ঘণ্টাকর্ণের গল্প

রমেন্দ্রকুমার ভট্টাচার্য

শ্রীপর্বতে ‘ব্রহ্মপুর’ নামে এক নগর ছিল। নগরের লোকেরা প্রায়ই শুনতে পেত পর্বতের উপরে কে যেন ঘণ্টা বাজাচ্ছে। তাই, সেখানে এমন একটা কথা প্রচলিত ছিল যে, ওই পর্বতে ঘণ্টাকর্ণ নামে এক রাক্ষস নাকি বাস করে। কোনো কারণে সেই রাক্ষস প্রায়ই ঘণ্টা বাজায়। ঘণ্টার শব্দ শুনে নগরের লোকেরা ভয়ে ভীত হয়ে পড়ত। কেননা, ওই ঘণ্টাকর্ণ রাক্ষস নাকি মানুষ মেরে খেত। কবে সে নাকি একটা লোককে খেয়েছিল। তার আধ-খাওয়া দেহটাও পাওয়া গিয়েছিল।

অবশেষে এক কাঠ-কুড়ানি সাহস করে সেই পর্বতে উঠেছিল। সে দেখল একটা বাঁদরের হাতে একটা ঘণ্টা। যে প্রায়ই ঘণ্টা বাজাত। ক্রমে জানা গেল যে—পাহাড়ের উপরে একটা মন্দির আছে। এখন কেউ সেই মন্দিরে যায় না। একদিন এক চোর মন্দিরের পূজার বাসন আর ঘণ্টাখানা চুরি করে নিয়ে যাচ্ছিল। এমন সময় একটা বাঘ এসে চোরকে বধ করে অনেকখানি মাংস খেয়ে ফেলেছিল। বাসনকোশন আর ঘণ্টাটা সেখানেই পড়েছিল। পর্বতের উপরে অনেক বাঁদর আছে। বাঁদরদের দলপতি সেই ঘণ্টাটা নিজের কাছে রেখেছিল। সে প্রায়ই তা বাজাত।

বুড়ির কথায় সকলের ভয় দূর হল। তারা বুড়িকে অনেক পুরস্কারও দিয়েছিল। তাই বলছি মহারাজ, আওয়াজ শুনেই ভয় পাওয়া ঠিক নয়। দমনকের গল্প শুনে খুশি হয়ে পিঙ্গলক গিয়ে সঞ্জীবকের সঙ্গে দেখা করল। সেই দিনই পিঙ্গলক খুশি হয়ে সঞ্জীবককে অর্থমন্ত্রী করে দিল। পিঙ্গলক আর সঞ্জীবকের মধ্যে বন্ধুত্বও হয়ে গেল।

এখন সঞ্জীবক রোজ সকালে আসে পিঙ্গলকের কাছে। নানা কথা, নানা গল্প করে তাদের সময় কাটে। এক-একদিন পিঙ্গলক শিকার করতে যেতে ভুলে যায়। কোনো কোনো সময় সামান্য দু-একটা খরগোশ শিকার করে খায়।

এদিকে দমনক-করটক থেকে আরম্ভ করে অন্য সব রাজ-কর্মচারীদের হল মহা সমস্যা। রাজা বড়ো প্রাণী শিকার করলে, তিনি নিজে খেয়ে যা অবশিষ্ট থাকে তাতেই অন্যান্যদের ভুঁরিভোজন হত। এখন, এই তৃণভোজী সঞ্জীবকের সঙ্গে বন্ধুত্ব হওয়ার পর থেকে রাজা আর বড়ো-পশু শিকার করে না। অতএব ওদের সকলের খাদ্য-সমস্যা দেখা দিল।

একদিন দমনক বলল করটককে, ‘ভাই, খিদের জ্বালায় যে আর বাঁচিনে। তৃণভোজী সঞ্জীবকের সঙ্গে মহারাজের বন্ধুত্ব হওয়াতেই এমন হল। আমাদের নিজেদেরই দোষ। এখন কী করা যাবে?’ দমনক আবার বলল, ‘আমি যেমন হঠাৎ সঞ্জীবক আর পিঙ্গলকের মধ্যে বন্ধুত্ব ঘটিয়েছিলাম, তেমনি হঠাৎই ওদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দেব। নইলে, সত্যিই আমাদের অনাহারে মরতে হবে।’ করটক বলল, ‘সঞ্জীবকের সঙ্গে মহারাজ পিঙ্গলকের যেমন প্রগাঢ় বন্ধুত্ব হয়েছে, তাতে ফাটল ধরানো সহজ হবে না, ভাই।’ দমনক বলল, ‘বুদ্ধি যার, বল তার। কিছু বুদ্ধি খরচ করে কাক যেভাবে কেউটে সাপকে মেরেছিল। সেরকম একটা ব্যবস্থা করতেই হবে।’ করটক জিজ্ঞাসা করল, ‘কাকের কেউটে সাপ মারার গল্পটা শুনি।’ দমনক বলল…

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%