গৌতমকুমার দাস
উদ্ভিদ ও প্রাণী জগতের অস্তিত্ব রক্ষার মূল সম্পদ হল পরিবেশ৷ জীবদেহের জীবন ধারনের জন্য পরিবেশের বিভিন্ন উপাদানের উপর নির্ভর করতে হয়৷ পরিবেশ বলতে জীবের বসতি সমগ্র পৃথিবীকেই বোঝায়৷ আবার প্রত্যেকটি জীবের স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার জন্য একটি নিজস্ব পরিবেশ রয়েছে৷ এই পরিবেশকে জীবের বাসস্থান বা বসতি বলে৷ জীবকুলের অবাধ বিচরণভূমি রয়েছে জল, স্থল, অন্তরীক্ষে৷ এই পৃথিবীতে যে ভৌত পরিবেশ রয়েছে, তার বিভিন্ন অংশ একটি অন্যটির থেকে কার্যত আলাদা৷ পৃথিবীর ভৌত পরিবেশের বিভিন্ন অংশগুলি হল— বায়ুমন্ডল, অশ্মমন্ডল, বারিমন্ডল এবং জীবমন্ডল৷ বায়ুমন্ডল, বারিমন্ডল এবং অশ্মমন্ডলে জীবের বাসযোগ্য অঞ্চল অর্থাৎ জীবমন্ডল রয়েছে৷
জীবমন্ডল বা জীবস্তর (Biosphere) — ভূ-পৃষ্ঠের বায়ুমন্ডলে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬ কিমি উচ্চতা পর্যন্ত এবং সমুদ্রের প্রায় ৭ কিমি গভীরতা পর্যন্ত জীবের বাসযোগ্য অঞ্চলকে জীবমন্ডল বলে৷
১৯৭০ সালে UNESCO-এর সাধারণ সম্মেলনে মানুষ ও জীবমন্ডল (The Man and Biosphere Programme-MAB) গঠনের প্রস্তাব সর্বসম্মতক্রমে গৃহীত হয়৷ উদ্দেশ্য ছিল পরিবেশে জীবকুলের বৈচিত্র্যপূর্ণ সহাবস্থান ও সংরক্ষণ৷ ফলস্বরূপ, বিভিন্ন দেশের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে গবেষণা, সংরক্ষণ এবং প্রশিক্ষণ দ্বারা বিভিন্ন বৈচিত্র্যময় পরিবেশে মানুষ ও জীবগোষ্ঠীর সমন্বয় ও অস্তিত্ব রক্ষার রীতিসিদ্ধ কৌশল প্রণয়ন করা সম্ভব৷ ওই উদ্দেশ্যগুলিকে বাস্তবায়িত করার লক্ষ্যে ভারত সরকারের বন ও পরিবেশ মন্ত্রক ১৯৮৯ সালের মার্চ মাসে UNESCO-এর নিয়ম মেনে সুন্দরবনের ৯৬৩০ বর্গ কিমি এলাকাকে ‘জীবমন্ডল’ (Biosphere) হিসাবে ঘোষণা করেন৷ পরে UNESCO-এর মুখ্য অধিকর্তা ভারত সরকারের এই ঘোষণার পর ‘বিশ্ব ঐতিহ্যের ক্ষেত্র’ হিসাবে অনুমোদন দান করেন৷
মূলত তিনটি লক্ষ্যকে সামনে রেখে সুন্দরবন জীবমন্ডল সংরক্ষণের প্রয়াস চলছে (১) জীবমন্ডল হিসাবে ঘোষিত কোন একটি অঞ্চলকে নির্দিষ্ট আইন মোতাবেক জীব গোষ্ঠীর সর্বাত্মক নিয়ন্ত্রণ, (২) জীবমন্ডল হিসাবে ঘোষিত সুন্দরবনের ‘বাফার’ এবং ‘কোর’ এলাকার উদ্ভিদ ও প্রাণীদের পরিচর্যা, সংরক্ষণ ও বনসৃজন এবং (৩) প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জনগোষ্ঠী এবং জীবমন্ডল অর্থাৎ মানুষ পরিবেশের মধ্যে সমন্বয় সাধন৷
জলে জঙ্গলে কুমীর কামট, বাঘ হরিণ-এর সহাবস্থান সহ জগদ্বিখ্যাত ম্যানগ্রোভস্ এর পটভূমি হল সুন্দরবন৷ এখন অবধি সনাক্ত ৬৪টি ম্যানগ্রোভস্ এবং তার সহবাসী উদ্ভিদ এবং ১৬৯২টি প্রাণী প্রজাতি নিয়ে গঠিত বসুধার জীববৈচিত্র্য এক উল্লেখযোগ্য স্থান হল সুন্দরবন জীবমন্ডল৷ সুন্দরবন এমনই একটি জৈবিক অঞ্চল (Biotic region) যা জীব বৈচিত্র্যে, সমুদ্র সৈকতের বিবর্তনে, মানুষের জীবিকা অর্জনে কিংবা কলকাতার মতো সুবিশাল প্রাকৃতিক দুর্যোগের হাত থেকে নিরাপত্তা দানে এক অতন্দ্র প্রহরী৷
প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে মানুষের সাহায্যে আসে সুন্দরবনের জীবমন্ডল৷ গরান থেকে গোলপাতা, হেঁতাল বা গর্জন, পশুর, ধুঁধুল, সুন্দরীরা মানুষের নিত্য প্রয়োজনে আসে৷ শুধুমাত্র জ্বালানী কিংবা আসবাবপত্র তৈরীর কাঠ হিসাবে নয়, সুন্দরবনের জল জঙ্গল থেকে মানুষ পায় মাছ, কাঁকড়া, মধু, মোম, দেশলাই কাঠি বা কাগজ তৈরীর কাঁচা মাল৷ সরকার কাঠুরেদের কাঠ আর মউলেদের মধু সংগ্রহ করার অনুমতি দিয়ে রাজস্বলাভ করে অনেক৷

ঠেসমূল
সুন্দরবনের জীবমন্ডলে মাটি, বায়ু, জল ও জীব সবাই যেন এক সূত্রে বাঁধা৷ এই জীবমন্ডলে জলের কাছাকাছি বাইন ও কেওড়ার প্রাচুর্য, আবার নদীতীরে কিংবা স্বাভাবিক বাঁধে খলসী, গরান, গর্জন, পশুর, ধুঁধুল, হেতাল, গোলপাতা থাকে অধিক সংখ্যায়৷ দ্বীপের ওপরের দিকে থাকে বকুল, হেঁতাল, হরগোজ, গেঁওয়া, সুন্দরীরা৷ সুন্দরবনের মোট ১০২টি দ্বীপের মধ্যে ৪৮টি দ্বীপে এখনো ঘন জঙ্গল৷ এই দ্বীপগুলিকে জালিকাকারে বেষ্টন করে রেখেছে ৩১টি ছোট বড় জোয়ার জলে পুষ্ট নদী, নালা আর খাঁড়ি৷ সারাদিনে দু’বার করে জোয়ার জলে প্লাবিত দ্বীপগুলির অধিকাংশ অংশ স্বভাবতই হয় কর্দমাক্ত৷ ঐ কাদা ম্যাকাকা নামের বানর গায়ে মেখে নিয়ে মৌচাকে মধু পান করতে যায়৷ মার্চ মাস থেকে জুন মাস পর্যন্ত মৌমাছি ঝাঁকে ঝাঁকে ওড়ে৷ খলসী, বাইন গাছের ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করার সময়ে এরা পরাগ সংযোগে সাহায্য করে এবং মধু ও মোম উৎপাদন করে৷ রাতে কেওড়া গাছের ফুলে অসংখ্য পুংকেশর চক্র উন্মোচিত হয় এবং তা দেখে বাদুড় প্রলুব্ধ হয়৷ বাদুড় পুংকেশর চক্র খায় আর পরাগ সংযোগের কাজটা সম্পন্ন করে যায়৷ সুন্দরবনের জীবমন্ডলে উদ্ভিদগোষ্ঠীর মধ্যে লবণাক্ততা সহ্য করার অসীম ক্ষমতা রয়েছে বাইনের৷ আবার উচ্চ আর্দ্রতা মানিয়ে নিয়ে স্বাভাবিক ভাবে বেঁচে থাকে গর্জন, কাঁকড়া, পশুর কিংবা ধুঁধুল, বকুলেরা৷ সুন্দরবনের মানুষ ভালো করেই জানে নৌকা তৈরীর জন্য কোন কাঠ কোথায় কাজে লাগে, যেমন— নৌকার মাস্তুল তৈরীর জন্য গরান, নৌকার তলির জন্য বাইন, পাটাতনে ধুঁধুল আর কাঠামো ছাওয়ার জন্য গেঁওয়া বা পশুর৷ আবার ধূমহীন সবচেয়ে বেশী ক্যালরি মূল্যের চারকোল উৎপাদনে প্রসিদ্ধ গরান বা গর্জন গাছের কাঠ৷

পলিসমৃদ্ধ সদা সৃজনশীল ৯৬৩০ বর্গ কিমি এলাকার সুন্দরবন জীবমন্ডলের চতুর্দিকে সুবিশাল জলরাশি ও জীব সম্প্রদায় সুন্দরবন জীবমন্ডলকে করে তুলেছে বৈচিত্র্যময়৷ জল, মাটি, বায়ুর উপাদান, আর্দ্রতা, কীট পতঙ্গ, বাদুড়, পাখী সহ সকল প্রাণী, ফেরোমেন, গাছগাছালি সহ অসংখ্য উপাদান সুন্দরবনের জীবমন্ডলে অন্তর্ভুক্ত৷ কাদা, জল, আর্দ্রতা উষ্ণতার এক আশ্চর্য সহাবস্থান এখানে এবং বাদাবনে এই বিশেষ আবহাওয়া ও প্রকৃতিতে বিখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগার, হরিণ, মোহানার কুমীর, বুনো শুয়োর, বানর, বর্ষাকালে মোহানায় ডিম পাড়তে আসা ইলিশ কিংবা বাগদা-মীন বেশ সচ্ছন্দ ও অভিযোজিত৷ এখনো অবধি সনাক্ত হওয়া ১৬৯২টি প্রাণী প্রজাতির মধ্যে খাদ্য-খাদক সম্পর্কের খাদ্য শৃঙ্খল এবং খাদ্যজালের বা খাদ্য পিরামিডের সর্ব্বোচ্চ স্থানে রয়েছে জগদ্বিখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগার—যে শুধু সুন্দরবন জীব পরিমন্ডল এর নিয়ন্ত্রক নয়, সুন্দরবনে বেড়াতে আসা পর্যটকদেরও ভয়মিশ্রিত সমীহ আদায় করে নেয়৷ অদৃশ্যে থেকেও সুন্দরবনের জীবপরিমন্ডলে বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষার, বন্য পরিবেশ নিয়ন্ত্রনে কিংবা আর্থ সামাজিক পরিকাঠামো উন্নয়নে লবনাম্বু উদ্ভিদ বা ম্যানগ্রোভস্, বাগদা-মীন, মাছ, রয়েল বেঙ্গল টাইগার, মোহানার কুমীর ইত্যাদির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে৷
লবণাম্বু উদ্ভিদ(Mangroves)
গরান গেঁওয়া বাইন তরা খলসী হেঁতাল গোলপাতা সুন্দরী সহ প্রায় ৬৪টি প্রজাতির ম্যানগ্রোভস্ ও তার সহবাসী উদ্ভিদ সুন্দরবন জীবমন্ডলে পাওয়া যায়৷ ম্যানগ্রোভস্ দিনে দু’বার জোয়ার জলে প্লাবিত হয় বলে বেশ কয়েকটি অভিযোজনগত বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যায়৷ যেমন শ্বাসমূল মাটি ঠেলে ওপরে অনেকটাই উঠে আসে এবং বাতাস থেকে সরাসরি অক্সিজেন নিতে সাহায্য করে৷ অধিকাংশ ম্যানগ্রোভস্ এর পাতার উপরের স্তর মোমের আস্তরণে ঢাকা৷ নরম পলিমাটিতে দৃঢ়ভাবে দাড়ানোর জন্য কয়েকটি প্রজাতির রয়েছে ঠেসমূল, যেমন—গর্জন৷ একই কারণে সুন্দরীর রয়েছে অধিমূল৷ আবার কিছু ম্যানগ্রোভস্-এর লম্বাটে বীজগুলি গাছে থাকার সময় অঙ্কুরিত হয়ে পরে গাছ থেকে পড়ে নরম পলিমাটিতে গেঁথে যায়৷ কিছুদিন পরে নব কিশলয় উঁকি দেয়৷ এই ধরণের অঙ্কুরোদগম-কে জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম বলে৷ গরান, গর্জন, কাঁকড়া, তরা প্রভৃতি ম্যানগ্রোভস্ প্রজাতিতে এই ধরনের অঙ্কুরোদগম লক্ষ্য করা যায়৷

লবনাম্বু উদ্ভিদ
সুন্দরবনে লবণাম্বু উদ্ভিদ চরগুলিকে প্রাথমিক স্থায়িত্ব দেয়৷ নতুন সৃষ্ট চরে প্রথমে ধানী ঘাস এবং পরে বাইন গাছ জন্মায়৷ পরে দেখা যায় কেওড়া গাছ এবং ক্রমশঃ চরের পলির আস্তরণ ঢাকা পড়ে যায় সবুজের মোড়কে৷ এবং নতুন একটি দ্বীপ সংযোজিত হয় ব-দ্বীপ ভূমিতে৷
সুন্দরবনের ছোট বড় ৩১টি নদী নালা খাঁড়ি মিষ্টি জলের মূল উৎস হুগলী থেকে বর্তমানে বিচ্ছিন্ন৷ এই কারণে সুন্দরবনের নদীগুলি মিষ্টিজল এখন আর পায় না কারণ এই নদীগুলির উর্ধ্বগতিপথে পলি জমে পারস্পরিক সংযোগ এখন আর নেই, হুগলী নদীর সঙ্গেও নেই৷ প্রায় স্রোতহীন নদীগুলির গতিপথ রুদ্ধ করে মানুষ অধিক আয় কিংবা কোথাও বেঁচে থাকার জন্য তৈরি করে ইঁটভাটা কিংবা চিংড়ি চাষের জন্য ভেড়ী৷ ফলে নদীগুলির গতি হয়েছে রুদ্ধ৷ লবনাম্বু উদ্ভিদ বা ম্যানগ্রোভস্ এর বীজ বয়ে নিয়ে আসার সহজ মাধ্যম নেই৷ প্রকৃতির কোলে নিজস্ব খেয়ালে বেড়ে ওঠা ম্যানগ্রোভস্ তাই এই সব এলাকায় এখন কম জন্মায়৷ ম্যানগ্রোভস্ প্রজাতি-কে কার্যত এখন নোনা আবহাওয়ায় বাঁচতে হচ্ছে৷ ফলে কালের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সম্পূর্ণ লবণাক্ত আবহাওয়ার বাইন গরান সুন্দরীদের অভিযোজন ঘটতে পারে৷
লবণাম্বু উদ্ভিদের বাস্তুতন্ত্র
সুন্দরবনের অবিরাম গতিশীল বাস্তুতন্ত্র প্রকৃতিতে জটিল৷ বাস্তুতন্ত্রে শক্তির প্রধান উৎস হল সৌরশক্তি৷ সৌরশক্তি স্থিতিশক্তিতে রূপান্তরিত হয়ে উৎপাদক থেকে বিভিন্ন খাদকের মধ্যে স্থানান্তরিত হয়৷ প্রাথমিক, গৌণ ও প্রগৌণ খাদক, উৎপাদনশীলতা, খাদ্যশৃঙ্খল ও খাদ্যজাল, বৃদ্ধি ও জনন সহ বিভিন্ন ঋতুতে উদ্ভিদ ও প্রাণীর বিভিন্ন শারীরিক ও আচরণগত পরিবর্তন, খনিজীভবন, পুষ্টি উপাদানের চক্রাকারে আবর্তন, নিরন্তর শক্তি প্রবাহ— সব প্রক্রিয়াই আন্তঃনির্ভরশীল এবং এই বাস্তুতন্ত্রে অন্তর্ভুক্ত৷ সুন্দরবনের জলে ও মাটিতে জৈব ও অজৈব পুষ্টি উপাদানের পুনরাবর্তন ভূ-জৈব-রাসায়নিক প্রক্রিয়ার দ্বারা সম্পন্ন হয়৷ কোন খাদক কোথায় কখন কিভাবে কাকে খাদ্য রূপে গ্রহণ করছে এই বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ৷ কারণ এর সাহায্যে সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্রে উৎপাদক ও খাদক এর সম্পর্ক স্থাপন ও শক্তি প্রবাহের পর্যবেক্ষণ করা সম্ভবপর হয়৷ সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্রে খাদ্যশৃঙ্খল ও খাদ্যজাল বিশেষ বৈশিষ্ট্যপূর্ণ যেখানে সর্বসাধারণের তৃণভোজীকে ভক্ষণ করে মাংসাশী আর সর্বভুক তার পছন্দমতো এই দুই শ্রেণীর খাদকের মধ্যে থেকে খাদ্য বেছে নেয়৷ ব্যাকটেরিয়া, অনুজীব, ছত্রাক প্রভৃতি এই বাস্তুতন্ত্রে পরিবর্তক ও বিয়োজকের ভুমিকা নেয়৷
সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্র

সুন্দরবনে লবণাম্বু উদ্ভিদের পাতা, ফুল, ফল, বীজ জোয়ারের জলে বিধৌত নদীচর, নদীতীরের মাটিতে কিংবা জলে পড়লে পচন শুরু হয়৷ এই পচনে সাহায্য করে বিভিন্ন ছত্রাক, ব্যাকটিরিয়া আর আদ্রপ্রাণী বা প্রোটোজোয়া৷ বিয়োজনকারী জীবাণু দ্বারা পচনের মাধ্যমে উৎপাদিত খাদ্য খাদ্যকেরা খায় বলে সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্রে খাদ্যশৃঙ্খলকে কর্কর খাদ্যশৃঙ্খল বলে৷ ম্যানগ্রোভস্-এর পচা পাতা, ছাল, ফল, বীজ ইত্যাদি জলজ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রাণীরা যেমন কোপেপডস, নিমাটোডস, ভাসমান পলিকিটস, জলজ পতঙ্গ শ্রেণীর লার্ভা ইত্যাদি খাদ্য হিসাবে গ্রহণ করে এবং এই গৌণ খাদকদের আবার বড় বড় মাছ খাদ্য রূপে ভক্ষণ করে৷ এরা প্রগৌণ খাদক, এইভাবে খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে শক্তির অর্জন, শক্তির ব্যবহার এবং শক্তির স্থানান্তর এর মাধ্যমে সুন্দরবনের কর্কর খাদ্যশৃঙ্খলে প্রতিনিয়ত শক্তি প্রবাহ চলে৷ তবে সুন্দরবন জীবমন্ডলে ম্যানগ্রোভস্-এর ঝরা পাতা, বাকল, ফুল, ফল, বীজ এর মাত্র ৫ শতাংশ ঘুরে বেড়ানো প্রাণীদের দ্বারা অপসৃত হয় এবং বাকি অংশ কর্কর খাদ্যশৃঙ্খলে প্রবেশ করে৷ উল্লেখযোগ্য ম্যানগ্রোভস্ এর দেহ থেকে খসে পড়া বিভিন্ন অংশের বিয়োজিত অংশ চিংড়ি, ঝিনুক, শামুক, কাঁকড়া, সন্ধিপদী প্রাণী প্রভৃতি কর্তৃক গৃহীত হয়ে কর্কর খাদ্য শৃঙ্খলে প্রবেশ করে৷
সুন্দরবনের কর্কর খাদ্যশৃঙ্খল

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন