সঞ্জয় ভট্টাচার্য
পরের কয়েকটা দিন মারাত্মক জখম অবস্থায় হাসপাতালের বেডে শুয়ে কাটল। গুলি বদলের মাঝখানে পরে একটা বুলেট হার্টের কাছাকাছি বিঁধে গেছিল। ডাক্তারদের মতে ওই একটা চোটই মৃত্যুর যথেষ্ট কারণ হতে পারত, সেখান থেকে আমি যে এখনো বেঁচেবর্তে আছি সেটাই নাকি চরম বিস্ময়ের। কানাঘুষো শুনলাম ওরা নাকি আমার এই ব্যাপারটা মেডিকেল জার্নালে ছাপানোর কথা ভাবছেন। সেদিন রাতের পুলিশি অপারেশনের পর ওই বাড়ি থেকে শুধুমাত্র আমি আর তপনই শরীরে প্রাণ নিয়ে বের হতে পেরেছিলাম। যদিও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে, তপনের পরের দিন কোমাতেই মৃত্যু ঘটে, বৃন্দাবন তো আমার চোখের সামনেই গুলি খেয়ে ধরাশায়ী হয়েছিল, বাকি পাঁচজন, সমীরণ তার তিন শাগরেদ আর ত্রিলোচন সবাই এরপর পুলিসের গুলি খেয়ে ভবলীলা সাঙ্গ করতে দেরি করেনি।
পুলিশ বোধহয় সেদিন এনকাউন্টার করার আগাম ছক কষেই হানা দিয়েছিল, অন্য কোনও পরিকল্পনা তাদের ছিল বলে তো মনে হয়নি। গোটা ব্যাপারটায় যেটা একমাত্র দুঃখের বিষয় সেটা ওই নিরাপরাধ ছেলেটির অপমৃত্যু। বেচারার দুর্বল হৃদযন্ত্র এত ঝক্কি সামলে উঠতে পারেনি। হার্টফেল করে নিজের দুর্ভাগ্যজনক জীবন থেকে চিরতরে নিষ্কৃতি পেয়েছে, ভেবে স্বস্তি পেলাম এও একপ্রকার ভালোই হয়েছে, ওকি আর কোনদিনও সুস্থ স্বাভাবিক জীবনে ফেরত যেতে পারত! তার থেকে বোধহয় এই পরিণতিই সমস্যার সেরা সমাধান।
পরের কয়েকটা দিন ভালোরকম ঝঞ্ঝাট পোহাতে হল। আমার সঙ্গে নিষিদ্ধ কোনও সংগঠনের যোগাযোগ পুলিস খুঁজে বের করতে না পারলেও অযথা হয়রানি করতে কসুর করল না। অবশেষে একদিন লালবাজার আমাকে ক্লিনচিট দিল। দুটো মাস পরে আবার জীবনে মুক্তির স্বাদ অনুভব করলাম।
২০১৪ জানুয়ারি মাস
কলকাতা শহরে বছর বছর ম্যালেরিয়া কি ডেঙ্গুর উপদ্রব আর নতুন কিছু নয়, কিন্তু বিগত কয়েক দিনে এমন একটা অদ্ভুত রোগের আমদানি হয়েছে যেটার সঙ্গে শহরবাসীর ইতিপূর্বে পরিচয় ঘটেনি। বিজ্ঞানীরা রোগটির নাম রেখেছেন ওয়াইট স্কারস এইলমেন্টস অথবা বাংলায় সাদা-জ্বর! একশ্রেণীর মেঠো ইঁদুর এই রোগের উৎস হলেও প্লেগের সঙ্গে এর কোনও সাদৃশ্য নেই। রোগটা অত্যন্ত ছোঁয়াচে, সংক্রামিত ব্যক্তি থেকে সুস্থ লোকের শরীরে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। প্রথমেই সংক্রামিত ব্যক্তির শরীরের সর্বত্র সাদা সাদা বিন্দুতে ছেয়ে যাচ্ছে তারপর চব্বিশ ঘন্টার মধ্যেই প্রবল জ্বর, মাথা ব্যথা, রক্তবমি প্রভৃতি উপসর্গ দেখা যাচ্ছে, সেসময় কোনওরকম অ্যান্টি-বায়োটিক কি প্রিভেন্টিভ মেডিকেসন কিছুই কাজ দিচ্ছে না, আক্রান্ত ব্যক্তি প্রবল জ্বরে আচ্ছন্ন হয়ে কোমায় চলে যাচ্ছে, এমনকী কিছু ক্ষেত্রে রোগীর কিডনি পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে পড়ছে। আজকাল টিভি, সংবাদপত্র, রেডিও, পাড়ার আড্ডায়, এমনকী স্কুলের মিটিংয়েও শুধু এই বিষয় নিয়েই বিক্ষিপ্ত আলোচনা, শহরের বিভিন্ন অংশ থেকে আরও নতুন নতুন সংক্রমণের খবর আসতে শুরু করল, সরকারি মতে সংখ্যাটা পঞ্চাশের কাছাকাছি। বেসরকারী মতে অবশ্য আরও বেশি। বাস্তব আর গুজবের জাঁতাকলে পরে শহর জুড়ে ভয়ের চোরা স্রোত বয়ে চলেছে। হেলথ ডিপার্টমেন্ট থেকে নোটিশ জারি করেছে রোগীকে ঘরে রাখা চলবে না, সংক্রমণ ধরা পরার সঙ্গে সঙ্গে আই ডি তে ভরতি করতে হবে। আমি যে পাড়ায় থাকি সেখান থেকেও সংক্রমণের কয়েকটা খবর এসেছে আর এদের সবার অবস্থাই নাকি আশঙ্কাজনক।
যেদিন তপনের ফাঁদে পা দিয়ে ওর দমদমের বাড়িতে গিয়ে হাজির হয়েছিলাম সেদিন থেকেই খারাপ সময় যেন আমার পেছু নিয়েছে। ঝঞ্ঝাট ঝামেলার আর শেষ নেই। এর মধ্যে আবার নতুন কয়েকটা ফ্যাসাদ সৃষ্টি হয়েছে। আজকাল সময় সময় কানের কাছে একটা অদ্ভুত ফিসফিসানি শুরু হয়, একবার শুরু হলে আওয়াজটা অন্তত মিনিট খানেকের আগে থামতেই চায় না। প্রথম প্রথম শব্দটা নীচুগ্রামে অসংলগ্নভাবেই ভেসে আসে কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যে সেটাই আবার প্রবল চিৎকারে পরিণত হয়ে কানের পর্দা ফাটিয়ে ফেলে দেওয়ার উপক্রম করে। যেন একাধিক ব্যক্তি, তারা নারীও হতে পারে আবার পুরুষও হওয়া অসম্ভব নয় সমবেত তীব্র আর্তনাদ জুড়ে দেয় আমার কানের পর্দা লক্ষ্য করে, সেসময় আর কিছু করার থাকে না, উন্মাদের মতো দু-কান চেপে বসে পরি, যদিও তাতেও রেহাই মেলে না, তবে হঠাৎ শব্দটা নিজে থেকেই বন্ধ হয়ে যায় ঠিক যেমনভাবে সেটা শুরু হয়েছিল তেমনভাবেই। দ্বিতীয় সমস্যাটা অবশ্য আগেরটার থেকে সামান্য নিরীহ হলেও কিছু কম অস্বস্তিকর নয়। একটা বিদঘুটে দুঃস্বপ্নে আজকাল প্রায় প্রতিরাতেই ঘুমের ভীষণ ব্যাঘাত ঘটছে। ঘুমন্ত অবস্থায় দেখা স্বপ্নের সামান্য অংশই লোকে মনে রাখতে পারে কিন্তু এক্ষেত্রে স্বপ্নটা এতবার দেখেছি যে আজকাল প্রায় খোলা চোখেই দেখতে পাচ্ছি।
রাতের অন্ধকারে নির্জন মেঠো রাস্তা দিয়ে হাঁটছি, পথের দুপাশে বড় বড় গাছপালা, মনে হচ্ছে হঠাৎ যেন কোন ঘন জঙ্গলের মধ্যে এসে পরেছি। কানের পাশ দিয়ে শনশন করে ঠাণ্ডা বাতাস কেটে বেড়িয়ে যাচ্ছে আর কে যেন অপার্থিব চাপা স্বরে বলছে 'এগিয়ে চলো, ব্যাস আর একটুখানি'। কিছুটা পথ চলার পর একটা জায়গায় এসে পৌঁছলাম যেখানে মনে হল জঙ্গলের সীমানা শেষ আর জনবসতির শুরু। দূরে কয়েকটা খড়ের ছাওনি দেওয়া ঘর দেখা যাচ্ছে, কিংকর্তব্যবিমূঢ়ের মতো দাড়িয়ে ছিলাম, হঠাৎ একটা দমকা হাওয়া আমাকে কাঁপিয়ে দিয়ে চলে গেল, সাথে সাথে ঘুমেরও দফা শেষ। স্বপ্নটা এখন রুটিনে পরিণত হয়েছে। ঘড়িতে সেসময় আড়াইটে কি তিনটে হবে, এরপরে আর কিছুতেই ঘুম আসতে চায় না, ভোরের আলো ফুটলে বাধ্য হয়ে মর্নিং ওয়াকে বের হয়ে পরি।
সেদিনও এমনি একটি অনিচ্ছার প্রাতঃভ্রমণ সেরে রানি শঙ্করী লেনে আমার ফ্ল্যাটে ফিরছি, পাশের ফ্ল্যাটের বৃদ্ধ সাহাবাবু দরজায় দাড়িয়ে একটি বছর কুড়ির সুদর্শন ছোকরার সঙ্গে কথা বলছিলেন আমাকে দেখে বললেন —'এই যে জয়ন্ত, এই ছেলেটি তোমাকে খুঁজছে'। ছেলেটিকে আগে কখনো দেখেছি মনে পরল না। জিজ্ঞাসু দৃষ্টে চাইতে ছেলেটি বলল —'স্যার
আপনার জন্য একটা চিঠি আছে আমার জ্যাঠা পাঠিয়েছেন'।
-'কে আপনার জ্যাঠা'? -'ওনার নাম রুদ্রপ্রসাদ মিত্র'। ছেলেটি একটা ভাঁজ করা কাগজের টুকরো এগিয়ে দিল। খুলে দেখলাম রুল টানা কাগজের ওপর কয়েক লাইন লেখা। 'জয়ন্তবাবু যদিও আমরা একে অপরের পরিচিত নই, তবুও আমাদের এখুনি একবার দেখা হওয়া বিশেষ প্রয়োজন। আমার বিশেষ অনুরোধ যদি একবার বালিগঞ্জে আমার বাড়িতে আসেন, তাহলে আপনাকে কিছু গোপনীয় বিষয় অবহিত করতে পারি। শরির অসুস্থ্য না থাকলে নিজেই আসতাম, সেজন্য ক্ষমা চাইছি। দয়া করে একাই আসবেন, কারন অন্য কারও সামনে এ-প্রসঙ্গে আলোচনা করা যাবে না'। নীচে ভদ্রলোক কাঁপা কাঁপা হাতে সই করেছেন। চিঠির মাথামুণ্ডু কিছুই বুঝতে না পেরে ছেলেটিকে জিগ্যেস করলাম—'ব্যাপারটা কি'? ছেলেটি জানাল চিঠির ব্যাপারে তার কোনও ধারণাই নেই, সে শুধু পিতৃব্যের আদেশ পালন করতে এসেছে। বড় বেয়ারা ধরনের অনুরোধ, এটা একটা ফাঁদও হতে পারে। স্পষ্ট জানিয়ে দিলাম এভাবে দুম করে কোথাও যাওয়া সম্ভব নয়। ছেলেটিকে দৃশ্যত হতাশ দেখাল বলল—'তাহলে গিয়ে কি বলব'?—'যা কথা হল তাই বলবেন'? আর কথা না বাড়িয়ে দরজা বন্ধ করে দিলাম। মাঝে মধ্যে অভদ্র হওয়াটাও যে প্রয়োজন সেটা বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে শিখে নিয়েছি।
কয়েকদিন পরে
স্কুলে হেডমাস্টার গিরিশবাবুর ঘরে গেছিলাম কয়েকটা দরকারি কাগজ সই করাতে, ভদ্রলোক তীক্ষ্ন চোখে আমাকে দেখছিলেন, হঠাৎ বললেন—'জয়ন্ত তোমার কি শরীর খারাপ? কয়েকদিন ধরে লক্ষ করছি, কাজের সময় ঝিমুচ্ছ! একটু ফাঁক পেলে টেবিলেই মাথা রেখে ঘুমিয়ে নিচ্ছ, এনার্জি লেভেলটা যেন ডাউন মনে হচ্ছে, ব্যাপারটা কি'? লজ্জিত হয়ে বললাম—'আমারই ভুল, তবে কথা দিচ্ছি এবার থেকে সাবধান হব'।
গিরিশবাবু আশ্বস্ত করা স্বরে বললেন—'জয়ন্ত তোমাকে তো আর নতুন দেখছি না, সমস্যাটা কোথায় আমাকে বলতে পারো, যদি অসুবিধে না থাকে'। উপায়ন্তর না দেখে গিরিশবাবুকে সবকথা খুলে বললাম, আজকাল আমার সঙ্গে যা-সব ঘটছে, এতে যেন মন কিছুটা হালকাও হল। ভদ্রলোক সব শুনে গম্ভীরভাবে বললেন—'ব্যাপারটাকে তোমার সিরিয়াসলি নেওয়া উচিত ছিল, এসব নিউরোলজিকাল ডিসর্ডার ছাড়া অন্য কিছু নয়। আমার চেনা ভালো নিউরোলজিস্ট আছে, একবার দেখিয়ে এস'। এরপর গিরিশবাবু ড্রয়ার থেকে বের করে ডাক্তারের ভিজিটিং কার্ড আমার হাতে ধরিয়ে দিলেন, মাত্র দিন দুয়েকের মধ্যেই যে প্রখ্যাত নিউরোলজিস্ট ডাঃ নন্দীর মৌলালির চেম্বারে অ্যাপয়েন্টমেন্ট পেয়ে গেলাম সেটা বলা বাহুল্য গিরিশবাবুর হাতযশেই।
নিউরোলজিস্ট ডাঃ নন্দীর সঙ্গে দেখা করে সমস্যার কথা বলতে উনি বেশ মনোযোগ দিয়ে পরীক্ষা করলেন, তারপর খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে অনেক রকম প্রশ্ন করে বললেন—'যা ঝড়টা গেল আপনার উপর, তাতে মস্তিষ্কে একটা ভালোরকম ধাক্কা লেগেছে, একটা অ্যান্টি ডিপ্রেশান্ট লিখে দিচ্ছি, নিয়ম মেনে খাবেন, কানের উপর যে আওয়াজ শুনছেন সেটার বাস্তব ভিত্তি কিছু নেই, জাস্ট ইলিউশান, আর স্বপ্নটা! আপনার অবচেতন মনের উপর যে চাপ পড়েছে তারই প্রতিক্রিয়া। ইমিডিয়েটলি একটা সিটি স্ক্যান করাতে হবে। রিপোর্ট দেখে বোঝা যাবে আবার কোনও ইন্টারনাল হ্যামারেজ ঘটল কি না'! আমার মুখে বোধহয় চিন্তার রেখা ফুটে উঠেছিল, ডাক্তারবাবু আশ্বস্ত করে বললেন—'মানুষের জীবনে কখনও অপ্রত্যাশিত কিছু ঘটে গেলে মস্তিষ্ক সাময়িকভাবে ব্যালান্স হারিয়ে আজগুবি সব কল্পনা করতে শুরু করে, আপনার ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা সেরকমই কিছু ঘটে থাকতে পারে। তবে চিন্তার কিছু নেই'। ডাক্তারকে সাতশো টাকা ফিস ধরিয়ে উঠে যাচ্ছিলাম, ভদ্রলোক হঠাৎ বললেন—'আপনি তো একা থাকেন, তাই না'? সম্মতিসূচক মাথা নাড়তে উনি বললেন—'একা মানুষকে ডিপ্রেশন বেশি করে কবজা করে, জানেন নিশ্চয়ই? একটা পোষ্য সঙ্গে রাখতে পারেন তো, কুকুর, বেড়াল, পাখি যা কিছু হোক, তাতে কিন্তু আপনার ভালোই হবে'।
ডাক্তারের চেম্বার মৌলালির মোড়ে ধর্মতলা স্ট্রীটে, সেখান থেকে শিয়ালদার বৈঠকখানা বাজার হাঁটাপথ, সস্তায় বাজার করার মতলবে ওপথে গিয়ে জিনিসপত্র ঘাটাঘাটি শুরু করলাম। বাজারে তখন মেলা ভিড়। ওই ভিড় ঠেলে কোনও কিছুই মনের মতো দামে পেলাম না। ফিরত যাওয়ার কথা ভাবছি, হঠাৎ চোখে পড়ল ফুটপাথের ধারে অনেকগুলো খাঁচা নিয়ে একটা লোক বসে রয়েছে। খাঁচাগুলোতে বিক্রির জন্য রয়েছে বেশ কিছু গিনিপিগ, খরগোশ আর হরেকরকমের পাখি। ডাক্তারের পরামর্শ মনে পড়ল, তা ছাড়া আমারও অনেক দিনের শখ একটা পাখি কি খরগোশ কিছু পুষি, পাখিগুলো বড্ড কিচিরমিচির করছিল, মনে হল এদের সঙ্গ আমার পোষাবে না, এবার অন্যদিকে চাইতে দেখলাম ছোট ছোট খাঁচায় গিনিপিগ আর খরগোশ রাখা আছে, বেশিরভাগ জন্তুগুলোর মধ্যেই কেমন যেন ক্লান্ত ঝিমুনিভাব, এর মধ্যে একটা খরগোশ দেখে মনে হল বেশ চঞ্চল আর স্বাস্থ্যবান। দুধ-সাদা বলের মতো প্রাণীটা তখন একটা গাজরের টুকরো মুখে পুরে চিবুচ্ছিল, আমি জালের ফাঁক দিয়ে ওর গায়ে আঙুল ছোঁয়াতে ওটা বড় বড় লাল চোখ মেলে আমার দিকে চাইল, তারপর জিভ বের করে আমার আঙুলের ডগাটা সামান্য চেটে আবার খাবারে মন দিল। দোকানদার বিস্মিত চোখে চেয়ে বলল—'আরে বাবু খরগোশ আপনাকে পসন্দ করেছে, একে বাড়ি লিয়ে যান, ভালো পোষ মানবে'। খরগোশটা আমারও বেশ পছন্দ হয়েছে। তবে দোকানির সামনে বেশি উৎসাহ না দেখানোটাই বুদ্ধিমানের কাজ, আরও দু-একটা পাখি দেখে, তারপর দাম জিগ্যেস করলাম। দোকানদার ঘাগু লোক, প্রথমেই দাম চড়িয়ে পাঁচশো টাকা চেয়ে বসল, ম্যারাথন দামাদামির পর তিনশ কুড়িতে রফা হল। দোকানদার পয়সা বুঝে নিয়ে খাঁচা হাতে তুলে দিয়ে বলল—'যান বাবু, সস্তায় দিয়ে দিলাম, কি করব ছাব্বিশ নম্বর আপনার পসন্দ হয়েছে'।
-'এর নাম কি ছাব্বিশ নম্বর'?
দোকানদার হাসতে হাসতে বলল—'হা বাবু আমি ইদের নম্বরেই ডাকি, ওর পাশে বাদামি ছোপওয়ালা চুহাটা দেখছেন ওটা সাতাইশ নম্বর আছে'।
বাজার থেকে কয়েকটা গাজর আর বাঁধাকপির পাতা কিনে নিলাম, এগুলো কুটুসের লাঞ্চ আর ডিনার, ও হ্যাঁ আমি মনে মনে ওর নাম কুটুস রেখে দিয়েছি, ছাব্বিশ নম্বর জেলখানার কোনও কয়েদির ডাকনাম হতে পারে, আমার পোষা মিষ্টি এই খরগোসের তো কখনই নয়।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন