মার্ক অরেল স্টাইন
২৫ নভেম্বর খোটানের প্রাচীন রাজধানী ইয়োটকানে পৌঁছই। এর আগে একবার অক্টোবর মাসে এই জায়গাটা আমি ঘুরে গেছিলাম। এখানে আসার পথে বর্ষার জলে সৃষ্ট দুটো গভীর নদীখাত পার হতে হয়েছিল। সারা বছর জল না থাকলেও বর্ষায় ভরে যায় এই নদীখাতগুলো। খাতের কিনারা খুব খাড়া হলেও আমার টাট্টুঘোড়া নদীখাতে নেমে উঠেও এসেছিল অক্লেশে। দলের আগে নদী পার হয়ে আসার সময় মালপত্রবোঝাই উটগুলো নদী পার হতে পারবে কি না এ-প্রশ্ন আমার মাথায় আসেনি। ইয়োটকানে পৌঁছে ইউজবাশির বাড়ির কাছে তাঁবু খাটানোর একটা উপযুক্ত জায়গা বেছে ইউজবাশির বাড়িতে অপেক্ষা করছিলাম দলবলের জন্য। সচ্ছল ইউজবাশি আমাকে যে-ঘরে নিয়ে বসিয়েছিল সেই ঘরটি খুবই আরামদায়ক। ঘরের এককোণে আগুন জ্বলছিল। মেঝে-ঢাকা খোটানের বিখ্যাত পুরু রঙিন কার্পেটে। আমি মজায় সময় কাটাচ্ছিলাম ইওলচি বেগ আর ইউজবাশির খুদে লাল টকটকে গালের ছেলের সঙ্গে খেলা করতে করতে।
সন্ধে গড়িয়ে ঘন অন্ধকার নেমে আসার পর আমার এক উটচালক এসে হাজির হল। উটচালকের সঙ্গে উট না থাকাতে আমি অবাক হয়েছিলাম। অনেকক্ষণ ধরে অপেক্ষায় ছিলাম আমার তাঁবু আর ব্যাগের জন্য। উটচালক জানাল যে নদীর বুক থেকে মালপত্রসহ উটগুলোকে খাড়া পাড় বেয়ে তোলা সম্ভব হয়নি। ইউজবাশি সঙ্গে সঙ্গে বেশ কিছু লোক পাঠিয়ে দিল উটগুলোকে নদীর পাড়ে তুলে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করতে। আমার সন্দেহ ছিল যাদের পাঠানো হয়েছিল, সেই ঢিলাঢালা লোকগুলো কতটা কী করতে পারবে তা নিয়ে।
খানিক এগিয়ে দেখি যা ভেবেছিলাম তাই, লোকগুলো অন্য কিছু লোকের ওপর দায়িত্ব দিয়ে ইউজবাশির বাড়ি থেকে সামান্য এগিয়ে চুপ করে দাঁড়িয়ে রয়েছে। আরো এক ঘণ্টা অপেক্ষা করার পরে ইসলাম বেগ আর তিলা বাই কে দলের সন্ধানে পাঠানো হল। রাত দশটা নাগাদ আমার লোকজন উটের দল নিয়ে হাজির হয়েছিল। ওরা চেষ্টা করেছিল যাতে আমার ব্যক্তিগত মালপত্রসহ উটটাকে আগে পাঠানোর, কিন্তু সেটা একটা নালা পার হতে গিয়ে মালপত্রসহ উলটে জলে পড়ে গেছিল। সেটাকে যখন টেনে তোলা হল ততক্ষণে আমার মালপত্র সব ভিজে গেছে। সব উটেদের তখন অন্য পথে ঘুরিয়ে নিয়ে আসা হল। রাতের খাবার খেতে খেতে প্রায় ভোর হয়ে গেছিল। রাতে ঘুমোতে হয়েছিল একটা কম্বল জোগাড় করে। নদীর খাড়া ঢাল আমার উটগুলোর কাছে খানিক বাধা হয়ে দাঁড়ালেও আমার অভিযানে এদের ভূমিকা অপরিহার্য ছিল।

মরুভূমির মধ্যে এই নদীখাত যদি সৃষ্টি না হত, তাহলে খোটানের পুরোনো রাজধানীর অস্তিত্ব যে কতকাল বালির তলায় চাপা পড়ে থাকত বা কোনোদিন জানা যেত কি না কে জানে! ইয়োটকান গ্রামসংলগ্ন চাষের খেতের মধ্যে দিয়ে বয়ে যাওয়া একচিলতে নদীর নাম ‘ইয়োটকান ইয়ার’। গ্রামের বৃদ্ধরা জানিয়েছিলেন, ইয়াকুব বেগের অধীনে নিযুক্ত প্রথম গভর্নর নিয়াজ হাকিম বেগ প্রথম এই প্রাচীন শহরের ধ্বংসাবশেষের কিছুটা খুঁড়ে বের করেন।
আচমকাই খুঁজে পাওয়া গেছিল এই প্রাচীন শহরের অস্তিত্ব। নিয়াজ হাকিম বেগ গভর্নর হয়ে আসার বছর তিনেক পর ১৮৬৬ সালে ইয়োটকানের মরূদ্যানে চাষের খেতে জলের জোগান বাড়ানোর জন্য কারা-কাশ নদীর জল বয়ে নিয়ে আসা খালকে গভীর করে কেটে একটা ‘ইয়ার’-এ পরিণত করার কাজ শুরু করেছিলেন। এই খাল শুরু হয়েছে ইয়োটকানের পশ্চিমে মাইল দেড়েক দূরের পাহাড়ের গোড়ায় চালবাশ নামের এক গ্রামের পাশ থেকে। ওখানেই আছে এক জলাভূমি। খাল গভীর করার কাজ শুরু হতে শ্রমিকেরা ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকা অসংখ্য পুরোনো দিনের মাটির পাত্রের মাঝে এক টুকরো সোনা দেখতে পায়। মাটির পাত্র শ্রমিকদের কাছে কোনো আকর্ষণীয় বস্তু না হলেও সোনা পাওয়াটা চাঞ্চল্যকর হয়ে দাঁড়ায়। ফলে শ্রমিকরা সোনা আর জেড পাথর খোঁজায় মত্ত হয়ে পড়ে। খবরটা গভর্নরের কানে পৌঁছতে সময় নেয়নি।
নিয়াজ হাকিম ছিলেন এক করিৎকর্মা প্রশাসক। তিনি শহর থেকে জেড-খননে অভিজ্ঞতা আছে এমন কিছু লোককে এখানে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। যেসব জমি মালিকের জমিতে খোঁড়াখুঁড়ির কাজ চলছিল তাদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করেছিলেন এইভাবে যে, মূল্যবান যা সামগ্রী খননকারী পাবে তার অর্ধেক মূল্য পাবে জমির মালিক আর অর্ধেক পাবে খননকারী। মাটি খুঁড়লেই তো হবে না, সেই মাটি ধুয়ে চালার জন্য প্রয়োজন ছিল প্রচুর জলের। খালের বুক ও তার আশেপাশের আয়তাকার অঞ্চল তখন গভীর থেকে গভীরে পৌঁছচ্ছিল। সোনা আর জেডের খোঁজে খাল গভীর হতে হতে ২০ থেকে ৩০ ফুট হয়ে গেছিল, আর পাশের জলাভূমির জল সব এসে পড়েছিল খালেতে। জলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে যাওয়ায় আর খননের পুরো জায়গা জলমগ্ন হয়ে খোঁড়াখুঁড়ির কাজ বন্ধ হয়ে গেছিল। জলাভূমি বাঁচাতে আবার মাটি ফেলে খালের উচ্চতা বাড়াতে হয়েছিল। কিন্তু খোঁড়াখুঁড়ির ফলে বের হয়ে এসেছিল পুরোনো শহরের অস্তিত্ব। গ্রামের লোকেরা জানিয়েছিল, এই খোঁড়াখুঁড়ির আগে পুরো অঞ্চলটা প্রায় সমতল ছিল, এমনকি নদীর কিনারাও এত খাড়া ছিল না। তার চাইতে বড়ো কথা, প্রাচীনকালে এখানে যে একটা বড়ো শহর ছিল তাও টের পায়নি তারা।
এর আগে ইয়োটকানে যেসব বিদেশি পর্যটক অল্প সময়ের জন্যে এসে ঘুরে গেছেন এবং এখানকার ‘মাটিতে ভয়াবহ ধ্বংসলীলা’ চলে বলে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা সম্ভবত এই অঞ্চলের ভয়ংকর বন্যাপ্রবণতা ও তার ফলাফলের উপর ভিত্তি করে এই মন্তব্য করেছেন। যা অবশ্যই সত্যি। কিন্তু আমার জরিপ ও অভিমত বলে, প্রায় দেড় মাইল জায়গা জুড়ে সোনা খুঁজে বের করার জন্য গভীর খননের ফল এই অঞ্চলের ভয়াবহ ধ্বংসলীলা। সোনা সন্ধানীরা আজও সমানভাবে সক্রিয়।

শুধু সোনা নয়, এইখানে খনন করে পাওয়া পাথরে খোদাই মূর্তি, কারুকাজ করা মাটির পাত্র, প্রাচীন মুদ্রা বিক্রি করে ভালোই উপার্জন করে প্রত্নসন্ধানীরা। আমি এখান থেকে পাওয়া খানিক সোনার টুকরোর নমুনা সংগ্রহ করেছিলাম। যদিও এখানে সোনার গহনা বা মুদ্রা পাওয়া যায় বা গেছে বলে গ্রামবাসীরা স্বীকার করেনি, কিন্তু এটা স্বীকার করা হয় যে খোঁড়াখুঁড়ি শুরু করার সময় ভালো পরিমাণে সোনা পাওয়া গেছিল মূলত পাত বা দানার আকারে। আমি ইয়োটকান থেকে একটি ছোটো সোনার তৈরি নিখুঁত বাঁদরের মূর্তি সংগ্রহ করেছিলাম যা খনন শুরু হবার কালে পাওয়া। যদিও আমার ধারণা, কোনো কারণে এসব পেলেও এরা তা কাউকে জানাতে চায় না, বরং তা সঙ্গে সঙ্গে গলিয়ে ফেলে।
বিশাল অঞ্চল জুড়ে সোনার ছড়াছড়ি অবিশ্বাস্য বলে মনে হতেই পারে। কোথা থেকে এসেছিল এত সোনা, বিশেষ করে সোনার পাত? চৈনিক তীর্থযাত্রী ফা-হিয়েন তাঁর খোটান সফরের বর্ণনায় (আনুমানিক ৪০০ খ্রিস্টাব্দে) এর উত্তর দিয়ে গেছেন অনেকটাই। শুধু বৌদ্ধ মন্দির, মঠ ও মূর্তিতেই নয়, দালানকোঠা অলংকরণেও ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত সোনার পাতের উপস্থিতির কথা তিনি বলে গেছেন। এই কাঠামোগুলো কালের গতিতে ভেঙে চুরমার হয়ে বালির তলায় চাপা পড়ে গেলে সোনার পাত ও সোনার দানা বালি আর মাটিতে গিয়ে মিশেছে, যা এখন বালি চেলে ধোয়ার ফলে বেরিয়ে আসছে অন্যান্য সামগ্রীর সঙ্গে। এখানে মাটির নীচের স্তর যা থেকে সোনার টুকরো পাওয়া যাচ্ছে তা মূলত পচনশীল আবর্জনার স্তূপ থেকে।
ভাঙাচোরা প্রাচীন মাটির পাত্র, প্রাণীর হাড়, ছাই, কাঠ আর ঘরবাড়ির কাঠামোর টুকরো মাটির নীচের স্তর জুড়ে রয়েছে। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মাটির তলায় চাপা পড়ে রয়েছে এইসব সামগ্রী। বছরের পর বছর ধরে পলি আর বালি জমা হয়েছে এক ধ্বংসপ্রাপ্ত শহরের ওপর। প্রচুর পরিমাণে যেসব তামার মুদ্রা পাওয়া গেছে তাতে রয়েছে দ্বি-ভাষিক ও নানা-ভাষিক দেশিয় শাসকদের প্রতীক। তাতে যেমন রয়েছে প্রাচীন ভারতীয় খরোষ্ঠী অক্ষর, তেমনি চিনা অক্ষরও। মাটির তলা থেকে বেরিয়ে এসেছে তাং রাজবংশের বর্গাকার ছিদ্রের মুদ্রা যা ৬১৮ – ৯০৭ খ্রিস্টাব্দকালীন প্রচলিত ছিল। পাললিক শিলায় পরিণত হওয়া মাটির স্তরের একই ধরণের হালকা বাদামি রঙ প্রমাণ করে, এই স্তর বহু শতাব্দী প্রাচীন। নদীর দক্ষিণে আর পশ্চিমে এই স্তরের শুরু মাটির পাঁচ থেকে আট ফুট গভীরে। কিন্তু খননকৃত এলাকার উত্তরে, যেখানে প্রাচীন জিনিসপত্র যেমন টেরাকোটা মূর্তি, সিলমোহর ইত্যাদি পাওয়া গেছে সেখানে এই স্তরের শুরু তেরো থেকে চোদ্দ ফুট গভীরে। এটা স্পষ্ট যে গভীরতার তারতম্য এসেছে সময়ের দীর্ঘতার জন্য। শুধু তাই নয়, মাটির পাত্র, হাড়ের টুকরো ইত্যাদি আলাদা আলাদা জায়গায় এক-এক পরিমাণে পাওয়া গেছে। যদিও একদিক থেকে দেখতে গেলে পুরো অঞ্চল জুড়ে প্রাপ্ত পুরাতাত্ত্বিক নিদর্শনের মধ্যে একটা সামঞ্জস্য আছে। কিন্তু কোথাও কোনো ইমারতের ধ্বংসাবশেষের চিহ্ন পাওয়া যায়নি—না এখন, না সাম্প্রতিক অতীতে। এতে ধরে নেওয়া যেতে পারে যে এই অঞ্চলে ইমারত তৈরির জন্য উপযুক্ত পাথর ছিল না। ফলে এই অঞ্চলে ঘরবাড়ি নির্মিত হয়েছিল রোদে শুকানো ইট, কাদামাটি আর কাঠ দিয়ে। এমনকি এখনও খোটানের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ঘরবাড়ি নির্মাণে মূলত এইসব ইমারত সামগ্রীই ব্যবহার করা হয়। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চাষের কারণে খনন করা সেচ খালের কল্যাণে মাটির আর্দ্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় মাটি আর কাঠে তৈরি বাড়িঘর দ্রুত তার শক্তি হারিয়েছে। আবার এরকমও হতে পারে আকস্মিক কোনো বিপর্যয়ে প্রাচীন শহরটি ধ্বংস হয়ে গেছিল এবং অঞ্চলের বাসিন্দারা সব ছেড়েছুড়ে চলে গিয়েছিলেন। কালের গর্ভে চলে গিয়েছিল পুরো শহর। যদিও মাটির তলায় প্রাপ্ত ধ্বংসাবশেষের নমুনা পরীক্ষা করে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারিনি।
পুরো ধ্বংসাবশেষ নয় থেকে চোদ্দ ফুট গভীর পলিমাটির স্তরের তলায়। ওপরের স্তরে যেখানে মাটির রঙ হালকা সেখানে কোনো পুরাতাত্ত্বিক নিদর্শন মেলেনি, মিলেছে আরও গভীর স্তর থেকে। পুরো বিষয়টাই আমাকে আগ্রহী করে তুলেছিল। ইয়োটকান পরিদর্শন করা আমার পূর্ববর্তী ইউরোপিয় পর্যটকরা দাবি করে গেছেন, এখানে শহর ধ্বংস হবার মূলে বন্যা। কিন্তু খনন করা খাতগুলো বেশ কয়েক ঘণ্টা ধরে পরীক্ষা করে আমার এ-কথা মনে হয়নি। বন্যা এই শহর ধ্বংসের কারণ নয়। খাদের মাটিতে বন্যা বা ধারাবাহিক বন্যার ফলে যে স্তরবিন্যাস হয় তার বিন্দুমাত্র চিহ্ন নেই।
তাহলে একটা গোটা শহর বা জনপদ মাটির তলায় চাপা পড়ার কারণ কী হতে পারে? আমার মতে, এত বড়ো জনপদ মাটির তলায় চাপা পড়ে গেছে নদীর পলি জমে। খোটান-সহ তুর্কিস্তানের সব জায়গায় চাষবাস পুরোপুরি সেচের ওপর নির্ভরশীল। ইয়োটকানের চাষের খেতে বসন্ত আর গ্রীষ্মে নদী থেকে সেচ খালের মাধ্যমে জল পাঠানো হয়। আর এখানে নদীর জল প্রচুর পরিমাণে পলি বয়ে নিয়ে আসে পাহাড় থেকে। আর জলের সঙ্গে বয়ে আসা পলি জমতে থাকে খেতের উপরিতলে। বিশাল পরিমাণ পলি যেমন চাষের জমিকে সমৃদ্ধ করে, তেমনি জমির উচ্চতাও বাড়িয়ে দেয়। শয়ে শয়ে বছর ধরে পলি জমে, বিশেষ করে নদীর তীরবর্তী অংশে চাপা দিয়ে দিয়েছে সবকিছু।
ইয়োটকান সম্পর্কিত আমার পর্যবেক্ষণ আমার তত্ত্বকে সমর্থন করবে বলে আমার ধারণা। পুরো মরূদ্যান অঞ্চলে দেখেছি প্রধান রাস্তাগুলো আশপাশ থেকে যথেষ্ট নীচু। বিশেষ করে যখন সেই রাস্তা চাষের জমির মধ্যে দিয়ে গেছে। যদিও সেই রাস্তা যখন গ্রামের মধ্যে দিয়ে বা অনুর্বর অংশ দিয়ে গেছে, সেই পথ আবার আশেপাশের জমির সঙ্গে প্রায় একই উচ্চতায় আছে। ভালো করে নজর করলেই বোঝা যাবে, আশেপাশের চাষ-জমি উঁচু হয়ে যাওয়া বা রাস্তা নীচু হয়ে যাওয়ার কারণ প্রাকৃতিক হতে পারে না। চাষের জমিতে পলি জমে সেই জমিকে উঁচু করেছে আর অন্যদিকে পলি না জমার ফলে রাস্তা হয়ে গেছে নীচু। শুধু রাস্তাই নয়, পুরোনো কবরস্থানগুলোর অবস্থানও চাষের জমির উচ্চতা থেকে নীচে। যেহেতু কবরস্থান বা মাজারে জল জমতে দেওয়া হয় না, তাই সেগুলোর উচ্চতা বাড়েনি।
ইয়োটকানের মধ্যে দিয়ে এঁকে-বেঁকে নদী গিয়েছে পশ্চিম থেকে দক্ষিণে। আর সোনা খুঁজিয়েরা যেসব জায়গায় কাজ করেছিল বা করছে, সে-সব মিলিয়ে পুরোনো শহরের অবস্থান সম্পর্কে খানিক ধারণা তৈরি হয়েছিল। নদীর ধারে অনেক জায়গাতেই সামান্য খুঁড়ে খনন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, কারণ পর্যাপ্ত পরিমাণে সোনা পাওয়া যায়নি। বর্তমানে নদীর পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম অঞ্চল জুড়ে যেখানে সোনা খোঁজার কাজ অবিরত হয়ে চলেছে এবং প্রভূত পরিমাণে সোনা পাওয়া যাচ্ছে সেই অঞ্চলের কাছাকাছি মাটির তলায় পুরোনো শহরের অবস্থান হওয়ার সম্ভাবনা অতি প্রবল। নদীর পুবদিক থেকে কোনো প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন পাওয়া যায়নি। তাই শহরের অবস্থান সেদিকে হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
ইয়োটকানের মাটির নীচে চাপা পড়া শহরটি যে খোটানের পুরোনো রাজধানী, তাতে সন্দেহ নেই। ফরাসি অভিযাত্রী এম. গ্রেনার্ড এ-কথাটি কিছুদিন আগেই বলেও গেছেন। এই পুরোনো শহরের তত্ত্ব শুধুমাত্র গ্রামবাসীদের কথার ওপরেই ভিত্তি করে নয়। শুধুমাত্র মাটির তলা থেকে পাওয়া পুরাতাত্ত্বিক নিদর্শন থেকেও নয়। এই শহরের উপস্থিতির কথা বলে গেছেন স্বয়ং হিউয়েন সাঙ। তিনি এই অঞ্চলের বেশ কিছু প্রসিদ্ধ বৌদ্ধমন্দির পরিদর্শন করেছিলেন বলেও তাঁর লেখায় উল্লেখ করেছেন।
২৮ নভেম্বর সকালবেলা আমি প্রাচীন শহরের অবস্থান শনাক্ত করার আশায় ইয়োটকানের পশ্চিমের গ্রামগুলোর দিকে যাত্রা শুরু করলাম। প্রথমেই গেলাম ইয়োটকান থেকে পশ্চিমে, হিউয়েন সাঙ বর্ণিত ৫ – ৬ লি দূরের (এক মাইলের থেকে খানিক বেশি) ‘সা-মো-জোহ্’ নামের এক তীর্থস্থানে। এখানে অবস্থিত এক স্তূপ মহান পরিব্রাজক দর্শন করেছিলেন। এই স্তূপটি তৈরি হয়েছিল এক অর্হতের প্রতি সম্মান জানাতে। তিনি এক বৌদ্ধ রাজাকে বিশেষ অলৌকিক শক্তি দিয়ে রক্ষা করেছিলেন। একশো ফুটেরও বেশি উঁচু এই স্তূপের নীচে বুদ্ধের দেহের পবিত্র অংশ প্রোথিত হয়েছিল বলে মনে করা হয়। ফা-হিয়েনও এর প্রায় আড়াইশো বছর আগে এই মঠ পরিদর্শন করে তাঁর ভ্রমণ বৃত্তান্তে স্তূপের পেছনে উঁচু হয়ে দাঁড়ানো ‘বুদ্ধের সম্মানে তৈরি এক মহৎ ও অপূর্ব শোভাময় সভাগৃহ’-এর বর্ণনা করেছিলেন। আমার আগের অভিজ্ঞতা থেকে বুঝে গেছিলাম যে খানিক রোদে শুকনো ইট ছাড়া মঠের ধ্বংসাবশেষ বলে এখন আর কিছু পাওয়া যাবে না। সবই চাষের জমির গ্রাসে চলে গেছে।
প্রাচীন শহরের খোঁড়াখুঁড়ির অংশটা ছাড়িয়ে পশ্চিমে আধা মাইল দূরে এসকেন্তে গ্রামে গিয়ে পৌঁছলাম। সেখানে গিয়ে শুনলাম যে ‘সোমিয়া’ গ্রামের যে কবরখানা রয়েছে, তার লাগোয়া একটা ‘ডোবে’ বা ঢিবি রয়েছে। এসেকেন্তে থেকে প্রায় পৌনে এক মাইল পশ্চিমে প্রায় গোটা তিরিশেক ঘরবাড়ি নিয়ে সেই গ্রাম। গ্রামে পৌঁছেই সবার প্রথমে হানা দিলাম স্থানীয় মাজারে। মাজারটাকে ঘিরে ছিল কবরখানা। ‘ডোবে’র খোঁজ করাতে কয়েকজন আমাকে নিয়ে গেল কবরখানার উত্তর-পূর্ব কোণে চাষের জমির ধারে। সেখানে মাটি থেকে ফুট পাঁচেক উঁচু একটা ঢিবিকে (‘ডোবে’) গ্রামের লোকেরা সংস্কার থেকে উদ্ভূত এক ধরণের ভয়ে পূজা করে।
গ্রামে গিয়ে আমি সবচাইতে আনন্দ পেয়েছিলাম ‘সোমিয়া’ নামটি শুনে। ভাষাতাত্ত্বিক সাদৃশ্য শুনে মনে হয়েছিল যে প্রাচীন চৈনিক শব্দ ‘সা-মো-জোহ’ কথাটাই অপভ্রংশে ‘সোমিয়া’ হয়েছে। গ্রামের সবচাইতে বৃদ্ধ মানুষ শামি সোপেসেই ঢিবির ধারে আমার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন। জানিয়েছিলেন, তাঁর পিতা-পিতামহদের কাছ থেকে শুনেছেন প্রাচীনকালে এটি একটি মঠ ছিল। গ্রামের লোকেরা এটিকে ‘সোমিয়ার ঢিবি’ বলে জানে। প্রায় নব্বই বছরের কুঁজো হয়ে যাওয়া বৃদ্ধটি বলছিলেন যে তিনি তাঁর বাপ-ঠাকুরদার কাছ থেকে শুনে এসেছেন, এই জায়গাটি এতই পবিত্র যে তার জমিতে লাঙল ছোঁয়ানোর কথা চিন্তাতে আনাও পাপ। কোন এক অজানা সাধক এই ঢিবিতে বসেছিলেন, তাই সেখানে অন্য কারো হাতের ছোঁয়া লাগলে গ্রামের অমঙ্গল হতে পারে। সাধকের নাম সবাই ভুলে গেছে, ঢিবির তলায় তিনি চিরশয্যায় শুয়ে আছেন কি না তাও কেউ জানেনা। তবুও গ্রামের লোকেরা সোমিয়ার ঢিবির পাশ দিয়ে গেলে প্রার্থনা না করে যায় না। শেষ দুই শতাব্দী ধরে এই রীতি চলে আসছে।
আমি পুরো ব্যাপারটাকেই প্রাচীন ঐতিহ্য ধরে রাখার একটা চিহ্ন হিসাবে দেখলাম। ঢিবির সাধুর নাম কারো মনে নেই, অথচ তাকে স্মরণ করে ঢিবিটাকে পবিত্র জ্ঞানে সমীহ করা সোমিয়া-বাসীর একটা রীতি। ওদিকে মাজারের তিনজন মোল্লা যারা এই গ্রামের মাজারকে পবিত্রতার বন্ধনে রেখেছে, তাদের নাম গ্রামের বৃদ্ধ থেকে তরুণ সকলের জানা। সোমিয়ার ঢিবির মতো এরকম সংস্কারপ্রসূত সমীহের জায়গা এই অঞ্চলে আর কোথাও নেই বলে জানিয়েছিল গ্রামবাসীরা। সোমিয়ার নাম ও অবস্থান ও অন্যান্য প্রমাণ দেখে আমার মনে হল যে পূজিত হওয়া এই নামহীন ঢিবিই বৌদ্ধযুগের ‘সা-মো-জোহ্’ স্তূপের শেষ চিহ্ন। আর সেই ধারণা যদি সত্যি হয়, তাহলে এর দ্বারা প্রমাণও হয় যে খোটান ও এশিয়ার সর্বত্র জাতিধর্মনির্বিশেষে স্থানীয় আরাধনার পুরানো ঐতিহ্য স্থানীয় অধিবাসীরাই ধরে রেখেছে।
দিনভর খোঁজাখুঁজির পর চিনা তীর্থযাত্রীদের বলা আরও একটি পবিত্র স্থানের খোঁজ পেয়েছিলাম। হিউয়েন সাঙ এই প্রাচীন শহরের ১০ লি দক্ষিণ-পশ্চিমে ‘তি-কিয়া-পো-ফো-না’ নামে একটি মঠ দেখেছিলেন, যার এক অলৌকিক বুদ্ধমূর্তির জন্য খ্যাতি ছিল। এই নামের মঠের কোনো অস্তিত্ব আর না থাকলেও হিউয়েন সাঙ উল্লিখিত জায়গায় ‘বোওয়া-কাম্বর’ নামে একটি জনপ্রিয় তীর্থ পাওয়া গেল। খোটানের নানা প্রান্ত থেকে যাত্রীরা আসেন বোওয়া-কাম্বরে প্রার্থনার জন্য। গাছপালা দিয়ে ঘেরা এটি একটি বর্গাকার সমাধিক্ষেত্র এবং আশেপাশের মাটির স্তর থেকে প্রায় বারো ফুট নীচে অবস্থিত। ‘আলি পাদশাহ্’-র অনুগামী বলে কথিত একজনের সমাধিস্থল বলে পরিচিত এই মাটির সমাধিক্ষেত্র। মাটির বর্তমান উপরিস্তরের অনেক নীচে থাকা এই সমাধিক্ষেত্র প্রমাণ করে এর প্রাচীনত্ব।
সন্ধে নেমে আসায় আমাকে শিবিরে ফিরতে হয়েছিল, না-হলে কোসা নামের গ্রামে গিয়ে ইমাম মুসা কাসিমের মাজার একবার দেখে আসতাম। যদিও এর আগে উজাত গ্রামে যাওয়ার পথে কোসায় গিয়েছিলাম। ইয়োটকানের দক্ষিণে এর অবস্থান দেখে আমার ধারণা, হিউয়েন সাঙ-এর পর্যটন বৃত্তান্তে বর্ণিত ‘বিরোচন-সঙ্ঘারাম’, যা প্রাচীন খোটানের বৌদ্ধধর্মের অন্যতম মঠ ছিল, তার স্থান নিয়েছে এই মাজার। ইয়োটকান থেকে এর দূরত্ব মাইল তিনেকের সামান্য বেশি। খোটানের প্রাচীন রাজধানী থেকে ১০ লি’র মতো দূরত্বে এই মঠের উপস্থিতির কথা উল্লেখ করেছিলেন হিউয়েন সাঙ। যদিও খোটানের পুরানো রাজধানীর ব্যাপ্তি ঠিক কতটা ছিল জানা যায়নি।
২৯ নভেম্বর কনকনে ঠান্ডার কুয়াশাভরা সকালে ইউজবাশিকে বিদায় জানিয়ে ইয়োটকান ছেড়ে খোটান ফিরে আসার জন্য যাত্রা শুরু করি। আসল মরুযাত্রার প্রস্তুতি আবার ঝালিয়ে নেবার দরকার। ইয়োটকান থেকে মাইল দু-এক যাবার পরে একটা সেতু পার হতে হয়েছিল। ইয়োটকান থেকে আসা ইয়ার্স আর কাশ নদীর মিলিত জলের ধারা গিয়েছে সেতুর তলা দিয়ে। স্রোত যথেষ্ট গভীর। আমরা যে-পথে এসেছিলাম, সে-পথ দিয়ে না ফিরে খানিক অন্য পথ ধরেছি। খাদের ও-পাড়ে হালালবাগ নামের এক বিশাল গ্রাম। এই গ্রামটি ভালো করে দেখার জন্য মুখিয়ে ছিলাম। কারণ, এই গ্রামের মানুষেরা এমন অনেক বিশেষ রীতিনীতি মেনে চলে বলে শুনেছিলাম যা চলে আসছে দেশের প্রাক-ইসলাম শাসকদের সময়কাল থেকে। গ্রামের মাঝামাঝি প্রায় এক বর্গমাইল জায়গা জুড়ে এক বিশাল জলাভূমি যা এইডিং-কুল নামে পরিচিত। এই জলাভূমি উত্তরে ইউরুং-কাশের সঙ্গে যুক্ত।
ইসলাম বেগ এখানে এসে ইব্রাহিম মোল্লা নামে এক অত্যন্ত বুদ্ধিমান, শিক্ষিত ও ধার্মিক ব্যক্তিকে আমাকে সবকিছু ভালো করে দেখিয়ে ও বুঝিয়ে দেবার জন্য খুঁজে বের করেছিল। ছিয়াশি বছর বয়স ইব্রাহিম মোল্লার। কিন্তু মনেপ্রাণে তরুণ ও শারীরিক দিক থেকে সক্রিয়। আরামদায়ক উজ্জ্বল সিল্ক ও পশমের পোশাক পরে ছিলেন উনি। কোরান পাঠ ও তীর্থযাত্রা ছাড়াও ঐহিক স্বাচ্ছন্দ্যকেও উনি সমান গুরুত্ব দিয়েছেন একই সঙ্গে। ইব্রাহিম মোল্লার সংগ্রহে তুর্কি ভাষায় লেখা বেশ কিছু ‘তাসকিরা’ ছিল যা উনি খোটানের বিভিন্ন মাজারের ইমামদের কাছ থেকে পেয়েছিলেন। উনি সেগুলো দেখিয়ে এবং তার শ্লোক পাঠ করে শুনিয়েছিলেন, যা প্রমাণ করে এই হালালাবাদ একসময় খোটানের কিংবদন্তি বিধর্মী শাসকের ‘খালখাল-আই-চিন-উ-মাচিন’ রাজধানী ছিল। লিখিত আছে, চারজন ইমাম ও তাঁদের অনুগামীরা মিলে এই ইসলাম বিরোধী শাসককে হত্যা করে তাঁর শহরকে ধ্বংস করেছিল। সেই চার ইমামের পবিত্র শরীর হাশার এক বিখ্যাত মাজারে চিরবিশ্রামরত। জলাভূমির প্রায় আধ-মাইল পশ্চিমে ‘কুম-ই-শাহিদান’-এর মাজার হল সেই স্থান যেখানে ইমামদের তিনশো ষাট অনুগামী বিধর্মী শাসকের সঙ্গে লড়াইয়ে শহিদ হয়েছিল।
ইব্রাহিম মোল্লার মতে, ষোড়শ শতাব্দীর প্রথম দিকে কাশগর ও খোটানের শাসক মির্জা আবু-বকর এই স্থানটি গুপ্তধন পাওয়ার আশায় খনন করেছিলেন এবং সেই কাজ করার জন্য খাল খুঁড়ে জল এনেছিলেন যাতে খননকারী শ্রমিকরা মাটি ধুয়ে সোনা ও অন্যান্য সামগ্রী খুঁজে বের করতে পারে, ঠিক যেরকম এখন ইয়োটকানে করা হয়। তবে সে-সব খননের কোনো চিহ্ন এখন আর অবশিষ্ট নেই, ফলে এই জনশ্রুতির ঐতিহাসিক ভিত্তি বিচার করা কঠিন। মির্জা আবু-বকরের কর্মকাণ্ডের খোঁজখবর তাঁর ভাগনে মির্জা হায়দারের আকর্ষণীয় ধারাবিবরণী ‘তারিখ-ই-রশিদি’-তে পাওয়া যায়। আবু-বকর বেশ কিছু জায়গায় ধনরত্ন পাবার আশায় খোঁড়াখুঁড়ি করেছিলেন, কিন্তু হালালবাগ সেই জায়গাগুলোর একটি কি না তা খনন না করে শুধুমাত্র লোককথার ওপর নির্ভর করে নিশ্চিন্তভাবে বলা সম্ভব নয়। জলাভূমির দক্ষিণ প্রান্তের কাছাকাছি এলাকায় অবস্থিত ‘নাগারা খানা’( ‘কেট্ল ড্রামের হল’) নামের প্রায় সাতাশ ফুট উঁচু ঢিবিটা প্রাচীন শহরের নগর-প্রাচীরের অবশেষ বলে জনশ্রুতি। কিন্তু ভালো করে পরীক্ষা করে বোঝা গেল, এ আসলে প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট। এখানে কোনো ইটের ছিটেফোঁটা বা কৃত্রিম নির্মাণের নিদর্শন আমার নজরে পড়ল না।
শীত চেপে বসেছে। মরুযাত্রার চূড়ান্ত প্রস্তুতি শেষবারের মতো ঝালিয়ে নিতে খোটানে আশ্রয় নিয়েছিলাম শহরের প্রান্তে তোখতা আখুনের বাগানে। আমার অভিযানের রিপোর্টগুলো ইউরোপে পাঠানোর জন্য দ্রুত শেষ করে ফেলছিলাম, সঙ্গে চলছিল মালপত্র পরীক্ষা করে সেগুলো মেরামত করে ঠিকঠাক গোছানোর কাজ। যতটা সম্ভব হালকা রাখার চেষ্টা করছিলাম। উটগুলোর সাময়িক দেখভালের দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছিলাম আফগান ব্যবসায়ী বদরুদ্দিন খানের ওপর। মরুযাত্রার অপ্রয়োজনীয় মালপত্রও তুলে দিচ্ছিলাম বদরুদ্দিনের গুদামে। এই কাজটা করতে হচ্ছিল খুব হিসেব কষে, সবই মনে হচ্ছিল ‘লাগতে পারে’। নিদারুণ শীতে মরুভূমির মধ্যে, বিশেষ করে শীত পোশাকের ঘাটতি আমাদের চরম বিপদে ফেলে দিতে পারে। পরিবহন ব্যবস্থা আর মালপত্র নেওয়ার এই সযত্ন প্রস্তুতির ফলে আমি খোটান থেকে মরুভূমির অনেকটা ভেতর পর্যন্ত যেতে পেরেছিলাম; এত গভীরে যে যেতে পারব, তা শুরুতে আমার হিসাবের মধ্যে ছিল না।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন