কুসুমের পথ

অশোক দাশগুপ্ত

‘ফটিক আর কোনও দিনই ফেরেনি৷’

মিসেস মুখার্জি যখন এই শেষ কথাটি উচ্চারণ করলেন তখন তাঁর স্বরে বেজে উঠল করুণ সুর৷ সুরের মধ্যে যেমন তরঙ্গ থাকে, যেন মনে হয় সেই তরঙ্গের দোলায় সুর ধীরে, দূরে ভাসতে ভাসতে আস্তে মিলিয়ে যায়৷ আর সেই মিলিয়ে যাওয়ার অনুরণনের মধ্যে ভিন্ন একটা সুরের অচেনা ধ্বনি র সঙ্কেত শোনা যায়৷ তার করুণ স্বরে কি তেমনি ঈষৎ বিদ্রুপের ধ্বনি ছুঁয়ে গেল? স্বরের করুণ সুরের মতোই তাঁর ঠোঁটের হাসিতেও ছিল তারই প্রতিচ্ছায়া৷ তাঁর ঠোঁটে যদি ঈষৎ বক্রতা দেখা দিয়ে থাকে, তাতেও আশ্চর্যের কিছু নেই৷ এবং তাঁর চোখের করুণ দৃষ্টিতে কিন্তু ছিল একটা হতাশা৷

স্বাভাবিক৷ তাঁর স্বর, সুর, দৃষ্টি, করুণা, ঈষৎ বিদ্রুপ, হতাশা, সমস্ত অভিব্যক্তিগুলোই অত্যন্ত স্বাভাবিক৷ কারণ, কুসুমকে তিনি ভালবেসেছিলেন৷ ভালবেসেছিলেন, শুধু এ কথা বললে কুসুমের প্রতি তাঁর স্নেহের পরিমাপ করা যায় না৷ মিসেস মুখার্জি, কুসুমকে তাঁর কন্যার ন্যায় মনে করতেন, বা তাঁর একমাত্র কন্যার মতোই কুসুমকে দেখতেন৷ মিসেস মুখার্জির কথাবার্তার মধ্যে, আদৌ সেরকম কোনও মিথ্যা সেন্টিমেন্টের উচ্ছ্বাস ছিল না৷ তিনি তো কারোর মন ভেজাবার জন্য কুসুমের কথা বলেননি, বা তিনি ওই শ্রেণীর গল্পলেখিকাও নন৷ তিনি যথেষ্ট বুদ্ধিমতী বাস্তববাদী মহিলা৷

বুদ্ধিমতী বাস্তববাদী মহিলাদের মনে যদি স্নেহ ভালবাসা থাকতে পারে, তাহলে তাঁদের মনে একটা প্রত্যাশাও থাকতে পারে৷ আর সেই প্রত্যাশার কিছুমাত্র মূল্য না দিয়ে যদি কেউ মুখ ফিরিয়ে নেয়, তাহলে মনে আঘাতও লাগে বইকি৷ বুদ্ধিমতী বাস্তববাদী মহিলারা তো আর হৃদয়হীন নন৷ কারোর প্রতি স্নেহ ভালবাসা মনে আপনিই একটা প্রত্যাশা জাগিয়ে তোলে৷ বিশেষত সেই স্নেহ ভালবাসা যখন কেউ সাগ্রহে সুখে বিগলিত হয়ে গ্রহণ করে৷ মিসেস মুখার্জি কুসুমকে নিশ্চয়ই তাঁর কন্যার মতো দেখতেন না৷ অবিশ্যি তাঁর কন্যার সঙ্গে কুসুমের এমনিতেই বিস্তর ফারাক৷ তাঁর কন্যা কুসুমের থেকে৷ কয়েক হাজার বছরের বড়৷ মেধাবী, কলেজে পড়া, নিরহঙ্কারী উজ্জ্বল একটি মেয়ে৷ ধনী বাবা-মায়ের এক কন্যা হিসেবে, তাঁদের মেয়েটি কোনওরকম বিলাস-আলস্যে অভ্যস্ত হয়নি৷

অবিশ্যি, মিসেস মুখার্জি কুসুমের কথা বলতে গিয়ে, তাঁর কন্যার কথা একবারও তোলেননি৷ দরকারও মনে করেননি তুলনা দেবার৷ কুসুমের প্রতি তাঁর স্নেহ-ভালবাসার কথা বলতে গিয়েই কন্যার প্রসঙ্গ এসে পড়ল৷

কুসুম কে? একটি অবস্থাপন্ন ভদ্র মার্জিত পরিবারে এক চৌদ্দো-পনেরো বছরের কিশোরী পরিচারিকা৷ আপাতত, এছাড়া কুসুমের আর কোনও পরিচয় নেই৷ মধ্য কলকাতার সব থেকে অভিজাত পাড়ায়, আকাশচুম্বী বিশাল ফ্ল্যাটের, ছোট্ট পরিবারের কিশোরী পরিচারিকা বললেও, ওর ভূমিকাটা তার চেয়ে অনেকখানি আলাদা৷ রান্নার জন্য আছে এক প্রৌঢ়া বাঙালি স্ত্রীলোক৷ বছর চল্লিশ বয়সের অবাঙালি বেচন, যাকে ঘরগেরস্থালির প্রায় সবরকমের কাজ করতে হয়৷ কিন্তু বেলা দুটোয়, মিসেস মুখার্জির সঙ্গে বেচন রোজ অফিসে চলে যায়৷ ডিরেক্টর হিসাবে মিসেস মুখার্জি, রোজই বেলা দুটোয় অফিসে যান৷ ফেরেন প্রায় রাত্রি আটটায়৷ ফেরার সময়, স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গেই ফেরেন৷ বেচনও তখনই ফেরে৷ ফেরার পরেও বেচনের বেশ কিছু কাজ থাকে৷ কিন্তু অফিসে বেচনের কাজ খুব সামান্য৷ বাড়ির কাজই ওর আসল৷ অফিসে যৎসামান্য কাজের জন্য, তার মাইনের অঙ্কটা বেশি৷

রান্নার যাবতীয় কাজ একজনকেই করতে হয়৷ এবং খাদ্য পরিবেশনও তার কাজ৷ কাজের হিসাবে দেখলে, কুসুমের সবথেকে বড় কাজ কাপড় কাচা৷ গৃহের কর্তা গিন্নি ও কন্যার, বাড়িতে ব্যবহারের প্রত্যহের ছেড়ে রাখা জামাকাপড় ওকে কাচতে হয়৷ আর ওর নিজেরটা৷ সব মিলিয়ে পরিমাণ সামান্যই৷ এ ছাড়া, ওর দ্বিতীয় বড় কাজ, বাসন মাজা৷

বাসন মাজা বলতে, এখানে পাঁজা পাঁজা বা কাঁড়ি কাঁড়ি বাসন ভাবলে ভুল হবে৷ এ ক্ষেত্রেও কুসুমের দায়িত্ব গৃহের কর্তা গিন্নি ও কন্যার ব্যবহৃত চীনে মাটির বা স্টিলের হালকা বাসন, চামচ ইত্যাদি, আধুনিক কোনও কেমিক্যাল পাউডার দিয়ে ঝকঝকে করে মাজা৷ ওর নিজের থালা-বাসনও ওকে ধুতে হয়৷ সব মিলিয়ে, এ পরিমাণটাও মোটেই বেশি নয়৷ ওর তৃতীয় আবশ্যিক কাজ হল, তিন ঘরের তিনটি বিছানা, সকালে নিজের হাতে গোছানো৷ বলা বাহুল্য, এ কাজটাও তেমন পরিশ্রমসাধ্য নয়৷

কুসুম যখন প্রথম এসেছিল, দশ বছরের একটি গ্রাম্য মেয়ে৷ হাত-পা অপরিচ্ছন্ন৷ ময়লা একটা ফ্রক গায়ে৷ স্বাস্থ্যও মোটেই ভাল ছিল না৷ মিসেস মুখার্জির পছন্দ হয়নি৷ তিনি চেয়েছিলেন একটি কাজের মেয়ে৷ বাচ্চা মেয়েই চেয়েছিলেন৷ তিনি অবস্থার সঙ্গে তাল মিলিয়ে, গৃহের কাজের লোকেদের স্ট্যাটাস বাড়াতে চাননি৷ সেদিক থেকে, মোটামুটি মধ্যবিত্ত চিন্তা ধ্যানধারণা অনুযায়ীই সংসার চালাতেন৷ অন্যথায় হয়ত কুসুমের বয়সী কোনও মেয়েকে সংসারের কাজে লাগাতেন না৷ কিন্তু কুসুমরাই বা যাবে কোথায়? এ দেশে, গরিব ঘরে, ওই বয়সী ছেলেমেয়েদের নিজের ভরণপোষণের দায় নিজেদেরই নিতে হয়৷

মিসেস মুখার্জি কুসুমের মতো মেয়ে আগেও রেখেছেন৷ বড় হয়েছে, চলে গিয়েছে৷ আবার নতুন এসেছে৷ আজকাল অবিশ্যি অনেক গৃহেই অবিবাহিতা তরুণীদের কাজ করতে দেখা যায়৷ তবে সব পরিবার, ওই বয়সের মেয়েদের দায়িত্ব নিতে চায় না৷ বিবাহিতা তরুণী বা যুবতীরা তখনই কাজে আসে, যখন স্বামী ভরণপোষণে অসমর্থ বা অনিচ্ছুক হয়৷ কিন্তু তাদের নিয়ে বড় অসুবিধা দেখা দেয়৷ তাদের ছেলে-মেয়েদের নিয়ে৷ অধিকাংশ বিবাহিতা মেয়েরাই, কোলে বাচ্চা নিয়ে আসে৷ গৃহস্থ মাত্রেই বোঝেন, বাচ্চা-সহ একটি মেয়ের পক্ষে কাজ করা কতখানি অসুবিধাজনক৷ সে অসুবিধাও গৃহস্থরা ভোগ করতে চান না৷

যাই হোক, মিসেস মুখার্জি দশ বছরের সেই স্বাস্থ্যহীন কুসুমকে প্রথম দর্শনেই বাতিল করে দিয়েছিলেন৷ কিন্তু যে-লোকটি (মুখার্জি সুপার প্রাোজেক্টস-এর একজন নিম্ন বেতনের পিয়ন) কুসুমকে নিয়ে এসেছিল, সে মিসেস মুখার্জিকে কাতরভাবে বলেছিল, ‘এখন দেখছেন রোগা পটকা৷ দু-দিন আপনার কাছে থাকতে পেলেই দেখবেন, গায়ে গতত্তি লেগেছে৷ এ বয়সের ছেলে-মেয়েরা পেট ভরে দুটো খেতে পেলেই, কচি লাউডগার মতন ডগডগিয়ে বেড়ে ওঠে৷ তখন দেখবেন, কাজও ঠিক করছে৷’

লোকটির কথা শুনে মিসেস মুখার্জি দ্বিতীয়বার কুসুমের দিকে দেখেছিলেন৷ কোনও সন্দেহ ছিল না৷ মেয়েটির বড় বড় দুই চোখে, চোখের কোণের কালিমায়, শীর্ণ মুখে, ডিগডিগে রোগা শরীরে, না খেতে পাওয়া অপুষ্টি অত্যন্ত স্পষ্ট৷ সেটা তাঁর চোখে প্রথমেই পড়েছিল, এবং সেই কারণেই তিনি কুসুমকে বাতিল করেছিলেন৷ লোকটির কথায় একটা যুক্তি ছিল, যা তাঁর মনকে সজাগ করেছিল৷ তাছাড়া, সেই অপুষ্ট স্বাস্থ্যহীন, রক্তহীন ফ্যাকাশে সাদা সাদা বড় কুসুমকে তাঁর অভিজ্ঞ চোখ দ্বিতীয়বার দেখে বুঝেছিল, মেয়েটি দেখতে খারাপ না৷ নতুন পরিবেশ, নতুন মানুষের সামনে, কুসুমের স্বাস্থ্যহীন বড় বড় ভীরু চোখদুটিতে কিঞ্চিৎ বুদ্ধির ছাপও দেখেছিলেন৷ কুসুমের মাথায় তখন ঘাড় অবধি, ঘন চুলের গোছা৷ মিসেস মুখার্জি জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘তোমার মাথায় উকুন আছে, না?’

কুসুম মাথা নেড়ে মুখ নিচু করেছিল৷ মিসেস মুখার্জি গম্ভীর মুখে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘কী করে জানলে নেই?’

‘আমার মাথার চুলের গোড়া যে তেতো৷’ কুসুম অকপট সারল্যে বলেছিল, ‘আমার মাথায় উকুন থাকে না৷ পালিয়ে যায়৷’

মিসেস মুখার্জি প্রথমে ভুরু কুঁচকে জিজ্ঞাসু চোখে তাকালেও, হাসি চাপতে পারেননি৷ কথাটা যে তিনি নতুন শুনেছিলেন, তা না৷ প্রথমত কথাটা শুনলেই তাঁর হাসি পেত৷ তিনি তাঁর মা দিদিমার কাছে, ছেলেবেলাতেই শুনেছিলেন, কোনও কোনও মানুষের চুলের গোড়ার স্বাদ নাকি তিক্ত হয়৷ যার ফলে, তাদের মাথায় উকুন কখনও বাসা বাঁধে না৷ কুসুমের বলার ভঙ্গিতেও তাঁর হাসি পেয়েছিল৷ তিনি জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘কে বললে, তোমার মাথার চুল তেতো?’

‘আমার মা বলেছে৷’ মিসেস মুখার্জিকে হাসতে দেখে, ঠিক বুঝতে পারেনি, উনি আসলে অবিশ্বাসে ঠাট্টা করে হাসছিলেন কি না৷ তবু একবার ঢোঁক গিলে বলেছিল, ‘আমিও জানি৷’

মিসেস মুখার্জি যেন একটু মজাই পেয়ে গিয়েছিলেন৷ জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘কী করে জানলে?’

‘আমি যে মাথার চুল তুলে, গোড়াসুদ্ধ চুষে দেখেছি৷’ কুসুম অকপট সারল্যেই স্বীকার করেছিল৷

মিসেস মুখার্জি হেসে উঠেছিলেন৷ কুসুমকে কিছু না বলে, লোকটিকে বলেছিলেন, ‘ও এখন তাহলে থাক৷ সেরকম বুঝলে, তোমাকে অফিসে খবর দেওয়া হবে৷ এসে নিয়ে যেও৷’

লোকটি নত হয়ে, করজোড়ে নমস্কার করে, বিদায় নিয়েছিল৷ এই হল কুসুমের কাজে নিয়োগের বৃত্তান্ত৷ তারপর থেকে বলতে গেলে, মিসেস মুখার্জি নিজেই কুসুমকে ওর কাজ শিখিয়েছেন৷ এক বছরের মধ্যে৷ সত্যি কুসুমকে যেন আর চেনা যেত না৷ সেই লোকটির কথা মতোই৷ কচি লাউডগার মতো ডগডগিয়ে উঠেছিল৷ চেহারার মধ্যে বেশ সুন্দর একটি চটক ছিল৷ চোখে মুখে ছিল শ্রী৷ স্বাস্থ্যের সঙ্গে, সেই শ্রীও যেন নতুন রূপ পেয়েছিল৷ নিজেকে কুসুমের পরিচ্ছন্ন করার দরকার হয়নি৷ দশ তলার ধূলিহীন, ঝকঝকে ফ্ল্যাটে ও এমনিতেই যথেষ্ট পরিচ্ছন্ন হয়ে উঠেছিল৷ মিসেস মুখার্জি ওকে নিজের পছন্দ মতো জামা কিনে দিতেন৷ বাইরে বেরোবার জন্য পায়ে পরার দু-তিন জোড়া স্যান্ডেল কিনে দিয়েছিলেন৷ অবিশ্যি কুসুমকে বিল্ডিংয়ের বাইরে একলা কখনও যেতে হত না৷ এগারো তলার ওপরে, সার্ভেন্টসদের থাকবার ব্যবস্থা ছিল৷ বিশেষত, সাত-আট তলার ফ্ল্যাটের বাসিন্দাদের সার্ভেন্টস কোয়ার্টার ছিল ওপরেই৷ সেখানেই তাদের ব্যবহারের বাথরুমও৷ কুসুমকে একমাত্র বাথরুমে যাবার জন্যই বাইরে যেতে হত৷

মিসেস মুখার্জিকে ও মা বলে ডাকত৷ মিঃ মুখার্জিকে বাবা৷ তাঁদের কন্যাকে দিদি৷ বছর খানেকের মধ্যেই কুসুম সুবর্ণার প্রতি বেশি অনুরক্ত হয়ে পড়েছিল৷ সুবর্ণা মুখার্জি পরিবারের একমাত্র কন্যা৷ মা যে কুসুমকে ভালবাসেন, সুবর্ণা তা বুঝতে পারত৷ ওরও কুসুমকে ভাল লেগেছিল৷ ও কুসুমের ব্যবহারের জন্য মাথার তেল, পাউডার, ক্রিম ইত্যাদি কিনে দিত৷ স্কুল থেকে (প্রথম দিকে, পরে কলেজ থেকে) ফেরার পথে লজেন্স চকোলেট নিয়ে আসত প্রায় রোজই৷ কুসুম রাত্রে মিসেস মুখার্জিকে প্রতিটি কথা বলত৷

কুসুমের উন্নতির সব থেকে যেটা লক্ষণীয় বিষয় হয়ে উঠেছিল, তা ওর অবিশ্বাস্য লেখাপড়া শেখা৷ সেটা সম্ভব হয়েছিল সুবর্ণার জন্যই৷ তিন বছরের মধ্যে মোটামুটি ভাল বাংলা পড়তে ও লিখতে শিখেছিল৷ যুক্তাক্ষরেও মোটেই পিছিয়ে ছিল না৷ এমনকী, ওর লিখিত বাক্যের গঠনও খুব খারাপ ছিল না৷

কুসুমের সর্বাঙ্গীণ উন্নতিতে, মিসেস মুখার্জি বিশেষ করে খুবই খুশি ছিলেন৷ প্রায় ঘরের মেয়ের মর্যাদাই ওকে দিতে শুরু করেছিলেন৷ সুবর্ণা বড় বোনের মতো, একটু গম্ভীরভাবে প্রয়োজনে শাসনও করত৷ কিন্তু মনে মনে খুবই ভালবাসত৷ ওর আর মায়ের হাতেই, মেয়েদের যথার্থ বড় হয়ে ওঠা বলতে যা বোঝায়, কুসুম তাই হয়ে উঠেছিল৷ বড় হবার— অর্থাৎ বয়স হলে, যে শিক্ষা পাওয়া দরকার, মিসেস মুখার্জি ওকে সে-শিক্ষাও দিয়েছিলেন৷

মিঃ মুখার্জি একটু গম্ভীর মানুষ৷ কথাবার্তা কম বলেন৷ তাছাড়া, তাঁকে সারাদিন নানাভাবে ব্যস্ত থাকতে হয়৷ বংশগত কোনও ব্যবসার দ্বারা তিনি কোটিপতি হননি৷ যাকে বলে, ‘সেলফ মেড ম্যান’ তিনি তা-ই৷ এবং তাঁর জীবনের পরিশ্রম আর অধ্যবসায়ের সঙ্গে মিসেস মুখার্জির অধ্যবসায় ও অবদান কিছু কম নেই৷ মিঃ মুখার্জি মুখে বেশি কিছু না বললেও, সামান্য দু-একটি কথা বা ঈষৎ হাসিতেই বোঝা যায়, কুসুমকে তিনিও মনে মনে স্নেহ করেন৷

কুসুমের দিনগুলো ভালভাবেই কাটছিল৷ গত চার বছরের মধ্যে, ও দু-বার দক্ষিণ জেলার দেশের বাড়িতে গিয়েছিল৷ কিন্তু বেশিদিন থাকতে ভাল লাগেনি৷ ওর মা দিদিরা বলত, কলকাতার সাহেব বাড়িতে তো চিরকাল কাটবে না৷ শেষ পর্যন্ত গ্রামে এসেই থাকতে হবে৷ অতএব, কুসুমের উচিত, গ্রামে এসে মাঝে মাঝে থাকা৷

কুসুম তা বিশ্বাস করত না৷ মিসেস মুখার্জির কথা শুনে ওর মনে কেমন একটা প্রত্যাশা জেগেছিল৷ জীবনটা ওর কলকাতাতেই কেটে যাবে৷ মিসেস মুখার্জিই হয়ত ভাল অবস্থাপন্ন কোনও ছেলে দেখে ওর বিয়ে দেবেন৷ অনেক টাকা খরচ করবেন৷ বস্তুতপক্ষে, কুসুম খুব একটা ভুল ভাবত না৷ মিসেস মুখার্জির মনে সেরকম একটা ইচ্ছা ছিল৷

কুসুমের রূপে যেমন একটা চটক ছিল, তেমনি দেখতে দেখতে ও শরীর স্বাস্থ্যেও চোখে পড়বার মতো বেড়ে উঠেছিল৷ বয়স তেরো পেরোবার আগেই, মিসেস মুখার্জি ওকে শাড়ি পরিয়েছিলেন৷ কুসুম যেমন অল্প কাজ করেও, সকলের স্নেহ ভালবাসা পেয়েছিল, তেমনি সব থেকে বেশি কাজের লোক বেচনের কর্তৃত্ব ছিল অনেক বেশি৷ একদিক থেকে বিচার করতে গেলে কুসুমের ওপর বেচনের হিংসে হবারই কথা৷ কিন্তু বেচন কুসুমকে নিজের মেয়ের মতোই দেখত৷ কুসুমের বয়সী মেয়েও ছিল তার দেশের বাড়িতে৷ একমাত্র, পাচিকা স্ত্রীলোকটি কুসুমকে দু-চোখে দেখতে পারত না৷ বাড়ির সকলের স্নেহ-ভালবাসা দেখে সে মনে মনে জ্বলে যেত৷ কিন্তু মুখ ফুটে কিছু বলতে পারত না৷ পারত না, মানে সাহস পেত না৷ আর পারতপক্ষে সে কুসুমের সঙ্গে কথাই বলত না৷

কুসুমের তাতে কিছুই আসত যেত না৷ ও ছিল ওর নিজের জগৎ নিয়ে৷ মিসেস মুখার্জি বেলা এগারোটার সময় খাওয়া সেরে নিয়ে, বিশ্রাম করতেন৷ বেলা দুটোয় ড্রাইভার এসে জানাত যাবার সময় হয়েছে৷ তিনি বেচনকে নিয়ে বেরিয়ে যেতেন৷ মিঃ মুখার্জি তো রোজ বেরিয়ে যেতেন সকাল নটা বাজতেই৷ সুবর্ণা যেত কলেজে৷ বিশাল সেই গোটা ফ্ল্যাটের মধ্যে, বলতে গেলে কুসুমের একলাই কাটত৷ কারণ পাচিকা স্ত্রীলোকটি দুপুরেই একটু বেরবার সুযোগ পেত৷ নানা ফ্ল্যাট ঘুরে ঘুরে, তার চেনা-জানা মানুষদের সঙ্গে গল্প করত৷ কুসুম খবরের কাগজ, আরও নানা বাংলা পত্র-পত্রিকা আর, গল্পের বই পড়ে সময় কাটাত৷

কিন্তু সময়টা যেন কাটতে চাইত না৷ পত্র-পত্রিকা বই পড়ে, ওর মনে কোথায় একটা শূন্যতা বোধ জেগে থাকত৷ ও জানলা দিয়ে, কখনও উঁচু থেকে, ব্যস্ত লোকজন, গাড়িঘোড়া চলার ছবি দেখত৷ কখনও দেখত, কলকাতার সবুজ ময়দান৷ তবুও মনটা কেমন স্থির শান্ত থাকত না৷ কী যে চায়, ও নিজেও তা বুঝতে পারত না৷

একদিন হঠাৎ ওর চোখের সামনে নতুন একটা দরজা খুলে গেল৷ সেদিকে তাকিয়ে দেখল, ওর অজানা চাওয়াটা রয়েছে সেই নতুন দিগন্তে৷ তখন ও চতুর্দশী৷ সেই নতুন দিগন্ত আসলে দুটো চোখ৷ যুবক পুরুষের চোখ৷ অনেক ভালভাবে খেয়ে পরে, স্নেহ যত্নে থেকে এবং ভবিষ্যতের অনেক আশার মধ্যেও, সেই যুবক যেন চতুর্দশী কুসুমের চোখের সামনে খুলে দিল জাদুকরী জগৎ৷ ওর রক্তে জাগিয়ে দিল একটা স্বপ্নিল নেশা৷

যুবকের নাম ফটিক৷ দশ তলার ঠিক মুখোমুখি ফ্ল্যাটে, ফটিক এসেছিল কাঠের কাজ করতে৷ ছুতোরের কাজটা তার বংশগত ছিল না৷ চীনাদের কাছে ও কাঠের কাজ শিখেছিল৷ কয়েকটি মুসলমান অল্পবয়সী ছেলেকে নিয়ে, ও নিজেই একটা ফার্ম খুলেছিল৷ হাতে ভাল কাজও পেত৷ বয়স ওর তিরিশ-বত্রিশের মধ্যে৷ ছুতোর মিস্ত্রির কাজ করলে কী হবে, ফটিক রীতিমতো জিনস পরা, স্বাস্থ্যবান, চটপটে, চালাক-চতুর যুবক৷ চেহারাটাও তার বেশ ভাল৷ হাসি খুশি কইয়ে বলিয়ে৷ যাকে বলে স্মার্ট, ফটিক তাই৷

কুসুম দেখল, ফটিকের চোখে এক সুখের জগতের সুদূর ডাক৷ সেই ডাকে সাড়া দেবার জন্য ওর শরীর মন ব্যাকুল হযে উঠল৷ এই একটি জায়গায়, কুসুমের থেকেও অনেক বেশি শিক্ষা পাওয়া, যুক্তিতে বিশ্বাসী মানুষও নিজেকে হারিয়ে ফেলে৷ কুসুমও হারিয়ে গেল৷ সুযোগটা নিল ও বিশাল জনশূন্য ফ্ল্যাটে৷ ওর মন কেমন করা খা খা দুপুরে৷ ফটিকের সাহসও কিছু কম ছিল না৷ সে তার আকাঙ্ক্ষা মিটিয়ে, কুসুমকে রোজ দিয়ে যেত ভবিষ্যতের আশা৷

আশা না, স্বপ্ন৷ ফটিক বিবাহিত, কয়েকটি সন্তানের জনক৷ তার জীবন যাপনের চেহারাই আলাদা, কুসুম তার কিছুই জানত না৷ এরকম ক্ষেত্রে যা হয়, ঠিক তাই ঘটেছিল৷ ও ফটিককে বিশ্বাস করেছিল৷ তখন ফটিকের থেকে বিশ্বাসী আপনজন ওর আর কেউ ছিল না৷ কেবল একটা ব্যাপারে ও ফটিককে সাবধান করে দিয়েছিল, সে যেন ফ্ল্যাটের ঘরে ঢুকে কোনও জিনিসে হাত না দেয়৷ ফটিক তা কোনওদিন দেয়নি৷ এমনকী, ফটিকের সঙ্গে ও কোনও ঘরের বিছানায় শোয়নি৷

কুসুমের তখন নিজের দিকে তাকিয়ে দেখবার অবকাশ ছিল না৷ ওর যে চেহারায়, চোখেমুখে, চলাফেরা, কথাবার্তা, হাসিতেও একটা পরিবর্তন দেখা দিচ্ছিল৷ ও তার কিছুই বুঝত না৷ সেটাই স্বাভাবিক৷ কিন্তু মিসেস মুখার্জির ভ্রূকুটি চোখে ফুটে উঠেছিল অবাক জিজ্ঞাসা৷ তাঁর সারাদিনের কর্মক্লান্ত কপালের রেখায় ফুটে উঠেছিল চিন্তার ছায়া৷ তিনি আচমকা কুসুমকে এক-আধটা প্রশ্ন করতেন৷ যা শুনে কুসুম চমকে উঠত৷ আর মিথ্যা হাসি দিয়ে নিজেকে গোপন করার চেষ্টা করত৷ কিন্তু সেভাবেই বা কতদিন চলতে পারে?

কুসুম ফটিককে ফ্ল্যাটের মধ্যে নিয়ে আসার সাহস হারিয়েছিল৷ কিন্তু ফটিকের ভাল ব্যবস্থা ছিল৷ এগারোতলায় ওর জানাশোনা এক বন্ধু ছিল৷ সেও এক ফ্ল্যাটের বাবু চাকর৷ ফটিককে সে তার ঘর ছেড়ে দিয়েছিল৷ কুসুম দুপুরে ঠিক সময় বুঝে, ফ্ল্যাটের প্রধান দরজা বন্ধ করে দিয়ে এগারোতলায় চলে যেত৷ যার ফলে, ফটিকের সঙ্গে মেলামেশার ব্যাপারটা আর গোপন রাখা যাচ্ছিল না৷ তার চেয়েও বড় কথা, দশ তলার সেই মুখোমুখি ফ্ল্যাট, কাঠের কাজ কত কাল ধরেই বা চলতে পারে৷ তবু তো চলতে হবে৷ প্রায় ছ-মাস ধরে গোটা ফ্ল্যাটের কাঠের কাজ হয়েছে৷ এবং একদিন তার অবসান হল৷

ইতিমধ্যে মিসেস মুখার্জি কুসুমের সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিলেন৷ তিনি কুসুমকে ঘরে ডেকে, দরজা বন্ধ করে স্পষ্টই সব জিজ্ঞেস করলেন৷ কুসুমের স্বীকার করা ছাড়া আর কোনও উপায় ছিল না৷ ও তখন পাঁচ মাসের গর্ভবতী৷ মিসেস মুখার্জির মুখে ফুটে উঠেছিল তীব্র ঘৃণা আর অবিশ্বাস৷ মনে আঘাতও পেয়েছিলেন৷ জানিয়ে দিয়েছিলেন যে-লোকটি কুসুমকে বাড়িতে নিয়ে এসেছিল, তাকে ডেকে তার সঙ্গেই কুসুমকে চলে যেতে হবে৷

কুসুম বলেছিল, ‘সেই লোকের সঙ্গে আমি আর যাব না৷ আমার যা মাইনে পত্তর পাওনা হয়েছে, দিয়ে দিন৷ আমি ওর সঙ্গে চলে যাব৷ শিগগিরই আমাদের বে হবে৷’

মিসেস মুখার্জির ইচ্ছা হয়েছিল, কুসুমকে সজোরে থাপ্পড় মেরে, সামনে থেকে সরিয়ে দেন৷ পারেননি৷ তিনি ঘটনা সবই জেনেছিলেন৷ ঘটনার নায়ক ফটিককেও চিনতেন৷ সুবর্ণা ওর কঠিন মুখ একেবারে ফিরিয়ে নিয়েছিল৷ কুসুমের সঙ্গে কথাও বলত না৷ কেবল মিঃ মুখার্জি ছিলেন নির্বিকার৷ বুঝলেও কোনও মন্তব্য করেননি৷ মিসেস মুখার্জি কুসুমের সমস্ত পাওনা টাকাপয়সা মিটিয়ে দিয়েছিলেন৷ কুসুম ওর সমস্ত শাড়ি জামা জিনিসপত্র নিয়ে, এগারোতলায় চাকরদের সেই ঘরটিতে গিয়ে উঠেছিল৷ ফটিক বলে গিয়েছিল, ও যত তাড়াতাড়ি পারে, কুসুমকে ওখান থেকে নিয়ে যাবে৷ কুসুম যেন অপেক্ষা করে৷ অবিশ্যি এসব কথা বলে যাবার সময়, কুসুমের কাছ থেকে সে, মিসেস মুখার্জির দেওয়া সব নগদ টাকাই নিয়ে গিয়েছিল৷

তারপরে দু-মাস কেটে গিয়েছে৷ কুসুম এখনও সেই এগারোতলার এক ভৃত্যের ঘরে৷ ফটিকের অপেক্ষায় কাটাচ্ছে৷ মিসেস মুখার্জি বেচনের মারফত সব খবরই রাখেন৷ আর ভিতরে ভিতরে অস্থির হয়ে ওঠেন৷

‘ফটিক আর কোনওদিন ফিরবেও না৷’ মিসেস মুখার্জির স্বরের দৃঢ়তায় একটা ক্ষোভের সুরও ছিল৷

আমরা কয়েকজন বসে বসে বিষয়টি শুনছিলাম৷ তিনি যে মিথ্যা বলছেন না সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ ছিল না৷ কিন্তু আমরা কেউ কোনও মন্তব্য করিনি৷ মিসেস মুখার্জি এবার মিঃ মুখার্জির দিকে ক্ষুব্ধ স্বরে বললেন, ‘এর একটা ব্যবস্থা কি করা যায় না? কুসুম তো একটা আন্ডার এজেড মেয়ে৷ ফটিককে কেন বাধ্য করা হবে না, কুসুমের দায়-দায়িত্ব নিতে? কেন ও পালিয়ে যাবে?’

মিঃ মুখার্জি শান্ত হেসে বললেন, ‘তুমি চাও আমরা ফটিক-কুসুমের ব্যাপারে জড়িয়ে পড়ি?’

মিঃ মুখার্জি শান্ত হেসে কথাটা বললেও, মিসেস মুখার্জি তৎক্ষণাৎ কোনও জবাব দিতে পারলেন না৷ মিঃ মুখার্জি আমাদের মুখের দিকে তাকালেন৷ কিন্তু আমরা কেউ কোনও জবাব দিতে পারলাম না৷ মিঃ মুখার্জিই আবার শান্ত হেসে বললেন, ‘তা হলে ফটিকের নামে আমাকে পুলিসের কাছে অভিযোগ জানাতে হয়৷ তারপরে কুসুমের অভিভাবক হিসাবে, ফটিকের বিরুদ্ধে মামলা লড়তে হবে৷ ফটিক যদি অস্বীকার করে, তার প্রমাণ করার দায়িত্বও স্বভাবতই আমাদের নিতে হবে৷ গৃহপরিচারিকা নিয়ে এই মামলাটি যখন খবরের কাগজে বেরবে, আমাদের নামও অবশ্যই প্রকাশ পাবে৷ কিন্তু কেন এসবের মধ্যে আমি বা আমাদের পরিবার জড়াতে যাব, তার কোনও যুক্তি নেই৷’

‘তাহলে কুসুমের কী হবে?’ মিসেস মুখার্জি তাঁর স্বামীকে জিজ্ঞাসা করলেন৷

মিঃ মুখার্জি হেসে বললেন, ‘সে জবাব তোমার আমার কারোরই জানা নেই৷ কুসুমকে আমরা সবাই ভালবাসতাম৷ কিন্তু কী করে ভুলব, ও কোন সমাজ আর পরিবেশ থেকে এসেছে৷ কোন কোয়ালিটিটিভ চেঞ্জ ওর কাছ থেকে আমরা আশা করতে পারি? সেটা কি এতই সহজ? কথাটা শুনতে খারাপ লাগতে পারে, কিন্তু এটা তো সত্যি, কুসুমকে আমরা ওর শিকড় থেকে তুলতে পারি না৷ তার জন্য যে আমূল পরিবর্তন সমাজে দরকার, আর সেই পরিবর্তন যাঁরা করবেন বলে, রোজ খবরের কাগজে, রেডিওতে, টিভি-তে বক্তৃতা করছেন সবই, আর সবাইকেই তোমরা জানো চেনো৷ সত্যি কথা বলতে কি...’

মিঃ মুখার্জি থেমে সকলের মুখের দিকে তাকালেন৷ আমরাও সবাই জিজ্ঞাসু চোখে তাঁর দিকে তাকালাম৷ তিনি একটু গম্ভীর স্বরে বললেন, ‘আমার তো মনে হয়, কুসুমকে আমরা যেভাবেই রেখে থাকি, তাতে ওর জীবনে যে পরিবর্তনই আমাদের চোখে পড়ে থাকুক, কুসুম তার ঠিক রাস্তাতেই গেছে৷ ওর আর কী-ই বা করার ছিল? দেশে নিজের সমাজে পরিবারে থাকলে, এর মধ্যেই একটা বিয়ে দিয়ে দিত৷ কলকাতায় থেকে, বিয়ের বদলে একটি পুরুষের গ্রাসে পড়েছে৷ তার যা পরিণাম হওয়া উচিত, তাই হয়েছে৷ আমাদের ফ্ল্যাটের সার্ভেন্ট কোয়ার্টারেই বা ও আর কতদিন থাকবে? যার ঘর সে ওকে তাড়াল বলে৷ তারপরে হয়ত কুসুমকে কেউ উপদেশ দেবে, ফটিকের বিরুদ্ধে নালিশ আর মামলা করতে৷ তার পরিণামেই বা কুসুম কী পাবে? যে ফটিক ওইরকমভাবে ওকে নিঃস্ব করে ফেলে রেখে চলে গেছে, তার কাছ থেকে কুসুমের কী আদায় হবে? আমাদের কোন সমাজ আর রাষ্ট্র এর জবাব দেবে? বেচারি ছেলেমানুষ কুসুম, অনেক অসংখ্য কুসুমের মধ্যে একটা নতুন সংখ্যার সংযোজন৷’

শেষ পর্যন্ত কুসুমের এই পরিণাম? মিসেস মুখার্জির স্বরে উদ্বিগ্ন জিজ্ঞাসা৷

মিঃ মুখার্জি স্ত্রীর মুখের দিকে তাকিয়ে হেসে বললেন, ‘তোমার ব্যক্তিগত করুণা ওর জীবনে অন্য পরিণাম এনে দিতে পারে৷’

স্বামী-স্ত্রী দুজনই নির্বাক হয়ে দুজনে দুজনের দিকে তাকিয়ে রইলেন৷ মিঃ মুখার্জির হাসিও যেন এখন করুণ৷ আর কোটিপতির স্ত্রী মিসেস মুখার্জির চোখে নারীত্বের চিরকালের এক অসহায় ছায়া ঘনিয়ে আসছে৷

সকল অধ্যায়
১.
কাঁটাতারের বেড়া
২.
নির্বাসিতা
৩.
নমস্কার কলকাতা
৪.
হাসিনার পুরুষ
৫.
পৃথিবী চিরন্তনী
৬.
বাস স্টপে দাঁড়িয়ে
৭.
ময়না তদন্ত
৮.
বাবু
৯.
ঐশ্বর্যের শক্তি
১০.
উত্তরপুরুষ
১১.
ভি এম স্যার
১২.
লোকসভা বিধানসভা
১৩.
জন্ম প্রজন্ম
১৪.
জাঁতাকল
১৫.
স্বাধীন মানুষ
১৬.
মূকাভিনেতা
১৭.
গুপ্তধন
১৮.
হয়ত, হয়ত নয়
১৯.
নতজানু
২০.
ওই ব্লেজারটা
২১.
কুসুমা
২২.
যে খেলার যা নিয়ম
২৩.
উল্লুক
২৪.
উৎসব
২৫.
সেজদিদিমার স্মৃতি পুরাণ
২৬.
সাপ পোষ মানে না
২৭.
নিজের বিপদে বুদ্ধিমানরাও
২৮.
হরধনু কাহিনীর পুনর্লিখন
২৯.
মানুষ কতদিন বাঁচতে পারে
৩০.
চক্ষুলজ্জা
৩১.
বনধ-এর ১০ দিন
৩২.
কুসুমের পথ
৩৩.
জেটিঘাট
৩৪.
জন্মরোধ কেন
৩৫.
আক্রান্ত
৩৬.
লক্ষ্মণের নরকদর্শন
৩৭.
আখরিগঞ্জ
৩৮.
পরিবেশদূষণ ও তার প্রতিকার
৩৯.
বিমলাসুন্দরীর উপাখ্যান
৪০.
সোনালি দিন
৪১.
ভালবাসার বাড়ি

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%