যদ্ভবিষ্যের কথা

রমেন্দ্রকুমার ভট্টাচার্য

অনেক কাল আগে, এক পুকুরে তিনটি বড়ো মাছ ছিল। তারা ছিল তিন বন্ধু। তাদের একজনের নাম অনাগতবিধাতা, একজনের নাম প্রত্যুৎপন্নমতি, আর একজনের নাম যদ্ভবিষ্য। সুখেই ছিল তারা। এমন সময় একদিন জেলেরা এসে বলাবলি করল যে তারা কাল সকালে এসে এই পুকুরে জাল ফেলবে। সব মাছ ধরে নেবে। জেলেদের কথা শুনে অনাগতবিধাতা বলল, ‘চলো বন্ধুরা, ওই যে একটা নালা আছে তা দিয়ে কোনো রকমে অন্য জলাশয়ে চলে যাই।’ অন্যেরা বলল, ‘তুমি বড়ো ভীতু। আগে দেখি জেলেরা এল কি-না। তারপর ব্যবস্থা করা যাবে।’ অনাগতবিধাতা বলল, ‘ভেবে কাজ নেই। বিপদ আসতে পারে জেনে সকলেরই প্রাণ বাঁচানো কর্তব্য।’ এই বলে সে সেই রাত্রেই কষ্টেসৃষ্টে নালা বেয়ে অন্য পুকুরে চলে গেল।

পরদিন সত্যিই জেলেরা এসে জাল ফেলল। তাতে প্রত্যুৎপন্নমতি আর যদ্ভবিষ্য দুজনেই ধরা পড়ল। প্রত্যুৎপন্নমতি কিছুক্ষণ ছটফট করে মড়ার ভান করে পড়ে রইল। সে মরে গেছে মনে করে জেলেরা হাত দিয়ে ধরে তাকে যেই জালের বাইরে আনল, অমনি সে এক লাফ দিয়ে জলে পড়ে গেল। জলে পড়ে সে জলের তলাকার মাটির সঙ্গে মিশে থাকল। জেলেরা আর তাকে ধরতে পারল না। কিন্তু যদ্ভবিষ্য কোনো রকমেই পালাতে পারল না। সে জলের অভাবে কিছুক্ষণ পরেই মারা গেল।

গল্পটি শেষ করে কম্বুগ্রীব বলল, ‘আমি যাতে এই দিঘি ছেড়ে অন্য দিঘিতে যেতে পারি তার ব্যবস্থা করো।’ হাঁস দুটি বলল, ‘অন্য জলাশয়ে তোমাকে রেখে আসতে পারলে ভালো হত। কিন্তু তুমি তো উড়তে পারো না। হেঁটেও দূরের জলাশয়ে যেতে পথে কারও-না-কারও হাতে ধরা পড়ার ভয় আছে।’ কম্বুগ্রীব বলল, ‘আমি যাতে আকাশ-পথে তোমাদের সঙ্গে যেতে পারি, তার একটা উপায় ভেবেছি। তোমরা দুজনে একটা শক্ত কাঠির দু-দিক ঠোঁট দিয়ে চেপে ধরবে। আমি সেই কাঠির মাঝখান কামড়ে ধরে থাকব। তোমরা আমাকে নিয়েই আকাশ-পথে দূরের জলাশয়ে যেতে পারবে।’ হাঁসেরা বলল, ‘আমাদের ডানার জোরে এভাবে তোমায় নিয়ে উড়ে যেতে পারব। তবে কি জানো—বুদ্ধিমানেরা যেমন কোনো কাজের ভালোর দিকটা দেখে, তেমনি খারাপ দিকটাও দেখে। খারাপ দিকটা হল—ওইভাবে উড়ে যাবার সময় তুমি কোনো কারণে যদি মুখ খোলো, তাহলে আর তোমার রক্ষা নেই! আগুপিছু না-ভেবে কাজ করায় একবার কতকগুলো বকের খুব বিপদ হয়েছিল। গল্পটা বলছি…’

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%