সুন্দরবনে লবণপ্রাণ

গৌতমকুমার দাস

সুন্দরবনে গবেষণাধর্মী কাজের যে কোন ভিত্তি অবশ্যই ক্ষেত্র সমীক্ষা ও তার বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ৷ অতএব সুন্দরবনে গবেষকদের নিয়মিত আসতেই হয়৷ তখন প্রাণভরে সুন্দরবন দেখা যায়৷ সুন্দরীতে সুন্দর এই চিরহরিৎ সুন্দরবন৷ লবণাম্বু গাছেরা কালচে সবুজরঙা৷ নদীভর্তি নোনাজল৷ জোয়ার এলে নদীজল ফেঁপে ওঠে৷ আমাদের লঞ্চের নাম আর.ভি.সাগরপুত্র৷ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের এই লঞ্চ ঠিক যেন একটা রাজহাঁস৷ ঝকঝকে সাদা, বিদেশী ইঞ্জিন৷ চলার সময় প্রায় শব্দ হতে শুনি না৷ গবেষণা ও ক্ষেত্র সমীক্ষার কাজ চললে সাগরপুত্র নোঙর করা থাকে৷ আরো একটা মোটর বসানো ছোট ডিঙি নৌকো আছে৷ ওটা করে আমরা দ্বীপে দ্বীপে ঘুরি৷ ছোটো নৌকোটার নাম আমরা দিয়েছি—সাগর নাতি৷ আর. ভি. সাগরপুত্রের সন্তানসম কিনা, তাই৷

সন্ধ্যেয় লঞ্চের খোলে বসে আমাদের সারাদিনের কাজের মূল্যায়ণ হয়৷ সান্ধ্যকালীন এই সভার মধ্যমণি অধ্যাপক অমলেশ চৌধুরী৷ সুন্দরবন তাঁর হাতের তালুর মতো চেনা৷ সুন্দরবনের যে কোন তথ্য পরিসংখ্যাণ তাঁর করায়ত্ত৷ জল মাটি গাছগাছালি সামুদ্রিক প্রাণীর যেকোন উপাত্ত যখন খুশী তাঁর থেকে জেনে নিই৷ সুন্দরবন নিয়ে বলা শুরু করলে আমরা উদাস হয়ে শুনি৷ তেলমাখা মুড়ি সহ চা-চক্রে অধ্যাপক অমলেশ চৌধুরী আমার পলল প্রাণ সংক্রান্ত জিজ্ঞাসার পিপাসা তাঁর অগাধ অভিজ্ঞতা থেকে মেটাতে শুরু করেন আর আমরা শুনতেই থাকি—প্রকৃতিদেবীর নিপুণ হাতে সজ্জিত অপূর্ব সুন্দরবন গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্রের ও ছোটনাগপুর মালভূমি থেকে আসা নদীগুলোর বাহিত পলির অবক্ষেপণের ফসল৷ দীর্ঘ সাত হাজার বছরের (আনুমানিক) নদীবাহিত পলি সঞ্চিত হয়ে গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্রের মোহানায় সৃষ্ট সুন্দরবনের মোট আয়তন ২৫,৫০০ বর্গ কিলোমিটার৷

‘সুন্দরী’র নামে সুন্দরবন৷ সুন্দরী সব দিক দিয়ে সুন্দর এক বৃক্ষ৷ লবনাম্বু অভিযোজন সমৃদ্ধ সুন্দরীর মতো অসংখ্য বৃক্ষরাজিই সুন্দরবনের মূল সম্পদ৷ প্রায় ৬৪টি ম্যানগ্রোভস্ এবং তার সহবাসী প্রজাতি সুন্দরবনের উদ্ভিদকুলের সদস্য৷ শুধুমাত্র কাঠ জোগান দিয়ে নয়—মধু উৎপাদন, বাঘের বিচরণ কিংবা মাছের প্রজনন— সর্বক্ষেত্রে ম্যানগ্রোভস্ এর ভূমিকা অবশ্যম্ভাবী৷ জোয়ারের জলে দিনে দু’বার করে প্লাবিত হয় বাইন, গরান, কেওড়া৷

সুন্দরবন এগোচ্ছে৷ সমুদ্রের দিকে৷ নদীগুলি বঙ্গোপসাগরে যেখানে মিলিত হয়েছে, সেই মোহানায় তৈরী হচ্ছে চর৷ চর ডুবে যায় জোয়ারে৷ ভাটির টানে জল সরে গেলে, চর আবার দেখা যায়৷ যখন ভরা কোটালের জোয়ারের জলের সম্পূর্ণ বিস্তারে ডুবে যায় না, তখন চর হয়ে যায় দ্বীপ৷ ধানী ঘাস প্রথমে জন্ম নেয়৷ তারপরে আসে কেওড়া৷ এরপরেই ধানী ঘাসের মাঝে মাঝে বাইন গাছের কিশলয় উঁকি মারে৷ মাঝে দু-চার বছর৷ তারপরই ঘন সবুজ হরেক প্রজাতির লবনাম্বু উদ্ভিদের আর একটা দ্বীপ সংযোজিত হয় সুন্দরবনে৷ এইভাবে সুন্দরবনের দ্বীপ সংখ্যায় বাড়ছে এবং দ্বীপগুলি মোহানায় স্থান করে নিতে নিতে বঙ্গোপসাগর সঙ্গমে নদীগুলির মুখ ক্রমে সংকীর্ণ হয়ে আসছে৷ নদীগুলির মোহানায় দ্বীপগুলি সাগরের দিকে এগোনোর এক অন্যতম প্রধান কারণ হল যে জোয়ারের সময়কার স্রোতের গতিবেগ থাকে সেকেণ্ডে ৪৮ সেমি, সেখানে ভাটার সময় গতিবেগ দাঁড়ায় সেকেণ্ডে ৫৮ সেমি৷ তাই ভাটির টানে নদীর মোহানায় তৈরী হচ্ছে চর ও ক্রমশ তা পরিণত হচ্ছে দ্বীপে৷

সুন্দরবনে লবনাম্বু উদ্ভিদ চরগুলিকে প্রাথমিক স্থায়িত্ব দেয়৷ কারণ দিনে দু’বার করে চর সম্পূর্ণ প্লাবিত হয়ে গেলেও চরের ওপরে জন্ম নেওয়া ধানী ঘাস মরে যায় না বরং আরো ঘন সবুজ হয়ে বেড়ে ওঠে৷ ধানীঘাসের মাঝে মাঝে বাইন এর চারাগাছ জন্মায়৷ তারপরে দেখা যায় কেওড়া গাছ৷ ক্রমশ একটি চর গাঢ় সবুজের আবরণে ঢাকা পড়ে৷ অথচ জোয়ারে জলে প্লাবিত হলে ঐ চরের অস্তিত্ব বোঝা যায় না৷ যেহেতু সুন্দরবনের ছোটবড় মোট ৩১টি নদী আজ গঙ্গার থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন, তাই মিষ্টিজল আজ আর সুন্দরবনের নদীগুলি পায় না৷ নদীগুলি তাদের উর্ধ্বগতিতে (upstream) নাব্যতা হারিয়েছে৷ উর্ধ্বগতিতে এককালে নদীগুলির পারস্পরিক সংযোগ ছিল, তাও বিচ্ছিন্ন৷ ক্রমে পলি জমে জমে নদী স্রোত হারিয়েছে৷ প্রায় স্রোতহীন নদীগুলিতে মানুষ তার স্বার্থে তৈরী করেছে মাছ চাষের ভেড়ী৷ নদীগুলির গতি হয়েছে রুদ্ধ৷ ফলে যে নোনাজল বঙ্গোপসাগর থেকে ঢুকত, তাও আর প্রবেশ করতে পারে না৷ লবণাম্বু উদ্ভিদের বীজ বয়ে নিয়ে আসার কোন সহজ মাধ্যম নেই৷ প্রকৃতির কোলে নিজস্ব খেয়ালে বেড়ে ওঠা ম্যানগ্রোভস্ তাই আর এই সব এলাকায় জন্মায় না, যার কাঠ ফল পাতা ছিল সুন্দরবনবাসীর সহজলভ্য জ্বালানি কিংবা গৃহ নির্মাণের উপকরণ৷ ঠিক এভাবেই বিদ্যাধরী নদী হারিয়ে গেছে৷

মিষ্টি জলের সরবরাহ এখনো ম্যানগ্রোভস্ বাঁচাতে পারে৷ কিন্তু বৃষ্টির জল ছাড়া আর মিষ্টি জলের অন্য কোন উৎস নেই৷ হুগলী আজ নিজেই রুগ্ন নদী, তার নাব্যতা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে৷ ফলে ম্যানগ্রোভস্কে এখন কার্যত নোনাজলের আবহাওয়ায় বেঁচে থাকতে হচ্ছে৷ এর জন্যে কালের সঙ্গে তাল মিলিয়ে হয়তো অভিযোজন ঘটবে৷

সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্র সর্বদা গতিশীল৷ দুকূল ছাপিয়ে জোয়ারের জল দিনে দু’বার করে লবণাম্বু উদ্ভিদকে ধৌত করে৷ ফলে এই অঞ্চলের ভূমি-তত্ত্ব পরিবর্তনশীল৷ ভূ-ক্ষয় নদীর স্রোতের বিভিন্ন প্রবাহের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত৷ এই ভূমি-ক্ষয় কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণ করে চাপাল গরান বাইন এর দল৷ সুন্দরী গাছের অধিমূল, বাইন এর শ্বাসমূল এমনভাবে মৃত্তিকার উপরিস্তরে বিন্যস্ত যে জোয়ার কিংবা ভাটির টানে জলের বয়ে আনা পলি ঐ সমস্ত মূলে আটকে যায়৷ ফলে পলি সঞ্চয় হয় অর্থাৎ নদীচরে অবক্ষেপণ দেখা হয৷ নরম পলিস্তরে আল, গরান, বাইন জন্মায় বলে এই সকল উদ্ভিদ মূলগুলিকে মৃত্তিকার অভ্যন্তরে জালিকাকারে বিন্যস্ত করে এবং ভূমি-ক্ষয় রোধ করে৷

দ্বীপভূমির সুন্দরবনে লবণাম্বু উদ্ভিদের বিভিন্ন প্রজাতি বিন্যাস বিভিন্ন৷ নদীর উচ্চগতি, মধ্যগতি ও মোহানায় বিভিন্ন লবণাম্বু উদ্ভিদের বিন্যাস এর বৈচিত্র্য লক্ষ্য করা যায়৷ নদীগুলির উচ্চগতিতে নদীবাঁধের দিকে হেঁতাল, নদীচরে বাইন দেখা যায়৷ নদীর মধ্যগতিতে ক্রম পর্যায়ে হেঁতাল, গরান, তরা, ধুঁধুল, চাপাল, আল এবং সবশেষে নদীর জলের কাছাকাছি বাইন লক্ষ্য করা যায়৷ মোহানার কাছে হেঁতাল ও বাইন পাওয়া যায়৷ তবে সবক্ষেত্রেই নদীবাঁধের বাইরে ও ভেতরে গেঁওয়া গাছ এর উপস্থিতি প্রচুর৷ নতুন সৃষ্ট দ্বীপগুলির চরে উদ্ভিজ্জ উপস্থিতির প্রাথমিক বাহক কেওড়া গাছ৷ প্রথমেই কেওড়া উদ্ভিদবিহীন চরে ঘাঁটি গাড়ে, তারপরে ধানীঘাস এবং সবশেষে বাইন এর বীজ ভেসে এসে ধানীঘাসে আটকায়৷ ক্রমশ বাইনের ঘন জঙ্গল তৈরী হয়৷ কেওড়া হল নদীচরে বন তৈরীর পথ প্রদর্শক কিন্তু কখনো ঘন জঙ্গল তৈরী করে না৷ ইতস্তত বিক্ষিপ্ত আকারে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে৷ সুন্দরবনের জঙ্গলে সব চেয়ে বেশী পাওয়া যায় বাইন৷ সুন্দরী, গরান, আর তরা ব্যতিরেকে সুন্দরবন জঙ্গলে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের কাঠ খুব উন্নত মানের নয়৷ গরান, হেঁতাল, তরা কেবল খড়ের চাল গৃহনির্মাণের উপকরণ হিসাবে ব্যবহৃত হতে পারে৷ এছাড়া জঙ্গলের কাঠ জ্বালানি হিসাবে ব্যবহৃত হয়৷ এই কাঠ জ্বালানি হিসাবেও খুব উন্নত মানের নয়৷ কারণ দহনে ধোঁয়া হয়৷ বিরিয়ানি তৈরীর সময় গরান কাঠের ব্যবহার লক্ষ্য করা যেত কলকাতার বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে৷ কিন্তু গরান কাটা নিষিদ্ধ হয়েছে গত বিশ বছর৷

অমলেশবাবু বলছেন, আমার হাঁ করে শুনছি৷ বৈঠকি মেজাজে এত সুন্দর করে তাঁর বলার ভঙ্গি আমাদের বিস্মিত করে৷ এবার তিনি থেমে গিয়ে অধ্যাপক অশোককুমার ভট্টাচার্যকে বলেন— অশোক, সুন্দরবনের বয়স নির্ণয় সংক্রান্ত বিষয়ে তুমি বেশ কিছু কাজকর্ম করেছ৷ পলন অবক্ষেপনে দ্বীপের বয়স নির্ণয়ের ব্যাপার স্যাপার এদের বোঝাওতো৷ এবার অশোকবাবু শুরু করেন—প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদান হিসাবে লবণাম্বু উদ্ভিদের প্রাচীন উপস্থিতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ৷ বিশেষ করে সুন্দরী গাছের গুঁড়ির পিট-এ রূপান্তরিত অবস্থায় নমুনা সংগৃহীত হয়েছে৷ এই পিট এর C14 রেডিওকার্বন ডেটিং করে জানা যায় ঐ গাছের অস্তিত্বের সময়কাল৷ এভাবে লবণাম্বু উদ্ভিদের পিট শিয়ালদহ স্টেশন নির্মাণ এবং টালিগঞ্জে মেট্রো রেল তৈরীর সময়ে খোঁড়াখুঁড়ি করতে গিয়ে পাওয়া গিয়েছে৷ এছাড়াও লবণাম্বু উদ্ভিদের পুষ্পমঞ্জরী থেকে ছড়িয়ে পড়া রেণুও থাকে পিট-এর সঙ্গে৷ ঐ রেণু থেকেও অবক্ষেপণের সময়কাল নির্ধারণ করা হয়৷ গঙ্গাসাগর থেকে পাওয়া ম্যানগ্রোভস্ পিট এর C14 রেডিও কার্বন ডেটিং করে দেখা গেছে সাগরদ্বীপের অনুমানিক বয়স দশ হাজার বছরের মধ্যে৷

অধ্যাপক অশোককুমার ভট্টাচার্য বলতে থাকেন— গঙ্গার বয়ে আনা পলি সাগরের জোয়ারে আসা নোনা জলের প্লাবনে লবণ মাটিতে পরিণত হয়েছে৷ সুন্দরবনের সব কটি নদীর পাড় বা প্লাবনভূমি, সবই নোনা মাটি৷ তবে নদীবাঁধ ঘেরা দ্বীপের মাঝে বৃষ্টির জল ও চাষবাসের ফলে মাটির চরিত্র বদলেছে৷ মোটামুটি চার ধরণের মাটির শ্রেণী বিন্যাস সুন্দরবনে দেখানো হয়েছে— (ক) নোনামাটি (Saline soil) কুলতলি এলাকায় দেখা যায়; (খ) ক্ষার-যুক্ত নোনা মাটি (Saline-alkaline soil) নামখানা, কাকদ্বীপ, পাথরপ্রতিমা, গোসাবা, বাসন্তী ব্লকে পাওয়া যায়; (গ) ক্ষার-যুক্ত নোনাবিহীন মাটি (Non-saline Alkali soil) ভাঙড় ব্লকে এমন প্রকৃতির মাটি হয়ে থাকে; (ঘ) উৎকর্ষতা হ্রাসপ্রাপ্ত ক্ষারীয় মাটি (Degraded-Alkali soil) ক্যানিং এলাকার মাটি৷ সুন্দরবনে প্রায় সব শ্রেণীর মাটির উৎস মাইকা, ডলোমাইট ও ম্যাগনেসিয়াম খনিজ পদার্থ৷ এই মাটির পলি বালি কাদায় ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম অন্যতম প্রধান উপাদান৷

মাটির লবণতা ২ থেকে ১৭ মিলিমোস/সেমি এবং পি. এইচ. ৬ থেকে ৮ এর মধ্যে হয়ে থাকে৷ এই নোনামাটিতেই বসবাস অসংখ্য ঈষৎ লবণাক্ত জলে অভিযোজিত প্রাণীর৷ বিভিন্ন প্রাণীর দৈহিক ও শারীরবৃত্তীয় বিভিন্নতায় সুন্দরবনের প্রাণীরাজ্য বৈচিত্র্যময়৷ ভাবতে অবাক লাগে, সুন্দরবন কত ভিন্ন ভিন্ন শ্রেণীর প্রাণীর প্রাকৃতিক আবাসস্থল৷

একনালীদেহী লন্ঠন

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান অমলেশবাবুর থেকে সুন্দরবনের বিষয়ে তত্ত্ব ও তথ্য আমরা পেয়েই থাকি৷ তার সঙ্গে সারাদিনে ঘুরে ফিরে পাওয়া যত্ন করে রাখা নমুনাগুলো নিয়ে অমলেশবাবুর নৈশক্লাস বেশ চলে৷ কোনো প্রাণী নোনা জলে, কোনোটা বা নোনা মাটির নরম পাঁকে রাখতে হয়৷ বড় সাদা ট্রে, কাচের বীকার এসবে প্রাণীগুলোকে জীবিত অবস্থায় রেখে আমরা অধ্যাপক অমলেশ চৌধুরীর কাছে হাজির করি৷ নমুনাগুলি যেন আমাদের কাছ পরশ পাথরের মতো৷ যেমন কাচের বীকারে একটি নোনা ভাসমান একটা প্রাণী দিতে অমলেশবাবুর মুখে হাসি ফোটে৷ লন্ঠন আকৃতির প্রাণীটির দেহে আলোর স্পন্দন অনবরত ঘুরপাক খেতেই থাকে৷ অমলেশবাবু বললেন, এটা প্লুরোব্যাকিয়াম (Pleurobrachiam sp.)৷ টিনোফোরা পর্বের একটি অমেরুদণ্ডী প্রাণী৷ বায়োলুমিনিসেন্সের কারণে এর দেহে এই আলোকরেখার সৃষ্টি হচ্ছে৷ আসলে এ.টি.পি.সিন্থেসিসের ফলে যে তাপশক্তি নির্গত হয়, সেই তাপ থেকে এই আলোর প্রক্ষেপণ৷ কাচের বীকারে লন্ঠনের মতো দেখতে অত্যাশ্চর্য প্রাণীটির বাসভূমি এই সুন্দরবন ভেবে ভালো লাগে৷

সমুদ্রশশা

লঞ্চের পাটাতন থেকে ভৃগু সিং খাপলা জাল ফেলছিল৷ উদ্দেশ্য, দুপুরের খাবারের জন্য মাছ জোগাড়৷ লঞ্চ দাঁড়িয়ে ছিল লুথিয়ান দ্বীপের গা ঘেঁষে৷ জল থেকে জাল তুলতে কয়েকটি পার্সে মাছ সহ দুমুখ ভোঁতা একটা লম্বাটে প্রাণীর দেখা মেলে৷ অবিকল শশার মতো দেখতে এই প্রাণীটিকে দেখে আমরা হইচই করতে অমলেশবাবু লঞ্চের খোল থেকে বেরিয়ে আসেন ও প্রাণীটিকে হাতে নিয়ে বলেন— এটা সমুদ্র শশা৷ সি কিকিউম্বার, হলোথুরয়েড৷ কন্টকত্বক পর্বের এক অমেরুদন্ডী প্রাণী৷ সমুদ্র শশার গা-ভর্তি কাঁটার মতো রোম৷ ধূসর গায়ে পাঁচটি সবুজ দাগ৷ নরম অবক্ষেপিত পলির মধ্যে সমুদ্র শশার বাস৷ কর্কর খাদ্য শৃঙ্খলের অন্যতম খাদক এই সমুদ্র শশার বিয়োজিত খাদ্য উপাদানে পেট ভরে৷

সাগর লেখনী

লঞ্চ থেকে নেমে লুথিয়ান দ্বীপের পথে চলেছি৷ এক হাঁটু নরম কাদায় হাঁটা যাচ্ছে না৷ ষাটোর্দ্ধ অমলেশ চৌধুরী বেশ নির্বিঘ্নেই এগোচ্ছেন৷ আসলে সুন্দরবনে চলাফেরায় গায়ের জোর চলে না, কৌশল জানা চাই৷ চলতে চলতে কাদার মধ্যে পলির স্তরে কাঁটার মতো দেখতে কি সব মাটি ফুঁড়ে বেরিয়ে থাকতে দেখা যায়৷ গাছগাছালি পচাপাতার অংশবিশেষ ভেবে এড়িয়ে গেলেও, পরে অমন একটি কাঁটার মতো অংশ টান মেরে তুলে নিই৷ আমার দেখাদেখি বিল্টু, শমী, তাতান, অনির্বাণরাও নরম কাদায় হাত চালিয়ে এক একটা করে তোলে৷ নদীর জলে ধুতে ঐ কাঠি কাঠি চেহারার প্রাণীটিকে কালিদাসের কালের পালক— কলমের মতো মনে হয় ৷ অগত্যা স্যারকে দেখাই৷ অমলেশবাবু দেখে বলেন, আরে এ তো এক নতুন ধরণের সাগর লেখনী দেখছি৷ নিডেরিয়া পর্বের অমেরুদণ্ডী প্রাণী এই সি-পেন৷ এসব বলে অমলেশবাবু আমাকে আদেশ দেন— আরো দু চারটি তুলে নিয়ে 4% ফরম্যালিন দ্রবণে সংরক্ষণ করে জুওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ায় সনাক্ত করতে দিয়ে আসবে৷ স্যারের আদেশ মেনে জেড. এস. আই তে নিডেরিয়া বিভাগে সনাক্ত করানোর পর ঐ সি-পেন প্রজাতির নাম জেনেছিলাম Virgularia sp.৷ ওদের থেকে জেনেছিলাম এমন সাগর লেখনী কেবল এই সুন্দরবনে পাওয়া যায়৷

সাগর কুসুম

অগভীর ঈষৎ জলে নোনা নদীর প্রান্তিক বা মধ্যবর্তী চরে অথবা বালুচরে খানিকটা সূর্যমুখী ফুলের মতো দেখতে এক শ্রেণীর প্রাণীর নাম— সাগর কুসুম৷ ফুলের পাপড়ির মতো অংশ আসলে এদের দেহাঙ্গ কর্ষিকায় নিমাটোসিস্ট অঙ্গানুর মধ্যে থাকা নিডোব্লাস্ট নামের দংশক কোষ তখন ছুঁড়ে দেয়৷ হাত অসম্ভব জ্বালা করে৷ নিডোব্লাস্ট কোষ থাকার কারণে সাগর কুসুম অমেরুদণ্ডী নিডেরিয়া পর্বের অন্তর্ভুক্ত৷ সাগরকুসুম নড়াচড়ায় অক্ষম৷ এরা স্থানু প্রাণী, যেখানে জন্মায়, বড় হয়, সেখানেই মৃত্যু হয়৷ কর্ষিকার তলায় হাত দিয়ে সাগর কুসুম তুলতে গেলে কাদা মাটি বা বালির গভীরে ওরা চলে যায়৷ এদের প্রান্তদেশ অর্বুদ আকারের ছোটখাটো ছড়ানো সাদা পেঁয়াজের মতো খানিকটা দেখতে৷ জোয়ারের জলে এরা কর্ষিকা মেলে ধরে খাবার জোগাড় করে থাকে৷ ছোটখাটো মাছ জলজ জীব নিডোব্লাস্টের প্রয়োগে ঘায়েল করে খাবার হিসাবে খায়৷ একনালীদেহী সুন্দরবনের এই সাগর কুসুমের নাম— Pelocoetes exul. ভাটির টানে জল সরে গেলে দেহ সংকুচিত করে এরা মাটির গভীরে আত্মগোপন করে থাকে৷

রাজ কাঁকড়া

নদীনালায় ক্ষেত্রসমীক্ষায় কখন যে কি কাণ্ড ঘটে, তা সাত কাণ্ড সুন্দরবনকে হার মানায়৷ গবেষণার কাজে সাগরদ্বীপের হরিণবাড়ির কাদার চরে সেবার ঘুরে বেড়াচ্ছি৷ সঙ্গে অধ্যাপক অমলেশ চৌধুরী৷ তিনি না থাকলে আমাদের শেখাবেনটাই বা কে৷ একযোগে দল বেঁধে কাদার চরে হাঁটছি৷ সামনে চলার পথে দেখি, এক রাজ কাঁকড়া৷ পাশের মাটি কিছুটা সরাতে দেখি, তার তলায় আরো একটা৷ তলার রাজ কাঁকড়াটি অবশ্য আকারে বড়৷ রাজ কাঁকড়ার টেলসন ধরে টানাটানি করার কাণ্ডকারখানা দেখে অমলেশবাবু সরাসরি বলে দেন, ওদের বিরক্ত কোরো না৷ এটা ওদের প্রজননকাল৷ প্রায় ২০০ মিলিয়ন বছরের পূর্বে আবির্ভূত রাজ কাঁকড়াকে প্রাণী বিজ্ঞানীরা জীবন্ত জীবাশ্ম বলে৷ অঙ্গুরীমাল ও সন্ধিপদী প্রাণীদের উভয় বৈশিষ্ট্য থাকায় এরা মিসিং লিংক নামেও পরিচিত৷ লবণাম্বু উদ্ভিদের বাস্তুতন্ত্রে কাদামাটির বাসস্থানে সন্ধিপদী পর্বের মেরোস্টোমাটা শ্রেণীর এই রাজ কাঁকড়া অনন্য এক প্রজাতি, যার নাম— Carcinoscorpius rotundicauda. কাঁকড়াদের জগতে আকারে বড়, সঙ্গে আবার একটি লেজ, তাই লোকে একে বলে রাজ কাঁকড়া (King Crab)৷

উকা কাঁকড়া

নদীপাড়ে কিছুটা শক্তপোক্ত কাদামাটি অঞ্চলে শরীরের থেকে দাঁড়া বড়ো লাল কাঁকড়ার নাম উকা (Uca acuta acuta)৷ সুন্দরবনের সর্বত্রই এদের দেখা মেলে৷ হলদের উপর কালো ছোপের রঙেও দেখা যায়৷ এরা দক্ষিণপন্থী৷ ডান দাঁড়াটা বেশ বড়ো৷ আর বাঁ দাঁড়াটা লুপ্তপ্রায় হলেও অস্তিত্ব আছে৷ চোখদুটো খাড়া এবং লম্বা৷ কোটরের বাইরের থেকে কাঠির মতো বেরিয়ে থাকে চোখ৷ চোখ দুটো পেরিস্কোপের কাজ করে থাকে৷ এক জায়গায় দাঁড়িয়ে পেছনের আটটা দাঁড়ায় খাড়া উকা-র পেরিস্কোপের মতো চোখ চারদিকটা দেখে নেয়৷ সামনে কাউকে দেখলেই গর্তে ঢুকে পড়ে৷ বিয়োজিত জৈব পদার্থ এদের খাবার৷ কর্কর খাদ্য শৃঙ্খলের অন্যতম খাদক এই উকা কাঁকড়া৷ সন্ধিপদী পর্বের ক্রাস্টেশিয়া শ্রেণীভুক্ত অমেরুদণ্ডী প্রাণীদের এক সদস্য—উকা৷

ম্যাকোমা ঝিনুক

সাগরদ্বীপের হরিণবাড়ি কাদামাটির নোনাচরে কোনো ঢাল নেই৷ মাঝেমধ্যে এক আধটা বাইন গাছ৷ গোটা চর জুড়ে ধানীঘাস৷ অল্প নীচু জমিতে জমা জলের জায়গায় কমলা রঙের সরু সরু পাইপের ছড়াছড়ি৷ স্ট্র-এর মতো পাইপগুলো নড়ে চড়ে, যদিও অতি ধীরে৷ কখনো ওগুলো এগোয়, কখনোবা পিছোয়৷ অমলেশবাবু ঋষিদাকে কোদাল দিয়ে ঐ জায়গায় খুঁড়তে বলেন৷ ঋষিদা সাগরদ্বীপের ভূমিপুত্র, অমলেশবাবুর ফিল্ড-অ্যাসিস্ট্যান্ট৷ কোদাল দিয়ে ফুট খানিক খোঁড়ার পর সাদা সাদা বেশ কয়েকটা ঝিনুক নজরে আসে৷ নোনা জল ভরা সাদা ট্রে-তে ঝিনুকগুলো রাখার পর কিছুক্ষণ পরে ওরা কমলা রঙের শুঁড়গুলো বার করতে শুরু করে৷ শুঁড়গুলো ট্রে এর মধ্যে ঘোরাফেরা আরম্ভ করে দেয়৷ অমলেশবাবু বলেন, ঝিনুকের কমলা রঙের শুঁড়গুলি আসলে সাইফন৷ শ্বাসকার্যে সহায়তা করে থাকে যেমন, তেমনি খাবার সংগ্রহে সাহায্য করে৷ এই ঝিনুকগুলো প্রকৃতিতে ফিল্টার-ফিডার৷ কম্বোজ পর্বের বাইভালভিয়া শ্রেণীর এই ঝিনুকগুলোর বিজ্ঞান সম্মত নাম— Macoma birmanica.

ডাকুর মাছ

সুন্দরবনের যেকোন নদীনালা খাঁড়ির পাড়ে দাঁড়ালে লম্ফঝম্ফ দেওয়া ডাকুর মাছ চোখে পড়বেই পড়বে৷ বড্ড চঞ্চল এই ডাকুর মাছ৷ কাদা মাটিতে জলের কিনারায় লাফিয়ে দাপিয়ে বেড়ানো মাছগুলোকে মাড-স্কিপার বলা হয়৷ মাছ হলে কি হবে, বাতাস থেকে অক্সিজেন নিয়ে শ্বাসকার্য চালায়৷ এদের অদ্ভুত এক বায়োলজিক্যাল ক্লক আছে৷ ভাটার সময় খায় দায়৷ ভাটির টানে জল সরে গেলে তবে কাদামাটির উপরের স্তরে বিয়োজিত পদার্থের আস্তরণের দেখা মেলে৷ তখন কর্কর ভঙ্গক খাবার উপাদান উদরস্থ করে থাকে৷ গোবিড (gobiidea) গোত্রের এই মাছগুলোর বিজ্ঞানসম্মত নাম— Boleophthalmus boddaerti. লাফানোর জন্য মাড স্কিপারের বক্ষপাখনা ও পাখনা রশ্মি বেশ শক্ত৷ সুন্দরবনের মানুষ এদের ঝাল ঝোল করে খায়৷

অধ্যাপক অমলেশ চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে একাধিক এমন লবণপ্রাণ-এর সঙ্গে আমাদের পরিচয় হয়েছে৷ লবণপ্রাণ অধ্যুষিত এই সুন্দরবন নিয়ে তাঁর চিন্তাভাবনার অন্ত নেই৷ সহনশীল এই লবণাম্বু বাস্তুতন্ত্রের অতীতে ঘটে যাওয়া প্রাকৃতিক বিপর্যয় যেমন সেই তালিকায় থাকে, তেমনই লবণবন তৈরীর সরকারি পদক্ষেপের কথাও তিনি শোনান৷

অষ্টাদশ, ঊনবিংশ এবং বিংশ শতাব্দীতে প্রাণীরাজ্যের বৈচিত্র্যময় এই সুন্দরবনের অনেকবার বড় রকমের নিম্নচাপ এবং সাইক্লোন হয়েছে৷ বঙ্গোপসাগর থেকে উদ্ভূত জলস্ফীতি কোন কোন বারে ৮ মিটার ছাড়িয়ে গেছে৷ কিন্তু কোলকাতা সহ পাশ্ববর্তী এলাকা প্লাবন সহ বড়সড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে৷ তার মূল কারণ কিন্তু সুন্দরবনের অসংখ্য গরান, হেঁতাল, বাইন, গেঁওয়া, চাপাল এর প্রাচুর্য্য৷ এই লবণাম্বু উদ্ভিদগুলি এতটাই মূল, পাতা, শাখা প্রশাখায় ঝোপের মত আকৃতি ধারণ করে থাকে যে ঝড় কিংবা জলস্ফীতি মূল ভূখণ্ড পর্যন্ত ধাওয়া করার আগে সামলে দেয়৷ তাই যে ৫৪টি দ্বীপে এখন মনুষ্য বসতি তাতে বন্যা সামলানোর পাকাপাকি ব্যবস্থা না থাকা সত্ত্বেও সুন্দরবনবাসীদের অন্তত ভারতবর্ষের অন্যান্য জায়গার মতো বন্যা কিংবা ঝড়ের প্রকোপে ভয়াবহ ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয় না৷ তৎসহ কোলকাতার মতো মেগাসিটিকে পরোক্ষভবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে বাঁচায়৷

১৯৮৪ সালে সুন্দরবনকে অভয়ারণ্য হিসাবে চিহ্নিত করার পর থেকে লবণাম্বু উদ্ভিদের প্রাচুর্য্য বাড়াতে এবং আরো ঘন জঙ্গল তৈরি করতে সুন্দরবন উন্নয়ন পর্ষদ সহ সুন্দরবন জীব পরিমন্ডল স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতের মাধ্যমে বীজ ছড়ানোর কাজ চালাচ্ছে৷ ১৯৯১-৯২ সালে হেলিকপ্টারের সাহায্য নিয়ে সুন্দরবন অঞ্চলে বিভিন্ন দ্বীপ এবং নদীতটে বীজ ছড়ানোর কাজ হয়েছিল৷ মাঝে ম্যানগ্রোভস্ সুন্দরবনের জঙ্গল থেকে অবিশ্বাস্যভাবে হ্রাস পেয়েছিল৷ কিন্তু সরকারি ভূমিকায় এবং পঞ্চায়েতের তৎপরতায় বর্তমানে লবণাম্বু উদ্ভিদের সংখ্যাধিক্য ঘটেছে৷ আশার কথা৷

সুন্দরবনে বাঘ সাপ কামট কুমীর সহ প্রাকৃতিক সম্পদ অনেক কিন্তু ম্যানগ্রোভস্ সুন্দরবনের পরিচিতির অন্যতম প্রধান উপাদান৷ ম্যানগ্রোভস্-এর জঙ্গল পরোক্ষভাবে মেগাসিটি কোলকাতাকে বাঁচায় বড়সড় নিম্নচাপ কিংবা সাইক্লোনের প্রকোপ থেকে৷ সুন্দরবনের দ্বীপের স্থায়িত্ব থেকে শুরু করে সদ্য পলি জমা চরকে দ্বীপের পর্যায়ে উন্নীত করে থাকে এই গরান কেওড়া গেঁওয়ার দল৷ যে সমস্ত দ্বীপে কৃষিজমি কিংবা মনুষ্যজাতি পর্যন্ত নেই, সেই সকল দ্বীপের পরিধিতে দাঁড়িয়ে থাকা সারিবদ্ধ ম্যানগ্রোভস্ বাউন্ডারি বাঁধের সমতুল্য কাজ করে দ্বীপকে ভূমি-ক্ষয় রোধ থেকে রক্ষা করে৷ সর্বোপরি ম্যানগ্রোভস্ প্রকৃতির আপন খেয়ালে জন্মায়, বড় হয়, মানুষের কাজে আসে কিন্তু বেড়ে ওঠার লক্ষ্যে তাদের কোন পরিচর্যার প্রয়োজন হয় না৷ বিশ্ব ঐতিহ্য হিসাবে ঘোষিত সুন্দরবনের গরান বাইন হেঁতাল সুন্দরীরা তাদের বাস্তুভূমিতে স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকতে পারে তার জন্য সবরকমের চেষ্টা সুন্দরবনবাসীদের আশু কর্তব্য৷ তাহলেই দু’পক্ষের অস্তিত্ব সম্ভব৷ সুন্দরবনে প্রাণীরাজ্য ধ্বংস হলে বাস্তুতন্ত্র ভেঙে পড়বে৷ ডোডো পাখির মতো তখন সুন্দরবন কেবল নামেই হয়ে থাকবে ইতিহাস৷

সকল অধ্যায়
১.
পরিবেশ শিক্ষার অঙ্গন—সুন্দরবন
২.
সুন্দরবন— একটি ভূ-প্রাকৃতিক সমীক্ষা
৩.
সুন্দরবন জীবমন্ডল
৪.
ম্যানগ্রোভস্ বায়োম—প্রেক্ষিত-সুন্দরবন
৫.
সুন্দরবনে লবণপ্রাণ
৬.
সুন্দরবনের পাহারাদার— রয়েল বেঙ্গল টাইগার
৭.
সাপ কান্ড সুন্দরবন
৮.
কুমীর বন্দনা
৯.
সুন্দরবনের ঝড়খালিতে পর্যটনকেন্দ্র কোনমতেই নয়
১০.
সুন্দরবনের মাছ কাঁকড়া চিংড়ি
১১.
ইলিশ
১২.
বাগদামীন
১৩.
মীন সংগ্রহকারীদের রোগভোগ
১৪.
গলদা মীন
১৫.
নোনা মাছ— জাতে ওঠেনি আজো
১৬.
প্রান্তিক মানুষ
১৭.
মৌয়াল/মউলে
১৮.
গুণিন
১৯.
বাওয়ালী/বাউলে
২০.
জেলে
২১.
চোরাশিকারী
২২.
বনদস্যু/জলদস্যু
২৩.
সুন্দরবনের গ্রামীণ ডাকাত
২৪.
মোলঙ্গী— নুন চাষীর আর এক নাম
২৫.
শহরে সোঁদরবনের পাঁচ কাহন
২৬.
জলাভূমি—সাম্প্রতিকী ও সংরক্ষণ
২৭.
হেতানিয়া দোয়ানিয়ায় বার্জ-জেটি
২৮.
জনগোষ্ঠী ও ভাষা
২৯.
লৌকিক দেবদেবী
৩০.
গ্রামনাম বৈচিত্র্যে সুন্দরবন

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%