স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
জীবনে প্রথম গল্পটা লিখেছিলাম ক্লাস থ্রি-তে পড়ার সময়। পিসতুতো দিদির সঙ্গে মিলে একটা গোয়েন্দা গল্প লিখেছিলাম দু'জনে। তারপর ক্লাস সিক্সে লিখেছিলাম প্রথম ছড়া। আর ক্লাস নাইনে হয়েছিল আমার প্রথম কবিতার লেখার চেষ্টা শুরু।
আমার প্রথম কবিতা ছাপা হয়েছিল উনিশশো সাতানব্বই সালে। একটি লিটল ম্যাগাজিনে। এখন মনে পড়লে অবাক লাগে যে কোথা দিয়ে পঁচিশ বছর কেটে গেল! আর এটাও বুঝি আমি যদি কলেজ স্ট্রিট না যেতাম, তা হলে হয়তো লেখা ছাপাবার আগ্রহও জন্মাত না।
ছোট থেকেই কলেজ স্ট্রিটের নাম শুনতাম খুব। কিন্তু কলেজে ওঠার আগে আমি কোনওদিন কলেজ স্ট্রিট যাইনি।
ছোট বয়সে থাকতাম বাটানগরে। সেখানে বই বলতে মূলত কমিকস পড়তাম। কলকাতায় চলে আসার পরে আমার গল্পের বই পড়ার শুরু। কিছু বই মা গড়িয়াহাট আর লেক মার্কেটে পল্টুদার বইয়ের দোকান থেকে কিনে দিত। আর বাকি সব পাড়ার লাইব্রেরি থেকে নিয়ে আসা হত। অর্থাৎ যা দরকার ছিল তা এভাবেই হাতের কাছে চলে আসত। তাই তখনও কলেজ স্ট্রিটে গিয়ে বই কেনার প্রশ্ন উঠত না।
ছোট থেকেই যেহেতু আমি একটু নিজের মধ্যে থাকা মানুষ, তাই খুব দরকার ছাড়া আমি কোথাও যেতামও না। এইসব মিলিয়েই আমার আর কলেজ স্ট্রিটে যাওয়া হয়ে ওঠেনি।
কলেজ স্ট্রিটে আমি প্রথম যাই কলেজে ওঠার পরে। দক্ষিণ ভারত থেকে ফিরে আমার একটা বছর নষ্ট হয়েছিল। এক বছর পরে আমি ভর্তি হয়েছিলাম ইংরেজি অনার্স নিয়ে। আর তার বই কিনতেই আমি প্রথম গিয়েছিলাম কলেজ স্ট্রিটে।
তখন প্রেসিডেন্সি কলেজের পাশের দেওয়ালে স্টল নাম্বার তেতাল্লিশে যেতাম পড়ার বই কিনতে। স্টলটা ছিল সাহাবাবুর। খুব ফর্সা, বেঁটে হাসিখুশি মানুষ ছিলেন সাহাবাবু আস্তে আস্তে কথা বলতেন। একটা আরশোলা রঙের ফ্রেমের চশমা পরতেন। আমাকে পড়ার বইয়ের সঙ্গে আরও নানান দুষ্প্রাপ্য নোটও দিতেন। জেরক্স করে সেসব আমি আবার সাহাবাবুকে ফিরিয়ে দিতাম। বেশিরভাগ সময় দেখতাম টেরিকটের প্যান্ট দিয়ে একটা সাদা স্যান্ডো গেঞ্জি পরে আছেন। শুধু আমি নই অনেক প্রফেসররাও আসতেন সাহাবাবুর কাছে। সাহাবাবুর কাছে লাল কাপড়ে জড়ানো ঠান্ডা জলের বোতল থাকত। গরমে গেলেই এগিয়ে দিতেন। বলতেন, ‘আগে জল খাও। পড়াশুনো তো সারা জীবন পড়ে রইল!’
সাহাবাবুর কাছেই আমি পেয়েছিলাম জন কিটসের চিঠির বই। সেকেন্ড হ্যান্ড হলেও বইটা একদম নতুনের মতোই ছিল। সেদিন আমার কাছে টাকা ছিল না বইটা কেনার। উনি জোর করে ব্যাগে গুঁজে দিয়ে বলেছিলেন, 'এটা রেখে যেও না। আর থাকবে না। এমন বই থাকে!”
আমি দ্বিধা নিয়ে বলেছিলাম, ‘কিন্তু আমার কাছে যে আজ দেবার মতো টাকা নেই! সাহাবাবু হেসে বলেছিলেন, ‘সে পরে দিও তোমার সময়মতো! আমার তাড়া নেই!” পরে টাকা দেওয়ার সময় বলেছিলাম, ‘আমি থাকি মুদিয়ালিতে। এখান থেকে বেশ দূরে। আমায় চেনেন না আপনি সেভাবে। তাও এভাবে বইটা দিয়ে দিলেন৷'
উনি হেসে বলেছিলেন, ‘সব কি আর টাকা দিয়ে বিচার হয়! তুমি বড় হও তুমিও বুঝবে!” সাহাবাবু অকৃতদার মানুষ ছিলেন। আচমকাই মারা গিয়েছিলেন। তার এক ভাগনে স্থানীয় মানুষ সেই ব্যবসাটা দেখাশুনো করেন। কিন্তু সেই ছোট্ট স্টলটা আর নেই! সাহাবাবুর মতো মানুষও আর কলেজ স্ট্রিটে নেই!
সাহাবাবুর স্টলের উল্টোদিকের রাস্তা দিয়ে ঢুকলেই বাঁদিকে কফি হাউস। তারপরের, কফি
হাউসের গা ঘেঁষে ঢুকে যাওয়া রাস্তাটাই হল শ্যামাচরণ দে স্ট্রিট! ওইখানে ছিল দাসবাবুর দোকান! কানাই দাস। মাঝারি উচ্চতার মানুষটিকে দেখলে মনে হত খুব রাগী। চাপা গায়ের রং। ঘোলাটে চোখ। সারাক্ষণ পান খেয়ে খেয়ে মুখ লাল করে রাখতেন। আর গোঁফটি ছিল দেখার মতো। মোটা আর দু' পাশ দিয়ে ঝুলে থাকত!
আমার ইংরেজির স্যার দাসবাবুর দোকানের কথা বলেছিলেন আমায়। স্যারের রেফারেন্সেই আমি গিয়েছিলাম প্রথম। পরে অবশ্য খুবই আলাপ হয়ে যায়। ওঁকে দাসবাবু বলেই ডেকেছি চিরকাল। কলেজ স্ট্রিটের কত গল্প যে বলতেন! আর বলতেনও খুব মজা করে। উনিই বলেছেন যে ওঁর দোকানের সামনে দিয়ে শিব্রাম দইয়ের খুরি নিয়ে দই চাটতে চাটতে যেতেন নিজের মনে। এত বড় বইবাজারে কে কেমন মানুষ। কে কাকে ঠকিয়েছে। কে কাকে উপকার করেছে, তার কত রঙিন গল্প শুনেছি দাসবাবুর কাছে।
যে কোনও বই ওঁকে বললেই উনি দোকানের ছেলেদের দিয়ে আনিয়ে দিতেন। দূরদূরান্ত থেকে নানান বুক সেলার্স পাইকারি হিসেবে বই নিতে আসত ওঁর কাছে। তাড়া তাড়া স্লিপ জমে যেত! তার মাঝে মুখ তুলে বলতেন, ‘দাঁড়াও একটু। কথা আছে!”
কথা মানে গ্রাম শঙ্করপুরের কথা। দুই ছেলের কথা। গ্রামের কাছের সমুদ্রের কথা। আরও সব নানান ব্যক্তিগত কথা বলতেন! বলতেন, কত লেখক গিয়েছে আমার ওখানে! খুব সুন্দর জায়গা!’
ওঁর দোকানেই আমি প্রথম দেখি ভেটকিদাকে। বেঁটেখাটো মানুষ। গোল মুখ। দাড়ি। সারাক্ষণ হাসতেন! সেই সময়ে ভেটকিদাকে চেনে না এমন কেউ ছিল না কলেজ স্ট্রিটে! শুনেছি মানুষটির পান করার অভ্যেস ছিল। ভেটকিদা ছিল নানান বই নিয়ে ইনফরমেশনের খনি! ভেটকিদা নাকি দেশ পত্রিকাতেও লিখেছিলেন অনেক আগে! কলেজ স্ট্রিটেই এদিক ওদিক ঘুরে বেড়াতেন ভেটকিদা। দাসবাবু মাঝে মাঝেই ‘এই ভেটকি এদিকে শোন' বলে ডাকতেন! কাঁধে হাত দিয়ে বলতেন, ‘চল পান খেয়ে আসি!’ দু'জনে হাসতে হাসতে চলে যেতেন পানের দোকানের দিকে।
আমার প্রথম উপন্যাস বই হয়ে বেরয় দু' হাজার সাত সালে। কিন্তু আমি দাসবাবুকে সেই নিয়ে কিছুই বলিনি। আমার চিরকাল মনে হয়েছে যে নিজের লেখা নিয়ে কাউকে কিছু বলার মানে হয় না। লেখা পড়ার মতো হলে লোকের কাছে ঠিক পৌঁছবে! মা আসলে ছোট থেকেই শিখিয়েছিল যে ‘নিজের ঢাক নিজে পেটাতে নেই! এমন করাটা অশিক্ষা।’
তাই আমি কিছুই বলিনি নিজের বই নিয়ে। তার পরের বছর মানে দু' হাজার আট নাগাদ এক জুনের দুপুরে ওঁর দোকানে গিয়েছি। দোকানে বেশ ভিড়! আমাকে দেখেই আচমকা উনি রে রে করে উঠেছিলেন! বলেছিলেন, ‘তুমি লেখো?’ আমি আমতা আমতা করে বলেছিলাম, ‘ওই আর কি!’
উনি আবারও বলেছিলেন, 'আরে তোমার দুটো বই আছে বলোনি তো? আমি বইয়ের ব্যবসা করি আর আমার কাছেই চেপে গিয়েছ? তুমি তো ডেঞ্জারাস ছেলে!
আমার এই না বলাটা কীরকম ‘ডেঞ্জার’ তৈরি করতে পারে না বুঝলেও সেই নিয়ে আমি বলিনি কিছু। বিব্রত হয়ে হেসেছিলাম মাত্র।
উনি বলেছিলেন, ‘সেদিন একজন ক্রিসক্রস বইটা কিনতে এসেছিল। আমি এমনি ওল্টাতে গিয়ে তোমার ছবি দেখলাম। ভাবলাম আরে একে তো আমি চিনি! তুমি আমায় বলোনি, এটা ঠিক করোনি!”
তারপর থেকে উনি প্রায়ই জিজ্ঞেস করতেন কী লিখছি? কোনও বই বেরচ্ছে কিনা! দীর্ঘদিনের একটা যোগাযোগ ছিল আমাদের। এখন এই লেখাটি লেখার সময়, দাসবাবু খুব অসুস্থ। ওঁর ছেলেরা দোকান ও ব্যবসা দেখে। ওদের থেকেই শুনেছি দাসবাবুর হিপ জয়েন্ট রিপ্লেস করতে হবে। খুব কষ্ট পাচ্ছেন উনি! শ্যামাচরণ দে স্ট্রিটে দাসবাবুর দোকান খুব বিখ্যাত। বহু মানুষ ওঁর থেকে বই কেনেন। কিন্তু এখন ওই রাস্তায় ঢুকলে ওঁকে আর দেখা যায় না। দোকানের সামনের টুলটা খালি থাকে। দেখলে মনখারাপ করে আমার। শ্যামাচরণ দে স্ট্রিট থেকে উত্তরদিকে সোজা গেলে বড় রাস্তায় ওঠা যায়। মহাত্মা
গান্ধী রোড! সেই রাস্তা টপকে বিখ্যাত শাড়ির দোকানের কোণ ঘুরলেই আমাদের সবার ভালবাসার দোকান, পাতিরাম!
লিটল ম্যাগাজিনের স্বর্ণখনি! সেই কলেজের ফার্স্ট ইয়ারের যখন সবে কলেজ স্ট্রিট যাওয়া শুরু করি তখন থেকেই পাতিরামে যেতাম নিয়মিত। সেসময় দু'জন বসতেন ওখানে। একজন বেঁটে, মাথায় অল্প চুল, চোখে বাদামি ফ্রেমের চশমা। আর অন্যজন, মোটা গোঁফওলা এক নির্লিপ্ত মুখের মানুষ। অনেকে ইয়ার্কি মেরে বলত, যেদিন হ্যালির ধূমকেতু আসে তার পরের দিন নাকি উনি হাসেন! সবটাই মজা করেই বলা ৷
দু'জনেই কিন্তু খুব ভদ্রভাবেই বই-পত্রিকা দেখতে দিতেন। প্রথমজন আমার মুখ চিনে ফেলেছিলেন। আমাকে দেখলেই বলতেন, ‘ছটফট করবে না। চুপ করে একপাশে দাঁড়াও।’ সকলের চির-বাধ্য আমি সেটা মেনে নিয়ে পাশে দাঁড়িয়ে থাকতাম। তারপর দোকান
একটু ফাঁকা হলে উনি ভেতর থেকে বের করে দিতেন অনেক লিটল ম্যাগাজিন।
আমি তার থেকে বেছে নিতাম। তারপর বাড়ি এসে যেগুলো ভাল লাগত, সেখানে কবিতা পাঠাতাম।
এমন করে দু'-তিনবার পাঠাবার পরে এক শনিবার গিয়েছি পাতিরামে। নানান ম্যাগাজিন কিনে এনেছি। তারপর একটা বড়, চারপাতার ম্যাগাজিন নিয়ে ওল্টাতে ওল্টাতে শেষপাতায় একটা কবিতা পড়লাম। আমার অভ্যেস হল আমি যে কোনও লেখাই মাঝখান থেকে একটু পড়ি। সেটাও ওইভাবে পড়ে দেখলাম কেমন যেন চেনা লাগছে। সঙ্গে সঙ্গে ওপরে দেখলাম নামটা! আরে আমার নাম! আমার লেখা বেরিয়েছে! জীবনে প্রথম!
মনে আছে কবিতাটার নাম ছিল 'প্রত্যাবর্তন'। আর ম্যাগাজিনটার নাম সংবর্তিকা ১৯দিনে। সম্পাদক ছিলেন রাজীব মিত্র। লেখাটার শেষ লাইনটা মনে আছে এখনও— 'আর তুমি বাড়িতে ফিরে যাও/ কেবলই বাড়িতেই ফিরে যাও।’ রাজীবদা পরে আরও অনেক লেখা ছেপেছেন আমার। এমনকী গুচ্ছ কবিতাও ছেপেছেন!
এমন করেই তরুণ চট্টোপাধ্যায়, বীথি চট্টোপাধ্যায়-দের প্রথম আলো পত্রিকায় আমার লেখা বেরিয়েছিল। সেটাও ওই পাতিরাম থেকে কিনে নিয়ে গিয়ে ঠিকানা দেখে লেখা পাঠানোর থেকেই!
এমন অনেক লিটল ম্যাগাজিনে আমার লেখা ছাপা হয়েছিল এইভাবে।
মনে পড়ে একা একাই আমি কলেজ স্ট্রিটে ঘুরে বেড়াতাম। আর শুধু কলেজ স্ট্রিট না, সূর্য সেন স্ট্রিট, টেমার লেন, বেনিয়াটোলা, পটলডাঙা স্ট্রিটসহ আরও নানান জায়গায় একা একা ঘুরে বেড়াতাম। দেখতাম পুরনো চকমেলানো বাড়ি। তাদের ঝিলমিল ঢাকা মলিন বারান্দা। কাঠের ঝরোকা! বাঘের মুখওলা ড্রেন পাইপ। শ্যাওলা-ঢাকা পেডিমেন্টে আকাশের দিকে হাত বাড়ানো অশ্বত্থচারা। দেখতাম ঝুরঝুরে বহু উঁচু পুরনো বাড়ি। একদিন সে বাদশাহ থাকলেও আজ সে বন্দি শাহজাহান ছাড়া আর কিছু নয়!
একটা দোকানে যেতাম। বিকাশ গ্রন্থ ভবন। শীর্ষেন্দুবাবুর লেখার খুব ভক্ত আমি। তাঁর নাকি ওইখান থেকে কিছু উপন্যাস আছে। সেই জন্য খুঁজে খুঁজে একটা পুরনো বাড়ির দোতলা বা তিনতলায় পেয়েছিলাম সেই বিকাশ গ্রন্থ ভবনের দোকানটি। একজন শান্ত রোগা মানুষ বসে থাকতেন দোকানে। খুব সময় নিয়ে বই বের করে দিতেন। হাজারটা বই দেখতে চাইতাম। একটুও বিরক্ত হতেন না। কোনও সপ্তাহে না গেলে পরে জিজ্ঞেস করতেন আসিনি কেন! মনে আছে মানুষটির নাম ছিল টিনা রায়।
তখন 'কথা ও কাহিনী' দোকানটার ভেতরে ঢোকা যেত। সেখানে ঢুকে একপাশে ব্যাগ রাখতে হত। তারপর সিঁড়ি দিয়ে দু'-এক ধাপ উঠে বাঁদিকে একটা ঘরে ছিল বইয়ের আশ্চর্য জগৎ! সেখানে, আর ছাপা হয় না এমন কত বই যে পেয়েছি! ভাস্কর চক্রবর্তীর অনেক পুরনো কবিতার বই ওখান থেকে কিনেছিলাম আমি! এ ছাড়াও আরও অনেক কবির বই কিনেছি।
মনে আছে একটা বই কিনেছিলাম। নাম ছিল, ‘নৌকা ভেসেছে জলে'। কবির নামটা সঠিক মনে নেই। অবন বসু কি? নাঃ! মনে পড়ছে না।
তবু একটা লাইন এখনও এই পঁচিশ বছর পরে মনের মধ্যে ঘোরে— ‘নৌকা ভেসে জলে/ অনুকূল হাওয়া দিক, দেখো চলে যাবো”!
কলেজ স্ট্রিট অঞ্চল শুধুমাত্র বইপাড়াই নয়। এই অঞ্চল পুরনো কলকাতার একটা মিউজিয়ামও বটে! এখানেই খেয়েছি দিলখুশার কাটলেট! প্যারামাউন্টের সরবত! জেনেছি প্যারামাউন্টে আগে নাকি দা, বটি, ছুরি ইত্যাদি বিক্রি হত। শুনেছি ফেভারিট কেবিনে আসতেন বিপ্লবীরা! দেখেছি সেই মেসবাড়ি যেখানে থাকতেন শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়। থাকতেন তাঁর ব্যোমকেশ বক্সি! মহাত্মা গান্ধী রোডের ওপর দাঁড়িয়ে ভাবতাম এই সেই হ্যারিসন রোড! দেখতাম বেনিয়াটোলা লেনের কোনায় সেই লাল হলুদ পুরনো বাড়ির কোনায় টাঙানো লাল সাইনবোর্ড! আনন্দ পাবলিশার্স! না এখান থেকে আমার কোনওদিন একটাও বই বের হবে এমন স্বপ্ন দেখতাম না! কারণ জানতাম এ হতেই পারে না!
তাও হয়েছে। স্বপ্নের অতীত ঘটনাও যে জীবনে ঘটে! আমার সঙ্গেও ঘটেছে দু’বার! একবার এই আনন্দ পাবলিশার্স থেকে বই বেরনো। আর আরেকটা? না, সেটা আমি আমার নিজের জন্যই রেখে দিলাম!
তবে এসবেরই শুরু হয়েছিল সেই ক্লাস সিক্সের গরমের ছুটির সন্ধেবেলায় হঠাৎ লিখতে ইচ্ছে হওয়ার থেকে! আর লেখার ইচ্ছে তার পথ পেয়েছিল কলেজ স্ট্রিটের বইপাড়ার কাছ থেকে!
আজও কলেজে স্ট্রিটে গেলে কোনও একাকী, ঝোলা কাঁধে ছেলেকে দেখলে আমার মনের মধ্যে ফিরে আসে সেই উনিশশো সাতানব্বইয়ের স্মৃতি! মনে হয় এও কি লিখতে চায়! এও কি অমন খুঁটে খুঁটে লেখা পাঠায়? ধৈর্য ধরে? শুধু নিজের কাজটুকুর ওপর মনোযোগ দেয়! কী জানি পঁচিশ বছর আগের পৃথিবীতে মনোযোগ দেওয়া যতটা সহজ ছিল এখনকার পৃথিবীতে হয়তো মনোযোগ দেওয়া ততটা সহজ নয়!
তবে যাই হোক না কেন কলেজ স্ট্রিটের কাছে আমার ঋণ গোটা জীবনের। আমার মতো সাধারণ পাঠকদের কাছে সে আজও আশ্রয়স্থল!
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন