বাঘছাল পরা গাধা

রমেন্দ্রকুমার ভট্টাচার্য

মহারাজ হিরণগর্ভ বলতে লাগল, ‘হস্তিনাপুরে বিলাস নামে এক ধোপা ছিল। তার ছিল একটা গাধা। কিন্তু ধোপা তার গাধাটাকে পেটপুরে খেতে দিতে পারত না। তাই গাধাটা বড়ো রোগা হয়ে পড়েছিল। তখন, ধোপা একটা বুদ্ধি করল। সে একটা বাঘের ছাল এনে গাধাটার গায়ে পরিয়ে দিল। তারপর, সন্ধ্যার অন্ধকারে বাঘ-ছাল-পরা গাধাটাকে চাষিদের ফসলের জমিতে এনে ছেড়ে দিত। গাধাটা পেটভরে ফসল খেয়ে রাত দুপুরে বাড়ি চলে আসত। গাধাটার স্বাস্থ্য ভালো হল বটে। কিন্তু চাষিদের বড়ো চিন্তা হল—কে এসে রোজ রোজ ফসল খেয়ে যাচ্ছে?

চাষিরা পাহারা দিতে লাগল। তারা দেখল—একটা বাঘ এসে ফসল খেয়ে যাচ্ছে। বাঘের ভয়ে তারা চুপ হয়ে গেল।

একদিন এক সাহসী চাষির সন্দেহ হল। সে ভাবল—বাঘ কখনও ফসল খায়! দেখব আজ ব্যাপারটা। তাই সন্ধ্যার পরে, হাতে ধনুর্বাণ নিয়ে, একটা ধূসর রঙের কাপড়ে গা ঢাকা দিয়ে সে ঢুকল ফসলের খেতে। এমন সময় বাঘের ছাল-পরা গাধাটা সেই চাষিকে অন্য একটা গাধা মনে করে উল্লাসে চিৎকার করতে লাগল। চাষির আর বুঝতে বাকি রইল না যে, ফসল খাচ্ছে একটা গাধা! চাষি দাঁড়িয়ে ধনুক থেকে কয়েকটা তির ছুড়ে মারল। তাতেই গাধাটা মারা গেল।’

হিরণ্যগর্ভ আবার বলল, ‘বিন্ধ্যপর্বতের সেই পাখিরা তোমায় আক্রমণ করতে এল। তারপর কী হল?’

দীর্ঘমুখ বলল, ‘ওরা আমায় ঘিরে ফেলে বলতে লাগল, ‘‘ওরে পাপিষ্ঠ বক। তুই আমাদের রাজার নিন্দা করেছিস। আমাদের দেশের নিন্দা করেছিস; বিদেশি বলে তোকে আর ক্ষমা করব না।’’ তারা আমায় ভীষণ রকম ঠোকরাতে লাগল, আর বলতে লাগল, ‘‘তোদের রাজা হিরণ্যগর্ভ না কী-নাম সেই রাজহাঁসটার; সে থাকে একটা হ্রদে—বলতে পারি সে একটা কূপমন্ডূক। সে অতি দুর্বল। দুর্বল রাজা নিজেকে রক্ষা করতে পারে না, সে প্রজাদের কেমন করে রক্ষা করবে? তবে হ্যাঁ, দুর্বল হলেও, ছল করে সে জয়লাভ করতে পারে। যেমন ছলনা করে খরগোশেরা বেঁচে গিয়েছিল হাতির উপদ্রব থেকে।’’ ’

আমি ক্ষতবিক্ষত হয়েও, একটু জিরিয়ে নেবার আশায় বললাম, ‘খরগোশেরা কার কাছ থেকে কীভাবে বেঁচেছিল, এই ঘটনাটা বলো দেখি, ভাই।’ সে দেশের পাখিরা বলতে লাগল…

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%