স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
আমি যেখানেই যাই আগে খুঁজি কাছাকাছি কোনও নদী আছে কিনা! সে ছোট্ট, লাজুক, শীর্ণ যে কোনও ধরনের নদী হলেই হয়! শুধু সেই জায়গাটার পাশ দিয়ে বয়ে গেলেই হল। এর কারণ আমি বড় হয়েছি যেখানে, সেই বাটানগরের পাশ দিয়েই বয়ে গিয়েছে গঙ্গা! অনেকে ভাগীরথী বললেও আমরা ওই নদীকে গঙ্গাই বলেছি।
সেই ক্লাস থ্রি-ফোর বয়সে আমার মাঝে মাঝে মন হত অমিতাভ বচ্চন অভিনীত ডন সিনেমার সেই বিখ্যাত গান 'ছোড়া গঙ্গা কিনারেওয়ালা' গানটি বোধহয় আমাকে নিয়েই লেখা!
বাটানগর নতুন টাউন হলেও তার পাশ-ঘেঁষা জনপদ নঙ্গী বেশ পুরনো। রাজা বসন্ত রায়ের সময় এইসব নাকি তাঁর রাজত্বের মধ্যেই ছিল। বজবজ, যা নঙ্গীর কাছে সেইখানে নাকি যুদ্ধও হয়েছিল। আর এই গঙ্গা দিয়ে তো নৌকা আর জাহাজ যেতই! বাটানগর আর নঙ্গীর সীমারেখায় আমি আমার ছোটবেলাতেও একটা ঝুরঝুরে পুরনো বাড়ি দেখেছি। বেশ বড় বাড়িটার প্লাস্টার খসে পড়েছিল। তাও তার আর্চ, ইট আর স্থাপত্য যেটুকু দেখা যেত তাতে বোঝা যেত যে, কোনও এক সময় এই বাড়িটির যথেষ্ট সুদিন ছিল। আমরা সবাই এই বাড়িটিকে সারেঙ বাড়ি বলতাম। নিশ্চয় কোনও সারেঙ থাকত এখানে!
ভাল করে দেখলে বোঝা যায় যে নঙ্গী অঞ্চলটার গা ঘেঁষেই একসময় গঙ্গা বইত। পরে কালের নিয়মে সেই জলপ্রবাহ আরও পশ্চিমদিকে সরে গিয়েছে। আর পলি পড়ে নদীর মরা খাত উঁচু হয়েছে। পরে সেই খাতেই বসেছে বাটানগর টাউনটি!
নঙ্গী অঞ্চলটা যে বেশ পুরনো সেটা গঙ্গার ধারে তার বাড়িঘর দেখলেই বোঝা যায়! পুরনো বাড়িগুলো ছোটবেলায় দেখলে কেন কে জানে আমার গা ছমছম করত!
অমন বড় বাড়ি, পাতলা ইট দিয়ে তৈরি চওড়া দেওয়াল, টানা দালান বারান্দা, ঢালাই লোহার গ্রিল, কড়িবরগা, ভেঙে পড়া দেউড়ি, ভাঙা পরি, ভেজা হাওয়ায় ক্ষয়ে যাওয়া সিংহ, নোনা ধরে ভেঙে পড়া নাচঘর! সব কেমন যেন আমায় অন্য কোনও এক দূরের শতাব্দীতে নিয়ে যেত! এই সব বাড়ির পাশ দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে বুঝতাম একসময় সত্যি এদের সুদিন ছিল!
শুনেছিলাম আটাত্তরের বন্যায় বাটানগর তথা নঙ্গী ডুবে গিয়েছিল। তখন নাকি এলাকার মানুষজন সারারাত বাঁধ দেওয়ার কাজ করেছিল। সেই কারণেই কী গঙ্গার পাড়ে অমন উঁচু বাঁধের মতো রাস্তা? জানি না সেটা। তবে ছোটবেলায় নদীর পাড়ের ওই উঁচু কিন্তু সরু পথ দিয়ে যেতে বেশ ভয় পেতাম!
সবে স্কুলে ভর্তি হয়েছি যে সময়, তখন পঙ্কার সঙ্গে রোজ বিকেলে গঙ্গার পাড়ে যেতাম। পঙ্কা তখন নতুন সাইকেল কিনেছিল সদ্য। লাল রঙের। পাখির বাঁকানো ডানার মতো তার হাতল। সামনে তারের ব্রেক ধনুকের মতো বেঁকে নেমেছে। সাইকেলের গায়ে সোনালি দিয়ে লেখা ‘বিএসএ-এসএলআর’!
সাইকেলের সামনের রডে আমাকে বসিয়ে নিয়ে পঙ্কা প্রায় রোজ বিকেলে গঙ্গার ধারে যেত! সঙ্গে থাকত পঙ্কার পাড়ার বন্ধু আশিসকাকা। আশিসকাকাদের একটা ওষুধের দোকান ছিল। আমাদের নঙ্গী-বাটা অঞ্চলে সবচেয়ে বড় ওষুধের দোকান। নাম ছিল 'দ্য লাইফ’! আশিসকাকার বাবাকে সবাই ডাকত ‘দি লাইফের কাকু' আর মাকে সবাই বলত ‘দি লাইফের কাকিমা'! আমরা বলতাম ‘লাইফের দাদু’। ‘লাইফের দিদা!’
পঙ্কা আর আশিসকাকা পাশাপাশি সাইকেল চালিয়ে গঙ্গার ধারে যেত আড্ডা মারতে। আমিও থাকতাম দুদুভাতু হিসেবে! আমার বয়স তখন চার, সাড়ে চার! তাই সব স্মৃতি স্পষ্ট নয়। তা হলেও একটা জিনিস মনে আছে। সেই সুন্দর, জনবিরল বিকেলে টমাস বাটা এভিনিউয়ের ভীষণ সুন্দর রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় কী দারুণ হাওয়া দিত!
টাটুকাকুরা ছিল ক্রিশ্চান। আমার বাবার কাছে টাটুকাকু মাঝে মাঝে আসত পড়া বুঝে নিতে। হাই পাওয়ারের চশমা। গালে নরম দাড়ি। খুব লাজুক ছিল টাটুকাকু। বিকেলে পঙ্কার সঙ্গে ওদের বাড়ির সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় মাঝে মাঝে টাটুকাকুর মা আমাদের কেক দিত! বলত, ‘ঘুরতে বেরিয়েছ? ভাল। এই স্প্রিং উইন্ড খুব ভাল!”
আরেকটা জিনিসও মনে আছে। আমরা যখন সাইকেলে করে যেতাম একজন বয়স্ক মানুষও মোপেড চালিয়ে যেতেন। আর লোকটাকে দেখলেই আশিসকাকা তাঁর মোপেডের সঙ্গে সাইকেল নিয়ে রেস দিত! মোপেডটার স্পিড বেশি ছিল না। মাঝে মাঝে লোকটি প্যাডেল করেও মোপেডটা চালাত !
আশিসকাকা লোকটার পাশে যেতে যেতে বলত, 'দাদু, কী ছ্যারছারে গাড়িতে যাচ্ছ! পারবে আমায় হারাতে?”
বলেই জোরে প্যাডেল করে মোপেডটাকে পার করে যেত! লোকটাও তেতে যেত খুব। প্যাডেল বন্ধ করে মোপেডের ইঞ্জিন স্টার্ট করে স্পিড বাড়াত। এখানে বলে নিই, এই মোপেডগুলো দু'ভাবেই চালানো যেত কিন্তু!
আশিসকাকার সাইকেলে আয়না লাগানো থাকত। সেই আয়নায় দেখত যে মোপেড ধেয়ে আসছে। আশিসকাকা আরও জোরে প্যাডেল করতে করতে পেছনদিকে তাকিয়ে চিৎকার করত, ‘দাদু আমায় ধরতে পারে না!’
বয়স্ক ভদ্রলোক রেগে গিয়ে আরও স্পিড বাড়াবার চেষ্টা করত। আর চিৎকার করত, ‘কে দাদু? জানোয়ার ছেলে! দাদু তোর বাবা!”
পঙ্কা সাইকেল চালাতে চালাতে হাসত খুব। সেই ছোট্ট আমিও দেখাদেখি হাসতাম! সেই খুব অল্প বয়সে বুঝতাম না যে বয়স্ক মানুষদের এভাবে রাগানো খুব খারাপ! তখন নির্বোধ একটা আনন্দ হত শুধু! দাদু বললে কেন কেউ রেগে যাবে সেটা বুঝতে পারতাম না!
আসলে আশির সেই সময়গুলো এমনই ছিল। পলিটিকাল কারেক্টনেস, বা অন্যের মনের ধার ধারত না কেউ! এর পেছনে লেগে, একে খেপিয়ে, ওকে সবার সামনে অপদস্থ মানে ‘মুরগি’ করেই যেন সবাই এক অদ্ভুত আনন্দ পেত।
গঙ্গার ধারে বেশ কিছু সাইকেল জড়ো হত। বড় পিচের রাস্তা থেকে ইটের একটা ঢালু পথ উঠে যেত বাঁধ অবধি। আবার বাঁধ থেকেও মাঝে মাঝে ছোট ছোট সিঁড়ি নেমে যেত জলের কাছে। আমরা সেই সিঁড়িতে বসতাম। গঙ্গার পাড় থেকে কেনা বাদাম খেতে খেতে পঙ্কা আর আশিসকাকা গল্প করত। আমি জলের দিকে তাকিয়ে থাকতাম। অপেক্ষা করতাম কখন জাহাজ যাবে!
আমাদের স্কুলের মাঠ থেকেও গঙ্গার জাহাজ দেখা যেত। এই জাহাজ দেখাটা একটা ভারী উত্তেজনার জিনিস ছিল। যেদিন যেদিন জাহাজ দেখতে পারতাম বাড়িতে এসে ফলাও করে গল্প বলতাম! এমনকী একটু বাড়িয়ে-টারিয়েও বলতাম যে জাহাজের ক্যাপ্টেন আমার দিকে তাকিয়ে হাত নেড়েছে!
বাঁধ দিয়ে কিছু দূর গেলে পড়ত জেটি। কাঠের একটা প্রোজেক্টেড প্ল্যাটফর্ম নদীর অনেকটা ভেতরে চলে গিয়েছে! জেটির মাঝে ছোট্ট রেললাইন পাতা ছিল। আর ওপরে ছিল ক্রেন! এখানে নাকি জাহাজে করে বাটা কোম্পানির ‘র’ মেটিরিয়াল আসত। তবে আমি কোনওদিন জেটিতে মাল খালাস হতে দেখিনি!
আমরা ছোট বয়সে তো বটেই, পরে হাই স্কুলের ওপরের ক্লাসে মানে টেন-টুয়েলভে উঠেও জেটিতে যেতাম। ধারে পা ঝুলিয়ে বসতাম! গঙ্গার জোয়ারের সময় জল উঠে আসত অনেক ওপরে। আমার কিছু উৎসাহী বন্ধু জেটির পাশে লাগানো লোহার মই বেয়ে নেমে যেত জল অবধি। জেটিতে বসলে দেখা যেত নদী তীব্র বাঁক নিয়ে বাঁদিকে বেঁকে চলে গিয়েছে কলকাতার দিকে! ওইদিক থেকে জাহাজ এলে মনে হত যেন সোজা এসে এদিকেই ধাক্কা মারবে! জেটিতে বসে আড্ডা মারার যে কী মজা ছিল! আর কী যে হাওয়া দিত! ওই স্কুলজীবনের শেষের দিকে পুজোর সকালগুলো আমাদের জেটিতেই কাটত।
গঙ্গার দুই পাড়েই ছিল ইটভাটা। অন্য পাড়ের ইটভাটার চিমনিগুলোকে দেখলে মনে হত কে যেন নদীর পাড়ে সিগারেট পুঁতে দিয়ে গিয়েছে! আর সেখান দিয়ে খুব সরু সুতোর মতো ধোঁয়া উড়ত!
গঙ্গার একটা মজা ছিল শুশুক! মাঝে মাঝেই ঘাই মারত তারা। লাফাত! এপারওপার করার যে মোটর লাগানো নৌকা তার সঙ্গে সঙ্গে কিছুটা দূর যেত!
গঙ্গার পাশেই ছিল শিব মন্দির। মন্দিরের লাল সাদা চূড়া দূর থেকে দেখা যেত। খুব ঝকঝকে ছিল মন্দিরটা। একটা বড় পাথরের ষাঁড়ের মূর্তি ছিল। লোকে বলত নন্দী!
নন্দী কেন বলে! আমার অবাক লাগত! নন্দী তো আমাদের বাড়ির সামনের নন্দী স্টোর্সের কাকু! যে বাঁ হাতে বড় নখ রাখে। তাতে লাল নেলপলিশ লাগায়! যা দেখলে আমার খুব বিরক্ত লাগে!
আমরা ছোটরা গিয়ে সেই ষাঁড়ের ঠান্ডা পাথুরে গায়ে হাত বুলাতাম। বড়দের কথামতো দুই হাত জড়ো করে প্রণামও করতাম। এই মন্দিরের সামনে খুব সুন্দর মোটা ব্লেডের ঘাসের লন ছিল। সেখানে বসেও আমরা অনেক আড্ডা মেরেছি।
নীলষষ্ঠী বা শিবরাত্রির দিনে এই মন্দিরে ভিড় হত খুব। আর ভিড় হত গঙ্গার পাড়েও। বাবার মাথায় জল ঢেলে সবাই পাশের গঙ্গায় গিয়ে স্নান সারত। এ ছাড়া আম বারুণীর দিনেও গঙ্গায় ভিড় হত! আর ভিড় হত মহালয়া এবং পুজোর ষষ্ঠীর সকালে। মহালয়ায় আমি যেতাম না গঙ্গায়। কিন্তু ষষ্ঠীর দিন ভাইপোর সঙ্গে ভোর ভোর গঙ্গার ধারে চলে যেতাম আমি। ভাইপোরা সব বন্ধুবান্ধব মিলে সাঁতার কাটত! ভটভটি নৌকায় করে চলে যেত মাঝগঙ্গায়, তারপর সেখানে নৌকা থেকে ঝাঁপ দিয়ে আবার ফিরে আসত পাড়ে। আর একজন ছিলেন। যিনি জলের ওপর ব্যায়াম করতেন! কীভাবে এটা সম্ভব ছিল কে জানে!
মিষ্টিদাদুর সঙ্গেও মাঝে মাঝে গঙ্গায় যেতাম। সেখানেই ছিল শ্মশান। দাদু গঙ্গায় গেলে শ্মশানে যেতই। এখানেই আসলে মিষ্টিদাদুর বাবা এবং মায়ের মরদেহ দাহ হয়েছিল। আর শুধু তাই নয়, এখানে আমাদের বাড়ির অনেকের দেহ দাহ করা হয়েছে। আমি দেখতাম মিষ্টিদাদু শ্মশানের দাহ করবার জায়গায় গিয়ে জোড় হাত করে দাঁড়িয়ে থাকত। তারপর চোখ বন্ধ করে বেশ অনেকক্ষণ ধরে প্রণাম করত!
আমার দাদুভাইয়ের বাড়ির সবাই বৈষ্ণব হলেও মিষ্টিদাদু বা বাবার দিকের সবাই ছিল শাক্ত। বিশেষ করে মিষ্টিদাদু। এই গঙ্গার পাড়ে দাঁড়িয়েই মিষ্টিদাদু কত যে স্তোত্র বলত! আমিও শুনে শুনে শিখে নিয়েছিলাম। এখনও, এত বছর পরেও আমার সেইসব স্তোত্রের বেশ কিছু মনে আছে! মিষ্টিদাদু বলত, ঈশ্বর বিশ্বাস এক ধরনের ডিসিপ্লিন! এটা থাকা জরুরি! কিন্তু দেখতে হবে এটা যেন অন্য কারও ক্ষতি না করে।
গঙ্গার অন্য ধারে বেশ পুরনো বাড়িঘর ছিল কিছু। তাদের মধ্যে একটা ছিল পালবাড়ি। তার বাথরুমটা দেখতাম গঙ্গার জলের মধ্যে দাঁড়িয়ে রয়েছে। আগে নাকি পাড়েই ছিল সেটা। কিন্তু তারপর নদী পাড় ভেঙে সেটাকে নিজের মধ্যে টেনে নিয়েছে!
বাড়িটা ছিল প্লাস্টারহীন! ইট বের করা। সামনে একটুকরো ঢালু ঘাসজমি। আমরা সেই ঘাসে বসে আড্ডা মারতাম। আর শুধু তাই নয়, বন্ধুরা মিলে কতবার যে সেখানে শুয়ে থেকেছি সবাই! সেই বাড়ির পাশেই ছিল একটা বিরাট অশ্বত্থ গাছ। তার নীচে হাড়িকাঠ! এই হাড়িকাঠটা দেখলেই কেমন যেন গা ছমছম করত আমাদের। শুনেছিলাম এখানে নাকি অনেক আগে নরবলি হত!
এই দিকে বাঁধ ছিল না। ছিল সবুজ ঘাসে মোড়া পাড়। সেখানে ফুটবল খেলাও হত।
আর এদিকেই শরৎ এলে সাদা কাশফুলের গুচ্ছ দেখা যেত!
দৃশ্যটা এরকম, সামনে বয়ে যাওয়া নদী। নদীতে নৌকা। আকাশে সাদা আইসক্রিমের মতো মেঘ আর সবুজ ঘাসের পাড়ে হাওয়ায় মাথা দোলানো কাশফুল! বাচ্চাদের ড্রইং খাতার থেকে উঠে আসা সিনারি যেন! সেই সিনারির মতো জায়গায় যে আমরা ছিলাম আজ ভাবতেও অবাক লাগে। সবটাই মনে হয় রূপকথা। মনে হয় অন্য কারও গল্প !
গঙ্গার কথা মনে পড়লে আমাদের বাড়ির পুরনো অ্যালবামের কথাও মনে পড়ে যায়। সেখানে বাবার কলেজ-জীবনে গঙ্গার পাড়ে তোলা বেশ কিছু ছবি আছে। সেই ছবিতে বাবার গালে দাড়ি। চোখে সানগ্লাস। বাবা জলের দিকে তাকিয়ে বসে রয়েছে! যতবার ছবিটা দেখি কেন কে জানে একটা মনখারাপ এসে ভারী করে দেয় শরীর!
আজ ভাইপো নেই। মিষ্টিদাদু নেই। বন্ধুরাও ছড়িয়েছিটিয়ে কে কোথায় চলে গিয়েছে! এখন আমাদের সবচেয়ে প্রিয় জেটিতেও নাকি আর যাওয়া যায় না। গঙ্গার পাড় কিছুটা সাজানো হয়েছে। একটা লঞ্চঘাটাও হয়েছে! তাও সেই পুরনো দিনের আনন্দটা আর পাই না! হয়তো সেই মানুষগুলো নেই বলেই! আসলে আমাদের আনন্দের অধিকাংশটাই তো মানুষ ও তাদের সঙ্গে কাটানো সময়ের স্মৃতি দিয়েই তৈরি!
তাও বাটানগরে গেলে আমি একবার হলেও গঙ্গার পাড়ে যাই। আর জলের দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে থাকি একটু। দেখি স্রোত বয়ে যাচ্ছে! তবে এ স্রোত মোহানার দিকে যায় না। যায় আমাদের ছোটবেলার দিকে! যেখানে সবার সঙ্গে আমিও খুব সুখী আর আনন্দে থাকতাম! যেখানে নদী দিয়ে যাওয়া বিশাল বিশাল জাহাজগুলোর থেকে তাদের ক্যাপ্টেনরা আমার দিকে তাকিয়ে হাত নাড়ত! শুশুক লাফাত! আর হাওয়া দিত! সব কষ্ট আর মনখারাপ ভাসিয়ে নিয়ে যাওয়া একটা হাওয়া দিত!
আজকাল নদীটা আছে। শুধু সেই হাওয়াটা আর দেয় না!
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন