রমেন্দ্রকুমার ভট্টাচার্য
এক তপোবনে মহাতপা নামে এক মুনি একটি কুটিরে বাস করতেন। জপতপ করে তাঁর সময় কাটত। একদিন একটা কাক মুখে করে একটা ইঁদুর-ছানা নিয়ে উড়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ সেই ইঁদুর-ছানাটা কাকের মুখ থেকে মটিতে পড়ে যায়। মুনি কাছেই ছিলেন। তিনি ইঁদুর-ছানাটাকে কুটিরে নিয়ে রেখে দিলেন। মুনি প্রতিদিন ইঁদুরছানাটাকে চালের কণা, ফল-মূল খেতে দিতেন। সুখে এবং নির্ভয়ে ইঁদুরছানাটা মুনির কুটিরে থেকে ক্রমে বড়ো হয়ে উঠল।
একদিন একটা বিড়াল এল কুটিরে। বিড়াল দেখে ভয়ে ইঁদুর-ছানা এসে মুনির কোলে আশ্রয় নিল। ইঁদুরের অবস্থা দেখে মুনি তাকে বর দিলেন, ‘তুমি বিড়াল হও!’ অমনি ইঁদুরটা বিড়াল হয়ে গেল। দিন কয়েক পরে, কোথা থেকে একটা কুকুর এল মুনির কুটিরের কাছে। কুকুর দেখে বিড়াল-হওয়া-ইঁদুরটা কুটিরে ঢুকে ভয়ে কাঁপতে লাগল। মুনি বললেন, ‘কুকুর দেখে ভয় পাচ্ছ যখন, তখন তুমিও কুকুর হও!’ সঙ্গে সঙ্গে সে কুকুর হয়ে গেল।
কুকুর হয়ে সেই ইঁদুরটা এখন তপোবনের চারদিকে ঘুরে বেড়ায়। একদিন সে একটু দূরে গিয়েছিল। সেখানে ছিল একটা বাঘ। বাঘ দেখে সে ল্যাজ গুটিয়ে দৌড়ে পালিয়ে এল মুনির কুটিরে। মুনি বুঝতে পেরে বললেন, ‘বাঘ দেখে ভয় পেয়েছ? তবে তুমিও বাঘ হয়ে যাও।’ দেখতে দেখতে কুকুরটা একটা বাঘ হয়ে গেল। আর তার কাউকে ভয় নেই।

ইঁদুরটা যদিও বাঘ হল, মুনি কিন্তু তাকে ইঁদুরই মনে করতেন। অন্য লোকেরা বলত, ‘এই বাঘটা আগে ইঁদুর ছিল।’ লোকের কথা শুনে বাঘ মনে বড়ো দুঃখ পেত। তার মনে হল, ‘এই মুনি যতদিন বেঁচে থাকবে, ততদিন তার ইঁদুর অপবাদ যাবে না।’ তাই সে ঠিক করল, আজ মুনিকেই সে বধ করবে। এই ভেবে যেই-না সে মুনিকে আক্রমণ করতে এল, মুনি বললেন, ‘পুনর্মূষিকো ভব’, অর্থাৎ আবার ইঁদুর হও! সেই মুহূর্তে বাঘটা আবার একটা ইঁদুর হয়ে কিচকিচ শব্দ করে একটা গর্তে গিয়ে লুকিয়ে পড়ল। গল্প শেষ করে গৃধ্র বলল, ‘তাই বলি মহারাজ, উপকার পেয়ে, ক্ষমতাবান হয়ে—আরও ক্ষমতার লোভে মেঘবর্ণ আপনার ক্ষতি করতে দ্বিধা করবে না। অবশ্য, বেশি লোভ যদি সে করে, আর আপনি যদি সতর্ক থাকেন, তবে তার অবস্থা সেই ধূর্ত ও লোভী বকের মতো হবে।’
রাজা চিত্রবর্ণ জানতে চাইলেন, ‘সেটা কী ঘটনা, শুনি!’ মন্ত্রী গৃধ্র বলতে লাগল…
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন