অশোক দাশগুপ্ত
এ গল্পটা এমন কিছু সাংঘাতিক নয়৷ তবুও যে লিখছি, সে শুধু সিতিকণ্ঠের সঙ্গে আপনাদের পরিচয় করিয়ে দিতে৷ অবশ্য এও সত্যি নয় যে সিতিকণ্ঠকে আমরা আপাদমস্তক চিনি৷ আমার স্ত্রী বিনতা গাছ-পাগল৷ ক’বছর আগে সল্টলেকে নিজেদের বাড়িতে উঠে আসার আগে আমরা থাকতাম টালার কাছে ভাড়াবাড়ির একতলায়৷ আর দশটা ভাড়াবাড়ির মতোই ভাড়াবাড়ি ছিল সেটা৷ ভাড়াবাড়ির বেডরুমের মতোই বেডরুম৷ খাট পাতলে ওয়ার্ডরোব রাখার জায়গা জোটে না৷ ভাড়াবাড়ির রান্নাঘরের মতোই রান্নাঘর৷ যিনি রাঁধবেন তাঁকেও এক চিলতে খোপের মধ্যে আটকে সিদ্ধ হতে হবে আলু-পটলের সঙ্গে৷ তবুও যে বাড়িটাকে পছন্দ করেছিল বিনতা, তার কারণ বাগান করার দু’ফালি জায়গা৷ গেট দিয়ে ঢোকার রাস্তার দু’দিকে৷ গোড়ায় গোড়ায় টবের কাজ দিয়েই সাজিয়েছিল জায়গাটাকে৷ মাঝে মাঝে, বিশেষ করে রবিবারে সাহেবি কেতায় আমরা ব্রেকফাস্ট করতাম ওই বাগানে বসে৷ গোটা চারেক বেতের চেয়ার-টেয়ারও কেনা হয়েছিল সে-বাবদে৷ বন্ধুবান্ধব এলে রাত্রেও কখনও কখনও চায়ের সঙ্গে গপ্পো ওই বাগানে বসেই৷ পরিচিত মহলের মুখে বিনতার ওই বাগানের তখন পঞ্চমুখ প্রশংসা৷ আর ওই বাগানের সূত্রেই সিতিকণ্ঠের আগমন৷ বিনতার মাসতুতো বোন সোনালিদের বাড়ি গ্রিন পার্কে৷ সোনালিই সন্ধান দিয়েছিল সিতিকণ্ঠের৷ বলেছিল, ও হল বাগানের ধন্বন্তরি৷ কিন্তু বদ রোগ আছে একটা৷ না বলে-কয়ে হঠাৎ হঠাৎ ডুব মারা৷
প্রথম যেদিন এল, আমরা তো চমকে উঠেছিলাম৷ এ কাকে পাঠাল সোনালি? এ তো একটা আস্ত বনমানুষ৷ বছর খানেকের না-কামানো চুল-গোঁফ-দাড়িতে মুখটা ঢাকা৷ দুটো ভুরুতেও গোছাখানেক করে লম্বা চুল৷ ঘন লোম গায়ে-হাতে-পায়ে৷ আলকাতরার মতো গায়ের রঙ৷ তায় খড়ি ফোটা৷ হাতের চেটো বাঘের থাবা৷ নীতি, আমার মেয়ে, বললে
— এ তো হাঞ্চব্যাক অফ নতরদাম৷
ওর কথায় খেয়াল হল সত্যিই তো, হঠাৎ মচকে-যাওয়া ডালের মতো বুকের মাঝখান থেকে কুঁজো৷ শমু, আমার ছেলে, বললে
—এ নিশ্চয়ই রঘু ডাকাতের বংশধর৷
আমাদের এসব হাসি-ঠাট্টার দমকা হাওয়ায় বিনতার মাথার একটা চুলও কাঁপে না৷ উল্টে ধমকায়
—বাগানের মালি৷ সে কি তোমাদের মতো সাহেব-সুবো হবে নাকি?
মাসখানেক পরে একদিন খাওয়ার টেবিলে বিনতার মুখে ঝর্নার ফেনার মতো অনর্গল হাসি৷
—কি হল? হঠাৎ হাসছ যে!
—লোকটা না অদ্ভুত৷
—কেন? কি হয়েছে?
—মাঝখানে পরপর ক’দিন কামাই করেছিল৷ আজ খুব বকলাম৷ তোর ভরসায় এত বড় বাগান ফেঁদে বসেছি৷ সপ্তাহে তোর তিনদিন আসার কথা৷ কিন্তু তুই যদি এমন করে যখন-তখন ডুব মারিস, বাঁচবে এসব গাছ? ওর স্বভাবটা তো জানো? তুমি যত কথাই বল না কেন, জবাব দেবে না কখনও, আমি যখন রাগারাগি করলাম, কিচ্ছুটি বলল না৷ চলে যাওয়ার সময় হঠাৎ আমার কাছে আগাম কিছু টাকা চাইল৷ খুব নাকি দরকার আছে৷ আগে কোনওদিন চায়নি৷ তাহলে নিশ্চয় দরকার৷ কুড়িটা টাকা দিলাম৷ টাকাটা নেওয়ার সময় কি বলল জানো?
বিনতার গা-কাঁপানো হাসিতে আবার স্রোতের ফেনার তুড়িলাফ৷
—বললে —মা জননী, একটু আধটুক কামাই হলে কিছু মনে কোরনি যেন৷ স্বাধীন মানুষ তো! ওর তো কেমন জড়ানো কথা৷ তাই স্বাধীন কথাটা বুঝতে পারিনি৷ তাই জিজ্ঞেস করলুম, কি মানুষ বললি? ও বললে, স্বাধীন গ মা জননী৷
এই সিতিকণ্ঠকে নিয়েই গল্প৷
—একটু ধরো না গো!
পালকের মতো নরম ডাক বিনতার গলায়৷
দাড়ি কামাতে কামাতে ঘুরে তাকাই পিছনে৷ বিনতা ওয়ার্ডরোবের সামনে৷
—কী?
—এই সুটকেসটা নামাব৷
—এখন সুটকেস নামাবে? কী দরকার?
—আছে৷
শেষ টান দিয়ে রেজারটা বাটির জলে ডুবিয়ে উঠে আসি৷ লম্বা-চওড়া ভারী চামড়ার সুটকেস৷ বছর দশেক আগে প্রথমবার বিদেশে গিয়ে কেনা৷ বিনতার সঙ্গে হাত লাগিয়ে সুটকেসটা নামানোর সঙ্গে সঙ্গে মেজাজ তিরিক্ষি৷
—ওঃ হরিবল! কী অবস্থা করেছ সুটকেসটার? এ্যাঁ? ধুলোয় ধুসকুড়ি৷ মাঝে মাঝে ঝাড়পোছ কর না কেন বল তো? এভাবে থাকলে তো দুদিনে নষ্ট হয়ে যাবে শৌখিন জিনিসটা৷
অন্যদিন হলে তৎক্ষণাৎ ঝাঁঝিয়ে উঠত বিনতা৷
—সবই আমাকে করতে হবে বুঝি? বাড়িটা কি একা আমার?
আজ যেন কালা৷ আমার কথা কানে না তুলেই হাঁক দিয়ে চাকরকে ডাকে৷
—রতন, ফুলঝাড়ুটা নিয়ে এ ঘরে আয় তো! আমি বাথরুমে ঢুকি৷ স্নান সেরে খাবার টেবিলে বসে অবাক৷
—একি? মটর শাক কোথায় পেলে? আমি তো আনিনি বাজার থেকে৷ তাকিয়ে দেখি বিনতা নেই ধারে-কাছে৷ গলা চড়িয়ে ডাকি
—শুনেছ... ও৷
—কী বলছ?
বিনতা সাড়া দেয় আমাদের বেডরুম থেকে৷ —মটর শাক ভেজেছ৷ কিন্তু পেলে কোথায়? আমি তো আনিনি৷ আমি যখন বাজারে গেলাম, উঠে গেছে৷
—যাচ্ছি, বলব৷
একটু পরে বিনতা খাবারের টেবিলের কাছে, —শোনো, এই সোয়েটারটা তো তুমি আর পরবে না৷ কাঁধের কাছে পোকায় কেটেছে বলে পরছ না তো ক’বছর৷
—কী করবে? বাসন কিনবে বুঝি?
—না গো৷ বাসনওয়ালিরা এ সব নেয় না৷
—তাহলে?
—এটা আমি নিয়ে নিচ্ছি৷
—কী করবে?
—ওই তো এসেছে এতদিন পরে৷ এসেই তার হাজারটা বায়নাক্কা৷ মা জননী, একটা ছেঁড়াখোঁড়া শাড়ি দাও বৌটার জন্যে৷ শীতে মরতিছি মা জননী৷ একটা জামা দাও৷ ছেঁড়া চাদর থাকলে দাও৷
—কার কথা বলছ?
—কে আবার, সিতিকণ্ঠ৷ এই তো এত্যো মটর শাক গামছায় বেঁধে আজ সকালে হঠাৎ হাজির৷ তুমি তখন বাজারে গিয়েছিলে৷ বাবু মটর শাক খেতে ভালবাসে গো মা জননী, তাই নিয়ে এনু৷ ভেজে দিও৷
—চলে গেছে?
—চলে যাবে কি? গ্যারেজের কোণে চুপ করে বসে আছে৷ রাগ করি বটে, কিন্তু দেখলে মায়া হয়৷ খেতে যে পায় না সেটা দেখলেই বোঝা যায়৷ আগে তো দেখেছ৷ এবারে যেন আরও শুকিয়ে গেছে৷
—শুকোক আর যাই হোক, তুমি বেশি দরদ দেখিও না তো! ও খুব চালু মাল৷ মিটমিটে শয়তান৷
—কি করি বল তো? এমন করে বলে, এমন চোখে তাকায় না বলতে পারি না৷
—পারতে হবে৷ ‘কাউরিকথা’-র বুড়োটাকে দেখেছিলে তো? ও হচ্ছে তারই সেকেন্ড এডিশন৷ খাব কিন্তু খাটব না৷ তুমি তো গলে যেতে চাইছ সিমপ্যাথিতে৷ কিন্তু ওর কি সত্যিই কোনও রেসপেক্ট আছে তোমার বা আমার ওপর? আমার ওপর না হয় না থাকতে পারে৷ আমি অত গাছপালা ভালবাসি না৷ কিন্তু তুমি যে বাস, সে তো ও জানে৷ আজ এটা, কাল সেটা করে কম কিছু দাওনি ওকে? তবুও কথা রেখেছে কোনওদিন?
—একবার রেখেছিল৷ আমরা এখানে উঠে আসার পর৷ সেবারে শীতের সময় চন্দ্রমল্লিকা, ডালিয়া করে দিয়েছিল৷
সিজন ফ্লাওয়ারের কথা বলছি না৷ পিছন দিকের জমিটায় মনের মতো করে কিচেন গার্ডেন বানানোর শখ তো তোমার কবে থেকে৷ আমরা কবে যেন গৃহপ্রবেশ করলাম এ বাড়িতে?
—এইট্টি এইটের এগারোই ডিসেম্বর৷
—তার মানে ধর তিন বছর হতে চলল৷ কিচেন গার্ডেন হয়েছে? ওকে আমার চেনা হয়ে গেছে৷ নিমকহারাম৷ গত বছর, গত বছরের কোন সময়টায় বল তো, হ্যাঁ, গত বছরের জুলাই মাসে পঁচিশটা টাকা নিয়ে গেল৷ গোবর সার আনবে বলে৷ বললে, সামনের রবিবারে এসে মাটি কুপিয়ে কাজ শুরু করে দেবে৷ ব্যস, ওই যে গেল আর টিকির নাগাল নেই৷ একমাস পরে এসে কান্নাকাটি৷ বাবু, ঝড়ে-জলে ঘরদোর সব ভেঙে গেছে৷ হোগলা টাঙিয়ে রাস্তায় পড়ে আছি বৌ-বাচ্চা নিয়ে৷ কাঁদো-কাঁদো গলায় কথা বলতে বলতে হঠাৎ পা দুটো জড়িয়ে গড়াগড়ি৷ কান্না দেখে আর রাগ করতে পারলাম না৷ বললাম, সাহায্য করতে পারি, তবে একটা শর্তে৷ তোকে টাকা দিয়ে বারবার ঠকেছি৷ আর নয়৷ আজ বাদ দিয়ে কাল থেকে বাগানের কাজে হাত লাগাতে হবে৷ রাজি? পা জড়িয়ে বললে, কাল সক্কালেই চলে আসব৷ আর ফাঁকি দুবনি৷ আপিস যাওয়ার তাড়া৷ তাই আর কথা না বাড়িয়ে কুড়িটা টাকা দিলাম৷ ব্যস, সেই যে গেল তো গেল৷ ওকে আর দয়ামায়া দেখাবে না তো!
বিনতা এমনভাবে তাকায় যেন সত্যি সত্যিই আমার নির্দেশ মেনে তার দয়ামায়াকে লুকিয়ে রেখে আসবে এখুনি ব্যাঙ্কের লকারে৷
আমি আপিসে চলে যাই৷
রাত্রে খাবার টেবিলে আমরা সবাই খেতে খেতেই উঠল মটর শাকের প্রসঙ্গ৷ নীতি, শমুরা সকালে খায়নি৷ তাই রাত্রে৷ তখনই মনে পড়ে যায় সিতিকণ্ঠের কথা৷
—কী হল শেষ পর্যন্ত?
—কিসের?
—সিতিকণ্ঠের৷ সোয়েটারটা বাগিয়ে নিলে তো?
—সোয়েটার? দিইনি তো? তুমি তো বারণ করলে৷ তবে একটা শার্ট দিয়েছি তোমার৷ অনেক দিনের পুরনো৷ না দিয়ে পারা যায় না৷ আমরা সোয়েটার পরে ঘুরছি৷ আর চোখের সামনে ও বেচারি এই শীতে একটা ছেঁড়া গেঞ্জি পরে রয়েছে৷ কিছু একটা না দিয়ে পারা যায় নাকি? তবে বকে-ঝকে দিয়েছি তোমার নাম করে৷ বললাম, তোর ব্যবহারে বাবু রেগে লাল হয়ে আছে৷ তুই যদি আমাদের কোনও উপকারে না লাগিস তো তোকেই বা আমরা মিছেমিছি সাহায্য করব কেন বল তো? ওকে এসব বলা-না-বলা দুই-সমান৷ কি যে বোঝে কিচ্ছু বোঝার উপায় নেই৷ মাথা নিচু করে শুনে যায় শুধু৷
—গেল কখন?
—তুমি চলে যাওয়ার পরে খানিকটা জলখাবার খেতে দিলাম৷ খেয়ে দেয়ে চলে গেল৷ বললে, কাল সকালে আসবে৷
—কাল? মহাকাল কেটে যাবে, দেখো, ও আসবে না৷
কিন্তু আমাদের সবাইকে চমকে দিয়ে সত্যি সত্যিই পরের দিন সকালে হাজির৷ আমি আপিস চলে গিয়েছিলাম৷ রাত্রে বাড়িতে ফিরে শুনলাম, বাগানের মাটি কুপিয়েছে৷ বীজ কেনার টাকা নিয়ে গেছে বিনতার থেকে৷ আবার কাল সকালে আসবে৷
এবং এলও৷
রাত্রে খাবার টেবিলে বিনতা বলল
—আজ ও কি বলছিল জানো? মা জননী, বাবু বড় অফিসার৷ সল্টলেকে এত বড় বাড়ি৷ অথচ বাবু গাড়ি কিনলোনি একটা৷ গ্যারেজটা ফাঁকা পড়ে আছে৷ তো গ্যারেজটা যখন ফাঁকা পড়ে আছে, তাহলে আমরা থাকি না৷ আমাদের তো মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই৷ যা ছিল গেল বর্ষায় সব ধসে গেছে৷ হোগলা খাটিয়ে খালের ধারে পড়ে আছি৷
আমি বিনতাকে সাবধান করে দিই৷
—বেশি প্রশ্রয় দেবে না৷ আমি লক্ষ্য করেছি একটু আশকারা পেলেই ওর কামাই করার নেশাটা বেড়ে যায়৷
পরের দিন সকালে রতনকে নিয়ে বাজার করে ফিরছি৷ গ্যারেজের দিকে চোখ পড়তেই হতভম্ব৷ দোতলায় উঠে বিনতার কাছে জানতে চাই, ওখানে ওরা কারা?
—কি বলব বল তো? সিতিকণ্ঠ তো তার বৌ আর একটা বাচ্চা মেয়েকে নিয়ে এসে হাজির৷
—এটা কি মগের মুল্লুক নাকি? যে-কেউ এসে গ্যারেজ দখল করে বসবে?
—তুমি তো ওকে চেনো? ও কি আমাদের কথা শোনে, না আমাদের কথায় চলে?
—আমি ওসব জানি না৷ ওদের সরে পড়তে বল৷
কিন্তু সরানো গেল না৷ আমি গিয়ে ধমকালাম৷ কিন্তু ওর কোনও জবাব নেই৷ শুধু মাঝে মাঝে ওর চুল-দাড়ি-গোঁফের জঙ্গলে ঢাকা মুখের ভিতর থেকে পিচুটি মাখানো চোখ দুটো এমন করুণ হয়ে তাকায় যে, কড়া কথা আটকে যায় জিভে৷ শেষ পর্যন্ত ওরা থেকেই গেল৷ তাতে বিনতার লাভও হল খানিকটা৷ আমাদের ঠিকে ঝি কামাই করত যখন-তখন৷ তাকে ছাড়িয়ে দিয়ে সিতিকণ্ঠর বৌকেই দেওয়া হল সেই কাজটা৷ আর তার বাচ্চা মেয়েটাও ফাইফরমাশ খাটতে লাগল ব্যস৷ সিতিকণ্ঠের আমুল বদল দেখে আমরা অবাক৷ যেন বিনতার নয়, ওরই বাগান, এইভাবে লেগে রইল দিনরাত৷ বিনতার কিচেন গার্ডেনে টম্যাটোয় ফুল এসেছে৷ লম্বা হয়ে উঠেছে পালং৷ বাড়ির বাগানের ধনেপাতা খেয়ে সে কী উল্লাস আমাদের৷ টবে টবে ডিনার প্লেটের মাঝে চন্দ্রমল্লিকা, ডালিয়া৷ মাসখানেক সিতিকণ্ঠ যেন ধরা-বাঁধা নিয়মের মানুষ৷ তারপরই হঠাৎ একদিন ভোরবেলায় উধাও৷ আগের দিন বিনতার কাছ থেকে টাকা চেয়ে নিয়েছিল৷ ওরই মাস-মাইনে৷ আমরা অবাক হয়ে যাই৷ বৌ-মেয়ে এখানে৷ তাহলে গেল কোথায়? বিনতা ওর বৌকে প্রশ্ন করে, বৌ কোনও জবাব দেয় না৷ অথচ তার চোখ-মুখ চাপা কান্না লুকোনোর মতো চেষ্টায় মেঘলা৷ একদিন, দুদিন, তিনদিন, চারদিন করে পাঁচদিন৷ পাঁচদিনের সন্ধেয়, লোডশেডিং-এর অন্ধকারে সিতিকণ্ঠের বৌ ভেঙে পড়ল কান্নায়৷
—উ স্বাধীন মানুষটি মোর জেবনটাকে জ্বালি-পুড়ি খেল গ মা, আজেবন জ্বালি-পুড়ি খেল৷ অর এক মেয়েমানুষ আছে৷ হাতে কাঁচা টাকা এলেই সিখেনে ছুটো চাই৷ আমি আপনাকে বলতে গেছনু মাইনের কাঁচা টাকাটা অর হাতে দিবেননি৷ কিন্তুক সাহস পাইনি মা৷ টাকা ক’টা না ফুরনো পর্যন্ত উ মানুষটা ফিরবেনি, দেখে লিও আপনি৷
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন