মিথুন মূর্তি

মহুয়া মল্লিক

এক

অনন্য সিগারেট ধরিয়ে আয়েস করে সিমেন্টের লাল টুকটুকে বেঞ্চের উপর বসল৷ রিসর্টটা যাকে বলে একদম পাহাড়ের কোলে৷ অন্ধকারের মধ্যে ডুবে থাকা পাহাড়টা ছায়া ছায়া হয়ে ধরা দিচ্ছে৷ বুনো ফুলের গন্ধে জায়গাটা ভরে আছে৷ আজ শেষ রাত, কাল সকালে উঠেই ছুটতে হবে শিলিগুড়ি, সেখানাকার ব্রাঞ্চে ফাইন্যাল রিপোর্ট সাইন করে দিলেই এ যাত্রার কাজ শেষ৷ অনন্য ঠিক করেই রেখেছিল, দুটো দিন সময় বার করে ঠিক রিশপ ঘুরে আসবে৷ এইসব জায়গাগুলো বহুবার এলেও পুরনো হয় না৷ দু’দিন নিজের মতো থাকা, তাজা অক্সিজেন ফুসফুস ভরে নেওয়ার প্রচুর ছবি তুলেছে৷ কর্পোরেট জগতের ব্যস্ত চাকুরে অনন্য রায় এভাবেই নিজেকে রিফ্রেশ করতে বারেবারে বেরিয়ে পড়ে৷ যেখানেই যায়, রাঙাদাদুর পছন্দমতো জিনিসপত্র নিয়ে ফেরে৷ এবারেও আসার আগে দেখা করতে গিয়েছিল, ‘রাঙা দাদু এবার কি আনব বলো?’ রাঙা দাদু এন্টিক জিনিসপত্র দিয়ে ঘর সাজাতে ভালোবাসে৷ পাথর বসানো ছুড়ি, পুরনো ছবি, পানপাত্র এ ধরনের কিছু না কিছু আবদার করে বসে৷ অনন্যও সেসব ঠিক জোগাড় করে ফেলে৷ এবার দাদু কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে থেকে বলে, ‘‘কী হবে এসব জিনিসপত্রে ঘর বোঝাই করে? আমি চোখ বুজলে কে দেখবে এসব? আমেরিকা থেকে দীপু এসে টান মেরে সব ফেলে দিয়ে বাড়ি বিক্রি করে টাকা নিয়ে যাবে৷ থাক কিছু চাই না আমার’’৷

অভিমান হওয়াই স্বাভাবিক৷ সেই যুবক বয়সে মামি মারা যাবার পর দীপু মামাকে বুকে আগলে মানুষ করেছেন৷ লোকজনের দ্বিতীয় বিয়ের প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন৷ সৎ মা এলে পাছে ছেলেটা অবহেলিত হয়! সেই ছেলে বড় হয়ে বাবার খোঁজও নেয় না৷ তবে অনন্য জানে, দীপুমামা কিন্তু রাঙাদাদুকে ওদেশে পাকাপাকি নিয়ে যেতে চেয়েছিল৷ দাদুই রাজী হননি৷

‘‘বেশ তো এসব জিনিসে যখন অরুচি এসেছে, এবার বরং হাল্কা একটা সোয়েটার নিয়ে আসব’’, চা খেতে খেতে অনন্য বলেছিল৷ ও ভেবেছিল দাদু হেসে উঠবে, কিন্তু বিমর্ষ মুখে জানালার দিকে তাকিয়ে ছিল রাঙাদাদু৷ অনন্য তখনই ঠিক করেছিল, দাদুর মন ভালো করার মতো জিনিস নিয়ে আসতেই হবে৷ কিন্তু এই দু’দিনেও তেমন কিছু জোগাড় করতে পারেনি, এবার খালি হাতেই ফিরতে হবে, দীর্ঘনিঃশ্বাস বেরিয়ে আসে বুক চিরে৷

‘‘সাহাব একটু শুনবেন?’ রিনরিনে মেয়েলি কন্ঠস্বরে চমকে ওঠে অনন্য৷ তার সামনেই গাছের গুঁড়িতে ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে এক পাহাড়ি কন্যা৷ এতক্ষণ যার অস্তিত্বই টের পায়নি, মেয়েটা যেন মাটি ফুঁড়ে উদয় হয়েছে৷ অনন্যকে উঠে দাঁড়াতে দেখে মেয়েটা সন্ত্রস্ত চোখে এদিক-ওদিক তাকিয়ে এগিয়ে এল অনন্যর খুব কাছে৷ মেয়েটার শরীর থেকে উঠে আসা একটা বুনো গন্ধ ঝাপসা মারল অনন্যর নাকে৷ মেয়েটা এখানে এল কীভাবে? গেটে সিকিউরিটি, তিনদিকে উঁচু পাঁচিল৷ একমাত্র এদিকটাতেই তারের ফেন্সিং, ওপাশে অতলান্ত খাদ, কোনও মানুষেরই ওপাশ থেকে আসা সম্ভব না৷ বুনো গন্ধটা যেন বিবশ করে দিচ্ছিল অনন্যকে৷ সম্বিত ফিরে পেতেই ভাবল, এত কেন চিন্তা করছে? মেয়েটা তো এখানে কাজ করতে পারে, অথবা স্টাফেদের কারুর পরিবারের হতে পারে!

‘‘সাহাব, আমার কাছে একটা জিনিস আছে, আপনার খুব পছন্দ হবে’’৷ মেয়েটা চাদরের তলা থেকে একটা হাত বার করে বড় বড় পাতায় মোড়া একটা জিনিস অনন্যর দিকে এগিয়ে দেয়৷ হাল্কা আলোয় অনন্য দেখে মেয়েটার হাতে ভারী ভারী রুপোর বালা, কঙ্কণ যাতীয় অলঙ্কার৷ জিনিসটা হাতে নিয়ে বুঝল, বেশ ভারী৷ তাড়াতাড়ি পাতার মোড়ক সরাতেই কুচকুচে কালো পাথরের তৈরি একটা মূর্তি বেরিয়ে এল৷ হাল্কা আলোয় কীসের মূর্তি অনন্য বুঝতে না পারলেও এটুকু বুঝতে পারল এ অমূল্য মূর্তি, ইতিহাসে এর অপরিসীম গুরুত্ব৷ মেয়েটার দিকে তাকাল৷ ঠোঁটের কোণে চাপা হাসি নিয়ে অনন্যকে লক্ষ্য করছে৷ অনন্য এবার জিজ্ঞেস করল, ‘‘কত দাম নেবে এটার জন্য? আর আমি এমন কিছু খুঁজছি তুমি জানলে কী করে!’’

মেয়েটা হাসে, ‘‘এর জন্য আবার দাম দেবেন কেন? আমার কাছে এমনি পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছিল৷ আপনি দোকানে দোকানে এমন কিছু খুঁজছিলেন আমি দেখেছি’’৷

‘‘তুমি একটু দাঁড়াও, আমি টাকা নিয়ে আসি৷ একেবারে খালি হাতে এ জিনিস নিতে পারব না৷ দমকা একটা হাওয়া ওঠে, মেয়েটির গা থেকে চাদরটা খসে পড়ে, অনন্য দেখে মেয়েটির অন্য হাতটি কনুই থেকে কাটা এবং শরীরের তুলনায় অস্বাভাবিক বড় দুটি স্তন৷ মেয়েটির অনন্যর দিকে তাকিয়ে ঠোঁট চিপে আবার হাসল৷ অনন্য’র মাথায় অন্য চিন্তা এল, ‘‘মেয়েটি কে? দেহ উপজীবীনি কেউ? অনন্যকে কি প্রলুব্ধ করার চেষ্টা করছে?’’ কঠিন গলায় বলে, ‘‘তুমি একটু দাঁড়াও, আমি এখুনি আসছি টাকাটা নিয়ে’’৷

নিজের রুমে ফিরে মূর্তিটা টেবিলের উপর রেখেই, ওয়ালেট থেকে দুটো পাঁচশ টাকার নোট বার করে ছুটল৷ অবাক কান্ড মেয়েটা কিন্তু নেই৷ সিমেন্টের বেঞ্চে বসে কিছুক্ষণ মেয়েটির অপেক্ষা করে যখন বুঝল, ও আর আসবে না, নিজের রুমে ফিরে এল৷ সারাদিনের ক্লান্তি আর স্কচের প্রভাবে ঘুম আসতে দেরি হল না৷ মূর্তিটি পাতায় জড়ানো অবস্থায় টেবিলের উপর পড়ে রইল৷ ঘুমের মধ্যেই মনে হল রুমের ভিতরটা বুনো জংলা একটা গন্ধে ভরে যাচ্ছে৷ পাতার হবে মনে করে অনন্য ঘুমে ডুব দিল৷

ঘুম ভাঙল একটু দেরিতে৷ তাড়াতাড়ি তৈরি হয়ে ব্যাগ গুছিয়ে নিল৷ মূর্তিটা কোথায় রাখবে ভেবে ট্রলির মধ্যে নিয়ে লক করে দিল৷ কাল হাল্কা আলোয় এক ঝলক দেখেই বুঝেছে বেশ দুষ্প্রাপ্য মূর্তি, যত্ন করে নিয়ে যেতে হবে৷ যাইহোক ব্রেকফাস্ট করেই বেরিয়ে যেতে হবে, রিসেপশনে ফোন করে আগেই ড্রাইভারকে ব্রেকফাস্ট করিয়ে দিতে বলেছে এবং বিলটা বানিয়ে রাখতে বলেছে৷

ডাইনিং হল থেকে বেরিয়ে বিল পেমেন্ট করে, ম্যানেজারকে দুটো পাঁচশ টাকার নোট দিয়ে বলল, ‘‘কাল একটি মেয়ের কাছে জিনিস নিয়েছিলাম, ও আজ এলে দিয়ে দেবেন’’৷ বিকেলের দিকে রিসর্টে লোকাল মেয়েরা আসে উলেন জিনিসপত্র বিক্রি করতে৷ তাদের কেউ হবে মনে করে ম্যানেজার জিজ্ঞেস করল, মেয়েটিকে চিনব কী করে!’’ নাম বলেছে? অনন্য মাথা নাড়ে, তারপর বলে মেয়েটির একটি হাত কনুই থেকে কাটা৷ ম্যানেজার ছেলেটি হাঁ করে তাকিয়ে থাকে অনন্যর দিকে, সম্ভবত এমন কারুকে সে আসতে দেখেনি৷ এবার অনন্যর বেশ ভয় লাগে, কেউ কি চালাকি করে মূর্তিটা গছিয়ে দিয়ে গেল, যাতে নিরাপদে কলকাতা পৌঁছে যেতে পারে? তারপর সুযোগমতো তার কাছে ফেরত নিয়ে নেবে! শিলিগুড়ি অফিস থেকে তুহিনের ফোন আসতেই চিন্তাটা সরে গেল৷ অনন্য গাড়ির দিকে এগিয়ে গেল কথা বলতে বলতে৷ ফাইফরমাশ খাটা ছেলেটা ট্রলি ব্যাগটা তুলে দিল, ওর দিকে একশ টাকা বাড়িয়ে দিতেই ছেলেটা ফিসফিস করে বলল, ‘‘স্যর সাবধানে থাকবেন’’৷ ড্রাইভার স্টার্ট দিয়ে ফেলেছে৷ অনন্য শেষবারের মতো সেই লাল সিমেন্টের বেঞ্চ আর সেই গাছটার দিকে তাকাল৷ মনে হল কে যেন গাছের আড়ালে লুগিয়ে গেল৷ অবশ্য মনের ভুলও হতে পারে! তার খুব ইচ্ছা করছিল, ট্রলিটা খুলে মূর্তিটা বার করে দিনের আলোয় একবার দেখতে৷ অনেক কষ্টে ইচ্ছাটা দমন করল৷

সারাদিন অফিসের কাজের চাপে মূর্তিটার কথা আর মনে পড়ল না৷ তুহিন ট্রেনে চাপিয়ে দিতে এসে জিজ্ঞেস করল, ‘‘তোমাকে খুব অন্যমনস্ক লাগছে, শরীর ঠিক আছে তো?’’ অনন্য হাসে, ‘‘আমি একদম ঠিক আছি, এটা তো শুধুই অফিসিয়াল ট্যুর ছিল না, সব মিলিয়ে বেশ কাটালাম ক’টা দিন৷’’

মুখে যতই বলুক, মূর্তিটা নিয়ে সে চিন্তা করছেই৷ সবথেকে বড় কথা মূর্তিটার প্রতি সে একটা তীব্র আকর্ষণ বোধ করছে, কলকাতায় নিরাপদ আশ্রয়ে না ফেরা পর্যন্ত মূর্তিটা হাতে নেওয়া সমীচীন হবে না এটা নিজেই বুঝতে পারছে৷ তুহিন বিদায় নেবার আগে খাবারের প্যাকেটটা হাতে ধরিয়ে দিল৷

দুই

অনেকদিন থেকে রাইয়ের ব্যবহার ঠিক ভালো লাগছিল না৷ আজ কলকাতাতে নেমেই ক্যাবে উঠে দু’বার ফোন করে না পেয়ে মেসেজ করে দেখা করার কথা বলেছিল৷ যেহেতু আজ আর অফিস যাবে না, দুজনে মিলে বাইরে লাঞ্চ করে কিছুটা সময় কাটানোই যেত৷ মেসেজটা রিড হবার সঙ্গে সঙ্গে রাই রিং ব্যাক করে, ‘‘এই তো ফুর্তি করে ফিরলে, মন ভরেনি?’’ অনন্যর গালে কেউ যেন ঠাস করে একটা চড় মারল৷ অফিসিয়াল ট্যুর মানেই ফুর্তি করা নাকি? রাই একটু বদমেজাজি সে জানে তা বলে এতটা খারাপ তার ধারণা ছিল না!

অফিসের কাছাকাছি অনন্য একটা ফ্ল্যাট নিয়েছে কিছুদিন হল, একাই থাকে সেখানে৷ তবে এই মুহূর্তে ইচ্ছা হল বেহালায় মা-বাবার কাছে যেতে৷ কিন্তু ক্যাব যে এড্রেসে বুক করা হয়েছে সেখানেই যাবে৷ ভালোই হল ব্যাগ ব্যাগেজ রেখে একটু ফ্রেশ হয়ে চলে যাবে৷ তালা খুলে ফ্ল্যাটে ঢুকে সোফাতে শরীরটা এলিয়ে দিল, ট্রেন জার্নিতে তার ঘুম হয় না, খুব ক্লান্ত লাগছে৷ কফি খেলে হয়ত ক্লান্তিটা কাটবে৷ কফি খেতে খেতে ট্রলি খুলে মূর্তিটা বার করে ফেলল৷ আশ্চর্য হয়ে দেখল পাতাগুলো কী সতেজ এখনো! পাতার মোড়ক খুলতেই মূর্তিটা বেরিয়ে এল৷ অপূর্ব গঠন শৈলী৷ মিথুন মূর্তি হলেও তিনজনকে দেখা যাচ্ছে৷ এক নারী আর পুরুষ অন্তরঙ্গ ভঙ্গিতে বসে আছে, পুরুষের কাঁধে সঙ্গিনীর হাত, সঙ্গিনীর স্তনের কাছে পুরুষের একটি হাত থেমে গেছে, যেন ভাবছে স্পর্শ করবে কী করবে না! তাদের পিছনেই দাঁড়িয়ে আছে আরেকটি নারী মূর্তি, হাতের রেকাবিতে নানা রকমের ফুল আর ফল খোদাই করা৷ নারীর দেহের মধ্যে একটা অস্বাভাবিকতা টের পাচ্ছে অনন্য, খুঁটিয়ে দেখতেই বুঝতে পারল স্তন দুটি আঁটসাঁট হলেও দেহের তুলনায় বেশ বড়৷ সেদিকে বেশিক্ষণ তাকালে চোখ শিরশির করে ওঠে৷ পুরুষটির পায়ের কাছে একটি বেজী৷ অনন্য মূর্তিটা টেবিলের উপর রেখে বিছানায় শুয়ে পড়ল৷ ওর শরীর ভারী হয়ে আসছিল৷ শুয়ে শুয়েই মূর্তিটা দেখছিল৷ শিল্পীকে হ্যাটস অফ৷ এ জিনিস বানাতে ধক লাগে৷ মনে মনে মেয়েটিকে কৃতজ্ঞতা জানায়, বাজার খুঁজলেও এ জিনিস সে পেত না৷ রাঙাদাদু এ জিনিস পেলে খুব খুশি হবে৷ অনন্যর বারবার চোখ আটকে যাচ্ছিল অন্য নারী মূর্তিটির দিকে৷ পাথুরে চোখ দুটি যেন জীবন্ত, বহু জন্মের কথা যেন ওখানে থমকে আছে৷ শরীর বিবশ হয়ে আসে অনন্যর৷ এক সময় চোখ লেগে আসে৷

ঘুম ভাঙল বাবার ফোনে, ‘‘তাড়াতাড়ি চলে আসিস, মায়ের রান্না কিন্তু হয়ে গেছে’’৷ চোখ কচলে ঘড়ি দেখল, পৌনে এগারোটা বাজতে চলল, অনেকটা সময় ঘুমিয়ে পড়েছিল৷ স্নান করে রেডি হয়ে বাবা-মায়ের জন্য আনা গিফটগুলো নিয়ে নিল৷ কী মনে হতে রাইয়ের জন্য আনা রিস্টলেটটাও নিল৷ রাই হুটহাট ও বাড়িতে চলে যায়৷ ট্রাফিক কম থাকায় কসবা থেকে বেহালা আসতে খুব একটা সময় লাগল না৷ মা গম্ভীর মুখে খেতে দিচ্ছে, কিছু একটা হয়েছে৷ অনন্য জিজ্ঞেস করে ফেলল, ‘‘কী হয়েছে মা?’’ মা চুপ করে মাছের মাথা দিয়ে মুগের ডালের বাটিটা এগিয়ে দিল৷ অনন্য এবার বাবার দিকে তাকাল৷ বাবা খেতে খেতেই মা’কে বলল, ‘‘গোপা, তুমিই বল৷’’ ফোঁস করে উঠল মা, ‘‘রাইকে বলেছিলাম এবার ওর বাড়ি গিয়ে বিয়ের ডেটটা ঠিক করে ফেলি৷ ও তো শুনে আকাশ থেকে পড়ল৷ তোর সঙ্গে বিয়ের কথা এই মুহূর্তে ভাবছেই না৷ ওর বাড়ির লোকও এই সম্পর্ক মেনে নেবে না৷ তুই কি ছেলে ফেলনা নাকি? আর ওই বা যখন তখন এ বাড়িতে এল কেন? আমাদের একটা মান-সম্মান আছে৷’’

থালার উপরে অনন্যর হাত থমকে যায়৷ রাই এত বদলে যাচ্ছে কেন? ওর বাড়িতে এই সম্পর্ক নিয়ে আপত্তি আছে বলে তো একবারও মনে হয়নি৷ বরং সবাই অনন্যকে খুব পছন্দ করে বলেই মনে হয়৷ সমস্ত খাবার বিস্বাদ লাগে৷ জোর করে খায়, মা বাতের ব্যথা নিয়ে কষ্ট করে তার জন্য এত রান্না করেছে৷

‘‘তোর সঙ্গে কি কিছু হয়েছে ওর?’’ বাবা জিজ্ঞেস করে৷

‘‘তেমন কিছু না৷ আমি কথা বলে নেব ওর সঙ্গে৷’’ অনন্য খাওয়াতে মনোযোগ দিল৷ মায়ের মন খারাপ দেখে ঠিক করে নিল, এই সপ্তাহটা এখান থেকেই অফিস করবে৷ এর মধ্যেই ভেবে নিয়েছে, রাঙাদাদুকে ঐ মূর্তিটা দেবে না৷ একটা জহর কোট কিনেছিল নিজের জন্য ওটাই দিয়ে দেবে৷ নিজের আজন্ম পরিচিত ঘরে চেনা বিছানায় মাথা ঠেকাতেই ঘুমে চোখ জুড়ে গেল৷ ঘুমতে ঘুমতে মনে হল, কে যেন মিহি গলায় বারেবারে তার নাম ধরে ডাকছে৷

সন্ধের মুখে অনন্য বলে উঠল, ‘‘মা রাতের খাবারটা প্যাক করে দাও, আমি ফিরে যাব’’৷ এক সপ্তাহ থাকবে বলে এসেও অনন্যকে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে হল৷ আসলে মূর্তিটা ভীষণ টানছে তাকে৷ মা-বাবা ভাবল রাইয়ের ব্যাপারটা নিয়ে মনখারাপ তাই নিজের মতো কাটাতে চাইছে৷ কেউ বাধা দিল না অনন্যকে৷

পরোটা, চিকেন কষা, বেগুন ভাজা আর মিষ্টি দিয়ে রাতের খাবার শেষ করে শুয়ে পড়ল অনন্য৷ কাল থেকে আবার অফিস, রেগুলার রুটিনে ফেরা৷ লাইট অফ করার আগে মূর্তিটার দিকে তাকাল৷ চুম্বকের মতো টানছে মূর্তিটা৷ অনন্য টেবিল থেকে মূর্তিটা তুলে হাতে নিয়ে শুয়ে পড়ল৷ অন্ধকারের মধ্যে মূর্তিটার গায়ে আঙুল বোলাচ্ছিল৷ সুখানুভূতিতে মন ভরে উঠছিল, একসময় ঘুমিয়ে পড়েছিল অনন্য৷

ঘুমের মধ্যেই টের পাচ্ছিল মাথার উপর একটা চাপ, আস্তে আস্তে চাপটা বাড়ছে, নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে অনন্যর৷ সে ধড়ফড় করে উঠে বসল৷ নাইট ল্যাম্পের হাল্কা আলোয় স্তম্ভিত হয়ে গেল৷ সেদিনের সেই মেয়েটা, তার বালিশের পাশে বসে৷ মেয়েটাই মুখের উপর চাপ দিচ্ছিল৷ অনন্যর চোখে চোখ পড়তেই মেয়েটা হাসল৷ সেদিনকার মতো চাপা হাসি৷ ভালো করে তাকিয়ে দেখল মেয়েটাকে৷ কোমরের নীচের অংশে ঘাঘরার মতো পোশাক, ঊর্ধ্বাঙ্গে কাঁচুলি৷ কাঁচুলিটাতে সম্ভবত জরি, চুমকি বা স্টোন বসানো, ঝিকমিক করছে৷ মেয়েটার অস্বাভাবিক বড় স্তন কাঁচুলির শাসন মানছে না৷ মন্ত্রমুগ্ধের মতো মেয়েটার দিকে তাকিয়ে থাকে অনন্য৷ ও ভুলে যায় পারিপার্শ্বিক পরিবেশের কথা৷ তার এই বদ্ধ ফ্ল্যাটে মেয়েটি এল কীভাবে, এসব কিছুই তার মাথায় ঢোকে না৷ অপলক তাকিয়েই থাকে মেয়েটির দিকে৷ মেয়েটির কালো শরীর থেকে বুনো গন্ধ উঠে আসছে, অনন্যর দিকে তাকিয়ে হাসল সে৷ এই প্রথম দাঁতের সারি ঝিকমিক করে উঠল৷ মেয়েটি এগিয়ে এল অনন্যর খুব কাছে, তারপর অনন্যর কোলের উপর উঠে বসে, এক হাত দিয়ে অনন্যর মাথাটা নিজের বুকের কাছে টেনে আনল৷ মেয়েটির সারা শরীর অদ্ভুত রকমের ঠান্ডা৷ আর অনন্যর শরীর যেন জ্বরে পুড়ে যাচ্ছে৷ সে মেয়েটির কাছে নিজেকে সমপর্ণ করে দিল৷ আর কিছু মনে নেই তার৷ ঘুম ভাঙার পর সারা শরীরে অসহ্য একটা ব্যথা টের পেল৷ অফিস যেতে পারবে তো? একটু ফ্রী হ্যান্ড এক্সারসাইজ করে এক কাপ কফি খেতেই শরীর ঝরঝরে হয়ে গেল৷

রাত্রে শুয়ে শুয়ে ভাবছিল, মূর্তিটার মধ্যে সত্যি কি কোনও রহস্য আছে? নাকি সবটাই তার কল্পনা? কাল রাত্রে এমন একটা স্বপ্ন দেখলই বা কেন? অফিসে আজ দত্তদা বললেন, ‘‘তোমায় খুব ফ্রেশ লাগছে, রাইয়ের সঙ্গে আউটিং সেরে এলে নাকি?’’ হা হা করে হেসে পাশ কাটিয়েছিল অনন্য৷

আজও ঘুমটা ভেঙে গেল শরীরের উপর অস্বাভাবিক একটা চাপে৷ চোখ খুলে অনন্য দেখল জমাট অন্ধকার৷ তার মানে পাওয়ার কাট৷ একটা নারী শরীর অনন্যকে জড়িয়ে ধরেছে৷ অস্বাভাবিক বড় স্তনের চাপে তার দম আটকে আসছে৷ ধাক্কা মেরে তাকে সরাতে চাইল অনন্য, কিন্তু পেরে উঠল না৷ একসময় অনন্য বুঝতে পারল তার শরীর জাগছে, আদিম খেলায় সেও মেতে উঠল৷

সকালে চা খেতে খেতে অনন্য ভাবছিল রাইয়ের সঙ্গে মুখোমুখি বসে আলোচনা করে দেখবে, ও না চাইলে এবার সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে হবে৷ দেখেশুনে বিয়ে করে সংসার শুরু করে দেবে৷ এভাবে একা একা থাকার জন্য রোজ আজেবাজে স্বপ্ন আসছে৷ তারপরেই ঠিক করে নিল, এই মূর্তিটাও যত নষ্টের গোড়া৷ এমন ইরোটিক যে মুনিরও মতিভ্রম হবে৷ আজকেই অফিস ফেরত রাঙাদাদুকে এটা গছিয়ে আসতে হবে৷

তিন

‘মেয়েটা আমার পায়ের কাছে বসে কাঁদতে শুরু করল৷ পায়ের কাছে বেজী দেখে ঠিকই আন্দাজ করেছিলাম৷ আগেকার দিনে ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের কাছে বেজী ছিল সৌভাগ্যের প্রতীক৷ অনেকেই বেজী পুষত৷ মেয়েটির কাছে ধনী, ব্যবসায়ী পরিবারটির সম্পর্কে জানতে পারলাম৷ এই মেয়েটির সঙ্গে পরিবারের একমাত্র পুত্রের বিয়ের ঠিক হয়েছিল৷ কিন্তু গরিব ঘরের মেয়েটি আদবকায়দা জানত না, তাই বিয়ের আগেই তাকে শ্বশুরালয়ে তোলা হয়েছিল, এক বছর ধরে প্রশিক্ষিত করে কেতাদুরস্ত করে তোলার জন্য৷ সঙ্গে এসেছিল তার প্রিয় সখী৷ রাতের অন্ধকারে অন্যদের চোখ এড়িয়ে মেয়েটি আর তার হবু পতির অভিসার চলত৷ দু’জনেই দুজনের প্রতি কামনায় উন্মুখ হয়ে থাকত৷ প্রিয় সখীর সেটা সহ্য হত না, এমনিতেই সে মেয়েটির সৌভাগ্যে ঈর্ষান্বিত ছিল৷ এক রাত্রে মেয়েটি যখন প্রিয় পুরুষের আলিঙ্গনে সুখ খুঁজে নিচ্ছিল তখনই আড়াল থেকে সখী ধারালো অস্ত্র ছুঁড়ে দেয়৷ মেয়েটির একটি হাত কনুই থেকে কাটা পড়ে৷ পরিকল্পনা সফল৷ খুঁত যুক্ত মেয়ের সঙ্গে বিয়ে বাতিল হয়ে যায়৷ এদিকে সখী ততদিনে নিজেকে তৈরি করে নিয়েছে এই সম্ভ্রান্ত পরিবারের বধূ হবার জন্য৷ দু’জনের বিয়ে হয়ে যায় ধুমধাম করে৷ দাসী রূপে মেয়েটি সেখানেই রয়ে যায়৷ প্রিয় মানুষকে সখীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ মুহূর্তে দেখে আর চোখের জল ফেলে৷’’

এক নিঃশ্বাসে কথাগুলো বলে রাঙাদাদু উঠে যায়৷

জরুরি তলব পেয়ে অনন্য ভেবেছিল, মূর্তিটা নিয়ে অস্বাভাবিক কিছু ফীল করেছে সেসব বলবে হয়ত৷ কিন্তু এ যে একেবারে আষাঢ়ে গল্প! সে স্বপ্নে একটা যৌবনবতী মেয়েকে দেখেছিল ঠিকই, আসলে মেয়েটা মূর্তিটা দেবার পর থেকেই মেয়েটাকে ঘিরে অবচেতনে কিছু ছাপ পড়েছিল হয়ত৷ কিন্তু দাদুকে তো এসব কিছুই সে জানায়নি৷ তাহলে?

রাঙাদাদু মূর্তিটা হাতে করে নিয়ে আসে ভিতরের ঘর থেকে, ‘‘ভালো করে লক্ষ্য কর, দাসী শ্রেণীর যে মেয়েটা রেকাবি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, তার একটা হাত ভাঙা, পরে জুড়ে দেওয়া হয়েছে৷’’ অনন্য চমকে ওঠে৷ সত্যি তো! এটা তো তার চোখে পড়েনি৷ রাঙাদাদু একদৃষ্টে দশ ইঞ্চির মূর্তিটার দিকে তাকিয়ে থাকে৷ অনন্যর ডাকে চোখ মেলে তাকায়, ‘‘এই মূর্তিটা তুই ফেরত নিয়ে যা, কাল যা দেখেছি বা স্বপ্ন দেখেছি সেসব নিয়ে ভয় পাই না৷ কিন্তু....’’

রাঙাদাদুর রান্নার মেয়ে বাসন্তী ট্রে-তে করে দু কাপ কফি আর অমলেট নিয়ে আসে৷ ওকে দেখে রাঙাদাদু কথা থামিয়ে দেয়৷ বাসন্তীকে অনেকদিন থেকে দেখছে অনন্য, শান্ত, ভদ্র মেয়ে৷ আজ ট্রে নামাতে এসে তাকে রাঙা দাদুর দিকে অনাবশ্যক ঝুঁকে পড়তে দেখে অবাক হল৷ টাইট কামিজের উপর ওড়নাও নেয়নি৷ দাদুর দিকে তাকিয়ে চোখ মটকে হাসল যেন৷

বাসন্তী সরে যেতেই রাঙা দাদু অসহায়ের মতো বলে উঠল, ‘‘মূর্তিটা অসম্ভব ইরোটিক, ওই মেয়েটার অতৃপ্ত আত্মা আজও ঘুরে বেড়াচ্ছে৷ ও কামনার আগুনে জ্বলছে৷ যেকোনও মুহূর্তে সর্বনাশ হয়ে যাবে৷ দেখছিল না শান্ত ভদ্র বাসন্তী কেমন বেপরোয়া হয়ে উঠছে? আমাকে বাঁচা অনি৷ এ মূর্তি এখানে থাকলে আমার পদস্খলন ঘটতে পারে৷ তবে নিজের কাছেও রাখিস না৷ গঙ্গায় ফেলে দিস৷’’

রাঙাদাদু একসময় রেগুলার প্ল্যানচেট করত৷ খুব ভালো মিডিয়াম হত৷ রাঙা দাদুর কথাগুলো তাই অনন্য মন দিয়ে শুনল৷ ‘‘কিন্তু দাদু তুমিই তো বলেছিলে এটা প্রাচীন মূর্তি, এর অ্যান্টিকে ভ্যালু মারাত্মক৷ এটা গঙ্গায় ফেলে দেব?’’

‘‘হ্যাঁ তাই দিবি৷ নাহলে সব ছারখার হয়ে যাবে’’৷ দাদুর রাগত মুখের সামনেই অনন্য মূর্তিটা নিয়ে উঠে এসেছিল৷ আজকেই আপদ বিদায় করে আসবে৷ কোনও একটা ঘাটে বসে থাকবে, একটু ফাঁকা হয়ে গেলেই ফেলে দেবে৷ লোকজনের চোখ এড়িয়ে কাজটা করতে হবে, নাহলে ঝামেলায় ফেঁসে যাবে, মূর্তি চোর বলেও দেগে দিতে পারে!

শেষবারের মতো মূর্তিটা হাতে নিয়ে দেখল৷ হাতে নিতেই যেন গরম ছ্যাঁকা লাগল৷ ভালো করে মূর্তির গায়ে হাত বোলাতেই বুঝতে পারল একাকী দাঁড়িয়ে থাকা নারী মূর্তিটার গা অস্বাভাবিক গরম৷ যুগল মূর্তিটা কিন্তু ঠান্ডা৷ অনন্য পড়ন্ত বিকেলের আলোয় ভালো করে মেয়েটিকে দেখল, চোখ দুটো যেন ছলছল করছে, ঠোঁটের কোণে সেই প্রলুব্ধ করা হাসিটাও উধাও৷ যেন আসন্ন বিচ্ছেদ জেনে দুঃখে ম্রিয়মাণ৷ মন খারাপ হয়ে যায় অনন্যর৷ সত্যিই কি মেয়েটা এক জন্ম থেকে আরেক জন্মে মিলনের আকাঙক্ষা বুকে নিয়ে কষ্ট পাচ্ছে? নাকি সবটাই মনের ভুল তাদের? সুস্থ মানুষ বিশ্বাস করবে এই অনুভূতি? এমনকি মূর্তির গায়ে দু’রকম উষ্ণতা? অনন্যর মনটাও ভারাক্রান্ত হল৷

অফিস থেকে ফোনটা আসার পর অনন্যর বাবা-মা জানতে পারল ছেলে দু’দিন ধরে অফিস যাচ্ছে না৷ ফোনেও পাওয়া যাচ্ছে না৷ ‘‘ঐ রাই মেয়েটাই আমার ছেলের সর্বনাশ করল’, অনন্য’র মা ডুকরে কেঁদে ওঠে৷’’ পুলিশে খবর দেওয়ার পর তাঁরা এসে অনন্যর ফ্ল্যাটের তালা ভেঙে ভিতরে ঢুকলেন৷ কোথাও নেই অনন্য৷ ল্যাপটপের ব্যাগ, বাইরে যাওয়ার জুতো, ওয়ালেট, মোবাইল সব ঘরেই পাওয়া গেল৷ শুধু ছেলেটা যেন উবে গেছে৷ অনন্য’র বাবাকে নিয়ে অনন্যর অফিস কলিগ থানায় গেল মিসিং ডায়েরি করতে৷ অনন্যর মা ছেলের জিনিসপত্র বুকে চেপে কাঁদছে৷ রাইও এসেছে খবর পেয়ে, শুকনো মুখে সে সোফার এক কোণে বসে আছে৷ ওর মা, অনন্যর মাকে সামলাচ্ছে, ‘‘দেখবেন দিদি, ছেলে ফিরে আসবে ঠিক’’৷

রাঙাদাদুর কেমন যেন অস্বস্তি হচ্ছিল, তিনি এ-ঘর ও-ঘর ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন৷ মাস্টার বেডরুমটা দেখে তিনি অন্য বেডরুমটার দিকে এগিয়ে গেলেন৷ নিচু একটা টেবিলের দিকে চোখ পড়তেই চমকে উঠলেন, সেই মূর্তিটা! তার মানে অনন্য সেদিন কথা রাখেনি তাঁর৷ মূর্তিটার মধ্যে একটা অসঙ্গতি টের পেলেন৷ ভালো করে দেখতেই বুঝতে পারলেন সেই একাকী নারী মূর্তিটা মিসিং! এ কী করে সম্ভব? অনন্য কি তাহলে ঐ মূর্তিটাকে আলাদা করে খুলে ফেলে দিয়ে এসেছে? এসব ভাবতে ভাবতেই টেবিলের তলায় ঠোক্কর খেলেন৷ নিচু হয়ে দেখতেই আরেকটা মূর্তি চোখে পড়ল, এটার কথা তো অনি তাকে বলেনি!

অবাক হবার এখনও বাকি ছিল৷ মূর্তিটা হাতে নিতেই চমকে উঠলেন৷ মৈথুন রত নারী-পুরুষ৷ নারীটি, পুরুষের উপর উপগত৷ নারীর মুখে পৈশাচিক হাসি, পুরুষটি যেন যন্ত্রণায় ছটফট করছে৷ কেঁপে উঠলেন বৃদ্ধ মানুষটি৷ চোখে পড়ল নারী মূর্তির ভাঙা হাত জোড়ার চিহ্ন৷ তার হাত যেন পুড়ে যাচ্ছে৷ তিনি বুঝতে পারলেন অনন্য আর কোনোদিন ফিরবে না৷ মূর্তিটি নামিয়ে রেখে ধীরে ধীরে তিনি বেরিয়ে গেলেন৷

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%