রমেন্দ্রকুমার ভট্টাচার্য
হিরণ্যক বলল—মগধ দেশে চম্পাবতী নামে একটা বিশাল বন আছে। সেই বনে এক কাকের সঙ্গে এক হরিণের অনেক দিনের বন্ধুত্ব ছিল। কাকটা যে গাছে থাকত, হরিণও সেই গাছের তলাতেই থাকত। কাক তো ভোর হতে-না-হতেই গ্রামের দিকে চলে যেত। ফিরে আসত বিকালবেলায়। হরিণও সারাদিন বনের মধ্যে কচি ঘাস খুঁজে খুঁজে খেত। সেও বিকাল-বিকাল সেই গাছতলায় ফিরে আসত। তখন দুই বন্ধুতে নানা গল্প করে সন্ধেয় ঘুমিয়ে পড়ত।
এক দুপুরে এক শেয়াল সেই হরিণটাকে দেখল। দেখে তো তার হরিণের মাংস খাওয়ার লোভ হল। কেমন করে এর মাংস খাওয়া যাবে? শেয়াল ভাবল, আগে ওর সঙ্গে বন্ধুত্ব করি, পরে সুযোগ বুঝে ওকে মারবার ব্যবস্থা করতে হবে। শেয়াল হরিণের কাছে গিয়ে বলল, ‘হরিণ ভায়া, কেমন আছো।’ হরিণ বলল, ‘কে তুমি, ভাই?’ শেয়াল বলল, ‘আমি এক শেয়াল, আমার নাম ক্ষুদ্রবুদ্ধি। আমি এই বনের ওদিকে একা থাকি। কোনো বন্ধু নেই। তাই তোমার সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে এলাম। আজ থেকে আমি সারাদিন তোমার সঙ্গে সঙ্গে থাকব। গল্পগুজব করব। কেমন?’ হরিণ সেই গাছটার দিকে আসতে আসতে বলল, ‘খুব ভালো কথা। আমি ওই বড়ো গাছটার তলায় থাকি। ওখানে আমার এক বন্ধু আছে। সে একটি কাক। চলো, তার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিই। সে এতক্ষণে বাসায় পৌঁছে গেছে।’
হরিণ শেয়ালকে নিয়ে কাছে আসতেই কাক জিজ্ঞাসা করল, ‘তোমার সঙ্গে কে?’ হরিণ বলল, ‘এ হল এক শেয়াল। বেচারা একা থাকে, বন্ধু নেই। তাই আমার সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে চায়।’
কাক বলল, ‘সে তো ভালো কথা। কিন্তু লোকে বলে—অজানা-অচেনা লোককে ঘরে ঠাঁই দিতে নেই। আমি বলি—ভালো করে পরিচয় না-জেনে অজানা-অচেনা কারও সঙ্গে বন্ধুত্বও করতে নেই। তাতে বৃদ্ধ জরদগবের মতো দুর্দশা হতে পারে।’ হরিণ বলল, ‘সে আবার কী ব্যাপার?’
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন