মহুয়া মল্লিক
আওয়াজটা অনেকক্ষণ ধরে হচ্ছিল কিন্তু কানে ইয়ারফোন থাকায় রুহি বুঝতে পারেনি৷ আগেও ক’বার এই আওয়াজটা রুহি শুনেছে৷ রুমমেট মোমকে ধাক্কা দিয়ে ঘুম থেকে তুলে ফিসফিস করে বলেছে, ‘‘শোন কারা যেন চাপা গলায় ইনিয়ে বিনিয়ে কাঁদছে৷’’ কাঁচা ঘুম ভাঙিয়ে দেওয়ার কারণে মোম এমনিতেই বিরক্ত হয়েছিল তাই রুহির উপর মারাত্মক চটে গিয়ে বলেছিল, ‘‘তুই রাজ্যের হরর আর থ্রিলার নভেলগুলো পড়া বন্ধ করতো, রোজ রোজ রাত্রে এই ভ্যানতারা ভালো লাগে না৷’
গজগজ করতে করতেই মোম খুব সহজেই আবার ঘুমিয়ে পড়ে৷ আচ্ছা ঘুম কাতুরে মেয়ে যা হোক! এই এলাকার আবহাওয়া তাদের বেঙ্গলের থেকে একদম আলাদা৷ দিনের বেলায় প্রচণ্ড গরম থাকলেও মাঝরাত্রি থেকে টেম্পারেচার ফল করে৷ মোমকে গুটিসুটি মেরে শুয়ে থাকতে দেখে ওর গায়ে চাদরটা টেনে দিয়ে রুহি দরজা খুলে বারান্দায় বেরিয়ে আসে৷
রাঁচি শহরে প্রায় তিন মাস হতে চলল রুহির৷ এমনিতে শহরটা বেশ ভালো লেগে গেছে৷ প্রথম থেকেই ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের হস্টেলে না থেকে পাত্রাতু অঞ্চলের পাহাড় ঘেরা এই নিঝুম পাড়াটাই থাকার জন্য পছন্দ করে ফেলেছিল৷ মোমের সঙ্গে ট্রেনে আসতে আসতেই আলাপ৷ মোমও তার মতোই অ্যাডমিশন নিতে আসছে৷ ও আসানসোলের মেয়ে আর মোম কলকাতার৷ প্রথম থেকেই দু’জনের ইচ্ছে ছিল হস্টেলের বদলে নিজেদের মতো থাকার ব্যবস্থা করে নেবে৷ দু’জনের বাবাদের তৎপরতায় খুব তাড়াতাড়ি এই জায়গাটার সন্ধান মেলে৷
একসঙ্গে সবাই আসে থাকার ব্যবস্থা পাকা করতে৷ পুরনো দিনের ছোট্ট দোতলা বাড়ি৷ গেট দিয়ে ঢুকেই একটুকরো ফুলের বাগান৷ এক তলায় বাড়ির মালিক মিস্টার অ্যান্ড মিসেস বোস থাকেন৷ দোতলায় তিনটি রুমের দুটিতে মেয়েদের থাকার ব্যবস্থা৷ বড় রুমটিতে তিনটি মেয়ে থাকে ওরা ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করছে৷ পাশের অপেক্ষাকৃত ছোট রুমটা খুলে, ওদের জন্য দেখানো হল৷ দেখা মাত্রই রুহির খুব পছন্দ হয়ে গেল৷ জানলা দিয়ে পাহাড় দেখা যাচ্ছে৷ পাহাড়ের মাথায় থমকে থাকা মেঘটা যেন শুঁড় দুলিয়ে ওকে অভ্যর্থনা করছে৷ দুটি ছোট ছোট খাট, পড়ার টেবিল চেয়ার ছাড়াও একটা করে কাঠের আলমারি পাল্লায় আয়না লাগানো৷ অপছন্দ হবার মতো কিছু নেই তবে মোম সেভাবে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করল না দেখে একটু অবাকই হল রুহি৷ পাশের রুমটাও দেখিয়ে দিলেন মিসেস বোস৷ ডাইনিং এরিয়া৷ একটা টিভি, সোফা সেটা আর ক্যারাম বোর্ড আছে৷ বেশ ভালো ব্যবস্থা৷ মিসেস বোস জানিয়ে দিলেন বেড টী, ব্রেকফাস্ট, সন্ধের চা স্ন্যাক্স আর ডিনার তিনি দেবেন৷ লাঞ্চটা মেয়েরা সাধারণত ক্যান্টিনেই ম্যানেজ করে নেয় তবে ছুটির দিনে বা বাড়িতে থাকলে এক্সট্রা পে করলে লাঞ্চের ব্যবস্থাও হয়ে যাবে৷ হাতে স্বর্গ পেল রুহি৷ কারণ জামশেদপুরে মোমের দিদি জামাইবাবু থাকে, ও ছুটিছাটায় ওখানেই চলে যাবে কিন্তু রুহি তো লম্বা ছুটি ছাড়া বাড়ি যেতেও পারবে না৷
টাকা পয়সা অ্যাডভান্স করে নীচের ড্রয়িং-এ বসে সবাই মিলে চা খাচ্ছিল৷ মোমের বাবাই প্রশ্নটা তুলেছিলেন, সিকিউরিটির ব্যবস্থা কেমন?
‘‘ও নিয়ে একদম চিন্তা করবেন না৷ এ বাড়িতে আমরা বুড়ো বুড়ি ছাড়াও একজন সিকিউরিটি গার্ড আর কাজের মহিলা সব সময়ের জন্য থাকে৷ তবে...’’ কিছু একটা বলতে গিয়ে চুপ করে যান মিস্টার বোস৷ মিসেস বোস তখন বলেন, ‘‘তিন পুরুষ ধরে আমাদের বোকারোতে বসবাস আর ফ্যামিলি বিজনেস৷ সেইজন্য প্রায় আমাদের ওখানে যেতে হয়৷ ছোট ছোট নাতি-নাতনি আছে, বোঝেনই তো এ টান মারাত্মক৷ তবে চিন্তা করবেন না দশ বছর ধরে পিজি চালাচ্ছি, আজ পর্যন্ত কোনো মেয়ের অসুবিধা হয়নি৷’’ মিসেস বোসের কথাগুলো যথেষ্ট বিশ্বাসযোগ্য মনে হওয়ায় মেয়েদের বাবারা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল৷ কথা হল ক্লাস শুরু হলেই ওরা চলে আসবে৷
কান্নাটা ক্রমশঃ বাড়ছিল৷ এর আগেও কান্নার কথাটা পাশের রুমের দিদিদের জিজ্ঞেস করতে ওরা এর ওর মুখ চাওয়াচায়ি করেছিল৷ ওরা তো অনেক রাত্রি পর্যন্ত পড়াশোনা করে, বদ্ধ দরজা থেকে ওদের হাসির আওয়াজ ভেসে আসে৷ ওদের তো শোনা কথা কান্নাটা৷ রুহি আর কথা বাড়ায়নি, চুপ করে গিয়েছিল৷
কিন্তু আজ কান্নার আওয়াজটা ক্রমাগত বেড়েই যাচ্ছিল আর সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে হাওয়া দিচ্ছিল৷ এলোমেলো হাওয়ায় কোথাও একটা জানলার পাল্লা বার দুই শব্দ করে থেমে গেল কিন্তু কান্নাটা কিছুতেই থামছিল না৷ মুশকিল হল আজ বাড়িটা এই পাড়াটার মতোই নিঝুম৷ মোম বা পাশের রুমের মেয়েরা কেউ নেই৷ শনি রবি আর সোম মিলে লম্বা একটা উইকেন্ড৷ কে আর এখানে পড়ে থাকে! এমনকি মিস্টার বোস আর মিসেস বোসও নেই৷ অন্যদিন ঝরু ভাইয়া লাঠি ঠুকে ঠুকে পাহারা দেয়৷ আজ সেই আওয়াজটাও অনেক আগে থেমে গেছে৷ মালিক না থাকলে নেশাভাং করে পড়ে থাকে ঝরু ভাইয়া৷ এ নিয়ে ফুলমোতিয়ার সঙ্গে সকালেও ঝামেলা হয়েছে৷
বিছানা থেকে নেমে আসে রুহি, দরজা খুলে বারান্দায় বেরিয়ে আসে৷ কান্নাটা আরো প্রকট হয়৷ থমকে দাঁড়িয়ে ও বোঝার চেষ্টা করে সংখ্যায় ওরা ক’জন? মনে তো হচ্ছে একসঙ্গে অনেকজন মহিলা কাঁপছে৷ আর একটু দাঁড়াতেই বুঝতে পারল কান্নার আওয়াজটা ওপরের সিঁড়ি দিয়ে নীচে নেমে আসছে৷ রুহি আর দাঁড়ায় না, মন্ত্রমুগ্ধের মতো সিঁড়ি দিয়ে ওপরে উঠতে শুরু করে৷ এসে থেকে কখনো ছাদে যাবার প্রয়োজন হয়নি তাই চিলেকোঠার ঘরটার অস্তিত্বই জানত না এতকাল৷ কান্নার আওয়াজটা এতক্ষণ এই বন্ধ চিলেকোঠা থেকেই আসছিল৷ রুহির পায়ের আওয়াজ পেয়েই থেকে গেছে আওয়াজটা৷ রুহি চার্টের ক্ষীণ আলোয় দেখল মরচে ধরা একটা তালা আটকানো দরজার গায়ে৷ একটু চেষ্টা করলেই এই তালাটা খোলা ওর কাছে কোনো ব্যাপারই নয়৷ কিন্তু এই মুহূর্তেই ও সেটা ভাবছে না৷ দরজার পাল্লায় কান চেপে ধরল, কেউ যেন একবার ডুকরে কেঁদে উঠে চুপ করে গেল৷ তারপর সব চুপচাপ৷ রুহি আরো কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে নিজের রুমে ফিরে এল৷ অতিরিক্ত উত্তেজনার কারণে নার্ভগুলো অশান্ত থাকায় সারারাত দুচোখের পাতা আর এক করতে পারল না৷
সকালে ফুলমোতিয়ার সঙ্গে গল্প করতে করতে চিলেকোঠার প্রসঙ্গ তুলল৷ কী আছে ঐ ঘরে? সে জানালো পুরনো, বাঙা চোরা জিনিস এ বোঝাই ঘরটা৷ সব আগের মালিকের জিনিস৷ তাড়াহুড়োয় বাড়ি বিক্রি করে চলে গিয়েছিল পাটনা এসব সামান এভাবেই পড়ে আছে৷ ‘কীসের তাড়াহুড়ো?’’ ফুলমোতিয়া পুরী সব্জির প্লেট এগিয়ে দিতে দিতে বলে, ‘‘আগের মালিকের খুব সুন্দর একটা মেয়ে ছিল৷ সে নাকি রাতবিরেতে গানের আওয়াজ শুনত, কান্নার আওয়াজ পেত৷ কিন্তু বাড়ির কেউ আর সেই আওয়াজ শুনতে পেত না৷ ধীরে ধীরে মেয়েটা পাগল হয়ে যায়৷ তারপর একদিন হারিয়ে যায়৷ অনেক খোঁজাখুঁজি করেও মেয়েটাকে পাওয়া যায়নি৷ তারপরেই আগের মালিক বাড়ি বিক্রি করে চলে যায়৷’’
রুহি শিউরে ওঠে৷ কান্নার আওয়াজ আর মেয়েটির হারিয়ে যাওয়ার মধ্যে কী তাহলে কোনো যোগসূত্র আছে? বন্ধ দরজার ওপারেই বা কী রহস্য আছে! আজ শনিবার, এই তিন দিনই তার হাতে সময় যা হোক করে এই রহস্য তাকে উদ্ধার করতেই হবে৷ ছাদের চাবির গোছাটা সে ফুলমোতিওয়ার কাছে চেয়ে নেয়, ওখানে বাড়তি চাবিটা আছে সেটা যে ঐ চিলেকোঠার ঘরে তা বুঝতে অসুবিধা হয় না৷
ফুলমোতিয়াকে একবার জিজ্ঞেস করেছিল, সে কোনো কান্নার আওয়াজ পায় কিনা রাতের বেলায়? ‘‘নহী মেমসাহাব, সারাদিন কামকাজের পর গভীর নিদ যাই৷ তবে হ্যাঁ শীতকালে কুকুরগুলো কাঁদে বটে৷’’ রুহি আর ঘাঁটায়নি৷ রাত জেগে পড়াশোনা করছিল হঠাৎ পাওয়ার কাট৷ এমারজেন্সী লাইট জ্বেলে আর পড়তে ইচ্ছে করল না৷ ঘড়ি দেখল, দেড়টা বাজে৷ আজ সকালে ফুলমোতিয়ার বকুনি খেয়ে ঝরু ভাইয়া লাঠি ঠুকে ঠুকে পাহারা দিচ্ছে৷ নিশ্চিন্তে শুয়ে পড়ল রুহি৷ একটু পরেই ঘুমিয়ে পড়ল৷
হঠাৎ কান্নার আওয়াজে ঘুমটা ভেঙে গেল৷ কান্নার সুরটা এক একসময় গান মনে হচ্ছে৷ একদল মহিলা যেন করুণ সুরে গান করে যাচ্ছে৷ একটানা কেঁদেই চলেছে৷ রুহি টর্চ আর চাবির গোছাটা নিয়ে বেরিয়ে এল৷ সিঁড়ি বেয়ে চিলেকোঠার বন্ধ দরজার কাছে পৌঁছেও গেল৷ ওর উপস্থিতি টের পেয়েই কান্না থেমে গেছে৷ ও মরচে ধরা তালাটার দিকে চাবিটা এগিয়ে দিল৷ খুট করে একটা আওয়াজ৷ খুলে গেছে তালাটা৷ ঘরের ভিতর থেকে সেই মুহূর্তে একরাশ পায়রা উড়ে গেলে যেমন আওয়াজ হয় তেমন শব্দ হল৷ মনে হল অনেকজন মিলে করতালি দিয়ে রুহিকে আহ্বান জানাচ্ছে৷
দরজা ঠেলে ভিতরে ঢুকতেই অবাক হয়ে গেল রুহি৷ নিশ্ছিদ্র অন্ধকারের বদলে হাল্কা একটা আলোয় ছেয়ে আছে ঘরটা৷ কিছু পুরনো ফার্নিচার ছাড়া বিশেষ কিছু নেই৷ চোখ ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে রুহি সবকিছু ভালো ভাবে দেখতে দেখতে ওক কাঠের ক্যাবিনেটটার দিকে এগিয়ে গেল৷ ক্যাবিনেটের ওপরে সুদৃশ্য একটা লম্বা কাঠের বাক্স৷ বেশ হাল্কা, সহজেই রুহি দুহাতে উঠিয়ে নিল৷ তারপর যেমন এসেছিল তেমন নিঃশব্দে তালা বন্ধ করে নিজের রুমে ফিরে এল৷ বাক্সের ভিতরে কী আছে জানার জন্য তীব্র কৌতূহল হচ্ছিল, কিন্তু বাক্সের গায়ে ছোট্ট একটা পিতলের তালা আঁটা৷ তালাটা যথেষ্ট মজবুত৷ সকালে ওটার ব্যবস্থা করবে ভেবে রুহি শুয়ে পড়ল৷ সারারাত ঘুমের মধ্যে অনেকের হাসির শব্দ শুনতে পেল৷ কসমেটিক্সের হাল্কা গন্ধ, নূপুরের আওয়াজ এইসব শুনতে শুনতে বাকি রাতটা আধো ঘুম আধো জাগরণে কেটে গেল৷
অনেক বেলা পর্যন্ত ঘুম না ভাঙায় ফুলমোতিয়াই ডেকে তুলল৷ চায়ের কাপ এগিয়ে দিতে দিতে বলল, ‘‘মেমসাহেব কাল রাত্রে কী তোমার সহেলি এসেছিল? ঝরু বলছিল অনেক রাত্রে দিদির সহেলিরা মিলে ছাদের মধ্যে হাত ধরে নাচাগানা করছিল৷’’
দুর কে আসবে? তাও অত রাত্রে? আর কেউ এলে তো তুমি জানতে পারতে? ঝরু ভাইয়ার যত সব উল্টোপাল্টা কথা৷’’
‘‘মালকিন আসুক ওর মজা দেখাব, রাত্রে উল্টা সিধা পিনা বন্ধ করছি৷’’ ফুলমোতিয়া গজগজ করতে করতে চলে গেলেও রুহির মনে একটা খটকা রয়েই গেল৷ স্নান সেরে ব্রেকফাস্ট করে ও ওর ইন্সট্রমেন্ট বক্সটা খুলে একটা স্ক্রু-ড্রাইভার জোগাড় করে কাঠের বাক্সের তালাটা খুলে ফেলল৷
ভিতরটা নীল ভেলভেটে মোড়া৷ তার উপর শোয়ানো আছে চারটে মোমের পুতুল৷ এক একেকটার এক একরকম রঙ৷ লাল, গোলাপি, সবুজ, সোনালি মোট চারটে পুতুল৷ বাহারি পোশাক আর আলাদা আলাদা রকমের চুল৷ চোখগুলো কাচের তৈরি৷ তবে সবথেকে আকর্ষক প্রত্যেকের ঠোঁট৷ ঠোঁটের কোণে একটুকরো চাপা হাসির সঙ্গে এক অজানা রহস্য থমকে আছে৷ রুহি মুগ্ধ হয়ে পুতুলগুলো নেড়ে চেড়ে দেখছিল৷ একসময় আবিষ্কার করল মোট পাঁচটা পুতুল পরপর শুইয়ে রাখার জায়গা কিন্তু পুতুল সংখ্যা চার৷ তার মানে একটা পুতুল কম৷ এসব ভাবনার মধ্যেই দেখল চারটে পুতুলের চোখের মণি একসঙ্গে যেন নড়ে উঠল আর কিছু বলবে বলে প্রত্যেকেই ঠোঁট ফাঁক করে আবার বন্ধ করে নিল৷ রুহি নিজেকেই তিরস্কার করল, কী দেখতে কী দেখেছে৷ ভেলভেটের আস্তরণটা সরাতেই কয়েকটা পুরনো পেপার কাটিং দেখতে পেল৷ রাঁচি শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিভিন্ন সময়ে চারটি মেয়ের হারিয়ে যাওয়া ঘটনার বিবরণ৷ বয়স, চুলের দৈর্ঘ্য, গায়ের রঙ, হারিয়ে যাবার সময় পরনের পোশাক ইত্যাদি ইত্যাদি৷ কারুর পোশাকের রঙ লাল, কারুর গোলাপি, কারুর সবুজ আবার কারুর সোনালি৷ পুতুলগুলোকে দেখতে দেখতে কেঁপে উঠল রুহি৷ আর তখনই আবিষ্কার করল পেপার কাটিং-এর নীচে একটা ছোট্ট আয়না৷ আয়নাটা অদ্ভুত সুন্দর৷ রুহি নিজের মুখের সামনে আয়নাটা ধরতেই নিজেকে দেখতে পেল৷ নীল ফ্রক, গালে টোল, মায়াবী চোখ৷ একটু পরেই নিজের প্রতিবিম্বটা মুছে গিয়ে ধীরে ধীরে সেখানে ফুটে উঠল নীল পোশাক পরা একটা পুতুলের প্রতিবিম্ব৷
একটু পরেই ফিসফিস করে চারজন পুতুল বলে উঠল, ‘‘আমাদের পুতুল রাজ্যে সুস্বাগত৷’’ নীল পুতুলটার ঘুম পাচ্ছিল ও ধীরে ধীরে ওদের পাশে শুয়ে পড়ল৷ ওদের হিমশীতল ছোঁয়ায় ওর একটু অস্বস্তি হচ্ছিল ঠিকই কিন্তু ও জানে কয়েক ঘণ্টা পরেই ওর মোমের শরীরটা বাকিদের মতোই ঠান্ডা হয়ে যাবে৷
জলজ্যান্ত একটা মেয়ে বাড়ি থেকে কীভাবে উধাও হয়ে গেল পুলিশ প্রশাসন কোনো কিনারা করতে পারল না৷ এই ঘটনার কিছুদিন পরে পিজি অ্যাকোমোডেশান উঠিয়ে দিয়ে মিস্টার এন্ড মিসেস বোস পাকাপাকিভাবে বোকারো চলে গেলেন৷ বাড়িটার বদনাম হওয়ায় বিক্রি হয়নি আর৷ বন্ধ বাড়িতে পাঁচ পুতুল বেশ সুখেই আছে এখন৷
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন