অষ্টাবিংশ অধ্যায়

সঞ্জয় ভট্টাচার্য

বাবুলালের টিলায় অদ্ভুত এক মূর্তির আবির্ভাব হয়েছে। থিকথিকে কালো জমাট বাঁধা একটা ছায়াশরীর টিলার উপর হাত-পা ছড়িয়ে বসে আমাদের দিকেই চেয়ে রয়েছে। রুদ্রপ্রসাদ হাতজোড় করে বললেন —'আপনিই কি বাবুলাল'? সামান্য বিরতির পর ওদিক থেকে উত্তর এল —'তোদের প্রয়োজন অত্যন্ত অধিক তাই আসতে হল'। রুদ্রপ্রসাদ বললেন—'আপনি জানেন আমরা এখানে কেন এসেছি, দয়া করে আমাদের সহায়তা করুন'। কিছুক্ষণ নিরুত্তর থেকে বাবুলাল এবার বললেন—'লড়াই তো নিজের সঙ্গেও, সেখানে কি জিততে পারবি'? রুদ্রপ্রসাদ চুপ করেই রইলেন, মনে হল আমার মতো তারও কথার মানে বোধগম্য হয়নি। একটু পরে বাবুলাল বললেন—'কঠিন সময়ে ধৈর্যের বাঁধন শক্ত করে বাধবি, মনে রাখবি কর্মক্ষয় হলে ব্রতের উদযাপন হবে'। —'আপনি আমাদের আশীর্বাদ করুন'। বাবুলালের ছায়ামূর্তি এবার অদৃশ্য হল। পরের কয়েকটা মুহূর্ত লাগল আমাদের দুজনের ধাতস্থ হতে, এরপর রুদ্রপ্রসাদ উৎফুল্ল স্বরে বললেন—'হয়েছে জয়ন্ত, আমরা আর দুর্বল নই, সিদ্ধপুরুষের শক্তি এখন আমাদের সঙ্গে আছে'।

—'হয়েছে আপনার জন্যই, আমি ধ্যানের নামে যত উটকো চিন্তা করে গেছি'।

—'না হে না, এই যে দেহমনে তীব্র তাপ সহ্য করেও আসনে টিকে ছিলে সেটাই তো তপস্যা'। রুদ্রপ্রসাদ উঠে দাঁড়িয়েছেন, বললেন—'মনে নতুন উদ্যম অনুভব করছি হে, চলো তাবুতে গিয়ে এবার ডিনার করা যাক'।

—'আপনি এগোন আমি আসছি'। রুদ্রপ্রসাদ হাঁটা দিতেই আমি ছুটলাম ঝোপের দিকে, ঝোপের সামনে দাঁড়িয়ে এবার সত্যিই মনে হল, অনেক কষ্টের পর যে ফল পাওয়া যায় তার স্বাদ যে কি মিষ্টি!

তাবুর কাছাকাছি যেতেই রুদ্র হাতছানি দিয়ে ডাকলেন, হাতের তেলোতে গুলির আকারে একটা নুড়িপাথর ধরা ছিল সেটা আমার মুখের উপর ঘুরিয়ে বললেন—'ভালো করে দেখে নাও জয়ন্ত, এটা চণ্ডরাজার প্রাণপাথর'। পাথরটা অবশ্য দেখতে অত্যন্ত সাধারণ, রাস্তার ধারে পরে থাকা কোনও ঢিলের টুকরোর মতোই সাদামাটা। রুদ্র মুচকি হেসে বললেন—'কি ভাবছ'?

—'এটা তো নেহাতই মামুলি একটা পাথর মনে হচ্ছে'। রুদ্রপ্রসাদ বললেন—'উঁহু ভুল! পৃথিবীর সবথেকে দামি হিরের খণ্ডও এর সামনে ফিকে, এই পাথরের বিশেষ ক্ষমতার জন্য, তবে সে ক্ষমতা ধ্বংসের আর বিনাশের, যাইহোক এটাকে এবার নিজের থেকে একমুহূর্তের জন্যেও আলাদা করবে না'। রুদ্র ভেলভেটের একটা ছোট বাক্সে পাথরটা পুরে আমার হাতে তুলে দিলেন আর আমিও নির্দ্বিধায় ওটা আমার প্যান্টের পকেটে চালান করে দিলাম।

আগুনটা নিবু নিবু হয়ে এসেছিল, তাঁবু থেকে কাঠ এনে চাপিয়ে দিতে ফের চেগে উঠল। অগ্নিকুণ্ডের কাছাকাছি চেয়ার পেতে আমরা নৈশভোজে বসলাম, আগুনের তাপে শীত খানিকটা দূর হচ্ছে নিশ্চয়ই, কিন্তু বাড়তি সমস্যা হল, প্রচুর পোকা এসে ভিড়ল, এদের কিছু কিছু কুণ্ডে পাঁক খেয়ে ঝাঁপ দিয়ে মরছে, ঝাঁকের বাকিগুলো কামড়ে আমাদের গা ফুলিয়ে দিচ্ছে।

পরপর কয়েকটা পোকা খেয়ে ফেলার পর রুদ্রপ্রসাদ বিরক্ত হয়ে বললেন—'ধুত্তরি! এর থেকে তাবুর ভিতরেই ভালো ছিল'। মিইয়ে যাওয়া স্যান্ডউইচ আর কফি খেয়ে যখন ডিনার শেষ করলাম, ঘড়িতে তখন রাত দশটা। রুদ্রপ্রসাদ বললেন—'শুয়ে পর জয়ন্ত, কাল অনেক ঝক্কি রয়েছে'।

—'আপনি ঘুমাবেন না'?

—উঁহু, এই অবস্থায় ঢিলে দেওয়া যাবে না, ওই যে আগুনটা জ্বলছে, ওটা নিভলে চলবে না, আমাদের মধ্যে একজনকে এই রাতটা জাগতেই হবে'। লজ্জিত হয়ে বললাম—'সেকি তাহলে আমি পাহারা দেব, আপনি শুয়ে পড়ুন'। রুদ্রপ্রসাদ সামান্য হেসে বললেন—'রাত দুটো অবধি আমি পাহারা দেব তারপর ঘুম পেলে তোমাকে ডেকে তুলব, এখন আর সময় নষ্ট না করে শুয়ে পর, কাল কথা হবে'।

শুয়ে শুয়ে আজকের সন্ধেয় ঘটা অদ্ভুত সব অভিজ্ঞতার কথা চিন্তা করছিলাম, বাবুলারের বিদেহী আত্মা যে হেয়ালিতে কিসব বলে গেলেন সেসবের মাথামুণ্ডু কিছুই বোধগম্য হয়নি, রুদ্র অবশ্য বলছিলেন সময় হলে নাকি সব জলের মতো স্পষ্ট হয়ে যাবে, এখন ওসব নিয়ে মাথা ঘামানোর প্রয়োজন নেই। অবশ্য মাথা ঘামিয়েও যে বিশেষ সুরাহা কিছু করে উঠতে পারব সে ভরসা নেই। রুদ্র কিছু দরকারে তাবুর বাইরে গেছেন, এতক্ষণে ফাঁক পেতে পকেট থেকে ভেলভেটের বাক্সটা খুলে শিলাটা চোখের সামনে মেলে ধরলাম, সাধারণ এই পাথরের টুকরোটার নাকি অসীম ক্ষমতা! হবে হয়তো! গত কয়েকদিনে যা ঘটে চলেছে তাতে কোনও কিছুই তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেওয়ার মতো মনের জোর আর নেই। দূর থেকে বাঘের গর্জন কানে এল, তবে এবারে আর আগের মতো ভয় করল না। একটা প্রকাণ্ড হাই তুলে পাথরটা যথাস্থানে রেখে দিলাম। চোখের পাতা দুটো ভারী হয়ে আসছিল, কম্বলটা টেনে পাশ ফিরে শুলাম।

অকস্মাৎ ঘুমটা ভেঙে গেল, কেমন একটা শব্দে ধরমড়িয়ে উঠে বসলাম, মনে হল কেউ যেন তাঁবুর বাইরে নীচুস্বরে কথা বলছে, চেয়ে দেখলাম রুদ্রপ্রসাদের মাথা চেয়ারের উপর হেলে পরেছে, বিশ্রী স্বরে নাক ডাকছে, ভদ্রলোক যে কখন ঘুমিয়ে পরেছেন বোধহয় নিজেই টের পাননি, এদিকে শীতের পারদটা আরও কয়েক ডিগ্রী চড়ে গেছে, বাইরে আগুনটা মনে হল নিভে গেছে, রুদ্রের ঘুমে ব্যাঘাত না ঘটিয়ে তাবুর পর্দা সরিয়ে বাইরের দিকে চাইলাম, কিন্তু সন্দেহজনক কিছুই দেখতে পেলাম না। অগ্নিকুণ্ডটা জ্বালানির অভাবে আর হিম পরে পুরোপুরি বুজে গেছে। কি ঘন নিশ্ছিদ্র অন্ধকার বাইরে, গায়ে আষ্ঠেপৃষ্ঠে শাল জড়িয়ে টর্চটা হাতে নিয়ে তাঁবুর বাইরে এসে দাঁড়ালাম। পাশের তাবুটায় জ্বালানি কাঠ আছে, ওর থেকে কয়েকটা বের করে নেওয়ার উদ্দেশ্যে সেদিকে গেলাম।

সবেমাত্র তাবুর ভিতরে ঢুকেছি অন্ধকারের মধ্যে থেকে কে যেন আমার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। হতভম্ব ভাবটা কাটিয়ে উঠতেই বুঝলাম যে আমাকে আক্রমণ করেছে সে ভূতপ্রেত কিছু নয়, নিতান্তই মানুষ, হাতের টর্চটা ঘুরিয়ে মারলাম লোকটার মাথা লক্ষ করে, একটা বিকট চিৎকার করে আক্রমণকারী ছিটকে পড়ল, ভারী শরীরের পতনে পায়ের তলায় জমিটা যেন সশব্দে কেঁপে উঠল, কিন্তু ততক্ষণে আরও কিছু লোক এসে যোগ দিয়েছে, তিন-চারটে লোক মিলে আমাকে মেঝের উপর চেপে ধরল, এবার আর আমার নড়াচড়া করার উপায়ও রইল না লোকগুলো দড়ি দিয়ে প্রথমে হাতদুটো পিছেমোড়া করে বাঁধল তারপর পা জোড়ায় শক্ত গিঁট দিয়ে চিত করে ফেলে দিল। আমি চিৎকার করার চেষ্টা করছিলাম, কিন্তু আততায়ীরা এবার আমার মুখের ভিতর একটা ন্যাকড়া ঢুকিয়ে সে উপায় বন্ধ করে দিল। মারের চোটে গাল, চোয়াল জ্বালা করছিল, কিন্তু এইমুহূর্তে নিজের থেকে উদ্বেগ বেশি হচ্ছিল রুদ্রপ্রসাদের জন্য।

অনেকটা সময়, মনে হচ্ছিল যেন অনন্তকাল ধরে ওইভাবে পরে থাকার পর ভোরের আকাশে আলো ফুটল। একটা বেঁটেখাটো চেহারার মিশকালো লোক এসে পায়ের বাঁধন খুলে দিয়ে উঠে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত করল। অতিকষ্টে উঠে দাঁড়াতেই লোকটা বিশ্রীভাবে ঘাড় ধাক্কা মারল, হোঁচট খেয়ে মুখ থুবড়ে পরলাম, লোকটা যেন মজা পেয়েছে এমনভাবে খিঁখিঁ করে হেসে উঠল, ইচ্ছে হল লোকটাকে একটা ঘুষি মারি, হাত দুটো সামনের দিকে বাঁধা থাকলে তাও হয়তো কিছু করা যেত কিন্তু এরা যেভাবে পিছনের দিকে বেঁধেছে তাতে সত্যি খুব অসুবিধে হচ্ছে। লোকটা আমাকে ঠেলতে ঠেলতে অন্য তাবুটায় নিয়ে এল। ডেকচেয়ারের উপর রুদ্রপ্রসাদকে সুস্থ শরীরে বসে থাকতে দেখে নিশ্চিন্ত হলাম। রুদ্রের উলটোদিকের চেয়ারে একজন লোক বসে কথা বলছে, লোকটার বেশ লম্বা চওড়া চেহারা, মুখ ভরতি নোংরা দাড়ি-গোঁফ, মাথার লম্বা চুল বিনুনি করে বাঁধা। পরনে জিনসের প্যান্ট আর ময়লা শতচ্ছিন্ন টি-শার্ট। লোকটা আমাকে দেখিয়ে রুদ্রপ্রসাদকে বললেন—'এবার বিশ্বাস হল তো আপনার অ্যাসিসটেন্টকে আমরা মারিনি'। রুদ্রপ্রসাদ চড়া স্বরে বললেন—'এভাবে কেউ কারও হাত বাঁধে, খুলে দাও বলছি'। বিনুনি বাঁধা লোকটার ইঙ্গিতে যে লোকটা আমাকে ঠেলে নিয়ে এসেছিল সে দড়ির গিঁটটা খুলে হাত দুটো মুক্ত করে দিল। লোকটা এবার বলল—'আপনার কথা মতোই কাজ হচ্ছে কিন্তু মিত্রবাবু, আপনিও এবারে কো-অপারেট করুন'। রুদ্রপ্রসাদ তেঁতো মুখে বললেন—'আর কি সাহায্য করব বল? বিনুনি বাঁধা বলল—'আগে কিছু খাওয়ার বন্দোবস্ত করুন, আপনাদের সঙ্গে খাবারদাবার কি আছে'? রুদ্রপ্রসাদ বললেন—'ওই যে থার্মোকলের বাক্সটা দেখছ, ওতে কয়েকটা স্যান্ডউইচ আছে'। লোকটার চোখ যেন হঠাৎ জ্বলে উঠল, লোভীকণ্ঠে বলল—'স্যান্ডউইচ! আর কি আছে আপনার কাছে'? —'কফি আর বিস্কুট'।—'ওঃ দারুণ'। লোকটা প্রায় ছুটে গিয়ে বাক্স খুলে হামলে পড়ল। গোটা আষ্টেক স্যান্ডউইচ তখনও অবশিষ্ট ছিল, লোকটা বাক্সটা হাতে তুলে বলল—'কফি আছে বললেন'?

—'ওই কোণে আমার যে ব্যাগটা আছে ওর মধ্যে'। তৎক্ষণাৎ ব্যাগ খুলে নেসক্যাফের বয়েমটা হস্তগত করে লোকটি জিগ্যেস করল—'আর দুধ? দুধ নেই'? রুদ্রপ্রসাদ বিরক্ত হয়ে বললেন—'এখানে আমি দুধ কোথা থেকে পাবো'? লোকটা স্যান্ডউইচ আর কফি নিয়ে বিদায় হতেই আমি জিগ্যেস করলাম—'এরা কারা? কি চায়'? রুদ্রপ্রসাদ দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন—'বিপদ জয়ন্ত! যে লোকটার সঙ্গে দেখা হওয়াটা সবথেকে অনভিপ্রেত ছিল, সেই ফেরার দিবাকর মাজি অ্যান্ড গ্যাং'।

—'দিবাকর মাজি, নামটা শুনেছি মনে হচ্ছে'। —'কালকেই শুনেছ, ক্যাপ্টেন সবরহালের মুখে'।

—দাঁড়ান দেখি, একি সেই ডাকাত দিবাকর নাকি'?

—'একেই বোধহয় বলে ফ্রম ফ্রাইং প্যান টু ন্যাকেড ফ্লেম'।

—কিন্তু এরা আমাদের কাছে কি চায়'?

—'গুপ্তধন'।

—'গুপ্তধন'?

—'এদের বদ্ধমূল ধারণা, জঙ্গলের মধ্যে প্রচুর সোনাদানা, গুপ্তধন লুকিয়ে আছে, আর আমরা এসেছি সেগুলোর খোঁজ করতে'। আমার বিস্ময় চরমে উঠল, বললাম—'আপনি এদের বলেননি'?—'অনেক বলেছি, এদের মাথায় কোনও কথা ঢোকে না, আর বেশি বললে এতক্ষণে আমাদের লাশগুলো এই জঙ্গলের মধ্যে পরে থাকত, তাই অন্য রাস্তা ধরেছি, বলতে পারো ডিল করেছি'।

—'কীসের ডিল'?

—'বলেছি গুপ্তধন ওদের হাতে তুলে দেব, বিনিময়ে ওরা আমাদের মুক্তি দেবে'। ঢোঁক গিলে বললাম—'গুপ্তধনটা পাচ্ছেন কোথায়'? রুদ্রের চোখের কোনে দুষ্টুমির ঝলক খেলে গেল, বললেন—'গুপ্তধন চণ্ডের মন্দিরে, বেদীর তলায় পোতা আছে, বেদীটা ভেঙে ফেললেই যা খুঁজছে পেয়ে যাবে।

—'কিন্তু যখন পাবে না তখন কি হবে?

—'মেরে ফেলবে', রুদ্র হালকা চালে বললেন 'আর হ্যাঁ পেলেও কিন্তু পারিশ্রমিক ওই একই'। আমি আর নতুন করে উদ্বেগ নিতে পারছিলাম না, আজকাল নিত্যনতুন যেসব পরিস্থিতি গজিয়ে উঠছে তা বাস্তব না কল্পনা সেটা বুঝতেই যথেষ্ট বেগ পেতে হচ্ছে, চুলোয় যাক অভিযান, এখন একটু বিশ্রামের বিশেষ প্রয়োজন, চোখ বন্ধ করে তাবুর মাটিতে শুয়ে পরলাম। তন্দ্রা ভাঙল যখন দিবাকরের একজন স্যাঙাত দুটো কচুপাতায় করে মাছ সেদ্ধ আর বুনো ফল দিয়ে গেল। আমি দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললাম—'স্যান্ডউইচ তাহলে গেল'? রুদ্রপ্রসাদ খাবারে হাত লাগিয়ে বললেন—'ভুলে যাও, ওসব ওদের পেটেই গেছে'। মাছ তেলে না ভাঁজলে যে এত আঁশটে গন্ধও ছাড়তে পারে আগে জানা ছিল না, কোনরকমে গিললাম, ফলটা দেখতে অনেকটা পেয়ারার মতো হলেও খেতে কিন্তু একেবারেই বিশ্রী, কেমন যেন কষ কষ আর অতিরিক্ত নোনা, ফেলেই দিচ্ছিলাম রুদ্র বারণ করলেন, বললেন—'খাবার নষ্ট করো না জয়ন্ত, সারাদিনে আর জুটবে কি না সন্দেহ আছে'। একটু পরে দিবাকর তাবুতে এসে হাজির হল, তার হাতে আমাদের নিয়ে আসা আধখাওয়া স্যান্ডউইচ, চিবুতে চিবুতে বলল—'এসব টেস্টি খাবার প্রায় ভুলেই গেছি। দুই মাস ধরে আপনাদের মিলিটারি যেভাবে পিছনে লেগেছে'। রুদ্রপ্রসাদ শান্ত কণ্ঠে বললেন—'গুপ্তধন পেয়ে তুমি কি করবে দিবাকর'? জঙ্গলের সীমানা পেরোতে গেলে মিলিটারি আর সি-আর-পি-এফের কবলে পরবে, আর জঙ্গলের মধ্যে এসব কি কাজে লাগবে। দিবাকর মুচকি হেসে বলল—'এই সাতকোশিয়ার জঙ্গলে এমন অনেক পথ আছে যা শুধু মাটির নীচের ইঁদুর আর ভূমিপুত্রেরাই জানে, মিলিটারি আমাকে ছুঁতেও পারবে না, আমি শুধু একটা কনসাইনমেন্টের অপেক্ষায় রয়েছি, সোনা পেলে অবশ্য অন্য কথা, বিদেশে চলে যাব, নাম পালটালে জীবনও পালটে যাবে'। একটু থেমে দিবাকর বলল—'কফি পাঠাচ্ছি, খেয়ে তৈরি হয়ে নিন, আমাদের বেরোতে হবে'।

সকল অধ্যায়
১.
প্রথম অধ্যায়
২.
দ্বিতীয় অধ্যায়
৩.
তৃতীয় অধ্যায়
৪.
চতুর্থ অধ্যায়
৫.
পঞ্চম অধ্যায়
৬.
ষষ্ঠ অধ্যায়
৭.
সপ্তম অধ্যায়
৮.
অষ্টম অধ্যায়
৯.
নবম অধ্যায়
১০.
দশম অধ্যায়
১১.
একাদশ অধ্যায়
১২.
দ্বাদশ অধ্যায়
১৩.
ত্রয়োদশ অধ্যায়
১৪.
চতুর্দশ অধ্যায়
১৫.
পঞ্চদশ অধ্যায়
১৬.
ষোড়শ অধ্যায়
১৭.
সপ্তদশ অধ্যায়
১৮.
অষ্টাদশ অধ্যায়
১৯.
ঊনবিংশ অধ্যায়
২০.
বিংশ অধ্যায়
২১.
একবিংশ অধ্যায়
২২.
দ্বাবিংশ অধ্যায়
২৩.
ত্রয়োবিংশ অধ্যায়
২৪.
চতুর্বিংশ অধ্যায়
২৫.
পঞ্চবিংশ অধ্যায়
২৬.
ষড়বিংশ অধ্যায়
২৭.
সপ্তবিংশ অধ্যায়
২৮.
অষ্টাবিংশ অধ্যায়
২৯.
ঊনত্রিংশ অধ্যায়
৩০.
ত্রিংশ অধ্যায়
৩১.
একত্রিংশ অধ্যায়
৩২.
দ্বাত্রিংশ অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%