গ্রামনাম বৈচিত্র্যে সুন্দরবন

গৌতমকুমার দাস

সুন্দরবন বয়সে নবীন৷ স্থাননামেও তাই৷ সুন্দরবনের ভূ-প্রকৃতি গ্রামনামে বহু-চর্চিত হলেও ব্যক্তিনাম, দেব বা দেবকল্প নামের প্রাধান্য উল্লেখ করার মতো৷ সুন্দরবনের ভূমিরূপ, প্রকৃতি প্রভৃতি গ্রামবাংলার অন্যান্য স্থানের থেকে সম্পূর্ণরূপে ভিন্ন৷ নদী-নালা-খাল-বিল-দিঘি-দ্বীপ-চর-বনাঞ্চল সুন্দরবনের প্রাকৃতিক অলঙ্কার৷ গ্রামনামের দ্বিতীয় অংশ রূপে নদী-নালা-চর-খাল তাই বহু ক্ষেত্রে উচ্চারিত৷

জঙ্গল হাসিল করে সুন্দরবনে বসতি স্থাপন বা কৃষিজমির পত্তন ১৭৭০ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ শুরু হয়৷ ক্লড রাসেল (১৭৭০ খ্রিঃ) ২৪ পরগণা জেলার কালেক্টর এবংটিলম্যান হেঙ্কেল (১৭৮১খ্রিঃ) যশোর জেলার কালেক্টর হয়ে আসার পর দুজনেই সুন্দরবনে জঙ্গল কেটে আবাদি জমির মাধ্যমে রাজস্ব বাড়ানোয় উদ্যোগী হন৷ অতএব ১৭৭০ খ্রিঃ-কে ভিত্তিবর্ষ ধরলে সুন্দরবনের পুনরাভ্যুদয়ের সময়কাল আড়াইশো বছর এখনও পূর্ণ হয়নি৷ সুন্দরবনের স্থাননামে তাই সম্প্রতিকালের নবীন সংস্কৃতি ও আধুনিকতার ছোঁয়া এসেছে৷ এমনকি জঙ্গল কাটাই হওয়া প্রায় নির্জন জনপদের স্থান নির্বাচনে ‘নগর’, ‘পুর’ জাতীয় আধুনিক স্থাননামের দ্বিতীয় অংশ যুক্ত হয়েছে৷ ‘গঞ্জ’, ‘কাটি’, ‘দহ’, ‘বাটি’ ইত্যাদির পাশাপাশি অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী নামের অংশ সুন্দরবনের স্থাননামকে ঋদ্ধ করেছে৷

স্থান নাম হিসাবে সুন্দরবন নিজেই বেশ শ্রুতিমধুর৷ দুর্গম জল-জঙ্গল-জমিনের ভয়াবহতা সৌন্দর্য হয়ে সুন্দরবনের নামের সঙ্গে মিশে গেছে৷ সুন্দরবন স্থাননাম হিসাবে তাই যুগপৎ আধুনিক এবং নান্দনিক৷ সুন্দরবনের সুন্দর এই নামটা কে রেখেছিল, তা জানা নেই৷ তবে ১৭৭০ খ্রিঃ কোম্পানির শাসনে কোনও নথিপত্রে সুন্দরবন নামটির দেখা পাওয়া যায়নি৷ ১৭৭৬ খ্রিঃ জরিপবিদ রেনেল সাহেবের ম্যাপে সুন্দরবন্দস (Sunderbunds) এর দেখা মেলে৷ ১৭৯৩ খ্রিঃ চিরস্থায়ী বন্দোবস্তে সুন্দরবন নামের আবির্ভাব ঘটেছে৷ অতএব ধরে নেওয়া যেতে পারে যে রেনেলের ম্যাপ (১৭৭৬) এবং চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত (১৭৯৩), এর মাঝে কোনও এক সময় সুন্দরবন স্থাননামটির সংযোজন ঘটেছে৷ সুন্দরবনের দ্বীপাঞ্চল জুড়ে দুটি জেলা— উত্তর ২৪ পরগনা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা৷ এই দুটি জেলার অর্ন্তভুক্ত ৫টি মহকুমার, ৬টি থানার, ১৯টি ব্লকের অধীনে ১০৬৪টি গ্রামের স্থাননামে বৈচিত্র্য যেমন আছে, তেমনই একই নামে গ্রামনাম বিভিন্ন ব্লকে বারংবার ব্যবহৃত হয়েছে৷ সুন্দরবনের নিজস্ব প্রকৃতি ও পরিবেশ, দেব বা দেবকল্প নাম, ব্যক্তিবিশেষ বা পদবি গ্রামনামে যুক্ত৷

সুন্দরবনের নদীনালা খাঁড়ির থেকে অপ্রশস্ত খালের সংখ্যা বেশি৷ স্থাননামে ‘খাল’ শব্দের ব্যবহার তাই সংগত কারণেই একাধিক ক্ষেত্রে ঘটেছে৷ খাল অবলম্বী স্থাননাম ‘খালি’ রূপে স্থাননামের দ্বিতীয় অংশে যুক্ত হয়েছে৷ সুন্দরবনের মতো এত ‘খালি’ সংযুক্ত নাম ভূ-ভারতে বিরল৷ ‘খালি’ যুক্ত গ্রামনামের সংখ্যা সুন্দরবনে ৭২টি৷ আবার বিস্ময়করভাবে সুন্দরবনের কয়েকটি ব্লকে ‘খালি’ নামযুক্ত স্থাননামের দেখা মেলে না৷ স্থলভাগের আধিক্য, খালের অভাব এবং উন্নত যোগাযোগ মাধ্যম এমনটা ঘটার ক্ষেত্রে সম্ভাব্য কারণ৷ এই ‘খালি’-হীন ব্লকগুলি হল কাকদ্বীপ, জয়নগর-১, মথুরাপুর-১, মথুরাপুর-২ এবং হাড়োয়া৷

গ্রামনাম উচ্চারণের কারণে কখনও সখনও শব্দের অর্থ বদলের ফলে অযথা অনর্থক স্থাননামের উৎপত্তি হয়েছে, যেমন— ঝুপখালি (ঝোপ), ধুচুনিখালি (ধুনুচি), খিরীষখালি (শিরীষ) ইত্যাদি৷ গৃহস্থালির জিনিসপত্র সস্তায় মেলে, তাই স্থাননাম সস্তাখালি৷ তিন বা তার অধিক শব্দাংশ একসঙ্গে স্থাননামে ব্যবহৃত, যেমন— বানী (বাইন), বাদা (জলাভূমি), বেলে (বালুকণা), খালি (বানীবাদা বেলে খালি)৷ ‘খালি’ অংশ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়েছে নামবাচক বিশেষ্যে, যেমন—সাহেবখালি, জয়খালি, কালুয়াখালি, মদনখালি, রামচন্দ্রখালি, মানসখালি, সোনাখালি, ভুবনখালি ইত্যাদি৷

লতাপাতা শাক কন্দ বা তরুবীথিকার নামে হিংচাখালি, ঝাউখালি, কচুখালি, কৃপাখালি, কুন্দখালি, কেওড়াখালি, নলিয়াখালি, বেগুয়াখালি ইত্যাদি৷ মাছের নামে টেংরাখালি, পাঙ্গাসখালি, কৈখালি, ভোলাখালি, চুনাখালি, ইত্যাদি৷ কীট-পতঙ্গ-পাখি অথবা জীবজন্তুর নামে সাপখালি, বকখালি, বগুলাখালি, পিঁপড়াখালি, পেচুয়াখালি৷ কাঁটা-ঝোঁপ-ঝাড়-বন-বাদাড় স্বাভাবিকভাবেই সুন্দরবনের স্থাননামে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, যেমন— কাঁটাখালি, ঝুপখালি, বুদাখালি৷ সুন্দরবনের বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহ স্থাননামে চিরস্থায়ী হয়েছে, যেমন— খুনাখালি, কীর্তনখালি, আলিতাখালি৷ সপ্তাহের বুধবারে হাট বসে তাই হাটবারের নামে এসেছে বুধখালি৷ খাদ্যশস্য বা উপকরণের অংশবিশেষ গ্রামনামে স্থান করে নিয়েছে, যেমন— ধানীখালি, তুষখালি৷ জীবন, জীবিকা, ধর্ম, জাতপাত সামাজিক কারণে স্থাননামে যুক্ত হয়েছে, যেমন চাঁড়ালখালি, জেলিয়াখালি, কুমারখালি, বামনখালি, পাঠানখালি, মোল্লাখালি, কাওড়াখালি৷ সুন্দরবন স্থাননামে বাদ্যযন্ত্র যেমন— ঢোলখালি; ভূমিরূপ বেচিত্র্যে চরনিখালি, ভাঙনখালি; মধু মিষ্টান্ন দ্রব্যে সংযুক্ত হয়েছে মধুখালি, মৌখালি, সন্দেশখালি আর ফলবিশেষে লেবুখালি৷ গ্রামপ্রধান সুন্দরবনের গৃহস্থলীর উপকরণ স্থাননামে যুক্ত হয়ে সাধারণ মানুষের প্রিয়নাম হয়ে উঠেছে, যেমন— ধামাখালি, ভান্ডারখালি, ছত্রখালি৷

শুধু খাল নয়, পুকুর-দিঘি-র ব্যবহার সুন্দরবনের স্থাননামে বেশ লক্ষ্য করা যায়৷ জঙ্গল কেটে বসতি স্থাপন করা মানুষের বাস্তুভিটেয় দৈনন্দিন কাজের কারণে পুকুরের প্রয়োজন হয়৷ মাঠের উপর ছিটেবেড়ার ঘর তৈরির জন্য জমি উঁচু করতে হয়৷ এক জায়গায় জমি উঁচু করার অর্থ অন্যত্র খানা-খন্দরের সৃষ্টি৷ ঐ খানা বা গর্তকে আরও গভীর করে সুদৃশ্য ও সুন্দর করে তুললে তখন পুকুর হয়৷ বাসনমাজা, গা ধোওয়া, গরু ছাগলের পানীয় জল, মাছ চাষ— সব মিলিয়ে পুকুর সুন্দরবনের জনপদে অন্যতম এক সামাজিক সদস্য৷ তাই পুকুরকে উপলক্ষ করে সুন্দরবনে অজস্র গ্রামনাম এসেছে, যেমন—শুন্ডি পুখুরিয়া, শেখ পুখুরিয়া, কৈ পুকুরিয়া, হাট পুকুরিয়া, পদ্ম পুকুরিয়া, পানা পুখুরিয়া, পুকুরিয়া চক ইত্যাদি৷ পাড়াগাঁয়ে বহুজনের প্রয়োজনে মজা পুকুর বা দিঘি সংস্কার করা হয়ে থাকে৷ বহুজনের হিতার্থে কাটা দিঘি একক মালিকানার পুকুরের থেকে আয়তনে বড়ো হয়৷ সামাজিক ঐতিহ্যের পুকুর ও দিঘি ‘রায়দিঘি’, ‘কঙ্কনদিঘি’ ইত্যাদি স্থাননাম হিসাবে সংযোজিত৷

পূর্বে সুন্দরবনের গাঁয়ে ঘরে ঘরে তেল নুন কাস্তে লাঙলের ফলা তৈরি হত না৷ এখনও হয় না৷ টাকা পয়সা বা ধানচাল কড়াই দিয়ে অর্থাৎ শস্য বিনিময়ে সেকালে এসব জিনিসপত্রের আদানপ্রদান হতো৷ সুন্দরবনে বহু অঞ্চলে তখন কেনাবেচার সমান্তরালে বিনিময় প্রথা চালু ছিল৷ বেচাকেনা, আদানপ্রদানের এই বিনিময়ের জন্য কয়েকটি গ্রামের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট স্থান ছিল৷ কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এমন স্থানবিশেষ ‘গঞ্জ’ নামে পরিচিত হয়৷ বর্তমানে সুন্দরবনের জনপদগুলিতে এমন বহু ‘গঞ্জ’ দেখা যায়৷ জমি হাসিল করে আবাদ শুরুর সময় থেকে এই ‘গঞ্জ’-গুলি সুন্দরবনে গড়ে ওঠে, যেমন হিঞ্জলগঞ্জ, নগেন্দ্রগঞ্জ, নফরগঞ্জ ইত্যাদি৷ সুন্দরবনে গঞ্জের প্রয়োজন ছিল, আজও সপ্তাহের কোনও একটি বার-এ এইসব গঞ্জে নিয়মিত হাট বসে এখনও৷ স্থাননামে ‘দ্বিক’-এর শেষাংশ হিসাবে ‘গঞ্জ’ এসেছে মাত্র ১৭টি ক্ষেত্রে৷

প্রতাপাদিত্যের শাসনাধীন পঞ্চদশ শতকের প্রাচীন সুন্দরবনের স্থাননামে ‘নগর’ শব্দের মতো ‘পুর’-এর ব্যবহার সাধারণত দেখা যেত না৷ দেব, দেবকল্প, ব্যক্তিনাম ও পদবিতে যুক্ত ‘পুর’ শব্দটি ক্রমে স্থাননামে উঠে আসে৷ ‘পুর’ শব্দটি ব্যবহারে সুন্দরবনের স্থাননাম পিছিয়ে নেই, ‘পুর’ দ্বিতীয় অংশ হিসাবে সর্বাধিক এবং ২৮৮টি স্থাননামে ব্যবহৃত৷

সুন্দরবনে ইঁট পাথরের তৈরি বাসগৃহ সেকালে দুর্লভ ছিল৷ প্রাসাদের কথা ভাবাই যেত না৷ ইঁট পাথর প্রাসাদের দেশ না হলেও স্থাননামে ‘নগর’ শব্দাংশের ঠাঁই পাওয়ার কথা নয়৷ ছিটগরানের ছিটে বেড়ার কুঁড়ে ঘর প্রধান জনপদে ‘নগর’ শব্দটি স্থাননামে ১০২টি ক্ষেত্রে যুক্ত হয়েছে৷ সুন্দরবনে স্থাননামে নগর যুক্ত হয়েছে অর্থহীন প্রয়োজনে৷ ধরে নেওয়া যেতে পারে যে নগর যুক্ত স্থাননাম এই সুন্দরবনের ভূমিপুত্রদের কাজ নয়৷ শহরের জমিদাররা জমি ইজারা নিয়ে গ্রাম পত্তন করার সময় তাদের ইচ্ছেয় এমন নামের জন্ম হয়েছে৷

সুন্দরবনের ১০৬৪টি গ্রামের স্থাননামের সম্ভাব্য অর্থ অন্বেষণে একই নামের বহুস্থানে পুনরাবৃত্তি ঘটতে দেখা গেছে৷ যদিও সুন্দরবনের স্থাননামের ক্ষেত্রে গ্রাম ও নগর সংস্কৃতির প্রভাব পড়েছে৷ নাগরিক প্রভাবে পুষ্ট কয়েকটি স্থাননামকে সুন্দরবনের নিজস্ব বলে মনে হয় না৷ তবু কিছু ক্ষেত্রে স্থাননামে সুন্দরবনের স্বকীয়তা আছে, যার থেকে জল-জঙ্গল-জমিনের কোনও একটি বৈশিষ্ট্য মননে চলে আসে৷ এই নামগুলির জন্য দুর্গম বা প্রকৃতি দেবীর অপরূপ সৃষ্টি এই সুন্দরবনের সৌন্দর্য বেঁচে থাকবে৷ বাংলা স্থাননাম বইতে সুকুমার সেনের কথাও তেমনটাই— ‘স্থাননাম দীর্ঘস্থায়ী, এমনকি চিরস্থায়ীও বলা যায়৷ আদর করে ছেলের নাম রাখা যায় যা-তা কিন্তু বাসস্থানের নাম কেউ আদর করে যা-তা রাখে না৷ একটা মানে ধরে বা কল্পনা করে স্থানের নাম রাখা হয়৷’ তাই শুধু ভদ্রস্থ একটা নাম রাখার তাগিদে সুন্দরবনের মাত্র ১৯টি ব্লকে একই গ্রামনাম ৭-৮টি ক্ষেত্রে বারবার ব্যবহৃত হতে দেখা গেছে৷

সুন্দরবন এলাকার নিজস্ব প্রকৃতি অবলম্বী নাম ও আধুনিক নামগুলোর অর্থ ও ব্যাখ্যা বাস্তবসম্মতভাবে করার একটা চেষ্টা করা হল৷ গ্রামনাম প্রসঙ্গে পাঠক ও গবেষকদের সুস্থিত পরামর্শ পেলে ঐ শব্দার্থ যথাস্থানে যুক্ত করা যেতে পারে৷ স্থাননাম বিশ্লেষণে সুন্দরবনের ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশের যৌথ প্রভাব গ্রামনামে লক্ষণীয়৷

সুন্দরবনের গ্রামনামের সঙ্গে যুক্ত শব্দাংশগুলির সম্ভাব্য অর্থ—

আড়া— উঁচু বাঁধ, পাড়, আশ্রয়স্থান৷

আবাদ— কর্ষিত জমি, জনপদ, চাষের উপযুক্ত জমি৷

কডুই— জংলি জায়গা৷

কাটা— কর্তন, খনন, ছেদন, খণ্ডন৷

কাটি— ছিন্ন অংশ৷

কুণ্ড— গর্ত, জলাধার৷

কোটা— কোষ্টক (= কোঠা বাড়ি )৷

খড়ি— অনুর্বর ভূমি৷

খালি, খালা— খাল অবলম্বী স্থান; খল্ল >খালা, খালি৷

খোপ— ছোট এলাকা৷

গড়— দুর্গম, বেড়া দিয়ে ঘেরা স্থান; সুরক্ষিত গ্রাম৷

গাছা, গাছি, গাছিয়া, গেছে— গাছ বেষ্টিত স্থান; গাছা— তাড়া; খণ্ড সমষ্টি; গেছিয়া < গেছে৷

গাঁতি— পল্লিবাসীদের মধ্যে কোনও কাজের দরুণ সাময়িক সংঘবদ্ধতা; গাঁতি— শাবল৷

গ্রাম— গাঁ৷

ঘেরি— ঘেরা স্থান৷

চক— চৌকো স্থান৷

জুড়ি— যুগল৷

জোড়, জোড়া, জোল, জুলি, জোট— ক্ষুদ্র উপনদী; স্বাভাবিক জল নির্গমনের পথ যা নদী-নালায় শেষ হয়৷

টাল, টার— উঁচু বসতি স্থান৷

টিকর, টিকরি, টিকুরি— নিচুভূমির মধ্যে উঁচু স্থান৷

ডহর, ডহরি— গর্ত, দহ, গোচরভূমি, অনাবাদি স্থান৷

ডাঙা, ডাং— উচ্চভূমি৷

ডিহি— গ্রাম সমষ্টি৷

ডুলি— দোলা৷

ডোঙা— উঁচু ও আড়াল করা স্থান৷

দিঘি— চারকোণা গভীর বড়সড় পুকুর৷

দিয়া, দে— দ্বীপ, দুটি নদীর বা জলধারা বেষ্টিত ভূখণ্ড৷

দ্বীপ— চারদিকে জলবেষ্টিত স্থলভাগ৷

নলিয়া— নালা৷

নয়া— নতুন৷

নিত্য— সতত৷

পাড়— কিনারা৷

পাতি— ক্ষুদ্র, ছোট, অতি সাধারণ৷

পাড়া— ঘন সন্নিবিষ্ট ভদ্রাসন সমষ্টি৷

পাট— পীঠস্থান৷

প্রিয়া— প্রিয়৷

পুনকে— ক্ষুদ্র, নগণ্য৷

পুর— স্থান৷

পো— পুত্র৷

পোতা— তরুণ উদ্ভিদ; উচ্চভূমি; স্থাপিত গাঁ৷

পোঁতা— পুঁতে রাখা ছিল অর্থে ব্যবহৃত; স্থাপিত৷

বাটি, বাড়ি, বেড়িয়া, বেড়ে— বেড়া দেওয়া বা পাঁচিল ঘেরা স্থান৷

বাদা— জলাভূমি৷

বাড়— সংকীর্ণ ঘেরা জায়গা৷

বাড়িয়া— বেড়া দেওয়া স্থান; বেষ্টিত অর্থে ব্যবহৃত৷

বেড়া, বেড়ি— বেড়া দিয়ে ঘেরা স্থান৷

ভড়— ক্ষীণ৷

মারি— ধরা; মারা পড়া; বিস্তর৷

মাল— উচ্চভূমি৷

মুড়া, মুড়ি— নেড়া; গাছের শাখা প্রশাখা; মোড়৷

হাট, হাটা, হাটি— যেখানে বেচাকেনা চলে৷

হাওর— জলাভূমি৷

সুন্দরবনের গ্রামনাম; বন্ধনীর মধ্যে ঐ গ্রামেরই প্রশাসনিক ‘ব্লক’-এর নাম—

অমরাবতী (নামখানা)— অমরাবতী-স্বর্গ; সুন্দর নিসর্গ; উপকূলবর্তী সাগরসৈকত ঘেরা গ্রাম৷

অরুণনগর দক্ষিণ (জয়নগর-১)— অরুণ (ব্যক্তি) নামাঙ্কিত স্থান; অন্য অরুণনগর থেকে পৃথক করার জন্য ‘দক্ষিণ’ শব্দটি ব্যবহৃত৷

অক্ষয়নগর (কাকদ্বীপ)— ব্যক্তি-নামে স্থাননাম৷

অচিন্ত্যনগর (পাথরপ্রতিমা)— অচিন্ত্য; ব্যক্তিনাম৷

অম্বিকানগর (কুলতলি)— অম্বিকা; ব্যক্তিনাম

অযোধ্যানগর (জয়নগর-১)— রামায়ণ ভক্তির নিদর্শনরূপে অযোধ্যা নামে গ্রামনাম অথবা অযোধ্যা; ব্যক্তিনাম৷

আকন্দবেড়িয়া (হাড়োয়া)— আকন্দ বেষ্টিত গ্রাম৷

আগরহাটি (সন্দেশখালি)— আগর < আগড় (ঝাঁপ;বেড়া); সুরক্ষিত হাট বসে এমন গ্রাম৷

আংনাড়া (হাসনাবাদ)— আং < আঙ্গ (অঙ্গ সম্বন্ধীয়); নাড়া— ধানগাছের গোড়া; যে গ্রামে ধানগাছের গোড়া দেখা যায় অথবা নলবন৷

আটঘড়া (হাড়োয়া)— ঘড়া— কলস, যে গ্রামে আটটা কলস আছে৷

আটপুকুর (মিনাখাঁ)— যে গাঁয়ে পুকুরের সংখ্যা আট৷

আঠারবাঁকি (ক্যানিং-২)— যেখানে নদীবাঁক সংখ্যায় আঠারটি৷

আতাপুর (সন্দেশখালি-২)— আতা— পিতা (তুর্কি); পিতার নামে উৎসর্গীকৃত গ্রাম; আতা গাছের গাঁ৷

আদমপুর (হাড়োয়া)— আদম < আদিম; আদিবাসীদের গাঁ৷

আধিয়া (ক্যানিং-১)— আধিয়া < আধেয় (স্থাপনযোগ্য); যেখানে গ্রাম পত্তন করা যায়৷

আনন্দ আবাদ (বাসন্তী)— আবাদ— কৃষি উপযোগী জমি; যে আবাদি গাঁয়ে চাষবাসে আনন্দ হয়৷

আন্দিলপুর (জয়নগর-১)— আন্দিল— আনন্দিল? আনন্দে ভরপুর স্থান; যে গাঁয়ে সাচ্ছন্দের অভাব নেই৷

আন্দিলবেড়িয়া (জয়নগর-১)— আন্দু— শিকল; (শিকল বেষ্টিত) সুরক্ষিত গ্রাম৷

আন্দুলিয়া (হাড়োয়া)— আন্দুল— বড় পাত্র; যেখানে অন্নের অভাব নেই৷

আঁধারমানিক (মথুরাপুর-১)— যে গাঁয়ে আঁধারেও আলো জ্বলে; আলোকিত গ্রাম৷

আবাদ গঙ্গাধরপুর (পাথরপ্রতিমা)— গঙ্গাধর (ব্যক্তি)-এর (জমিদার?) আবাদি গ্রাম৷

আবাদ ভগবানপুর (মথুরাপুর-১)— ভগবানের নামে উৎসর্গীকৃত আবাদি গাঁ৷

আব্দুল করিমপুর (জয়নগর-১)— আব্দুল ও করিম (দুই ব্যক্তি) এর প্রভাবে গড়ে ওঠা গ্রাম৷

আমতা (হাড়োয়া)— আমতা < আমপাতা; মাঝের ব্যঞ্জনধ্বনি লুপ্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে আমতা; আমের প্রাচুর্য যেখানে৷

আমতলা ভদ্রী (ক্যানিং-১)— ভদ্রী <ভদ্রাসন (বসতবাড়ি; বাস্তুভিটে); আমপোতা > আমতা৷

আমতলি (গোসাবা)— আম + তলক >তলি; যে গাঁয়ে আম গাছ আছে৷

আমঝাড়া (বাসন্তী)— ঝাড়া < ঝাড় (ঝোপ); আম গাছ সমৃদ্ধ গাঁ৷

আমদপুর (মিনাখা)— আমদ < আমোদ; বিনোদনে যে গাঁয়ে মানুষের অবসর সময় অতিবাহিত হয়; সুখী গ্রাম৷

আমবেড়িয়া (হিঙ্গলগঞ্জ)— আমবাগান বেষ্টিত গ্রাম৷

আমলানি (হাসনাবাদ)— আমলা বনানী (?); আমলকির গাঁ৷

আমলামেথি (গোসাবা)— আমলা (ফল); মেথি (বীজ); মসলা বীজ (মেথি); আমলা ও মেথি জন্মানো গ্রাম৷

আমড়াতলা (বাসন্তী)— যেখানে আমড়া জন্মায়৷

আমিরপুর (মথুরাপুর-১)— আমির— ধনী মুসলমান; আমির অধ্যুষিত গাঁ৷

আমরুল গাছা (হাসনাবাদ)— আমরুল— বুনো শাক; স্বাদে টক; আমরুল জন্মানো গ্রাম৷

আরামপুর (গোসাবা)— আরামদায়ক; পর্যাপ্ত দখিনা বাতাস; শ্বাপদসঙ্কুলহীন সুখী গ্রাম৷

আলিপুর (জয়নগর-১)— আলি নামের কোনও মুসলমান ব্যক্তি বিশেষের নামাঙ্কিত গ্রাম৷

আলিতাখালি (কুলতলি)— আলিতা < আলাত (= জলন্ত কাঠ); যে গাঁয়ে কাঠের জ্বালানি ব্যবহৃত হয়৷

আশরিয়া নারায়ণপুর (হাসনাবাদ)— আশরিয়া— আশা করিয়া? যে নারায়ণপুর গাঁ নিরাশ করে না; নারায়ণ; ব্যক্তিনাম৷

ইছাপুর (হাসনাবাদ)— ইছা < ইচলা, ইচলি (চিংড়ি); যে গাঁয়ে চিংড়ি মেলে৷

ইন্দ্রনারায়ণপুর (পাথরপ্রতিমা)— ইন্দ্র ও নারায়ণ ব্যক্তি দ্বয়ের প্রভাব পুষ্ট গ্রাম অথবা ইন্দ্রনারায়ণ; ব্যক্তিনাম৷

ইন্দ্রপুর (পাথরপ্রতিমা)— ইন্দ্র নামের ব্যক্তির নামে পত্তন হওয়া গ্রাম৷

ইন্দ্রপ্রস্থ (পাথরপ্রতিমা)— পাণ্ডবদের রাজধানী ইন্দ্রপ্রস্থের মতো মহিমামন্ডিত গাঁ; বর্ধিষ্ণু গ্রাম৷

ইমামদিপুর (মথুরাপুর-১)— ইমামের কাটা দিঘি যেখানে আছে; দি < দিঘি; ইমাম নামাঙ্কিত দিঘি’র গাঁ৷

ইস্তারণপুর (মথুরাপুর-২)— ইস্তারণ <ইসকাপন; ইসকাপন আকবরের গ্রাম৷

ঈশ্বরীপুর (নামখানা)— (স্ত্রী) ঈশ্বর; ঈশ্বরী; ব্যক্তি নাম৷

ঈশ্বরীপুর (ক্যানিং-২)— যে গ্রাম ঈশ্বরের দান অথবা ব্যক্তিনাম৷

উচিলদহ (মিনাখাঁ)— উচিল > উচল (উঁচুস্থান); চারদিকে দহের মাঝে উঁচু গ্রাম৷

উত্তর অঙ্গদবেড়িয়া (ক্যানিং-১)— অঙ্গদ—কেয়ুর; বাজু; বাজু আকৃতি বিশিষ্ট স্থান৷

উত্তর অরুণনগর (জয়নগর-১)— অরুণ; ব্যক্তিনাম৷

উত্তর আকড়াতলা (মিনাখাঁ)— আকড়া < আগড়া; আগড়া— খোসাসার ধান; দরিদ্র গ্রাম৷

উত্তর কাশীনগর (মথুরাপুর-২)— কাশী; ব্যক্তিনাম৷

উত্তর গরানকাটি (জয়নগর-২)— গরানগাছ কেটে যে গ্রামের পত্তন; ‘উত্তর’ যুক্ত করে পৃথক গ্রামের অস্তিত্ব৷

উত্তর গঙ্গাধরপুর (মথুরাপুর-১)— গঙ্গাধর; ব্যক্তিনাম৷

উত্তর গোবিন্দপুর (মথুরাপুর-১)— গোবিন্দ; ব্যক্তিনাম৷

উত্তর গোবিন্দপুর (মথুরাপুর-১)— গোবিন্দ; ব্যক্তিনাম৷

উত্তর চন্দনপুর (কাকদ্বীপ)— চন্দন; ব্যক্তিনাম৷

উত্তর চন্দনপিড়ি (নামখানা)— চন্দনপিড়ি— যে পাথরে চন্দন ঘষা হয়; চন্দনপিঁড়ির আকারে গাঁ৷

উত্তর জয়কৃষ্ণপুর (মথুরাপুর-১)— জয়কৃষ্ণ; ব্যক্তিনাম৷

উত্তর জনার্দনপুর (মথুরাপুর-১)— জনার্দন; ব্যক্তিনাম৷

উত্তর দুর্গাপুর (জয়নগর-১)— দুর্গা; দেবীনাম৷

উত্তর দুর্গানগর (মথুরাপুর-১)— দুর্গা; দেবীনাম৷

উত্তর দুর্গাপুর (জয়নগর-১)— দুর্গা; দেবীনাম৷

উত্তরডাঙা (গোসাবা)— উত্তরে অবস্থিত স্থলভাগ৷

উত্তর আবাদ (জয়নগর-১)— উত্তরের আবাদকৃত গাঁ৷

উত্তরপাড়া নিজ (জয়নগর-১)— উত্তরপাড়া থেকে পৃথক করার জন্য ‘নিজ’ কথাটি ব্যবহৃত; নিজ— আপন; উত্তর প্রান্তিকের বাসস্থান৷

উত্তর বটতলা (বাসন্তী)— যেখানে বটগাছ আছে৷

উত্তর মহেন্দ্রপুর (পাথরপ্রতিমা)— মহেন্দ্র; ব্যক্তিনাম৷

উত্তর মোকামবেড়িয়া (বাসন্তী)— মোকাম— বাসস্থান; বাসভূমি বেষ্টিত স্থান৷

উত্তর মধুসূদনপুর (মথুরাপুর-১)— মধুসূদন; ব্যক্তিনাম৷

উত্তর রামনগর (মথুরাপুর-১)— রাম; দেবকল্প নাম৷

উত্তর রঘুনাথপুর (জয়নগর-১)— রঘুনাথ; ব্যক্তিনাম৷

উত্তর রায়পুর (মথুরাপুর-১)— পদবীনাম (রায়)৷

উত্তর রেদোখালি (ক্যানিং-১)— রাধা > রেদো; রাধার নামে গ্রামনাম৷

উত্তর লক্ষ্মীনারায়ণপুর (মথুরাপুর-১)— লক্ষ্মীনারায়ণ; ব্যক্তিনাম৷

উত্তর শিবগঞ্জ (মথুরাপুর-১)— শিব; ব্যক্তিনাম; দেবনাম৷

উত্তর শিবপুর (মথুরাপুর-১)— শিব; দেবনাম; ব্যক্তিনাম৷

উত্তর সুরেন্দ্রগঞ্জ (পাথরপ্রতিমা)— সুরেন্দ্র; ব্যক্তিনাম৷

উত্তর সোনাখালি (বাসন্তী)— যে গ্রামে রাশি রাশি সোনালি ফসল ফলে; কৃষিতে উন্নত গ্রাম; সোনা গাছ (Bignonia indica) মোড়া গাঁ৷

উত্তর সারসবেড়িয়া (মথুরাপুর-১)— সারস—বক; যেখানে সারস দেখা যায়৷

উপেন্দ্রনগর (পাথরপ্রতিমা)— উপেন্দ্র; ব্যক্তিনাম৷

কচুখালি (গোসাবা)— যে গাঁয়ে কচু জন্মায়৷

কচুবেড়িয়া (সাগর)— কচু কন্দ বেষ্টিত গাঁ৷

কচুরুলা (মিনাখাঁ)— রুলা— রোল (সরু শাখা); সরু ডাঁটার কচু জন্মানো গাঁ৷

কমলপুর (সাগর)— কমল— পদ্ম; পদ্ম ফোঁটা গাঁ৷

কন্দর্পপুর (মথুরাপুর-১)— কন্দর্প—মদন, কামদেব; মদনদেব প্রভাবিত গাঁ; সুন্দর সুদৃশ্য গাঁ৷

কয়ামখান (ক্যানিং-২)— কয়াম খান নামের কোনও মুসলমান ব্যক্তির নামাঙ্কিত গ্রাম৷

কড়াকাটি (ক্যানিং-১)— কড়া < কড়ুই (জংলি জায়গা); জংলি জায়গা থেকে কর্তিত অংশে যে গাঁয়ের পত্তন৷

কঙ্কনদিঘি (মথুরাপুর-২)— কঙ্কন— কাঁকন, বালা, মল; যে গাঁয়ে বালা আকৃতির দিঘি আছে৷

কড়িবেড়িয়া (জয়নগর-২) : কড়ি < কড়ুই— ধানের গোলা; সমৃদ্ধ গ্রাম; ধানের গোলা বেষ্টিত গাঁ অথবা যেখানে নদীতে কড়ি মেলে৷

কলারিয়া (ক্যানিং-১)— রিয়া— রোয়া? কলা গাছের গাঁ৷

কাকদ্বীপ (কাকদ্বীপ)— যে দ্বীপে কাক ঘুরে বেড়ায়; অজস্র কাকের গাঁ৷

কাকসা (কুলতলি)— কাকসাড়ি < কাঁকসা <কঙ্ক (এক ধরণের বক); বক ঘুরে বেড়ানোর জায়গা৷

কাপার পুরী (ক্যানিং-২)— যে গাঁয়ে কাপা পদবীধারী কোনো ব্যক্তির ‘পুরী’ (প্রাসাদ) আছে৷

কারখানার চক (ক্যানিং-১)— যে চৌকো জায়গায় কারখানা আছে; চক— চৌকো স্থান৷

কালা হাজরা (বাসন্তী)— কালা (বধির); বধির ‘হাজরা’ পদবিধারী কোনো ব্যক্তি বিশেষের নামে গাঁয়ের নাম অথবা ব্যক্তিনাম৷

ক্যানিং (ক্যানিং-২)— ব্রিটিশ শাসক লর্ড ক্যানিং (Lord Canning) এর নামে গ্রামের নাম৷

কাঁঠালবেড়িয়া (বাসন্তী)— কাঁঠাল গাছ ঘেরা গাঁ৷

কাঁকড়াদহ (ক্যানিং-২)— যেখানে নিচু জলাশয় (দহে) অথবা গর্তে কাঁকড়া পাওয়া যায়৷

কাঁটাপুকুরিয়া (জয়নগর-১)— যেখানে কাঁটা ভর্তি পুকুর আছে৷

কাঁটামারি (কুলতলি)— কাঁটা গুল্ম— ভর্তি গাঁ৷

কাঁটাখালি (হাসনাবাদ)— কাঁটায় ভর্তি খাল অবলম্বী গ্রাম৷

কামারপাড়া (গোসাবা)— কামার যে গাঁয়ে বসবাস করে৷

কামদেবনগর (পাথরপ্রতিমা)— কামদেব—মদনদেব; দেবনাম৷

কাদিহাটি (মিনাখাঁ)— যে গাঁয়ে কাদা ডিঙিয়ে হাটে আসতে হয়৷

কামারগাঁতি (হাড়োয়া)— কামার সম্প্রদায়ের গাঁ৷

কামাক্ষ্যাপুর (গোসাবা)— কামাক্ষ্যা; দেবনাম৷

কালিনগর (কাকদ্বীপ)— কালি— ক্ষেত্রের বা ঘনপদার্থের মাপ; বর্গফল বা ঘনফল; বর্গাকার গাঁ৷

কালিনগর (জয়নগর-২)— কালি; দেবনাম; ব্যক্তিনাম৷

কালিনগর (সন্দেশখালি-১)— কালি; দেবনাম, ব্যক্তিনাম

কালিকাপুর (হাড়োয়া)— দেবী কালিকার নামে গ্রাম৷

কালিকাপুর (জয়নগর-২)— কালিকা; দেবনাম৷

কালিকাতলা (ক্যানিং-২)— কালিকা; দেবনাম৷

কালিডাঙা (বাসন্তী)— কালি; ব্যক্তিনাম; দেবনাম৷

কালিদাসপুর (গোসাবা)— কালিদাস; ব্যক্তিনাম৷

কালিদাসপুর (মথুরাপুর-২)— কালিদাস; ব্যক্তিনাম৷

কালিদাসনগর (কুলতলি)— কালিদাস; ব্যক্তিনাম৷

কালিয়ানাই (হাড়োয়া)— কালিয়া— এক প্রকার সুগন্ধি গাছ; যে গাঁয়ে আর কালিয়া গাছ জন্মায় নি৷

কালুতলা (হাসনাবাদ)— কালু < কালুই (উর্বর স্থান); ফসল ফলানো গাঁ৷

কালুয়াখালি (ক্যানিং-২)— যে উর্বর স্থানে প্রচুর ফসল জন্মায়৷

কালুগাছি (ক্যানিং-২)— কালু— উর্বর; উর্বর গাঁ৷

কানমারি (সন্দেশখালি-১)— কান— কিনারা; নদীর কান (কিনারা) বরাবর গড়ে ওঠা গাঁ৷

কাশতলা (সাগর)— কাশফুলের গাঁ; তলক > তলা৷

কাশীনগর (কাকদ্বীপ)— কাশী; ব্যক্তিনাম৷

কাশিমপুর গঙ্গাঘাটা (জয়নগর)— আদিগঙ্গার ঘাটে কাশিম নামের জনৈক ব্যক্তি প্রতিষ্ঠিত গ্রাম৷

কাশিয়াবাদ (কাকদ্বীপ)— কাশফুলে ভর্তি আবাদ৷

কিশোরীনগর (পাথরপ্রতিমা)— কিশোরী প্রধান গাঁ অথবা কিশোরী; ব্যক্তিনাম৷

কিশোরীমোহনপুর (কুলতলি)— কিশোরীমোহন; ব্যক্তিনাম৷

কিসমত বোয়ালবেড়িয়া (জয়নগর-১)— কিশমত— ভাগ্য; কপালগুণে বোয়াল প্রাপ্তির গাঁ৷

কিসমত জনার্দনপুর (হাড়োয়া)— কিসমত যোগে একাধিক জনার্দনপুরের মধ্যে একটিকে নির্দিষ্ট করা হচ্ছে; জনার্দন— ব্যক্তিনাম; ভাগ্য ফেরে প্রাপ্ত গাঁ৷

কিসমত সারসবেড়িয়া (মথুরাপুর-১)— যে সারসবেড়িয়ার মানুষের কপাল জোর বেশ৷

কিল্লা দুর্গানগর (জয়নগর-২)— কিল্লা— কেল্লা; পৃথক দুর্গানগর বোঝানোর জন্য ‘কিল্লা’ ব্যবহৃত৷

কীর্তনখোলা (কুলতলি)— কীর্তন সংস্কৃতির স্থান; খোলা— স্থান৷

কীর্তনখালি (সাগর)— যে গাঁয়ে কীর্তন চলে৷

কচিয়ামড়া (হাড়োয়া)— কুচি— শুয়োর; মরা— যেখানে শুয়োরের শব দেখা যায়৷

কুমারখালি (বাসন্তী)— কুমোর প্রধান খাল অবলম্বী গ্রাম৷

কুমারপাড়া (মথুরাপুর-২)— যেখানে কুমোর সম্প্রদায়ের বাস৷

কুমারপুর (পাথরপ্রতিমা)— কুমোরদের গাঁ৷

কুমার শা চক (ক্যানিং-১)— কুমার সাহা (ব্যক্তি-বিশেষ) এর নামে চক৷

কুমারীমারি (বাসন্তী)— যেখানে জনৈক কুমারী মারা পড়ে৷

কুলসিনি (মিনাখাঁ)— কুলবৃক্ষের শ্রেণি? সারিসারি কুল গাছে ভর্তি গাঁ৷

কুলগাছি (হাড়োয়া)— কুলগাছে বেষ্টিত গাঁ৷

কুলের খোঁজ (ক্যানিং-২)— উঁচু বংশের খোঁজ খবর করে যে গাঁয়ে সম্প্রদানের কাজ চলে৷

কুলটি (হাড়োয়া)— কুল + টি (টিকর— উঁচু স্থান); কুলগাছ জন্মানো উঁচু গাঁ৷

কুলাঘুরাণি (ক্যানিং-১)— কুলা ঘুরিয়ে শস্য বাছাইয়ের গাঁ৷

কুড়িয়াডাঙা আবাদ (হাসনাবাদ)— যে আবাদের ডাঙা এলাকায় কলাই (কুড়িয়া— খুড়িয়া) চাষ হয়৷

কুয়েমুড়ি (পাথরপ্রতিমা)— কুয়ে <কুড় (পুঞ্জ,স্তুপ); মুড়ি— নেড়া; শাখাপ্রশাখাহীন নেড়া গাছের স্তুপ৷

কুলতলি (কুলতলি)— কুলগাছের প্রাচুর্য যেখানে; তলি <তলক৷

কুন্দখালি (কুলতলি)— কুন্দ গাছের যেখানে প্রাচুর্য৷

কুলপি (কুলপি)— যে স্থান কুলুপ আঁটার মতো দুর্ভেদ্য; সুরক্ষিত গ্রাম৷

কুয়াবাটি (কুলতলি)— কুয়া— কাক; বাটি— বাসা; যেখানে কাকের বাসা৷

কুশাংগ্রা (মিনাখাঁ)— কুশ (ঘাস) জন্মানো গ্রাম; গ্রা <গ্রাম৷

কুসুমতলা (নামখানা)— যেখানে ফুল (কুসুম) চাষ হয়৷

কেওড়াখালি (পাথরপ্রতিমা)— কেওড়া গাছের প্রাচুর্য ভরা গাঁ৷

কেওড়াখালি (কুলতলি)— যেখানে কেওড়া জন্মায়৷

কেদারপুর (পাথরপ্রতিমা)— কেদার; ব্যক্তিনাম৷

কেরুণাদিয়া (হাসনাবাদ)— কেরুণ <কেয়ূর (বাহুর অলঙ্কার); অলঙ্কার দিয়ে ক্রয় করা গাঁয়ের জমিদারি৷

কোয়াবেড়িয়া (কাকদ্বীপ)— কোয়া <কোষ; কাঁঠালের কোয়ার মতো ছোট্ট ছোট্ট দ্বীপ জুড়ে যে গ্রাম৷

কোনানগর (হাসনাবাদ)— কোণা <কোণ; গাঁয়ের কোন প্রসিদ্ধ স্থান নদীর কোণায় অবস্থিত৷

কোড়াকাঠি (সন্দেশখালি-২)— কোড়া <কোরা (= আনকোরা); কাষ্ঠি— কাঠি; নবীন গাছগাছালি দিয়ে ঘেরা গ্রাম৷

কৃষ্ণনগর (বাসন্তী)— কৃষ্ণ; ব্যক্তিনাম; দেবনাম৷

কৃষ্ণনগর (মথুরাপুর-১)— কৃষ্ণ; ব্যক্তিনাম; দেবনাম৷

কৃষ্ণনগর (সাগর)— কৃষ্ণ; ব্যক্তিনাম; দেবনাম৷

কৃষ্ণনগর (পাথরপ্রতিমা)— কৃষ্ণ; ব্যক্তিনাম; দেবনাম৷

কৃষ্ণদাসপুর (পাথরপ্রতিমা)— কৃষ্ণদাস; ব্যক্তিনাম৷

কৃষ্ণপাড়া (হাসনাবাদ)— কৃষ্ণ; ব্যক্তিনাম; দেবনাম৷

কৃষ্ণরামপুর (মথুরাপুর-১)— কৃষ্ণরাম; ব্যক্তিনাম৷

কৃপাখালি (ক্যানিং-১)— যেখানে কৃপা গাছ দেখা যায়৷

কৈখালি (কুলতলি)— যেখানে কই মাছ পাওয়া যায়৷

কৈপুকুরিয়া (মথুরাপুর-১)— পুকুরভর্তি কই মাছের গাঁ৷

কৌতলা (মথুরাপুর-২)— কৌ-কড়ুই (কড়াই); যেখানে কড়াই জন্মায়৷

কৌগাছি (হাসনাবাদ)— কৌ-কড়াই; কড়াই গাছ সমৃদ্ধ গ্রাম৷

খড়মপুর (হাসনাবাদ)— <খড় + আম; আগাছা (খড়) ও আম গাছ৷

খড়মপুর আবাদ (হাসনাবাদ)— পৃথক গ্রাম হিসাবে আবাদ কথাটি যুক্ত৷

খইয়ামারা (জয়নগর-২) — খইয়া >খাওয়া; ক্ষয়ে যাওয়া ক্ষীণ গ্রাম; সামাজিক অথবা প্রাকৃতিক অবক্ষয় চিহ্নিত গাঁ৷

খরিয়ত আবাদ (সন্দেশখালি-১)— খরিয়ত; খয়রাত; খয়রাত— দান ; যে গাঁয়ে দান খয়রাত চলে৷

খনিয়া সাহাজাদপুর (জয়নগর-২)— খনিয়ান (খোরাকি দেওয়া); কোন শাহজাদার খোরাকি দানে পুষ্ট গ্রাম৷

খড়িমাচন (বাসন্তী)— খড়ি > খটিকা; খড়ি; অনুর্বর ভূমি; যে গ্রামে চাষবাস ভালো হয় না৷

খড়িদিয়ারিয়া (মিনাখাঁ)— খড়ি; অনুর্বর ভূমি; দিয়া— দুই নদী বেষ্টিত ভূমি; দুটি নদীর মাঝে অনুর্বর গ্রাম৷

খসঙ্কদহ (সন্দেশখালি-১)— খসঙ্ক— খসম (স্বামী); কোনো খসম-এর নামঙ্কিত গাঁ ও দহ৷

খাতরা (হাড়োয়া)— খাতরা > খাতড়া (= খেতড়া); ক্ষেত্র-বটক; যেখানে বটগাছ স্থানে স্থানে দেখা যায়৷

খাস বলন্দর (হাড়োয়া)— বলন্দর (বলদ-চালক); পালিত বলদ দিয়ে চাষবাস বা গাড়ি টানায় যে গাঁয়ে সমস্যা হয় না৷

খাগড়া (ক্যানিং-২)— খাগড়া— নল খাগড়া; যেখানে নল খাগড়া বেশ জন্মায়৷

খানসাহেব আবাদ (সাগর)— খানসাহেব নামক ব্যক্তির আবাদ৷

খাসকুমার আলি (ক্যানিং-১)— খাস; নিজ; কুমার ও আলি নামের দুই ব্যক্তির নিজ ভূখণ্ড৷

খাস রামকারের ছাড় (সাগর)— নিজের এলাকায় রাম নামের ব্যক্তি যেখানে কর ছাড় বা মকুব করে দেয়৷

খাসিমারা (সাগর)— খাসি-ছাগল; কোনও ঘটনায় খাসি মেরে ফেলার স্থান বিশেষ অথবা অজস্র খাসি মেলে যেখানে৷

খাতসারা (জয়নগর-১)— খাত-গর্ত; খাত ভরিয়ে যে গ্রাম গড়ে উঠেছে৷

খাড়ি (মথুরাপুর-২)— নিচু ভুঁই যেখানে উজানে জল ওঠে; নিচু গাঁ; খাঁড়ি > খড়ি; নলখাগড়া আবৃত গাঁ৷

খাড়ু (হাসনাবাদ)— খাড়ু < খাড়ুই (= জেলেদের মাছ রাখার আধার); খাড়ুর আকারযুক্ত গ্রাম অথবা জেলেদের গ্রাম৷

খাড়ুপলা (হাড়োয়া)— যেখানে খাড়ুর বিনিময়ে পলা জোগাড় হয়েছিল?

খালিসাদি (হাড়োয়া)— দি < দিখি; খলিসা— খলসে? যেখানে দিঘিতে খলসে মাছ পাওয়া যায়৷

খাঁকুড়দহ (জয়নগর-১)— খাঁকুড়— কাঁকুড়? নিচু ভূমিতে যেখানে কাঁকুড় জন্মায়৷

খিরীষখালি (বাসন্তী)— খিরীষ < শিরীষ; শিরীষ গাছ যেখানে জন্মায়৷

খুলনা (সন্দেশখালি-২)— খুলনা < খুল্লনা <খুল্লনাবা (= ছোট নৌকা); যে গাঁয়ের চারদিকের নদীতে ছোট ছোট নৌকা ভাসে৷

খুনখালি (ক্যানিং-২)— খুনের ঘটনা যে খাল অবলম্বী গাঁয়ে ঘটে৷

খোঁজ খিদির (মথুরাপুর-১)— খোজা খিদির নামের ব্যক্তির বাস যে গাঁয়ে৷

খোদাদাতপুর (মথুরাপুর-১)— যে গ্রামে খোদার দোয়ার উপর নির্ভর করে দিন গুজরান চলে৷

খোড়দা (হাসনাবাদ)— খোরা— বড় বাটি; বড় বাটির ন্যায় দহ যে গ্রামে; দহ-জলাভূমি; দহ >দা৷

খোড়দা চন্দনপুর (হাড়োয়া)— গ্রাম মধ্যে দহ-সহ চন্দনপুর৷

ক্ষেত্রমোহনপুর (পাথরপ্রতিমা)— ক্ষেত্রমোহন; ব্যক্তিনাম৷

গড় (মিনাখাঁ)— গড়— দুর্গ; দুর্ভেদ্য গ্রাম; দুর্গ অর্থে সুরক্ষিত; সুরক্ষিত গ্রাম৷

গড় আবাদ (মিনাখাঁ)— আবাদ-কৃত সুরক্ষিত গ্রাম৷

গড় দুয়ানি (জয়নগর-২)— দুয়ানি < দোয়ানি— দুটি বড় নদীর সঙ্গে সংযোগরক্ষাকারী খাল; খাল অবলম্বী সুরক্ষিত গ্রাম৷

গড়খালি (ক্যানিং-১)— খাল অবলম্বী সুরক্ষিত গ্রাম৷

গড়াকুপি (হাসনাবাদ)— কুপি—প্রদীপ; যে গ্রামে প্রদীপ গড়ার কাজ হয়৷

গঙ্গাপুর (জয়নগর-২)— গঙ্গা; ব্যক্তিনাম; দেবনাম৷

গঙ্গাধরপুর (কুলতলি)— গঙ্গাধর; ব্যক্তিনাম৷

গঙ্গাধরপুর (কাকদ্বীপ)— গঙ্গাধর; ব্যক্তিনাম৷

গঙ্গাধরপুর (সাগর)— গঙ্গার মোহানায় কপিলমুনির আরাধনার মন্দির বা থান যেখানে আছে৷

গঙ্গানারায়ণপুর (জয়নগর-১)— গঙ্গানারায়ণ; ব্যক্তিনাম৷

গদখালি (বাসন্তী)— যেখানে গদ অর্থাৎ কাদা৷

গজালিয়া (সন্দেশখালি-১)— গজাল— বড় পেরেক; যে গ্রামে পেরেক দিয়ে ঘরের কাঠামো বা নৌকা গড়া হয়৷

গনেশনগর (নামখানা)— গনেশ; ব্যক্তিনাম; দেবনাম৷

গনেশপুর (কাকদ্বীপ); গনেশ; ব্যক্তিনাম; দেবনাম৷

গরাইনগর (হাড়োয়া); গড়াই < গড়ই (= ল্যাটা মাছ); যেখানে ল্যাটা মাছ মেলে অথবা গড়াই; ব্যক্তিনা৷

গরান বোস (বাসন্তী)— গরান— এক প্রকার গাছ; বোস— বসতি; গরান কেটে বসতি স্থাপন হয়েছে যে গ্রামে অথবা ব্যক্তিনাম৷

গাববুনি (ক্যানিং-২)— যেখানে গাব গাছের বন আছে৷

গাববেড়িয়া (মথুরাপুর-১)— গাব গাছ বেষ্টিত গাঁ৷

গাঁতি (ক্যানিং-২)— পল্লিবাসীদের মধে কোনও কাজের জন্য সাময়িক সংঘবদ্ধ হয়ে সমষ্টির সিদ্ধান্তে গড়ে ওঠা গ্রাম অথবা ব্যক্তিনাম৷

গিলার চট (মথুরাপুর-২)— গিলা—-চ্যাপ্টা বীজ; চট >চটক (—চড়াই পাখি); যেখানে চড়াই পাখি শস্য বীজ খেয়ে ফেলে৷

গুত্রী (ক্যানিং-২)— গুত্রী < গোত্তা; নদীর জলস্রোত যেখানে পাক খেয়ে ধাক্কা মারে অথবা একই গোত্রের লোকের বাস৷

গুঞ্জিরপুর (মথুরাপুর-১)—-গুঞ্জির; গুনগুন শব্দ; মৃদুমন্দ শব্দধ্বনির গ্রাম৷

গুমুকবেড়িয়া (জয়নগর-১)—-গুমুক < গোমুক (= পূর্ব); পূর্বদিক খোলা গাঁ; পূর্বদিকে নদী৷

গুরুদাসপুর (পাথরপ্রতিমা)—-গুরুদাস; ব্যক্তিনাম৷

গোদাবর (কুলতলি)—-গোদাবর; দলপতি; সঠিক নেতৃত্বে পরিচালিত গ্রাম৷

গোপালনগর (কাকদ্বীপ)—-গোপাল; ব্যক্তিনাম৷

গোপালনগর উত্তর (পাথরপ্রতিমা)—-গোপাল; ব্যক্তিনাম; পৃথক গ্রাম৷

গোপালনগর দক্ষিণ (পাথরপ্রতিমা)—-গোপাল; ব্যক্তিনাম; দক্ষিণে পৃথক গ্রাম৷

গোপালপুর (হাড়োয়া)—-গোপাল; ব্যক্তিনাম; দেবনাম৷

গোপালকাটা (গোসাবা)—-গোপাল নামক ব্যক্তির সৌজন্যে কর্তিত স্থান বিশেষে গড়ে ওঠা গ্রাম৷

গোপালগঞ্জ (কুলতলি)— গোপাল; ব্যক্তিনাম৷

গোপীনাথপুর (মথুরাপুর-১)— গোপীনাথ; ব্যক্তিনাম৷

গোবিন্দপুর (কাকদ্বীপ)— গোবিন্দ; ব্যক্তিনাম৷

গোবিন্দপুর (সাগর)— গোবিন্দ; ব্যক্তিনাম৷

গোবিন্দপুর (জয়নগর-১)— গোবিন্দ; ব্যক্তিনাম৷

গোবিন্দপুর (হাসনাবাদ)— গোবিন্দ; ব্যক্তিনাম৷

গোবিন্দপুর আবাদ (পাথরপ্রতিমা)— গোবিন্দ; ব্যক্তিনাম৷

গোবর্দ্ধনপুর (পাথরপ্রতিমা)— গোবর্দ্ধন; ব্যক্তিনাম৷

গোবিন্দরামপুর (কাকদ্বীপ)— গোবিন্দরাম; ব্যক্তিনাম৷

গোবরামারি (ক্যানিং-১)— বোকা অকর্মণ্য ভালো মানুষের গাঁ; গোবরা < গোবর৷

গোবেড়িয়া আবাদ (হাড়োয়া)— গোসম্পদ সমৃদ্ধ গ্রাম৷

গোয়ালপুকুর (হাড়োয়া)— গোয়াল ও পুকুর ভর্তি গাঁ; সমৃদ্ধ গ্রাম৷

গোয়ালপোতা (হাড়োয়া)— গবাদি পশুর সংখ্যাধিক্যের গাঁ৷

গোয়ালবেড়িয়া (জয়নগর-১)— গোসম্পদের গাঁ৷

গোয়ালদহ (মিনাখাঁ)— গবাদি পশু যেখানে চরে বেড়ায়৷

গোলাঘাটা (মিনাখাঁ)— গোলা— শস্যাধার; শস্য সমৃদ্ধ গ্রাম; নদীঘাটে সারি সারি শস্য গোলা যে গাঁয়ে৷

গোলাবাড়ি (ক্যানিং-১)— গোলাঘর অর্থাৎ শস্য সমৃদ্ধ গ্রাম৷

গোসাবা (গোসাবা)— গোসাবা <গুয়াসাবা; গুয়া সুপারি; সাবা <সাবান (সৌর); রোদ্দুরে সুপারি শুকোনোর গাঁ৷

গৌড়দহ (ক্যানিং-১)— গৌড় <গৌড়ী (= চিটে গুড় থেকে তৈরি দিশি মদ); যে গাঁয়ে দেশি মদ প্রস্তুত হয়৷

ঘনার বান (মিনাখাঁ)— ঘন <ঘনাগম (= জলদাগম); বর্ষায় জলস্ফীতিতে যেখানে বান ডাকে৷

ঘনশ্যামপুর (হাসনাবাদ)— ঘনশ্যাম; ব্যক্তিনাম৷

ঘটিহারা (সন্দেশখালি-১)— ঘটি; জলপাত্র; ঘটি হারানো গ্রাম; শ্রী-হীন স্থান৷

ঘাট বকুলতলা (মথুরাপুর-১)— যে গ্রামের নদীঘাটে বকুল গাছ আছে৷

ঘিখালি (ক্যানিং-২)— যেখানে প্রচুর ঘি প্রস্তুত হয়৷

ঘি পুকুরিয়া (মিনাখাঁ)— গ্রীষ্মে যেখানে পুকুরের জলের রঙ ঘি বর্ণ ধারণ করে৷

ঘুঘুডাঙা (পাথরপ্রতিমা)— যেখানে ডাঙায় ঘুঘু চরে৷

ঘুনি (হাসনাবাদ)— ঘুনি; মাছ ধরার উপকরণ; ত্রিভূজাকার; তিনকোনা আকৃতির গ্রাম৷

ঘোড়াদল (মথুরাপুর-১)— যেখানে ঘোড়ার দল দেখা যায়৷

ঘোষপুর (সন্দেশখালি-১)— ঘোষেদের গাঁ; পদবী নাম৷

ঘোষের চক (জয়নগর-২)— ঘোষেদের চারকোনা গাঁ; চক; চারকোনা স্থান৷

ঘোষালাটি (হাসনাবাদ)— ঘোষাল-পদবি;টি-টিকর; ঘোষালদের প্রতিষ্ঠিত উঁচু ভূমির গ্রাম; টিকর; উঁচু ভূমি৷

ঘোড়ামারা (সাগর)— যেখানে ঘোড়া মারা পড়ে অথবা অজস্র ঘোড়া৷

ঘোলা (হাসনাবাদ)— ঘোলা; আবিল; বিতর্কিত গ্রাম; ঘোলাটে চরিত্রের মানুষের গাঁ৷

চক আহমদপুর (মিনাখাঁ)— আহমদ নামের কোনও ব্যক্তির নামে প্রতিষ্ঠিত গ্রাম৷

চক কুড়িয়াডাঙা (হাসনাবাদ)— কুড়িয়া; কলাই; যেখানে কলাই (খেসারি) জন্মায় অথবা নদীতে কড়ি মেলে যেখানে৷

চক খানপুকুর (হাসনাবাদ)— ‘খান’দের পুকুর আছে যেখানে৷

চক ট্যাংরামারি (হাসনাবাদ)— যেখানে বিস্তর ট্যাংরা মাছ পাওয়া যায়৷

চক পাটালি (হাসনাবাদ)— যে চকে পাটালি প্রস্তুত হয়৷

চক পীতাম্বর দত্ত (বাসন্তী)— পীতাম্বর দত্ত-এর নামাঙ্কিত চক৷

চক ভগবানপুর (মথুরাপুর-১)— ভগবানের নামে উৎসর্গ করা চক অথবা ব্যক্তিনাম৷

চক মধুসূদনপুর (মথুরাপুর-১)— মধুসূদন; ব্যক্তিনাম৷

চক সরবেড়িয়া (মথুরাপুর-১)— সর; সরোবর; যে গাঁয়ে বড় সরোবর আছে৷

চপলার খোপ (মথুরাপুর-২)— চপলা; লক্ষ্মী; খোপ-ছোট এলাকা; সমৃদ্ধ ছোট গ্রাম অথবা ব্যক্তিনাম৷

চর নারায়ণপুর (হাসনাবাদ)— নারায়ণ; দেবনাম; ব্যক্তিনাম; চর; নদীবুকে জেগে ওঠা ভূখণ্ড; দ্বীপ-গ্রাম৷

চরনিখালি (বাসন্তী)— চরজাগা নদী বেষ্টিত গাঁ৷

চর বৈদ্যের আবাদ (বাসন্তী)— যে আবাদে বৈদ্য আছে৷

চর রামেশ্বরপুর (হাসনাবাদ)— রামেশ্বর; ব্যক্তিনাম৷

চন্দ্রকোনা (বাসন্তী)— চাঁদের কর্তিত কোনার মতো দেখতে ভূখণ্ড৷

চন্দনেশ্বর (জয়নগর-১)— যেখানে চন্দনেশ্বর নামের শিব বিরাজ করে৷

চরাঘাটা (জয়নগর-১)— চর জাগা খেয়া-ঘাটে থাকা গাঁ৷

চাঁদপুর (হাসনাবাদ)— চাঁদের আলোয় আলোকিত গ্রাম; উন্নত গ্রাম৷

চাঁদিপুর (কাকদ্বীপ)— চাঁদি; খাঁটি রুপো; সমৃদ্ধ গ্রাম৷

চাঁদিপুর (গোসাবা)— চাঁদি (ব্রহ্মতালু)-র মতো আকারযুক্ত গ্রাম৷

চাঁদিপুর (সাগর)— ব্রহ্মতালুর আকৃতিযুক্ত গ্রাম৷

চাঁদিপুর (জয়নগর-২)— চাঁদি থেকে অলংকার প্রস্তুতের গাঁ৷

চাঁদিবাড়ি (ক্যানিং-২)— যে গাঁয়ে সম্পদশালী লোকের বাস৷

চাঁপালি (মিনাখাঁ)— চাঁপা গাছ ভর্তি গ্রাম৷

চাঁপালি আবাদ (মিনাখাঁ)— নতুন করে আবাদি গাঁয়ে যেখানে চাঁপা গাছের দেখা মেলে৷

চাঁপাতলা (হাসনাবাদ)— চাঁপা গাছের গাঁ৷

চাতিলাবেড়িয়া (হাসনাবাদ)— চাতিলা; চালতা; চালতা গাছ বেষ্টিত গ্রাম৷

চাঁড়াল খালি (হিঙ্গলগঞ্জ)— চাঁড়াল <চণ্ডাল; যেখানে চণ্ডাল বা চাঁড়াল সম্প্রদায়ের বসতি৷

চিমটা (হাসনাবাদ)— চিমটা < চামটা (= চামড়া মাটি); শক্ত আঠালো অনুর্বর জমির গ্রাম৷

চিমটা (গোসাবা)— আঠালো মাটি (চামটা)-র স্বল্প ফসল জন্মানো গাঁ৷

চিন্তামনিপুর (পাথরপ্রতিমা)— চিন্তামনি; ব্যক্তিনাম৷

চঙহাটা (ক্যানিং-২)— চঙ < চোঙ; যে গাঁয়ের হাটে চোঙ দিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রচার, খবরাখবর জানানো হয়৷

চুনপরি (ক্যানিং-২)— পরি < পুরী? চুন দিয়ে রঙ করা প্রাসাদ (পুরী)? শ্বেত-প্রাসাদের গাঁ৷

চুনাখালি (বাসন্তী)— চুনা— ছোট মাছ; যেখানে অজস্র ছোট ছোট মাছ পাওয়া যায়৷

চুপড়িঝাড়া (জয়নগর-২)— চুপড়ি— ছোট ঝুড়ি; ঝাড়া— ঝেড়ে ফেলা; নিঃশেষিত কপর্দকহীন স্থান৷

চুঁচুড়া (সন্দেশখালি-১)— চুঁচুড়া— চঞ্চল (= আগাছা বিশেষ); আগাছা জন্মানো গাঁ৷

চুটকিয়া রাধানগর (মিনাখাঁ)— যে রাধা (ব্যক্তিনাম) নগর গাঁ ছোট (চুটকি) রাধা; স্ত্রীনাম৷

চেমাগুড়ি (সাগর)— চেমা— গুলেমাছ; গুড়ি— স্থান; যেখানে খুব গুলে মাছ পাওয়া যায়৷

চেলিকাটি (ক্যানিং-২)— চেলি < চিলতা, (= সরু প্রলম্বিত খণ্ড বিশেষ); লম্বাটে গাঁ; চিলতে কাটা স্থান বিশেষ৷

চৈতল (মিনাখাঁ)— চৈতল < চিতল; যেখানে চিতল মাছ পাওয়া যায়৷

চৌহাটা (হাড়োয়া)— চার কোণা হাট৷

চ্যাংদোনা (ক্যানিং-২)— চ্যাং— ল্যাটা গোত্রীয় মাছ; দোনা— দ্রোণ (=ডোবা); যেখানে ডোবায় চ্যাং মাছ পাওয়া যায়৷

ছত্র (হাড়োয়া)— ছত্র— ছাতা; ছাতার মতো দেখতে৷

ছত্র (জয়নগর)— ছত্রাকার স্থান বিশেষ৷

ছত্রখালি (বাসন্তী)— খাল প্রধান ছত্রাক আকৃতি জায়গা৷

ছত্রভোগ (মধুরাপুর-১)— চাঁদির ছাতা দেবতার মানত হিসাবে যেখানে দান করা যায়৷

ছাইমালপুর (হাসনাবাদ)— ছাইমাল— জঞ্জাল; জঞ্জালের স্তুপ যেখানে৷

ছোট বনশ্যামনগর (পাথরপ্রতিমা)— বনশ্যাম; ব্যক্তিনাম৷

ছোট সাহেবখালি (হিঙ্গলগঞ্জ)— যেখানে সাহেবদের দেখা মেলে৷

ছোট সেহারা (সন্দেশখালি-২)— সেহারা— হিসাবরক্ষক; যেখানে খাজনা আদায়ের জন্য দৈনিক হিসাবরক্ষক নিযুক্ত অথবা শেওড়া গাছ৷

জগন্নাথ চক (মথুরাপুর-২)— জগন্নাথ; ব্যক্তিনাম৷

জনার্দনপুর (হাড়োয়া)— জনার্দন; ব্যক্তিনাম৷

জয়কৃষ্ণপুর (মিনাখাঁ)— জয়কৃষ্ণ; ব্যক্তিনাম৷

জয়খালি (ক্যানিং-২)— মোকদ্দমায় জয়যুক্ত গাঁ৷

জয়গাঁ (হাসনাবাদ)— জয় নামক ব্যক্তিনামে স্থাপিত গাঁ৷

জয়গ্রাম (মিনাখাঁ)— জয়; ব্যক্তিনাম৷

জয়গোপালপুর (সন্দেশখালি-২)— জয়গোপাল; ব্যক্তিনাম৷

জয়নগর (জয়নগর-১)— জয়কৃষ্ণ মিত্তিরের নামে গ্রাম৷

জঙ্গলিয়া (জয়নগর ১)— জঙ্গল বেষ্টিত গাঁ৷

জম্বুদ্বীপ (নামখানা)— জম্বু— জম্বুক (= শিয়াল); যে দ্বীপে শেয়ালের বাস৷

জলঘাটা (ক্যানিং-২)— নদীর ঘাটে যেখানে সবসময় জল থাকে; নাব্যতা আছে এমন স্থান৷

জলশিরা (হাসনাবাদ)— জোয়ারভাটায় যেখানে সবসময় জল থাকে; নাব্যতা আছে এমন স্থান৷

জাউতিয়া (জয়নগর-১)— জাউ— মণ্ড; মণ্ডাকৃতি গাঁ৷

জামপুর (হাড়োয়া)— জাম বেষ্টিত গাঁ৷

জামতলা (কুলতলি)— জামগাছ প্রধান গ্রাম৷

জামবেড়িয়া (হাসনাবাদ)— জামগাছ ঘেরা গ্রাম৷

জামবেড়িয়া আবাদ (হাসনাবাদ)— পৃথক আবাদি জামবেড়িয়া৷

জীবনতলা (ক্যানিং-২)— জীবন; ব্যক্তিনাম; তলা <তলক৷

জেলেখালি, পূর্বখণ্ড (সন্দেশখালি-২)— পূবদিকের জেলে প্রধান গ্রাম৷

জেলেখালি, পশ্চিমখণ্ড (সন্দেশখালি-২)— পশ্চিমপ্রান্তে জেলেদের গাঁ৷

জেলেপাড়া (গোসাবা)— জেলে সম্প্রদায়ের স্থান৷

জ্যোতিষপুর (বাসন্তী)— যেখানে জ্যোতিষ শাস্ত্রের দ্বারা ভাগ্য বিচার হয়৷

ঝড়খালি (বাসন্তী)— ঝড়ের প্রবণতাযুক্ত খাল অবলম্বী গ্রাম৷

ঝাঊখালি (গোসাবা)— ঝাউগাছ বেষ্টিত গ্রাম৷

ঝাঊখালি (হাড়োয়া)— ঝাঁঝা < ঝাঁঝি (= জলজ আগাছা পানা); যেখানে ঝাঁঝি ঢাকা জলাশয় দেখা যায়৷

ঝিকরা (হাড়োয়া)— ঝিকরা < ঝিঁকরা (= ঝাড়বাঁধা গুল্ম); ঝোপঝাড় গুল্মের গাঁ অথবা ঝিকর গাছ যেখানে৷

ঝিঙ্কয়া (হাড়োয়া)— ঝিঁক > ঝিঁঙ্কয়া; ঝিঁক— উনানের পাড়ের উঁচু অংশ যার মধ্যে দিয়ে আঁচ ওঠে; ঝিঁকা— নৌকার হালের জোরে টান; উচ্চভূমির যে গাঁয়ের চারদিকে সজোরে নৌকা চলে অথবা ঝিকর গাছ৷

ঝুপখালি (সন্দেশখালি-২)— ঝুপ < ঝপ; যেখানে ছোট ছোট ঝোপ দেখা যায়৷

ঝুঝরগাছা (হাড়োয়া)— ঝুরঝুর < ঝুঝড়; ঝুড়ঝুড়; গাছ থেকে ঝুরঝুর করে পাতা খসে পড়ে যেখানে অথবা ঝিকর গাছ৷

টাকি (হাসনাবাদ)— টাকি— শোল মাছ; যেখানে শোল (টাকি) মাছের ঝাঁক ঘুরে বেড়ায়৷

টাকিপুর (হাসনাবাদ)— শোল মাছ যেখানে পাওয়া যায়৷

টেংরাখালি (ক্যানিং-১)— টেংরা— উঁচু জায়গা? উঁচু ভূমির গাঁ৷

টোংতলা (সন্দেশখালি-২) টোং— ছোট চালাঘর; ছোট ছোট চালাঘরের গাঁ৷

ঠাকুরানিবেড়িয়া (ক্যানিং-১)— জনৈকা ঠাকুরানীর বসতিস্থান৷

ডাবু (ক্যানিং-১)— ডাবু— খাবার বিতরণ করার উপকরণ বিশেষ; ডাবু আকৃতির গ্রাম৷

ডিহিগাছি ( হাড়োয়া)— ডিহি জুড়ে বৃক্ষ সম্ভারের স্থান৷

ডেভিস আবাদ (ক্যানিং-১)— ডেভিস নামক সাহেবের জঙ্গল হাসিলকৃত আবাদ৷

ডোঙাজোড়া (কুলতলি)— ডোঙা— নৌকা; জোড়— ছোট নদী; যেখানে ছোট নদীতে নৌকা চলে; ডোঙা জোড়ায় ছোট নদীটির নাম পিয়ালী৷

ঢেকনামারি (সন্দেশখালি-১)— ঢেকনা— ঢেক না; অনাবৃত গাঁ অথবা ঢেকনা < ঢেমনা (= ভাসা পোদ); অজস্র ভাসা পোদের গাঁ৷

ঢোলখালি (সন্দেশখালি)— ঢোলের মতো ভূমিরূপ যুক্ত গাঁ৷

ঢোলটুকারি (হাসনাবাদ)— ঢোলের আকৃতির উঁচু গাঁ; টুকারি <টিকারি (= উঁচু স্থান)৷

তুক্তিপুর আবাদ (কাকদ্বীপ)— তক্তি— ছোট তক্তা; চতুষ্কোণ ফলক; চারকোণা ফলকের মতো দেখতে গাঁ অথবা তক্তা পাওয়া যায়৷

তাজপুর (মথুরাপুর-১)— তাজ— মুকুট; সাফল্যের মুকুট যে গাঁয়ের; উন্নতগ্রাম৷

তাজপুর ফতেপুর (জয়নগর-১)— দুটি নাম একটি গ্রাম; ফতে < ফতেয়া— ফতোয়া জারির গ্রাম অথবা তাজ ও ফতে; ব্যক্তিনাম৷

তাম্বুলদহ (ক্যানিং-২)— তাম্বুল— পান; পান চাষ যেখানে হয়৷

তাপলা কুশাংগ্রা (মিনাখাঁ)— তাপল <তারপাশা (= উঁচু স্থানের গ্রাম); কুশ ঘাসে আচ্ছাদিত উঁচু গাঁ৷

তারানগর (জয়নগর-২)— তারা; দেবনাম; মা কালি৷

তারানগর (পাথরপ্রতিমা)— দেবনাম; মা মালিকা৷

তারানগর (গোসাবা)— তারা; দেবনাম৷

তালদি (ক্যানিং-১)— তাল + ডিহি > দি; তাল বেষ্টিত উঁচু গাঁ৷

তালবেড়িয়া (হাড়োয়া)— তাল বেষ্টিত গাঁ৷

তালতলা (জয়নগর-২)— তাল <তলক (তলা); যেখানে তালগাছ বেশি জন্মায়৷

তালুকরানাঘাট (মথুরাপুর-১)— রানাঘাট নামের তালুক; কাছাকাছি অন্য রানাঘাট থেকে পৃথক গাঁ; সান বাঁধানো ধাপের ঘাটের পুকুর৷

তিলপি (জয়নগর-১)— তিলপি < তিরপি < তিরপিত (= তৃপ্তি); যে গাঁয়ে তৃপ্তি আছে; সচ্ছল গ্রাম৷

তিলকুমার (বাসন্তী)— তিলকুমার; ব্যক্তিনাম৷

তুলসিঘাটা (জয়নগর-২) তুলসী গাছ গাঁয়ের ঘাটে যেখানে দেখা যায়৷

তুষখালি (সন্দেশখালি-২)— তুষ (= ধানের খোসা); যে গাঁয়ে ধান ভানালে চালের থেকে তুষ বেশি হয়; অনুন্নত গাঁ৷

তেওরিয়া (মিনাখাঁ)— তেওড়— বাঁকা, তোবড়া; (তেওড়া = খেসারি কলাই); নদী বাঁকের যে গাঁয়ে খেসারি কলাই চাষ হয় অথবা তিওর বসতি৷

তেঘরিয়া (হাসনাবাদ)— যেখানে তিনটি ঘর আছে৷

তেঘরিয়া (হাড়োয়া)— তিন ঘর মিলে গাঁ৷

তেলেনিপাড়া (হাড়োয়া)— তিন ঘর মিলে গাঁ৷

তেলেনিপাড়া আবাদ (হাড়োয়া)— তেলেনি— তেলি; তেলিদের গাঁ৷

তেঁতুলতলা (মিনাখাঁ)— তেঁতুল গাছের ছায়া ঢাকা গাঁ৷

তেঁতুলতলা (গোসাবা)— তেঁতুল গাছ প্রধান গাঁ৷

তেঁতুলতলা (বাসন্তী)— তেঁতুল গাছ প্রধান গ্রাম

তেঁতুলবনা (ক্যানিং-১)— তেঁতুলগাছের প্রাচুর্যভরা স্থান৷

তেঁতুলতলা (মিনাখাঁ)— তেঁতুল গাছ বেষ্টিত গাঁ৷

ত্রিমোহিনী (হাড়োয়া)— সকড়কপথে তিন-মাথার মোড়; সংক্ষেপে ‘ত্রিমণী’ নামে প্রচলিত৷

দড়িয়া (ক্যানিং-১)— দড়িয়া <দাঁড়ি; দাঁড়িদের গাঁ৷

দহরানি (ক্যানিং-২)— রানি (ব্যক্তি)-এর দহ (নিচুস্থান); নিচু ভূঁইয়ের গাঁ৷

দমকল (মথুরাপুর-২)— ‘দম’ নিয়ে কল (ধানকল) চলে যে গাঁয়ে; দম = বিরতি অথবা ডোম বসতি৷

দমদমা (জয়নগর-২)— কামান দাগার মতো শব্দ করে খাল দিয়ে জল বেরোয় যে গাঁয়ে৷

দয়াপুর (গোসাবা)— দয়ামায়া যুক্ত হৃদয়ের মানুষের গাঁ অথবা দয়াময়ীর গাঁ৷

দক্ষিণ অঙ্গদবাড়িয়া (ক্যানিং-১)— দক্ষিণ প্রান্তের বাজু (অঙ্গদ) আকার বিশিষ্ট গ্রাম৷

দক্ষিণ আখড়াতলা (সন্দেশখালি-১)— দক্ষিণে পৃথক যে গাঁয়ে আখড়া আছে৷

দক্ষিণ কালিকাতলা (ক্যানিং-১)— কালিকা; মা কালী; দক্ষিণে কালীমায়ের মন্দির অধিষ্ঠিত গ্রাম৷

দক্ষিণ কাশীনগর (পাথরপ্রতিমা)— কাশী; ব্যক্তিনাম৷

দক্ষিণ গঙ্গধরপুর (পাথরপ্রতিমা)— গঙ্গাধর; ব্যক্তিনাম৷

দক্ষিণ গোবিন্দপুর (পাথরপ্রতিমা)— গোবিন্দ; ব্যক্তিনাম৷

দক্ষিণ গরানকাটি (কুলতলি)— গরান কেটে বসতি স্থাপন হয়েছে যে গাঁয়ে৷

দক্ষিণ চন্দ্রনগর (নামখানা)— চাঁদের আকারের গ্রাম৷

দক্ষিণ চন্দনপিড়ি (নামখানা)— চন্দনপিঁড়ির আকারের গাঁ৷

দক্ষিণ জয়কৃষ্ণপুর (মথুরাপুর-২)— জয়কৃষ্ণ ব্যক্তিনাম৷

দক্ষিণ জনার্দনপুর (মথুরাপুর-১)— জনার্দন; ব্যক্তিনাম৷

দক্ষিণ নারায়ণতলা (বাসন্তী)— নারায়ণ; দেবনাম৷

দক্ষিণ দুর্গাপুর (নামখানা)— দুর্গা; দেবনাম৷

দক্ষিণ দুর্গাপুর (কুলতলি)— দুর্গা; দেবনাম৷

দক্ষিণ বটতলা (বাসন্তী)— বট + তলা (তলক); যে গাঁয়ে বটগাছের সুশীতল ছায়া মেলে৷

দক্ষিণ ভগবানপুর (জয়নগর-২)— ভগবানের নাম অথবা ভগবান; ব্যক্তিনাম৷

দক্ষিণ ভেবিয়া (হাসনাবাদ)— ভেবিয়া < ভেদিয়া < ভদ্রক— ভদ্রগ্রাম?

দক্ষিণ মধুসূদনপুর (পাথরপ্রতিমা)— মধুসূদন; ব্যক্তিনাম৷

দক্ষিণ মোকামবেড়িয়া (বাসন্তী)— মোকাম— বাসস্থান; ঘরবাড়ি ঘেরা গাঁ৷ ঘরবাড়িতে পূর্ণ গ্রাম৷

দক্ষিণ রেদোখালি (ক্যানিং-১)— রাধা < রেদো; কোনও এক রাধা প্রতিষ্ঠিত খাল অবলম্বী গ্রাম৷

দক্ষিণ রায়পুর (পাথরপ্রতিমা)— রায়; পদবিনাম৷

দক্ষিণ শিবগঞ্জ (পাথরপ্রতিমা)— শিব; দেবনাম৷

দক্ষিণ শিবপুর (পাথরপ্রতিমা)— শিব; দেবনাম৷

দক্ষিণ সুরেন্দ্রগঞ্জ (পাথরপ্রতিমা)— সুরেন্দ্র; ব্যক্তিনাম৷

দক্ষিণ হরিণডাঙা (মথুরাপুর-১)— যে গাঁয়ে ডাঙায় হরিণ ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়৷

দত্তবাবুর আবাদ (ক্যানিং-১)— দত্তবাবুর পত্তনকৃত গ্রাম৷

দাসপুর (পাথরপ্রতিমা)— দাস; পদবিনাম৷

দাসপাড়া (সাগর)— দাস পদবিধারীদের পাড়া৷

দীর্ঘ দড়িয়া (হাড়োয়া)— দীর্ঘ <দীর্ঘিকা; দিঘি; দিঘি প্রধান গাঁয়ে দাঁড়িদের বাস৷

দ্বারিকনগর (নামখানা)— দ্বারিক— ব্যক্তিনাম৷

দাউদপুর (মথুরাপুর-১)— দাউদ নামের কোনও ব্যক্তির গাঁ৷

দিগম্বরপুর (পাথরপ্রতিমা)— দিগম্বর; ব্যক্তিনাম৷

দীঘির পাড় (ক্যানিং-১)— দিঘি কিনারায় প্রতিষ্ঠিত গাঁ৷

দীঘির পাড় বকুলতলা (মথুরাপুর-২)— বকুলতলার সঙ্গে দিঘিরপাড় জুড়ে পৃথক গ্রাম৷

দুলকি (গোসাবা)— দুলকি— ঘোড়ার চাল; যে গাঁয়ে ঘোড়দৌড়ের প্রচলন আছে৷

দুর্বাচটি (পাথরপ্রতিমা)— দুর্বা— ঘাস; চটি— পান্থশালা; যে গাঁয়ে দুর্বা ঘাস বিছানো উঠোনের পান্থশালা আছে৷

দুর্গানগর (নামখানা)— দুর্গা; দেবনাম৷

দুর্গাগোবিন্দপুর (পাথরপ্রতিমা)— দুর্গাগোবিন্দ; দেবনাম; ব্যক্তিনাম৷

দুর্গাপুর বয়লানি (হিঙ্গলগঞ্জ)— বয়ল < বলয়; বলয় আকারের দুর্গাপুর গাঁ৷

দুলদুলি (হিঙ্গলহঞ্জ)— দুলে— দোলে; দুলি— কাছিম; যে গাঁয়ে কাছিম দুলিয়ে দুলিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় অথবা দুলে বসতি৷

দুমকি (ক্যানিং-১)— দুমকি < দমকা (= সহসা বেগবান); যে গাঁয়ে সহসা দমকা হাওয়া বয় অথবা ডোম বসতি৷

দেউলি (হিঙ্গলগঞ্জ)— দেউল < দেউলি (= দেবমন্দির); যে গ্রামে দেউল আছে৷

দেউলি (ক্যানিং-২)— দেবমন্দিরের গাঁ৷

দেউলবাড়ি দেবীপুর (কুলতলি)— দেউলবাড়ি থাকা দেবীপুর একটি পৃথক গ্রাম; দেবী; ব্যক্তিনাম৷

দেওয়ানগঞ্জ (জয়নগর-১)— যে গঞ্জে দেওয়ানের আবাস৷

দেবীতলা (মিনাখাঁ)— দেবীর আশিস ধন্য গাঁ৷

দেবনগর (নামখানা)— দেব-দেবীর মন্দির অধিষ্ঠিত গ্রাম৷

দেবীনিবাস (নামখানা)— দেবীর আবাসস্থল যে গাঁয়ের পরিচয় বহন করে৷

দেবদল (মিনাখাঁ)— অজস্র দেবতার অধিবাস যেখানে৷

দেবী মথুরাপুর (সাগর)— পৃথক নামধারী গ্রাম; মথুরাপুরের যেখানে দেবীর থান অর্থাৎ মন্দির সেই গ্রামকে বোঝানো হচ্ছে অথবা দেবী; মথুরা; ব্যক্তিনাম৷

দেবীপুর (মথুরাপুর-১)— যে স্থানে দেবীমন্দির আছে৷

দেবীপুর গুড়গুড়িয়া (কুলতলি)— দেবীপুর ও গুড়গুড়িয়া দুয়ে মিলে একটি গ্রাম; গুড় প্রস্তুতকারী গাঁ৷

দেবীচক (পাথরপ্রতিমা)— দেবীর নামে চক; চৌকো গাঁ৷

দৌলতাবাদ (মথুরাপুর-১)— যে গাঁয়ে সম্পদের (দৌলত) প্রাচুর্য দেখা যায়৷

ধরমবাড়িয়া (হিঙ্গলগঞ্জ)— যে গাঁয়ে ধর্মঠাকুরের থান দেখে চেনা যায়৷

ধবলাট (সাগর)— নোনা গাঙের চর যেখানে নুন ফুটে সাদা (ধবল) দেখায়৷ লাট— নতুন পত্তনকৃত গ্রাম৷

ধর্মতলা (ক্যানিং-১)— যেখানে ধর্মঠাকুরের থান আছে৷

ধানতলা (হাড়োয়া)— যে গাঁয়ে প্রচুর ধান হয়৷

ধাখিলি (হিঙ্গলগঞ্জ)— নদী চরে জন্মানো ধানিঘাস (নোনাঘাস) বেষ্টিত গাঁ৷

ধুতুরদহ (মিনাখাঁ)— ধূতরা জন্মানো গ্রাম৷

ধুড়ি (বাসন্তী)— ধুড়ি < ধুকড়ি (= কাঁথার ঝুলি); অনুন্নত গ্রাম৷

ধোসা (জয়নগর-১)— দোসর— সঙ্গী; ‘দোসর’ পূর্ব নাম উচ্চারণ দোষে বদলে হয়েছে ‘ধোসা’ (= পশমী বস্ত্র); বন্ধুত্বের পরিবেশ যে গাঁয়ে৷

নন্দনপুর (হাসনাবাদ)— নান্দনিক গ্রাম৷

নন্দনপুর (মথুরাপুর-১)— দৃষ্টি নন্দিত গাঁ৷

নন্দনপুর (জয়নগর-১)— আবাস ও গাছগাছালিতে মনোরম গ্রাম৷

নফরনগর (হাড়োয়া)— নফর— চাকর; চাকর-এর কাজে যে গাঁয়ের লোক শহরে পাড়ি দেয়৷

নয়াপাড়া (হাড়োয়া)— নতুন আবাদি গাঁ; নয়া— নতুন৷

নলপাড়া (জয়নগর-২)— নলগোলা— নলখাগড়া; নলখাগড়া জন্মানো গাঁ৷

নপুকুরিয়া (জয়নগর-২)— যে গাঁয়ে নয়টি পুকুর৷

নটেন্দ্রপুর (সাগর)— নটেন্দ্র— শিব; শিবপূজিত স্থান৷

নরহরিপুর (সাগর)— নরহরি— নাপিত; যেখানে নাপিতদের বাস৷

নগেন্দ্রনগর (মথুরাপুর-২)— নগেন্দ্র; ব্যক্তিনাম৷

নগেন্দ্রগঞ্জ (সাগর)— নগেন্দ্র; ব্যক্তিনাম৷

নরেন্দ্রপুর (মথুরাপুর-২)— নরেন্দ্র; ব্যক্তিনাম৷

নলিয়াখালি (বাসন্তী)— নলিয়া; নালা; যে গাঁ জুড়ে অজস্র নালা৷

নন্দকুমারপুর (মথুরাপুর-২)— নন্দকুমার; ব্যক্তিনাম৷

নাগরতলা (ক্যানিং-২)— নাগর; শৌখিন পুরুষ; বিলাসী শৌখিন পুরুষদের গাঁ৷

নাটকোরা (সন্দেশখালি-১)— নাটুকেরা? নাটুকে লোকের ভিড়ে জমজমাট গাঁ?

নাদাভাঙা (নামখানা)— নাদা— বড় গামলা; গামলা আকারের গাঁ৷

নামখানা (ক্যানিং-১)— নাম; যেখানে খোরাকি (নান) মেলে৷

নারায়ণগঞ্জ (নামখানা)— দেবনাম; ব্যক্তিনাম৷

নারায়ণপুর (মথুরাপুর-১)— নারায়ণ; ব্যক্তিনাম৷

নারায়ণপুর (ক্যানিং-২)— নারায়ণ; ব্যক্তিনাম; দেবনাম৷

নারায়ণপুর (নামখানা)— নারায়ণ; দেবনাম৷

নারায়ণপুর (হাড়োয়া)— দেবনাম; ব্যক্তিনাম৷

নারায়ণতলা (বাসন্তী)— নারায়ণ; দেবনাম৷

নারায়ণীতলা (জয়নগর-১)— সুন্দরবনের লৌকিক দেবী মা নারায়ণী নামাঙ্কিত গ্রাম; নারায়ণী ব্যাঘ্র দেবতা দক্ষিণ রায়ের সম্পর্কে মা রূপে সুন্দরবনে পূজিতা৷

নারায়ণগড় (ক্যানিং-১)— নারায়ণ; দেবনাম৷

নারায়ণী আবাদ (সাগর)— মা নারায়ণীর নামে গাঁ৷

নালুয়া (মথুরাপুর-১)— নালুয়া— নালা; যে গাঁয়ে নালা দেখা যায়৷

নামখানা (নামখানা)— নাম— নাঙ; (Paramour) উপপতি বা উপপত্নীদের বসবাসের গাঁ, খানা— স্থান অথবা খোরাকি (নান) মেলে যেখানে৷

নিমপীঠ (জয়নগর-২)— নিমগাছের গাঁ; পীঠ— পীঠস্থান৷

নিত্যবাড়িয়া (সন্দেশখালি-১)— নিত্য— সতত; যেখানে প্রায়শই বাড়ি নির্মাণ হয়ে থাকে; নদী ভাঙন হয়তো এমন ঘটনার সম্ভাব্য কারণ৷

নিমচি (মিনাখাঁ)— নিম + চি (চিবানো); নিমডালে দাঁতন করার অভ্যেস যে গাঁয়ে৷

নিমচি আবাদ (মিনাখাঁ)— আবাদি নিমচি; পৃথক গ্রাম৷

নিরুলি (মিনাখাঁ)— নতুন আবাদের নিড়ানো ভুঁই৷

নিরুলি আবাদ (মিনাখাঁ)— নতুন আবাদি নিড়ানো ভুঁই-এর গাঁ৷

নীলেরাত (পাথরপ্রতিমা)— রাতভর নীল পূজার অনুষ্ঠান চলা গ্রাম; চৈত্রসংক্রান্তিতে নীল-ব্রত পালিত হয়৷

নীলকন্ঠপুর (জয়নগর-১)— নীলকন্ঠ পাখির নামে গ্রামনাম; নীলকন্ঠ; ব্যক্তিনাম৷

নুরুলপুর (জয়নগর-১)— নুরুল নামের ব্যক্তি নামাঙ্কিত গ্রাম৷

নুরপুর (মিনাখাঁ)— নুর— আলোক; আলোকিত গ্রাম; কৃষি, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যে উন্নত গ্রাম অথবা নুর; ব্যক্তিনাম৷

নেউতলা (জয়নগর-১)— নেউ— নেউল; যেখানে বেজি দেখা যায়৷

নেতাড়া (ক্যানিং-২)— নেতাড়— সংযোগ; যোগযোগে ব্যবস্থায় উন্নত গ্রাম৷

নেবুতলা আবাদ (হাড়োয়া)— যে আবাদে লেবুগাছ আছে; নেবু < লেবু৷

নোয়াবাদ (মথুরাপুর-১)— নোয়া— নয়া; নতুন আবাদি গাঁ৷

নোয়াপাড়া (সন্দেশখালি-১)— ন্যাজাট— নাই জাত? যে গাঁয়ে জাতপাতের বালাই নেই৷

পরন্দর (বাসন্তী)— পরন্দর < পুরন্দর (ইন্দ্র); ইন্দ্রের আশীর্বাদধন্য গাঁ৷

পদ্মপুকুরিয়া (মিনাখাঁ)— পুকুরে পদ্ম ফোটা গাঁ৷

পদ্মের হাট (জয়নগর-১)— যে গাঁয়ের হাটে পদ্ম কেনাবেচা হয়৷

পয়না (ক্যানিং-২)— পয়নালা < পয়না; জল বার করবার জন্য কাটা খাল যে গাঁয়ে আছে৷

পয়লা ভগবানপুর (মথুরাপুর-১)— এক নম্বর ভগবানপুর; পৃথক গ্রাম৷

পশ্চিম খেজুরবাড়িয়া (হিঙ্গলগঞ্জ)— খেজুরগাছ বেষ্টিত গ্রাম; পশ্চিম দিক উল্লিখিত— পৃথক গ্রাম অর্থে৷

পশ্চিম গাবতলা (কুলতলি)— গাব গাছে ভর্তি পশ্চিম দিকের পৃথক গ্রাম৷

পশ্চিম গাববেড়িয়া (জয়নগর-১)— গাব গাছ বেষ্টিত গ্রাম৷

পশ্চিম জটার দেউল (মথুরাপুর-২)— জটা-ডুমুর; যে গাঁয়ে ডুমুর গাছে ঢাকা দেউল; পশ্চিম দিকের পৃথক গ্রাম৷

পশ্চিম চক পাঁচঘড়া (জয়নগর-১)— পাঁচ ঘড়া থাকা গাঁ; পশ্চিম দিকে চৌকোনা (চক) আকারের পৃথক গ্রাম৷

পশ্চিম তেঁতুলবেড়িয়া (জয়নগর-২)— তেঁতুল বেষ্টিত গাঁ৷

পশ্চিম দ্বারকাপুর (পাথরপ্রতিমা)— দ্বারকা; স্থাননাম৷

পশ্চিম রানাঘাট (মথুরাপুর-১)— ধাপযুক্ত পুকুর ঘাট (রানাঘাট); যে গাঁয়ে আছে৷

পশ্চিম রঘুনাথপুর (জয়নগর-২)— রঘুনাথ; ব্যক্তিনাম; পৃথক গাঁ৷

পশ্চিম শ্যামনগর (জয়নগর-১)— শ্যাম; ব্যক্তিনাম৷

পশ্চিম শ্রীধরনগর (পাথরপ্রতিমা)— শ্রীধর; ব্যক্তিনাম৷

পশ্চিম শ্রীপতিনগর (পাথরপ্রতিমা)— শ্রীপতি; ব্যক্তিনাম৷

পশ্চিম সুরেন্দ্রনগর (পাথরপ্রতিমা)— সুরেন্দ্র; ব্যক্তিনাম৷

পাখিরালয় (গোসাবা)— পাখির বাসার মতো বসবাসের সচ্ছল যে গ্রাম৷

পাতিবনিয়া (নামখানা)— পাতি— ক্ষুদ্র; নিকৃষ্ট; ক্ষুদ্র সাধারণ বনঘেরা গ্রাম; অনুন্নত স্থান৷

পাইটকেল পোতা আবাদ (মিনাখাঁ)— ইঁট ভাটার গাঁ৷

পাইটকেল পোতা (মিনাখাঁ)— পাইট— সজ্জা বিন্যাস; গাছে গাছে সজ্জিত স্থান? সারি সারি গাছ পুঁতে বৃক্ষ সজ্জার সমারোহে গড়ে ওঠা আদর্শ গ্রাম৷

পাইকপাড়া (হাড়োয়া)— পাইক— পেয়াদা; পাইকদের বসবাসের জন্য পাড়া গাঁ৷

পাটলিখানপুর (হাসনাবাদ)— পাটলি— গোলাপি; দাড়ি গোলাপি রঙ করা ‘খান’দের আবাসের গাঁ?

পাটঘড়া (হিঙ্গলগঞ্জ)— পাট— বৈষ্ণবদের পীঠস্থান; বৈষ্ণব অধ্যুষিত যে গাঁয়ে ঘড়া (কলস) দেখা যায়৷

পাটপুকুর (জয়নগর-২)— যে গাঁয়ে পাট পচানোর পুকুর আছে৷

পারভবানীপুর (হাসনাবাদ)— ‘পার’ শব্দাংশটি জুড়ে পৃথক ভবানীপুর গ্রাম হিসাবে চিহ্নিত৷

পাঠানখালি (গোসাবা)— পাঠান অধ্যুষিত গাঁ৷

পানাপুখুরিয়া (মথুরাপুর-১)— যে গাঁয়ে আগাছা ভর্তি অজস্র পুকুর আছে৷

পাড়গাঁতি (ক্যানিং-২)— পাড়— কিনারা; নদীর কিনারা বরাবর কোনও সম্প্রদায়ের অবস্থানের গ্রাম; গাঁতি; সংঘবদ্ধ—অবস্থান৷

পাড় কালুগাছি (ক্যানিং-২)— ‘কালু’ নামক ব্যক্তির পোঁতা গাছ ভর্তি গাঁ৷

পার্বতীপুর (বাসন্তী)— পার্বতী; দেবনাম৷

পার্বতীপুর (পাথরপ্রতিমা)— পার্বতী; দেবনাম অথবা স্ত্রীনাম৷

পারানিখেকো (ক্যানিং-১)— পারানি— খেয়ার কড়ি; পারানির কড়ি খোয়া যাওয়া গাঁ৷

পারাচাঁদপুর (হাড়োয়া)— অন্য আর এক চাঁদপুর বোঝানোর জন্য ‘পার’ ব্যবহৃত৷

পাঙ্গাসখালি (ক্যানিং-১)— পাঙ্গাস— পাংশু; গাছপালার অভাবে যে গাঁ ফ্যাকাশে দেখতে লাগে৷

পাঁচঘড়া (জয়নগর-১)— যে গাঁয়ে পাঁচটি ঘড়া আছে৷

পাড়ঘুমটি (হিঙ্গলগঞ্জ)— ঘুমটি < গুমটি— প্রহরীর কুটির; যে গাঁয়ে নদীপাড়ে প্রহরীর কুটির; সুরক্ষিত গ্রাম৷

পায়রাগাছা (হাড়োয়া)— গাঁয়ের গাছে গাছে পায়রা উড়ে বেড়ায় যেখানে৷

পিফাড়াঘাবপুর (হাসনাবাদ)— পিছনে (পি) ফাঁড়া (ফাড়া) থাকায় ঘাবড়ানোর (ঘাব) মতো গ্রাম?

পিয়ারা (হাড়োয়া)— পিয়ারা— প্রিয়পাত্র; প্রিয়পাত্রের আবাসভূমি যে গাঁয়ে৷

পিপুলদহ (মিনাখাঁ)— পিপুল— অশ্বত্থ গাছ; দহের চারদিকে পিপুল গাছের গাঁ৷

পুইঞ্জলি (গোসাবা)— পুঁইজালি < পাঁজালি (= কৃষকদের দ্বারা ব্যবহৃত খড়ের নুড়োর আগুন); শস্যসমৃদ্ধ গ্রাম৷

পুনপো (জয়নগর-১)— পুন— বারবার; পো— পুত্র (গ্রাম্য); পুরুষ সংখ্যাধিক্যের গাঁ৷

পুকুরিয়া চক (হিঙ্গলগঞ্জ)— পুকুরসহ চারকোনা গাঁ৷

পুটিয়া মঠভাড়ি (হিঙ্গলগঞ্জ)— পুটিয়া— পুঁটি মাছের ঘুরে বেড়ানোর ছোট জায়গা; মঠ— আখড়া; সাধুর আখড়া থাকা ছোট গাঁ৷

পুটিমারি (সন্দেশখালি-১)— পুঁটিমাছ ধরা পড়ে যে গাঁয়ে; মারি অর্থে বিস্তর৷

পুখুরিয়া (হাড়োয়া)— পুকুর অবলম্বী স্থান৷

পুরাতন কামারগাঁতি (হাড়োয়া)— কামার সম্প্রদায়ের সংঘবদ্ধ অবস্থান (গাঁতি); ‘পুরাতন’ যুক্ত হয়ে পৃথক গাঁ৷

পুবের ঘেরি (হিঙ্গলগঞ্জ)— পুবদিক ঘেরা গাঁ৷

পুরুষোত্তমপুর (সাগর)— যে গাঁয়ে উত্তম প্রকৃতির পুরুষের বাস৷

পুর্ণচন্দ্রপুর (পাথরপ্রতিমা)— পূর্ণচন্দ্র; ব্যক্তিনাম৷

পূর্ব চিন্তামনিপুর (পাথরপ্রতিমা)— চিন্তামনি; ব্যক্তিনাম৷

পূর্ব গাববেড়িয়া (জয়নগর-১)— গাবগাছ বেষ্টিত গাঁ৷

পূর্ব গাবতলা (কুলতলি)— গাব গাছ জন্মানো গ্রাম৷

পুর্ব চকপাঁচঘড়া (জয়নগর-১)— পাঁচটি ঘড়া আছে এমন চারকোনা গাঁ৷

পূর্ব খেজুরবাড়িয়া (হিঙ্গলগঞ্জ)— খেজুর গাছ বেষ্টিত গ্রাম৷

পূর্ব গুড়গুড়িয়া (কুলতলি)— যে গাঁয়ে হুঁকোর ব্যবহার প্রসিদ্ধ অথবা গুড় প্রস্তুককারী গাঁ৷

পূর্বচক (হাসনাবাদ)— পূর্বদিকের চারকোনা গাঁ৷

পূর্ব জটার দেউল (মথুরাপুর-২)— জটা <জটী (= ডুমুরগাছ); ডুমুর গাছে ঢাকা দেউল (মন্দির)৷

পূর্ব তেঁতুলবেড়িয়া (কুলতলি)— তেঁতুল গাছ বেষ্টিত গাঁ৷

পূর্ব দ্বারকাপুর (পাথরপ্রতিমা)— কৃষ্ণ নামে প্রভাবিত গাঁ; দ্বারকা; কৃষ্ণের জন্মস্থান৷

পূর্ব রাণাঘাট (মথুরাপুর-১)— রাণা— পুকুরঘাটের বাঁধানো ধাপ; বাঁধানো ধাপের পুকুরঘাটের গাঁ; পূর্বপ্রান্তে এই রাণাঘাট অবস্থিত৷

পূর্ব রঘুনাথপুর (জয়নগর-২)— রঘুনাথ; ব্যক্তিনাম৷

পূর্ব বাঁটরা (জয়নগর-১)— বাঁটরা < বাটোয়ারা (বন্টন); যেখানে উৎপাদিত শস্য ভাগ বাটোয়ারা হয়৷

পূর্ব শ্রীধরপুর (মথুরাপুর-২)— শ্রীধর; ব্যক্তিনাম৷

পূর্বশ্যামনগর (কুলতলি)— শ্যাম; ব্যক্তিনাম৷

পূর্ব শ্রীপতিনগর (পাথরপ্রতিমা)— শ্রীপতি; ব্যক্তিনাম৷

পূর্ব সুরেন্দ্রনগর (পাথরপ্রতিমা)— সুরেন্দ্র; ব্যক্তিনাম৷

পেচুয়াখালি (কুলতলি)— পেচুয়া < পেঁচুয়া (= ধূর্ত, ধুরন্ধর); যে গ্রামে অধিবাসীরা ছলনা, চতুরতার আশ্রয় নেয়৷

পেটুয়া ধানিহাটি (সন্দেশখালি-১)— পেটুয়া < পেটোয়া (= অধীন, অনুগত, আজ্ঞাবহ); জমিদারের আজ্ঞাবহ লোকেরা যে গাঁয়ে হাটেবাজারে ধান কেনাবেচা করে৷

পোড়ামুড়া (ক্যানিং-১)— পোড়া (পতিত) ও মুড়া (নেড়া) গাছের গ্রাম৷

ফটিকপুর (নামখানা)— স্ফটিক <ফটিক (= স্বচ্ছ, নির্মল); নির্মল গাঁ৷

ফুটিগদা (জয়নগর-২)— ফুটি— কাঁকুড় জাতীয় ফল; গদা আকৃতির ফুটি জন্মানো গাঁ৷

ফুলডুবি (সাগর)— ফুলে ভর্তি গাঁ৷

ফুলবাড়ি আবাদ (মিনাখাঁ)— ফুলের গাছে বেড়া দেওয়া স্থান; আবাদ করা গাঁ৷

ফুলমালঞ্চ (বাসন্তী)— মালা— মঞ্চ < মালঞ্চ— ফুলের বাগান; ফুলের বাগানভরা গ্রাম৷

ফ্রেজারগঞ্জ (নামখানা)— ফ্রেজার সাহেবের উদ্যোগে গড়ে ওঠা উপকূলবর্তী স্থান; ফ্রেজার সাহেব— স্যার অ্যাণ্ড্রু ফ্রেজার, বাংলার গভর্নর (১৯০৫-০৮)৷

বকখালি (নামখানা)— খাল অবলম্বী যে উপকূলবর্তী স্থানে বকের চারণভূমি৷

বকজুড়ি (হাড়োয়া)— জুড়ি— যুগল; যেখানে জোড়ায় জোড়ায় বক দেখা যায়৷

বগানটি (হাড়োয়া)— বগা— বক (ব্যঙ্গে); বকে ভর্তি নটী থাকা গাঁ৷

বরোজ (হাড়োয়া)— পান চাষের গাঁ; বরোজ— পান চাষের জন্য খড়ের আচ্ছাদিত স্থান৷

বরুণহদ্দরাট (হাসনাবাদ)— বরুণ নামের ব্যক্তি প্রতিষ্ঠিত হাটের গাঁ৷

বড় সেহারা (সন্দেশখালি-১)— সেহারা— শেওড়াগাছ; শেওড়াগাছ প্রধান গ্রাম; গ্রামটিকে নির্দিষ্ট করার জন্য ‘বড়’ অথবা বট-শেওড়ার গাঁ৷

বয়ারমারি (সন্দেশখালি-১)— বয়া— নাব্যতার নিদর্শন; যে গাঁয়ের পাশের নদীতে বয়া অজস্র (মারি)৷

বল্লার তোপ (বাসন্তী)— বল্লা (= বোলতা); তোপ— দাগা; বোলতার তোপ বা গুঞ্জনের মতো যে গাঁয়ে সারাক্ষণ সোরগোল চলে৷

বকুলতলা (ক্যানিং-২)— বকুল গাছের গাঁ৷

বনমালীপুর (জয়নগর-১)— বনমালী; ব্যক্তিনাম৷

বনমালীপুর (ক্যানিং-২)— বনমালী; ব্যক্তিনাম৷

বলই ঝাঁকা (ক্যানিং-১)— বলই— ভালোই? ঝাঁকা (= বড় ঝুড়ি); ঝাঁকা ভর্তি শস্য ও সবজি যে গাঁয়ে জন্মায়; সমৃদ্ধ গ্রাম৷

বসুর চক (ক্যানিং-১)— বসু পদবিধারী কোনও ব্যক্তির প্রতিষ্ঠিত গ্রাম৷

বয়ার সিং (ক্যানিং-১)— যেখানে বয়ার মাথা (সিং) অনেক ওপর থেকে লক্ষ্য করা যায়; সিং <শিং৷

বরদাপুর (মথুরাপুর-২)— ঈশ্বরের বরদানে যে গাঁয়ের সৃষ্টি অথবা ব্যক্তিনাম৷

বনশ্যামনগর ( পাথরপ্রতিমা)— বনশ্যাম; ব্যক্তিনাম৷

বসিরহাট (বসিরহাট)— বসির নামের জনৈক ব্যক্তির স্থাপিত হাট৷

বঙ্কিমনগর (সাগর)— বঙ্কিম; ব্যক্তিনাম৷

বড় মোল্লাখালি (গোসাবা)— মুসলমান প্রধান বৃহৎ গ্রাম৷

বহড়ু (জয়নগর-১)— বাহবট + ক (= ঝুরিনামা বট); যেখানে ঝুরিনামা মস্তকায় বটগাছ আছে৷

বলতলা (জয়নগর-১)— বলের আকারযুক্ত গোল গাঁ; বলগাছ (Crataeva roxburghii) যে গাঁয়ে জন্মায়৷

বড়াশী (মথুরাপুর-১)— বড়াশী < বড়াশী (< বড় আয়ী); আয়ী— মাতামহী; মাতামহীর আজ্ঞায় গড়ে ওঠা গাঁ৷

বাইনতলা (ক্যানিং-২)— বাইনগাছ বেষ্টিত গ্রাম৷

বাইনারা (হিঙ্গলগঞ্জ)— বাইন (গাছ) এর আড়া (পাড়) জুড়ে যে গ্রাম; বাইন + আরা (= আড়া)৷

বাউলিয়া আবাদ (সন্দেশখালি-১)— যে আবাদ করা গাঁয়ে বাউলের গান শোনা যায়৷

বাগচর (মিনাখাঁ)— বাগ < বাঁক; যে গাঁয়ে নদী বাঁকে চর৷

বাছড়া (মিনাখাঁ)— বাছড়া— বাছপড়া; বাছাই-এর পর পড়ে থাকা অংশে পত্তন-কৃত গ্রাম অথবা বাছাড়ি নৌকা৷

বাছড়া আবাদ (মিনাখাঁ)— পৃথক গ্রাম; আবাদ কৃত গ্রাম; বাছাড়ি নৌকা৷

বাটাগাছি (হাড়োয়া)— বাটা (= বন্টন); গাছ বিতরণকারী গাঁ৷

বাগডাঙা (নামখানা)— বাগ— বাগান; যে গাঁয়ে ডাঙায় বাগান; ‘বাগ’ পদবিধারীদের গ্রাম৷

বাগবাগান (গোসাবা)— ‘বাগ’ পদবিধারীদের বাগান যে গাঁয়ে আছে৷

বাগবাড়িয়া নারায়ণপুর (জয়নগর-১) — বাগবাড়িয়ার কাছে নারায়ণপুর একটি পৃথক গ্রাম; দুটি নামে একটি গাঁ; বাগুয়া গাছ; নারায়ণ; ব্যক্তিনাম৷

বানীবদাবেলেখালি (ক্যানিং-১)— বানী (বাইন গাছ); বদা (বাদা = হেঁতাল ঝোপ); বেলে— বালুকণা; বালু মাটিতে হেঁতাল ও বাইনগাছ জন্মানো গাঁ৷

বাণেশ্বরপুর (জয়নগর-১)— যে গাঁয়ে বাণেশ্বর নামের শিবঠাকুর আছে৷

বাজার (মথুরাপুর-১)— বাজার কেন্দ্রিক গ্রাম৷

বাটিশ্বর (মথুরাপুর-১)— বাটি— বাড়ি; বাড়ি বাড়ি ঈশ্বরের আরাধনা চলা গাঁ৷

বাড়িয়া (বাসন্তী)— বর্ধনশীল গ্রাম৷

বাড়িভাঙা আবাদ (মথুরাপুর-২)— যেখানে বাড়ি ভাঙার ঘটনা ঘটে; আবাদ কৃত এলাকা৷

বাদিবড়াশী (মথুরাপুর-১)— বাদি (পক্ষ); মাতামহী (বড়াশী)-র পক্ষের লোকজনের গাঁ৷

বালিয়াডাঙা (হাসনাবাদ)— বালি দিয়ে ঢাকা ডাঙার গাঁ; ডাঙা— স্থলভাগ৷

বালটিয়া (হাড়োয়া)— বালটি— বালতি? বালতি বালতি মাছ ধরা পড়া গাঁ৷

বালি (গোসাবা)— বালুকাময় স্থান৷

বালিহাটি (মিনাখাঁ)— যে গাঁয়ের বালি ঢাকা চত্বরে হাট বসে৷

বালিগাড়ি (মিনাখাঁ)— গাড়ি ভর্তি বালি তোলার গাঁ৷

বালিয়াড়া (নামখানা)— বালু পাড়ের গাঁ; আড়া— পাড়; বাঁধ, উঁচু আশ্রয়স্থান; বালি + আড়া৷

বালিদাঘাটা (ক্যানিং-২)— যে গাঁয়ের ঘাট থেকে বালি দান করা হয়৷

বাড়িয়া (বাসন্তী)— বাসন্তী (= রঙ); শস্যের রঙ বাসন্তী; শস্য সমৃদ্ধ গ্রাম৷

বামুনিয়া (ক্যানিং-১)— বামুনদের গাঁ৷

বাদুকালু (ক্যানিং-১)— বাদু < বাদা (= জলাভূমি); কালু নামক ব্যক্তির জলা ভর্তি স্থান৷

বামনখালি (সাগর)— যে গাঁয়ে বাহ্মণ বাস করে; খাল অবলম্বী গ্রাম৷

বামনপুকুরিয়া (মিনাখাঁ)— বামুনদের ব্যবহারের জন্য যে গাঁয়ে পৃথক পুকুর আছে৷

বাটালি (গোসাবা)— যেখানে বাটা দিয়ে মালপত্র বেচাকেনা চলে৷

বালাহারানিয়া (কুলতলি)— বালা— বালিকা; যেখানে মেয়ে হারায়; মেয়ে— কিশোরী, যুবতী, স্ত্রীলোক৷

বাসুদেবপুর (মথুরাপুর-২)— বাসুদেব; ব্যক্তিনাম৷

বাইশহাটা (জয়নগর-২)— যে গাঁয়ে বাইশ জন মিলে হাট গড়ে তোলে৷

বারগান গোপালপুর (মিনাখাঁ)— বার— জাঁকিয়ে বসা; দরবারে দর্শন দান; বারো (বার) মাস ধরে গান বাজনা আমোদ বিনোদনের গাঁ; গোপাল; ব্যক্তিনাম৷

বাঁকড়া (হিঙ্গলগঞ্জ)— বাঁকযুক্ত আড়া (পাড়); নদী বাঁক পারে গ্রাম৷

বাঁকড়া দোবার (হিঙ্গলগঞ্জ)— বাঁকি— নদীরপাড়ের গাঁ; আড়া— পাড়; নদী বেষ্টিত যে গাঁয়ের দুদিকে পাড়৷

বাঁশতলা (হিঙ্গলগঞ্জ)— বাঁশ জন্মানো গ্রাম৷

বাঁশতলা বড়ঘড়ি (মথুরাপুর-১)— বাঁশঝাড় ভর্তি যে গাঁয়ে বড় ঘড়ি আছে৷

বাঁশড়া (ক্যানিং-১)— জমির সীমা নির্দেশক খুঁটি গাড়া হয়ে থাকে যে গাঁয়ে; বাঁশড়া < বাঁশ গাড়া; বাঁশ পোঁতা গ্রাম৷

বাঁটরা (জয়নগর-১)— বাঁটরা— বণ্টন; যেখানে ভূ-সম্পত্তির ভাগ বাটোয়ারা হয়৷

বিজয়নগর (গোসাবা)— বিজয়; ব্যক্তিনাম৷

বিজয়নগর (জয়নগর-২)— বিজয়; ব্যক্তিনাম৷

বিজয়বাটি (নামখানা)— বিজয়; ব্যক্তিনাম; বাটি— বাড়ি; বিজয় নামের ব্যক্তির বাড়ি যে গাঁয়ে আছে৷

বিনোদপুর (কুলতলি)— বিনোদ— বিনোদন; যে গাঁয়ে আমোদ প্রমোদ বিনোদন চলে; বিনোদ; ব্যক্তিনাম৷

বিরামপুর (মথুরাপুর-১)— বিরাম— বিশ্রাম; অলস মানুষের গাঁ; কর্মনাশা গাঁ৷

বিষপুর (হিঙ্গলগঞ্জ)— বিষ— গরল; বিদ্বেষপূর্ণ দৃষ্টিযুক্ত মানুষ; কুনজরে দেখার স্থান৷

বিশালাক্ষীপুর (সাগর)— বিশালাক্ষী নামের লৌকিক দেবীর নামে গ্রাম৷

বিরিঞ্চিবাড়ি (বাসন্তী)— বিরিঞ্চি— ব্রহ্ম; বহ্মাকে যে গাঁয়ে আরাধনা করা হয়৷

বিবির আবাদ (ক্যানিং-২)— কোন এক বিবি যে আবাদে বাস করেন৷

বিশ্বনাথপুর (পাথরপ্রতিমা)— বিশ্বনাথ; দেবনাম৷

বিষ্ণুপুর (পাথরপ্রতিমা)— বিষ্ণু; দেবনাম৷

বিষ্ণুপুর (সাগর)— দেবনাম৷

বিরাজনগর (গোসাবা)— বিরাজ; ব্যক্তিনাম৷

বগুলাখালি (বাসন্তী)— বগুলা < বগলা (= বক); বকের গাঁ৷

বুধাখালি (ক্যানিং-১)— বুধবারে প্রতিষ্ঠিত গ্রাম৷

বুধাখালি (নামখানা)— বুধা < বুদা (= ঝোপ); নদীখালের গাঁয়ে ঝোপের প্রাধান্য থাকা গাঁ৷

বুড়াবুড়ির তট (পাথরপ্রতিমা)— যে তটে বুড়োবুড়ি (বাঘ-বাঘিন) থাকে৷

বেদেমারি (হাসনাবাদ)— যেখানে বেদেরা মারা পড়ে৷

বেনা (হাসনাবাদ)— বেনা— বণিক; বণিকদের গাঁ৷

বেজ পাটলি (হাসনাবাদ)— বেজ— বৈদ্য; পাটালি— পারুল গাছ; কবিরাজি চিকিৎসায় পারুল গাছ যেখানে কাজ লাগে৷

বেরমাজুড় (সন্দেশখালি-১)— বেরমা < বেড়ুল (= উলু ঘাসের বেড়া); উলু ঘাসের বেড়া দিয়ে যে গাঁ জোড়া৷

বেহারি (হাড়োয়া)— অদলবদল বা ব্যবস্থা করে পাওয়া গ্রাম অথবা বেহারা পল্লি?

বেজরা (জয়নগর-১)— বেজরা < বেজড়া (< বৈদ্য-বাটক); বৈদ্যবাটি; কবিরাজের আবাস থাকা গাঁ৷

বেলেচণ্ডী (জয়নগর-১)— বেলেচণ্ডী— বনদুর্গা; যে গাঁয়ে বেলেচণ্ডী পূজা পায়৷

বেলেডাঙা (জয়নগর-১)— ডাঙায় বেলেমাটি যে গাঁয়ে৷

বেলাদুর্গানগর (জয়নগর-২)— বেলেমাটির দুর্গানগর৷

বেনীমাধবপুর (কুলতলি)— বেনীমাধব; ব্যক্তিনাম৷

বেগুয়াখালি (সাগর)— বেগুয়া < বাগুয়া (গাছ); বাগুয়া জন্মানো গাঁ৷

বেডফোর্ড দ্বীপ (সাগর)— বেডফোর্ড নামের ইংরেজ সাহেবের আবাদকৃত দ্বীপ৷

বৈকুন্ঠপুর (কুলতলি)— বৈকুন্ঠ— দেবতাদের অধিষ্ঠানের নামে গ্রামনাম৷

বৈদ্যেরাতি (মিনাখাঁ)— যে গাঁয়ে রাতভর চিকিৎসকের দেখা মেলে৷

বৈদ্যচক (জয়নগর-২)— ‘বৈদ্য’ পদবিধারীদের নামে গ্রামনাম৷

বৌঠাকুরানি (সন্দেশখালি-২)— জনৈকা বৌঠাকুরানির স্মৃতিবিজড়িত গ্রাম৷

বৌখোলা (মিনাখাঁ)— যে গাঁয়ে বৌয়েরা (স্ত্রীলোক) খোলামেলা বাঁচতে পারে৷ স্বাধীন যাপন৷

ব্রজবল্লভপুর (পাথরপ্রতিমা)— ব্রজবল্লভ; ব্যক্তিনাম৷

ব্রহ্মপুর (মথুরাপুর-১)— ব্রহ্ম উপাসক প্রধান গ্রাম অর্থাৎ বামুন গাঁ৷

ভগবানপুর (মথুরাপুর-১)— ভগবানের নামে গ্রামনাম অথবা ভগবান; ব্যক্তিনাম৷

ভগবতপুর (পাথরপ্রতিমা)— ভগবত কৃপাধন্য গ্রাম৷

ভগবতীপুর (মথুরাপুর-১)— ভগবতী (স্ত্রী, ভগবান) অথবা স্ত্রীনাম৷

ভজনা (পাথরপ্রতিমা)— ভজন আরাধনার গাঁ৷

ভড়কুণ্ড (হাসনাবাদ)— ভড় <ভট্টি (= বড় নৌকা); কুণ্ড— বড় গর্ত; নদীপাড়ের বড় গর্ত খুঁড়ে যে গাঁয়ে নৌকা রাখা হয়৷

ভবানীপুর (হাসনাবাদ)— ভবানী— শিবানী; দেবনাম৷

ভবানীপুর (হাড়োয়া)— ভবানী; দেবনাম; ব্যক্তিনাম৷

ভরতগড় (বাসন্তী)— ভরত; ব্যক্তিনাম; গড় অর্থে সুরক্ষিত গ্রাম; এখানে কোনও গড় (দুর্গ) নেই৷

ভবানন্দ (ক্যানিং-২)— ভবানন্দ; ব্যক্তিনাম৷

ভয়দা (হাড়োয়া)— যে দহ ভয়ের কারণ?

ভাঙনখালি (বাসন্তী)— যেখানে ভাঙন চলে৷

ভাঙাতুষখালি (সন্দেশখালি-২)— ভাঙনের প্রকোপযুক্ত তুষ (ধানের খোসা) খালি৷

ভাতকা (মিনাখাঁ)— ভাতকা <ভাটকা (= পথভোলা); পথ ভোলাদের গাঁ৷

ভাণ্ডারখালি (হিঙ্গলগঞ্জ)— ভাণ্ডার— সঞ্চয় স্থান; যেখানে খাদ্যশস্য মজুত থাকে; খাদ্যশস্য সমৃদ্ধ গ্রাম৷

ভালোয়া (ক্যানিং-১)— ভালো মানুষের গাঁ৷

ভীমনগর (মথুরাপুর-১)— ভীম; ব্যক্তিনাম৷

ভুবনখালি (জয়নগর-২)— ভুবন; ব্যক্তিনাম৷

ভুবনপুর (হাড়োয়া)— ভুবন; ব্যক্তিনাম৷

ভুবননগর (কাকদ্বীপ)— ভুবন; ব্যক্তিনাম৷

ভুবনেশ্বরী (কুলতলি)— ভুবনেশ্বরী দেবীর নামে গ্রাম৷

ভুবনেশ্বরী চর (কুলতলি)— চর ঘেঁষে ভুবনেশ্বরী, পৃথক গাঁ৷

ভূপেন্দ্রনগর (গোসাবা)— ভুপেন্দ্র; ব্যক্তিনাম৷

ভোলাখালি (সন্দেশখালি-১)— ভোলা— মাছ/গাছ; যেখানে ভোলা মাছ /ভোলা গাছ (লবণাম্বু উদ্ভিদ) জন্মায় বা দেখা যায়৷

মউলি (মিনাখাঁ)— মউলেদের গাঁ; মউলে— মধু সংগ্রহকারী৷

মগরি (মিনাখাঁ)— মগ + অরি; যে গাঁ মগদের শত্রু৷

ময়দা (জয়নগর-২)— ময় < ময়াল; দা— দহ; যে গাঁয়ের দহে ময়াল সাপের আনাগোনা অথবা দহময় গাঁ৷

মলয়া (পাথরপ্রতিমা)— দখিনা বাতাস প্রবাহের গাঁ৷

মদপুর (মথুরাপুর-২)— মদ— গর্ব (যৌবন); যৌবন চালিত গাঁ; হর্ষজনিত বিহ্বলতা যে গাঁয়ে (মুকুতিলাক্ষি)৷

মথুরা (হাড়োয়া)— কৃষ্ণের জন্মস্থান স্মরণে প্রতিষ্ঠিত গ্রাম অথবা ব্যক্তিনাম৷

মথুরাপুর (মথুরাপুর-১)— ‘মথুরা’ নামে গ্রাম নাম অথবা ব্যক্তিনাম৷

মথুরাখণ্ড (গোসাবা)— মথুরা ব্যক্তি নামে খণ্ডাকৃতি গ্রাম৷

মজমপুর (হাড়োয়া)— মর যম? যম যেখানে মরদেহ আনতে ভয় পায়? দুর্গম গাঁ৷

মধুখালি (ক্যানিং)— যে গাঁয়ে মধু মেলে৷

মহারাজাগঞ্জ (নামখানা)— কোনও এক মহারাজার বন্দোবস্ত নেওয়া গ্রাম বিশেষ৷

মধুসূদনচক (মথুরাপুর-২)— মধুসূদন; ব্যক্তিনাম৷

মধুসূদনপুর (কাকদ্বীপ)— মধুসূদন; ব্যক্তিনাম৷

মন্মথপুর (গোসাবা)— মন্মথ; ব্যক্তিনাম৷

মন্মথপুর (কাকদ্বীপ)— মন্মথ; ব্যক্তিনাম৷

মহেশপুর (বাসন্তী)— মহেশ; ব্যক্তিনাম৷

মনসাখালি (বাসন্তী)— লৌকিক দেবীর (মনসা) নামে গাঁ৷

মনসাদ্বীপ (সাগর)— মনসা দেবীর নামে প্রতিষ্ঠিত গ্রাম৷

মটগরান (বাসন্তী)— মট— গাছের ডাল ভাঙার শব্দ; মট গরান (গাছ) ধ্বংস করে যে গাঁয়ের সৃষ্টি৷

মদনখালি (ক্যানিং-১)— মদন; ব্যক্তিনাম; দেবনাম৷

মদনগঞ্জ (নামখানা)— মদন; ব্যক্তিনাম; দেবনাম৷

মরা হলদি (ক্যানিং-১)— মরা— ক্ষীণ; হলদি (নদীর নাম); মজা হলদি নদী যে গাঁয়ে বয়ে চলে৷

মসজিদ বাটি (বাসন্তী)— পাঁচিল ঘেরা স্থানে মসজিদ থাকা গ্রাম৷

মাঠের দিঘি (ক্যানিং-২)— যেখানে আখড়ার (মঠ) পাশে দিঘির দেখা পাওয়া যায়৷

মহেশপুর (পাথরপ্রতিমা)— মহেশ; ব্যক্তিনাম৷

মল্লিকপুর (হাড়োয়া)— মল্লিক পদবিনামে গ্রাম নাম৷

মল্লিকঘেরি (মিনাখাঁ)— মল্লিকদের ঘেরা গাঁ৷

মল্লার চক (জয়নগর-২)— মল্লা < মোল্লা; মোল্লাদের প্রাধান্য যুক্ত চারকোনা গাঁ অথবা মাঝিমাল্লার গাঁ৷

মহিষামারি (সাগর)— যে গাঁয়ে মোষ মারা পড়ে৷

মহিষমারি (জয়নগর-১)— মহিষ মারা পড়া গাঁ৷

মহিষঘাট (জয়নগর-২)— যে গাঁয়ের নদীঘাটে মহিষ কেনাবেচা চলে৷

মস্তিকড়ি (জয়নগর-১)— মস্তি— আমোদ; আমোদ প্রমোদে যে গাঁয়ে কড়ির টাকাপয়সা লেনদেন হয়৷

মণ্ডলের লাট (কুলতলি)— মণ্ডলদের বন্দোবস্ত নেওয়া লাট৷

মণ্ডলহাট (হাড়োয়া)— মণ্ডলের প্রতিষ্ঠিত হাটের অস্তিত্ব যে গাঁয়ে আছে৷

মধ্য গুড়গুড়িয়া (কুলতলি)— গুড়গুড়ি— আলবলা (লম্বা নলযুক্ত হুঁকো); হুঁকোয় তামাক খাওয়া লোকেদের গাঁ৷

মহবতনগর (মথুরাপুর-২)— প্রেম ভলোবাসার গাঁ; মহবত; ব্যক্তিনাম৷

মহেন্দ্রনগর (পাথরপ্রতিমা)— মহেন্দ্র; ব্যক্তিনাম৷

মহেন্দ্রগঞ্জ (সাগর)— মহেন্দ্র; ব্যক্তিনাম৷

মনোহরপুর (হাসনাবাদ)— মনোহর; ব্যক্তিনাম৷

মঠবাড়ি আবাদ (সন্দেশখালি-১)— মঠ আখড়ার গাঁ৷

মঠবাড়ি (মিনাখাঁ)— যে গাঁয়ে মঠ (আখড়া) রয়েছে৷

মনিপুর (সন্দেশখালি-২)— মনি নামাঙ্কিত স্থান অথবা মনমন ফসল ফলে যেখানে৷

মনিরতলা (জয়নগর-২)— মনি নামাঙ্কিত স্থান৷

মদারতলা (হাড়োয়া)— মর্দ < মদ্দা <মদার; মর্দ— মরদ, পুরুষ, সাহসী; সাহসী পুরুষের আবাস; মদার— মাদার গাছ?

মন্দিরতলা (সাগর)— যে গাঁয়ে মন্দির আছে৷

মাখালতলা (ক্যানিং-২)— মাখাল > মাকাল (ফল); যে গাঁয়ে মাকাল ফল জন্মায় অথবা মাখাল; পদবিনাম৷

মাখালগাছা (হাসনাবাদ)— মাকাল গাছে ভর্তি গাঁ; মাখাল <মাকাল৷

মাখালি (হাড়োয়া)— মাকাল গাছ যেখানে জন্মে৷

মাতলা (ক্যানিং-১)— মাতলা নদীর পাশে গ্রাম৷

মানিকনগর (জয়নগর-১)— মানিক; ব্যক্তিনাম৷

মালদাড়ি (জয়নগর-১)— উচ্চভূমি; দাড়ি >দাঁড়ি (= শেষ); উঁচু স্থানে সীমানা শেষের গ্রাম৷

মায়া হাউড়ি (জয়নগর-২)— হাউড়ি >শাশুড়ি; যে গাঁয়ে মায়া নামের শাশুড়ির বাস৷

মাধবনগর (পাথরপ্রতিমা)— মাধব; ব্যক্তিনাম৷

মাধবপুর (কুলতলি)— মাধব; ব্যক্তিনাম৷

মাধবকাটি (হিঙ্গলগঞ্জ)— মাধব; ব্যক্তিনাম; কাটা গাঁ৷

মামুদপুর (হিঙ্গলগঞ্জ)— মামুদ; ব্যক্তিনাম৷

মালেকান ঘুমটি (হিঙ্গলগঞ্জ)— শাসনকর্তার মালিকানায় গুমটি থাকা গাঁ?

মালঞ্চ (মিনাখাঁ)— ফুলের বাগান আছে এমন গ্রাম৷

মালঞ্চ আবাদ (মিনাখাঁ)— আবাদি গাঁয়ে ফুলের বাগান৷

মালিয়াড়ি (মিনাখাঁ)— মালিয়াড়ি <মালিয়াড়া (= উঁচু সরসভূমি); উর্বর জমির উঁচু গ্রাম অথবা মালি বসতি৷

মান্দারবাড়িয়া (ক্যানিং-১)— মাদার গাছ বেষ্টিত গ্রাম; মাদার <মান্দার৷

মাদারি (মিনাখাঁ)— মাদার গাছের গ্রাম৷

মিত্রপুর (গোসাবা)— মিত্র; পদবিনাম৷

মিনাখাঁ (মিনাখাঁ)— মিনা (মিনাবাজার?) + খাঁ (খানদান মুসলমান); মিনা বাজারের খানদানি মুসলমানদের প্রতিষ্ঠিত গ্রাম৷

মিঞাঘেরি (ক্যানিং-২)— মিঞা সাহেবের ঘেরা গাঁ৷

মির্জাপুর (মথুরাপুর-১)— মুসলমান পদবীনামে প্রতিষ্ঠিত গ্রাম৷

মুচিখোলা (মিনাখাঁ)— যে গাঁয়ে মুচির বাস৷

মুখুজ্জেপাড়া (ক্যানিং-২)— মুখুজ্জে পদবিধারীরা যেখানে বাস করে; মুখটি গাঁই এর ওঝা— মুখুজ্জে; মুখুজ্জে বামুনদের বসতিপূর্ণ গাঁ৷

মুড়িগঙ্গা (সাগর)— গঙ্গার যেখানে ক্ষীণ প্রবাহ; মুড়ি— ক্ষীণ৷

মুকুন্দপুর (মথুরাপুর-১)— মুকুন্দ; ব্যক্তিনাম৷

মুকুন্দপুর (জয়নগর-১)— মুকুন্দ; ব্যক্তিনাম৷

মুকুন্দপুর (হাড়োয়া)— মুকুন্দ; ব্যক্তিনাম৷

মুরারিপুর (মথুরাপুর-১)— মুরারি; ব্যক্তিনাম৷

মুরারিসাহা (হাসনাবাদ)— মুরারি সাহা; ব্যক্তিনাম৷

মুড়াগাছা (হাসনাবাদ)— ন্যাড়া (মুড়া) গাছ বেষ্টিত গ্রাম৷

মুন্সিঘেরি (হাড়োয়া)— মুন্সি; পদবিনাম; ঘেরি— ঘেরা স্থান৷

মেহেরপুর (পাথরপ্রতিমা)— মেহের; ব্যক্তিনাম৷

মেহেরপুর (হাড়োয়া)— মেহের; ব্যক্তিনাম৷

মেরাগঞ্জ (কুলতলি)— মেরা < মেড়া < ভেড়া? যে গাঁয়ে ভেড়ার চাষ হয়? যে গঞ্জে ভেড়া ইত্যাদি কেনাবেচা চলে৷

মোহনপুর (মিনাখাঁ)— মোহন; ব্যক্তিনাম৷

মোহনপুর (হাসনাবাদ)— মোহন; ব্যক্তিনাম৷

মোহনপুর আবাদ (হাসনাবাদ)— ব্যক্তিনামে পৃথক আবাদি গ্রাম৷

মৌ পীঠ (কুলতলি)— মই দিয়ে ওঠার মতো উচ্চভূমির গ্রাম৷

মৌখালি (ক্যানিং-১)— যেখানে মধু পাওয়া যায়৷

মৌখালি কুমারখালি (ক্যানিং ২)— মধু প্রাপ্তির পৃথক গ্রাম; কুমার; ব্যক্তিনাম৷

মৌসনি (নামখানা)— মৌসনি <মহিষানি; যেখানে প্রচুর মোষ চরে বেড়ায়৷

মৃণালনগর (কাকদ্বীপ)— মৃণাল; ব্যক্তিনাম৷

মৃত্যুঞ্জয়নগর (সাগর)— মৃত্যুঞ্জয়; ব্যক্তিনাম৷

যাদবপুর (মথুরাপুর-১)— যে গাঁয়ে যাদব (গোয়ালা)-দের বাস৷

যোগীপাড়া (জয়নগর-১)— যুগীরা যে গাঁয়ে বহুকাল ধরে বাস করে; যুগী— লেপ তোষক বালিশ তৈরির কাজ করা দরজি সম্প্রদায়৷

যোগেশগঞ্জ (হিঙ্গলগঞ্জ)— যোগেশ; ব্যক্তিনাম৷

যোগেন্দ্রনগর (ক্যানিং-২)— যোগেন্দ্র; ব্যক্তিনাম৷

যোগেন্দ্রনগর (মথুরাপুর-১)— যোগেন্দ্র; ব্যক্তিনাম৷

যোগীন্দ্রপুর (পাথরপ্রতিমা)— যোগেন্দ্র; ব্যক্তিনাম৷

রঘুদেবপুর (মথুরাপুর-১)— রঘুদের; ব্যক্তিনাম৷

রনিয়া (ক্যানিং-১)— রনিয়া < রইনা— রয় না? যে গাঁয়ে কেউ থাকতে চায় না? অনুন্নত গাঁ৷

রছুলপুর (মথুরাপুর-১)— রছুল < রসুল (= পয়গম্বর); যে গাঁয়ে ঈশ্বরের দূতের দেখা পাওয়া যায়৷

রমাপুর (হিঙ্গলগঞ্জ)— রমা; ব্যক্তিনাম৷

রাখালপুর (পাথরপ্রতিমা)— রাখাল; ব্যক্তিনাম৷

রাঘবপুর (হাসনাবাদ)— রাঘব; ব্যক্তিনাম৷

রাঙাবেলিয়া (গোসাবা)— রাঙা— লাল; বেলিয়া < বেলে; লালচে বেলে মাটির গাঁ৷

রাধানগর (সন্দেশখালি-১)— রাধা; ব্যক্তিনাম৷

রাধানগর (হাড়োয়া)— রাধা; ব্যক্তিনাম৷

রাধানগর (নামখানা)— রাধা; ব্যক্তিনাম৷

রাধানগর দক্ষিণ (গোসাবা)— রাধা; ব্যক্তিনাম৷

রাধানগর পশ্চিম (গোসাবা)— রাধা; ব্যক্তিনাম৷

রাধানগর পূর্ব (গোসাবা)— রাধা; ব্যক্তিনাম৷

রাধানগর অভিরামপুর (হাড়োয়া)— রাধা; অভিরাম; ব্যক্তিনাম; পৃথক গ্রাম৷

রাধারানিপুর (বাসন্তী)— রাধারানি; ব্যক্তিনাম৷

রাধাকান্তপুর আবাদ (মথুরাপুর-২)— রাধাকান্ত; ব্যক্তিনাম৷

রাধাকান্তপুর (মথুরাপুর-১)— রাধাকান্ত; ব্যক্তিনাম৷

রাধাবল্লভপুর (জয়নগর-২)— রাধাবল্লভ; ব্যক্তিনাম৷

রাধাকৃষ্ণপুর (পাথরপ্রতিমা)— রাধাকৃষ্ণ; দেবকল্পনাম৷

রাধাকৃষ্ণপুর (সাগর)— রাধাকৃষ্ণ; দেবকল্পনাম৷

রাজনগর (হাসনাবাদ)— রাজ; ব্যক্তিনাম৷

রাজনগর (নামখানা)— রাজ; ব্যক্তিনাম৷

রাজনগর শ্রীনাথগ্রাম (নামখানা)— দুই নামে পৃথক গ্রাম; রাজ; শ্রীনাথ; ব্যক্তিনাথ৷

রাজপুর কোরাবাগ (জয়নগর-১)— কোরাবাগ— কোরা < আনকোরা; বাগ < বাগান; যে গাঁয়ে নিত্যনতুন বাগান দেখা যায়৷

রাজরাজেশ্বরীপুর (পাথরপ্রতিমা)— রাজরাজেশ্বরী; দেবীনাম৷

রাজাপুর (জয়নগর-১)— রাজা; ব্যক্তিনাম৷

রাজাপুর (ক্যানিং-১)— রাজা; ব্যক্তিনাম৷

রাজাপুর (মথুরাপুর-১)— রাজা; ব্যক্তিনাম৷

রাজাপুরা (হাসনাবাদ)— পুরা < পুরী; যে গাঁয়ে রাজার প্রাসাদ দেখা যায়৷

রামচন্দ্রপুর (মথুরাপুর-১)— রামচন্দ্র; দেবকল্পনাম৷

রামচন্দ্রপুর (জয়নগর-১)— রামচন্দ্র; ব্যক্তিনাম, দেবনাম৷

রামচন্দ্রনগর (কাকদ্বীপ)— রামচন্দ্র; দেবকল্প নাম৷

রামকৃষ্ণপুর (জয়নগর-১)— রামকৃষ্ণ; দেবকল্প নাম৷

রামকৃষ্ণপুর (বাসন্তী)— রামকৃষ্ণ; দেবকল্প নাম৷

রামকৃষ্ণপুর (সাগর)—রামকৃষ্ণ; দেবকল্প নাম৷

রামকৃষ্ণপুর (মথুরাপুর-১)—রামকৃষ্ণ; দেবকল্প নাম৷

রামকান্তবাটি (জয়নগর-১)— রামকান্ত নামের জনৈকের বাড়ি; বাটি— বাড়ি৷

রামগঙ্গা (পাথরপ্রতিমা)— রাম— বড়ো; গঙ্গার মতো বড় নদী বয়ে চলে যেখানে; নদীটির নাম মৃদঙ্গভাঙা৷

রামনগর (হাড়োয়া)— রাম; ব্যক্তিনাম৷

রামনগর (গোসাবা)— রাম; ব্যক্তিনাম৷

রামনগর আবাদ (পাথরপ্রতিমা)— ব্যক্তিনাম৷

রামবাটি (মথুরাপুর-১)— রাম নামক ব্যক্তির বাড়ি যে গাঁয়ে৷

রামপুর (মথুরাপুর-১)— রাম; ব্যক্তিনাম৷

রামপুর (সন্দেশখালি-২)— রাম; ব্যক্তিনাম৷

রামতনুনগর (কাকদ্বীপ)— রামতনু; ব্যক্তিনাম৷

রামরতনপুর (কাকদ্বীপ)— রামরতন; ব্যক্তিনাম৷

রামগোপালপুর (কাকদ্বীপ)— রামগোপাল; রামগোপালের নামে প্রতিষ্ঠিত গাঁ৷

রামজয় ঘেরি (মিনাখাঁ)— রামজয়; ব্যক্তিনাম; ঘেঁরা গাঁ৷

রামরায়ের ঘেরি (ক্যানিং-১)— রামরায় নামের কোনও ব্যক্তির সুরক্ষিত ভূখন্ড৷

রামচাকির ঘেরি (হাড়োয়া)— রামচাকির নামে ঘেরা গাঁ৷

রামনাথপুর (হাড়োয়া)— রামনাথ; ব্যক্তিনাম৷

রামচন্দ্রখালি (বাসন্তী)— রামচন্দ্র; দেবকল্প নাম৷

রামজীবনপুর (মথুরাপুর-১)— রামজীবন; ব্যক্তিনাম৷

রামজীবননগর (মথুরাপুর-১)— রামজীবন; ব্যক্তিনাম৷

রামদেবপুর (পাথরপ্রতিমা)— রামদেব; ব্যক্তিনাম৷

রামেশ্বরপুর (হাড়োয়া)— রামেশ্বর; ব্যক্তিনাম৷

রামেশ্বরপুর (হাসনাবাদ)— রামেশ্বর; ব্যক্তিনাম৷

রামানন্দপুর (হাসনাবাদ)— রামানন্দ; ব্যক্তিনাম৷

রামনারায়ণপুর (জয়নগর-১)— রামনারায়ণ; ব্যক্তিনাম৷

রামরুদ্রপুর (জয়নগর-১)— রামরুদ্র; ব্যক্তিনাম৷

রামামারি (জয়নগর-১)— রাম (ব্যক্তি) যে গাঁয়ে মারা পড়েছে৷

রানিগড় (বাসন্তী)— রানি নামক কোনও অভিজাত স্ত্রীলোকের নামাঙ্কিত সুরক্ষিত স্থান (= গড়)৷

রায়খান (হাড়োয়া)— রায় ও খান দুই পদবিধারীর যৌথ উদ্যোগে তৈরি গাঁ৷

রায়নগর (জয়নগর-১)— রায়; পদবিনাম৷

রাক্ষসখালি (পাথরপ্রতিমা)— যে গাঁয়ে কাঁটা গুল্মের ঝোপ রাক্ষসদের বাসস্থানের কথা মনে করায়; যেখানে রাক্ষসের মতো ভোজনকারী৷

রায়দিঘি (মথুরাপুর-২)— রায় পদবিধারী কোনও ব্যক্তির দিঘি যে গাঁয়ে আছে৷

রায়দিঘি আবাদ (মথুরাপুর-২)— পৃথক গ্রাম, আবাদি৷

রুদ্রনগর (সাগর)— রুদ্র; ব্যক্তিনাম৷

রূপনগর (জয়নগর-২)— রূপ; ব্যক্তিনাম; সুন্দর নিসর্গের এক গ্রাম৷

রূপমারি (হিঙ্গলগঞ্জ)— রূপ নিয়ে মারামারি চলে যেখানে? রূপশাল ধান চাষের গাঁ৷

লক্ষ্মীপুর (পাথরপ্রতিমা)— লক্ষ্মী; দেবনাম; ব্যক্তিনাম৷

লক্ষ্মীপুর (কাকদ্বীপ)— লক্ষ্মী; ব্যক্তিনাম; দেবনাম৷

লক্ষ্মীপুর আবাদ (নামখানা)— লক্ষ্মী; ব্যক্তিনাম; দেবনাম৷

লক্ষ্মীজনার্দণপুর (পাথরপ্রতিমা)— লক্ষ্মী জনার্দন; দেবনাম৷

লট ১১৮ (কুলতলি)— জঙ্গল হাসিল কৃত আবাদি জমির ইংরেজ প্রশাসকদের দেওয়া সংখ্যাবাচক গ্রামনাম৷

লট ১২০ (কুলতলি)— ব্রিটিশদের বিলি বন্দোবস্তের সময়কালের সাংখ্যিক গ্রাম নাম৷

লট ১২১ (কুলতলি)— ব্রিটিশদের ইজারা দেওয়ার সময়ের নাম, সংখ্যাবাচক স্থাননাম৷

লট ১২৬ (বাসন্তী)— ইংরেজদের ইজারা দেওয়া সংখ্যাসূচক স্থাননাম৷

লটরবাগান (হাড়োয়া)— কোম্পানির শাসনে বন্দোবস্ত দেওয়া ‘লট’-এ বাগান আছে যেখানে৷

লস্করপুর (বাসন্তী)— লস্কর; পদবিনাম অথবা লোকলস্করের গাঁ৷

লাউখালি পাথরঘাটা (সন্দেশখালি-১)— যে গাঁয়ে লাউ জন্মায় এবং নদীঘাট পাথর দিয়ে বাঁধানো ৷

লাউগাছি আবাদা (মিনাখাঁ)— আবাদি গাঁয়ে লাউ ফলনের গ্রাম৷

লালপুর (মথুরাপুর-১)— লাল < নাল (শাপলা); শাপলা জন্মানো জলাভূমির গাঁ৷

লাহিড়ীপুর (গোসাবা)— লাহিড়ী; পদবিনাম৷

লাক্সবাগান (গোসাবা)— লাক্স <লাক্সারি (Luxury); মনোরম বাগান; আধুনিক মনস্কদের বিনোদনের গ্রাম৷

লেবুখালি (হিঙ্গলগঞ্জ)— লেবু জন্মানো গ্রাম৷

লোহাচড়া (সাগর)— গঙ্গা মোহানায় জেগে ওঠা শক্ত ভিতের চর; চড়া < চর৷

লোথিয়ান আইল্যান্ড (নামখানা)— ইংরেজদের দেওয়া ব্রিটিশ আমলের স্থাননাম৷

শঙ্করপুর (হাড়োয়া)— শঙ্কর; দেবনাম৷

শঙ্করপুর (মথুরাপুর)— যে গাঁয়ের হাটে শঙ্কর মাছ পাওয়া যায় অথবা শঙ্কর; ব্যক্তিনাম৷

শঙ্করদহ (মিনাখাঁ)— যে নিচু ভূমির গাঁয়ে শঙ্কর মাছের সন্ধান মেলে৷

শঙ্করদহ আবাদ (সন্দেশখালি-১)— শঙ্কর; ব্যক্তিনাম; আবাদ— জঙ্গল হাসিলকৃত চাষের উপযুক্ত জমি৷

শম্ভুনগর (গোসাবা)— শম্ভু; শিব অথবা ব্যক্তিনাম৷

শচিয়াখালি (বাসন্তী)— শচিয়া (শোচ); বুঝদার লোকের গাঁ; শচিয়া শচিমাতা (চৈতন্যদেবের মা); শচিমাতার নামে গ্রামনাম৷

শস্তাখালি (ক্যানিং)— যে গাঁয়ে সস্তায় জিনিসপত্র কেনাবেচা হয়৷

শাদিগাছি (হাসনাবাদ)— শাদি <সাদী (= অশ্বারোহী); ঘোড়া গাছে বেঁধে রাখা হয় যে গাঁয়ে৷

শাদিয়াল (মথুরাপুর-১)— শাদি— সাদী; ঘোড়ায় চড়া লোকেদের গাঁ৷

শান্তিপুর (জনয়নগর-১)— শান্তিতে বসবাসের গাঁ অথবা ব্যক্তিনাম৷

শাপলা (জয়নগর-২)— শাপলা জন্মানো গ্রাম৷

শামলা (হাড়োয়া)— সুজলা জলাভূমির শাপলা-ভর্তি শ্যামলী গাঁ৷

শামসপুর (হাড়োয়া) : শামস; মুসলমান পদবিনাম৷

শালিপুর (হাড়োয়া)— শালি ধান চাষের গ্রাম৷

শাহজাদপুর (জয়নগর-২)— শাহজাদ; ব্যক্তিনাম৷

শিকারপুর (সাগর)— যে গাঁয়ে শিকারে পটু মানুষের বাস৷

শিবগঞ্জ (বাসন্তী)— শিব; দেবনাম৷

শিবনগর (পাথরপ্রতিমা)— শিব; দেবনাম৷

শিবনগর (কাকদ্বীপ)— শিব; দেবনাম৷

শিবনগর আবাদ (নামখানা)— শিব; দেবনাম৷

শিবপুর (মিনাখাঁ)— শিব; দেবনাম৷

শিবপুর (নামখানা)— শিব; দেবনাম৷

শিবপুর (সাগর)— শিব; দেবনাম৷

শিবরামপুর (নামখানা)— শিবরাম; ব্যক্তিনাম৷

শিবকালিনগর (কাকদ্বীপ)— শিবকালী; ব্যক্তিনাম; দেবনাম৷

শিমুলিয়া (হাসনাবাদ)— শিমুল গাছ ঘেরা গ্রাম৷

শিমুলদহ (মিনাখাঁ)— যে নিচু ভূমির গাঁয়ে শিমুল গাছ জন্মায়৷

শীতলিয়া (সন্দেশখালি-২)— শীতলিয়া <শীতল; ঠান্ডা কোমল স্বভাবের মানুষের বাস যে গাঁয়ে৷

শ্রীকৃষ্ণনগর (জয়নগর-১)— শ্রীকৃষ্ণ; ব্যক্তিনাম; দেবনাম৷

শ্রীকৃষ্ণনগর (মথুরাপুর-১)— শ্রীকৃষ্ণ; ব্যক্তিনাম; দেবনাম৷

শ্রীকৃষ্ণপুর (ক্যানিং-১)— শ্রীকৃষ্ণ; ব্যক্তিনাম৷

শ্রীধরনগর (পাথরপ্রতিমা)— শ্রীধর; ব্যক্তিনাম৷

শ্রীনারায়ণপুর (পাথরপ্রতিমা)— শ্রীনারায়ণ; দেবনাম৷

শ্রীনগর (কাকদ্বীপ)— শ্রীমণ্ডিত গ্রাম; গ্রাম অথচ নামে নগর৷

শ্রীনগর (ক্যানিং-২)— সুশ্রী অমল গ্রাম৷

শ্রীপুর (জয়নগর-১)— শ্রীময়ী গ্রাম; সচ্ছল গ্রাম৷

শ্রীরামপুর (জয়নগর-২)— শ্রীরাম; দেবকল্প নাম৷

শ্রীরামপুর (বাসন্তী)— শ্রীরাম; দেবকল্প নাম৷

শুশনি দ্বীপ (নামখানা)— শুশনি < শুশুনিয়া (< শুশুকের বাসভূমি); যে দ্বীপের চারদিকের নদীতে শুশুক দেখা যায়৷

শুণ্ডি পুখুরিয়া (ক্যানিং-১)— শুণ্ডি (= শুঁড়ি); শুঁড়ি সম্প্রদায়ের পুকুরের (পুখুর) সন্ধান মেলে যে গাঁয়ে৷

শূলকুনি আবাদ (হাসনাবাদ)— শূল— একধরণের ঘাস; কুনি—কোণা; যে গাঁয়ের কোণা জুড়ে শূল ঘাস জন্মায়৷

শেখপুখুরিয়া (মথুরাপুর-১)— শেখ সম্প্রদায়ের ব্যবহারের জন্য পুকুর (পুখুর) আছে যে গাঁয়ে৷

শেরপুর (হাড়োয়া)— শের; বাঘ; সাহসী লোকেদের গাঁ৷

শেরহাঙ্গামপুর (জয়নগর-২)— জঙ্গল থেকে বাঘ ঢুকে পড়ে হাঙ্গামা বাঁধাবার স্থান৷

শোভানগর (মথুরাপুর-১)— প্রাকৃতিক দৃশ্যনন্দিত গ্রাম অথবা শোভা; ব্যক্তিনাম৷

শ্যামনগর (কুলতলি)— শ্যাম; দেবনাম; ব্যক্তিনাম৷

সজিনাতলা (বাসন্তী)— সজিনা <সজনি (= সখী); সখী পাতানো গ্রাম; যে গাঁয়ে বন্ধুত্বের পরিবেশ৷

সদরপুর বেহালা (হাড়োয়া)— বেহালা < বেহাল (= যে গাঁয়ের অবস্থা ভালো নয়); আঞ্চলিক কেন্দ্র সদর; সদর হয়েও যে গাঁয়ের বেহাল অবস্থা৷

সন্দেশখালি (সন্দেশখালি-১)— সন্দেশ আকৃতির গ্রাম৷

সরবেড়িয়া (মিনাখাঁ)— সর < শর (= দীর্ঘ, শক্ত এক প্রকারের তৃণ); শর বেষ্টিত গ্রাম৷

সরবেড়িয়া (জয়নগর-১)— শর নামের তৃণ জন্মানো গাঁ৷

সন্তাোষনগর (মথুরাপুর-১)— সন্তাোষ; ব্যক্তিনাম৷

সত্যদাসপুর (পাথরপ্রতিমা)— সত্যদাস; ব্যক্তিনাম৷

স্বরূপকাটি (হিঙ্গলগঞ্জ)— স্বরূপ নামের ব্যক্তি বিশেষের পত্তন-কৃত (কাটা) গ্রাম৷

সাগর (সাগর)— বঙ্গোপসাগর উপকূলের গ্রাম৷

সাগর মাধবপুর (পাথরপ্রতিমা)— সাগর; মাধব; ব্যক্তিনাম৷

সাতজেলিয়া (গোসাবা)— সাত জেলের বাস যে গাঁয়ে৷

সাতঘড়া (মথুরাপুর-১)— সাতটি ঘড়া আছে যেখানে৷

সাধুপুরা (গোসাবা)— সাধুর বাস যে গাঁয়ে৷

সানকিজাহান (কুলতলি)— সানকি (মৃৎপাত্র; সরা); জাহান— জান? মৃৎশিল্প যে গাঁয়ের প্রাণ৷

সানকিবেড়িয়া (কাকদ্বীপ)— সানকি— মাটির সরা; সরার আকৃতি বিশিষ্ট গাঁ৷

সাপখালি (সাগর)— যে গাঁয়ে সাপ কিলবিল করে৷

সাবেক মহিষাহারা (ক্যানিং-২)— সাবেক— পুরানো; যে পুরানো গাঁয়ে এখনো মোষ হারায়৷

সামসেরনগর (হিঙ্গলগঞ্জ)— সামসের; মুসলমান ব্যক্তিনাম৷

সাহেবখালি (হিঙ্গলগঞ্জ)— সাহেবের হাতে গড়া গাঁ৷

সারসবেড়িয়া (মথুরাপুর-১)— যে গাঁয়ে সারস (বক) দেখা যায়৷

সারেঙ্গার আবাদ (ক্যানিং-২)— সারেঙ্গ <সারেঙ (= লঞ্চ চালক); যে গাঁয়ে সারেঙ এর বাস৷

সিদ্ধেশ্বর (মথুরাপুর-১)— ঈশ্বর সিদ্ধিলাভ করা মানুষের গাঁ৷

সিংহের কাটি (হিঙ্গলগঞ্জ)— সিংহ পদবিধারী কোনও ব্যক্তির প্রতিষ্ঠা করা পৃথক গ্রাম৷

সিংহেশ্বর (ক্যানিং-২)— বলশালী লড়িয়ে মানুষের গাঁ৷

সিরাজপুর (হাসনাবাদ)— সিরাজ; মুসলমান ব্যক্তিনাম৷

সুখদোয়ানী (সন্দেশখালি-২)— সুখ সাচ্ছন্দের দোয়ানি পাড়ের গাঁ; দোয়ানি— দুই বড় নদীর সংযোগকারী খাল৷

সীতারামপুর (পাথরপ্রতিমা)— সীতারাম; ব্যক্তিনাম৷

সীতাগাছি (মথুরাপুর-১)— সীতাহার গাছ আছে যে গাঁয়ে৷

সুধাংশুপুর (গোসাবা)— সুধাংশু; ব্যক্তিনাম৷

সুবুদ্ধিপুর (মথুরাপুর-১)— যে গাঁয়ের মানুষ সুবুদ্ধি ধরে৷

সুমতিনগর (সাগর)— সরল ও স্বচ্ছ মতিগতির গাঁ অথবা ব্যক্তিনাম৷

সূর্যনগর (কাকদ্বীপ)— সূর্য; ব্যক্তিনাম; দেবনাম৷

সোনাখালি (বাসন্তী)— সোনা > শোনক (Bignonia indica); যে গাঁয়ে সোনা গাছ দেখা যায়৷

সোনাগড় (গোসাবা)— সোনা গাছে ভর্তি সুরক্ষিত গ্রাম৷

সোনাটিকরি (জয়নগর-২)—টিকরি— উচ্চভূমি; যে উচ্চভূমির গাঁয়ে সোনা গাছ দেখা যায়৷

সোনার হুলা (হাড়োয়া) : হুলা <হুলিয়া— পলাতক আসামির চেহারার বিবরণ; সোনা হাতানোর দায়ে যে গাঁয়ে হুলিয়া বেরোয়৷

স্যান্ডেলের বিল (হিঙ্গলগঞ্জ)— যে গ্রামে স্যান্ডেল আকৃতির বিল আছে৷

হদিয়া (ক্যানিং-২)— হেজে যাওয়া পুকুরের গাঁ৷

হরিপুর (হাড়োয়া)— হরি; দেবনাম; ব্যক্তিনাম৷

হরিপুর (নামখানা)— হরি; ব্যক্তিনাম, দেবনাম৷

হরিপুর (হাসনাবাদ)— হরি; দেবনাম, ব্যক্তিনাম৷

হরিকৃষ্ণপুর (পাথরপ্রতিমা)— হরিকৃষ্ণ; দেবনাম৷

হরিকৃষ্ণপুর (মথুরাপুর-১)— হরিকৃষ্ণ; দেবনাম৷

হরিকাটি (হাসনাবাদ)— হরির নামে ছিন্ন অংশে গাঁ স্থাপন৷

হরিণডাঙা (মথুরাপুর-১)— ডাঙায় হরিণ যে গাঁয়ে দেখা যায়৷

হরিণবাড়ি (সাগর)— যে গাঁয়ে হরিণের চারণভূমি৷

হরিহরনগর (হাড়োয়া)— হরিহর; ব্যক্তিনাম৷

হরিশপুর (গোসাবা)— হরিশ; ব্যক্তিনাম৷

হরিনারায়ণপুর (জয়নগর-১)— হরিনারায়ণ; ব্যক্তিনাম৷

হরেকৃষ্ণপুর (বাসন্তী)— হরেকৃষ্ণ; ব্যক্তিনাম৷

হরেন্দ্রনগর (কাকদ্বীপ)— হরেন্দ্র; ব্যক্তিনাম৷

হাট পুখুরিয়া (ক্যানিং-১)— যে গাঁয়ে হাটের পাশেই পুকুর৷

হাটপাড়া (জয়নগর-১)— হাটের চারদিকে যেখানে পাড়া আছে৷

হাটভাঙা (মিনাখাঁ)— ভাঙা নদীর বাঁকে হাট বসে যে গাঁয়ে৷

হাটগাছা (সন্দেশখালি-২)— যেখানে গাছ বেষ্টিত হাট৷

হাটগাছি (সন্দেশখালি-১)— গাছভর্তি হাটের গাঁ৷

হাতামারি (ক্যানিং-১)— হাতা দিয়ে মারামারি৷

হাতিয়ামারি (ক্যানিং-২)— যে গাঁয়ে হাতি মারা পড়ার ঘটনা ঘটে অথবা হাতাহাতি৷

হাড়োয়া (হাড়োয়া)— হাওর— বিল, জলা, বড় বড় জলাভূমির গাঁ৷

হাড়ভাঙি (বাসন্তী)— হাড় ভাঙার ঘটনাস্থল৷

হাওড়ামারি (ক্যানিং-২)— হাওর— জলাভূমি; হাওরে মাছ মারার (ধরার) পরিচিত গ্রাম৷

হালাপাড়া (ক্যানিং-১)— হালা <হালাক (= হয়রান; প্রাণান্ত); যে গ্রামে এলে হয়রান হতে হয়৷

হালদহ (হাড়োয়া)— হাল— লাঙল; নিচু ভূমির যে গ্রামে হাল (লাঙল) দিয়ে জমি চষা হয়৷

হাবাসপুর (হাসনাবাদ)— হাবাস <হাভাতে (= ভাতের কাঙাল); দরিদ্র গ্রাম৷

হাসনাবাদ (হাসনাবাদ)— হাসনুহানা— সাদা রঙের সুগন্ধী বুনো ফুল; হাসনুহানা ফোটা গাঁ অথবা যেখানে অজস্র হাঁস৷

হিঙ্গলগঞ্জ (হিঙ্গলগঞ্জ)— হেঙ্কেল সাহেবের (টিলম্যান হেঙ্কেল) নামে গড়ে ওঠা গঞ্জের নাম প্রথমে ছিল হেঙ্কেলগঞ্জ; স্থানীয় মানুষের উচ্চারণ দোষে হেঙ্কেলগঞ্জ পরবর্তীকালে পরিবর্তিত হয়ে দাঁড়ায় হিঙ্গলগঞ্জ৷

হিমচি (মথুরাপুর-১)— হিমচি <হিংচা; হিংচা জন্মায় যেখানে৷

হিংচাখালি (ক্যানিং-১)— হিংচা <হেলেঞ্চা; যে গাঁয়ের খাল বিলে হেলেঞ্চা জন্মায়৷

হিরণ্ময়পুর (বাসন্তী)— হিরণ্ময়— ব্যক্তিনাম৷

হেনরিজ আইল্যান্ড (নামখানা)— হেনরি সাহেবের নামে পরিচিত স্থান৷

হেদিয়ার আবাদ (ক্যানিং-১)— হেদিয়া < হেদে < হেদানো; প্রিয় বিরহে আকুল; যে গাঁয়ে বিরহীর দীর্ঘশ্বাস অনুভূত হয়৷

হেতালবাড়ি (গোসাবা)— হেতাল দিয়ে বাড়ির কাঠামো নির্মাণের গ্রাম৷

হেমনগর (হিঙ্গলগঞ্জ)— হেম— সোনা; সোনালী ফসল জন্মানো গাঁ; হেম; ব্যক্তিনাম৷

হেড়োভাঙা (ক্যানিং-১)— হাড় ভাঙার ঘটনা যে গাঁয়ে ঘটে৷

হেসামাবাদ (কাকদ্বীপ)— হেইসামা < হেসামা (= সামাল দেবার আকুতি, আবেদন); আকুতি আবেদনে মিটমাটের পথ বেছে নেওয়া গ্রাম; হেসামা— মুসলমান ব্যক্তিনাম (স্ত্রী)৷

হোগলা (জয়নগর-১)— হোগলা— জলাভূমিজাত তৃণবিশেষ যা ঘর বা দোকান ছাউনির কাজে আসে; হোগলা জন্মানো স্থান বিশেষ৷

হোগলডহরি (জয়নগর-১)— হোগলা ঝোপে ঘেরা গোচরভূমি; ডহরি— গোচরভূমি৷

হোগলডুরি (বাসন্তী)— ডুরি <দুরি <দুমুড়ি (= দুদিকে); যে গাঁয়ের দুদিকে হোগল নদী প্রবাহিত৷

হোমরা পলতা (ক্যানিং-২)— হোমরা— হোমরা-চোমরা; পলতা— যেখানে পাটপাতা (কচিপাতা) খুব মেলে? কচি পাতার গাছ মাড়িয়ে হোমরা-চোমরাদের আবাসের সন্ধান?

হোসেনপুর (মিনাখাঁ)— হোসেন; মুসনমান ব্যক্তিনাম৷

হ্যামিলটন আবাদ (গোসাবা)— স্কটিশ সাহেব ড্যানিয়েল হ্যামিলটন-এর ইজারা নেওয়া গ্রাম৷

সুন্দরবনের গ্রামনাম তুলনায় আধুনিক৷ গ্রামনামে ‘পুর’ ‘নগর’ ইত্যাদির ব্যবহার আবাদি জমিতে বসত গড়ে তোলা সুন্দরবনের সেকালের মানুষদের পূর্ব-বসতির স্মরণাতীত ফসল৷ ব্যক্তিনাম ও দেবনাম ব্যতীত অন্যান্য নামগুলির মধ্যে সুন্দরবনের প্রকৃতি, সমাজ, রীতি, আচার ও দৈনন্দিনের ঘটনা প্রবাহ যুক্ত হয়েছে৷ ভারতীয় সুন্দরবন অংশের দু’একটা গ্রাম ছাড়া কোথাও অতীত অথবা ঐতিহ্যের কোনও চিহ্ন মেলে না৷ তাই সুন্দরবনের স্থাননামে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সাক্ষর প্রায় চোখেই পড়ে না৷ খাল বিল জলাভূমির নিচু স্থান, মাছ গাছ জীবজন্তুর নামেই অধিকাংশ গ্রামনাম৷ জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড়, ক্ষয়ক্ষতি, দুর্যোগ প্রভৃতি ঘটনা গ্রামনামে কোথাও কোথাও স্বল্প সংখ্যায় হলেও এসে পড়েছে৷

যে কোনও সংখ্যক ঘর বাড়ি বস্তুভিটে নিয়ে সুন্দরবনের আবাদ করা স্থানে গাঁয়ের সৃষ্টি হয়েছে৷ পরবর্তীকালে বসতি বেড়েছে৷ গাঁয়ের সৃষ্টি হয়েছে৷ গাঁয়ে ঘর বাড়ির সংখ্যাও ক্রমে বেড়েছে৷ ঘরের সংখ্যা গাঁয়ে ঢোকা নতুন মানুষের জন্য যেমন বেড়েছে, তেমনি একাধিক ভাইয়ের পৃথক সংসারের জন্যও সমহারে বৃদ্ধি পেয়েছে৷ সুন্দরবনে একান্নবর্তী সংসার প্রায় বিরল৷ শহরের ধাঁচে বিয়ের পরপরই নব্বধূর কাছে ছেলেরা প্রায়শই নতি স্বীকার করে৷ ছেলেদের বাপমায়ের থেকে আলাদা হয়ে পৃথক সংসার গড়ে তোলার নজির সুন্দরবনের প্রায় সর্বত্রই দেখা যায়৷

বাঙাল, মেদিনীপুরী, মুসলমান ও আদিবাসী-এই চারটি গোষ্ঠী অধ্যুষিত বাদাবনের জনপদ— সুন্দরবন৷ চার গোষ্ঠীর মধ্যে বাঙাল ও মেদিনীপুরীদের মধ্যে ‘পোদ’ সম্প্রদায়ের মানুষই সংখ্যায় অধিক৷ চাকুরি বা ব্যবসায় টাকাপয়সা হাতে এলে এই পোদেরা এখন জেলা আদালতে এফিডেবিট করে নিজেদের পদবি বদলে জাতে ওঠার চেষ্টা চালায়৷ ‘মাল’ থেকে ‘রায়’, ‘শিট’ থেকে ‘শেঠ’, ‘মণ্ডল’ থেকে ‘পাঠক’, ‘বাড়ই’ থেকে ‘বোস’ হয়ে গেলেও তপশিলী জাতির জন্য নির্দিষ্ট সরকারি সুযোগ সুবিধা একশ ভাগই ভোগ করে৷ সুন্দরবনে পৈতৃক সম্পত্তির দশ বিঘা জমি বেচে কলকাতা শহরের উপকন্ঠে দুকাঠা জমি কিনে পাকা বাড়ি বানিয়ে ফেলে৷ গাঁয়ে পড়ে থাকা মা ভাই বোনদের দিকে ফিরেও তাকায় না৷ পরিযায়ীরা আদর্শ সুবিধাবাদী৷ সুন্দরবনে গ্রাম পত্তনের সময়কালে এদের পূর্বপুরুষরাও ছিল একইরকম সুবিধাভোগী৷ গ্রামনামে তাই এদের প্রভাব থাকার কথা নয়৷ সুন্দরবনে জঙ্গল হাসিল করার সময় আদিবাসীদের মধ্যসত্ত্বভোগীরা নিয়ে এসেছিল৷ নায়েব গোমস্তা ইজারাদারদের অত্যাচারে এদের সংখ্যা সেকালেই হ্রাস পেয়েছিল৷ বর্তমানে ওই আদিবাসীদের কয়েকটি গ্রামে অল্পসংখ্যক বসবাস৷ নিরীহ অথচ ‘বুনো’ ডাকনাম শুনতে অভ্যস্ত আদিবাসীদের সুন্দরবনের গাঁ-সমাজে তেমন কোনও প্রভাব নেই৷ বরং চাকুরিজীবী এদের কেউ কেউ পোদেদের অনুসরণ করে ‘মুন্ডা’ থেকে ‘মণ্ডল’-এ পরিবর্তিত৷ মুসলমান প্রধান গাঁয়ের নাম সুন্দরবনে যথেষ্ট৷ বসিরহাট, হাসনাবাদ, ইমামদিপুর, খোদাদাতপুর সহ অন্তত ৪২টি ক্ষেত্রে মুসলমান গ্রামনাম সুন্দরবনের জনপদ জুড়ে চোখে পড়ে৷

সুন্দরবনের অধিকাংশ ঘরবাড়ি খড়ের চালে তৈরি৷ তাই বলে আপাত দরিদ্র সুন্দরবনের জনপদগুলিতে দোচালা, চৌচালা, আটচালা ঘরের সংখ্যা হাতে গোনা মাত্র কয়েকটি৷ তাই ‘চালা’ যোগে গ্রামনাম নেই বললেই চলে৷ তবে যে কোনও সংখ্যক ‘ঘর’ নিয়ে তৈরি হওয়া গ্রাম যেমন—-তেঘরিয়া, সাতঘরিয়া দু চারটি ক্ষেত্রে লক্ষণীয়৷ বিস্ময়ের যে মাছরাঙা কাঠঠোকরা পানকৌড়ি কোঁচবক-সহ অসংখ্য পাখির কিচিরমিচিরে পূর্ণ বৈচিত্র্যময় সুন্দরবনে পাখির নামে একটিই গ্রামনাম-পাখিরালয়৷ একই কথা সাপের ক্ষেত্রে খাটে৷ সাপের নামেও একটিই গ্রাম-সাপখালি৷

জলাভূমি সুন্দরবনের প্রতিটি গ্রামে সেকালে অসংখ্য ছিল৷ বর্তমানে সংখ্যায় কমলেও বেশ কিছু এখনও আছে৷ বেশ কিছু জলাভূমি আগাছাভর্তি বদ্ধ জলাশয়৷ তবে অধিকাংশ জলাভূমি সংস্কার করে মাছচাষ চলছে৷ নিচুস্থানের এই জলপূর্ণ স্থানগুলিকে ‘দহ’ বলে৷ সুন্দরবনের লোকালয়ে নদীনালা খাল বিল মজে গিয়ে ‘দহ’-এর সংখ্যা অজস্র৷ স্বভাবতই খসঙ্কদহ, হালদহ, উচিলদহ, কাঁকড়াদহ, শিমুলদহ, গৌড়দহ, পিপুলদহ, শঙ্করদহ, ভয়দা, ময়দা-সহ অন্তত ১৩টি ক্ষেত্রে ‘দহ’ যুক্ত নামে সুন্দরবনে গ্রাম আছে৷

গ্রামগুলির বসবাস-বিন্যাস প্রধানত তিনরকম৷ গাঁ-ঘেঁষা গঞ্জ বা ছোটখাটো শহরের পথের দুপাশে একটানা সারবন্দি ঘর৷ একে লাইনবন্দি বিন্যাস (Linear Pattern) বলা যেতে পারে৷ নিচু জলাভূমি বা মাছের ভেড়ি সংলগ্ন গাঁয়ে উঁচু স্থানে কতকগুলি ঘরবাড়ি অবিন্যস্তভাবে তৈরি, তাই এমন বিন্যাস-এর সুন্দরবনের গ্রামে দেখা যায় পুঞ্জীভূত বিন্যাস (Agglomerated Pattern)৷ সুন্দরবনে অধিকাংশ ঘরবাড়ি, বাস্তুভিটে ছড়ানো ছিটানো৷ সুন্দরবনের ঐ ধরনের বৈশিষ্ট্যের গ্রামগুলিকে অসম্বদ্ধ বিন্যাস (Scattered Pattern) হিসাবে গণ্য করা হয়ে থাকে৷

সুন্দরবনের জনপদ জঙ্গল হাসিল করা আবাদি জমির উপর প্রতিষ্ঠিত৷ ঘরবাড়ি বাস্তুভিটে তাই ছড়ানো ছিটানো৷ পাড়া (পাটক)-সংস্কৃতি তেমনটা দেখা যায় না৷ ভূমিহীন প্রান্তিক চাষীরা নদীবাঁধের ধারে ছিটেবেড়ার ঘরে বসবাস করে৷ ঠিকানা নদী লাগোয়া নদীবাঁধ হলেও তারা যেন গাঁয়ের কেউ নয়৷ চাঁদা দিতে পারে না বলে দুর্গাপুজো বা ধর্মের জাতে ওদের কেউ ডাকে না৷ অবশ্য ওদের ন্যাংটো শিশুরা মণ্ডপে বা থানে থানে ঘুরে বেড়ায়৷ ধরে নেওয়া যাক এমনই একটি সুন্দরবনের গ্রামনাম —হেমনগর৷ গ্রামনামের অর্থে যেখানে সোনালি ফসল ফলে৷ অথচ সুন্দরবনের নদীপাড়ে বসবাসকারী ভূমিহীন হতদরিদ্র হাভাতে মানুষগুলো সোনালি স্বপ্নের সেই হেমনগর গ্রামনামের অংশীদারিত্বের অধিকারী হতে পারে না৷

অধ্যায় ৩০ / ৩০
সকল অধ্যায়
১.
পরিবেশ শিক্ষার অঙ্গন—সুন্দরবন
২.
সুন্দরবন— একটি ভূ-প্রাকৃতিক সমীক্ষা
৩.
সুন্দরবন জীবমন্ডল
৪.
ম্যানগ্রোভস্ বায়োম—প্রেক্ষিত-সুন্দরবন
৫.
সুন্দরবনে লবণপ্রাণ
৬.
সুন্দরবনের পাহারাদার— রয়েল বেঙ্গল টাইগার
৭.
সাপ কান্ড সুন্দরবন
৮.
কুমীর বন্দনা
৯.
সুন্দরবনের ঝড়খালিতে পর্যটনকেন্দ্র কোনমতেই নয়
১০.
সুন্দরবনের মাছ কাঁকড়া চিংড়ি
১১.
ইলিশ
১২.
বাগদামীন
১৩.
মীন সংগ্রহকারীদের রোগভোগ
১৪.
গলদা মীন
১৫.
নোনা মাছ— জাতে ওঠেনি আজো
১৬.
প্রান্তিক মানুষ
১৭.
মৌয়াল/মউলে
১৮.
গুণিন
১৯.
বাওয়ালী/বাউলে
২০.
জেলে
২১.
চোরাশিকারী
২২.
বনদস্যু/জলদস্যু
২৩.
সুন্দরবনের গ্রামীণ ডাকাত
২৪.
মোলঙ্গী— নুন চাষীর আর এক নাম
২৫.
শহরে সোঁদরবনের পাঁচ কাহন
২৬.
জলাভূমি—সাম্প্রতিকী ও সংরক্ষণ
২৭.
হেতানিয়া দোয়ানিয়ায় বার্জ-জেটি
২৮.
জনগোষ্ঠী ও ভাষা
২৯.
লৌকিক দেবদেবী
৩০.
গ্রামনাম বৈচিত্র্যে সুন্দরবন

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%