প্রতারক সাপ

রমেন্দ্রকুমার ভট্টাচার্য

একটা সাপ বুড়ো হয়ে যাওয়ায় সে আর ব্যাং বা ইঁদুর ধরে খেতে পারত না। খিদেয় কাতর হয়ে সে একটা ডোবার ধারে লম্বা হয়ে শুয়েছিল। দূর থেকে একটা ব্যাং তাকে এভাবে পড়ে থাকতে দেখে জিজ্ঞাসা করল, ‘কী ব্যাপার ভাই, এমন মড়ার মতো পড়ে আছ কেন?’ সাপ বলল, ‘বন্ধু, এক ব্রাহ্মণের ছেলেকে আমি ছোবল দিয়ে মেরে ফেলেছিলাম। সেই ব্রাহ্মণ আমায় অভিশাপ দেন—আজ থেকে তুই ব্যাং-রাজার বাহন হবি। আমি অনাহারে অনিদ্রায় খুঁজতে খুঁজতে ভাগ্যক্রমে আপনার দেখা পেলাম। আপনি নিশ্চয়ই সেই ব্যাং-রাজা।’ ব্যাং বলল, ‘আমাদের মস্ত ডোবাটায় অনেক অনেক ব্যাং আছে। তারা আমাকে তাদের রাজার মতোই মান্য করে বটে।’ ধূর্ত এবং খল সাপ বলল, ‘তাহলে আমার পিঠে চড়ে বসুন। সকলে দেখুক।’ সাপের পিঠে চড়ে ব্যাং এল তাদের ডোবায়। সাপ দেখে অন্য ব্যাঙেরা প্রথমে ভয় পেয়েছিল। পরে রাজার বাহনকে আর তাদের ভয় ছিল না।

একদিন সেই সাপ, ব্যাং-রাজাকে নিয়ে ডোবায় ঘুরতে ঘুরতে খুব ক্লান্ত হয়ে পড়ল। ব্যাং-রাজা বলল, ‘কী হল তোমার?’ সাপ বলল, ‘প্রভু, না-খেয়ে বড়ো দুর্বল হয়ে পড়েছি।’ ব্যাং-রাজা বলল, ‘এই তো আমার কত প্রজা-ব্যাং আছে। তাদের কয়েকটাকে খাও। আমি আদেশ করছি—রোজ তুমি কয়েকটা করে ব্যাং খাবে।’

কিছুদিনের মধ্যেই সেই ডোবার সব ব্যাং শেষ হয়ে গেল। অবশেষে ব্যাং-রাজাও সাপের পেটে গেল।

গল্প শেষ করে মেঘবর্ণ বলল, ‘এখন গল্প থাক। আমার মতে আপনি কর্পূরদ্বীপের হংসরাজ হিরণ্যগর্ভের সঙ্গে সন্ধি করুন।’ দূরদর্শী মন্ত্রী গৃধ্র বলল, ‘সন্ধি করাই কর্তব্য। ক্রোধের বশীভূত হয়ে কোনো কাজ করতে গেলে গল্পের সেই ব্রাহ্মণের মতো অনুতপ্ত হতে হবে।’ গল্পটা এই…

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%