উল্লুক

অশোক দাশগুপ্ত

স্বামী নয়, একটা আস্ত উল্লুক৷ সংসারের প্রতি উল্লুকের কোনও দায় নেই, দায়িত্ব নেই৷ উল্লুক শুধু অফিস করেই খালাস৷ আর আমি অফিসও করব, সংসারও সামলাব৷ উল্লুকটা রোজ সকাল ন’টায় বাড়ি থেকে বেরয়, রাত দশটায় বাড়ি ফেরে৷ অফিস ছুটির পর কোথায় যায় তা ঈশ্বরই জানেন৷ জিজ্ঞেস করলে উত্তর দেয় না, ধমক দেয়৷

একদিন উল্লুক বাড়ি ফিরে বলল, আমি মাদ্রাজ যাচ্ছি৷

বললাম, মাদ্রাজ! কেন?

— অফিসের কাজে৷

— কবে?

— কাল?

— ফিরবে কবে?

— ছ-সাত দিন পরে৷

এ নিয়ে ঝগড়াঝাঁটি করে লাভ নেই৷ হুটহাট করে অফিসের দোহাই দিয়ে উল্লুক মাঝে মাঝে বাইরে চলে যায়৷ এটা ওর দীর্ঘদিনের স্বভাব৷ আমি তাই চুপ করে রইলাম৷

পরদিন উল্লুক চলে গেল৷ তারপর দেখতে দেখতে দশ-বারো দিন হয়ে গেল৷ উল্লুক ফিরল না৷ আমি তখন ওর অফিসে ফোন করলাম৷ অফিস থেকে জানলাম, ও আর এই অফিসে চাকরি করে না৷ অনেকদিন আগেই এখানকার চাকরি ছেড়ে দিয়েছে৷ আমার মাথা ঝিমঝিম করতে লাগল৷ নিজেকে ভীষণ অপমানিত বোধ করলাম৷

আরও একমাস পার হয়ে গেল৷ উল্লুক তবু ফিরল না৷ আর ফিরবে বলেও মনে হল না৷ মনে মনে ভাবলাম, যাক, আপদটা গেছে, বেঁচেছি৷ আমার আর উল্লুকের দরকার নেই৷

কিন্তু আমার স্বামীর মতো চারপাশে যে আরও নানা উল্লুক আছে তা জানা ছিল না৷ দোতলার ফ্ল্যাটে বাড়িওয়ালা থাকে৷ তার এক ছেলে৷ নাম রমেন৷ বয়সে আমার চেয়ে দু-চার বছরের বড় হবে৷ একদিন সে আমার ঘরে ঢুকে বলল, দাদা কোথায় গেছেন?

প্রকৃত সত্য গোপন করে বললাম, আমেরিকা৷

— কবে ফিরবেন?

আবার মিথ্যে করে বললাম, শিগগির৷

— আপনার কোনও অসুবিধে হচ্ছে না তো?

— না, কোনও অসুবিধে হচ্ছে না৷

— হলে বলবেন৷

— আচ্ছা৷

রমেন চলে গেল৷ কিন্তু পরের দিন থেকে নানা ছুতোয় আমার কাছে আসতে লাগল৷ আমি কিছুতেই তার আসা বন্ধ করতে পারলাম না৷

এই পাড়াতেই বিজয় থাকে৷ বিজয় ব্যাঙ্কে চাকরি করে৷ এক সময় আমায় খুব ভালবাসত৷ এখন বিয়ে-থা করে সংসারী হয়েছে৷ একদিন বিজয় আমাকে রাস্তায় জিজ্ঞেস করল, তোমার কর্তাকে আজকাল দেখি না৷ কোথাও গেছে নাকি?

— হ্যাঁ৷

— কোথায়?

উত্তরে মিথ্যে করে বললাম, আমেরিকা৷

— অফিসের কাজে?

আবার মিথ্যে কথা বলতে হল, হ্যাঁ৷

— কবে ফিরবে?

শিগগির— বলে আর কথা না বাড়িয়ে ঘরে ফিরে এলাম৷ কিন্তু বিজয় আমার উল্লুকের অনুপস্থিতির সুযোগ ছাড়ল না৷ দুদিন পরে সন্ধেবেলা আমার ঘরে এসে হাজির হল৷ আমি তাকে দেখে চমকে গেলাম৷ জানতে চাইলাম, কী ব্যাপার?

বিজয় বলল, কতদিন তোমার হাতের চা খাইনি৷ আজ এক কাপ চা খাওয়াবে?

এই সময় বিজয়ের মুখের ওপর বলা উচিত ছিল, না, খাওয়াব না৷ তুমি এখন এখান থেকে যাও৷ কিন্তু কথাটা বলতে পারলাম না৷ অনিচ্ছা সত্ত্বেও বিজয়কে এক কাপ চা করে দিলাম৷ বিজয় চায়ে চুমুক দিয়ে বলল, তোফা করেছ৷ তোমার চা তৈরির হাত ভারি সুন্দর৷

আমি চুপ করে রইলাম৷

চা খাওয়া শেষ হলে বিজয় বলল, তোমায় একটা কথা বলব?

— কী কথা?

— বিশ্বাস করবে?

— করব৷

— আমি তোমাকে ভীষণ ভালবাসি৷

সঙ্গে সঙ্গে আমার মনে পড়ল, গতকাল বাড়িওয়ালার ছেলে রমেন আমাকে হুবহু এই একই কথা বলেছে৷ মনে মনে ভাবলাম, এই উল্লুকগুলো এত ভালবাসা কোত্থেকে পায়!

সংসারে মেয়েদের একা থাকা নিরাপদ নয়৷ এই সময় বাবা-মা বেঁচে থাকলে সুবিধে হত৷ আমার কোনও দুশ্চিন্তা থাকত না৷ তাঁদের অভাব এখন আমি হাড়ে হাড়ে টের পেলাম৷ একবার দাদার কথা মনে পড়ল৷ এই সময় দাদা যদি কাছে থাকত তাহলে বেঁচে যেতাম৷ দাদা দিল্লিতে চলে যাওয়ার পর নিজেকে ভীষণ একা মনে হয়৷ আর ছোটভাই তো ধরাছোঁয়ার বাইরে৷ গত বছর অস্ট্রেলিয়া চলে গেছে৷ কবে ফিরবে তার ঠিক নেই৷ এই তো আমার বাপের বাড়ির অবস্থা৷ আর শ্বশুরবাড়ির কথা কী বলব! শ্বশুরবাড়ির লোকেরা তেমন সুবিধের নয়৷ যেমন আমার শ্বশুর, তেমনি আমার শাশুড়ি৷ তাদের কথা না বলাই ভাল৷ এঁরা ছাড়া এক ভাশুর আছে৷ তিনি বিবাহিত, তিন সন্তানের বাবা৷ নিজের স্বার্থ ছাড়া অন্য কিছু বোঝেন না৷ ফলে আমার ভালমন্দে তাঁর তিলমাত্র আগ্রহ নেই৷ বাকি রইল দেওর৷ দেওর এখনও বিয়ে-থা করেনি৷ তাকে একবার এখানে দুদিন থাকার জন্যে অনুরোধ করা যায়৷

আমার দেওরের নাম নিখিল৷ একদিন নিখিলকে ফোন করে জিজ্ঞেস করলাম, তুই কি খুব ব্যস্ত?

নিখিল জানতে চাইল, কেন?

— তোর দাদা যতদিন না আসে, ততদিন আমার কাছে থাকতে পারবি?

— খুব পারব৷

— তাহলে কালকে চলে আয়৷

— আচ্ছা৷

পরদিন নিখিল চলে এল৷ আমি নিশ্চিন্ত হলাম৷ কিন্তু কদিন পরে একটা বিচ্ছিরি ঘটনা ঘটল৷

আমি রোজ রাত্রে আমার শোবার ঘরে দরজা লাগিয়ে শুই৷ একদিন দরজা দিতে ভুলে গেলাম৷ সেদিন মাঝরাত্রে হঠাৎ একটা হাতের চাপে আমার ঘুম ভেঙে গেল৷ চোখ খুলে ঘরের নীল আলোয় দেখি, নিখিল খাটের পাশে দাঁড়িয়ে আছে৷ আমি ধড়মড়িয়ে উঠে বসলাম৷ তীব্র গলায় বললাম, তুই এ ঘরে? কী চাই তোর?

নিখিলের অল্প বয়স৷ ভয় পেয়ে ঘর থেকে ছিটকে চলে গেল৷ আমি দরজা লাগিয়ে আবার ঘুমোবার চেষ্টা করলাম৷ কিন্তু ঘুম আর এল না৷

এই সময় হঠাৎ একদিন ফ্রান্স থেকে আমার স্বামী অথবা উল্লুকের চিঠি এসে হাজির হল৷ চিঠিতে উল্লুক লিখেছে— এতদিনে তুমি নিশ্চয় সব অবগত হইয়াছ৷ আমি ভাবিয়াছিলাম তোমাকে প্রকৃত সত্য বলিয়া এখানে আসিব৷ কিন্তু সত্য কথা বলিলে তুমি আমার কাজে বাধা দিবে ভাবিয়া মিথ্যার আশ্রয় লইয়াছিলাম৷ তুমি আমার অপরাধ ক্ষমা করিও৷

আমি চিঠির উত্তরে লিখলাম: নারীজাতির সহিত পুরুষেরা আদিকাল হইতে মিথ্যা কথা বলিয়া আসিতেছে৷ অতএব তুমি নতুন কিছু কর নাই৷ আমি তোমার অপরাধ ক্ষমা করিলাম৷ এখন তুমি অনুগ্রহ করিয়া জানাও কবে দেশে ফিরিতেছ৷ কারণ, তোমার অনুপস্থিতির সুযোগ লইয়া পাঁচজনে আমার সতীত্ব হরণ করিবার জন্য ভারি ব্যস্ত হইয়া পড়িয়াছে৷ আমি আর কতকাল তোমার জন্য সতীত্ব অক্ষুণ্ণ রাখিয়া বসিয়া থাকিব?

স্বামী অথবা উল্লুক উত্তরে লিখল: দেশে ফিরিবার আমার আর আগ্রহ নেই৷ এখানে আমি একটি ভাল চাকরি করিতেছি এবং একজন চীনা তরুণীর নিত্য সান্নিধ্য পাইতেছি৷ সুতরাং আমার চরিত্র আর প্রাতঃস্মরণীয় নহে৷ অতএব আমার কথা ভাবিয়া তোমার সতীত্বকে অক্ষুণ্ণ রাখিবার প্রয়োজন নাই৷ তুমি বিবাহ করিয়া নতুন জীবন শুরু করিয়া দাও৷ বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য যাহা যাহা করিবার দরকার হয়, আমি সব করিব৷ তুমি দুশ্চিন্তা করিও না৷

আমি এবার লিখলাম: তোমার পত্রের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ৷ আমি দ্রুত বিবাহ বিচ্ছেদের ব্যবস্থা করিতেছি৷ আমি তোমার সুখী জীবন কামনা করি৷

আর আমার দুশ্চিন্তা নেই৷ আমাদের বিবাহ বিচ্ছেদ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়েছে৷ এখন আমি যাকে খুশি বিয়ে করতে পারি৷

প্রথমেই আমার রমেনের কথা মনে পড়ল৷ আমি একদিন রমেনকে ডেকে পাঠালাম৷ রমেন লাজুক মুখে আমার ঘরে এসে ঢুকল৷ আমি বললাম, বস৷ তোমার সঙ্গে কথা আছে৷

— কী কথা?

— তুমি আমাকে ভালবাস?

— ভীষণ৷

— তাহলে আমাকে ছাড়া তুমি বাঁচতে পারবে না৷

— ঠিক৷

— আমাকে বিয়ে করতে রাজি আছ?

সঙ্গে সঙ্গে রমেন যেন বিদ্যুতের স্পর্শে লাফিয়ে উঠল, বিয়ে!

— হ্যাঁ৷

রমেন ঢোঁক গিলে বলল, মাকে জিজ্ঞেস করতে হবে৷ মা যদি রাজি থাকে...

আমি থাকতে না পেরে বললাম, আমাকে ভালবাসার সময় মা-র মত নিয়েছিলে? রমেন উত্তরে কিছু না বলতে পেরে মাথা নিচু করে ঘর থেকে চলে গেল৷ আমি পিছন থেকে ওকে শুনিয়ে বললাম, একেবারে উল্লুক৷

কথাটা শুনেও রমেন পিছন ফিরে তাকাল না৷

এবার বিজয়কে একদিন ডাকলাম৷ বিজয় আনন্দে প্রায় লাফাতে লাফাতে ঘরে ঢুকল৷ ঢুকে জিজ্ঞেস করল, কী ব্যাপার? আমার প্রতি এত অনুগ্রহ?

বললাম, তুমি কি সত্যি আমাকে ভালবাস?

— তোমার কি তাতে সন্দেহ আছে?

— আমার জন্যে ঘরসংসার ছেড়ে আসতে পারবে?

বিজয় থতমত খেয়ে জানতে চাইল, মানে?

— আমাকে বিয়ে করতে পারবে?

বিজয় যেন আকাশ থেকে পড়ল, বিয়ে!

— হ্যাঁ, বিয়ে৷

— সে কি করে সম্ভব! বউ ছেলেমেয়ে ত্যাগ করে... না, তা সম্ভব নয়৷

— তাহলে আমার কাছে আস কেন?

— মানে...মানে...মানে...

— এই তোমার ভালবাসা! এখনই এখান থেকে বেরিয়ে যাও৷ কী হল? এখনও বসে আছ কেন?

যাচ্ছি, যাচ্ছি৷ — বলে বিজয় ঘর ছেড়ে বেরিয়ে গেল৷ আমি পিছন থেকে ওকে শুনিয়ে বললাম, আস্ত উল্লুক৷ বিজয় কথাটা

হজম করল৷ প্রতিবাদ করার জন্যে ঘুরে দাঁড়াল না৷

এবার নিখিল৷ নিখিলকে ডাকতেই নিখিল ছুটে এল৷ উৎফুল্ল হয়ে বলল, তোমার ভৃত্য হাজির৷ আদেশ কর৷

বললাম, একটা কথা জিজ্ঞেস করব?

— স্বচ্ছন্দে৷

— আমাকে তুমি ভালবাস?

নিখিল লজ্জিত হয়ে আস্তে করে বলল, খুব৷

— ঠিক বলছ?

— ঠিক৷

— আমি যা বলব, তা করতে পারবে?

— পারব৷

— আমাকে বিয়ে করতে পারবে?

নিখিল সোফা ছেড়ে লাফিয়ে উঠল, বিয়ে! তোমাকে! কী বলছ তুমি?

— অবাক হচ্ছ কেন? আমাকে বিয়ে করতে আপত্তি কিসের?

— তোমাকে বিয়ে করলে আমি সমাজে মুখ দেখাব কি করে?

— সমাজটাই বড় হল! আমি তোমার কেউ না! একটু আগেই তুমি বললে—

নিখিল আমার কথা থামিয়ে দিয়ে বলল, আমাকে তুমি ক্ষমা কর৷

— তা হয় না৷ আমার একটা উল্লুক চাই৷ তোমাকে আমার ভারি পছন্দ৷

নিখিল এবার রেগে গিয়ে বলল, কি বলছ তুমি! আমি কি একটা উল্লুক!

— হ্যাঁ, তুমি একটা উল্লুক৷

নিখিল এরপর আর দাঁড়াল না৷ ঘর ছেড়ে পালাল৷

আমি আর বিয়ে করতে চাই না৷ স্বামী নিয়ে ঘর করার শখ আমার মিটেছে৷ এখন আমার একটা প্রকৃত উল্লুক চাই৷ সেই আমার দেখাশুনো করবে৷ উল্লুককে ইংরেজিতে কি বলে? গিবন বলে৷ উল্লুকরা ভারি বুদ্ধিমান৷ তাদের লেজ নেই৷ তাদের শরীরের চেয়ে হাত দ্বিগুণ লম্বা৷ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জঙ্গলে তারা বাস করে৷ তারা সারাদিন গাছে থাকে৷ অনায়াসে এক ডাল থেকে আর এক ডালে চলে যায়৷ তবে ভীষণ চেঁচামেচি করে৷ আমাদের চিড়িয়াখানায় একসময় অনেক উল্লুক ছিল৷ এখন আছে কিনা জানি না৷ যাই হোক, ঘরে কুকুর, বেড়াল, স্বামী না পুষে একটা উল্লুক পুষলে ক্ষতি কি!

ইংরেজি কাগজে বড় বড় করে বিজ্ঞাপন দিলাম: স্বামী নয়, প্রকৃত উল্লুক চাই৷ বিজ্ঞাপনে কাজ হল৷

একদিন দেখি আমার বসার ঘরে সোফার ওপর একটা উল্লুক বসে আছে৷ আমি উল্লুকটার দিকে কৌতূহলী হয়ে তাকিয়ে রইলাম৷

উল্লুক তা দেখে জিজ্ঞেস করল, ওভাবে আমার দিকে তাকিয়ে আছেন কেন? আপনি কোনওদিন উল্লুক দেখেননি৷

হেসে বললাম, দেখব না কেন? অনেক দেখেছি৷

— তাহলে!

— আমি একটা জিনিস দেখে অবাক হয়ে যাচ্ছি৷

— কী দেখে?

— আমার স্বামীর মুখের সঙ্গে আপনার মুখের আশ্চর্য মিল!

উল্লুক কথাটা শুনে হো হো করে হেসে উঠল৷

আমি এবার জানতে চাইলাম, একটা কথা জিজ্ঞেস করব?

— কী কথা?

— আপনি কোত্থেকে আসছেন?

— দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জঙ্গল থেকে৷

— ওখানে কাগজ যায়?

— যায়৷

— আপনি ইংরেজি জানেন?

— প্রতিটি উল্লুক ইংরেজি জানে৷

— সত্যি?

— সত্যি৷

এরপর একটু থেমে জিজ্ঞেস করলাম, আপনার দাবি?

উল্লুক হেসে বলল, আমার দাবি কিছু নেই৷ শুধু দু-বেলা ফলমূল খেতে দিলেই চলবে৷

— মাইনে নেবেন না?

— না৷ তবে তার বিনিময়ে স্বামীর সম্মান চাই৷

আমি একথায় বিস্মিত হয়ে বললাম, স্বামীর সম্মান মানে!

উল্লুক গম্ভীর গলায় বলল, আমাকে ভক্তি করতে হবে, শ্রদ্ধা করতে হবে৷ আমি যখন যা বলব, তাই শুনতে হবে৷ যা করব, তাই মেনে নিতে হবে৷ সংসারে আমার কথাই হবে শেষ কথা৷

আমি এ কথার জবাবে কি বলব বুঝে পেলাম না৷ উল্লুক আর মানুষে কোনও তফাত নেই দেখছি৷ উল্লুকও মানুষের মতো স্বামী হতে চায়! স্ত্রীর ওপর কর্তৃত্ব করতে চায়!

উল্লুক আমার মনের ভাব অনুমান করতে পেরে বলল, এতে ঘাবড়ে যাওয়ার কিছু নেই৷ আমি আপনার কাছ থেকে যেমন ভক্তিশ্রদ্ধা নেব তেমনি বিনিময়ে আমি আপনার দেখাশুনো করব৷ আমি বেঁচে থাকতে কোনও মানুষ বা কোনও উল্লুক আপনার কিছু করতে পারবে না৷ আপনি নিশ্চিন্তে জীবন কাটাতে পারবেন৷

আমি আর থাকতে পারলাম না৷ ক্রুদ্ধ গলায় বললাম, আমার আর মানুষ বা উল্লুকের প্রয়োজন নেই৷ আপনি এখনই ঘর থেকে বেরিয়ে যান৷

উল্লুক আমার কথায় ক্ষিপ্ত হয়ে মুখ দিয়ে উ-উ-উ-উ করে বিচিত্র শব্দ করতে লাগল৷ আমি বিরক্ত হয়ে বললাম, চেঁচাচ্ছেন কেন? চুপ করুন৷

কিন্তু উল্লুকের মধ্যে চুপ করার কোনও লক্ষণ দেখা গেল না৷ বিচ্ছিরি গলায় আগের মতোই চেঁচাতে লাগল৷

আমি এবার ধমক দিয়ে বললাম, কী হচ্ছে এসব! আপনাকে আমার দরকার নেই৷ আপনি এখন যান৷

উল্লুক তবু থামল না৷ শুধু তাই নয়, আমাকে চমকে দিয়ে এই সময় ঘরের মধ্যে একটা-দুটো করে আরও উল্লুক ঢুকে গেল৷ তারাও সমস্বরে চেঁচাতে লাগল৷ আমি তখন রীতিমতো ভয় পেয়ে শোবার ঘরে ঢুকলাম৷ দেখি, সেখানেও অনেক উল্লুক জড়ো হয়েছে৷ আমাকে দেখে তারাও চেঁচাতে লাগল৷ আমি তখন বাথরুমে ঢুকলাম৷ কিন্তু সেখানেও সাতটা উল্লুক বসে আছে৷

সকল অধ্যায়
১.
কাঁটাতারের বেড়া
২.
নির্বাসিতা
৩.
নমস্কার কলকাতা
৪.
হাসিনার পুরুষ
৫.
পৃথিবী চিরন্তনী
৬.
বাস স্টপে দাঁড়িয়ে
৭.
ময়না তদন্ত
৮.
বাবু
৯.
ঐশ্বর্যের শক্তি
১০.
উত্তরপুরুষ
১১.
ভি এম স্যার
১২.
লোকসভা বিধানসভা
১৩.
জন্ম প্রজন্ম
১৪.
জাঁতাকল
১৫.
স্বাধীন মানুষ
১৬.
মূকাভিনেতা
১৭.
গুপ্তধন
১৮.
হয়ত, হয়ত নয়
১৯.
নতজানু
২০.
ওই ব্লেজারটা
২১.
কুসুমা
২২.
যে খেলার যা নিয়ম
২৩.
উল্লুক
২৪.
উৎসব
২৫.
সেজদিদিমার স্মৃতি পুরাণ
২৬.
সাপ পোষ মানে না
২৭.
নিজের বিপদে বুদ্ধিমানরাও
২৮.
হরধনু কাহিনীর পুনর্লিখন
২৯.
মানুষ কতদিন বাঁচতে পারে
৩০.
চক্ষুলজ্জা
৩১.
বনধ-এর ১০ দিন
৩২.
কুসুমের পথ
৩৩.
জেটিঘাট
৩৪.
জন্মরোধ কেন
৩৫.
আক্রান্ত
৩৬.
লক্ষ্মণের নরকদর্শন
৩৭.
আখরিগঞ্জ
৩৮.
পরিবেশদূষণ ও তার প্রতিকার
৩৯.
বিমলাসুন্দরীর উপাখ্যান
৪০.
সোনালি দিন
৪১.
ভালবাসার বাড়ি

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%