সপ্তবিংশ অধ্যায়

মার্ক অরেল স্টাইন

এন্ডারের ধ্বংসাবশেষ

১৩ ফেরুয়ারি আমাদের ক্যারাভান আবার রওনা হয়েছিল ইমাম জাফর সাদিকের দিকে। জনহীন পরিত্যক্ত অতি প্রাচীন বসতি যা আমাদের গত তিন সপ্তাহের কর্মক্ষেত্র ছিল, তা ছেড়ে চলে যাবার সময় বাগানের শুকিয়ে যাওয়া নানা মৃত গাছ থেকে শুকনো ডালের টুকরো ভেঙে নিলাম। সিজাররা যখন রোমে রাজত্ব করত, সিন্ধু-অঞ্চলে গ্রিক লেখার বিদ্যা জানা ছিল; সেই সময়ের পোঁতা পপলার-সহ অন্যান্য গাছের বাগানের ছোঁয়া আর কি পাব কখনো?

এর আগেই নিয়াতে শুনেছিলাম যে চেরচেন যাওয়ার পথের মধ্যে এন্ডার নদী থেকে খানিক দূরে এক ধ্বংসস্তূপ আছে। ওই ধ্বংসস্তূপকেই পরের গন্তব্য বলে ঠিক করে নিয়েছিলাম। কয়েক সপ্তাহ ধরে কাজ করে প্রচণ্ড ক্লান্ত হয়ে থাকা মজুরদের আর ধরে রাখা যাবে না জানতাম। তাছাড়া আগামী অভিযানের জায়গা অনেকটা দূরে শুনে তারা যেতে রাজি হচ্ছিল না। নিয়াতে পৌঁছে আবার নতুন মজুর নিতে হবে।

সন্ধে নাগাদ ক্যাম্প করার জায়গায় পৌঁছে দেখি আমার জন্য এক বিস্ময় অপেক্ষা করছে। নিয়ার বেগের সহকারী উপস্থিত হয়েছেন আমার সঙ্গে দেখা করার জন্য, সঙ্গে নিয়ে এসেছেন কেরিয়ার আম্বানের পাঠানো কাশগর থেকে আসা চিঠিপত্রের স্তূপ। আম্বানের দায়িত্ববোধ দেখে মুগ্ধ হয়েছিলাম। নিয়ার বেগের সহকারীর কাছ থেকে আমার আগামী সময়ের রসদ প্রস্তুত আছে জেনে চিন্তা দূর হয়েছিল।

তিন সপ্তাহ মরুভূমির বালি সাম্রাজ্যে থাকার পর নিয়ার স্রোতের ধার ধরে জঙ্গলের ঝরা পাতা মাড়িয়ে ইমাম জাফর সাদিক পর্যন্ত যাত্রাটা শরীরকে তৃপ্তি দিয়েছিল। তবে এদিকে বসন্তের চিহ্ন এখনও দেখা দেয়নি। মাজারের ধর্মশালায় ফায়ার-প্লেসের পাশে বিকেলের উষ্ণতা খানিক উপভোগ করলেও কাজ পড়ে ছিল অনেক। ধ্বংসস্তূপ থেকে আবিষ্কারের সমস্ত নমুনা ও রিপোর্ট ইউরোপ ও ভারতে যাবার ডাকে পাঠিয়ে, মজুর ও মাজারের শেখদের হিসেব মিটিয়ে নিলাম প্রথমেই।

ইয়ারতুঙ্গাজ নদীর পথে

আমার মন বলছিল, সময় বাঁচাতে নিয়া ফিরে গিয়ে সেখান থেকে চেরচেন রোড ধরে এন্ডারে যাওয়ার বদলে ইমাম জাফর সাদিকের পূর্বদিকের মরুভূমির মধ্যে দিয়ে এন্ডারের ধ্বংসাবশেষে পৌঁছনোর পথ খোঁজা উচিত। আমার কথা শুনে ইমাম জাফর সাদিকের সবাই হা হা করে উঠেছিল...এরকম কোনো পথ নেই, ইমাম জাফর সাদিকের পূর্বের মরুভূমি ভয়ংকর! শুধু মাজারের এক রাখাল বলেছিল, ইয়ারতুঙ্গাজ নদীর স্রোত ধরে সে কয়েকবার মাজারের পুবদিকের মরুপ্রান্তরে ভেড়ার পাল চড়াতে গেছিল। মাজারের আর এক আধ-ক্ষ্যাপা ভক্ত আব্দুর রহমান বলে উঠেছিল যে মাজারের পুবদিকের মরুভূমির মাঝখান দিয়ে সে নাকি একবার এক ধ্বংসাবশেষে পৌঁছেছিল।

পথ দেখাতে এই দুজনকে নিযুক্ত করে ১৫ ফেব্রুয়ারি ফের শুরু হয়েছিল মরু-যাত্রা। মাজারের দু-মাইল পরেই সব সবুজের চিহ্ন উধাও হয়ে গেছিল। দুটো প্রায় ১৫০ ফুট উঁচু খাড়া ‘দাওয়ান’ পার হয়ে অজস্র বালি পাহাড়ের মধ্যে দিয়ে মাইল ছয়েক চলার পর এসেছিল নুড়ি আর মাটির অংশ। উট আর ঘোড়াগুলো স্বস্তি পেয়েছিল অনেকটাই। মাজার থেকে আনা বরফের ভরসায় সন্ধেতে যেখানে ক্যাম্প করেছিলাম, সেখান থেকে ইয়ারতুঙ্গাজ নদীর স্রোত আরও একদিনের পথ জানিয়েছিল আব্দুর। রাতে তামারিস্ক আর কুমুশের শুকনো ডালপালা জ্বালানি জুগিয়েছিল।

পরদিন দক্ষিণ-পূর্বদিকে নুড়ি বোঝাই ঢাল বেয়ে নীচু বালি টিলার পাশ দিয়ে তামারিস্ক আর নলখাগড়াভরা জায়গা পার হয়ে সুজুজে দরিয়া নামের জলধারার ধারে পৌঁছলাম। ইয়ারতুঙ্গাজ নদীর বর্তমান গতিপথের তিন মাইল পশ্চিমের এই ধারাটিতে এক ফোঁটাও জল ছিল না। নদীর দু-পাশের বালি টিলার ধার দিয়ে খানিক এগোতেই সন্ধের আগে আগে নজরে এসেছিল ইয়ারতুঙ্গাজ নদীর জমা জলে বরফের ঝলকানি। খুব আনন্দ পেয়েছিলাম বরফের দেখা পেয়ে...এবার তাহলে ক্লান্ত পশু-সহ সবার জল, খাদ্য আর বিশ্রাম জুটবে।

১৭ ফেব্রুয়ারি ইয়ারতুঙ্গাজ নদীর জলস্রোতকে পাশে রেখে এগোতে শুরু করেছিলাম। গতকাল রাতে যেখানে আমরা তাঁবু ফেলেছিলাম, সেখানে এই নদী প্রায় ৩০ গজের মতো চওড়া। তারপরে তিন থেকে চার মাইল চওড়া জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে প্রায় ১৮ মাইল পথ পাড়ি দিয়েছিলাম। জঙ্গলের মাঝে খানিক জায়গা পরিষ্কার করে চাষের জমি বানিয়ে তৈরি একটি বসতিতে পৌঁছনোর আগে জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে ভেড়া চলাচলের চিহ্ন দেখলেও কোনো জীবন্ত প্রাণীর দেখা পাইনি। গ্রীষ্মের বন্যার জলে পলি-সমৃদ্ধ এই চাষের জমি খুব উর্বর। এই উর্বর জমিতে বেশ কিছু গ্রাম গড়ে উঠতে পারত, কিন্তু মাত্র চারটে পরিবার নিয়াজ হাকিম বেগের সময় থেকে এখানে বসতি করে আছে। এদের মজুর নিয়োগ করে আরো অনেক জমি চাষযোগ্য করার মতো আর্থিক সামর্থ থাকলেও অবাক লাগল মাত্র ফুট পঞ্চাশেক জমি পরিষ্কার করে এক-একটি পরিবার আবাদ করেছে। অথচ নিয়াজ হাকিম বেগ এই অঞ্চলে সেচের জন্য বেশ কিছু খাল খুঁড়িয়ে দিয়েছিলেন। আমাদের অসাধারণ দারোগা দলের সামনে সামনে চলছিল। ছোট্ট বসতির ‘দেহকান’ এক সুদর্শন বৃদ্ধ আবদুল করিম এগিয়ে এসেছিলেন আমাদের স্বাগত জানাতে। ওঁর বাবা বাদাখশানের ফৈজাবাদ থেকে ইমাম জাফর সাদিকের তীর্থযাত্রায় এসে এখানে বসতি তৈরির জন্য জমি অনুদান হিসেবে পেয়ে থেকে গিয়েছিলেন। মরুর মাঝে অবহেলিত এই ঘাঁটির আগলদার আবদুল করিম খুব খুশি হয়েছিলেন তাঁর ফারসি ভাষার সামান্য জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে আমার সঙ্গে কথা বলতে পেরে।

গত বেশ কয়েক বছর ধরে ইয়ারতুঙ্গাজ গতিপথ বদলে ক্রমশ পশ্চিমের দিকে সরতে শুরু করেছে। ফলে এই ছোটো উপনিবেশের পাশ দিয়ে বয়ে চলা জলের ধারাও শুকোতে বসেছে। জলের আসল ধারা প্রায় চার মাইল পশ্চিমে বইছে। সেচের জন্য প্রয়োজনীয় জল একটি বাঁধ দিয়ে পুরোনো খাতে খানিক বইয়ে দেওয়া হয়েছে যা আমি মাইল সাতেক আগেই দেখে এসেছি। কিন্তু এতে সেচের জল পাওয়ার অনিশ্চয়তা থেকেই গেছে। ফলে ভবিষ্যতে এই উপনিবেশ-এর সরে যাবার সম্ভাবনা প্রবল।

আমার সম্ভাব্য গন্তব্যপথ নিয়ে কোনো পরিষ্কার তথ্য না পাওয়ায় খানিক অনিশ্চয়তায় ভুগছিলাম। কিন্তু করিৎকর্মা দারোগা এন্ডারের চারণভূমি থেকে এক ভেড়াপালককে খুঁজে বের করেছিল যে ওই ধ্বংসস্তূপে যাবার পথ জানে। শুধু তাই নয়, ওই ভেড়াপালকের ভাঁড়ার থেকে আমাদের কিছুদিন চলার মতো খাবার ও পশুখাদ্য জোগাড় করেছিল। এরপরে দু-দিন মরুর বালিয়াড়ির মধ্যে দিয়ে চলার পর এন্ডার পাড়ের বনাঞ্চলে পৌঁছেছিলাম।

ইয়ারতুঙ্গাজ তারিম ছাড়তে পার হতে হয়েছিল প্রায় ১৮০ ফুট উঁচু বালির ‘দাওয়ান’ বা গিরিপথ, যা টাট্টুঘোড়া আর উটদের পক্ষে ভীষণ যন্ত্রণাদায়ক ছিল। দাওয়ান পার হতেই বালি-পাহাড়গুলোর উচ্চতা কমতে শুরু করেছিল, ছোটো ছোটো ফুলের ঝোপঝাড় দেখা দিয়েছিল। ইয়ারতুঙ্গাজ থেকে সংগ্রহ করা বরফ আর সঙ্গে ট্যাঙ্কে বয়ে বেড়ানো জল যথেষ্ট থাকায় কোথাও আর জলের জন্য কুয়ো খুঁড়তে হয়নি। ইতিউতি পড়ে থাকা তামারিস্কের শুকনো ডালপালা রাতে আগুনের তাপ জুগিয়েছিল। কিন্তু ইয়ারতুঙ্গাজ তারিম পার হতেই উত্তর আর উত্তর-পূর্বদিক থেকে ছুটে আসা ধুলোর ঝড় আমাদের নাজেহাল করে ছেড়েছিল।

১৯ ফেব্রুয়ারি বেলাশেষে এন্ডার নদীর বাঁদিকের ঢেউয়ের মতো একের পর এক বালির পাহাড় পার হয়ে দক্ষিণ-পূর্বদিকে এগিয়ে পৌঁছলাম এন্ডারের পুরোনো ‘দরিয়া’ বা স্রোতের ধারে। এখানেও নদী গত বেশ কয়েক বছর ধরে তার খাত বদলে ক্রমশ পশ্চিমের দিকে সরছে। যদিও এখনও নদী পুরোপুরি মৃত হয়নি, ফলে প্রায় ২০ গজ চওড়া নদীর বুকে পুরু হয়ে জমে থাকা বরফ আমাদের বড়ো ভরসা হয়েছিল। নদী গতিপথ বদলাতে শুরু করায় এখানে যে ছোট্ট বসতিটি ছিল তা সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল কয়েক মাইল উত্তরে। যথাসময়ে বসতি সরিয়ে নিয়ে যাবার সিদ্ধান্ত যে দূরদর্শী ছিল তার প্রমাণ পুরোনো দরিয়া এখন মৃতপ্রায়। এই মরুতে নদী যে হামেশাই তার গতি পরিবর্তন করে তার নমুনা শুকনো নদীর খাত, ইমাম জাফর সাদিক ছেড়ে আসার পর অনেকবার দেখেছি।

এন্ডারের স্তূপে

পরদিন এন্ডারের স্রোতের পাশ দিয়ে মাইল দশেক চলার পর পৌঁছলাম কারা-ওচ্‌কে-ওলতুরগান নামের চারণক্ষেত্রে। কারা-ওচ্‌কে-ওলতুরগান কথার অর্থ ‘যেখানে কালো ছাগল বসেছিল’। একটা পরিত্যক্ত ঝুপড়ি পশুচারকদের উপস্থিতির কথা জানান দিচ্ছিল। এখান থেকে গাইড আমাদের নিয়ে গেল দক্ষিণ-পূর্ব মরুভূমি এলাকায়। পরদিন সকাল থেকে মাইল দশেক নীচু বালির টিলার মাঝ দিয়ে হেঁটে ‘কোন-শহর’-এর পোতাই বা ধ্বংসস্তূপে পৌঁছলাম।

প্রথমেই নজরে এসেছিল একটি ইটের তৈরি স্তূপ। ইমাম জাফর সাদিকের মাজারে বসে এই ধ্বংসস্তূপের বর্ণনা শুনে এটি ইটের তৈরি স্তূপ হবে বলেই আমি অনুমান করেছিলাম। প্রাথমিক পরীক্ষার পর ইতিউতি খোঁড়াখুঁড়ির চিহ্ন দেখে এবারে আমি নিশ্চিন্ত হলাম যে এই স্তূপে প্রত্ন-শিকারিরা গুপ্তধনের আশায় এর আগেই হানা দিয়ে গেছে।

গাইডের মুখে এখানে অনেক পুরোনো বাড়ির ধ্বংসাবশেষ আছে শুনে আমি ধ্বংসস্তূপের দক্ষিণের দিকে এগিয়ে গেছিলাম। অনেক ভাঙা পাত্র, যার কিছু আবার রঙিন ছিল, বালির ওপর ছড়িয়ে পড়ে থাকতে দেখলেও প্রথমে কোনো জনবসতির চিহ্ন আমার নজরে আসেনি। কিন্তু ধ্বংসাবশেষ ঘেরা নীচু বালি টিলার কাছে পৌঁছতেই পরিচিত বাড়ির কাঠামোর চিহ্ন দেখতে পেলাম। বালির ওপর সার সার মাথা তুলে কাঠের খুঁটি জেগে রয়েছে… যা এর আগে অন্যান্য ধ্বংসস্তূপের বেলায় প্রথমেই নজরে এসেছিল। পাশাপাশি এইসব ধ্বংসাবশেষের ভাঙা উঁচু ইটের বিশাল পাঁচিলের উপস্থিতি আমায় মুগ্ধ করেছিল।

মন্দিরে পাণ্ডুলিপি উদ্ধার

আমি যখন ধ্বংসস্তূপের পাশে দাঁড়িয়ে, ঠিক তখনই নিয়া থেকে খোঁড়াখুঁড়ি করার মজুরের দল এসে পৌঁছল সেই জনশূন্য প্রান্তরে। প্রায় ১২০ মাইল দূর থেকে ঠিক সময়ে ঠিক জায়গায় এতগুলো মানুষকে পাঠানো নিয়ার বেগের নিখুঁত ব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পনার নজির। নিয়া থেকে এসে পৌঁছানো কুড়ি জন ‘মাদিগার’ মজুর, গাইড রাখাল আর দলের বাকিদের নিয়ে সঙ্গে সঙ্গে কাজে লেগে পড়েছিলাম কোনো সময় নষ্ট না করেই।

পাঁচিলের চারপাশে ঘুরে দেখি জায়গাটার ঘের প্রায় ৪২৫ ফুট। পাঁচিলের ভেতরে সার দিয়ে বালির ওপর জেগে থাকা কাঠের খুঁটির মাথা। খুঁটির বিন্যাস দেখে মনে পড়ে গেছিল দান্দান-উইলিকের মন্দির চত্বরের কথা। পাঁচিলঘেরা অংশের ভেতরে সামান্য খুঁড়তে বেরিয়ে এল স্টাকোর ভাঙা টুকরো। কোনো বড়ো ছবির অংশ বলে আমার মনে হল।

ঘণ্টা খানেকের মধ্যেই প্রমাণ হয়ে গেল যে আমার অনুমান ঠিক ছিল। আলগা বালি সরানো শুরু করতেই মূর্তি আর স্টাকোর ভাঙা অংশ বেরিয়ে এল। মূর্তি আর রঙ দান্দান-উইলিকে ব্যবহৃত উপাদান দিয়েই তৈরি। কাগজের কিছু পাণ্ডুলিপির অংশ বালির তলা থেকে বেরিয়ে আসতে এই বসতি বা মন্দিরের আনুমানিক সময়কাল সম্পর্কে ধারণা পাওয়া গেল অল্প সময়ের মধ্যে। একসঙ্গে বাঁধা কিছু দিস্তা কাগজের মাঝখান থেকে টুকরো হয়ে যাওয়া পাণ্ডুলিপি, যার ভাষা সংস্কৃত হলেও প্রাচীন ব্রাহ্মী লিপিতে লেখা। আবার কিছু নথি বাঁকানো (cursive) ব্রাহ্মী লিপিতে লেখা হলেও তার ভাষা অ-ভারতীয়, ঠিক যেমনটি পাওয়া গেছিল দান্দান-উইলিকে।

দু-দিন লেগেছিল মন্দিরটাকে বালিমুক্ত করতে। মূল মন্দিরখানা ২০ বর্গফুট জায়গা নিয়ে তৈরি। মন্দির ঘিরে ৫ ফুট করে পরিক্রমণ পথ। মন্দিরের মূল গৃহের ঠিক মাঝখানে একটি পাদবেদি ও চার কোণে চারটি পূর্ণাকার স্টাকো মূর্তি, সম্ভবত বুদ্ধদেবের। পরিষ্কার বোঝার উপায় নেই কারণ, মূর্তিগুলো কোমরের উপর থেকে ভাঙা এবং সেই ভাঙা টুকরো টুকরো টুকরো হয়ে বালির মাঝখানে ছড়িয়ে পড়ে আছে। মূর্তিগুলোর কেবল পা আর পোশাকের নীচের অংশ অক্ষত। পোশাকের প্রাণবন্ত রঙ এখনও উজ্জ্বল।

ষড়ভুজ পাদবেদির ঘিরে পড়ে ছিল কুচি কুচি করে ছেঁড়া ছড়ানো কাগজের পাণ্ডুলিপির অংশ। সম্ভবত এগুলো ভক্তি অর্ঘ্য হিসেবে এখানে জমা ছিল। সংস্কৃত ভাষা, কিন্তু ব্রাহ্মী লিপিতে লেখা কাগজের টুকরোগুলো মহাযান বৌদ্ধ রীতির কথা মনে করায়। ব্রাহ্মী লিপিতে পাণ্ডুলিপি লেখার ধরন বা প্যালিওগ্রাফিক বৈশিষ্ট্য দেখে এগুলো বিচার করলে পঞ্চম শতাব্দীর প্রথম দিকে লেখা বলেই অনুমান করা যায়।

পুথির আকারে পাওয়া ভারতীয় ঘরানার পাণ্ডুলিপিগুলো ঠিক মাঝখান থেকে দু-ভাগ করা ছিল। হয় ভাঁজের জন্য মাঝবরাবর ভেঙেছিল অথবা প্রত্ন-শিকারিদের এলোপাথাড়ি আক্রমণের ফলে টুকরো হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু টুকরো হওয়া দু-অংশের পৃষ্ঠা সংখ্যা ছিল সমান। এরকম ৪৬টি পাণ্ডুলিপি পাওয়া গেল। আমার ধারণা বিশেষজ্ঞরা পাণ্ডুলিপিগুলো জুড়ে জুড়ে এগুলো পুনরুদ্ধার করতে পারবেন।

আর একটি উল্লেখযোগ্য আবিষ্কার হল গায়ে গায়ে আটকে থাকা একটা চার ইঞ্চি চওড়া আর ইঞ্চি খানেক পুরু কাগজের রোল। আমার ‘প্রাথমিক প্রতিবেদন’-এ উল্লেখ করা এই কাগজের দলা সম্প্রতি ব্রিটিশ মিউজিয়ামের বিশেষজ্ঞ দল খুলতে সক্ষম হয়েছেন। কাগজে সুপরিচিত মধ্য-এশিয়া ধারায় ব্রাহ্মী লিপিতে লেখার ভাষা ছিল অ-ভারতীয়, ঠিক যেমনটি পাওয়া গেছিল দান্দান উইলিক থেকে।

তিব্বতি পাণ্ডুলিপি

ধ্বংসস্তূপের অন্য অংশে খনন শুরু হতে বিভিন্ন ছবি ও মূর্তির পায়ের তলায় পাওয়া নানাধরনের অর্ঘ্যের নমুনা জানান দিচ্ছিল, এখানে নানা জাতির উপাসকদের সমাগম হত। ছোটো রঙিন নকশার তলায় দু-এক চিনা শব্দ লেখা পাতলা কাগজ, বেশ কয়েকটি ছবি ও মূর্তির পাদদেশে ছড়িয়ে। ইতিহাসের দিক থেকে আরও আকর্ষণীয় হল তিব্বতি ভাষায় লেখা বেশ কিছু কাগজ প্রাপ্তি। একদিকে লেখা শক্ত হলদেটে কাগজগুলো যে অন্য কাগজ থেকে আলাদা তা সহজেই বোঝা যায়। লেখার ধরন দেখেই বোঝা গেছিল, বাঁকা অক্ষরে লেখা এগুলো বৌদ্ধ প্রার্থনা বা ধর্মীয় স্তোত্র এবং কোনো পুথির অংশ হবে। যেভাবে এই তিব্বতি কাগজের টুকরোগুলো নানা ছবি, মূর্তি ও বিশাল পাদবেদির তলায় রাখা ছিল তা দেখে পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছিল যে সেগুলো সুচিন্তিতভাবেই নির্দিষ্ট মূর্তি বা ছবির তলায় রাখা হয়েছিল। তিব্বতি কাগজের টুকরোগুলো সম্ভবত একই পুথির অংশ। সবরকমের দেবতাদের তুষ্ট করতে পুথির ভক্ত মালিক প্রথমে পুথিটি মাঝখান থেকে কেটে ফেলে তারপর সেই টুকরোগুলো নানা প্রান্তে অর্ঘ্য হিসেবে অর্পণ করেছিলেন বলেই মনে হয়।

ব্রিটিশ মিউজিয়ামের মিঃ ডি. এল. বার্নেট এই নথিগুলো পরীক্ষা করে এগুলো বৌদ্ধ গ্রন্থ শালিস্তাম্বসূত্রের একটি প্রাথমিক তিব্বতি সংস্করণের অংশ বলে রায় দিয়েছেন। যার মূল সংস্কৃত ভাষ্য শুধুমাত্র উদ্ধৃতি থেকেই জানা গেছে। এই তিব্বতি নথির গুরুত্ব অপরিসীম। যদিও মাত্র পুথির অর্ধেক অংশ উদ্ধার করা গেছিল। ১৯০৩ সালে রয়াল এশিয়াটিক সোসাইটির জার্নালে প্রকাশিত মি. বার্নেটের এক প্রতিবেদনে এই নথির বিষয়ে বিস্তারিত বলা হয়েছে। তাই এখানে এই নথির বিষয়ে খানিক রূপরেখা দিলাম মাত্র। এই নথির আবিষ্কার শুধুমাত্র আধুনিক ‘কাঞ্জুর’ (কাঞ্জুর হল বুদ্ধের লিপিবদ্ধ শিক্ষা) লিপির উপস্থিতির কথাই স্বীকার করে না, তিব্বতি লেখার অন্যতম প্রাচীন নমুনা হওয়ার দরুন তিব্বতীয় প্যালিওগ্রাফি এবং অর্থোপি (উচ্চারণ-সংক্রান্ত অধ্যয়ন) ও প্রাচীন তিব্বতি বৌদ্ধ সাহিত্য বিশ্লেষণের এ এক অন্যতম সূত্র হয়ে দাঁড়াল।

শুধু এই তিব্বতি পুথিই নয়, এই অঞ্চলের ধ্বংস হয়ে যাওয়া নানা মন্দিরের দেওয়ালের স্টাকোর আশেপাশে আঁকা তিব্বতি ঘরানার চিত্র দেখতে পেয়েছিলাম যা প্রমাণ করে এই অঞ্চলের সঙ্গে তিব্বতের রাজনৈতিক যোগ ছিল। তাং রাজবংশের ইতিহাস থেকে জানা যায়, অষ্টম শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে তিব্বত পূর্ব তুর্কিস্তানের বহুলাংশ দখল করে নেয় ও পূর্ব তুর্কিস্তানে চিন সাম্রাজ্যের কর্তৃত্ব ধ্বংস করে দেয়। প্রফেসর শ্যাভান এই বিষয়ে অনেক তথ্য আমায় জানিয়েছিলেন। ৭৬৬ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ তিব্বতিরা চিনের অনেক বাইরের দিকের প্রদেশ দখল করতে পারলেও প্রথমে স্থানীয় চিনা প্রশাসন অনেকটাই তিব্বতি আক্রমণ আটকাতে পেরেছিল ও অঞ্চলগুলোয় নিজেদের কর্তৃত্ব বজায় রাখতে সমর্থ হয়েছিল। কিন্তু স্থানীয় চিনা প্রশাসনের আবেদনে সাড়া দিয়ে খানিক মামুলি খেতাব ছাড়া কোনো সামরিক সাহায্য ইম্পেরিয়াল কোর্টের তরফ থেকে আসেনি। ৭৯১ খ্রিস্টাব্দের পর থেকে তিব্বতিরা তুরফান-সহ পার্শ্ববর্তী অঞ্চল নিজেদের অধিকারে নিয়েছিল। তারিম বেসিনে তাং রাজবংশের ‘চার গ্যারিসন’ বা সামরিক বাহিনী সম্পর্কে আর কিছু শোনা যায় না। শুধু কুচা, খোটান, কারাশহর এবং কাশগরের মতো জায়গা থেকে চিনা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ ছিল।

তারিখ-যুক্ত চিনা দেওয়াল লিপি

আমার ক্যামেরায় তোলা মন্দিরের দেওয়ালে আঁকিবুকি কাটা চিনা লিপির ছবি থেকে প্রফেসর শাভান লিপির খানিক সারাংশ অনুমান করতে পেরেছিলেন। এর বক্তব্য ছিল যে শিন-কিয়া-হিং নামের এক উচ্চপদস্থ সরকারি আধিকারিককে (তিনি মৃত্যুদন্ড দেবার দায়িত্বে ছিলেন) তার সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তার মৃত্যুর অভিযোগের রিপোর্টের ভিত্তিতে তার নিজের জেলায় ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এতে দু-বার ‘তা-ফান’ বা তিব্বতিদের ও একবার ‘চার-গ্যারিসন’-এর কথা উল্লেখ ছিল। যেখানে তারিখের উল্লেখ ছিল, তার কয়েকটি লিপি ক্ষয়ে যাবার কারণে সঠিকভাবে সময়কাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তবে তারিখটি একটি সময়সারণির সপ্তম বছর ছিল। সময়কাল ৭১৯ বা ৭৯১ হতে পারে।

দুটো সালের কোনটা সঠিক তা ঠিকভাবে নিরূপণ করা কঠিন। ৭৯১ সম্পর্কে বলা যায় যে দান্দান উইলিক থেকে ৭৯০ সাল উল্লিখিত চিনা নথি পাওয়া গেছে। ৭১৯ ধরাও কিছু অবাস্তব হবে না কারণ, এখান থেকে হান সময়কালের মুদ্রা পাওয়া গেছে। কিন্তু এন্ডারের মন্দিরের গায়ের স্টাকো দেখে ব্যক্তিগতভাবে এই মন্দিরগুলোকে দান্দান উইলিকের থেকে প্রাচীন বলেই আমার মনে হল। তবে সময়কাল যাই হোক না কেন, এই চিনা লিপি খোদাই, মন্দির ও এই অঞ্চল ছেড়ে যাবার খুব বেশি আগে হওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ, পুণ্যার্থীরা এইসব লিপি বেশিদিন মন্দিরের গায়ে রেখে দিত বলে মনে হয় না।

এই মন্দিরের পলেস্তারার প্রলেপ খুব শক্ত নয়। দীর্ঘদিন মেরামত না করলে এই মন্দিরের কোনো কিছুই আসল অবস্থায় থাকত না। পলেস্তারার ওপর অগভীর চিনা ভাষা খোদাই এমনিতেই খসে যেত। যদিও তিব্বতি ছেঁড়া পাণ্ডুলিপির সম্পূর্ণ পাঠোদ্ধার এখনও হয়ে ওঠেনি। কিন্তু তার প্রাপ্তির অবস্থান ও তিব্বতি ছবির ধরন দেখে এই জনপদ অষ্টম শতাব্দীর মাঝামাঝি বা দ্বিতীয়ার্ধে পরিত্যক্ত হয়েছিল ধরে নেওয়া যেতে পারে।

বিভিন্ন মূর্তির সামনে রাখা নানাধরনের ছোটো ছোটো কাপড়ের টুকরোর নৈবেদ্য নিঃসন্দেহে চিত্তাকর্ষক। নানা সুতোয় বোনা চিনা সিল্ক, ছাপা সুতির কাপড়, ‘খাম’ (বকরাম জাতীয় শক্ত কাপড়) যার উল্লেখ হিউয়েন-সাঙ তাঁর খোটান বিবরণে করেছেন এবং এখনও তা এই অঞ্চলের সাধারণ লোকেরা ব্যবহার করে। অর্ঘ্য হিসেবে এই ধরনের কাপড়ের টুকরোর ব্যবহার সমস্ত তুর্কিস্তান জুড়ে নানা সাধুসন্তদের চির বিশ্রামস্থলে চোখে পড়ছে। ইসলাম ধর্ম এখানে স্থানীয় রীতি, যা সুপ্রাচীন বৌদ্ধ আমল থেকে চলে এসেছে, তার খুব সান্যই পরিবর্তন করতে পেরেছে। আমি প্রত্নতাত্ত্বিক আগ্রহে প্রাচীন বস্ত্রের নমুনা সংগ্রহ করতে পেরে খুব খুশি হয়েছিলাম।

প্রাচীন গড়-প্রাচীরের ধ্বংসাবশেষ

পরের ক’দিন পাঁচিলঘেরা অংশের বালি খুঁড়ে সরিয়ে দিতে ভেতরের অংশের ছবিটা অনেকটা ধরা দিয়েছিল। যদিও তাতে নির্মাণ-সংক্রান্ত তথ্য জানতে পারলেও এই জনপদ সম্পর্কে বিশেষ কিছু জানতে পারিনি। পাঁচিলঘেরা অংশের ভেতরে মন্দিরের পুবদিকে রোদে শুকনো ইটের তৈরি একটি ১০০ বর্গফুট বড়ো ঘর ছিল। ঘরের ভেতর দুটো অগ্নিকুণ্ড থাকলেও তাতে কোনো পোড়া কাঠের অস্তিত্ব ছিল না, আদপেই ব্যবহার করা হয়েছিল কি না তাও বোঝা সম্ভব হয়নি। ঘরটি সন্ন্যাসীদের ব্যবহারের জন্য, নাকি এটি মন্দিরকে রক্ষা করার জন্য পাহারা-চৌকি হিসেবে তৈরি হয়েছিল, তা বোঝার মতো কোনো সূত্র পাওয়া যায়নি। মন্দিরের উত্তরদিকে পাঁচিলের ধার ঘেঁষে কাঠের ওপর পলেস্তারা চাপানো সারিবদ্ধ ছোটো ছোটো ঘরের সার পাওয়া গেল। ঘরের বাইরের দেওয়াল সাজানো ছিল ফ্রেস্কোতে। পাঁচিল ভেঙে যাওয়ায় ফ্রেস্কোর বিষয়বস্তু সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা না পাওয়া গেলেও তা বুদ্ধের জীবন সম্পর্কিত বলেই মনে হল। এই ছোট্ট ঘরগুলোর একটিতে কাঠের ওপর আঁকা হাতির মাথাওয়ালা ভারতীয় জ্ঞানের দেবতা গণেশের ছবি পেলাম। ছবি অনেকটা ঘষে গেলেও রঙের উজ্জ্বলতা ছিল নতুনের মতো।

মন্দিরের দক্ষিণদিকে বালি খুঁড়ে একটি ছোটো দোতলা বাড়ি পাওয়া গেল। ওপরের তলাগুলো সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেলেও নীচের তলাগুলো অক্ষত ছিল। নীচের তলার ঘরগুলোতে কোনো দরজা ছিল না, সম্ভবত এগুলো শীতকালে ব্যবহারের জন্য ভূগর্ভস্থ কামরা ছিল। একটি ঘরের মধ্যে বেশ বড়ো মাপের বাঁধানো অগ্নিকুণ্ড ছিল।

মাটির পাঁচিলটির ভিত ৩০ ফুট চওড়া ও উচ্চতায় সাড়ে সতেরো ফুট। শুধুমাত্র দক্ষিণের খানিক অংশে একটি দরজার ধার ঘেঁষে পুরো উচ্চতায় দাঁড়িয়ে থাকা পাঁচিলের ওপরের সাড়ে পাঁচ ফুট অংশ গাঁথা ছিল রোদে শুকনো ইট দিয়ে। ইট থেকে পাঁচিলের ভেতরের অংশে কাঠ দিয়ে টানা মাচা-মতো করা ছিল। তিব্বতি বা অন্য শত্রুদের আক্রমণ প্রতিরোধ করার জন্য এটিকে দুর্গ হিসেবে ব্যবহার করা হত কি না বলা মুশকিল। কিন্তু এই প্রাচীর যে মরুর বহমান বালির হাত থেকে এই বসতিকে অনেকটাই রক্ষা করত, তাতে সন্দেহ নেই। পাঁচিলের ওপর থেকে বাইরের তুলনায় বালি জমার পরিমাণ প্রায় ফুট দশেক কম দেখা গেছিল।

এন্ডারের স্তূপের আয়তনের পরিমাপ

বালির ওপর মাথা তুলে থাকা এন্ডারের স্তূপ ভালো করে পরীক্ষা করার পর দেখেছিলাম যে এটির সর্বশেষ তলের ইটের ভিত আশেপাশের জমির তল থেকে প্রায় দশ ফুট উঁচু, মনে হয় এটি একটি দ্বিতীয় ভিতের কাজ করেছিল আর তার ফলে স্তূপটিকে বেশ উঁচু দেখায়। চারদিকে ২৩ ফুট লম্বা আর ৭ ফুট লম্বা একটি চৌকো ভিতের ওপরে মূল স্তূপটি দাঁড়িয়ে। স্তূপের ১৬ ফুট ব্যাসের গম্বুজটি প্রায় ১৬ ফুট উঁচু। ইটের গাঁথনি অনেকটাই ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় ছিল। নিয়ানদীর পাশেতে দেখা গম্বুজটির মাপও প্রায় এক। শুধু তার দ্বিতীয় ভিতটি ছিল না। ভারতীয় স্তূপের ক্ষেত্রে, ব্যাসের তুলনায় উচ্চতা বেশি মানে পরবর্তীকালের স্তূপগুলোর কথা বোঝায়। এই দুটি স্তূপের চেহারার তুলনামূলক পরীক্ষা করলে এদের সময়কাল নির্ণয় করা যায়।

২৬ ফেব্রুয়ারি এই অঞ্চলে আমার অনুসন্ধানের কাজ শেষ হয়ে গেছিল। মজুরেরা ভোর থেকে অনেক রাত পর্যন্ত ক্লান্তিহীন পরিশ্রম করেছে মশাল জ্বেলে। এখনও পর্যন্ত যতটুকু তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে, তাতে বলা যেতে পারে যে আমার অভিযান চিন-ভারতের সেই সীমানায় পৌঁছে গেছে, যাকে ছাড়িয়ে প্রাচীন ভারতীয় ধর্ম-সংস্কৃতির প্রভাব অতীতে চিনদেশে পৌঁছেছিল। যদি পুবদিকে আরো এগোই তাহলে আমার প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধান তার এলাকার বাইরে চলে যেতে পারে। তাছাড়া কেরিয়া ও খোটানের উত্তর অঞ্চলের মরুতে অভিযান চালানোর জন্য সময় আমার হাতে এমনিতেই কম। পশ্চিমদিকে মুখ ফেরাবার সময় ঘনিয়ে আসছিল। একটাই সান্ত্বনা যে অভিযান থেকে ফিরে গেলে দীর্ঘ কয়েক বছর পরে আবার ইউরোপে ফিরব, প্রিয়জনদের সঙ্গে দেখা হবে, ভাবতেও ভালো লাগছিল।

সকল অধ্যায়
১.
প্রথম অধ্যায়
২.
দ্বিতীয় অধ্যায়
৩.
তৃতীয় অধ্যায়
৪.
চতুর্থ অধ্যায়
৫.
পঞ্চম অধ্যায়
৬.
ষষ্ঠ অধ্যায়
৭.
সপ্তম অধ্যায়
৮.
অষ্টম অধ্যায়
৯.
নবম অধ্যায়
১০.
দশম অধ্যায়
১১.
একাদশ অধ্যায়
১২.
দ্বাদশ অধ্যায়
১৩.
ত্রয়োদশ অধ্যায়
১৪.
চতুর্দশ অধ্যায়
১৫.
পঞ্চদশ অধ্যায়
১৬.
ষোড়শ অধ্যায়
১৭.
সপ্তদশ অধ্যায়
১৮.
অষ্টাদশ অধ্যায়
১৯.
ঊনবিংশ অধ্যায়
২০.
বিংশ অধ্যায়
২১.
একবিংশ অধ্যায়
২২.
দ্বাবিংশ অধ্যায়
২৩.
ত্রয়োবিংশ অধ্যায়
২৪.
চতুর্বিংশ অধ্যায়
২৫.
পঞ্চবিংশ অধ্যায়
২৬.
ষড়বিংশ অধ্যায়
২৭.
সপ্তবিংশ অধ্যায়
২৮.
অষ্টবিংশ অধ্যায়
২৯.
ঊনত্রিংশ অধ্যায়
৩০.
ত্রিংশ অধ্যায়
৩১.
একত্রিংশ অধ্যায়
৩২.
দ্বাত্রিংশ অধ্যায়
৩৩.
ত্রয়োত্রিংশ অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%