রমেন্দ্রকুমার ভট্টাচার্য
নর্মদা নদীর তীরের কাছে একটা মস্ত শিমুলগাছ ছিল। তার ডালে ডালে বাবুই পাখিদের অনেক বাসা ছিল। এখানে তারা শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষাতে সুখে বাস করত।
বর্ষাকালে একদিন পাহাড় থেকে একদল বাঁদর এসে শিমুল গাছটার তলায় বসেছিল। এমন সময় আকাশ কালো মেঘে ছেয়ে গেল। একটু পরেই প্রবল বৃষ্টি নামল। এমন বৃষ্টি বোধহয় কয়েক বছরের মধ্যে হয়নি। নিজেদের বাসায় বসে বাবুই পাখিরা এসব কথা বলছিল। এমন সময় হঠাৎ নীচের দিকে পাখিদের নজর পড়ল। তারা দেখল, একদল বাঁদর শিমুল গাছের নীচে বসে ভিজছে। ভিজছে আর ঝড়ো বাতাসে শীতে কাঁপছে।
বাঁদরদের অবস্থা দেখে বাবুই পাখিদের বড়ো কষ্ট হল। তারা বাঁদরদের ডেকে বলল, ভাই, আমাদের হাত-পা নেই। আমরা কেবল ঠোঁট দিয়ে বাসা বানিয়ে আরামে বাস করছি। তোমাদের তো হাত-পা আছে। তোমরা বাসা বানিয়ে নিতে পারো না? তাহলে তো এত কষ্ট পেতে না।’
বাবুইদের কথা শুনে বাঁদরেরা রেগে গেল। তারা বলাবলি করল, ‘পাখিগুলি আমাদের দুর্দশা দেখে ঠাট্টা করছে। ঠিক আছে, বৃষ্টিটা থামুক তখন এর জবাব দেব।’
তারপর, যেই বৃষ্টি থামল, বাঁদরগুলি তড়তরিয়ে শিমুল গাছটায় উঠে বাবুইদের সবগুলি বাসা ছিঁড়ে ফেলে দিল। অবশ্য, বাঁদরদের গাছে চড়তে দেখেই বাবুই পাখিরা বাসা ছেড়ে অন্য অন্য গাছে চলে গিয়েছিল।
হংসরাজ হিরণ্যগর্ভ বলল, ‘মূর্খকে উপদেশ দিলে তারা অসন্তুষ্টই হয়ে থাকে। সে যাক। তুমি যে বিন্ধ্যপর্বতে ময়ূররাজের দেশে গেলে সেখানকার কথা বলো।’
দীর্ঘমুখ বলল, ‘সে-দেশের পাখিরা রেগে বলল, ‘‘কে এই হংসরাজ হিরণ্যগর্ভকে রাজা করেছ?’’ আমিও রেগে একই প্রশ্ন করলাম, ‘‘তোমাদের চিত্রবর্ণ ময়ূরকে কে রাজা করেছে?’’ আমার কথা শুনে ভীষণ রেগে ওরা আমায় আক্রমণ করতে এল। আমিও…।’ হংসরাজ হিরণ্যগর্ভ বলল, ‘শোনো, শোনো—কাউকে আক্রমণ করতে গেলে, আগে তোমার নিজের শক্তি আর সাহসের সঙ্গে তোমার শত্রুর শক্তি আর সাহসের তুলনা করবে। যার শক্তি বেশি, সাহস বেশি সে অবশ্যই জিতবে। তোমার নকল শক্তি বা প্রতারণার চেষ্টা দিয়ে জিততে পারবে না। বাঘছাল পরা গাধার কী অবস্থা হয়েছিল জানো না?’
দীর্ঘমুখ বলল, ‘না তো। তবে শুনতে বড়ো সাধ হচ্ছে।’
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন