সন্ধি

রমেন্দ্রকুমার ভট্টাচার্য

পরদিন বিষ্ণুশর্মা গল্প বলতে এলে রাজকুমারেরা বলল, ‘আচার্যদেব, আপনার গল্প থেকে আমরা যুদ্ধের রীতিনীতি কিছু শিখলাম। যুদ্ধ করা যে ভালো নয়, তাও জানলাম। শুনেছি, যুদ্ধের পর রাজায় রাজায় সন্ধিও হয়। কেমন করে এই সন্ধি হয়?’

বিষ্ণুশর্মা বললেন, ‘সন্ধির এই গল্প থেকেই এসব জানতে পারবে। আজকের গল্পটাকে আগের বিগ্রহ নামক গল্পটার উপসংহার বা শেষ ভাগ বলতে পারো।’

তোমাদের মনে আছে কর্পূরদ্বীপের হংসরাজ হিরণ্যগর্ভ আর জম্বুদ্বীপের ময়ূররাজ চিত্রবর্ণের মধ্যে যুদ্ধ হয়েছিল। এই যুদ্ধে কর্পূরদ্বীপের হিরণ্যগর্ভ পরাজিত হয়ে আত্মগোপন করেছিল। পরে হিরণ্যগর্ভ ফিরে এসে তার মন্ত্রী চক্রবাককে জিজ্ঞাসা করেছিল, ‘মন্ত্রী, আমাদের দুর্গে কে আগুন লাগিয়েছিল বলতে পারো? শত্রুরা এসে আগুন লাগিয়েছিল, না কি শত্রুদের দ্বারা পাঠানো কোনো গুপ্তচর এই কাজ করেছিল?’

চক্রবাক বলল, ‘মহারাজ, আপনার মাননীয় অতিথি মেঘবর্ণ আর তার অনুচরেরা পালিয়েছে। অতএব, আপনিই অনুমান করুন—কে এই দুষ্কর্ম করেছিল। আমার অভিজ্ঞতায় প্রথম দিনেই মেঘবর্ণকে আমার সন্দেহ হয়েছিল। আমার সন্দেহের কথা আপনাকে বলেছিলাম। কিন্তু আপনি তা গ্রাহ্য করেননি। অতএব, দুর্গে আগুন লাগাটা আমাদের দুরদৃষ্টের ফল। মহারাজ, অনেক সুপরিকল্পিত কাজও অদৃষ্টের দোষে নষ্ট হয়। আবার, অনেকে হিতকারী বন্ধুদের সৎপরামর্শ গ্রহণ না-করে বিপদে পড়ে, আর অদৃষ্টকে দোষারোপ করে। কম্বুগ্রীব নামে এক কচ্ছপও তাই করেছিল।’

রাজা হিরণ্যগর্ভ বললেন, ‘কী করেছিল কচ্ছপ?’ তখন চক্রবাক বলতে লাগল…

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%