ভালবাসার বাড়ি

অশোক দাশগুপ্ত

এই মুহূর্তে কেউ যদি আমাদের বাড়িতে ঢোকে তাহলে থমকে দাঁড়াবে৷ কপালে ভাঁজ পড়বে৷ ঠিকানা কি ভুল হল? অন্য বাড়িতে ঢুকে পড়েছে? নাকি এ বাড়িতে হঠাৎ কোনও শোকের ঘটনা ঘটেছে? এত চুপচাপ কেন৷ এরকম তো হওয়ার কথা নয়৷

আমি ঘরে চুপ করে শুয়ে আছি৷ সারি ঘরে বেশ কয়েকবার আসা যাওয়া করছে৷ খুটুরখুটুর করছে৷ একবার আলমারিটা খুলে বন্ধ করল৷ একবার আলনার কাপড় পাট করল৷ মনে হয়, মেয়েটা আমাকে কিছু বলতে চায়৷ আমার বোন আমাকে যেমন ভালবাসে তেমন ভয়ও করে৷ ভয় করবার কোনও কারণ নেই৷ হালকা পলকা শাসন করলেও আমি কখনও বকাঝকা মারধর করিনি৷ এখন তো বড়ই হয়ে গেছে৷ সম্ভবত আমাদের বয়সের পার্থক্যের কারণে এমনটা হয়েছে৷ সারি এবার খাটের পাশে এসে দাঁড়াল৷

‘দিদি, অ্যাই দিদি৷’

আমি সাড়া দিলাম না৷ বাঁ হাতটা যেমন আড়াআড়ি ভাবে চোখের ওপর চাপা দিয়ে শুয়েছিলাম তেমনই রইলাম৷ সারি ফিসফিস করে উঠল, ‘মাথা ধরেছে? টিপে দেব?’

আমি হাত না সরিয়ে বললাম, ‘কী বলবি তাড়াতাড়ি বল৷ বলে ঘর থেকে যা৷’

সারি বালিশ সরিয়ে আমার মাথার কাছে বসল৷ গায়ে হাত রেখে ফিসফিস করে বলল, ‘দিদি, তিনশোটা টাকা দেবে?’ এবার হাত সরিয়ে অবাক চোখে তাকালাম৷ তেরো বছরের মেয়ে একসঙ্গে তিনশো টাকা চাইলে অবাক হবারই কথা৷ অভাবের সংসারে বেশি অবাক হবার কথা৷ তাছাড়া সারি তো জানে এখন অনেকগুলো টাকা খরচ হচ্ছে!

‘তিনশো টাকা! এত টাকা কীসে লাগবে?’

জানলা দরজা বন্ধ রাখবার কারণে ঘর ছায়া ছায়া৷ আজ আমি উঠেছি খুব ভোরে৷ তখনও ঠিক ফোটেনি৷ তখন আকাশ ছিল মেঘলা৷ ফট করে মাথাটা ধরে গেল৷ জোরে ধরা না, টিপটিপে ধরা৷ এই মাথা ধরা খুব বিশ্রী৷ ঘ্যানঘ্যানে বৃষ্টির মতো৷ সহজে ছাড়তে চায় না৷ মা বলল, ‘চা খেয়ে আবার খানিকক্ষণ শুয়ে থাক৷ চন্দনারা এলে উঠবি৷’

আমি বিরক্ত মুখে বললাম, ‘এসব ঝামেলার কী দরকার ছিল?’

মা রান্নাঘরে ঢুকতে ঢুকতে বলল, ‘যা নিয়ম তা তো করতেই হবে৷’

‘এই জন্যই তো আমি নিয়ম টিয়ম কিছু চাইনি৷’

মা কল খুলে সসপ্যানে জল ভরতে ভরতে শান্ত গলায় বলল, ‘শুধু তোর চাওয়াই তো সব নয়, অন্যের চাওয়াচায়িও আছে৷ সমাজে থাকতে হলে সেগুলোও কিছু কিছু শুনতে হয়৷’ মা একটু থেমে বলল, ‘যা, চা খেয়ে একটু ঘুমো৷ মাথা ধরা ছেড়ে যাবে৷’

‘তোর চাওয়া’ বলে মা আমাকে খোঁচা দিল৷ কথা বাড়ালাম না৷ উঠোনে নেমে চুপ করে দাঁড়িয়ে রইলাম৷ বাইরের বাতাসে যদি মাথা ব্যথাটা ছাড়ে৷ অনেক দূরে, জল জল আকাশ দিয়ে কটা পাখি উড়ে গেল৷ এরা কি রাত জাগা পাখি? বাড়ি ফিরছে?

আমাদের এই বাড়িটা পুরনো দিনের৷ কলকাতায় এ ধরনের বাড়ি চট করে আর চোখে পড়ে না৷ মফসসল শহরে এখনও আছে৷ বাড়ির সামনে লম্বা বারান্দা৷ বারান্দার পাশাপাশি ঘর৷ বারান্দা থেকে নামলে উঠোন, তারপর গেট৷ গেটের সামনে একফালি জায়গা৷ জায়গাটা গোটা বর্ষাকাল জল কাদায় মাখামাখি হয়ে থাকে৷ ইট পেতে দিতে হয়৷ বেশি বৃষ্টি হলে নর্দমা উপচে সেই ইটও ডুবে যাবে৷ ক’দিন বৃষ্টি হয়নি বলে বাঁচোয়া৷ একটা সময় বাড়ির সামনেটা বে-আব্রু গোছের ছিল৷ রাস্তা থেকেও দেখা যেত৷ একদিন মা বাবাকে বলল, ‘বাড়িওলাকে বল না, বারান্দায় গ্রিল লাগিয়ে দিক৷’

বাবা ঝাঁঝ নিয়ে বলল, ‘ইস মামাবাড়ির আবদার৷ বাড়িওলাকে বললেই হল, এসে গ্রিল দিয়ে মুড়ে দিয়ে যাবে৷ কত খরচ হবে বলো তো? ধারণা আছে? ওই কটা টাকা তো ভাড়া দিই৷ এই ভাড়ায় ভদ্রলোকের মতো বাড়ি জুটবে? এর ওপর গ্রিল, গরাদ, কপাট, সিংহদরজা সব চাই, ঘাড় ধরে বের করে দেবে৷’

একটা সময় আমাদের সংসারে দাপট ছিল বাবার৷ যে কোনও নড়বড়ে বা ভুল যুক্তি বাবা জোরের সঙ্গে প্রতিষ্ঠা করত৷ যা বলবে সেটাই ঠিক, সেটাই হবে৷ বেশিরভাগ সময়েই এটা হত অর্ডারের কায়দায়৷ অর্ডার মানতে হবে৷ কোনও প্রশ্ন তুললে ধমক৷ আমরা তো ভয়ে সিঁটিয়ে থাকতাম৷ কথা না শোনায় বা কথা শুনতে দেরি হওয়ায় চড় চাপড়ও খেয়েছি৷ ছোটবেলা থেকেই দেখেছি, বাবার সামনে মাও কেমন গুটিয়ে থাকতে অভ্যস্ত৷ তবু সেদিন মুখ খুলেছিল৷

‘ভাড়া কম বলে এখন হাটখোলা বাড়িতে থাকতে হবে?’

বাবা রাগের সঙ্গে বিস্ময় মিশিয়ে বলল, ‘এতদিন তো রইলে! আর হাটখোলা মানে? খোলা আকাশের তলায় তোমাদের রেখেছি নাকি?’

মা গলা নামাল, কিন্তু তর্ক থামাল না৷ নিচু গলায় বলল, ‘মানি বড় হচ্ছে৷ ছেলেরা বাড়ির সামনে ঘোরাঘুরি করে৷’ আমি যে বড় হচ্ছি, এটা সম্ভবত বাবার খেয়াল ছিল না৷ একটু যেন থতমত খেয়ে গেল৷ চুপ করে রইল কয়েক মুহূর্ত৷ তারপর গলা খাঁকারি দিয়ে বলল, ‘গ্রিল দিলে ছেলেদের ঘোরাঘুরি বন্ধ হবে?’

মা বলল, ‘আঃ আস্তে বল৷ মেয়ে শুনতে পাবে৷’ ঘরে বসে আমি সব শুনেছি৷ খানিক পরেই যুক্তি খুঁজে বাবা কঠিন গলায় বলল, ‘গ্রিল দিয়ে কী হবে? মেয়ে তো আর সবসময় গ্রিলের ভিতর থাকবে না৷ সে তো বাইরেও বেরোবে৷ মেয়েকে সামলে সুমলে রাখতে হবে৷ শুধু ছেলে ছোকরাদের দোষ দিলে হবে কেন? তারা কেন বাড়ির সামনে ঘুরছে দেখতে হবে৷ সাহস পাচ্ছে কোথা থেকে? মেয়েকে শাসন কর৷’

আসলে বাবা বাড়িওলাকে বলতে চায়নি৷ ভদ্রলোক কলকাতায় থাকেন৷ এই বাড়ি মেরামত টেরামত যেমন করেন না, তেমন ভাড়াও বাড়ান না৷ এমনকি ভাড়া দিতে দেরি হলে তাগাদাও দেন না৷ বাবাও ভদ্রলোককে ঘাঁটায় না৷ ঘাঁটাবে কেন? আজকালকার দিনে শহরে কেন, বনেবাদাড়েও এত কম টাকায় দুখানা ঘর, বাথরুম, রান্নাঘরের বাড়ি পাওয়া যাবে না৷ ছাদের চাবিও আমাদের কাছে৷ তবে শেষ পর্যন্ত বাবাকে গ্রিলের কথা বলতে হল৷ আমার জন্যেই হল৷ এক আধা বিকেল আধা সন্ধেবেলা পাড়ার মন্টু না ঝন্টু নামের এক বখা টাইপ ছোকরা ফট করে বাড়ি পর্যন্ত চলে এলও৷ আমি আর মা বারান্দায় বসে চা-মুড়ি খাচ্ছিলাম৷ ছেলেটা গেট খুলে উঠোন পেরিয়ে একেবারে উঠে আসে আর কী!

‘মাসিমা, এক গ্লাস জল পাওয়া যাবে?’

রাতে বাবা বাড়ি ফিরে এসে শুনল৷ চাপা গলায় হুঙ্কার দিল, কালই বেয়াদব ছেলেকে খুঁজে বের করব৷ ধরে কান টেনে ছিঁড়ে ফেলব৷ এত বড় সাহস! ছেলের নাম কী বললে?’

মা শান্ত গলায় বলল, ‘নাম জেনে কী হবে? কী বলবে? কেন জল চাইতে গিয়েছিলি? কতজনের কান ছিঁড়বে? এখন বিকেল বিকেল এসেছে, এরপর রাতে আসবে৷ হয় বাড়ি বদলাও, না হয় আগল দাও৷’

বাড়িওলা গ্রিলের কথায় রাজি হলেন না৷ হবার কথাও নয়৷ অনেক খরচ৷ তবে বাবাকে বললেন, ‘আপনি যদি পারেন ব্যবস্থা করে নিন৷’

বাবা ফ্যাক্টরি থেকে লোন নিল৷ বারান্দায় খানিকটা ইটের গাঁথনি, একটা সেকেন্ড হ্যান্ড জানলা, খানিকটা গ্রিল আর একটা কোলাপসেবল বসিয়ে দেওয়া হয়েছে৷ গ্রিলে চটের বড় বড় ঝোলা পর্দা৷ দড়ি দিয়ে টেনে ওপরে তুলতে হয়৷ বাইরের আলো বাতাস কমে গেলেও, বারান্দার একটা দিক একটা ঘরের মতো হয়ে গেছে৷ বারান্দা-ঘর৷ টিউব লাইট, টেবিল ফ্যান হয়েছে৷ বেতের চেয়ার, মোড়া, নিচু টেবিল হয়েছে৷ বাইরের লোকজন এলে বারান্দা ঘরে বসে৷ আমি একসময় পড়াশোনা করেছি৷ এখন সারি পড়ে৷ ঘরটা হবার পর মাকে মজা করে বলেছিলাম, ‘ভাগ্যিস মেয়ে হয়ে জন্মেছিলাম, আমার জন্য দুম করে একটা ঘর পেয়ে গেলে বল৷ যদি ছেলে হতাম, বাবা অমন ঝামেলা করে বারান্দা ঘিরত? দেখেছ তো মেয়ে হবার কেমন সুবিধে? অবশ্য এর খানিকটা ক্রেডিট ওই ছেলেটারও রয়েছে৷’

মা অবাক হয়ে বলে, ‘ছেলেটার! কার?’

‘সে কী মা! এর মধ্যে ভুলে গেলে? কী অকৃতজ্ঞ রে বাবা! ওই যে মন্টু না ঝন্টু৷ সেদিন জল খেতে যদি বাড়ি পর্যন্ত চলে না আসত, ভাবছি, দেখা হলে একটা ধন্যবাদ দেব৷ ডেকে এনে বারান্দা ঘরে বসিয়ে চা-বিস্কুট খাওয়াতেও পারি৷’

মা হেসে বলেছিল, ‘একটা চড় খাবি৷’

সকালবেলা চা করে মা যখন আমাকে দিতে এল, দেখি মায়ের চোখে জল৷ আমি কাপ হাতে নিয়ে বললাম, ‘আবার শুরু করলে?’

মা বিড়বিড় করে বলল, ‘ভাল থাকিস বুলি৷ সাবধানে থাকিস৷’

আমার মন খারাপ হয়ে যাচ্ছিল৷ নিজেকে সামলে, বানানো ধমক দিয়ে বললাম, ‘তুমি থামো তো৷ একে মাথা ধরেছে, তারপর আবার প্যানপ্যানানি শুরু করলে৷ ক’দিন ধরেই তো চলছে৷’

মা আঁচল দিয়ে চোখ মুছতে মুছতে চলে গেল৷ নিশ্চয় রান্নাঘর বা বাথরুমে গিয়ে খানিকক্ষণ কাঁদবে৷ কাঁদুক৷ এ কান্না থামানোয় আমার কোনও ভূমিকা নেই৷ এটা মায়ের নিজের কান্না৷

চা খেতে ভাল লাগল না৷ গা কেমন পাক দিল৷ তাও খেলাম৷ মা করেছে বলেই খেলাম৷ চায়ের কাপ রান্নাঘরে নামিয়ে ঘরে এসে শুয়ে পড়েছি৷ আধো তন্দ্রার মধ্যেই বুঝতে পারলাম সারি ঘরে ঢুকেছে৷ সে টাকার কথা বলায় আমি অবাক হলাম৷

‘কীরে চুপ করে আছিস কেন? বল টাকা কীসে লাগবে?’

সারি আমার ঘাড়ের কাছে মুখ নামিয়ে বলল, ‘চুল বাঁধব৷’

আমি গা থেকে সারির হাত সরিয়ে দিয়ে বললাম, ‘মানে!’

‘সন্ধ্যাদির পার্লারে চুল বাঁধতে অনেক টাকা নেয়, হাজার, দু’হাজার... আমাকে বলেছে, তোকে তিনশো টাকায় করে দেব৷’

আমি জোর ধমক দিতে গিয়েও নিজেকে সামলালাম৷ আজ ছোট বোনকে ধমক দেওয়ার দিন নয়৷ আর ছোট মানে, সারি তো আমার থেকে দুই, তিন বা পাঁচ বছরের ছোট নয়, ডবলের থেকেও বেশি ছোট৷ সে যখন হয় তখন আমার একদম ভাল লাগেনি৷ কীভাবে যেন স্কুলে খবর রটে গেল মা প্রেগন্যান্ট৷ বন্ধুরা আমার দিকে তাকিয়ে মুখ টিপে হাসত৷ মনে আছে, আশাবরী নামের একটি মেয়ে একদিন আমাকে সিরিয়াস মুখ করে বলেছিল, ‘বল্লরি, রাতে তুই কোথায় শুস?’

আমি অবাক হয়ে বললাম, ‘মানে! কোথায় আর শোব, ঘরে শুই৷’

আশাবরী জেরা করবার ভঙ্গিতে বলল, ‘একা ঘরে শুস?’

আমি বললাম, ‘না তো! আমি শুই মায়ের কাছে, বাবা আলাদা ঘরে৷ আমাদের তো দুটো ঘর৷ সেই ছোটবেলা থেকেই এরকম৷’

আশাবরী বন্ধুদের দিকে মুখ ফিরিয়ে গম্ভীর ভাবে মাথা নাড়ল৷ বলল, ‘তাহলে তো খুবই রহস্যের ব্যাপার৷ বাবা-মা আলাদা শোয়, তারপরেও বল্লরির কীভাবে ভাই হচ্ছে? চিন্তার বিষয়৷’

সবাই ‘হো হো’ করে হেসে উঠল৷ প্রথমটায় বুঝতে না পারলেও, কয়েক মুহূর্তের মধ্যে বুঝতে পারি, ওরা কেন হাসছে৷ মুখ লাল হয়ে যায় লজ্জায়৷ রাগে, অপমানে চোখ ফেটে জল আসতে চায়৷ সেই রাগ অপমান যেমন মায়ের ওপর ছিল, জন্মের পরও বেশ কিছুদিন সারির ওপরও ছিল৷ আর আজ আমি যে তাকে কতই না ভালবাসি! সারির ভাল নাম সারণী৷ এই নাম আমারই দেওয়া৷ সারির গালে হাত রাখলাম৷ হেসে বললাম, ‘এত টাকা দিয়ে চুল বাঁধবার কী খুব দরকার আছে?’ সারি নাক কুঁচকে আবদারের ঢঙে বলল, ‘খুব দরকার আছে৷ আমি চাই, আজ আমাকেও তোমার মতো সুন্দর লাগুক৷’

‘কই আমি তো কোথাও সাজতে যাচ্ছি না!’

‘তুমি তো খুব সুন্দর দিদি৷ এত সুন্দর যে না সাজলেও চলে৷’

সারির পুরো কথাটা না হলেও অনেকটাই ঠিক৷ মনে হয়, বেশিটাই৷ সবাই বলে, আমাকে সুন্দর দেখতে৷ গায়ের রঙ ফর্সা না হলেও এক ধরনের জৌলুস আছে৷ কারও কারও মতে কটকটে ফর্সা ভাল না৷ বোকা বোকা লাগে৷ আমার মতো ভাঙা রঙ নাকি মেয়েদের আকর্ষণীয় করে আবার কঠিনও করে৷ আমার গড়নটাও ছিপছিপে৷ অথচ মা-বাবা দুজনেই মোটার দিকে৷ জিন তত্ত্ব অনুযায়ী আমারও উচিত ছিল তাদের মতো হওয়া৷ হইনি৷ ছিপছিপে থাকবার জন্য আজকাল সবাই কত টাকা খরচ করে৷ আমার দরকার হল না৷ শুনি, আমার চোখও সুন্দর৷ মেয়েদের চোখ হয় মায়ামাখা৷ আমার চোখে বলে মায়া আর বুদ্ধি দুই রয়েছে৷ খুব বেশি লেখাপড়া শেখা হয়নি৷ অভাবের কারণেই হয়নি৷ তবে যেটুকু শিখেছি মন দিয়েছি৷ নইলে কাজ জুটত না৷ আমার সুন্দর এবং স্মার্ট উপস্থিতি কাজে দিয়েছে ঠিকই৷ কিন্তু আজকাল আর শুধু রূপ দিয়ে মেয়েদের চাকরি হয় না৷ আমি একটা ট্যুর কোম্পানির ফ্রন্ট ডেস্কে বসি৷ কাজটা পেয়েছি বছর খানেক৷ নিজের দৌড় পুরী পর্যন্ত কিন্তু কাজের জন্য দুনিয়ার ট্যুরিস্ট স্পটের খবর রাখতে হয়৷ মজার ব্যাপার৷ এর আগেও একটা চাকরি পেয়েছিলাম৷ টেকেনি৷ বস একদিন ফট করে গায়ে হাত দেওয়ায় দুম করে চড় মেরে দিলাম৷ অথচ সেই সময় কাজটার খুব প্রয়োজন ছিল৷ সবে বাবার কারখানা বন্ধ হয়েছে আর আমরা পড়েছি অথৈ জলে৷

আমি উঠে বসলাম৷ সারির চুল এলোমেলো করে দিয়ে বললাম, ‘তোকে আমার থেকে অনেক অনেক বেশি সুন্দর দেখতে৷ কারণ তোর মনটা সুন্দর৷ আজ আমি নিজে হাতে তোর চুল বেঁধে দেব৷ হবে?’

‘তুমি সময় পাবে? আমার কথা মনেই থাকবে না৷ এরপর আমাকে ভুলে যাবে৷’

আমি বললাম, ‘এমন বলতে পারলি সারি! আমি তোকে ভুলে যাব? ঠিক আছে, যা আমি টাকা দিয়ে দিচ্ছি৷ পার্লারে গিয়ে চুল বেঁধে আয়৷’

সারণী আমার দিকে একটুক্ষণ তাকিয়ে থেকে আমার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল৷ ফুঁপিয়ে উঠে বলল, ‘না, না, দিদি, আমি তোমার কাছেই চুল বাঁধব, তোমার কাছেই শাড়ি পরব...৷’

আমি সারির পিঠে হাত বোলাতে বোলাতে বললাম, ‘বোঝো কাণ্ড! একটু আগে মা কাঁদল, এবার বোন কাঁদছে৷ আজ কি সকাল থেকে এ বাড়িতে শুধু কান্নাকাটিই চলবে? যা, কত কাজ আছে, মাকে হেল্প কর গিয়ে৷’

সারণী আমাকে ছাড়ল না৷ জড়িয়ে ফোঁপাতে লাগল৷ পাগল একটা৷ এরা কি ভুলে গেল আজ বাড়িতে একটা বিয়ে হবে৷

হ্যাঁ, আজ আমার বিয়ে৷

সব আয়োজন হয়ে গেছে৷ আয়োজন আর কী, এলাহি ব্যাপার কিছু নয়৷ বেকার বাবার মেয়ের বিয়ে৷ নহবতও বসছে না, শয়ে শয়ে লোকও খেতে আসছে না৷ গেটের পাশের একফালি জায়গাটায় ক’টা বাঁশ কাপড় দিয়ে ঘেরা হয়েছে৷ চারটে টিউবলাইট, একটা দাঁড়ানো পাখা এসেছে৷ এখানেই চেয়ার টেবিল পেতে গেস্টদের খাওয়ানো হবে৷ গেস্ট বলতে বিশ বাইশ জন৷ মেনু অতি সংক্ষিপ্ত৷ তারপরেও বাবার আপত্তি৷ বলেছে, ‘এত লোককে বলবার কী হয়েছে?’

মা চোখ কপালে তুলে বলল, ‘এত লোক কোথায়! মেয়ের বিয়েতে বিশজন কোনও লোক হল? পাড়ার ক’জন, আত্মীয়স্বজন, ছেলের বাড়ির থেকে তো আসবে মোটে পাঁচ৷ মেয়ের অফিস-টফিস তো সব বাদ৷ এইটুকু না করলে চলবে কী করে?’

বাবা রাগ রাগ গলায় বলে, ‘বিশজনকে গেলানোর পর সংসার চলবে কী করে ভেবে দেখেছ একবার? দেনা মেটাতেই তো জিভ বেরিয়ে যাবে৷’

মা নিচু গলায় বলে, ‘এমনি যেন সংসার খুব ভাল চলছে...৷ জিভ তো বেরিয়েই আছে... বাড়ির পুরুষমানুষের ঠিকমতো রোজগারপাতি না থাকলে এমনই হবে... লোক খাওয়ালেও হবে, না খাওয়ালেও হবে...৷’

বাবা চিৎকার করতে গিয়ে গলা ফ্যাসফ্যাসে করে ফেলে৷ বলে, ‘কী বললে! আমি রোজগারপাতি করি না? আমি ঘরে বসে খাই?’

মা ঠান্ডা গলায় বলল, ‘রোজগারপাতি করো না তো বলিনি৷ কুড়িয়ে বাড়িয়ে যা করো তাতে সংসার চলে না৷ এতে এত রেগে যাবার কী হয়েছে? তা ছাড়া... তা ছাড়া... বুলির বিয়ের খরচ তো আমি জোগাড় করেছি, বুলি নিজে খানিকটা লোন নিয়েছে... নতুন কাজ বলে বেশি টাকা পায়নি... তুমি চিন্তা করছ কেন?

‘চিন্তা করছি কারণ ধার তো শোধ করতে হবে৷’

মা মুখ ঘুরিয়ে বাবার দিকে তাকায়৷ বিদ্র+পের গলায় বলে, ‘নিজের ধার আগে সামলাও৷’

কাজকর্ম চলে যাওয়ার পর বাবার দাপট কমেনি, দাপটের এফেক্ট কমেছে৷ মা আর গুটিয়ে থাকে না৷ প্রথম প্রথম ভয় পাবার ভান করত৷ যেন সব আগের মতো আছে৷ ভান আর কতদিন চলবে? মাও এখন তর্ক করে৷ নিজের মতো সিদ্ধান্তও নেয়৷ প্রথম চাকরি ছাড়বার পর বাড়ি ফিরে এসে যখন বললাম, বাবা আমার কিশোরীবেলার মতোই দাপট দেখাল৷ একই ভঙ্গিতে বলল, ‘কালই তোর অফিসে যাব হারামজাদার কান টেনে ছিঁড়ে ফেলব৷ এত বড় সাহস আমার মেয়ের গায়ে হাত দেয়৷’ পরদিন মুখ গোমড়া করে সারাদিন ভাঙা বেতের চেয়ারে বসে বাসি কাগজ পড়ল৷

বিয়ের খাওয়াদাওয়া নিয়ে মায়ের ধাবড়ানিতে সেদিনও বাবা চুপ করে যায়৷ গায়ে পাঞ্জাবি গলিয়ে, পায়ে চটি ফটফটিয়ে বেরিয়ে পড়ে৷

এই ফাঁকে বলে নিই, মায়ের কথায় তথ্যগত ভুল নেই৷ কারখানা বন্ধ হয়ে যাবার পর বাবা যে একেবারে কোনও রোজগার করে না, এমন নয়৷ এটা সেটা করে তিন-চারমাস অন্তর কিছু টাকা আনে৷ তবে কখনই তা খুব বেশি নয়৷ গেলবার পুজোর সময় জামাকাপড়ের ব্যবসা করতে গিয়ে বিশ হাজার টাকা লোকসান করে একেবারে নড়বড়ে হয়ে পড়েছে৷ মায়ের হাতের চুড়ি ভাঙিয়ে সেই ধারের খানিকটা শোধ করতে হয়েছে৷ বিয়েতে মায়ের সোনাদানা প্রায় কিছুই নিচ্ছি না৷ নেওয়ার মতো নেইও৷ যেটুকু যা আছে সারণীর জন্য রেখে যাচ্ছি৷ এখনও গরিব ঘরের অ-সুন্দর মেয়েদের বিয়ে দিতে বেশি সোনা লাগে৷ আমি হলফ করে বলতে পারি, যারা এটা শুনে বলবে, ন্যাকা সেন্টিমেন্ট, তারা বেশি করে নেয়৷ মেয়েদের হারামজাদা বলতে নেই৷ নইলে এদের হারামজাদাই বলতাম৷

রাত দশটা বেজে ছাপ্পান্ন মিনিটে লগ্ন৷ আমার পিঁড়িতে বসবার কথা এগারোটা বাইশে৷ পরশু পুরুতমশাই ফাইনাল মিটিংয়ে এসেছিলেন৷ বাবা বিরক্ত মুখে, ভুরু কুঁচকে বলল, ‘কেন! এগারোটা বাইশে কেন? দশটা ছাপ্পান্নতে লগ্ন শুরু, দশটা ছাপ্পান্নতেই মেয়ে বিয়ের জন্য বসে যাবে৷’

আমার গোটা বিয়ে পর্বটা জুড়েই বাবা ভুরু কুঁচকে রয়েছে৷ বিয়েতে পিতা কন্যাকে নানাভাবে পার করে৷ উজ্জ্বল মুখে, ছলছল চোখে৷ আমার বাবা আমাকে ভুরু কুঁচকে পার করছে৷ বেশ মজার লাগছে৷ ভুরু কুঁচকে থাকবার নানান কারণের একটা হল, বাবার পছন্দের ছেলেকে বিয়ে করছি না৷ শুধু বাবার নয়, ছেলে আমাদের সবার পছন্দের ছিল৷ যে পার্টনারের সঙ্গে জামাকাপড়ের ব্যবসা করে বাবা ধাক্কা খেল, তার ভাইপোর সঙ্গে আমার সম্বন্ধ এসেছিল৷ ভাল চাকরি৷ গাড়ি, ফ্ল্যাট৷ আমাকে দেখে ছেলের বাড়ির খুব পছন্দ হল৷ ছেলেটিও ভাল৷ আমাকে দেখতে এসে বারান্দা ঘরে মাথা নামিয়ে ম্যাগাজিন পড়ছিল৷ আমার দিকে একবারও মুখ তুলে তাকায়নি৷ সারি বলেছিল, ‘দিদি, কী হ্যান্ডসাম! আর ভদ্র! তাই না?’ হ্যাঁ, তাই৷ একদিন আমাকে অফিস থেকে তুলে কফি খাওয়াতে নিয়ে যায়৷ সেখানেও তার আচরণ মুগ্ধ করবার মতো৷ অল্প হাসে৷ অল্প সিরিয়াস৷ ঘণ্টাখানেক কোথা থেকে যে কেটে গেল! তারপরও রাতে খেতে বসে বাবাকে বললাম, ‘বাবা, এই বিয়ে আমি করব না৷’

‘কেন?’

‘জানি না, কিন্তু করব না৷’

বাবা থালা সরিয়ে রেখে বলল, ‘তুই কি পাগল! এত ভাল ছেলে... এত ভাল ছেলে... এমন সম্বন্ধ আর আসবে... আসবে আর? তুই কি পাগল...৷’

আমি চুপ করে রইলাম৷ বাবা হুঙ্কার দিয়ে উঠল, ‘নিজেকে কী ভাবিস? সুন্দরী? পরী? কী ভাবিস নিজেকে? গরিবের মেয়ের এত দেমাক কীসের? ফুটো চাকরি করিস... শুনছ, শুনছ তোমার মেয়ে কী বলছে... শুনছ...৷’

আমি চুপ করে খেয়ে উঠে গেলাম৷ বাবা ক’দিন মাথা পাগলের মতো করল৷ আমাকে ধমকায়, মাকে ধমকায়, সারণীকে ধমকায়৷ বারান্দায় পায়চারি করে৷ একসময়ে হাল ছেড়ে দিয়ে ফটফটিয়ে বেরিয়ে যায়৷ মাও জানতে চেয়েছিল, এমন সুন্দর ছেলেকে আমি কেন বিয়ে করলাম না৷ হেসে বললাম, ‘এখন বিয়ে করব না মা৷ ইচ্ছে করছে না৷’

এখন যে বিয়ে করছি, সেটাও আমার ইচ্ছেতে হচ্ছে এমন নয়৷ আরও কিছুদিন অপেক্ষা করে, আরও খানিকটা গুছিয়ে নিয়ে করতে পারতাম৷ তবে ওই যে, সব কি নিজের ইচ্ছেমতো হয়? বিয়ে করছি কল্যাণের জন্য৷ কল্যাণের মায়ের অসুখ খুব কঠিন জায়গায় পৌঁছেছে৷ ডাক্তাররা হাল ছেড়ে দিয়েছেন৷ কল্যাণ চমৎকার ছেলে৷ চাকরি সামান্য৷ আমাদের ট্যুর কোম্পানির ম্যানেজার একজন৷ পার্টি নিয়ে কাশ্মীর, সিমলা, কুলু, মানালি যায়৷ সবসময় হাসিমুখ৷ সৎ আর পরিশ্রমী বলে কম বয়সেই সুনাম কুড়িয়েছে৷ হঠাৎ একদিন রোটাংপাস থেকে ফোন করে জানাল, মায়ের ওষুধ লাগবে৷ এমারজেন্সি৷ কাউকে ফোনে পাচ্ছে না৷ আমি কি কিনে তার বাড়িতে একটু পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে পারি? কলকাতায় ফিরেই দাম দিয়ে দেব৷ আমি ভেবেছিলাম, ওষুধের মতো বিষয় অন্য কার হাতে ছাড়ব? নিজে যাই৷ এরপর থেকে আমি মাঝেমাঝেই এই দায়িত্ব পালন করেছি৷ নিজে থেকেই করেছি৷ কল্যাণ আর তার বাড়ির সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয়েছে৷ কল্যাণের বাবা নেই৷ সংসারের সব দায়িত্ব তার৷ কম বেতনের চাকরিতেই হাসিমুখে ম্যানেজ করে৷ গত মাসে হঠাৎ ভাইজ্যাক থেকে ফোন৷

‘বল্লরি, মনে হচ্ছে না মা আর বাঁচবে৷ মায়ের খুব ইচ্ছে, মৃত্যুর আগে ছেলের বউ দেখে যায়৷ আজকের দিনে খুব বোকা ইচ্ছে৷ তা আমি ঠিক করেছি, মৃত্যুর মুখে দাঁড়ানো মায়ের বোকা ইচ্ছের দাম দেব৷ ফট করে একটা বিয়ে করে ফেলব৷ কাজটা ভুল হবে৷ কিন্তু কি আর করা৷’

আমি উৎসাহ নিয়ে বললাম, ‘ভাল তো করে ফেল৷ আমি খাটাখাটনি করে দেব৷’

কল্যাণ হেসে বলল, ‘খাটাখাটনি আর কী হবে? আয়োজন তো অতি সামান্য হবে৷ পকেট তো ঢুঁ ঢুঁ৷ তার ওপর মায়ের আজ মরে কাল মরে অবস্থা৷ বিয়েতে ঢাক ঢোল পেটানোর চান্স নেই৷’

‘একটু পেটাতে পার৷ ধার দেব৷’

কল্যাণ জোরে হেসে বলল, ‘এটাই বলতে চাইছিলাম৷ লজ্জা পাচ্ছিলাম৷ ধারের টাকা তিনমাসে ফেরত হবে৷ অন গড৷ আর একটা ছোট অনুরোধ আছে৷’

আমি বললাম, ‘ধানাইপানাই না করে বলে ফেল৷ ফোনে বিল উঠছে৷’

কল্যাণ একটু থেমে বলল, ‘বল্লরি, তুমি কি আমাকে বিয়ে করতে পার? নাকি সেটা অসম্ভব? তোমাকে বাইরে থেকে দেখে বলছি না, সেদিন রাতে হঠাৎ মনে হল, তোমার মনের ভেতরটাও দেখে ফেলেছি৷ খুব সুন্দর একজন মানুষ৷ ভাবলাম, একবার না বলে পরে খুঁতখুঁতানি হবে৷ রাগ কোরো না৷’

এরপর আমি কী করব? ‘হ্যাঁ’ না বলে পারি? এই ভালবাসা তুচ্ছ করবার মতো ক্ষমতা কোনও মেয়ের আছে?

বাবা শুনে খেপে আগুন৷ রাজকুমার ছেড়ে ভিখিরিকুমার৷ ছি ছি৷ মেয়ে তো না খেয়ে মরবে৷ এসব মেয়ের গালে থাপ্পড় কষিয়ে গাল লাল করে দিতে হয়৷ মায়ের প্রপার শাসন না থাকলে মেয়েদের এমনটাই হয়৷ এ তো বাড়ি থেকে পালিয়ে বিয়ে৷ তারপর থেকেই বাবার ভুরু কুঁচকে গেছে৷

ছোটমাসি, চন্দনাদি, পাশের বাড়ির বউদি এসে গেছে৷ সবাই ছাদে৷ আমার গায়ে হলুদের ব্যবস্থা হচ্ছে৷ ঘর থেকে বেরিয়ে দেখি বাবা আমাদের বারান্দা ঘরে বসে৷ পায়জামা, হাতাওলা গেঞ্জি, গালে না কামানো দাড়ি৷ নিঃসঙ্গ, অসহায়, মন খারাপ করা একটা মানুষ৷ বহুদিন পরে বাবার জন্য খুব মন কেমন করে উঠল৷ আমি এগিয়ে গেলাম৷

‘কী হয়েছে বাবা? শরীর খারাপ৷’

বাবা মুখ নামিয়ে বলল, ‘না কিছু হয়নি৷’

আমি মোড়াটা নিয়ে বাবার পাশে গিয়ে বসলাম৷ বাবা নরম গলায় বলল, তুই বসিস না মা৷ ছাদে যা, সবাই অপেক্ষা করছে৷’

আমি কথার জবাব না দিয়ে বাবার হাত ধরলাম৷ বললাম, ‘আজ উৎসবের বাড়িতে সবাই মুখ গোমড়া করে আছে কেন? মনে হচ্ছে, মরা বাড়ি৷ দাড়িও কামাবে না?

বাবা মলিন হাসল৷ বলল, ‘এই যাব৷’

আমি বাবাকে দু’হাত দিয়ে জড়িয়ে ধরলাম৷ আহা! কতদিন পরে বাবার গায়ে গন্ধ পাচ্ছি!

‘এত চিন্তা কোর না বাবা৷ আমি ভুল করছি না৷ তোমার রাজপুত্র পাত্র বলেছিল, সব ঠিক আছে, কিন্তু বিয়ের পর চাকরি করা চলবে না৷ সুন্দরী মেয়ে সংসার করবে৷ আর বিয়ের আয়োজন করতে হবে ঘটা করে৷ বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজনকে দেখানোর ব্যাপার আছে না? তবে চিন্তা নেই সব খরচই সে দিয়ে দেবে৷ কেউ জানবে না৷ আমি রাজি হইনি বাবা৷ আমি রোজগার না করলে এই ভালবাসার মানুষগুলোকে কে দেখবে? সারিকে বড় হতে হবে৷ তোমাকে আবার ঘুরে দাঁড়াতে হবে৷ তাই না? বাবা কল্যাণ খুব ভাল ছেলে৷ এত ভাল ছেলে তুমিও দেখনি৷ সে আমাকে তোমাদের থেকে কেড়ে নেবে না৷ সে ভালবাসা কী, জানে৷’

বারান্দা ঘরের আবছায়াতে বসে এক পিতা আর তার কন্যা গুজগুজ করে গল্প করছে আর ঘন ঘন চোখ মুছছে৷ আহা, কাঁদুক৷ মেয়েটা কাল চলে যাবে দুজনে মিলে একটু কাঁদবে না? এই কান্না দুঃখের নয়, ভালবাসার৷ ছাদে শাঁখ বেজে উঠল৷

অধ্যায় ৪১ / ৪১
সকল অধ্যায়
১.
কাঁটাতারের বেড়া
২.
নির্বাসিতা
৩.
নমস্কার কলকাতা
৪.
হাসিনার পুরুষ
৫.
পৃথিবী চিরন্তনী
৬.
বাস স্টপে দাঁড়িয়ে
৭.
ময়না তদন্ত
৮.
বাবু
৯.
ঐশ্বর্যের শক্তি
১০.
উত্তরপুরুষ
১১.
ভি এম স্যার
১২.
লোকসভা বিধানসভা
১৩.
জন্ম প্রজন্ম
১৪.
জাঁতাকল
১৫.
স্বাধীন মানুষ
১৬.
মূকাভিনেতা
১৭.
গুপ্তধন
১৮.
হয়ত, হয়ত নয়
১৯.
নতজানু
২০.
ওই ব্লেজারটা
২১.
কুসুমা
২২.
যে খেলার যা নিয়ম
২৩.
উল্লুক
২৪.
উৎসব
২৫.
সেজদিদিমার স্মৃতি পুরাণ
২৬.
সাপ পোষ মানে না
২৭.
নিজের বিপদে বুদ্ধিমানরাও
২৮.
হরধনু কাহিনীর পুনর্লিখন
২৯.
মানুষ কতদিন বাঁচতে পারে
৩০.
চক্ষুলজ্জা
৩১.
বনধ-এর ১০ দিন
৩২.
কুসুমের পথ
৩৩.
জেটিঘাট
৩৪.
জন্মরোধ কেন
৩৫.
আক্রান্ত
৩৬.
লক্ষ্মণের নরকদর্শন
৩৭.
আখরিগঞ্জ
৩৮.
পরিবেশদূষণ ও তার প্রতিকার
৩৯.
বিমলাসুন্দরীর উপাখ্যান
৪০.
সোনালি দিন
৪১.
ভালবাসার বাড়ি

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%