রবিবার

স্মরণজিৎ চক্রবর্তী

ছোটবেলার রবিবারের কথা মনে পড়লে আমার প্রথমেই মনে আসে অরুণাচল মাঠের কথা। আমাদের বাড়ির গা ঘেঁষে ইট-পাতা রাস্তা। আর তার ঠিক ওইদিকে অরুণাচলের মাঠ! বেশ বড়। নাইন-আ-সাইড ফুটবল খেলা যায় এমন বড় আর কী! মাঠটা ছিল অরুণাচল ক্লাবের তত্ত্বাবধানে।

মাঠের চারদিকে ছোট্ট আলের মতো রাস্তা। তারপরে বাড়ি। মাঠটায় বিকেলবেলা ফুটবল খেলা হত বটে, কিন্তু সেটা ঘণ্টাখানেকের জন্য। শুধু রবিবারটাতেই সবাই সারাদিন মাঠে দাপিয়ে বেড়াত!

আমাদের বাটানগরে মধ্যবিত্ত আর নিম্নমধ্যবিত্ত পাড়াই ছিল বেশি। তাদের অত ক্রিকেট ব্যাট, উইকেট কেনার মতো টাকাপয়সা ছিল না। তাও অরুণাচল ক্লাবের সবাই মিলে চাঁদা তুলে দুটো ক্যারাম বোর্ড আর একটা ক্রিকেট সেট কিনেছিল।

শীতের সময়গুলো ক্রিকেট খেলা হলেও, আসল খেলা ছিল ফুটবল! রবিবার সকাল দশটা থেকেই মাঠে বল পড়ে যেত! চিৎকার শুরু হয়ে যেত!

আমাদের বাড়ির সামনের বারান্দা থেকেই দেখা যেত তিরিশ ফুট দূরের মাঠটা। রবিবার সকালে ঘুম থেকে উঠে খাবারদাবার খেয়ে পড়তে বসতে হত আমায়। কিন্তু সত্যি বলছি ওই চিৎকার শুরু হবার পর থেকে আর পড়ায় মন বসত না! মা বলত সাড়ে দশটা অবধি তো পড়তেই হবে! মায়ের কড়া শাসনে ঘড়ি দেখাও ছিল বারণ! তা হলে সময় বুঝব কী করে?

সে উপায়ও ছিল। বাবার একটাই ছুটির দিন ছিল। আর সেদিন সকালে বাবার ব্রেকফাস্ট ছিল ডাবল ডিমের অমলেট আর মিষ্টি দই দিয়ে মাখা বোঁদে। আমরা যদিও অমলেট বলতাম না। বলতাম মামলেট!

আর সেই খাবারটা দেওয়া হত ঠিক সাড়ে দশটার সময়! একদিক দিয়ে খাবারের প্লেট ঢুকত আর অন্যদিক দিয়ে আমি বই-খাতা তুলে পায়ে কেডস পরে বেরিয়ে যেতাম! তারপর সে যে কী খেলা হত! পৃথিবীর তাবড় এল ক্লাসিকো আর ডার্বি তার কাছে তুচ্ছ! পাড়ার বয়স্করাও গুটিগুটি পায়ে এসে দাঁড়াত মাঠের পাশে। তারাও নিজের অজান্তেই জড়িয়ে পড়ত খেলায়! থ্রো ইনের জন্য বল মাঠের বাইরে এলে তাতে ধুমধাড়াক্কা এলোপাথাড়ি শট মারত সবাই! কারও শট বলে লাগত! আর কারও আবার শট মারতে গিয়ে পায়ের হাওয়াই চটি উড়ে গিয়ে পড়ত বিউটিপিসিদের বাড়ির সামনের ড্রেনে! দু'দলে ভাগ হয়ে খেলায় দর্শকরাও কীভাবে যেন দু'ভাগ হয়ে যেত! চিৎকার-চেঁচামেচিতে ভরে উঠত পাড়া!

তবে ছোট-বড় মিলেমিশে খেলা চলত বলে ‘শালা”-র ওপরে কেউ উঠত না! একবার বিজুদা ‘বাঞ্চোত’ বলে ফেলেছিল বলে ঢালীদাদু খেলা চলা অবস্থাতেই মাঠে ঢুকে কান ধরে বিজুদাকে বের করে মাঠের ধারে উঠবোস করিয়েছিল!

তখন অমন হত। পাড়ার দাদু, জেঠু, কাকুরা আমাদের বকাবকি করত। কান মুলে দিত। এমনকী চড়চাপড়ও দিত। তাতে কেউ কিছু মনে করত না! তখন যে রাগ হত না তা নয়! মনে হত আমাদের কানগুলো কি বারোয়ারি কান! যে যখন ইচ্ছে এসে মুলে দিয়ে যাবে! কিন্তু এখন সেসবের থেকে অনেক দূরে চলে এসে বুঝতে পারি, শাসনের মধ্যেও ভালবাসার মেঘ-রোদ্দুর কেমন করে যেন জড়িয়ে থাকত অজান্তে!

এখন শাসন নেই, ভালবাসাও নেই!

খেলা ভাঙতে ভাঙতে বারোটা হয়ে যেত! আমি সবার মতো ফিরে আসতাম বাড়ি। ততক্ষণে রোদে পুড়ে, ঘামে ভিজে, ধুলোয় মাখামাখি হয়ে কাকতাড়ুয়া হয়ে গিয়েছি! তারপর শুরু হত যুদ্ধ!

পিসি স্নান করাত আমাদের। আর সে কী স্নান! না এখনকার এসব শ্যাম্পু-ট্যাম্পু আমরা ব্যবহার করতাম না! 'হ্যালো' বলে একটা ডিম দেওয়া শ্যাম্পু ছিল। সেটা আমাদের বাড়িতে আসত না। মা ব্যবহার করত 'গ্লিম' নামের সরু বোতলের শ্যাম্পু! আর আমাদের জন্য ছিল সাধারণ বল সাবান !

বল সাবান মানে হলদেটে একটা সাবানের ডেলা। এমনি মুদির দোকানে পাওয়া যেত। তার গন্ধ ছিল উৎকট! সেটা দিয়ে যেমন জামাকাপড় কাচা হচ্ছ তেমন আমাদেরও কাচা হত! পরের দিকে যদিও ‘লিরিল' সাবান আনা হত বাড়িতে!

সেই স্নান করে চোখ আর চুল লাল করে আমি বসে থাকতাম রেডিয়োর সামনে! কারণ রবিবারের দুপুর ছিল রেডিয়োর দুপুর! ছিল বোরোলিনের সংসার!

বাড়িতে পাঁঠার মাংস হত রবিবার। কিন্তু অনেক লোকজন থাকায় দু’পিস মাংস আর একপিস আলু ছিল বরাদ্দ! কিন্তু ঝোল? সে তো অফুরন্ত! সেই মাংসের গন্ধ ছড়িয়ে পড়ত পাড়া থেকে বেপাড়ায়! আর কী আশ্চর্য প্রতি রবিবার কেউ না কেউ ঠিক খাবার সময়ে এসে হাজির হত আমাদের বাড়িতে! কে জানে মাংসের গন্ধ তাদের ডেকে আনত কিনা! তবে সবার সঙ্গে বসে খাওয়ার আনন্দই ছিল আলাদা!

বারান্দায় পিঁড়ি পেতে খাবার দেওয়ার ব্যবস্থা করা হত। আর সবার থেকে সামান্য দুরে রাখা হত ফিলিপ্‌স রেডিয়োটা। তাতে গান চলত। কথা চলত! ডাল, আলুভাজা আর পাঁঠার মাংসের পরে পাতে এসে পড়ত আম, চালতা বা আমড়ার চাটনি! কেমন রোদ্দুরের মতো রং ছিল তার!

আমি দেখতাম দুপুর ধীরে ধীরে ঘুরছে আকাশে। রোদ পালটে যাচ্ছে ক্রমে ক্রমে। দুরে ওই বাঁশবন থেকে কুকু করে ডাকছে কী যেন একটা পাখি! সর্দারদের তালগাছের মাথা ছাড়িয়ে ওই দূরে বিধানকাকাদের বাড়ির ওদিকে আস্তে আস্তে হেলে পড়ছে সূর্য! খাওয়াদাওয়ার পরে সারা বাড়ি কেমন যেন ঝিমিয়ে আসত। নরম ভাতঘুমে ডুবে যেত ছোট্ট মফস্সল!

ভাই-বোনদের সঙ্গে আমাকেও চেপেচুপে শোওয়ানো হত! কিন্তু ছোট থেকেই ঘুমের সঙ্গে আমার ভাব-ভালবাসা কম! তাই সবাই ঘুমিয়ে পড়লে পা টিপে টিপে উঠে আমি টেনে নিতাম কমিকস !

তখন খবর কাগজ ছাড়া ম্যাগাজিন বলতে বাড়িতে আসত দেশ আর পরিবর্তন। মা পড়ত দুটোই! আর লাইব্রেরি থেকে পঙ্কা মাঝে মাঝে নিয়ে আসত গল্পের বই!

বাবা আমার জন্য কিনে আনত কমিকস! বাঁটুল, হাঁদা ভোঁদা থেকে শুরু করে নন্টে ফন্টে। আর ছিল অমর চিত্রকথা! বীরবলের গল্প! সঙ্গে ইন্দ্রজাল কমিকস! বেতাল, ম্যানড্রেক আর বাহাদুর! তবে ফ্ল্যাশ গর্ডন ভাল লাগত না একটুও! বালিগঞ্জ স্টেশনে একটা বইয়ের হুইলার ছিল। বাবাকে বলে দিলে সেইখান থেকে নিয়ে আসত অফিসফেরত! স্কুলের বান্ধবী বর্ণালী আমায় বলত, ‘তোকে একদম ফন্টের মতো দেখতে!’

রবিবার দুপুরগুলো ছিল নির্জন বাড়িতে, দোতলায় উঠে যাওয়ার সিঁড়ির ওপর বসে কমিকস পড়ার দিন! ডেনকালির জঙ্গল, আটের দপ্তর আর বাহাদুরের সঙ্গে রহস্যের মধ্যে হারিয়ে যেতে সময় লাগত না!

আবার রবিবারের দুপুরগুলো ছিল আচার আর হজমি খাওয়ার দুপুরও! ডালিমের হজমি নিয়ে আসত মিষ্টিদাদু! পঙ্কা নিয়ে আসত ট্রেনে বিক্রি হওয়া আমলকীর প্যাকেট! আর বাবা সেই বালিগঞ্জ স্টেশনে যাওয়ার পথে ফুটপাথে বসা সারি দেওয়া দোকানের থেকে নিয়ে আসত ছোট-বড় নানারকম হজমি! তার সঙ্গে আনত একটা লজেন্স। নাম ঘুঘুপাখির ডিম! পরে জেনেছি ওটা আসলে জ ব্রেকার! আর আনত স্পঞ্জ লজেন্স, মানে জিজুলস! আনত পিপারমিন্ট লজেন্স আর জোকারের প্যাকেটওলা মৌরি লজেন্স! এই শেষের প্যাকেটটা ছিল মজার! নীচের থেকে ঠেললে প্যাকেটের মাঝের অংশটা উঠে যেত আর জোকারটার মুখের কাছে ফাঁক হয়ে যেত! সেখান দিয়ে পড়ত নানান রঙের মৌরি লজেন্স! এসব খেতে খেতেই চলত বই পড়া!

মনে আছে ক্লাস ফাইভে এমনই এক দুপুরবেলা প্রথম পড়েছিলাম ফেলুদার গল্প! গোরস্থানে সাবধান! স্কুলের বন্ধু শোভন দিয়েছিল বইটা। স্কুলে আমাদের বই দেওয়া নেওয়া চলত! চাপা একটা প্রতিযোগিতা ছিল কে কত বেশি আর কত রকমের বই পড়বে তার!

বিকেলে হলেই বাড়ি আবার হট্টমেলা! তখন শনিবার আর রবিবার শেষ বিকেল থেকে দূরদর্শনে সিনেমা দেখানো হত! একদিন বাংলা আর একদিন হিন্দি! ইংরেজি সিনেমা দেখার কোনও জায়গা ছিল না!

তবে হ্যাঁ, ইংরেজি সিনেমা আসত। বলা হত চ্যারিটি শো! আর সেটাও হত বছরে দু'-চারটে রবিবার! তাতে বিগ বস, এন্টার দ্য ড্রাগন, জ্যাঙ্গো, থার্টি সিক্স চেম্বারস্ অব শাওলিন, ফাইভ মেন আর্মি-র মতো ছবি আসত! কিন্তু সেগুলো আমাদের দেখার প্রশ্নই ছিল না! আমাদের মফস্সল শহরে ইংরেজি সিনেমা মানেই ছিল বড়দের ছবি যাতে নাকি অনেক ‘খারাপ সিন’ থাকে! আমার সেই আট-ন' বছরের বয়স সেসব নিয়ে মাথাও ঘামাত না! কারণ তখন জীবন ছিল ফুটবল দিয়ে গড়া! পড়াশুনো আর কমিকসের বাইরে সবটাই ছিল ফুটবল!

রবিবার বিকেলগুলোয় আমরা চলে যেতাম কোয়ার্টারের মাঠে। অরুণাচল মাঠে তখন বড়রা খেলত। পাঁচ নম্বর শক্ত চামড়ার বলে হত সেই খেলা! আমার কাকারা খেলত সেখানে! আরও নানা লোকজনও খেলত। তখন আমাদের মাঠের মধ্যেই ঢুকতে দেওয়া হত না!

তাই কোয়ার্টারের মাঠ! সুন্দর সবুজ সব মাঠের মধ্যে ছোট ছোট লাল সাদা কোয়ার্টার! চওড়া কালো রাস্তা কাটাকুটি করে গিয়েছে একে অপরকে! রাস্তার দু'পাশে কৃষ্ণচূড়া আর রাধাচূড়া গাছের সারি! আর মাথার ওপর কী নীল আকাশ! গঙ্গার ধার থেকে বয়ে আসা নরম হাওয়া! বাটানগর তখন যে কী সুন্দর ছিল না দেখলে লিখে বোঝানো সম্ভব নয়! আমরা খেলতে খেলতে দেখতাম আকাশে ভেসে আছে বোঁ ঘুড়ি! রতনকাকু প্রতি রবিবার পুজোর চাতাল থেকে ওড়াত! সেই বিশাল ঘুড়ি হাওয়ার টানে ভেসে থাকত আকাশে! আর বোঁওওও শব্দ করত!

মায়ের নিয়ম ছিল খেলা সেরে ছ'টার আগে বাড়ি ঢুকতে হবে। সেটা মেনে চলতাম। রবিবার দিন সাড়ে পাঁচটার আগে বাড়ি ফিরে আসতাম। কারণ সিনেমা! যেদিন যেদিন সিনেমা দেখার অনুমতি পেতাম সেদিন মজা হত খুব। না হলে পড়তে বসতে হত!

রবিবার সন্ধেবেলার আরেকটা আকর্ষণ ছিল ছোটদাদুর আসা। ছোটদাদু দিনের মধ্যে তিন-চারবার আসত আমাদের বাড়িতে। মিষ্টিদাদুরা চার ভাই। নাম শুনেই বোঝা যাচ্ছে যে তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে ছোট ছিল ছোটদাদু! লম্বা, খুব ফর্সা, ব্যাকব্রাশ করা কালো চুল। সারাক্ষণ পান খেত ছোটদাদু! দারুণ জর্দার গন্ধ ভেসে থাকত হাওয়ায়!

ছোটদাদু দিনের মধ্যে যতবার আমাদের বাড়িতে আসত ততবার নিয়ে আসত কোনও না কোনও খাবার! বিস্কুট, লজেন্স তো থাকতই! তার সঙ্গে রবিবার সন্ধেবেলা আসত স্পেশাল জিনিস! হয় মাংসের চপ নয়তো কালিকা মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের উল্টোদিকের শ্যামলকাকুর দোকানের ভেজিটেবল চপ! জন পিছু দুটো করে!

সিনেমার পরে বসত ক্যারাম খেলার আসর! আমি আর পঙ্কা পার্টনার! আর অন্যদিকে শঙ্করদা আর ছোটদাদু। মাঝে মাঝে ছোট পিসেমশাই, আমার বাবা বা ভাইপোও যোগ দিত! রাত এগারোটা অবধি চলত সেই খেলা! তারপর যে যার বাড়ি চলে যেত। আর আমরাও খেতে বসতাম!

মফস্সলের রাস্তা নিঝুম হয়ে আসত! বিউটিপিসির বাবা টালমাটাল হয়ে একা একা কার সঙ্গে জানি ইংরেজিতে ঝগড়া করতে করতে বাড়ি ফিরত! কেষ্টদার বাংলা মদ আর শুয়োরের মাংসের দোকানের ঝাঁপ বন্ধ হত! সঞ্জীব পাগলা, রাবড়িমালাই ষষ্ঠীরাও টলমল করতে করতে ফিরে যেত বাড়ি। সারাদিন অবারিত আমাদের বাড়ির কোল্যাপসিবল গেটে তালা পড়ত এবার! বাবার সঙ্গে গিয়ে আমি বসতাম বাইরের উঠোনে! ঠান্ডা হাওয়া আসত!

তারপর ঘুমিয়ে পড়ার পালা! কাল আবার সোমবার! স্কুল আছে! আবার কয়েকটা দিন চলবে পড়াশুনোর চাপ, স্কুলের দৌড়ঝাঁপ! আর চলবে রবিবারের অপেক্ষা।

এখন আমার রবিবার বলে আলাদা কিছু নেই! সারাক্ষণ নানারকম কাজের মধ্যেই থাকতে হয়! ফলে যা নেই তার জন্য অপেক্ষাই-বা করব কেন? শুধু এখনও নির্জনে, ছোটবেলার সেই বাটানগরের রবিবারগুলোকে মনে পড়ে খুব। মাংসের গন্ধ পেলেই কোনও এক আকাশে ওপার থেকে আজও ভেসে আসে বোরোলিনের সংসার! মনে মনে আজও ওড়ে সেই বোঁ ঘুড়ি! আর আজও ডেনকালি জঙ্গলে বেতালের সঙ্গে ঘুরে আসি দুপুরবেলাগুলোয়! রাস্তায় ছেলেদের ফুটবল খেলতে দেখলে লোভীর মতো চেয়ে থাকি! শুধু বুঝি আমার সে জীবন ‘গিয়াছে’! সেইসব রবিবার এখন শুধু রূপকথার অংশ! আর কে না জানে আমাদের জীবন মোটেও রূপকথা নয়।

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%