ধাতব প্যাঁচা

মহুয়া মল্লিক

এক

সিমলি মেঝেতে ঝুঁকে ন্যাতা বোলাচ্ছে৷ মেয়েটা বড্ড বিপজ্জনকভাবে ঝুঁকে ঘর মোছে৷ তিস্তা লক্ষ্য করে দেখেছে, এই সময়টা আবেশ পারতপক্ষে সামনে আসে না৷ বাগানে হাঁটে না হয় পেপারে বড্ড বেশি মনযোগী হয়ে ওঠে৷ কতদিন মেয়েটাকে বলেছে তিস্তা, এই বুকের কাপড় ঠিক কর৷ সিমলি পাত্তা না দিয়ে খিলখিল করে বেপরোয়া হেসে ওঠে৷ যেন এই লোভনীয় নিটোল বক্ষ সৌন্দর্য দেখানোরই জন্য, তাতে যদি পুরুষদের চোখ পুড়ে যায় তো তার কী!

অন্যদিন এই সময়টা হুইলচেয়ারে বসে তিস্তা, সিমলির কাজের তদারকি করে৷ আজ এখনো সে বিছানা ছাড়েনি, শরীরটা কেমন যেন ম্যাজম্যাজ করছে৷ শুয়ে শুয়েই লক্ষ্য করেছে, লাল টকটকে একটা পাড় ছেঁড়া কে মালার মতো গলায় ঝুলিয়েছে সিমলি৷ কৌতূহলে একটু ঝুঁকে দেখতে যেতেই সিমলি টের পেয়ে বুকের উপর কাপড় টেনে রাজহংসীর মতো মরাল গ্রীবা বাঁকিয়ে বালতি উঠিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল৷

তিস্তা আবার পাশ ফেরে শোয়৷ ওর হয়েছে জ্বালা, মানদা বুড়ি সেই কবে মেয়ের ঘরে আঁতুড় তুলতে গেছে এই আগুনের মালসাকে তার কাঁধে চাপিয়ে৷ বুড়ির এই নাতনির দিকে তাকালেই চোখ শিরশির করে ওঠে৷ অভাবী ঘরের মেয়ের শরীরে এমন আগুনের বন্যা নামে কী করে তিস্তা বুঝতে পারে না৷

মেয়েটা যেন তিস্তার মনের ভাব টের পায়, খুব একটা তিস্তার কাছে ঘেঁষে না, পাত্তাও দেয় না৷ রোজ সকালে এসে বড় গ্লাসে এক কাপ চা আর দুটো লেরো বিস্কুট ছাড়া জাগতিক কোনও জিনিসে তার মোহ নেই৷ প্রথম দিকে তিস্তা নিজের পুরনো শাড়ি, সালোয়ার কামিজ দিয়ে একটু সখ্যতা করতে চেয়েছিল৷ মেয়েটা মুখের উপর বলে দিল, পুরনো জিনিস সে নেবে না৷ জিনিসগুলো তিস্তা দু-একবারের বেশি নিজেই পরেছে কিনা সন্দেহ৷ রঙ জ্বলা বা ছেঁড়া ফাটা নয় একদম নতুনের মতো ঝকঝকে৷ জামাকাপড়ের স্তূপটা হাতে নিয়ে নির্বাক হয়ে বসেছিল সেদিন৷ তারপর ভেবে নিয়েছে, এই মেয়ের সঙ্গে কাজের বাইরে একটিও কথা না৷ সেইরকমই চলছে তারপর থেকে৷

উফ এই হয়েছে এক জ্বালা৷ কখনই ঠিক করে কথা শোনা যাবে না এত টাওয়ার প্রবলেম৷ ‘‘এই সিমলি, মামির ফোনটা একটু নিয়ে আয় তো’’৷ তার আর আবেশের সার্ভিস প্রোভাইডার আলাদা৷ আবেশের ফোনে এই অঞ্চল থেকে কখনোই স্মুদলি কথা বলা যাবে না, তবু সে আরেকটা সিম কিছুতেই নেবে না৷

‘‘কী রে গেলি সিমলি?’’

তা আর বলতে! প্রজাপতির মতো ডানা ঝাপ্টিয়ে কলতলা থেকে দৌড়ে আসছে সে৷ কিন্তু ভুলেই গেছিল একটু আগেই জলজল করে ঘরের মেঝে মুছে গেছে৷ তিস্তা সাবধান করার আগেই পা পিছলে পড়ে গেল৷ শাড়ির আঁচল বেসামাল৷ ঠিক তখনই চোখে পড়ল তিস্তার, সিমলির বুকের খাঁজে আটকে থাকা ধাতব প্যাঁচাটার দিকে৷ লাল পাড় ছেঁড়া থেকে স্বাধীনভাবে নেমে এসে খাঁজে আটকে যেন হাঁসফাঁস করছে৷ আবেশ শব্দ শুনে ঘরে ঢুকতেই সিমলি বুকের উপর ক্ষিপ্র গতিতে আঁচল টেনে নিল৷ যাক এটুকু বোধ অন্তত মেয়েটার আছে৷ আবেশ ওকে মেঝে থেকে তুলতে যেতেই মেয়ে হি হি করে হেসে গড়িয়ে পড়তে পড়তে বলে, ‘‘মামিকে তুলে বসিয়ে দাও, অনেক বেলা হল, আমি নিজেকে সামলাতে পারব৷’’

তিস্তার পা এখন অনেকটাই ঠিক আছে৷ ধরে ধরে অল্পস্বল্প হাঁটা চলা সে শুরু করেছে৷ সারাদিন হুইলচেয়ারে কী আর ভালো লাগে৷ দুপুরটা নিস্তব্ধ হয়ে যেতেই সে দেওয়াল ধরে উঠে দাঁড়াল৷ জানলা দিয়ে চোখে পড়ল রুক্ষ শুনশান রাস্তা৷ কোলিয়ারি ফীল্ড বলেই লোকজন কম৷ কোম্পানির দেওয়া এত বড় বাংলোতেও লোক বলতে রান্নার ঠাকুর আর মালি৷ দু’জনেই বাগানের শেষ প্রান্তে আউটহাউসে থাকে৷

তিস্তা আলমারি হাতড়াতে থাকে৷ এই শীতের দুপুরেও ওর কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম৷ উত্তেজনায় ভারী বুক ওঠা নামা করছে৷ হাতের কাছে যা পাচ্ছে ছুঁড়ে ছুঁড়ে ফেলছে৷ যা ভেবেছে ঠিক তাই, জানত পাবে না জিনিসটা৷ হাতসাফাই হয়ে কবে কীভাবে চলে গেল সেটুকুই বুঝতে পারল না৷

নাই মেয়েটাকে তাড়ানোর একটা বাহানা পাওয়া গেছে৷ সব সময় যেন বুনো বিড়ালের মতো ফুঁসছে৷ মানদা বুড়ি কবে ফিরবে ঠিক নেই৷ এই বাহানায় অন্তত নতুন কাজের লোক নিয়ে নেবে৷

মেঝের দিকে অসহায়ভাবে তাকিয়ে থাকে৷ এত জিনিস কী করে গোছাবে সে! বিকেলে শ্যামলাল চা দিতে এলে ওর বউকেই বরং একটু ডেকে নেবে৷ খারাপ লাগে, নতুন বৌ, ক’দিন বরের কাছে থাকতে এসেছে, তাকে দিয়ে কাজ করাতে৷ মেয়েটা কিন্তু বেশ মিষ্টি৷ সময় পেলেই তার কাছে ঘুরে যায়৷ এটা সেটা কাজ করে দেয়৷

চা খেতে খেতে রাধার সঙ্গে টুকটাক গল্প করছিল, মেয়েটা বেশ বকবক করতে পারে৷ তিস্তার শাড়ি জামা মুগ্ধ হয়ে দেখে৷ গোছাতে গোছাতে ময়ূরপঙ্খী কাঞ্জিভরম, সমুদ্ররঙা বালুচরি ভীষণ মমতায় হাত বোলাচ্ছিল৷ তিস্তা বলল, ‘‘পছন্দ হয়? এর থেকে যা ইচ্ছা হয় নাও৷ তুমি নিলে আমার ভালোই লাগবে৷ আর তাছাড়া পায়ের জন্য কোথাও যাওয়াও তো তেমন হয় না৷ সব জমে জমে নষ্ট হচ্ছে৷’’

রাধা পলকে হাতের জিনিসগুলো আলমারিতে চালান করে দেয়, তারপর তার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বলে, ‘‘অত দামি দামি জিনিস আমাদের গরিব ঘরে মানায় না৷ আর তাছাড়া আপনার পা একদম ঠিক হয়ে আসছে মেমসাহেব৷ আবার সব পরে হেসে খেলে ঘুরতে পারবেন৷’’

অভিমান হয় তিস্তার, ‘‘ও তাহলে তুমি নেবে না কিছুই?’’

রাধা লজ্জায় মুখ নিচু করে বলে, ‘‘দিতেই যদি চান, সালোয়ার কামিজ দিন৷ ও বলছিল, ছুটিতে আপনারা কলকাতায় গেলে দীঘা বেড়াতে নিয়ে যাবে৷’’ হো হো করে হেসে ওঠে তিস্তা৷ আচ্ছা, এই ব্যাপার! রাধাকে মানাবে এমন কয়েকটা সালোয়ার কামিজের সেট সঙ্গে সঙ্গে বার করে দিল৷ রাধার গোছানো প্রায় শেষ৷ হঠাৎ শাড়ির ভাঁজ থেকে কী একটা মেঝেতে আছড়ে পড়তেই, ধাতব আওয়াজে চমকে তাকাল তিস্তা৷ রাধা ততক্ষণে জিনিসটা তিস্তার দিকে এগিয়ে দিয়েছে৷ অদ্ভুত! সেই প্যাঁচার পেন্ডেন্টটা৷ লাল স্টকিং দিয়ে মালার মতো নিজে হাতে যেমন বানিয়েছিল তেমনই রাখা আছে৷ ভ্রূ কুঁচকে যায় তিস্তার৷

দুই

কাল সারা রাত দুচোখের পাতা এক করতে পারেনি তিস্তা৷ কতদিন আবেশ তাকে ছুঁয়েও দেখে না৷ কাল নিজে থেকেই আবেশের বুকে হাত রেখে ওর একটা হাত নিজের মসৃণ পেটের উপর তুলে নিয়েছিল৷ আবেশ একপ্রকার ওকে সরিয়ে দিয়েই পাশ ফিরে শুয়েছিল৷ তিস্তা একটু একটু করে নিভে গিয়েছিল৷ সে নয়ত লাস্ট ক’টা মাস এক্সিডেন্টের তীব্র ট্রমা, অপারেশন, ফিজিওথেরাপি, ওষুধ এসবের রাজ্যে হারিয়ে গিয়েছিল কিন্তু আবেশের মতো একটা তাজা পুরুষ মানুষ কীভাবে দিন কাটাচ্ছে! একসময় সমস্ত রহস্যের সমাধান হয়ে যায়৷ আজ সকালে সিমলির বুকের খাঁজে আটকে থাকা প্যাঁচাটা দেখেই তার বোঝা উচিত ছিল, আর সে কিনা বোকার মতো!

আচ্ছা, আবেশ যেদিন পেন্ডেন্টা পরিয়ে দিয়েছিল, বুকের খাঁজে আটকে থাকা প্যাঁচটার উপর ঠোঁট রাখতে রাখতে প্রবল ঢেউয়ে ওকে ভাসিয়ে নিয়ে গিয়েছিল, একইরকমভাবে কী সিমলির বুকের বিভাজিকাতেও ঠোঁট রেখে ভেসে গিয়েছিল!

ঘুম ভাঙে দেরিতে৷ বারন্দা থেকে সিমলির খিলখিল করে হাসির আওয়াজ ভেসে আসে৷ হাওয়ায় জানলার পর্দা উড়ে যেতেই তিস্তা স্পষ্ট দেখতে পায় আবেশও হাসছে৷ হাসির দমকে চা চলকে ওর সাদা টিশার্ট ভিজে যাচ্ছে৷ দৃশ্যটা দেখেই তিস্তার মাথায় আগুন জ্বলে ওঠে৷ সিমলিকে কঠিন শাস্তি পেতে হবে৷ মনে মনে ঠিক করে নেয় তিস্তা৷ সুযোগের অপেক্ষায় থাকে সে, সুযোগ এসেও যায়৷

‘‘আমি জরুরি কাজে কলকাতায় যাচ্ছি৷ দু’দিন পরে ফিরব৷ আমি না ফেরা অবধি রাত্রে মামির কাছে থাকতে হবে তোকে৷’’ কথা কানে তোলে না সিমলি৷ উদ্ধত ভঙ্গিতে ভিজে জামাকাপড় তারে মিলে দিতে থাকে৷ অন্য সময় হলে তিস্তা মুখ খুলত, আজ চুপ করে জুসের গ্লাসে চুমুক দিচ্ছিল৷

‘‘কীরে কথা কানে যাচ্ছে না?’’ আবেশের কথায় এবার দপ করে জ্বলে উঠল সিমলি৷ ‘‘আমি কালা নাকি! এক কথা বারবার বলার কী আছে?’’ ঝাঁঝিয়ে উঠলেও সিমলি যে আবেশের কথা ফেলবে না সেটা দু’জনেই বুঝে গেছে৷ নিশ্চিন্ত হয় দু’জনেই৷

মন উচাটন হয় তিস্তার৷ সন্ধে সাতটা বাজে মেয়েটো এখনো এল না! তবে কী সব প্ল্যান ভেস্তে যাবে? শীতের রাত্রি৷ এই অঞ্চলে এমনিতেই ভয়াবহ ঠান্ডা৷ তিস্তা আটটা অবধি দেখে ডিনার সেরে নিল৷ ঠিক সাড়ে আটটায় সিমলি এল৷ মুখ গোমড়া, জানিয়ে দিল কিছু খাবে না, বাড়ি থেকে খেয়ে এসেছে৷

টিভি খুলে কী একটা সিরিয়ালে বুঁদ হয়ে গেল সিমলি, তিস্তাও একটা নভেল নিয়ে নিজের ঘরে চলে এল৷ আসার আগে বলে এল, কফি বানিয়ে ফ্লাস্কে ভরে রেখে দিতে৷ আজ অনেক রাত্রি জেগে সে বই পড়বে৷ বই-এর পাতায় চোখ রেখে আরেকবার ভেবে নিল, সব ঠিকঠাক আছে কিনা? রান্নাঘরের জানলা ঠিকঠাক বন্ধ আছে৷ সিলিন্ডার থেকে পাইপটা নিখুঁতভাবে খুলে আলগা করে লাগিয়ে রাখা আছে, এক ঝলক চোখ পড়লেও কারসাজিটা টের পাওয়া যাবে না৷ একটা প্রচণ্ড বিস্ফোরণের আশায় বইয়ের পাতায় চোখ রেখে স্থির হয়ে বসে রইল তিস্তা৷

হঠাৎ সব আলো নিভে গেল৷ এত বড় বাংলোটা নিঝুম অন্ধকারে ডুবে গেল৷ গা শিরশির করে উঠল তিস্তার৷ অন্ধকারেও টের পেল, সিমলি তার মুখের উপর ঝুঁকে এসেছে৷ রাগী বিড়লিনীর মতো ফুঁসছে৷ তিস্তা দু’হাতে ওকে সরিয়ে দিতে চায়৷ সিমলি পাথরের মতো অনড়৷ আরো চেপে বসে ওর বুকের উপর৷ এক সময় ওর ব্লাউজ থেকে লাফিয়ে নামে সেই ধাতব প্যাঁচার পেন্ডেন্ট৷ চেপে বসে তিস্তার বক্ষসন্ধিতে৷ দম বন্ধ হয়ে আসে তিস্তার৷ হাল্কা অন্ধকারে টের পায়, তাকে ঘিরে এক রাশ প্যাঁচা উড়ছে৷ বুকের ধাতব প্যাঁচটা জীবন্ত হয়ে বুকের নরম মাংসে ঠোকরাতে শুরু করে৷ যন্ত্রণায় চিৎকার করে ওঠে তিস্তা৷

একসময় ঘুম ভেঙে যায়, কে বা কারা যেন তিস্তাকে ডাকাডাকি করছে৷ তিস্তা উঠে বসে৷ সারাশরীর ঘামে ভিজে গেছে৷ গলার কাছটা কেমন টনটন করছে৷ বাইরে আসতেই দেখে মালি, শ্যামলাল এবং এই অঞ্চলের কয়েকজন৷ সিমলি কাল রাত্রে এখানে আসছিল, কিন্তু ট্রাক চাপা পড়ে মারা গেছে৷ এই ভোররাত্রে খবরটা জানাজানি হয়৷ তিস্তার মাথাটা টলে যায়৷ কী সব বলছে এরা! কাল রাত্রেও তো সিমলি এখানে বসে টিভি দেখছিল, ওর নির্দেশমতো কফি বানাতে যায়৷ মাথাটা টলে যায় তিস্তার৷ বারান্দার সোফায় বসে পড়ে৷

একটু একটু করে ভোরের আলো ফুটছে৷ ওরা চলে গেছে অনেকক্ষণ৷ রাধা ওকে শুইয়ে দিয়ে গেছে৷ শ্যামলাল জানতে চেয়েছিল, ‘‘ম্যাডাম চা খাবেন কিনা?’’ তিস্তা সঙ্গে সঙ্গে বাধা দিয়ে ওঠে৷

ধীরে ধীরে উঠে বসে তিস্তা৷ রান্নাঘরের জানলাগুলো খুলে এখুনি পাইপটা ঠিক করে দিতে হবে৷ ঘর ছাড়ার আগে কী মনে হতে আয়নার সামনে দাঁড়াল৷ বুকের মধ্যে একটা চিনচিনে ব্যথা টের পাচ্ছিল অনেকক্ষণ ধরেই৷ হাউসকোটটা সরিয়েই, নিজের রক্তাক্ত বুক দেখে শিউরে ওঠে৷ নির্মমভাবে তীক্ষ্ণ নখর আর চঞ্চু দিয়ে ফর্সা শরীর ফালাফালা করে দিয়েছে৷ ভয়ার্ত তিস্তা দেখে দর্পণের প্রতিবিম্ব একটু একটু করে নীল হয়ে যাচ্ছে৷ আর সেই সেখানে প্রতিফলিত নীল মানবীকে ঘিরে এক রাশ প্যাঁচা বৃত্তাকারে উড়ে চলেছে৷

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%