটু পরেই কাঠের সিঁড়িতে জুতোর আওয়াজ পেয়ে পল আরও মনোযোগী হয়ে খাতায় প্রায় ঝুঁকে পড়ল। যা ভেবেছিল তাই। পাপা শান্ত স্বরে বলছে, এই তো পল, এবার বিশ্বাস হল তো মিস্টার জোসেফ?' নিজের নামটা শুনে পল পিছনে তাকাল। জোসেফের মুখটা ঝুলে গেছে। তিনি ঘাড় নাড়তে নাড়তে বেরিয়ে গেলেন।
একটু পরেই লাঞ্চ টেবিলে ডাক পড়ল। লাঞ্চ সার্ভ করতে করতে এমিলি ফেটে পড়লেন, 'লোকটা কি পাগল? হাওয়া নেই, মানুষ নেই উনি দোলনা দুলতে দেখলেন? আর ছুটে এলেন আমার ছেলেকে ব্লেম করতে! একা থাকতে থাকতে লোকটা মানসিক ভাবে অসুস্থ হয়ে উঠেছে।'
জোসেফের হুড খোলা জিপটা শব্দ করে বেরিয়ে গেল। পল খাওয়া ছেড়ে দৌড়ে বারন্দায় গেল। জিপের পিছনে কচি ভুট্টাতে বোঝাই। পাপাও দেখলেন দৃশ্যটা। এমিলির মুখ রাগে গনগন করছে। কী করে লোকটার চলে কে জানে? ভুট্টা বিক্রি করার শখ হল কেন কে জানে!'
পল জানে নির্জন রাস্তায় উইকেন্ডে অনেকেই ভুট্টা নিয়ে বসে থাকে। গাড়ি থামিয়ে অনেকেই ভুট্টা কিনে খায়। ধিকিধিকি করে জ্বলা একটা আগুন থাকে। কাস্টমারের চাহিদা অনুযায়ী সেই আগুনে ভুট্টা পুড়িয়ে গলানো মাখন বা লেবুর রস মাখিয়ে দেওয়া হয়। সেও লং ড্রাইভে পাপা আর মমের সঙ্গে যেতে যেতে গাড়ি থামিয়ে এমন ভুট্টা পোড়া খেয়েছে। বাকি সময় লোকটা কী করে কে জানে! ঘরেই দরজা বন্ধ করে বসে থাকে। মাঝে মাঝে বাগানে গিয়ে টবগুলো দেখভাল করে।
পাপা আর মম ঘুমিয়ে পড়তেই পল পা টিপে টিপে জোসেফের অংশে চলে গেল গেট খুলে। তারপর এক ছুটে পিছনের বাগানে। দোলনাটা দুলছে। অনেকদিন পর পলকে দেখে বাগানটা যেন হেসে উঠল। পলও হাসল, তারপর কিছুক্ষণ দোলনাটা ঠেলে একসময় বলে উঠল, 'নাউ ইট'স মাই টার্ন'।
সকাল বেলায় চেঁচামেচিতে ঘুম ভেঙে গেল পলের। সে ঘুম চোখেই বারান্দায় ছুটে গেল। একটু ঝুঁকে দেখতে লাগল, আঙুল তুলে পাপাকে রীতিমত শাসাচ্ছে জোসেফ, 'আপনার মুরগিছানা আমার সমস্ত গাছ নষ্ট করে দিয়েছে। জানেন কত মূলবান মেডিসিনের প্ল্যান্ট ছিল ওগুলো? কড়কড়ে ডলার দিলাম, তবু বাগানটার অধিকার ছাড়তে পারছেন না?'
এমিলি বেরিয়ে এলেন, 'প্রমাণ আছে আপনার কাছে? সারাক্ষণ তো বাড়িতেই আছেন, কাল বিকেলেও তো টবে জল দিচ্ছিলেন। তখনও তো সব ঠিক ছিল। এদিকে দেখুন এখনো মুরগীর ঘর খোলা হয়নি, রাতারাতি কি মুরগীগুলো ডানা মেলে আপনার বাগানে চলে গিয়েছিলো?' এমিলের কথায় যেন জোঁকের মুখে নুন পড়ল। ফিরে যেতে যেতে জোসেফ নিচু গলায় বলে উঠল, 'বারবার আপনারা বোকা বানাচ্ছেন আমাকে। যেদিন প্রমাণ সহ হাতে হাতে ধরব দেখবেন কী অবস্থা করি আপনাদের।'
পাগল একটা, এমিলি গর্জে উঠল। পলের বেশ মজা লাগছিল। সে শব্দ করে হেসে উঠল। পাপাকে ভালমানুষ পেয়ে যা খুশি বলতে এসেছিল সাতসকালে, উফ মম যা ফাইটটা দিল না!'
'অ্যাই, তুই ওখানে কী করছিস? সিনেমা হচ্ছে এখানে? ব্রাশ করে ব্রেকফাস্ট টেবিলে আয়'। মম খুব রেগে আছে, ফ্রেশ হয়ে তাড়াতাড়ি নিচে নেমে এলো। পল ভেবেছিল জোসেফকে নিয়ে ব্রেকফ্রাস্ট টেবিলে কথা উঠবে। পাপা আর মম সম্পূর্ণ অন্য প্রসঙ্গে চলে গেল, শীতের আগেই এবার দুটো বারান্দা কাচ দিয়ে ঘিরে ফেলতে হবে আর তখনই পলের দোলনাটার ব্যবস্থা করতে হবে। এবারে হেভী স্নো ফল হবার সম্ভাবনা, বেশি করে শুকনো খাবারদাবার বেসমেন্টে মজুত করে রাখতে হবে।
কটা দিন জোসেফ বেশ শান্ত হয়ে কাটালেন। চারাগাছগুলোর মধ্যে যে দু—চারটে অক্ষত ছিল সেগুলোর কচি সবুজ পাতা বেরিয়েছে। কিন্তু একদিন বিকেলে জোসেফ হন্তদন্ত হয়ে ছুটে এলেন পিটারের কাছে, 'আপনাদের ছেলে বিনা পারমিশানে আমার বাগানে ঢুকেছে, দোলনায় দুলছে, এইমাত্র আমি দেখে এলাম, প্রমাণ চান আপনারা? এই দেখুন ছবিও তুলেছি', এই বলে হাতে ধরা মোবাইলটা এগিয়ে দেয়। এমিলি আর পিটার মুখ চাওয়াচায়ি করেন। কই ছবি? ঘন সবুজের মধ্যে শুধু দোলনাটা স্থির হয়ে আছে। পলও দোতলা থেকে নেমে এসে ফোনের দিকে উঁকি দিয়েছে। পিটার জোসেফের দিকে তাকিয়ে বলল, 'কোথায় ছবি? আপনি নিজেই দেখুন'। দোতলার একটাই এনট্রান্স, সেখানেই সবাই দাঁড়িয়েছিল। পল বাগান থেকে এসে দোতলায় উঠে গেলে সেটাও জোসেফের নজরে পড়ত, কারণ ছবিটা তুলেই তিনি দৌড়ে এসেছেন। মোবাইলেও পলের ছবি নেই, শুধু শূন্য দোলনাটা। পল বলে উঠল, 'আঙ্কল আমি তো বাগানে যাইনি, আপনি ভুল দেখেছেন'। জোসেফ হেরে যাওয়া সৈনিকের মত নিজের বাড়ির দিকে চলে গেলেন।
অনেক রাত্রে পা টিপে টিপে পল ঘর ছেড়ে বেরিয়ে এলো। ফটফটে জ্যোৎস্নায় ধুয়ে যাচ্ছে বাগানটা। মেপেলের পাতাগুলো রঙিন হয়ে উঠেছে। দোলনাটা অল্প অল্প দুলছে, পল এগিয়ে গেল দোলনার দিকে, তারপর চেপে বসল। জোসেফের ঘুম আসছিলনা, মানুষজনের সঙ্গ এড়িয়ে চলেন বলে নির্জনে থাকতে এসেছেন। কিন্তু এখানে আসার পর থেকে একটার পর একটা এমন ঘটনা ঘটছে, সে কী পাগল হয়ে যাচ্ছে? জানলার কাছে এসে দাঁড়ালেন তিনি। জ্যোৎস্না মাখা বাগানটা এক টুকরো স্বর্গ মনে হচ্ছে। হঠাৎ দোলনাটায় চোখ পড়তেই শিরদাঁড়া দিয়ে একটা হিমেল স্রোত বয়ে গেল। একটা না দু দুটো পল পরস্পরের কাঁধে হাত রেখে দুলছে। এটা কী সম্ভব? পিটারের তো এক সন্তান।
সাত বছর আগের এক স্মৃতি তাজা হয়ে ফিরে এলো। যমজ দুটি ভাই স্কুল থেকে ফিরছিল, জোসেফের অসাবধনতায় একজন তাঁর গাড়ির নিচে পিষে যায়। সব কিছু স্পষ্ট হয়ে গেল জোসেফের। ওদিকে পল তর্জনী উঁচিয়ে দোতলায় জোসেফকে দেখাল। তারপর দোলনা থেকে নেমে দু দজন পল তার দিকেই এগিয়ে আসতে লাগল। জোসেফ দুড়দাড় করে সিঁড়ি দিয়ে নেমে ছুটতে শুরু করলেন, তাঁকে পালিয়ে যেতে হবে অনেক দূরে। জীবন আর মৃত্যু হাত ধরাধরি করে তাঁর দিকে আসছে দ্রুত।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন