গৌতমকুমার দাস
নামখানায় হেতানিয়া দোয়ানিয়া নদীতে বার্জ জেটি প্রসঙ্গে দু-এক কথা৷ যেহেতু নদীটি হেতানিয়া দোয়ানিয়া আর জেটিটি ভাসমান তাই কিছুটা চিন্তারও বটে৷ একটি সংযোগরক্ষাকারী খাল (Connecting Creek) দুটি বড় নদীর মধ্যে সমন্বয় ঘটালে বলা হয় ‘দোয়ানিয়া’ (বেঙ্গল গেজেটিয়ার, টোয়েন্টি ফোর পরগনাস ডিস্ট্রিক্ট, ও’ম্যালি সম্পাদিত)৷ হেতানিয়া দোয়ানিয়া, ফকিরাল্লা দোয়ানিয়া, সুন্দরিকা দোয়ানিয়া এ ধরণের অনেক খাল সুন্দরবন অঞ্চলে দেখা যায়৷
প্রকৃতি অনুযায়ী এরা খাল; কিন্তু চেহারা নদীকেও হার মানায়৷ হেতানিয়া দোয়ানিয়া এমনই একটি খাল (Creek) যা’ পূর্বদিকে সপ্তমুখী আর পশ্চিমে মুড়িগঙ্গাকে (বড়তলা নদী) সংযোগ করেছে৷ তাই এর দৈর্ঘ্য কম৷ গভীরতা বেশী৷ নাব্যতা ভাল৷ আন্তর্জাতিক জলপথ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত৷ নদীগর্ভে চর তৈরীর সম্ভাবনা নেই বললেই চলে৷ এবং জোয়ার ভাটার স্রোত পারাপারের সময় খোয়ানৌকাকে অনেকদূর টেনে নিয়ে যায়৷ নামখানার হেতানিয়া দোয়ানিয়ার ভাটির টান (Ebb Velocity) ৮০ সেমি প্রতি সেকেন্ড (রিভার রিসার্চ ইন্সটিটিউট পঃ বঃ সরকার)৷ এই স্রোত খুব হেলাফেলার নয়৷ তাছাড়া পুরো মৌসুমী কাল (monsoon period) জুড়ে পুবালী হাওয়া বয় এবং এই সময় হেতানিয়া দোয়ানিয়ার স্রোত অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়৷ যেহেতু গভীরতা বেশী তাই ঢেউ থাকে না৷ কিন্তু মৌসুমীতে স্রোতজনিত কারণে হেতানিয়া দোয়ানিয়ার যে ভয়ংকর রূপ বছরের পর বছর দেখে চলেছি,তাতে বার্জ-জেটি দিয়ে যানবাহন পারাপার বিষয়ক প্রশ্ন চিহ্নটি বরাবরই থেকে যায়, যেহেতু ফ্রেজারগঞ্জ মৎস্য বন্দরের ব্যবসাটা চলে মূলত বর্ষায়৷
নামখানা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির দু’দিকের ‘অ্যাপ্রোচ রোড’ চওড়া করার দাবি সঙ্গত, কিন্তু সম্ভব হবে কি? কারণ মূল ভূখন্ডের নামখানা (নারায়ণপুর) থেকে যে ‘অ্যাপ্রোচ রোড’ আর দুদিকের ঝুপড়ি তৈরী হয়েছে যেখানে কম করে একশটিরও বেশি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে৷ আর যে কোনও জায়গার ‘ঝুপড়ি’ মানেই কোন রাজনৈতিক দল দ্বারা পরিচালিত৷ রাজ্যের প্রশাসকদল তৎপর হলে নামখানা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির অ্যাপ্রোচ রোড চওড়া করার দাবি পূরণ হতে পারে৷ নচেৎ কদাপি নয়৷
বার্জ জেটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মৎস মন্ত্রীর ‘নিখোঁজ হওয়া মৎস্যজীবী’-দের জন্য সরকারী সিদ্ধান্ত মৎস্যজীবীদের ফুসফুসে কিছুটা অতিরিক্ত অক্সিজেন নিশ্চয়ই দেবে৷ তবে মৎস্য মন্ত্রীকে অনুরোধ প্রত্যেক মৎস্য শিকারী ট্রলারে একটা করে ‘Very High Frequency (V.H.F)-এর ‘ওয়াকি টকি’র ব্যবস্থা করলে ঝড়, নিম্নচাপ, সাইক্লোনের আগাম খবর মাঝি-মাল্লারা পেতে পারে এবং সাবধান হয়ে গেলে নিখোঁজ হওয়ার হার বোধ হয় কমবে৷ এতে খরচ খুব বেশি নয়, কিন্তু সরকার এগিয়ে এলে এ ব্যাপারে গুরুত্ব বাড়বে৷ যেখানে বিপদের ঝুঁকি বেশি সেখানে খেসারত দেওয়ার কথা না শুনিয়ে নিরাপত্তার সাবধানী হাত বিজ্ঞানের সাহায্য নিয়ে এগিয়ে আসুক—এটাই কাম্য৷ এখন অবশ্যই এই বার্জ জেটির প্রয়োজন প্রায় ফুরিয়ে এসেছে৷ হেতানিয়া দোয়ানিয়ার উপর সেতু নির্মাণের কাজ চলছে৷ এমন সেতু, যার উপর দিয়ে গাড়ি কলকাতাসহ পশ্চিমবঙ্গের যেকোন প্রান্ত থেকে এসে সরাসরি বকখালি পৌঁছে যাবে, আর সেতুর নীচ দিয়ে বাংলাদেশের স্টিমার নির্বিঘ্নে পৌঁছবে বন্দর থেকে বন্দরে৷
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন