একত্রিংশ অধ্যায়

মার্ক অরেল স্টাইন

ইসলাম আখুনের জালিয়াতি

খোটানে ফিরে চরম ব্যস্ততা আর নানা ঘটনার মধ্যে দিয়ে পরের আটদিন দেখতে দেখতে কেটে গিয়েছিল। উঠেছিলাম খোটানের নার-বাগের নিয়াজ হাকিম বেগের বাগান বাড়িতে। পাঁচ বছর আগে ডঃ হেডিনও মরু অভিযান সেরে এই বাগানবাড়িতেই কয়েকদিন বিশ্রাম নিয়েছিলেন। মরুর হলুদ-ধূসর বালি টিলার পর চোখকে আরাম দেওয়া বাগানে ফুটে থাকা ফুল আর গাছের কচি সবুজ পাতা চিনা-তুর্কিস্তানে বসে লাহোরের মুঘল গার্ডেনের কথা মনে পড়িয়ে দিচ্ছিল। মরুভূমির প্রবল ঠান্ডায় দীর্ঘদিন থাকার ফলে আমার ব্রংকাইটিসের মতো হয়েছিল। কাশতে কাশতে নাজেহাল হয়ে যাচ্ছিলাম। তাই হাওয়া এড়াতে দরজা বন্ধ করে বিছানায় শুয়ে থাকতে হচ্ছিল দিনের অনেকটা সময়। বিশ্রাম খুব বেশি মাত্রায় দরকার হলেও পুরোপুরি শুয়ে থাকা সম্ভব হচ্ছিল না। মরুভূমির নানা ধ্বংসস্তূপ থেকে সংগ্রহ করে আনা হাজারো নমুনা সুদূর লন্ডনে পাঠানোর জন্য নতুন করে বাক্সবন্দী করাতে হচ্ছিল। এছাড়াও এত বড়ো অভিযান শেষের পর অসংখ্য রিপোর্ট লেখা, পাওনাগণ্ডা মেটানোর কাজ তো ছিলই।

আমার ভাগ্য ভালো যে অসুস্থতা সত্ত্বেও খোটানে পৌঁছনোর পরের দিন আম্বান প্যান-ডারিনের সঙ্গে ওঁর ইয়ামেনে দেখা করতে যেতে পেরেছিলাম। উনি আমাকে পুরোনো বন্ধু হিসেবে স্বাগত জানিয়ে অভিযানের কথা জানতে চেয়েছিলেন একজন পণ্ডিত সহকর্মীর মতো। সানন্দে সংক্ষেপে পুরো অভিযান সম্পর্কে জানিয়েছিলাম বিচক্ষণ পণ্ডিত মানুষটিকে।

পরদিন আম্বান এসেছিলেন আমার অস্থায়ী ডেরায় ধ্বংসস্তূপ থেকে খনন করে পাওয়া প্রত্নসামগ্রী দেখবার জন্য। ওঁর কৌতূহল মেটাতে কিছু নমুনা আমি সাজিয়েই রেখেছিলাম। প্যান-ডারিন শুধু একজন পণ্ডিত মানুষই নন, চিনা ইতিহাস সম্পর্কে নিঃসন্দেহে ওঁর জ্ঞান অগাধ। যেসব প্রাচীন নথি ও ভাস্কর্য আবিষ্কৃত হয়েছিল উনি ধরে ধরে তার বয়সকাল, গুরুত্ব ও চরিত্র নিয়ে আলোচনা শুরু করেছিলেন। ইতিহাস সম্পর্কে প্রবল উৎসাহ ও পড়াশুনা না থাকলে এই ধরনের আলাপচারিতা সম্ভব নয়। আমি যখন প্রফেসর বিউলারের ‘ইন্ডিয়ান প্যালিওগ্রাফি’ বইয়ের ছবির কথা বলে পাণ্ডুলিপি থেকে কীভাবে তার সময়কাল নির্ধারণ করা সম্ভব বলতে শুরু করি, তখন প্যান-ডারিনও চিনা অক্ষর পরিবর্তনের নানা ধাপ লিখে বর্ণনা করেন। ওঁর সঙ্গে আলোচনা করার সময় দোভাষীর উপস্থিতি অনেকটাই অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছিল, মনেই হয়নি একজন উচ্চপদস্থ চিনা আধিকারিকের সঙ্গে কথোপকথন চলছে। মনে হয়েছিল যেন কোনো সহকর্মীর সঙ্গে কাজ করে চলেছি।

প্যান-ডারিনের শুধু একটা কথাতে আমি ভীষণ বিব্রত হয়ে পড়েছিলাম। জানতে চেয়েছিলেন, তাকলামাকান মরুভূমির বালির নীচ থেকে উদ্ধার করা সমস্ত নথি আর ভাস্কর্যের নমুনা আমি পশ্চিমে নিয়ে গেলে উনি উরুমচির ফু-তাই বা গভর্নর-জেনারেলকে এই অভিযানের ফলাফল সম্পর্কে কী দেখাবেন বা বলবেন! আমি জানতাম প্যান-ডারিন ব্যক্তিগতভাবে উৎসাহ নিয়ে সমস্ত অনুমতি ও সহযোগিতা না পাইয়ে দিলে ভয়ংকর মরুর বুকে আমার বৈজ্ঞানিক অভিযান চালানো সম্ভব হত না। আমি ওঁকে বলেছিলাম লন্ডনে পৌঁছে যতটা বেশি পরিমাণে সম্ভব নথি, ভাস্কর্যের ছবি এবং পরবর্তীকালে আমার বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানের প্রাথমিক রিপোর্টের কপিও পাঠিয়ে দেব যা উনি ফু-তাইকে দেখাতে পারবেন। ‘কিন্তু এগুলো তো প্রতিলিপি হবে!’ তিনি মরুভূমির বালি থেকে খনন করা বহু শতাব্দী প্রাচীন এইসব আশ্চর্য প্রত্নতাত্ত্বিক কিছু নমুনা নিজের কাছে রাখতে আগ্রহী ছিলেন। আমি নিশ্চিন্ত ছিলাম যে ভবিষ্যতে আমার প্রিলিমিনারি রিপোর্ট তৈরি হলে ভারত সরকার, তার প্রতিলিপি চিনা সরকারি কর্মচারিদের পাঠিয়ে দিলে তারা প্রীত হবে।

প্রাচীন পুথি খরিদ

ইসলাম আখুনের জালিয়াতি

খোটানে আমার শেষ দিনগুলো কেটেছিল প্রাচীন প্রত্নসামগ্রী নিয়ে জালিয়াতির অনুসন্ধানে। এই অনুসন্ধানের সাফল্য আমাকে শুধু আনন্দই দেয়নি, অনেক পণ্ডিত সহকর্মীও হাঁপ ছেড়ে বেঁচেছিলেন। জালিয়াতি ধরে ফেলায় খোটান অঞ্চল থেকে কলকাতা-সহ লন্ডন, প্যারিস আর সেন্ট পিটার্সবার্গের অনেক সংগ্রহশালা ও প্রত্নতত্ত্ব সংগ্রাহকের ঘরে ঠাঁই পাওয়া অজানা অক্ষরে ও ভাষায় লেখা পাণ্ডুলিপি আর ব্লক-প্রিন্ট নিয়ে বিভ্রম কেটে গিয়েছিল। আমার অভিযানের আগে এই অঞ্চল থেকে উদ্ধার করা প্রত্নতত্ত্বের সত্যাসত্য নিয়ে মনে সন্দেহ ছিল। এই পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যে খরোষ্ঠী, ভারতীয় ব্রাহ্মী, মধ্য-এশীয় ব্রাহ্মী, তিব্বতি, চিনা অক্ষর ও ভাষা দেখলেও অনেক অজানা অক্ষর বা ভাষা শনাক্ত করতে পারিনি। আমার অভিযান থেকে যে অবস্থায় ও যেসব জায়গা থেকে নানা পাণ্ডুলিপি ও লেখার উপকরণ উদ্ধার হয়েছিল, তার সঙ্গে আগের উদ্ধার হওয়া ও বিক্রি হওয়া পাণ্ডুলিপির উদ্ধারকৃত জায়গার কোনো মিল ছিল না।

আমার স্থির বিশ্বাস ছিল যে ১৮৯৫-৯৮ সালে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে কেনা এই পাণ্ডুলিপিগুলো জাল আর সেসব জাল পান্ডুলিপি সরবরাহের পেছনে সরাসরি হাত ছিল খোটানের ধন-সন্ধানী ব্যবসায়ী ইসলাম আখুনের। আমি প্রথমবার খোটানে পৌঁছতেই সে গা-ঢাকা দিয়েছিল। কিছুদিন আগেই ক্যাপ্টেন ডিজি ও মিঃ ম্যাকার্টনির আনা অন্য প্রতারণার অভিযোগের ভিত্তিতে খোটান কর্তৃপক্ষ ইসলাম আখুনকে শাস্তি দিয়েছিল। তাই আমার সঙ্গে কোনো ছলচাতুরি করার সাহসও দেখায়নি। কোনো সন্দেহ নেই, ও লুকিয়ে থাকার ফলে বিশাল মরুর মাঝে প্রাচীন ধ্বংসাবশেষে অভিযান চালাতে আমাকে কোনো অসুবিধার সামনাসামনি হতে হয়নি বা ভুল পথে চালিত হতে হয়নি। ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ পাণ্ডুলিপির নমুনা সামনে রেখে আমি চলে যাবার আগে একবার এই অজানা অক্ষর ও ভাষার বিষয়ে ব্যক্তিগতভাবে ইসলাম আখুনের মুখোমুখি হতে চাইছিলাম। কারণ, ওর হাত দিয়েই ইউরোপ-সহ নানা জায়গায় শিক্ষিত ও প্রত্নতত্বে উৎসাহী ব্যক্তিদের মধ্যে জাল পাণ্ডুলিপি ছড়িয়েছে।

আমার মনের কথা বিদ্বান আম্বান প্যান-ডারিনকে বলতেই উনি ইসলাম আখুনকে ধরে আনার হুকুম দিয়েছিলেন।

দাগি প্রতারক

২৫ এপ্রিল সকালে ইসলাম আখুনকে আমার সামনে হাজির করা হয়েছিল। চিরাতে সে হাকিমি করেই পুরো শীতকালটা বসেছিল। ও আশা করেনি যে ওকে ধরা হবে। কিছুদিন আগে আমি চিরাতে গেলেও খোটান ছাড়ার পর থেকে ওর সম্পর্কে কোথাও কোনো কিছু জানতে চাইনি ইচ্ছে করে, যাতে ও মনে করে আমি ওর সম্পর্কে উৎসাহী নই। যে বেগ ওকে পাকড়াও করেছিল, সে ওর চিরার ডেরা এবং খোটানের বাড়ি থেকে কিছু কাগজের বান্ডিল বাজেয়াপ্ত করে এনেছিল। এই কাগজগুলো ছিল কৃত্রিমভাবে নতুন কাগজকে পুরোনো রূপ দেওয়া ব্লক-প্রিন্ট, যার মধ্যে অজানা অক্ষর ছাপা ছিল এবং এগুলো কাশগর থেকে বিক্রি হওয়া পাণ্ডুলিপি বা ব্লক-প্রিন্টের অবশিষ্টাংশ।

জেরাতে অনেক তথ্য বের হয়ে আসছিল। কাগজের বান্ডিল ছাড়াও আরও কিছু নথিপত্র নিয়ে এসেছিল বেগ। তার মধ্যে ছিল ১৮৯৭ সালের জুলাই মাসের সুইডিশ সংবাদপত্র, ‘স্‌ভেনস্কা মরগনব্লাদেৎ’-এর দুটি বড়ো পাতা। আমি জানি কীভাবে এই কাগজ খোটানে পৌঁছেছিল। কিন্তু সেটা অন্য গল্প। এই সংবাদপত্রের একটি পাতা সুন্দরভাবে কাপড়ের ওপর মোড়ানো ছিল। কাগজের পাতায় একজন চিনে বসবাসকারী সুইডিশ ধর্মপ্রচারকের বসে থাকার অস্পষ্ট ছবি ও তলায় চিনা হরফে ভদ্রলোকের নাম ছিল। সেই ছবিকে নিজের বলে দাবি করে এবং জাল পরিচয়পত্র দেখিয়ে কেরিয়ার দক্ষিণের অজ্ঞ ‘তাঘলিক’ ও পাহাড়িদের কাছে নিজেকে মিঃ ম্যাকার্টনির প্রতিনিধি হিসেবে জাহির করেছিল। এ ছাড়াও নিরীহ পাহাড়িদের ‘অস্তিত্বহীন দাস’ বন্দী করে রাখবার অভিযোগে ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় শুরু করছিল। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই তার চালাকি ধরা পড়ে যায় এবং মিঃ ম্যাকার্টনির নালিশের ফলে খোটান ইয়ামেন-এ তাকে শাস্তি দেয়া হয়।

১৮৯৮ সালে কাশগরের ইউরোপিয় বাসিন্দাদের মধ্যে পুরোনো পুথি সত্যি আসল কি না নিয়ে সন্দেহ দেখা দেওয়ায় ইসলাম আখুন তার রোজগারের অন্যতম পথ প্রাচীন পুথির ব্যাবসা ছেড়ে হাকিম হয়ে বসে রোগবালাইয়ের চিকিৎসা শুরু করে। একটি ফরাসি উপন্যাসের অংশ যা সম্ভবত দুত্রে দ্য হ্র্যা অথবা গ্রেনার্ড ছেড়ে গিয়েছিলেন, আর কিছু ফারসি লেখার টুকরো পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু সেগুলো সে জাল বইয়ের জন্য নতুন অক্ষর তৈরির কাজে লাগাত, না এমনি কাছে রেখে দিয়েছিল তা জানার সময় পাইনি।

জালিয়াতকে জেরা

এই বহুমুখী প্রতিভার সঙ্গে মোলাকাত করতে করতে নিজেকে অভিযাত্রী নয়, মনে হচ্ছিল যেন আমি বিচার ব্যবস্থার অঙ্গ। আমার অস্থায়ী আবাসে একটা কাছারি তৈরি করা হয়েছিল ইসলাম আখুনকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য। ইসলাম আখুন খুব অনুতপ্ত ভাব দেখিয়ে প্রথমেই মিঃ ম্যাকার্টনির প্রতিনিধি সেজে জোচ্চুরি করার কথা স্বীকার করে নিয়েছিল। স্বীকার করে নিয়েছিল, ১৮৯৮ সালে ক্যাপ্টেন ডিজির হাতের লেখা নকল করে জাল কাগজ দেখিয়ে আফগান আকসকল বদরুদ্দিনের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার কথা। কিন্তু জাল পুথির কথা উঠতে প্রথম থেকেই বলে আসছিল, সে এ সম্পর্কে কিছু জানে না। বলে আসছিল, সে মরুভূমি থেকে অন্য কারও তুলে নিয়ে আসা পুথি বা নথি বিক্রি করেছে, সে জাল না আসল তা তার জানার কথা নয়, যারা কিনেছে তারা দেখেই কিনেছে। ইউরোপিয়ানদের মধ্যে পুরোনো জিনিসের কদর দেখে যাদের কাছ থেকে সে এগুলো পেয়েছিল তাদের আরও জোগাড় করে নিয়ে আসতে বলে। কিন্তু সে নাকি যারা এগুলো নিয়ে আসত তাদের সম্পর্কে কিছু জানত না। তাদের খোঁজ জানতে চাইলে ও বলেছিল, হয় তারা মরে গেছে, না-হলে অন্য কোথাও চলে গেছে।

কিন্তু আমি প্রথম থেকেই নিশ্চিন্ত ছিলাম যে ও মিথ্যে বলছে। প্রশ্নের ফাঁদে জর্জরিত হয়ে অবশেষে সে স্বীকার করতে বাধ্য হয় যে কয়েকজন মিলে তারা জাল পুরোনো পুথি বানাত। সে ছাড়াও আরও তিনজন তার সঙ্গে ছিল। তাদের একজন মহম্মদ তারি। সে ইয়ারখন্দে পালিয়েছে। আর একজন মোল্লা মহম্মদ সিদ্দিক আকসুর দিকে পালিয়ে গেছে আর তৃতীয় জন মারা গেছে।

ইসলাম আখুন অবশ্য সহজে মুখ খোলেনি। আমি তাকে কথা দিয়েছিলাম, সে যদি সব খুলে বলে তবে জাল পুথি নিয়ে আম্বানের ইয়ামেনে কোনো নালিশ আমি করব না। আমি জানতাম, যদি সে সহজে মুখ না খোলে এবং তার পুথি জাল করার ঘটনা প্রমাণিত হয়, তাহলে চিনের কড়া আইন তাকে কঠিনতম শাস্তি দেবে, যে-শাস্তির কোনো মূল্য আমার কাছে নেই। আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে তার বিক্রি করা নথি ও পুথিগুলো যে জাল সে-সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া।

দীর্ঘ জেরায় ইসলাম আখুন বার বার দাবি করেছিল যে সে নিজে কোনোদিন কোনো ধ্বংসস্তূপে যায়নি বা সেখান থেকে কিছু তুলে আনেনি। প্রথমে আমি তার এই দাবি নিয়ে বিশেষ মাথা ঘামাইনি, কারণ, আমার সময় কমে আসছিল। তৃতীয় বার আমার সামনে যখন ওকে আনা হয়েছিল তখন ঘর-ভর্তি সাক্ষীর সামনে ওকে মরুর ধ্বংসস্তূপে যাওয়া নিয়ে আবার চেপে ধরেছিলাম। প্রথমে বার বার অস্বীকার করলেও আমি ১৮৯৫-৯৮ সালে ডঃ হোর্নল-এর তাকলামাকান অভিযানে ওর কথার রিপোর্ট এবং মিঃ ম্যাকার্টনির কাছে বিভিন্ন সময়ে দেওয়া জবানবন্দির কথা উল্লেখ করতে ধূর্ত লোকটা তোতলাতে শুরু করেছিল। আমার এই আক্রমণের জন্য কোনোভাবেই তৈরি ছিল না ইসলাম আখুন। কাশগরে প্রাচীন পুথি বিক্রির সময় ওর দেওয়া পুথি-সহ নানা প্রত্নতাত্ত্বিক সংগ্রহের অভিযানের বর্ণনার ওপর ভিত্তি করেই ভূ-প্রকৃতির বিবরণ-সহ সরকারি রিপোর্ট তৈরি হয়েছিল কয়েক বছর আগে। যে-রিপোর্ট আমার কাছে ছিল। রিপোর্টগুলো থেকে অনুবাদ করে শোনাতে সে হতভম্ব হয়ে পড়েছিল। ও বুঝে গিয়েছিল, আগে নিজের দেওয়া বক্তব্যের জালে ও জড়িয়ে গেছে, তাই জাল জুয়াচুরিতে জড়িত থাকার কথা লুকিয়ে লাভ নেই। যখন সে নিশ্চিত হয়েছিল যে আমি ওকে শাস্তি দেওয়াব না তখন সে বলতে শুরু করল জুয়াচুরিতে তার হাত পাকানোর গল্প।

নকল প্রাচীন পুথি তৈরি

অসাধারণ স্মৃতিশক্তির মালিক ইসলাম আখুন ডঃ হোর্নল-এর রিপোর্টে থাকা প্রতিটি পাণ্ডুলিপির ছবি ধরে ধরে ব্যাখ্যা করে বলতে থাকে ব্লক-প্রিন্ট করে নকল প্রাচীন পুথি তৈরির কথা।

সাম্পুলার কাছে একটি নির্জন মাজারের ওপরে উল্লিখিত তিনজনকে প্রথম পাণ্ডুলিপি লিখতে দেখে সে। অজানা অক্ষরগুলোর অধিকাংশই তার সৃষ্টি। ১৮৯৪ সালের আগে সে খোটানের গ্রামে গ্রামে ঘুরে প্রাচীন মুদ্রা, সিলমোহর-সহ নানা জিনিস সংগ্রহ করে কাশগরে গিয়ে সাহেবদের বিক্রি করত। আফগান ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সে জানতে পারে, ভারতের নানা অংশে পাওয়া প্রাচীন পাণ্ডুলিপি নিয়ে সাহেবদের উৎসাহের কথা। তুর্দি-সহ আরও কিছু প্রত্ন-শিকারির কাছ থেকে সে প্রথম দান্দান-উইলিকের আসল প্রাচীন পাণ্ডুলিপি পায়। কিন্তু অলস প্রকৃতির ধুরন্ধর ইসলাম আখুনের দুর্গম মরুভূমির মধ্যে দিয়ে কষ্টকর যাত্রা করে পাণ্ডুলিপি সংগ্রহের কোনো ইচ্ছে ছিল না। তখন সে ওপরে যে তিনজনের নাম করা হয়েছে তাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বেশ কিছু প্রাচীন পুথি বানানোর ছক কষা শুরু করে। উদ্দেশ্য যে সাহেবদের বোকা বানিয়ে ভয়ংকর মরুভূমির মধ্যে অভিযানের গল্প বলে সেসব জাল প্রত্ন-লিপি সহজেই বিক্রি করা যাবে।

ইব্রাহিম মোল্লা ছিল নকল প্রাচীন পুথি বানানোর নাটের গুরু। সে মূলত রাশিয়ানদের কাছে এই বই বিক্রি করত আর ইসলাম আখুন বই বিক্রি করত ব্রিটিশ ও অন্যান্যদের কাছে।

আমি খোটানে পৌঁছনোর পর একজন রাশিয়ান-আর্মেনিয়ান ভদ্রলোক ইব্রাহিম মোল্লার কাছ থেকে কেনা বার্চ গাছের ছালের ওপর লেখা পাণ্ডুলিপির সত্যতা যাচাই করাতে আমার কাছে নিয়ে এসেছিলেন। এই পুথিতে কিছু গ্রিক আর রাশিয়ান বর্ণমালার সঙ্গে অদ্ভুত সাদৃশ্যযুক্ত অক্ষর দেখেছিলাম।

ইব্রাহিম মোল্লা সামান্য হলেও রাশিয়ান ভাষা জানত। সেই বিদ্যে ও কাজে লাগিয়েছিল অজানা অক্ষর তৈরি করতে। ইসলাম আখুনের গ্রেপ্তারির খবর পেতেই ইব্রাহিম মোল্লা গা-ঢাকা দিয়েছিল, ফলে ওর সঙ্গে মোলাকাতের কোনো সুযোগ হয়নি।

ইসলাম আখুন জাল পুথিটি ১৮৯৫ সালে প্রথম কাশগরে মিঃ ম্যাকার্টনির কয়েকদিনের অনুপস্থিতির সুযোগে তার অফিসের দায়িত্বে থাকা মুন্সি আহমদ দীনকে বিক্রি করেছিল। এই পুথিটি দান্দান-উইলিক থেকে উদ্ধার করা সত্যিকারের প্রাচীন পাণ্ডুলিপি থেকে টানা (cursive) ব্রাহ্মী অক্ষরকে অনুকরণ করে লেখা হয়েছিল। যদিও লেখার অক্ষরে ধারাবাহিকতা ছিল না, কিন্তু তা সত্ত্বেও কিছু সময়ের জন্য এই পাণ্ডুলিপি ইউরোপের পণ্ডিত বিশেষজ্ঞদের বিভ্রান্ত করতে সক্ষম হয়েছিল। ডঃ হোর্নল-এর ‘রিপোর্ট অন সেন্ট্রাল-এশিয়ান অ্যান্টিকুইটিজ’-এর দ্বিতীয় রিপোর্টে এই পাণ্ডুলিপিগুলো ‘কোডিস’ (codice) হিসেবে উল্লেখিত হয়েছে। যদিও বর্তমানে এগুলো ব্রিটিশ মিউজিয়ামে ইসলাম আখুনের জালিয়াতির নিদর্শন হিসেবে পাণ্ডুলিপি বিভাগে আলাদা করে রাখা হয়েছে। ডঃ হেডিনের ‘থ্রু এশিয়া’-র জার্মান সংস্করণে ‘প্রাচীন খোটান’ পাণ্ডুলিপির অংশে এই জাল পুথির ছবি ছাপাও হয়েছে।

জালিয়াতের স্বীকারোক্তি

কাশগর ছাড়াও বদরুদ্দিনের মাধ্যমে লাদাখ আর কাশ্মীর থেকেও এই ধরণের জাল পুথির জন্য ভালো দাম পাওয়া যেতে পারে বুঝে জালিয়াতরা মরিয়া হয়ে উঠেছিল। ইসলাম আখুন টের পেয়ে গিয়েছিল যে ইউরোপিয়ানরা বইয়ের প্রাচীনত্ব বা সত্যতা যাচাই না করেই তার জন্য যে-কোনো মূল্য দিতে প্রস্তুত। কারণ, কেউ এই লিপি পড়তে বা লিপির তারতম্য ধরতে সক্ষম হয়নি। ফলে তারা রীতিমতো গোপন কারখানা খুলে নিজেদের ইচ্ছেমতো অজানা অক্ষর বানিয়ে পুথি বানাতে শুরু করে দিয়েছিল। তাই ব্রিটিশ-সংগ্রহে থাকা কমপক্ষে কয়েক ডজন পুথি প্রাচ্য বিশেষজ্ঞদের কাছে গেলেও অজানা অক্ষর অর্থাৎ জালিয়াতদের ‘হস্তশিল্পের’ কল্যাণে কেউ তার পাঠোদ্ধার করে উঠতে পারছিলেন না।

হাতে পাণ্ডুলিপি লেখা খুব শ্রমসাধ্য ও সময়সাপেক্ষ হওয়াতে জালিয়াতরা কাঠের ব্লক বানিয়ে পুথি ছাপা শুরু করেছিল। চিনা-তুর্কিস্তানে কাঠের ব্লক থেকে মুদ্রণ ব্যাপকভাবে প্রচলিত থাকায় কাঠের ব্লক বানাতে ওদের খুব একটা অসুবিধা হয়নি। ১৮৯৬ সালে প্রথম পুরোনো পুথি ছাপা শুরু করেছিল জালিয়াতরা এবং প্রায় ৪৫টি এইরকমের জাল পুথির কথা ডঃ হোর্নল-এর প্রথম প্রতিবেদনে ছবি-সহ ছাপা হয়েছিল। প্রতিটি মোটা পুথিই ছিল অসাধারণ বৈচিত্র্যের অধিকারী।

ইসলাম আখুন বুঝে গিয়েছিল, আমার কাছে কোনো কিছু লুকিয়ে ছাড় পাবে না। ফলে আমার জানার উৎসাহ দেখে সে জালিয়াতির কৌশলগুলো বিশদে ব্যাখ্যা করেছিল। বিশেষ করে জাল পুথি তৈরি করতে কাগজকে প্রাচীন রূপ দেওয়ার পদ্ধতি।

খোটান-তুর্কিস্তান কাগজ শিল্পের বড়ো কেন্দ্র হওয়াতে যে-কোনো আকারের ও ধরনের কাগজ পেতে কোনো অসুবিধা হয়নি। খোটানে তৈরি কাগজ প্রথমে তোঘরাক গাছ থেকে তৈরি ‘তোঘরুঘা’ দ্রবণে চুবিয়ে হলুদ বা হালকা হালকা বাদামি রঙ করা হত। তারপর সেগুলো জলে ধুলে তার মধ্যে একটা ছোপ ছোপ দাগ আসত, ফলে মনে হত অনেক পুরানো কাগজ।

কাগজ তৈরি হয়ে গেলে তার ওপর হাতে লিখে বা ব্লক-প্রিন্ট করে ছাপা হত ‘প্রাচীন অজানা অক্ষর’। তারপর সেগুলো আগুন জ্বেলে তার পাশে ঝুলিয়ে দেওয়া হত যাতে তার ওপর ধোঁয়ার কার্বন জমে সেগুলোর মধ্যে সত্যিকারের অতি প্রাচীনভাব ফুটে ওঠে। ফলে অনেক সময় এই কাগজগুলো আংশিকভাবে ঝলসে বা পুড়ে যেত। তাই কলকাতায় পাঠানো খোটানের বেশ কিছু প্রাচীন পাণ্ডুলিপিতে এই ধরনের পোড়ার দাগ দেখেছিলাম।

জাল পাণ্ডুলিপি তৈরিতে সিদ্ধহস্ত হলেও গোল বেধেছিল এগুলো বাঁধানোর বেলায়। যা নিয়ে জালিয়াতরা মাথা ঘামানোর খুব একটা প্রয়োজন বোধ করেনি। পাণ্ডুলিপিগুলো ওরা তামার গোঁজ দিয়ে বা কাগজ পাকিয়ে বাঁধাই করত, যা ছিল ইউরোপিয় পাণ্ডুলিপির অনুকরণ। এই বাঁধাই দেখেই সংগ্রহকারীদের মধ্যে সন্দেহ পাকতে শুরু করে। বাঁধানো বইয়ের মধ্যে এরা মরুর মিহি বালি এমনভাবে মাখিয়ে দিত যেন মনে হয় এগুলো সত্যি সত্যি বালির তলায় চাপা পড়ে ছিল অনেকদিন। আমার পরিষ্কার মনে আছে, ১৮৯৮ সালে কাশ্মীরে এক সংগ্রাহকের কাছে পৌঁছানো এই পুথি পরীক্ষা করতে আমাকে কাপড়ের ব্রাশ ব্যবহার করতে হয়েছিল।

আমার জেনে ভালো লাগছিল যে জালিয়াত ও জালিয়াতি দুটোই ধরা পড়েছে। আমি নিশ্চিতভাবে ইউরোপে আমার সতীর্থদের বলতে পারব ‘habemus confiteniem reum’ (অর্থাৎ ‘আমাদের সামনে এক অভিযুক্ত রয়েছে, যে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ স্বীকার করেছে’)। আমাদের কাছে জালিয়াতির সেরা সাক্ষী আছে। স্বীকারোক্তি করেছে আসামি নিজেই, যে স্বীকারোক্তি পেতে আমাকে ইউরোপিয় পদ্ধতির কোনো বিচার ব্যবস্থার সাহায্যও নিতে হয়নি। যদি ইসলাম আখুন পরবর্তী সময়ে অনুরূপ স্বীকারোক্তি নাও দেয়, আমার অনুসন্ধান ও তার বিশ্লেষণ থেকে পণ্ডিতেরা নিজেরাই জালিয়াতি ধরতে পারবেন। দান্দান-উইলিক ও এন্ডারের নমুনার পাশাপাশি ইসলাম আখুনদের কাজ রাখলেই জালিয়াতি পরিষ্কার ধরা যাবে। শুধু রঙ এবং কাগজের উপাদানের স্বাতন্ত্র্যই নয়, সংরক্ষণের অবস্থা ও অনান্য নানা বিষয় কখনোই জালিয়াতদের কাজে উপস্থিত ছিল না। উপস্থিত ছিল না লিপির ধারাবাহিকতা যা সমস্ত প্রাচীন নথিতে দেখা যায়। জালিয়াতরা কোনোভাবেই প্রাচীন লিপির ওপর পটুত্ব অর্জন করতে পারেনি।

ইসলাম আখুন তার শাগরেদদের তিন বছর আগে করা জুয়াচুরির জন্য আমি কোনো শাস্তি দাবি করব না জেনে প্যান-ডারিন স্বস্তি পেয়েছিলেন। এমনিতেই প্যান-ডারিন পাপীদের ক্ষমা করার ও ধার্মিক মনোভাবের জন্য জনসাধারণের কাছে প্রিয় ছিলেন। আমি ওঁকে বলেছিলাম যে ইসলাম আখুনের শাস্তির দাবি আমার কাজের অংশ নয়। আমি জানতাম, জালিয়াতির প্রমাণ দিয়ে বিচার চাইলে ‘চিনা ফৌজদারি আইন’ বিষয়টি হালকা ভাবে নেবে না এবং সম্ভবত চরম শাস্তি দেবে। পাণ্ডুলিপি জালিয়াতির জন্য না হলেও, ক্যাপ্টেন ডিজির হাতের লেখা নকল করে বদরুদ্দিনের কাছ থেকে জালিয়াতি করে টাকা নেবার অভিযোগে তাকে দীর্ঘদিন গলায় কাঠের বেড়ি পরে থাকতে হয়েছিল। পাশাপাশি মিঃ ম্যাকার্টনির প্রতিনিধি হিসেবে দাবি করার জন্য শারীরিক শাস্তির সঙ্গে কারাদণ্ডও ভোগ করতে হয়েছিল।

জালিয়াতের কৌতুক ও রসবোধ

ইসলাম আখুনের সঙ্গে দীর্ঘ কথোপকথন থেকে এটা বলতে পারি, খোটানবাসীদের তুলনায় সে অনেক বুদ্ধিমান ও প্রবল রসবোধের অধিকারী। ছিপছিপে চেহারা, তীক্ষ্ণ চোখের অধিকারী ইসলাম আখুন কাশ্মীরি বংশোদ্ভূত কি না নিশ্চিত হতে পারিনি। সৎ বৃদ্ধ তুর্দির প্রতি তার সহাস্য মন্তব্য, ‘মরুভূমি থেকে বের করার মতো কিছুই নেই,’ আমি আজও ভুলতে পারিনি।

ডঃ হোর্নল-এর রিপোর্টের সঙ্গে মুদ্রিত নিজের জাল পাণ্ডুলিপির ছবি দেখে সে উচ্ছ্বসিত হয়ে পড়েছিল। জালিয়াতিটা কী করে আরো নিখুঁত করা যেত সে-ব্যাপারে সে বার বার জানতে চাইছিল। আমি নিশ্চিত, সুযোগ পেলে অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে আবার কোনো সূক্ষ্ম জালিয়াতিতে মেতে উঠবে সে। আমি এই মোলাকাতের কয়েক মাস পর ইউরোপের এক বিখ্যাত লাইব্রেরিতে ইসলাম আখুনের ব্লক-প্রিন্টেড জাল নথি মরক্কো চামড়া দিয়ে বাঁধিয়ে সযত্নে সাজিয়ে রেখেছে দেখেছিলাম। ইসলাম আখুন এই খবর জানলে না জানি কতো খুশি হত!

আমি ইসলাম আখুনের কাছে স্মারক হিসেবে জাল পুথি তৈরিতে ব্যবহার

করা কিছু সরঞ্জাম চেয়েছিলাম যা ও সানন্দে আমার হাতে তুলে দিতে রাজি হয়েছিল। তার সমস্ত জবানবন্দি নথিভুক্ত করার পরে তাকে ইয়ামেন থেকে জেল মুক্ত করা হয়েছিল। ছাড়া পাবার পর ও বাড়ি থেকে কাগজের নমুনা ও ব্লক-সহ বেশ কিছু সরঞ্জাম নিয়ে এসে আমার হাতে তুলে দিয়েছিল। ইসলাম আখুনের গ্রেপ্তারের খবর শহরময় ছড়িয়ে পড়েছিল, ফলে ওর পক্ষে পালিয়ে যাওয়া সহযোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সব ধরনের সরঞ্জামের নমুনা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।

জেরায় অপরাধ স্বীকার করার কথা শহরময় ছড়িয়ে পড়ায় ইসলাম আখুন ভেঙে পড়েছিল। তার তেজি ভাব আর অবশিষ্ট ছিল না। তাকে আমি কথাপ্রসঙ্গে বলেছিলাম, তার মতো একজন বুদ্ধিমান মানুষের খোটানের সহজ সাধাসিধে মানুষদের মধ্যে থাকাটা মানায় না। কথাটা ওর মনে গেঁথে গিয়েছিল হয়তো। আমি খোটান ছেড়ে আসার একদিন আগে আমার কাছে তাকে সঙ্গে করে ইউরোপে নিয়ে যাবার আবেদন পত্র নিয়ে হাজির হয়েছিল। আমি রাজি হয়নি। কী প্রত্যাশা সে আমার কাছে করেছিল জানা নেই, কিন্তু ‘বিলাত’-এ গিয়ে জালিয়াতি করার জন্য এক বিরাট দরজা তার সামনে খুলে দেওয়া আর আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না।

সকল অধ্যায়
১.
প্রথম অধ্যায়
২.
দ্বিতীয় অধ্যায়
৩.
তৃতীয় অধ্যায়
৪.
চতুর্থ অধ্যায়
৫.
পঞ্চম অধ্যায়
৬.
ষষ্ঠ অধ্যায়
৭.
সপ্তম অধ্যায়
৮.
অষ্টম অধ্যায়
৯.
নবম অধ্যায়
১০.
দশম অধ্যায়
১১.
একাদশ অধ্যায়
১২.
দ্বাদশ অধ্যায়
১৩.
ত্রয়োদশ অধ্যায়
১৪.
চতুর্দশ অধ্যায়
১৫.
পঞ্চদশ অধ্যায়
১৬.
ষোড়শ অধ্যায়
১৭.
সপ্তদশ অধ্যায়
১৮.
অষ্টাদশ অধ্যায়
১৯.
ঊনবিংশ অধ্যায়
২০.
বিংশ অধ্যায়
২১.
একবিংশ অধ্যায়
২২.
দ্বাবিংশ অধ্যায়
২৩.
ত্রয়োবিংশ অধ্যায়
২৪.
চতুর্বিংশ অধ্যায়
২৫.
পঞ্চবিংশ অধ্যায়
২৬.
ষড়বিংশ অধ্যায়
২৭.
সপ্তবিংশ অধ্যায়
২৮.
অষ্টবিংশ অধ্যায়
২৯.
ঊনত্রিংশ অধ্যায়
৩০.
ত্রিংশ অধ্যায়
৩১.
একত্রিংশ অধ্যায়
৩২.
দ্বাত্রিংশ অধ্যায়
৩৩.
ত্রয়োত্রিংশ অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%