কাঁটাতারের বেড়া

অশোক দাশগুপ্ত

দ্যাখি চাকতিখান৷

ট্যাঁক থেকে চাকতি বের করে দেখাল অনাথ৷

দ্যাখি, আল্লার বান্দার চাকতিখান!

রহমত পকেট থেকে চাকতিখান বের করে দেখাল৷

ঠিক আছে৷ নৌকায় উইঠা পড়৷ মা-জননীরা চাকতি দ্যাখান৷ যার যার চাকতি হাতে নেন— হ্যা ঠিক আছে, উইঠা যান৷ নৌকা ছাড়নের সময় হইছে৷ ভাটিতে নৌকা যাইব৷ চরের মুখে লম্প জ্বললে নাইমা যাইবেন৷

যে যার মতো নৌকায় উঠে গেল৷ অন্ধকার রাত৷ জলে কচুরিপানা, এবং ঘাট বলে কিছু নেই৷ বন-জঙ্গল আর হোগলার জঙ্গল— কুপির আলোখান জ্বলছিল, ফুঁ দিয়ে নিভিয়ে দিল কোরবান শেখ৷ চাকতিগুলি গুনে দেখল৷ তিন কুড়ি চারখান চাকতি৷ অন্ধকারে মাথা গোনা যায়৷ সে দাঁড়িয়ে মাথা গুনে তিনখান চাকতির হিসাব পেল না৷ গেল কোথায়!

ও মা-জননীরা, কোলে-কাঁখে কেউ থাকে তো তুইলা দ্যাখান৷ যাইতাছেন হে-পাড়ে, ফিরা আসেন না আসেন, মাথা গুনতি মিল দিয়া যান৷ মিঞাসাবের হিসাবে না আবার গন্ডগোল হয়৷

অনাথ বলল, এই ছেমরি, কাঁথার নিচে লুকাইয়া রাখছস ক্যান৷ দ্যাখা৷ কোরবান সাবের হিসাবে গন্ডগোল থাকলে মুশকিলে পইড়া যাবি বোঝস না!

পুঁটলা-পুঁটলির মতো বস্তাবন্দী হয়ে আছে সবাই৷ কাঁখে কোচরের আণ্ডা বাচ্চার হিসাব মিলে গেলে নৌকা ছেড়ে দিল কোরবান শেখ৷ নদীর কিনারে কিনারে, ঝোপ-জঙ্গলের ফাঁকফোকরে, জল, কচুর জঙ্গল পার হয়ে যাওয়া৷ আলো নেই৷ ট্যাঁ ফুঁ নাই৷

তখনই ট্যাঁ৷

আরে কান্দে ক্যান৷ বুকে মুখ চাইপা ধরেন জননী৷ স্তনে দুধ নাই! তা থাকব ক্যামনে৷ তবু দ্যান৷ চুষুক৷ কার কানে কি কথা যাইব, শিয়াল খটাসের উপদ্রবও কম নাই— আল্লা বড়ই বেরসিক, শুনতে পাই কাঁটাতারের বেড়া তুইলা দিবে— তখন যে কী হইব তার৷ দুই লগি, দুই মাঝি, আর এই শেখের বেটা কোরবান নিজে— ইমান ভরসা৷ তা কাঁটাতারের বেড়া দিয়া কি খুধার মুখ চুপাইতে পারে৷ বাবুগো মাথায় কি যে থাকে!

অনাথ কিছুটা ভরসা পাচ্ছে৷ রহমত, অনাথ গলুইয়ের শেষ দিকটায়৷ নৌকা মাঝনদী পার হয়ে যাচ্ছে৷ কিছুই দেখা যাচ্ছে না৷ তবু জলে ছলাৎ ছলাৎ শব্দ৷ বৈঠা পড়ছে ছপ ছপ৷ হে-পাড়ে গিয়া ভিড়তে পারলে জান-মান সব বাঁচে৷ তার নেশা পেয়ে গেছে৷ জ্যাব থেকে বিড়ি বের করেও আবার ঢুকিয়ে রাখল৷ রহমত খচ-খচ শব্দে টের পায় অনাথের বিড়ির নেশা পাইছে৷ তারও৷ তবে নিষেধ আছে৷ নদীর মাঝে আগুন জ্বাইলা বিপদের বাঁশিতে ফুঁ দিতে যাইও না৷ আলো বড় বিদ্যুৎগতি ধরে৷ শিয়াল খটাস দু-পাড়েই আছে৷ খপ্পরে পইড়া গ্যালে হাজতবাস৷ দুর্ভোগ চরমে৷

রহমত বলল, আলোয়ানখানা বেড় দ্যাও অনাথ ভাই৷ আমি ঠিক হইয়া বসি৷ মাথাখান গুঁইজা দ্যাও৷ বিড়ি আঙ্গাইয়া দু হাতের তালুতে বেড় দ্যাও৷ জোনাকি জ্বলতে পারে, পাখ পাখালি আলেয়া কত কিছু আছে জিন্দগিতে— দ্যাখ চেষ্টা কইরা— তোমার আমার নেশাখান তবে জমে৷ জব্বর হাওয়া দিতাছে দেখতাছি৷

দেশলাই কাঠি জ্বলতেই যেন কোরবান শেখের মাথায় বাড়ি৷

আরে কর কি! কর কি!

সঙ্গে সঙ্গে অনাথ একটানে বিড়ি ধরিয়ে তালুর ফাঁকে আগুন গুঁজে পাচার করে দিল রহমতের কাছে৷

আরে মরণের অষুধ কানে বাঁধতেছ! নিজে মরবা, সবাইরে মারবা৷ কাণ্ডজ্ঞানের এত অভাব৷ কোরবান শেখের নাওয়ের দণ্ডি৷ দাগি হইয়া গ্যালে গুঁতাখান কেডা সামলাইব কও৷

অনাথ বলল, সাব আগুন নাই৷

রহমত বলল, আছে, তবে তালুর ফাঁকে বন্দী হইয়া আছে৷ অনুমতি করেন ত টান দিই৷

দ্যাও৷ মাথাখান গুঁইজা রাইখ৷ দূর থাইকা আগুন বড় রহস্য সৃষ্টি করে৷ নদীতে আগুন জ্বলে ক্যান— এ তো আর বাবুগো লগে বন্দোবস্তির কারবার নয়৷ এইটা হইল গা মিঞাসাবের নিজস্ব কারবার৷ যত পার হে-পাড়ে ঠেইলা দ্যাও৷ জমি হালকা হউক৷ যত পার হে-পাড় থেকে তৈজসপত্র নিয়া আস, জমির মানুষ খাইয়া বাঁচুক৷ বিড়ির সুখটানে মজা আছে৷ বোঝলা লোভ৷ লোভে পাপ পাপে মৃত্যু৷ যাউক বিড়ি ধরাইছ যখন তালুর ফাঁকে হজম করে ফ্যাল!

কোরবান শেখের কথায় অনাথ ভরসা পেয়ে বলল, বড়ই আপদ৷ কাজ নাই কাম নাই— কী করি কও৷ বউ চোখ রাঙায়৷ দুই বেলা অন্ন দিতে পার না৷ ঘরে খোরাকি থাকে না৷ পোলাপানগুলাইন জলে-জঙ্গলে ঘুইরা শালুক শাপলা তোলে, তাও মানুষের মুখে অনন্ত হও— জল কই, জঙ্গল কই কও৷ মানুষের ঝুপড়ি উঠতাছে, মুখ বাড়তাছে৷ মুখ বাড়লে বসুন্ধরায় গোসা হয়, জলে-জঙ্গলে ঘুইরা পোলাপানগুলাইনও টের পাইয়া গ্যাছে৷ নাই৷ শাপলা শালুকও নাই৷ শাপলা শালুক, শাক পাতা মিষ্টি আলু পেটে কাঁহাতক সয় কন মিঞা?

রহমত বলল, হে-পাড়ে গেলে গতরে খাটলে পয়সা আছে৷ আর যদি বাবুগো মেহেরবানি পাইয়া যাই কওয়ন যায় না, একমহলা বাড়ি বানাইয়া ফেলতে পারি৷ আরে ইমরান ভাই তো দ্যাশে গিয়া কইল, মরবা এ পোড়া দেশে, রুজি-রোজগার নাই৷ ধানের সময় কাম, পাটের আড়তে কাম— তাও সিজন টাইমে৷ হে-পাঁড়েসিজন টাইম নাই৷ গাঁয়ে-গঞ্জেও সকালে ভিড় কর, রাজমিস্ত্রি, কাঠমিস্ত্রি, ছাতা সারাই, লেবারের কাম মেলা৷ রোজ ত্রিশ টাকা৷ দু-বছর থাকো খাও, তারপর বিবি বাচ্চাগুলান পার কইরা নিয়া যাও৷ কোনও অসুবিধা নাই৷ মানুষের জঙ্গলে এ-পাড় হে-পাড় বইলা কথা নাই৷ কাঁটাতারের বেড়া বইলা কথা নাই৷ ইমরান ভাই পাঞ্চায়েতের মেম্বর৷ মাথা পরিষ্কার খুব৷ ঠিক সময় নদী পাড় হইয়া হে-পাড়ে রেশন কার্ড কইরা নিছে৷ ভোট দেয়৷ ইনকেলাব জিন্দাবাদ করে৷ খুব যশ৷ তারে গিয়া ধরতে পারলে বাকি কাম ফতে৷ বিবিরে কইয়া আইছি, ক্ষুধা পাইলে মাটিতে পেট দিয়া পইড়া থাকবি৷ মহাজনের মারফত টাকা পাঠামু৷ সময় হলে তগ নিয়া যামু৷ হে-পাড়ে মেলা জমিন৷ মানুষের জঙ্গল বাড়তাছে ঠিক, তবে জমিনও কম না৷

কোরবান হেঁকে উঠল, মিঞারা কথা না৷ বেশি কথা হইতাছে৷ চরের মুখে লম্প জ্বলতাছে দ্যাখেন৷

সবাই দেখল, দূরে সত্যি একটা লম্প জ্বলছে৷ লম্পটা হাওয়ায় কেউ দোলাচ্ছে৷ জনমনিষ্যি কেন, কাকপক্ষীরও ওড়াউড়ি কম৷ নদীর জলে চান্দের মুখখান দ্যাখা যায়৷ রাত গভীর হইছে৷ আমাবস্যার লজ্জা ভাঙছে৷ গাজীরগিদের বায়ানদারের ভাঙা চাঁদ নদীর জলে নড়ানড়ি করতাছে৷ কোরবান শেখ ফের গলা হাঁকড়াল, চুপ কইরা বস৷ কাঁইমাই করবা না৷

কোরবান শেখের দুই মাঝি আর সে নিজে মিলে নাওখানারে চরায় তুলে দিলে লম্পখানা নিভে গেল৷ তা শেষ রাতের জ্যোৎস্নায় মানুষগুলি ছায়ার মতো নড়াচড়া করছে৷ লম্পদার হাঁকল, শেখ সাহেব, ক’খানা চাকতি?

তিন কুড়ি তিনখানা৷

ভগবানের পোলা মাইয়া কয়জনা৷

কোরবান শেখ হাঁকড়াল, ভগবানের পোলা মাইয়ারা হাত তোলেন৷

হাত তুললে ভগবানের পোলা মাইয়া গুনতে থাকল কোরবান শেখ৷ তারপর মাথার ফেটি-বাঁধা গামছাখানা খুলে মুখ মুছল৷ লম্পদারকে হিসাব দিতে হবে৷ এ-পাড়ে খাটি, হে-পাড়ে খাটি মিঞাসাবের৷ ইমানদার মানুষ৷ ভরসা দিলে বেইমানির নামগন্ধ থাকবে না৷ কম-বেশি হয়ে গেলে তেড়ে আসবে, হুমুন্দির পুত, মাথা ঠিক রাখ না৷ কী নেশায় বুঁদ হইয়া গ্যাছিলা৷ টাকার মিল নাই, জনের মিল নাই৷ কেচ্ছা হয়ে যাবে মিঞাসাবের৷

গোনা শেষ হলে বলল, ঠিকই আছে লম্পদার৷ এই ধরেন সাত গণ্ডা চাকতি, আর বাকি থাকল তিনখানা— শেষে তাও হাতে দিয়ে বলল, ইবারে মিলাইয়া দ্যাখেন সাব৷ নাও ছাইড়া দিলে মুশকিলে পইড়া যাইবেন৷

লম্পদার পেতলের চাকতির সঙ্গে ভগবানের পোলা মাইয়া গুনে হিসাব মেলাবার সময় বলল, আল্লার বান্দা আছে ক’জনা?

হাত তোল আল্লার বান্দারা৷ চরায় লাঠি উঁচিয়ে হাত থেকে কোরবান শেখ চাকতি নিতে থাকল আর গুনতে থাকল, দু গণ্ডা তিন গণ্ডা শেষে বলল, আট গণ্ডা৷ এই ধরেন আট গণ্ডা আর বাকি একখানা চাকতি৷ মিলাইয়া নেন৷ কয়ডা ভগবানের পোলা মাইয়া আর কয়জনা আছে আল্লার বান্দা— বিবি-বউরা এক সাইডে খাঁড় ত, মরদের ঝাঁক আর এক সাইডে৷ লম্পদার রাস্তা দেখাইয়া লইয়া যাইব৷ বর্ডার পার কইরা দিব৷ আরে কাইন্দ না৷ দ্যাশের মায়া কার না থাকে৷ মায়ায় কি পেট ভরে! যেখানে থাকবা খাটবা সেটাই তোমার দ্যাশ৷ যাও ইবারে হাঁটা দ্যাও৷

ওরা হাঁটা দিল৷

রহমত বলল, তোমার-অ ফেমিলি নাই, আমার-অ নাই৷ টাকা জোগাড় হইল না৷ দ্যাখি ইমরান সাবের মেহেরবানি কি কয়৷ লম্পদার হাঁকল, বর্ডার পার হইয়া আইছ৷ এক ক্রোশ ভিতরে ঢুইকা গ্যাছ৷ ইবারে সামনে বাজার পাইবা৷ রাইত না পোহাইতে ঝাঁকের কই ঝাঁকে মিশে যাও৷ আমার আর দায়-দায়িত্ব নাই৷ আল্লার কুদরতে মিঞাসাবের কাম হাসিল৷

ওরা দু’জনই হাঁটছিল, ফেমিলির লোকজন নিতে মেমানরা হাজির৷ তাদের এ-দেশে কারও কোনও মেহমান নাই৷ আছে ইমরান সাবের ডেরার খবর৷ তারকপুর৷ করিমপুর থেকে বাস৷ সবই লেখা আছে৷

ইমরান সাব মসজিদে আজান দিয়ে বের হয়ে দেখলেন, দেশের পোলা রহমত, অনাথ৷

তাইলে আইসা গ্যালা৷ বৈঠকখানায় গিয়ে বস৷ হাত-মুখ ধোও৷ দানাপানির ব্যবস্থা আছে৷ কিরে অনাথ, পানিতে পইড়া গ্যাছস মনে লয়৷

কি যে কন সাব৷ তফাত নাই, কথাবার্তা, জমি-জমা কাকপক্ষী সবই এক৷ দেশটা আলাদা ভাবতে ক্যামন লাগে!

যাই হোক, তোমরা আমার মেমান৷ ক’দিন আছ, তারপর চইলা যাইবা৷ কোনখানে যাইবা কইয়া দিমু, এক পেটের ভাবনা নাই৷ মনে লয়তো বর্ডারে থাইকা যাইতে পার৷ কালিমদ্দি সাব টেন্ডার দিছে৷ জনমজুর লাগবে৷ যে পথ দিয়া আইলা কাঁটাতারের বেড়া দিয়া দিব সরকার৷ মান-ইজ্জত আছে না সরকারের! কাগে বগে ঠোকরাইলে সহ্য করব ক্যান!

কাঁটাতারের বেড়া উঠছে৷ লেবারের কাজ পেয়ে গেছে দু’জনেই৷ কম না৷ দিন মজুরি পঁয়ত্রিশ টাকা৷

বেড়া ওঠে৷

বেড়া লম্বা হয়৷

অনাথ আর রহমত কাঁটাতারের বাণ্ডিল কাঁধে বয়ে নিয়ে যায়৷ বলে, বোঝলা অনাথ ভাই তোমার দু গণ্ডা ছাওয়াল, আমার দেড় গণ্ডা৷ সঙ্গে নিয়া আইলে কত আর টান পড়ত সরকারের৷ পারলাম না৷ দালালির টাকা জোগাড় হইল না৷

সেই কথা কওত, কই তবে৷ দু গন্ডা ছাওয়াল, তাদের দু গন্ডা কইরা হইতে থাকলে জমিন যে আর বেড় পাইব না৷ বৌরে কইলাম নাড়ি কাইটা দ্যা৷ রাজি না৷ কমজোরি হইয়া যাইব৷ আমারে-অ দিল না, যদি আঘাটায় কুঘাটায় ডুইবা মরি৷ বোঝ মজা৷ টাকায় কুলায় নাই, কারে রাইখা কারে আনি কও!

রহমত বলল, বিবি কয় অন্য কথা৷ উঠরা জমিন আবাদ হবে না৷ উরাট থাকলে আল্লার গজব পড়ব মাথায়৷

অনাথ বলল, মেয়েছেলের স্বভাব খারাপ বোঝলা ভাই, মশারির পাশ দিয়া হাইটা গেলে গর্ভবতী হইয়া যায়৷ কম চেষ্টা তো করি নাই৷ এখন মনডা পোড়ে৷ কাঁটাতারের বেড়া উঠলে কি যে হইব৷ আইব কী কইরা৷

কাঁটাতারের বাণ্ডিলে বাঁশ গলিয়ে বয়ে নিয়ে যাওয়া— আর যত বাড়ে তত হে-পাড়ের দিকে চোখ যায়৷ মানুষের জঙ্গল৷ কাঁটাতারের বেড়ার পাশে হাজার হাজার মানুষের জঙ্গল৷

রহমত দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলে, কোরবান মিঞা একখানা দামি কথা কইছে৷ মনে আছে?

অনাথ বলল, নাই৷

পেটের ক্ষুধা কাঁটাতারের বেড়া কি ছুপাতে পারবে৷ তার-ফার উইড়া যাইব৷ আগুন জ্বইলা উঠব৷

মানুষের জঙ্গল না কমাতে পারলে, অনাথ বলল, মানুষের মাথা মানুষে চিবাইব৷ কথাখান বয়সকালে বোঝলাম না রহমত ভাই — আমাগো মতো পোড়া কপাইল্যারা কেবল জঙ্গল গজাইয়া গ্যালাম৷ বউ-এর জন্য মনডা পোড়ে৷

রহমত বলল, বিবির জন্য মনডা পোড়ে৷

ছাওয়াল পাওয়াল কী খায়, কী করে জানি না৷

দেশ ছাইড়া আইলাম, কাঁটাতারের বেড়া তোলালাম৷ কোন দেশের কার কাঁটাতারের বেড়া সেটাই বোঝলাম না৷

অনাথ কাঁটাতারের পাশে বসে কেমন উদাস হয়ে গেল৷ বলল, রহমত ভাই, ক্ষুধার জাত নাই, ক্ষুধার কাঁটাতারের বেড়াও নাই৷ বোঝলা৷ আণ্ডা বাচ্চা বাড়তাছে৷ তারে কি আটকাইতে পারে৷ বেড়ার ফাঁকে ঠিক ঢুইকা পড়ব৷ মন খারাপ কইরা থাইক না, বিবি বাচ্চাগুলির তবে অমঙ্গল হইব৷

অধ্যায় ১ / ৪১
সকল অধ্যায়
১.
কাঁটাতারের বেড়া
২.
নির্বাসিতা
৩.
নমস্কার কলকাতা
৪.
হাসিনার পুরুষ
৫.
পৃথিবী চিরন্তনী
৬.
বাস স্টপে দাঁড়িয়ে
৭.
ময়না তদন্ত
৮.
বাবু
৯.
ঐশ্বর্যের শক্তি
১০.
উত্তরপুরুষ
১১.
ভি এম স্যার
১২.
লোকসভা বিধানসভা
১৩.
জন্ম প্রজন্ম
১৪.
জাঁতাকল
১৫.
স্বাধীন মানুষ
১৬.
মূকাভিনেতা
১৭.
গুপ্তধন
১৮.
হয়ত, হয়ত নয়
১৯.
নতজানু
২০.
ওই ব্লেজারটা
২১.
কুসুমা
২২.
যে খেলার যা নিয়ম
২৩.
উল্লুক
২৪.
উৎসব
২৫.
সেজদিদিমার স্মৃতি পুরাণ
২৬.
সাপ পোষ মানে না
২৭.
নিজের বিপদে বুদ্ধিমানরাও
২৮.
হরধনু কাহিনীর পুনর্লিখন
২৯.
মানুষ কতদিন বাঁচতে পারে
৩০.
চক্ষুলজ্জা
৩১.
বনধ-এর ১০ দিন
৩২.
কুসুমের পথ
৩৩.
জেটিঘাট
৩৪.
জন্মরোধ কেন
৩৫.
আক্রান্ত
৩৬.
লক্ষ্মণের নরকদর্শন
৩৭.
আখরিগঞ্জ
৩৮.
পরিবেশদূষণ ও তার প্রতিকার
৩৯.
বিমলাসুন্দরীর উপাখ্যান
৪০.
সোনালি দিন
৪১.
ভালবাসার বাড়ি

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%