চতুর্থ অধ্যায়

মার্ক অরেল স্টাইন

তাঘদুম্বাশ পামিরে

২৯ জুন খুব ভোরে যখন কিলিক গিরিপথের উদ্দেশে রওনা দিতে আমরা তাঁবু-টাবু গোটাতে শুরু করলাম, তখন জমির উপরিভাগে পাতলা স্বচ্ছ বরফের স্তর কাচের মতো জমেছিল। আর ছোটো ছোটো জলের ধারাগুলো জমে প্রায় বরফের নদী হয়ে গেছিল। যদিও তলায় তলায় কুলকুল করে জল বইছিল।

আমরা চেষ্টা করেছিলাম সকাল সকাল রওনা দিতে, কিন্তু ইয়াকের পিঠে মালপত্র চাপিয়ে হাঁটা শুরু করতে-করতেই সকাল আটটা বেজে গেল। তাপ বাড়ার আগে রওনা দিতে পারলে বরফ খানিক শক্ত পাওয়া যেত, তাতে চলতে সুবিধা হত। ইয়াকদের সঙ্গে যাত্রায় আমার পরিচারকরা আগের দিনগুলোর তুলনায় হালকা হয়ে চলতে পেরে অনেক স্বচ্ছন্দ বোধ করছে দেখে ভালো লাগছিল। একটা কঠিন চড়াই পথ ওরা ঘণ্টা খানেকের মধ্যে পার করে ফেলল।

কিলিক গিরিপথ অতিক্রম

আস্তে আস্তে সামনের রাস্তা ক্রমশই চওড়া হয়ে উঠতে শুরু করল। একটা প্রায় জমে থাকা জলাশয় দেখতে পেলাম। পুবে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে রয়েছে একটি হাজার কুড়ি ফুট মতো উচ্চতার বরফশৃঙ্গ। পশ্চিমদিক থেকে দুটো ছোটো ছোটো হিমবাহ পাহাড়ের ফাঁক বেয়ে নেমে এসেছে। এই অঞ্চলই হল আমুদরিয়া, সিন্ধু আর ইয়ারখন্দ নদীর জলবিভাজিকা।

মালভূমির মাথায় কিলিক গিরিপথ প্রায় মাইল খানেক চওড়া। এর মধ্যে জলবিভাজিকার সবচাইতে নীচু অংশ যে কোনটা তা বোঝা যাচ্ছিল না। যে-জায়গাটা আমার সবচেয়ে নীচু মনে হয়েছিল সেখানে পৌঁছে খানিক থামলাম হিপসোমিটারের জন্য জল গরম করার জন্য। মনে মনে জায়গার সঠিক উচ্চতা নির্ধারণ করতে চাইছিলাম।

কনকনে ঠান্ডা আর ঝোড়ো হাওয়ায় জল গরম করাটা বেশ ঝামেলার কাজ। যখন হিপসোমিটারে জল ভরে উচ্চতা ১৫,৮০০ ফুট মাপতে পারলাম তখন তুষারপাত শুরু হয়ে গিয়েছে। উত্তরের কালো মেঘে ঢাকা দিকটায় রুশদেশের পামিরের শুরু। ঠান্ডা হাওয়া মুখের খোলা অংশে ছুরির ফলার মতো আঘাত করছিল। পা ডুবে যাওয়া নরম বরফে হাঁটাটা মোটেই সুখের ছিল না।

এই পথে ইয়াকগুলো বার বার প্রমাণ করে দিচ্ছিল ওরাই এই পরিস্থিতির জন্য আদর্শ। দুপুর একটার সময় পাক্কা দু-ঘণ্টা ধরে উতরাই ভেঙে তাঘদুম্বাশ পামিরের মালভূমিতে পৌঁছলাম। জায়গাটার নাম কক-তোরক। তুর্কি ভাষার এই শব্দটার মানে ‘নীল পাথর’।

যে-জায়গায় আমাদের ক্যাম্প করার কথা ভাবছিলাম, সেদিকে এগোতেই একজন অশ্বারোহী ছুটে এলেন আমার দিকে। এসে আমাকে অভিবাদন করে জানালেন তিনি তাশকুরঘানে নিযুক্ত রাজনৈতিক মুন্সি শের মহম্মদ। মিঃ ম্যাকার্টনির নির্দেশে তিনি এসেছেন আমাকে অভ্যর্থনা জানাতে। সুঠাম চেহারার প্রবল ব্যক্তিত্ব-সম্পন্ন শের মহম্মদকে দেখে আমার খুব ভালো লেগেছিল। এক গুরুত্বপূর্ণ পদের অধিকারি সব কাজ ফেলে ঘোড়া ছুটিয়ে এসেছেন আমাকে স্বাগত জানাতে! তিনি আমাকে জানালেন যে তাশকুরঘান ছাড়িয়ে অনেক জায়গাতেই সারিকোলি বেগেরা আমার দলের প্রতীক্ষায় আছেন।

মুন্সি শের মহম্মদ লাহোরের ওরিয়েন্টাল কলেজের ছাত্র ছিলেন। তিনি জানতেন যে আমি ওই কলেজের দায়িত্বে ছিলাম দীর্ঘকাল। শের মহম্মদ তাঁর সমস্ত প্রতিপত্তি খাটিয়ে আমার পরবর্তী যাত্রাপথের জন্য যা যা দরকার সব ব্যবস্থা করে রেখেছিলেন।

ঠান্ডাটা বিচ্ছিরিরকম পড়েছিল। ঝোড়ো হাওয়া কাঁপিয়ে দিচ্ছিল। আমরা পৌঁছবার খানিক পরেই শুরু হয়ে গিয়েছিল তুষারপাত। ১৮৯৭ সালে ক্যাপ্টেন ডিজি ঠিক এই জায়গাতেই এক অভিযানের জন্য শিবির বানিয়েছিলেন। তিনিই হিসেব করে জানিয়েছিলেন, এই জায়গাটার উচ্চতা চোদ্দ হাজার ফুটের মতো।

৩০ জুন সকালে যখন আমার ঘুম ভাঙল তখন সূর্যদেব অনেকটাই মাথার ওপর চড়ে বসেছেন। সকাল ছ’টায় তাঁবুর ভেতর তাপমাত্রা দেখাচ্ছিল ২.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। হাওয়া চলছিল না, ফলে ঠান্ডার কনকনে ভাব ততটা ছিল না। আশেপাশের বরফে ঢাকা পাহাড়-চূড়াগুলো নীল আকাশের পটভূমিকায় ঝকঝক করছিল। সার্ভের কাজ করার জন্য একদম আদর্শ আবহাওয়া।

সকাল আটটার সময় আমি আর সাব সার্ভেয়ার খুশবেল-চূড়ার দিকে হাঁটা শুরু করলাম। ওটাই আমাদের সার্ভে স্টেশন হিসেবে কাজ করবে। কিলিক গিরিপথের উঁচু পাহাড়গুলো থেকে নেমে আসা পাহাড়গাত্রের একটা খোঁচ হল খুশবেল চূড়া। অন্য চূড়াগুলো থেকে খানিক দূরে একা দাঁড়িয়ে থাকায় খুশবেলের মাথা থেকে তাঘদুম্বাশের অনেকটাই পরিষ্কার দেখা যায়।

আমরা ইয়াক নিয়ে ১৬,২৮০ ফুট উচ্চতায় খুশবেল-চূড়ার কাছাকাছি পৌঁছে গেলাম। এই কঠিন পথে আমাদের ও আমাদের যন্ত্রপাতি পিঠে নিয়ে প্রথমে খানিক ঘাসজমির ওপর দিয়ে, তারপর খানিক বরফে ঢাকা ঢাল বেয়ে ও শেষে আলগা পাথরের ওপর দিয়ে ইয়াকের দল যে-দক্ষতায় আমাদের ওই উচ্চতায় নিয়ে গেল তাতে এই অঞ্চলে অভিযান চালাতে এদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা কোনোভাবেই অস্বীকার করার উপায় নেই।

এই অঞ্চলের অতি উচ্চতার প্রাথমিক অংশে ইয়াক ব্যবহার করলে পর্বতারোহণের অসুবিধাগুলো অনেকটাই লাঘব হয়। খুশবেলের চূড়া থেকে আমরা মুরঘাব আর হুনজা উপত্যকার দিকের বেশ কিছু চূড়াকে চিনতে পারছিলাম। ক্যাপ্টেন ডিজি ইতিমধ্যেই এই চূড়াগুলোকে চিহ্নিতকরণের কাজ করে গিয়েছিলেন। সাব-সার্ভেয়ার রাম সিং যখন তাঁর ‘প্লেন-টেবিল’ (সার্ভের কাজে ব্যবহৃত একধরনের ম্যাপিং যন্ত্র) নিয়ে কাজ করছিলেন তখন আমি ব্রিজ-লির ফটোথিওডোলাইট যন্ত্র নিয়ে পড়েছিলাম। এটা ছিল মধ্য এশিয়ায় ফটোথিওডোলাইট যন্ত্রের প্রথম ট্রায়াল। ওদিকে দুপুর হতে না হতেই এলাকায় হাওয়া চড়তে শুরু করেছিল। সম্ভবত এটাই এখানকার আবহাওয়ার চরিত্র। সন্ধে ছ’টায় তাঁবুতে ফিরে স্বস্তি পেলাম।

আমুদরিয়া (অক্সাস) নদীর জলবিভাজিকা

কক-তোরক থেকে ওয়াখজির গিরিপথ এত কাছে যে কিছুতেই জায়গাটা দেখার লোভ সামলাতে পারছিলাম না। ওখানেই আমুদরিয়া আর ইয়ারখন্দ নদীর জলবিভাজিকা। আমার মন বলছিল যে ওয়াখান উপত্যকা এবং সেই হিমবাহ, লর্ড কার্জন যাকে আমুদরিয়া নদীর আসল উৎস বলে দেখিয়েছিলেন, তার কাছ দিয়েই আমরা যাচ্ছি।

এখানে সাব-সার্ভেয়ার রাম সিংয়ের পাক্কা দু-দিনের কাজ আছে। আমি রাম সিংয়ের দায়িত্বে কক-তোরকের শিবিরের ভার দিয়ে একটা সামান্য পোঁটলা নিয়ে ১ জুলাই কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে ওয়াখজির গিরিপথের দিকে রওনা দিলাম।

খোলা উপত্যকা বেয়ে পশ্চিমমুখো মাইল পাঁচেক গিয়ে রাস্তাটা সরু হতে হতে একটা দক্ষিণ-পশ্চিমমুখো সংকীর্ণ উপত্যকায় পরিণত হয়েছিল। জায়গায় জায়গায় জমে থাকা বরফ আর কমে আসা ঘাস (যা কক-তোরকের আশেপাশে বিস্তর মেলে) বুঝিয়ে দিচ্ছিল যে ক্রমেই আমি উঁচু থেকে আরও উঁচু এলাকায় পৌঁছোচ্ছি।

অবশেষে সমুদ্রতল থেকে ১৫,৩০০ ফুট ওপরে পৌঁছে খানিক শুকনো জায়গা দেখে আমরা তাঁবু খাটালাম। ইতিউতি বরফ জমে রয়েছে। কোথাও-বা বরফ গলে মাটি-পাথর বেরিয়েছে। জায়গাটা থেকে সামনের দিকে অসংখ্য ছোটো ছোটো হিমবাহ দেখা যাচ্ছিল। উপত্যকার দক্ষিণদিকের ঢাল বস্তুত হিমবাহের চাদরে ঢাকা ছিল।

পরদিনটা ঝড় আর প্রচন্ড তুষারপাতের জন্য একবারে হয়রানির চূড়ান্ত হয়ে দাঁড়াল। প্রচণ্ড ঠান্ডায় জ্বালানির অভাব বোধ করছিলাম। এখানকার মোটা মোটা ঘাসের শুকনো শেকড় যা সারিকোলিদের কাছে ‘ডিলডুং’ আর কিরঘিজদের কাছে ‘বার্স’ নামে পরিচিত, আর শুকিয়ে থাকা ইয়াকের গোবর এই অঞ্চলে জ্বালানির কাজ দেয়। কিন্তু অত উঁচুতে সে-সব খুঁজে পাওয়া যায়নি।

পরদিন অবশ্য আবহাওয়া পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল। আর পথ চলতে কোনো অসুবিধা হয়নি। ঘণ্টা দেড়েক বরফের ওপর দিয়ে ইয়াকের পিঠে চেপে একটা হ্রদের পাশ ঘেঁষে পৌঁছে গিয়েছিলাম কাঙ্খিত জলবিভাজিকায়। হিমবাহ গলা জলে পুষ্ট দুটি ভিন্ন স্রোত বয়ে চলেছে এখান থেকে। একটা পাথরের ফাঁকে খানিক আগুন জ্বেলে জল গরম করে হিপসোমিটারে ভরে দেখি জায়গাটার উচ্চতা দেখাচ্ছে ১৬,২০০ ফুটের মতো।

আমুদরিয়া-হিমবাহের উৎস

একটা দুধসাদা হিমবাহ তার লম্বা জিভটা বাড়িয়ে নিশ্চল হয়ে থেমে রয়েছে কয়েকশো মিটার উত্তরে। গিরিপথের উত্তরদিকের প্রান্ত দিয়ে খানিক নামতেই পৌঁছে গেলাম আফগান ভূমিতে। এই দুর্গম পাহাড়ি কন্দরের নিঃসীম নির্জনতায় ওই ভূমিতে আমার প্রবেশের অনুমতি আছে কী না তা দেখার কেউই ছিল না। প্রায় আধ-মাইল নরম তুষার-ঢাকা পথ পার হয়ে পৌঁছেছিলাম শক্ত মাটিতে। একটা ছোট্ট ঝোরার ধার ঘেঁষে খানিক যাবার পর দেখেছিলাম ওটা গিয়ে মিশেছে একটা বড়ো পাহাড়ি জলধারার স্রোতে। ওই দূরের হিমবাহ থেকে নেমে এসেছে ঝোরাটা। এই পাহাড়ি জলধারার স্রোতটাই আবার নদী হয়ে সোজা চলে গেছে ওয়াখান উপত্যকায়।

ওখান থেকে আটশো ফুটের মতো ওপরে উঠতেই চোখের সামনে ধরা দিয়েছিল এক অসাধারণ দুনিয়া! অনেক নীচে আব-ই-পাঞ্জা নদী উপত্যকার বুক চিরে ফেনা তুলে এগিয়ে চলেছে গম্বুজময় সমাধি-ভূমি বোজাই গুম্বাজ আর সরহদের দিকে। যে-হিমবাহ থেকে এই নদীর উৎপত্তি, সেই হিমবাহটিও পরিষ্কার দেখা যাচ্ছিল। ফটো-থিওডোলাইট যন্ত্রটি নিয়ে ঘণ্টা খানেক কাজ করার পর আমার মনের মধ্যে পুরো অঞ্চলটার একটা ছবি গেঁথে গিয়েছিল। লর্ড কার্জন ঠিকই ধরেছিলেন, আব-ই-পাঞ্জা নদীর উৎস খানিক দূরের ওই হিমবাহগুলো।

উঁচু পাহাড়গুলো পশ্চিমের ওয়াখান আর বাদাখশানের আভাস দেখতে না দিলেও মন প্রশান্তিতে ভরে গেছিল। সেই ছোটবেলা থেকে সুদূর দুনিয়ার পুবদিকের প্রান্ত, যার মধ্যে ব্যাক্‌ট্রিয়া আর উচ্চ অক্সাস উপত্যকা রয়েছে, সেই জায়গা সম্পর্কে আমার একটা তীব্র মোহ ছিল। ছোটবেলায় অক্সাসের স্রোত ধরে তার উৎসে পৌঁছে যাবার স্বপ্ন দেখতাম। তাই এখানে এসে দাঁড়িয়ে একটা আনন্দ-মেশা বিচিত্র অনুভূতি হল। প্রাচীন পারস্য বা ইরানের সব বর্ণময় অধ্যায় যেন ঘুমিয়ে আছে এই বিশাল নদীর কিনারে কিনারে। সেই আদিকাল থেকেই এইসব নদীর উর্বরতাকে ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল এক-একটি সমৃদ্ধ জনপদ। জন্ম দিয়েছিল নানা সংস্কৃতির। আর এখন এইখানে, নদীর উৎসের কাছে, ক্লান্তিহীন নীরবতা বরফ আর পাথরের মাঝে ঘাপটি মেরে আছে। এই নির্জন জায়গাটি ছেড়ে আসতে আমার খুব কষ্ট হচ্ছিল। যখন ফিরে আসছিলাম তখন সন্ধের ঠান্ডা আলো আমার পথ জুড়ে ছিল। তবে ঘোর অন্ধকার হয়ে যাবার আগেই ক্যাম্পে ফিরে এসেছিলাম।

ক্যাম্পে ফিরেই দেখলাম আমার জন্য বেশ কিছু চিঠি এসেছে। হুনজার উজির কিলিক থেকে এক বিশেষ বার্তাবাহকের হাত দিয়ে চিঠিগুলো আমায় পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। কৃতজ্ঞতায় আমার মন ভরে গেছিল। বেশ কিছুদিন ধরে আমি চিঠিপত্রগুলো পাবার জন্য অধীর আগ্রহে ছিলাম। উনি সঙ্গে রয়টারের কিছু খবরের টেলিগ্রামও পাঠিয়েছিলেন। সেগুলো পড়া হয়ে গেলে কাশগরে নিয়োজিত রাজনৈতিক এজেন্ট মিঃ ম্যাকার্টনিকে হস্তান্তর করতে অনুরোধ করেছিলেন। টেলিগ্রামগুলো পড়ে জানতে পেরেছিলাম, পিকিং লিগেশনের উপর আক্রমণ শুরু হয়েছে আর তিয়েন-সিন নিয়ে যুদ্ধ লেগেছে। চীনদেশের পশ্চিমের গহন অঞ্চলে বসে মাত্র সপ্তাহ খানেক আগে ঘটে যাওয়া খবরগুলো জানতে পেরে একটা অদ্ভুত অনুভূতি হচ্ছিল। আমার নিজেকে খানিক ভাগ্যবান মনে হচ্ছিল, কারণ এই যুদ্ধের খবর কাশগরের সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছতে সম্ভবত কয়েক মাস লাগবে। আশা করি এই খবর চীনা-তুর্কিস্তানে পৌঁছে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রতিক্রিয়া তুললেও তা আমার অভিযানে কোনো বিরূপ প্রভাব ফেলবে না।

৩ জুলাই আমি কক-তোরকে পৌঁছে সাব-সার্ভেয়ার রাম সিংকে নিয়ে ভারী মালপত্রের বোঝা ইয়াকের পিঠে চাপিয়ে হাঁটা লাগিয়েছিলাম তিঘারমান-সু পর্যন্ত বিস্তৃত ঘাসজমির উপত্যকার দিকে। ওখানে পৌঁছে মহম্মদ ইউসুফের লোকজনের বানানো দুটো ‘কিরঘিজি’ ফেল্টের কুঁড়েঘর, যাকে ‘আক-উইস’ বলে, তাতে আমরা ঠাঁই নিয়েছিলাম। গরমকালে চারণদাররা এই বিস্তৃত ঘাসজমিতে এইসব কুঁড়েতে থেকে ভেড়া আর ইয়াক চরায়।

আকস্মিক সাক্ষাৎ

পরদিন ভোরবেলায় মিনটাকা রুটের দায়িত্বে থাকা সারিকোলের মোড়ল কারাকাশ বেগ আমাকে উপত্যকার আরও ভেতরে নিয়ে যাবার জন্য হাজির হয়েছিল। প্রায় মাইল ছয়েক হাঁটার পর মিনটাকা গিরিপথের দোরগোড়ায় পৌঁছতে কারাকাশ বেগের কাছে একটা খবর নিয়ে হাজির হয়েছিল একজন। এক ‘রাশিয়ান অফিসার’ উত্তরের পাইক গিরিপথ দিয়ে কাছেই এসে পৌঁছেছে। এইধরনের কারও আসার খবর আগে থেকে ছিল না। শুনে আমিও খানিক উৎসাহিত হয়ে পড়েছিলাম। খানিক বাদেই দেখা হয়েছিল আগন্তুকের সঙ্গে। ব্যাভারিয়ান ফুটগার্ডের লেফটেন্যান্ট এফ. এক জার্মান তরুণ। রেলপথ ধরে রাশিয়ার ফরঘানা এসে, সেখান থেকে ঘুরতে ঘুরতে এখান পর্যন্ত এসেছে। গিলগিট হয়ে ছুটি কাটাতে ভারতে যেতে চায়। ছেলেটি জানত না যে হুনজা রুট ধরে ভারতে যেতে ভারত সরকারের বিশেষ অনুমতি লাগে। বিশেষ অনুমতি ছাড়া এই পথ ইউরোপিয়ান ভ্রমণকারীদের জন্য বন্ধ। আমার মুখ থেকে পথের বিবরণ শুনে বলতে নেই, সে চমকে উঠেছিল। এই পথ ধরে কাশ্মীরে পৌঁছতে যে অনেক সময় লাগে, ছেলেটি তা জানত না। এই পথ ধরে যে ভারতে যাওয়া তার পক্ষে সম্ভব নয় তা বুঝতে পেরে আমার লোকেদের পরিবেশন করা খাবার খেতে খেতে আমাদের সঙ্গে কাশগর পর্যন্ত যেতে মনঃস্থির করে ফেলেছিল। চাইলে ও আমার তাঁবুতে থাকতে পারে, আমার এ-কথা শুনে ও সঙ্গে সঙ্গে আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছিল, আর আমাদের সঙ্গে এ-পথে আমাদের শেষ গন্তব্য সারিক-জিলগা পর্যন্ত গিয়েছিল।

পথে যেতে যেতে, খাওয়ার সময় এই তরুণ সামরিক অফিসারটি রাশিয়ান পামিরের উপর তার দশদিনের যাত্রাপথের অনেক অভিজ্ঞতার কাহিনি আমাকে শুনিয়েছিল। ওর পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা ও ধৈর্য ধরে তার বিবরণ দেবার দক্ষতা যে যথেষ্ট প্রশংসার যোগ্য, তাতে সন্দেহ নেই। সে যা স্বল্প পরিমাণ রসদ আর সামান্য পোশাক সঙ্গে এনেছিল তা দু-চারদিন ব্যাভারিয়ান আল্পস ভ্রমণের জন্য চলে যায়, কিন্তু এখানে এসে তাকে খুব শিগগিরই পামীরের ‘গ্রীষ্মকাল’-এর মুখোমুখি হতে হল। শেষমেষ এক কিরঘিজের পিঠ থেকে একরকম জোর করেই একটা বিশাল পশমের কোট কিনে নিয়ে সে অবস্থা সামাল দেয়।

ভাষা সমস্যা এখানে ভীষণ প্রবল। সারা পথে ছেলেটি একমাত্র পামিরস্কি পোস্টের রাশিয়ান দুর্গ ছাড়া বাকিটা কিরঘিজদের আতিথ্য নিয়েছে। আকারে ইঙ্গিতে কোনোরকমে কিরঘিজদের ওর শারীরিক প্রয়োজনটুকু জানিয়ে এতটা পথের যাত্রা সামলেছে। ওর সঙ্গে যে দুটো টাট্টুঘোড়া ছিল, সে-দুটোও দুর্গম পথের ধকলে প্রায় মরো মরো অবস্থায় পৌঁছে গেছিল। ছেলেটির কোমরের দু-পাশে দুটো গুলিভরতি রিভলভার ঝোলানো ছিল। আমাদের সঙ্গে কথাবার্তা বলার পর বুঝেছিল যে ওই দুটোর এখানে কোনো প্রয়োজন নেই। তাই সে-দুটো খুলে তার ঝোলায় চালান করে দিয়ে দিল। আল্পসের মতো পামিরে পর্যটকদের জন্য কোনো সরাইখানা বা বিশ্রামাগার খুঁজে পাওয়া যাবে না। তবে নিরাপত্তার জন্য এই অঞ্চল গর্ব করতেই পারে। উত্তর আর দক্ষিণের নানা ঘটনাবলির সঙ্গে তুলনা করে আমাদের সন্ধেগুলো ভালোই কাটছিল। কারাকাশ বেগ ও তার সঙ্গীরা আমাদের এই আড্ডায় অংশ নিয়েছিল আর দুজনের গল্প উপভোগ করেছিল। আর যাই হোক, কারকাশ বেগ এটা বুঝে হাঁফ ছেড়েছিল যে ‘রুশ সামরিক অফিসারটি’ তাদের বোঝা হয়ে উঠবে না।

৫ জুলাই আমরা প্রায় পনেরো মাইল পথ চলে ঘুজকবাই (প্রাচীন ম্যাপে এই জায়গাটার উল্লেখ ছিল উজাদভাই নামে) পৌঁছলাম। এখানে উপত্যকাটি উত্তরমুখী ও যথেষ্ট চওড়া। দু-পাশের বরফ শীর্ষ পাহাড়ের রেঞ্জ ক্রমশ মিলিয়ে গেছে। আমরা দাঁড়িয়ে আছি তাঘদুম্বাশের বিস্তৃত মালভূমিতে যা প্রাচীনকাল থেকেই ‘পৃথিবীর ছাদ’ নামে পরিচিত। এখান থেকেই আমাদের নতুন বন্ধুটি আমাদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে তড়িঘড়ি রওনা দিল তাশকুরঘানের দিকে। ছেলেটি যাতে স্বচ্ছন্দে কাশগর পৌঁছতে পারে তার জন্য এতটা পথ চলতে যা যা দরকার, যেমন টিনজাত খাবারদাবার ইত্যাদি ওকে আমার ভাঁড়ার থেকে খানিক দিয়ে দিয়েছিলাম। এমনকি শের মহম্মদকে দিয়ে একটা চিঠি করিয়ে দিয়েছিলাম যাতে রাস্তায় বদলি টাট্টুঘোড়া পেতে কোনো অসুবিধা না হয়। তাছাড়া এই চিঠি স্থানীয় চিনা কমান্ডেন্টকে দেখালে তার এগিয়ে যেতে কোনো সমস্যা হবে না। নির্বিঘ্ন যাত্রার জন্য এই সুপারিশ পত্র ওর প্রয়োজন ছিল।

দফদারের কিরগিজেরা

৬ জুলাই ঘুজকবাই থেকে রওনা হবার পর থেকে পথ ছিল পলিমাটি সমৃদ্ধ মালভূমির ওপর দিয়ে। খুন্‌জেরাব গিরিপথ থেকে নেমে আসা একটি নদীর উপত্যকা সেটি। এই জলস্রোতটি তাঘদুম্বাশ দরিয়ার কাছ দিয়ে শাখা মেলে নানাদিকে ছড়িয়ে পড়েছে কারেওয়া মালভূমি অঞ্চল জুড়ে। এই উপত্যকার সঙ্গে কাশ্মীরের মিল প্রচুর।

প্রায় মাইল পাঁচেক নির্জন মালভূমি দিয়ে চলার পর আমরা পৌঁছেছিলাম দফদারে। দূর থেকেই নজরে এসেছিল কয়েক ঘর ‘আক-উইস’ এর আশেপাশে অনেক রঙদার সুন্দর পোশাক পরা বেশ কিছু মানুষের সমাবেশ। কাছে পৌঁছতেই একদল ওয়াখি আর কিরঘিজ সম্প্রদায়ের মানুষ আমাকে সাদরে সম্ভাষণ জানাল। শুনলাম, ওরা আমার জন্যই অনেক সময় ধরে অপেক্ষা করছে। আরও একটি দল এসেছিল নদীর ও-পাড়ের পিসলিং বসতি থেকে। ওয়াখিদের লম্বাচওড়া সুদর্শন চেহারার পাশে ওদের বেঁটেখাটো গড়ন একটা বৈপরীত্য তৈরি করেছিল। পিসলিং গ্রামের মানুষগুলোর উচ্ছল আর প্রাণবন্ত হাসিতে ঝরে পড়ছিল প্রাণের অন্তঃস্থলের ভালোবাসা আর আন্তরিকতা।

দফদার থেকে খানিক এগোতেই এই অঞ্চলের প্রথম আবাদির চিহ্ন নজরে এল। দূরের বড়ো জলের স্রোত থেকে ছোটো ছোটো নালা কেটে জল নিয়ে এসে ফলানো হয়েছে ওট ও বার্লি। চাষাবাদ করা এখানে যে এক বড়ো সংগ্রাম, তাতে সন্দেহ নেই। চাষাবাদ মানেই স্থায়ী বসবাসের প্রমাণ। এখানে স্থায়ী বসতি গড়ে ওঠার পেছনে রয়েছে বিগত দশ বছরের এক নিরবচ্ছিন্ন প্রয়াস—কনজুটিদের হানাদারি বন্ধ হওয়া আর আইন-শৃঙ্খলার বাতাবরণ সৃষ্টি।

বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে একের পর এক সংকীর্ণ বরফাচ্ছাদিত অতি-উচ্চতার নির্জন উপত্যকা আর গিরিপথ অতিক্রম করে আসার পর অনেক মানুষজন আর বসতির ছোঁয়া পেয়ে একটা সুন্দর অনুভূতি হচ্ছিল। চারপাশের পাহাড়ি ঢাল থেকে নেমে আসা জলের উপস্থিতি মালভূমির যেখানেই আছে সেখানেই গজিয়ে উঠেছে ফুল আর ভেষজ গাছের গালিচা। মনমাতানো সুগন্ধে বাতাস মাতোয়ারা হয়ে আছে। খানিক বিশ্রামের জন্য পথের মধ্যে ঘান নামের একটা জায়গায় থামতে মনে হয়েছিল আমি পৃথিবীর ছাদে নই, গ্রীষ্মের এক উজ্জ্বল দিনে বসে আছি হাঙ্গেরির ফুলে ছাওয়া তৃণভূমি ‘পুসতা’তে। একদল টাট্টু চরে বেড়াচ্ছিল আশেপাশে। দূর থেকে ওদের আনন্দ আর আয়েস উপভোগ করেছিলাম দারুণ।

নীল আকাশের বুকে হালকা ফুরফুরে মেঘ পাহাড়ের মাথাগুলোকে যেন ছায়া দিতে ছাতার মতো জমে ছিল। সবে দুপুর, আমার অনুমানে আমরা প্রায় আঠারো মাইল পথ পার হয়ে এসেছি। সব পাহাড়ের মাথা ছাড়িয়ে উত্তরের বরফের গম্বুজ হয়ে থাকা পাহাড়ের নাম মুজ-তাঘ-আতা ‘তুষার পর্বতের পিতা’, যাকে দর্শনের জন্য আমি মুখিয়ে ছিলাম। ইয়ুরগাল গুম্বাজে নদীর ধারে আমাদের তাঁবু খাটিয়েছিলাম। হিমবাহ-পুষ্ট নদীর জল এখন পরিপূর্ণ আর ধূসর। তাপমাত্রা যথেষ্ট গরম, যদি না হাওয়া চলে।

তাশকুরঘান ছাড়িয়ে

আমি ও আমার লোকজন তাশকুরঘানের কাছাকাছি পৌঁছে খানিক আরাম করার উদ্দেশ্যে পরদিন খুব সকালেই যাত্রা করার জন্য তৈরি হয়ে গেছিলাম। আকাশ পরিষ্কার থাকায় সাতসকালে উপত্যকার উত্তরে অনেক পাহাড় ডিঙিয়ে ‘বরফ পর্বতের পিতা’ মুজ-তাঘ-আতার শান্তরূপ নিষ্কলুষভাবে দেখা যাচ্ছিল। কয়েক মাইল টাট্টুঘোড়ার পিঠে চড়ে পাথুরে পথ ধরে চলার পর আমরা পৌঁছেছিলাম ‘দশ্ত’-এ। আমার গাইড রশিদ বেগ, তাশকুরঘানের মিং-বাশি (হাজার পুরুষের প্রধান) ওর স্বাভাবিক নীরবতা ভেঙে আমাকে অনেক দূরে একটা সাদামতো বস্তু দেখিয়েছিল...আমাদের সেদিনের লক্ষ্য। ওটা ছিল নদীর দক্ষিণে পাহাড়ের মাথায় তাশকুরঘানের দুর্গ।

খানিক সময়ের মধ্যেই আমরা পৌঁছে গেছিলাম একটি সবুজে ছাওয়া অঞ্চলে। একের পর এক ছোটো ছোটো সেচ-নালায় ভরা জায়গাটা। এই নালা বেয়ে জল পৌঁছেছে খানিক দূরের তাশকুরঘানের বিপরীতে অবস্থিত তুঘলনশহর গ্রামের চাষের জমিতে। কঠোর পরিশ্রম আর পর্যাপ্ত জলের ছোঁয়ায় উর্বর জমি ফসলে ভরে আছে।

জায়গাটির ঐতিহাসিক গুরুত্বই হোক বা আশেপাশের মনোমুগ্ধকর পরিবেশই হোক, যতই দুর্গটার কাছে এগোচ্ছিলাম ততই আবেগতাড়িত হয়ে যাচ্ছিলাম। কারণ, এখানেই একপ্রকার আমার দীর্ঘ যাত্রার পরিসমাপ্তি ঘটিয়ে শুরু হতে চলেছে আমার অভিযানের মূল অধ্যায়, আমার অভীষ্ট গবেষণার কাজ।

নদীর ভয়াবহ স্রোত এড়িয়ে দুর্গে পৌঁছানোর কোনো সংক্ষিপ্ত পথ নেই। তাই আমাদের পাহাড়ের গা বেয়ে নামতে হয়েছিল উপত্যকার পূর্বদিকের তলদেশে, যেখান থেকে তাশকুরঘান উপত্যকার শুরু। এখান থেকে দুর্গে যাওয়ার পথেরও শুরু। নদী পার হওয়ার কাজটি মোটেই সহজ ছিল না। সমতলে পৌঁছে ঘাসজমি চিরে নদী এখানে প্রায় আধডজন শাখায় বিভক্ত হয়েছে। জলের গভীরতা টাট্টুঘোড়ার জিন প্রায় ছুঁইছুঁই। তার ওপর জলের গতিবেগও যথেষ্ট। যাই হোক, ভিজে সপসপে হয়ে নদী পার হয়েছিলাম নিরাপদেই। যারা আমাকে খানিক আগে গিরিপথ ধরে এগিয়ে আসতে সাহায্য করেছিল, সেইসব গ্রামপ্রধানদের হাতে মালপত্র দেখার দায়িত্ব ছেড়ে আমি ছুটেছিলাম পাহাড়ের তলদেশের দিকে, যার মাথায় দাঁড়িয়ে আছে দুর্গটি। মুন্সি এম. শের মহম্মদ আমার জন্য ভেড়ার লোমে তৈরি তাঁবু যাকে এরা ‘ইয়ার্ট’ বলে, তার কাছে অপেক্ষা করছিল। আগে এই তাঁবু-ঘরটা মেজর এফ. ই. ইয়ংহাজব্যান্ড ব্যবহার করতেন। উনি ছাড়াও আরও কিছু আমারই মতো অভিযাত্রী এই তাঁবুতে থেকেছেন। এখানে এসে জানতে পেরেছিলাম, ঊর্ধ্বতন চীনা কর্তৃপক্ষ আমার মুজ-তাঘ-আতার পশ্চিমে আসা নিয়ে কোনো আপত্তি তোলেনি। খানিক শঙ্কায় ছিলাম, সেটা দূর হল।

আমি পৌঁছানোর আগেই গিলগিটে মিঃ ম্যাকার্টনির চিঠিপত্রের বান্ডিল নদীর বাম ধার ধরে রওনা হয়ে গেছিল। আমি ভেবেছিলাম ইউরোপের জন্য কিছু চিঠি ওঁর ডাকের সঙ্গে পাঠাব। কী আর করা, ওই যাত্রায় চিঠিগুলো পাঠানো সম্ভব হয়নি। না, শেষপর্যন্ত তা সম্ভব হয়েছিল! ইউরোপ হলে হয়তো সম্ভব হত না। আমি দ্রুত চিঠিপত্র লেখার কাজ শেষ করতেই এক বিশেষ বার্তাবাহক আমার চিঠিপত্রের বোঝা নিয়ে ছুটেছিল রওনা হয়ে যাওয়া ডাকবাহককে আমার গুচ্ছের চিঠি ধরিয়ে দিতে।

সকল অধ্যায়
১.
প্রথম অধ্যায়
২.
দ্বিতীয় অধ্যায়
৩.
তৃতীয় অধ্যায়
৪.
চতুর্থ অধ্যায়
৫.
পঞ্চম অধ্যায়
৬.
ষষ্ঠ অধ্যায়
৭.
সপ্তম অধ্যায়
৮.
অষ্টম অধ্যায়
৯.
নবম অধ্যায়
১০.
দশম অধ্যায়
১১.
একাদশ অধ্যায়
১২.
দ্বাদশ অধ্যায়
১৩.
ত্রয়োদশ অধ্যায়
১৪.
চতুর্দশ অধ্যায়
১৫.
পঞ্চদশ অধ্যায়
১৬.
ষোড়শ অধ্যায়
১৭.
সপ্তদশ অধ্যায়
১৮.
অষ্টাদশ অধ্যায়
১৯.
ঊনবিংশ অধ্যায়
২০.
বিংশ অধ্যায়
২১.
একবিংশ অধ্যায়
২২.
দ্বাবিংশ অধ্যায়
২৩.
ত্রয়োবিংশ অধ্যায়
২৪.
চতুর্বিংশ অধ্যায়
২৫.
পঞ্চবিংশ অধ্যায়
২৬.
ষড়বিংশ অধ্যায়
২৭.
সপ্তবিংশ অধ্যায়
২৮.
অষ্টবিংশ অধ্যায়
২৯.
ঊনত্রিংশ অধ্যায়
৩০.
ত্রিংশ অধ্যায়
৩১.
একত্রিংশ অধ্যায়
৩২.
দ্বাত্রিংশ অধ্যায়
৩৩.
ত্রয়োত্রিংশ অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%