স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
প্রেম শব্দটা প্রথম কবে শুনেছিলাম সেটা মনে নেই, কিন্তু শব্দটা আমার মাথায় প্রথম রেজিস্টার করেছিল ক্লাস টু-তে। ছোটবেলায় আমি যে নার্সারি স্কুলে পড়তাম সেখানে আমাদের প্রেয়ার হত একটা দেবদারু বীথিতে। সেই দেবদারু বীথিতে প্রেয়ারের পরে মাঝে মাঝে কোনও কোনও টিচার, যাঁদের আমরা আন্টি বলতাম, তাঁরা নানান হিতোপদেশ শোনাতেন। সেখানেই আমরা প্রথম শুনেছিলাম বিবেকানন্দর সেই ‘জীবে প্রেম' বাণীটি। আন্টি সেদিন ব্যাখ্যাও করে দিয়েছিলেন ব্যাপারটা।
এর ক'দিন পরে এক রবিবারের দুপুরে আমাদের বাড়িতে আড্ডা বসেছে মা, পিসি, মাম্মাম ও পাড়ার অন্যান্য দিদা ও কাকিমাদের। আমিও সেই আড্ডার একপাশে বসে ছবি আঁকছি। এমন সময় শুনেছিলাম মাম্মাম বলছে, ‘ওই বাড়ির শুক্লা তো দীপেনের সঙ্গে প্রেম করে!’
প্রেম করা মানে তো ঈশ্বর সেবা করা! মানে শুক্লাপিসি দীপেনকাকার সঙ্গে ঈশ্বরের সেবা করেন? আমি থাকতে না পেরে জিজ্ঞেস করেছিলাম, ‘ওরা কোন মন্দিরে যায় গো?’ মন্দির! সবাই থমকে গিয়েছিল। আমার আমোদ হয়েছিল বড়! আরে এরা কিচ্ছু জানে না। স্বামী বিবেকানন্দর কথা জানে না! তাই আন্টি যেমন যেমন বলেছিলেন তেমন তেমন করে আমিও বড়দের বুঝিয়ে দিয়েছিলাম প্রেম ব্যাপারটা কী! আর ব্যাস যায় কোথায়! সবাই হাসতে হাসতে প্রায় শুয়ে পড়েছিল! সেই হাসির শব্দ আজও আমার কানে বাজে!
সেই আশির মধ্যভাগে মফস্সল শহরগুলোয় প্রেম ছিল একটা ট্যাবু। আমাদের নঙ্গী-বাটানগর অঞ্চলও তার ব্যতিক্রম ছিল না। একটা ছেলে আর একটা মেয়ে একলা দাঁড়িয়ে বাজারদর নিয়ে আলোচনা করলেও লোকে কানাকানি শুরু করে দিত। চোখের কোণ দিয়ে ইশারায় জানাতে চাইত, এখানে কিছু একটা হচ্ছে!
মানুষের কাছে তথাকথিত নিষিদ্ধ জিনিসের আকর্ষণ সবসময় বেশি। তাই প্রেম আমাদের কাছে যেহেতু অফ-লিমিটস ছিল তাই তার প্রতি কৌতূহলটাও ছিল প্রবল।
প্রেম করা মানে যে ঠিক কী তখন স্পষ্ট করে বুঝতাম না। শুধু দেখতাম কোনও ছেলে মেয়ে যদি একসঙ্গে একটু দাঁড়িয়ে কথা বলে তা হলেই বড়রা বলছে, ওই দেখো প্রেম করছে। আমার এখন মনে হয় সেই সময় বড়রাও আসলে ঠিক বুঝত না প্রেম ব্যাপারটা কী! মানে শুধু আড়ালে দাঁড়িয়ে কথা বলা? কাছে পেতে চাওয়া? অধিকার দেখানো? হিংসুটে হয়ে যাওয়া? অন্যের জীবন নিয়ন্ত্রণ করতে চাওয়া? নাকি এইসব কিছু মিলিয়েই বাটা সিনেমার পাশে বসা নেপালদার মশলা মুড়ির মতো কোনও ব্যাপার!
মনে আছে সেই দুপুরের পরে প্রেম মানে যে স্বামীজির বাণীর বাইরেও কিছু, সেটার একটা আবছা ধারণা তৈরি হয়েছিল।
ক্লাস থ্রিতে ওঠার পরে এই ব্যাপারে আমার চোখ ফুটল। সামান্য যেন আগ্রহও বাড়ল। বুঝলাম নারী আর পুরুষের মধ্যে একটা অদ্ভুত টান খেলা করে। সেই টান কখনও তাদের কাছে টানে আবার কখনও তাদের দূরে ঠেলে সরিয়ে দেয়। মনে প্রশ্ন জাগল সেই নার্সারি বয়সে সাগরিকা চ্যাটার্জি বলে যে মেয়েটিকে দেখলেই মনে এক অদ্ভুত আনন্দ হত সেটাও কি প্রেম! কিন্তু ওই পাঁচ বছর বয়সে আবার প্রেম হয় নাকি? বোধটাই তো তৈরি হয় না! কিন্তু এখন এই মধ্য চল্লিশে এসে বুঝি নাম না জানলেও অনেক কিছুই জীবনে ঘটে যায়! বয়স, স্থান-কাল-পাত্রের ধার তারা ধারে না!
আমাদের এক ক্লাস ওপরে পড়ত রেশমীদি! স্কুলবাসে আমার পাশেই বসত। সেই রেশমীদি আমায় যেতে-আসতে বোঝাত আসলে প্রেম কী! ওর ছোটমামা কেমন করে বাড়ি থেকে পালিয়ে বিয়ে করেছে! ওর নিজের পাশের বাড়ির ক্লাস সেভেনে পড়া সন্দীপদাকে কেন খুব ভাল লাগে ইত্যাদি ইত্যাদি!
এত দিনের ফুটবলময় জীবনে আস্তে আস্তে আমার মনে অন্য কিছু এসেও জায়গা করতে শুরু করেছিল। তারপর একটা ঘটনা ঘটল। আর তাতে তখনকার আমাদের একমুঠো মফস্সলটায় বেশ আলোড়ন পড়ে গেল।
আমার বাবার এক খুড়তুতো ভাই লাভ ম্যারেজ করল। না, এখনকার মতো বাড়িতে বাড়িতে লাভ ম্যারেজ না হলেও তখনও টুকটাক এখানে ওখানে লাভ ম্যারেজ হত। আমার ছোটপিসিমাই সেই মধ্য সত্তরে প্রেমবিবাহ করেছিল। ফলে পঁচাশি সালে সেই কাকার বিয়েটা যদি শুধু লাভ ম্যারেজ হত তা হলে কথা চালাচালি হয়েই ব্যাপারটা থেমে যেত। কিন্তু ব্যাপারটা বিরাট আকার ধারণ করল, কারণ কাকিমা নিজের বাবা-মায়ের থেকে পালিয়ে এসেছিল কাকার কাছে। তারপর কাকিমার বাবা পুলিশ নিয়ে হাজির হয়েছিল সেই কাকার বাড়িতে। কাকাকে চড়চাপ্পড়ও মারা হয়েছিল। সেই কাকার মা, যাকে আমরা দিদা বলতাম, সে ঠাকুরের সিংহাসন থেকে সিঁদুরের কৌটো নিয়ে কাকার হাতে দিয়েছিল। কাকা পুলিশের সামনে কাকিমাকে সেই সিঁদুর পরিয়ে দিয়েছিল!
এখনকার সন্ধেবেলার সিরিয়ালে এমনটা দেখা যায়! কিন্তু এইসব সিরিয়ালের বহু আগে সেই আশির মাঝামাঝি এমন একটা ঘটনা ঘটেছিল বাটানগরের জগতলা অঞ্চলে।
ঘটনাটার কথা সারা অঞ্চলে ভালই ছড়িয়েছিল। প্রায় মাসখানেক এই নিয়ে আলাপআলোচনা হয়েছিল জোর। তারপর সেই কাকা ও কাকিমার আনুষ্ঠানিক বিবাহ হয়েছিল। পুলিশ নিয়ে আসা শ্বশুরমশাই বিয়েটা মেনে নিয়ে হাসিমুখে কাকা কাকিমার সঙ্গে ছবিও তুলেছিল।
আমার ন’কাকা মানে পঙ্কা সেই কাকাকে জিজ্ঞেস করেছিল, ‘এমন করলি কেন বলত?'
কাকাটি উত্তর দিয়েছিল, ‘ওকে ছাড়া আমি বাঁচতাম না। মনে শরীরে এমন কষ্ট হচ্ছিল যে পাগল হয়ে যেতাম!’
মানুষ অন্য মানুষকে না পেলে পাগল হয়ে যায়! সেটা আবার কেমন ব্যাপার! সেই ক্লাস থ্রিতে পাওয়া এই তথ্যটা আমি বুঝতে পারিনি তখন। আমার মন প্রসেস করতে পারেনি ব্যাপারটা। কিন্তু তথ্যটা মনে রয়ে গিয়েছিল।
সেই কাকা ও কাকিমা প্রেম করে সারা মফস্সল কাঁপিয়ে বিয়ে করলেও, আমাদের অঞ্চলের অধিকাংশ ছেলেমেয়েদের কিন্তু এত সাহস ছিল না। মফস্সলের প্রেম ছিল ছায়া দিয়ে ঘেরা এক সম্পর্ক। কোয়ার্টারের মাঠের থেকে খেলে ফেরার সময় দেখতাম রবীন্দ্র সুইমিং ক্লাবের অন্ধকার গলিতে, দারোয়ানজির কোয়ার্টারের পেছনে, মিতালি মাঠের বকুলগাছের ছায়ায় বা পাম্প হাউজের ছায়ার আড়ালে কারা যেন মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে কথা বলছে। ছায়ার মধ্যে তাদের দাঁড়ানোর ভঙ্গি, ফিসফিসে নিচু স্বর আর বারবার এদিক ওদিক দেখতে থাকার মধ্যে সম্পর্ককে লুকিয়ে রাখার যে চেষ্টা, ধরা পড়ে যাবার যে ভয়— তাই যেন ওই সময়টাকে চিহ্নিত করে দিয়েছে।
বড়দের কথাতেই শুনতাম যে প্রেম করাটা খুব সাংঘাতিক ব্যাপার। সঙ্গে নিষিদ্ধও বটে। কেন যে নিষিদ্ধ বুঝতাম না। মনে আছে ওই রকম সময়েই একবার একটা বিয়েবাড়িতে আমি জিজ্ঞেস করে ফেলেছিলাম, ‘এদের লাভ ম্যারেজ গো?”
কী পরিপ্রেক্ষিতে কথাটা উঠেছিল আর মনে নেই। কিন্তু জিজ্ঞেস করেছিলাম মনে আছে। এতে মেয়ের বাবা, যে আমার ভাইপোর পরিচিত, সে বেশ রেগেই বলেছিল, 'এতো খুব পাকা ছেলে! আমার মেয়ে কেন প্রেম করে বিয়ে করতে যাবে? ওসব অসভ্যতা আমাদের বাড়িতে হয় না।’
প্রেম নিয়ে এমন মনোভাব তখন অধিকাংশ মানুষেরই ছিল। ব্যাপারটা যেন নিষিদ্ধ। পাঁচিলের ওপারের কোনও জিনিস। এসব নিয়ে যেন কথা বলতে নেই। এসবের দিকে যেন তাকাতে নেই। এসব নিয়ে প্রশ্ন করলেই চুপ করিয়ে দেওয়া হবে, ‘অসভ্যতা করে না' বলে।
প্রেম অসভ্যতা নাকি? আমার গুলিয়ে যেত সব। প্রেম অসভ্যতা হলে ছুটির দিনে টিভিতে যখন উত্তম-সুচিত্রার ছবি দেয় সবাই অমন হামলে পড়ে দেখে কেন? বাটা সিনেমায় যখন হিরো নামে জ্যাকি শ্রফের ছবিটা এল তাতে মীনাক্ষি শেষাদ্রির সঙ্গে ওর প্রেমের গানগুলো চারিদিকে অমন বাজানো হয় কেন? অমিতাভ-রেখার সিলসিলা সিনেমা নিয়ে এমন আলোড়ন পড়ে কেন! সেই ন'-দশ বছর বয়সের আমার মাথায় সব গুলিয়ে যেত! যাকে সবাই এমন খারাপ বলছে সেটার জন্যই আবার টিভিতে, সিনেমা হলে ঝাঁপিয়ে পড়ছে। কেন ভাই?
সেই সময়ের আরেকটা ব্যাপার ছিল লাভ লেটার। সেই নয়-দশ বছর বয়সে আমিও বেশ কয়েকবার এর চিঠি ওর কাছে আর ওর চিঠি এর কাছে পৌঁছে দিয়েছি। সেই চিঠি কিন্তু খালি হাতে নিয়ে ড্যাং ড্যাং করে যাওয়া যেত না। কারণ পাড়ার বড়দাদা-কাকাজ্যাঠারা হাতের থেকে কেড়ে নিয়ে পড়তেই পারত। ফলে যে চিঠির প্রেরক সে কোনও বই বা খাতার মধ্যে চিঠিটা ভরে দিয়ে বলত, ‘বইটা দিয়ে আয়। আর বলবি একশো চার।’ একশো চার মানে একশো চার নাম্বার পাতায় চিঠি আছে! আর শুধু চিঠি দিলেই হত না। কেউ কেউ আবার বলত উত্তর নিয়ে আসবি।
ফলে সেই বই বা খাতা দিয়ে চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকতে হত উত্তর নিয়ে আসার আশায়। সেই অপেক্ষার সময়টায় যদি সেই বাড়ির বড়রা ধরে ফেলে আমাদের, যদি জিজ্ঞেস করে, ‘এখানে এই ভরদুপুরে কী করছিস রে?' তা হলে কিন্তু আমাদেরই মাথা খাটিয়ে কিছু বলতে হবে। মানে এমন কিছু বলতে হবে যাতে করে প্রেরক বা প্ৰাপক কেস না খায়। কারণ এই চিঠির পিওন হিসেবে আমরাও তো নানান কিছু পারিশ্রমিক পেতাম। লজেন্স, আচার, চানাচুর, আট আনা দামের রাবারের বল থেকে বেতালের কমিকস! যে যেমন দিত আর কি। তাই পারিশ্রমিক নিচ্ছি যখন, তখন ব্যাপারটা ম্যানেজ করার দায়িত্বও তো আমাদের!
আরেকটু বড় হওয়ার পরে, আমার হাতের লেখা সামান্য ঠিকঠাক ছিল বলে, আমাকেও অনেকের লাভ লেটার লেখার কাজ করে দিতে হয়েছে। আমি নিজে সারাজীবনেও নিজের দরকারে লাভ লেটার লিখতে না পারলেও অন্যের জন্য লাভ লেটার লিখে দিয়ে সমাজসেবা করেছি।
আর ছিল প্রেমিক-প্রেমিকাদের পুজোয় ঘুরতে বেরনো। পুজোয় বাটানগরে সাংঘাতিক ভিড় হত। তার মধ্যে সাহসীরা ঠিক বাবা-মায়েদের ভুজুংভাজুং দিয়ে বেরিয়ে যেত। আর চিরকাল অন্য সব বিষয়ের মতো এই বিষয়েও ভিতুদের হত সমস্যা। তখন পাড়ার দিদি-পিসিরা আমাদের মতো ছোটদের চলনদার করে পুজোয় ঘুরতে বেরত। মানে ছোটরা সঙ্গে থাকলে বাবা বা মা সেভাবে সন্দেহ করত না।
মনে আছে আমি বা আমার ভাইবোনেরাও বেশ কয়েকবার এমন চলনদার হয়েছি। এখানেও প্রাপ্তি হত ভালই। রোল, ফিস ফ্রাই, ফুচকার সঙ্গে টুকটাক খেলনাও পাওয়া যেত। তবে সবটাই ছিল প্রেমিকদের এক্সপেন্স।
তবে এই সব ইয়ার্কি ঠাট্টা পেরিয়ে প্রেমের একটা ভয়াবহ দিকও কিন্তু ছিল। দেখেছি কীভাবে ‘প্রেম করছে' জানার পর পরিচিত এক দিদিকে তার বাবা-মা মিলে কেমন চোরের মার মেরেছিল। বেপাড়ায় এসে একটি মেয়েকে ভালবাসার জন্য তাপস নামে একটা ছেলেকে পাড়ার ‘দায়িত্ববান’ দাদারা পিটিয়ে নাক-মুখ ফাটিয়ে ল্যাম্পপোস্টে বেঁধে রেখেছিল।
আর দেখেছিলাম পাড়ার মধ্যে একটু দূরে একটা পুরনো বাড়িতে থাকা সুখাকাকাকে। একটি মেয়ে সুখাকাকার সঙ্গে চার বছর সম্পর্কের পরে আচমকা অন্য একজনকে বিয়ে করে নেয়। সেই কষ্ট সহ্য করতে না পেরে সুখাকাকা গায়ে নাইলনের মশারি জড়িয়ে কেরোসিন তেল ঢেলে নিজেকে আগুন লাগিয়ে দিয়েছিল।
এখনও মনে আছে আমাদের বাড়ির সামনের গলি দিয়ে স্ট্রেচারে করে সুখাকাকার তালগোল পাকানো শরীরটা যখন নিয়ে যাচ্ছিল তখন সামনের বাড়ির বি-পিসির মা কাকে যেন বলছিল, ‘দেখেছিস, প্রেম করলে কী হয়!’
কী হয় প্রেম করলে? আর কী হয় প্রেম না করলে? কিন্তু এসব করা না-করা কি কারও হাতে থাকে? নাকি এসব মানুষেরই হাতে থাকে? জানতাম না, এসব কিছুই জানতাম না। শুধু দেখতাম পুরনো মানসিকতার শিকার এত্ত এত্ত সব মানুষ। মনের ইচ্ছে আর যুক্তিসঙ্গত ঠিক ভুলের ওপারে দাঁড়িয়ে কী অদ্ভুতভাবে দাগিয়ে দিচ্ছে সব ঠিক আর ভুল। যে প্রেমের গান শুনে সে আনমনা হয়ে যাচ্ছে সেই প্রেম দেখলে খড়গহস্ত হচ্ছে বাড়ির ছেলে, মেয়ে, ভাই বা বোনের ওপর। জীবনের যেটা চরম প্রকাশ, সেটাকেই সবাই মিলে যেন অস্বীকার করার এক খেলায় মেতে উঠেছে!
পুরনো অনেক কিছু আর ফিরে আসবে না ভেবে কষ্ট হয় আমার। কিন্তু সেই সময়কার এই মানসিকতাটা যে এখন অনেক অনেক পালটে গিয়েছে সেটা ভাবলে ভাল লাগে। তবে ভালবেসেও বাড়ির ভয়ে বলতে না পারা, প্রিয় মানুষকে কাছে না পাওয়া সেই বিলুদা, পল্টনদা, তপনকাকা, ছোটকা-কাকু, সীমাদি, নীলাদি, রীনাদি বা রানিপিসিদের মুখগুলো মনে পড়লে আজও কষ্ট হয় আমার। মনে হয় তারা যদি অমন ভুল সময়ে না জম্মাত তা হলে তারাও হয়তো ভাল থাকত আরেকটু।
আমার হারিয়ে যাওয়া মফস্সলের সেই আশির দশকের অনেক কিছু জন্য আমার একটা তিরতিরে কষ্ট আছে। শুধু এই একটা জায়গা আছে যা মনে পড়লে ভাবি যে অন্তত এই একটা ব্যাপারে এখনকার এই সময়টা আগের সেই সময়ের চেয়ে অনেক অনেক ভাল।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন