চতুর্দশ অধ্যায়

সঞ্জয় ভট্টাচার্য

ডিনার সেরে রুদ্রপ্রসাদের বই নিয়ে পড়লাম। ইংরেজিতে লেখা, নাম ‘‘Somavamshis—the history untold” বইয়ের ব্যাক কভারে লেখকের সংক্ষিপ্ত পরিচয় রয়েছে, ভদ্রলোক একসময় ক্যালকাটা ইউনিভারর্সিটির অধ্যাপক ছিলেন, নামের পিছনে কয়েকটা ভারী ভারী ডিগ্রিও দেখলাম। পেঙ্গুইন পাবলিশার্স থেকে ছাপা বইয়ে, সাল দেখাচ্ছে ২০০১ মানে প্রায় বারো বছর আগের প্রিন্ট। উড়িষ্যার সোমবংশীয় রাজাদের রাজত্বকালের ইতিহাস, রাজা জন্মেজয় থেকে শুরু করে কর্ণদেব পর্যন্ত প্রায় দুশো বছরের কাহিনি, আমি রুদ্রপ্রসাদের পরামর্শ অনুযায়ী চৌত্রিশ নম্বর পাতাটা খুলে চোখের সামনে মেলে ধরলাম। রুদ্রপ্রসাদ এখানে বিশেষ একজন রাজার কথা লিখছেন, যার অস্তিত্ব ইতিহাসে স্পষ্টভাবে প্রমাণ করা যায়নি, কিন্তু রিসেন্টলি কিছু খোঁজ পাওয়া গেছে যাতে মোটামুটি একটা আভাষ পাওয়া যাচ্ছে, যদিও এই রাজা আর তার সাম্রাজ্যের যথার্থতা নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েই গেছে। রাজার আনুমানিক নাম শিবদত্ত। সময়টা ৮৫০ খ্রিস্টাব্দের কাছাকাছি, সোমবংশীয় প্রথম সম্রাট জন্মেজয়ের রাজত্বের কিছু আগের কথা। তবে এই শিবদত্ত সোমবংশীয়দের পূর্বপুরুষ ছিলেন কি না সে বিষয়ে স্পষ্ট মন্তব্য না করে একটা আকর্ষণীয় গল্পের উল্লেখ করা হয়েছে, রাজ্যাভিষেকের পর প্রথম কয়েকটা বছর সম্রাট শিবদত্তের মোটেই স্বস্তিতে কাটেনি, দুর্দান্ত সব শত্রুদের মোকাবিলা করতে করতে শিবদত্তের সেইসময় রীতিমতো টালমাটাল অবস্থা। সম্রাটের বিপদ যে শুধু বাইরের শত্রুদের থেকেই ছিল তা নয়, রাজপরিবারের গণ্ডির মধ্যেও ষড়যন্ত্রের বাষ্প ক্রমশ ঘনিয়ে আসছিল। এমনই কঠিন কোনও সময় রাজা শিবদত্ত মৃগয়া করতে গিয়ে হাজির হলেন, সাতকোশিয়ার বনাঞ্চলে। জঙ্গলের মধ্যে শিবদত্ত একজন সাধুর সন্ধান পান। সাধুর অলৌকিক ক্ষমতার পরিচয় পেয়ে সম্রাট স্বাদরে তাকে রাজধানী সুবর্নপুরে এনে প্রতিষ্ঠিত করেন। এই বিষয়টি নাকি ব্রহ্মেশ্বর মন্দিরের তাম্রলিপিতে উল্লেখ করা রয়েছে।

এই সাধু বলভদ্র ছিল গুপ্তবিদ্যায় পারদর্শী, রহস্যময় পুরুষ! সম্রাট শিবদত্তের হিতার্থে সে চণ্ড নামক দেবতার উদ্দেশ্যে রাজপরিবারের কোনও শিশুর বলি অবধি উৎসর্গ করেছিল।

পরের দিকে শিবদত্ত প্রবল পরাক্রান্ত চোলা আর কালাচুরিদের যুদ্ধে পরাস্ত করে রাজ্যের সীমানাই শুধু সুরক্ষিত করেননি, তা অনেকাংশে বাড়িয়ে নিতেও সক্ষম হয়েছিলেন। শিবদত্তের পরাক্রমে প্রতিবেশী রাজারা ভয়ে থরথরি কম্পমান হয়ে থাকত, নানা বহুমূল্য উপঢৌকন দিয়ে কোনওরকমে নিজেদের মাথা আর রাজত্ব বাঁচিয়ে চলা ছাড়া তাদের সামনে অন্য উপায় ছিল না। এই সাফল্যের কৃতিত্ব শিবদত্ত অর্পণ করেছিল মহান চণ্ড আর তার সেবক বলভদ্রকে, প্রতিদান স্বরুপ শিবদত্তের পৃষ্ঠপোষকতায় চণ্ডের বিশাল মন্দির প্রতিষ্ঠা হয়েছিল রাজধানী সুবর্ণপুরে।

শিবদত্তের প্রশ্রয়ে বলভদ্রের প্রভাব প্রতিপত্তি উর্ধ্বমুখি হতে হতে শেষপর্যন্ত সর্বময় কর্তৃত্বের আকার ধারণ করেছিল যা আবার রাজ-পরিবারের সদস্য এবং সভাসদদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষের কারণ হয়ে পরেছিল। চাপা অসন্তোষ আর ক্ষোভের ফানুস সেদিন ফাটল যেদিন শিবদত্তের মৃত্যু ঘটল, পরবর্তী সম্রাট যযাতির আদেশে বলভদ্রকে রাজার চিতার পাশেই জ্যান্ত পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছিল, আর খুব ইন্টারেস্টিং পয়েন্ট এটা যে শিবদত্তের জীবনীকালের সমস্ত প্রমাণ আর কীর্তির গাঁথাও ধ্বংস করা হল। কি এমন ঘটেছিল শিবদত্তের জীবনে যা ওই সাম্রাজ্যের ভাবমূর্তির পক্ষে ক্ষতিকারক হয়ে উঠেছিল? যাকে পুরোপুরি মুছে না ফেলা পর্যন্ত জন্মেজয়ের মতো ক্ষমতাশালী সম্রাটের পক্ষেও স্বস্তির শ্বাস নেওয়া সম্ভব হয়নি? কয়েকটা প্রশ্ন তুলে শিবদত্তের অধ্যায় শেষ করে দেওয়া হলেও আমার কৌতূহলের পারদ চড়ে গেল! দুটো এমন নাম এই বইয়ের পাতা থেকে উঠে এসেছে, যেটা মাত্র কিছুদিন আগেই আমার জীবনটাই প্রায় তছনছ করে দিয়েছিল। চণ্ড আর তার বলি! ব্যাপারটা তলিয়ে না দেখলে শান্তি পাচ্ছি না। দ্বিধা কাটিয়ে রুদ্রপ্রসাদকে ডায়াল করলাম, ওপার থেকে গম্ভীর পুরুষকণ্ঠ ভেসে এল—'হ্যালো'।

নাম বলতেই ভদ্রলোক কোনওরকম ভনিতা না করে সোজা কাজের কথায় চলে এলেন।

—'জয়ন্তবাবু আপনার ফোনের অপেক্ষা করছিলাম, এখুনি একবার আমার বাড়ি আসতে পারবেন, অসুবিধে হবে না গাড়ি পাঠিয়ে দিচ্ছি'।

—'এখন রাত এগারোটা'!

—'তাতে কি? তা ছাড়া আমাদের প্রয়োজনটাও যে মারাত্মক'।

—'আমি কিন্তু কিছুই বুঝতে পারছি না'?

—'আপনি চলে আসুন, বোঝাবার দায়িত্ত্ব আমার'।

—'সরি এত রাতে আসতে পারছি না'। ভদ্রলোকের কণ্ঠস্বর এবারে একটু অপ্রসন্ন শোনাল, একমুহূর্ত চুপ করে থেকে বললেন—'ঠিক আছে তাহলে যদি কাল সকালে আসেন'।

—'সেটা অবশ্য হতে পারে'।

—'তাহলে কখন গাড়ি পাঠাব বলুন'?

—'ন-টা নাগাদ আসব, তবে গাড়ি পাঠাতে হবে না, আমি নিজেই চলে যাব'। শুভরাত্রি জানিয়ে এবার ফোন রেখে দিলাম।

সারাদিন অনেক দৌড়ঝাঁপ গেছে, তা ছাড়া কাল রাতে ঠিক করে বিশ্রাম অবধি হয়নি, ঘুমে চোখের পাতা ভারী হয়ে আসছে, কিন্তু ঘুমাতে সাহস পাচ্ছি না, মনের মধ্যে আতঙ্কের একটা বিশ্রী কাটা খচ খচ করে ফুটছে, ধেড়ে ইঁদুরগুলো আবার মাঝরাতে হামলা না চালায়? ফ্ল্যাটের আলোগুলো সব একসঙ্গে জ্বেলে রুদ্রপ্রসাদের বইয়েই ফের মনোনিবেশ করার চেষ্টা করলাম, একসময় কখন যে ঘুমিয়ে পড়লাম টেরই পেলাম না।

অ্যালার্মের শব্দে ঘুম যখন ভাঙল তখন ঘড়িতে পৌনে সাতটা। রাতে জমাটি ঘুম হওয়ার ফলে শরীর-মন দুটোই বেশ তাজা লাগছিল। ফ্ল্যাটের সর্বত্র খুঁটিয়ে দেখেও ইঁদুরের কোনও চিহ্ন খুঁজে পেলাম না, মনের মধ্যে যে উদ্বেগটা গজিয়ে উঠেছিল সেটা দূর হয়ে গেল। কুটুসের সঙ্গে কিছুক্ষণ খেলে সকালের প্রাত্যহিক কাজকর্মে ব্যস্ত হয়ে পড়লাম। আটটা নাগাদ জগন্নাথ এল, কুটুসকে ওর জিম্মায় রেখে বেড়িয়ে পরলাম, প্রথম গন্তব্য বালিগঞ্জের রেনি পার্ক তারপর যথারীতি স্কুলে যেতে হবে।

রাস্তা পারাপার করার জন্য সবেমাত্র এসে দাঁড়িয়েছি, একটা সাদা স্করপিও গাড়ি এসে গা ঘেঁসে দাঁড়াল। ড্রাইভারের সিটে বসে কাল রাতের ছেলেটি। ছেলেটি গাড়ির দরজা খুলে দিয়ে বলল—'আমি ভাবলাম বুঝি দেরি হয়ে গেল, আপনি বোধহয় বেড়িয়ে পড়লেন'। গাড়ীতে উঠতে উঠতে বললাম—'কিন্তু এর কি দরকার ছিল? আমি তো বলেইছিলাম নিজেই চলে যাব'। ছেলেটি হেসে বলল—'স্যার জেঠু কাল রাত থেকেই আমাকে তাড়া লাগাচ্ছিলেন যেন গাড়ি নিয়ে তৈরি থাকি'। গাড়ি তেইশ পল্লির মোড় থেকে ইউ-টার্ন নিয়ে সোজা হাজরা রোডে এসে পৌঁছোল। সকালের দিকে রাস্তায় এখনো তেমন ট্র্যাফিকের ভিড় হয়নি, গাড়ি বেশ দ্রুত গতিতেই চলছিল, ছেলেটির সঙ্গে পরিচয় হল, ডাক্তারি পড়ছে, মেডিকেল কলেজের স্টুডেন্ট, নাম অরিন্দম, ওর জ্যাঠার সম্পর্কেও কিছু খোঁজখবর পাওয়া গেল ভদ্রলোক অবসর নেওয়ার পর ইতিহাসের কিছু বিষয় নিয়ে রিসার্চ করছিলেন, গত কয়েক বছর বিদেশে কোথাও ছিলেন, মাস দুয়েক হল দেশে ফিরত এসেছেন, সপ্তাহ তিনেক আগে নাকি ভদ্রলোক প্রথমবার অরিন্দমকে আমার নাম, ঠিকানা দিয়ে বলেন আমার সঙ্গে দেখা করার জন্য, কিন্তু ঠিক সেদিনেই ওনার হৃৎযন্ত্রে সমস্যা হওয়ায় হাসপাতালে ভরতি হতে হয়, ডামাডোলের মধ্যে অরিন্দম এই ব্যাপারটা ভুলেই গেছিল, কিন্তু জ্ঞান ফিরতেই রুদ্রপ্রসাদ ফের তাগাদা দেওয়া শুরু করেন আমাকে ডেকে নিয়ে আসার জন্য। অরিন্দমের অবশ্য বিন্দুমাত্র ধারণা নেই তার জ্যাঠার হঠাৎ আমার মতো অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে কি দরকার থাকতে পারে! কথা বলার ফাকেই গাড়ি এসে পৌঁছল বালিগঞ্জের অভিজাত রেনি পার্ক এলাকায়। একটা লোহার গেটওয়ালা তিনতলা বাড়ির সামনে গাড়ি থামিয়ে অরিন্দম বলল—'আমরা এসে গেছি'। গেটের ভিতর একজন বলিষ্ঠদেহী দারোয়ান বসে হাতের তেলোতে খৈনি ডলছিল, সে দরজা খুলে দিতে আমি অরিন্দমের পিছন পিছন বাড়ির ভিতর প্রবেশ করলাম। একজন সৌম্যদর্শন ভদ্রলোক সামনে এসে দাড়িয়েছেন, নমস্কারের ভঙ্গি করে বললেন—'আমার নাম দেবপ্রসাদ মিত্র, রুদ্রপ্রসাদ আমার দাদা, আসুন ভিতরে আসুন'। ভদ্রলোককে অনুসরণ করে বাড়ির ভিতরে একটা সুসজ্জিত ড্রয়িং রুমে এসে পৌঁছোলাম, সেখান থেকে মার্বেল দিয়ে বাঁধাই করা সিঁড়ি দোতলার দিকে উঠে গেছে। ভদ্রলোক সিঁড়িতে পা রেখে বললেন—'দাদার ঘরটা দোতলায়, আমরা সেখানেই যাচ্ছি'। বললাম—'শুনলাম যে ওনার শরীরটা ঠিক নেই'। দেবপ্রসাদ বললেন—'হ্যা ওই হার্টের সমস্যা, মাঝখানে তো কয়েকটা দিন হাসপাতালেও থাকতে হল'। ভদ্রলোক এবার একটু গলা খাকড়ে বললেন—'দাদা কয়েকদিন হল আপনার সঙ্গে দেখা করার জন্য উদগ্রীব হয়ে রয়েছেন, যদিও উনি আমাদের কাউকেই বলতে চাইছেন না ব্যাপারটা কি? আপনি এলেন এবারে উনি হয়তো স্বস্তি পাবেন'। এ বাড়িতে ঢোকা ইস্তক একটা অদ্ভুত জিনিস চোখে পড়ছে, এই দিনের বেলাতেও প্রতিটা জানলার ধারে আর বারান্দায় একহাত অন্তর একটা করে প্রদীপ জ্বালানো রয়েছে। তবে বড়লোকের খেয়াল ভেবে ওসব নিয়ে আর মাথা ঘামালাম না। দোতলায় উঠে লম্বা বারান্দা পেরিয়ে কোণের ঘরের দরজায় দেবপ্রসাদ টোকা মারতেই ভিতর থেকে গম্ভীর কণ্ঠস্বর ভেসে এল।—'ভিতরে এস'। ঘরের মাঝ বরাবর একটা কাউচে বসে রুদ্রপ্রসাদ টিভি দেখছিলেন, সেটা বন্ধ করে হাসিমুখে বললেন—'এস ভাই, আমার সামনে ওই সোফাটায় বস, ভালো কথা, তোমার বয়স কত'?

—'তেত্রিশ'।

—'আমার সাতষট্টি, তোমাকে তুমি বলে ডাকলে, আপত্তি নেই তো'? সম্মতি জানিয়ে বললাম—'কিচ্ছু না'।

—'আর তুমিও কিন্তু আমাকে রুদ্র বলেই ডাকবে, নামের আগে ওইসব মিস্টার টিস্টার আমার আবার ঠিক পোষায় না, আর জেঠু-কাকু-মেসোমশাই শুনলে কেমন যেন অ্যালার্জি হয়'।

—'সে ঠিক আছে কিন্তু আমি তো এখনও বুঝতে পারছি না'?

রুদ্র হাত নেড়ে বললেন—'এসেই যখন পড়েছ, আশা করি সবই বোঝাতে পারব, কিন্তু সবার আগে স্টিমুলেটিং কিছু চাই, কফি খেতে খেতে কথা বলা যাক, কি বল'? ভদ্রলোক এবার ভাইয়ের দিকে চেয়ে বললেন—'রমাকে বল কফির বন্দোবস্ত করতে'। দেবপ্রসাদ সম্মতি জানিয়ে ঘর থেকে নিষ্ক্রান্ত হলেন, রুদ্রপ্রসাদ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে ভাইয়ের চলে যাওয়া দেখলেন, তারপর আমার মুখের দিকে চেয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন—'দুর্ভাগ্যের বিষয় যে তোমার সঙ্গে আমাকে এমন কিছু বিষয় নিয়ে বসতে হচ্ছে, যেটা না হলেই খুশি হতাম'।

'সবার আগে নিজের পরিচয়টা দিই। আমার নাম তো জেনেছ, আমি একসময় ক্যালকাটা ইউনিভার্সিটির ইতিহাসের লেকচারার ছিলাম, পরে ডিপার্টমেন্টের হেড হই। প্রাচীন ভারতের ইতিহাসে আমার যে পড়াশোনা আর রিসার্চ রয়েছে তার সমতুল্য এই দেশে খুব বেশি নেই, সে কথাটা জোরের সাথেই বলতে পারি, কয়েকটা বইও লিখেছি, যার একটার কিছুটা গতকাল তুমি পড়েছ। বিয়ে থাওয়া করিনি, এই ভাই আর ভাইপোই আমার পরিবার। গত তিন বছর গ্রীস গভর্নমেন্টের একটা বিশেষ প্রোজেক্ট নিয়ে কাজ করছিলাম, মাস দুয়েক আগে হঠাৎ এই কলকাতা শহরের বুকে ঘটে যাওয়া একটা ঘটনার খবরে তড়িঘড়ি দেশে ফেরত চলে আসি।'

রুদ্রের কথায় ছেদ পড়ল। কফি হাজির হয়েছে, বাড়ির পরিচারিকা ট্রে সাজিয়ে নিয়ে এসেছে। কফি ছাড়াও আছে কড়া পাঁকের সন্দেশ, কাজু বাদাম আর ক্রিম দেওয়া বিস্কুট। আমার মৃদু আপত্তি উড়িয়ে রুদ্র বললেন—'আমার তো ইচ্ছে ছিল দুজনে একসাথে লাঞ্চ করি কিন্তু তুমি প্রথমবার আসছ তাই আর জোর করলাম না'। কফির পেয়ালায় চুমুক দিতে দিতে রুদ্র বললেন—'কয়েক মাস আগে নকশাল নেতা সমীরণ মাহাতোর মৃত্যুসংবাদ এখানকার নিউজ পেপার আর টিভিতে বেশ ফলাও করে বেড়িয়েছিল। সেদিনের সেই ঘটনার তুমিই একমাত্র জীবিত সাক্ষী, এই যে এতবড় চোট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি থাকতে হল, তারপর সুস্থ হয়ে ফেরত আসা, এসবের কিরকম প্রভাব তোমার জীবনে পড়েছে'। একটু চিন্তা করে বললাম—'কিছু মানসিক সমস্যা ছাড়া আর কোনও অসুবিধে নেই'।

—'যেমন'?

—'আজকাল রাতে প্রায় একধরনের উদ্ভট স্বপ্ন দেখে ঘুম নষ্ট হয়ে পড়ছে তাছাড়া মাঝে মধ্যে কানের ওপর একটা চিৎকার, যেটা শুধু আমিই শুনতে পাই'। রুদ্রপ্রসাদ এবার পালটা প্রশ্ন করলেন—'তোমার কি মনে হয়, এসব কিছু কেন ঘটছে'?

—'পোস্ট ট্রমাটিক সাইকোলজিক্যাল ডিসর্ডার, ডাঃ নন্দীর তেমনই মত'। রুদ্রপ্রসাদ কথাটা উড়িয়ে দিয়ে বললেন—'এই ডাক্তারের কোনও ধারণাই নেই এসব কীসের জন্য ঘটছে, ইনফ্যাক্ট পৃথিবীর কোনও ডাক্তারই এমন সমস্যার সমাধান বাৎলাতে পারবে না, তবে আশা করব আজকে এই বাড়ি ছেড়ে বেরোনোর আগেই তোমার জ্ঞানচক্ষু কিছুটা হলেও নিশ্চয়ই খুলবে'।

সকল অধ্যায়
১.
প্রথম অধ্যায়
২.
দ্বিতীয় অধ্যায়
৩.
তৃতীয় অধ্যায়
৪.
চতুর্থ অধ্যায়
৫.
পঞ্চম অধ্যায়
৬.
ষষ্ঠ অধ্যায়
৭.
সপ্তম অধ্যায়
৮.
অষ্টম অধ্যায়
৯.
নবম অধ্যায়
১০.
দশম অধ্যায়
১১.
একাদশ অধ্যায়
১২.
দ্বাদশ অধ্যায়
১৩.
ত্রয়োদশ অধ্যায়
১৪.
চতুর্দশ অধ্যায়
১৫.
পঞ্চদশ অধ্যায়
১৬.
ষোড়শ অধ্যায়
১৭.
সপ্তদশ অধ্যায়
১৮.
অষ্টাদশ অধ্যায়
১৯.
ঊনবিংশ অধ্যায়
২০.
বিংশ অধ্যায়
২১.
একবিংশ অধ্যায়
২২.
দ্বাবিংশ অধ্যায়
২৩.
ত্রয়োবিংশ অধ্যায়
২৪.
চতুর্বিংশ অধ্যায়
২৫.
পঞ্চবিংশ অধ্যায়
২৬.
ষড়বিংশ অধ্যায়
২৭.
সপ্তবিংশ অধ্যায়
২৮.
অষ্টাবিংশ অধ্যায়
২৯.
ঊনত্রিংশ অধ্যায়
৩০.
ত্রিংশ অধ্যায়
৩১.
একত্রিংশ অধ্যায়
৩২.
দ্বাত্রিংশ অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%