অকাজের ফল

রমেন্দ্রকুমার ভট্টাচার্য

মগধ দেশে ধর্মারণ্যের কাছে এক ধনবান লোক একটি বৌদ্ধ মন্দির তৈরি করাচ্ছিলেন। এই মন্দির তৈরি করতে অনেক কাঠের প্রয়োজন। তখন বন থেকে মোটা মোটা কাঠ কেটে এনে, মিস্ত্রিরা কাছেই সেই কাঠ চেরাই করছিল। একদিন, একটা মোটা কাঠের অর্ধেক চেরাই করে, চেরাই করা জায়গায় কাঠের একটা গোঁজ ঢুকিয়ে দিয়ে, করাতখানা উঠিয়ে নিয়ে মিস্ত্রিরা সেদিনের মতো কাজ বন্ধ করে চলে গেল।

এই বনে ছিল অনেকগুলি বাঁদরের বাস। তারা দূর থেকে এই কাঠ-চেরাইয়ের কাজ দেখছিল। মিস্ত্রিরা যেই চলে গেল অমনি দলে দলে বাঁদর সেখানে এসে লাফালাফি করতে লাগল। একটা মস্ত বাঁদর এসে বসল আধ-চেরা গাছটায় তার ল্যাজ ঝুলিয়ে। বসে সে মিস্ত্রিদের দেওয়া সেই গোঁজটা ধরে টানাটানি করতে লাগল। গোঁজটা খুলে গেলে যে কী পরিণতি হতে পারে তা বাঁদরটার জানা ছিল না। অনেক টানাটানি করে যে মুহূর্তে সে গোঁজটা খুলল, সেই মুহূর্তেই চেরা-কাঠের ফাঁকটা বন্ধ হয়ে গেল, আর গোড়াসুদ্ধ বাঁদরটার ল্যাজ গেল চেপ্টে। অনেক টানাটানি করেও সে ল্যাজ খুলতে পারল না। ল্যাজ ফুলে ঢোল হয়ে গেল। তাতেই সে মারা গেল। তাই বলি ভাই দমনক—যার যা কাজ নয় তা করতে গেলে শেষে প্রাণ নিয়ে টানাটানি হতে পারে।

দমনক বলল, ‘তবু, রাজার ভয়-ভাবনা দূর করা যে-কোনো সেবকের কর্তব্য। রাজার মন্ত্রী হতে কী আমরা চাই না?’ করটক বলল, ‘রাজার ভয়-ভাবনা দূর করার অনেক রাজ-কর্মচারী আছে। কর্মচারীদের প্রত্যেকের নির্দিষ্ট কাজ আছে। তুমি-আমি সেখানে নাক গলাতে গেলে সেই ‘ধোপার গাধার’ মতো দুরবস্থা হতে পারে।’ দমনক জানতে চাইল—কী হয়েছিল সেই গাধার? করটক বলল, ‘বলি শোনো…’

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%