তিন ধূর্তের কারসাজি

রমেন্দ্রকুমার ভট্টাচার্য

গৌতমারণ্যে এক ব্রাহ্মণ যজ্ঞের আয়োজন করেছিলেন। যজ্ঞের প্রয়োজনে তিনি দূরের এক গ্রাম থেকে একটা কচি ছাগলছানা (পাঁঠা) কিনেছিলেন। এত দূরের পথ এই ছোটো পাঁঠা হেঁটে যেতে পারবে না মনে করে তিনি তাকে কাঁধে করে নিয়ে বনের পথ ধরে যাচ্ছিলেন।

দূর থেকে তিনজন ধূর্ত লোক ব্রাহ্মণকে এভাবে আসতে দেখেছিল। তারা এই পাঁঠাকে ব্রাহ্মণের কাছ থেকে ছলে-কৌশলে নিয়ে নেবার একটা ফন্দি আঁটল। পথের ধারে কিছু দূরে দূরে তারা ভালো-মানুষ সেজে দাঁড়িয়ে থাকল।

ব্রাহ্মণ প্রথম ধূর্তের কাছাকাছি আসতেই সে বলল, ‘বামুন-ঠাকুর, এই অবেলায় একটা কুকুরছানা কাঁধে নিয়ে কোথায় যাচ্ছেন?’ ব্রাহ্মণ বললেন, ‘তুমি কি অন্ধ নাকি! এটা ছাগল-ছানা, কুকুরছানা নয়।’ ধূর্ত ‘ছি ছি’ বলে হেসে উঠল। কিছুদূর যেতেই দ্বিতীয় ধূর্ত বলল, ‘ও ঠাকুরমশায়, কুকুরছানা অতি অপবিত্র জীব। ওটাকে কাঁধে নিয়েছেন কেন?’ ব্রাহ্মণ কোনো উত্তর দিলেন না। তিনি এগিয়ে চললেন। আর কিছুদূর যেতেই তৃতীয় ধূর্ত বলল, ‘সৎ ব্রাহ্মণেরা কুকুরের গায়ে হাত দেন না। আর আপনি এই অপবিত্র কুকুরছানাটাকে কাঁধে নিয়ে চলেছেন! ফেলে দিন। ফেলে দিয়ে স্নান করে বাড়ি যান।’

পরপর তিনজন একই কথা বলল। ব্রাহ্মণ ভাবলে তাঁরই ভুল। তিনি ছাগল ছানাটিকে কাঁধ থেকে নামিয়ে পা চালিয়ে বাড়ির দিকে চলে গেলেন।

গল্প শেষ করে মেঘবর্ণ বলল, ‘মহারাজ, ধূর্তের কথা শুনে শুনে সৎলোকের মনও দোলায়িত হয়, সন্দেহ জাগে। যারা ধূর্তের কথায় বিশ্বাস করে তারা চিত্রকর্ণের মতোই প্রতারিত হয়ে মারা যায়।’

ময়ূররাজ চিত্রবর্ণ জিজ্ঞাসা করল, ‘কে চিত্রকর্ণ। কীভাবে সে প্রতারিত হয়েছিল?’ মেঘবর্ণ আর একটা গল্প শুরু করল…

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%