রবীন্দ্র জয়ন্তী

স্মরণজিৎ চক্রবর্তী

তখন রবীন্দ্র জয়ন্তী একটা বড় ব্যাপার ছিল। তখন মানে সেই আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ের কথা বলছি। আমাদের ছোট্ট মফস্সলে রবীন্দ্র জয়ন্তী কোনও উৎসবের চেয়ে কম কিছু ছিল না।

এখনও মনে আছে পয়লা বৈশাখের পর থেকেই রবীন্দ্র জয়ন্তীর তোড়জোড় শুরু হয়ে যেত। পাড়ার যে অরুণাচল ক্লাব ছিল সেখানের সেক্রেটারি ছিল ভাইপো!

ভাইপোর যে কোনও রকম উৎসবের আয়োজনেই খুব আগ্রহ ছিল। কী মন্ত্ৰ জানত কে জানে সব জায়গাতেই ভাইপো হয় ক্যাশিয়ার নয়তো সেক্রেটারির পদে থাকত। অরুণাচল ক্লাব বা তার উদ্যোগে আয়োজিত রবীন্দ্র জয়ন্তীও তার ব্যতিক্রম নয়।

আমাদের পাড়ার অরুণাচল ক্লাবের মাঠটা ছিল নাইন-আ-সাইড ফুটবল খেলার জন্য আদর্শ। এই মাঠের একপাশে বাঁধা হত মঞ্চ। সেটা অবশ্য হত রবীন্দ্র জয়ন্তীর তিনদিন আগে।

ছোট্ট হত মঞ্চটা। মাথায় ছাউনিও করা থাকত। সাধারণত লাল আর হলুদ কাপড় দিয়ে মঞ্চ তৈরি হত। পাড়ার ছোটরা মানে আমরা এর আগে থেকেই লেগে যেতাম কাজে। কারণ দশ-পনেরো দিন আগে থেকেই যে এই মঞ্চ অলঙ্করণের প্রস্তুতি চলছে!

শোলা কিনে আনা হত মল্লিক বাজার থেকে। তারপর সরু, এক বিশেষ ধরনের ছুরি দিয়ে চলত সেই শোলা কেটে নকশা বানানো। আমরা কয়েকজন শোলার ওপর এইচ বি পেন্সিল দিয়ে আঁকতাম আর বিটুদা আর ঝর্ণাদি দু'জনে মিলে কাটত সেই নকশা। তার সঙ্গে ফুলের মালা গাঁথা হত। গুপ্তদার দোকান থেকে সরু তার কিনে তাতে ফুল গেঁথে বানানো হত ফুলের রিং! রঙিন কাগজ কিনে এনে কেটে কেটে সেটা দিয়ে বানানো হত কাগজের শিকল।

ব্যাপার ছিল এই যে রেডিমেড কিছু কেনা যাবে না। সে যতই অপটু হোক না কেন সাজসরঞ্জাম সব আমরা নিজেরাই তৈরি করব।

সবার বাড়ির বড়রাই তখন সিগারেট খেত। আর তাই সিগারেটের প্যাকেটের মধ্যেকার রুপোলি রাংতার অভাব ছিল না। সেই রাংতা দিয়ে সোমাদি বানিয়ে দিত অদ্ভুত সুন্দর সব ফুল! আর ছিল পাতলা কাগজকে সরু মুখের কাঁচি দিয়ে কেটে বানানো নকশা! কী যে সব সুন্দর সুন্দর নকশা বানানো হত! ময়ূরের পেখম, পাখির পালক, মাছ, ঝাঁকড়া গাছ আরও কত কী!

এইসব দিয়ে সকাল থেকে সাজানো শুরু হত মঞ্চ! মে মাসের সেই গরম-টরম আমরা মানতাম না। ঘেমে নেয়ে, তেতে পুড়ে বেগুনি হয়ে যেতাম সবাই। তাও উৎসাহ ছিল অন্য মাত্রার!

ফুলের সাজ আমরা সকাল সকাল বানিয়ে তাতে জলের ছিটে দিয়ে পাতলা প্লাস্টিকে জড়িয়ে ঢুকিয়ে রাখতাম ফ্রিজে। সেটা বিকেলে বের করে মঞ্চে লাগানো হত। ক্লাবের পক্ষ থেকে আগেই বলা থাকত চেয়ার। যাকে বলে দর্শকাসন! সেসব চলে আসত বিকেলের আগেই।

কাঠের চেয়ারগুলো ভাঁজ করা যেত। বসার জায়গায় একটা মোটা প্লাইউডের বোর্ড লাগানো থাকত। আর হেলান দেওয়ার ব্যাক রেস্টে ইংরেজি ‘এইচ’ অক্ষরের মতো একটা নকশা করা থাকত। বেশ ভারী হত সেই চেয়ারগুলো। আর বসে একটু এদিক ওদিক করলেই উলটে যাওয়ার ভয় থাকত। বাচ্চারা মানে আমরা সেই চেয়ারে বসে সহজে মাটিতে পা পেতাম না। তাই বাচ্চারাই সেই চেয়ারে বসে উলটে যেত বেশি! প্রতিটা অনুষ্ঠানেই দু'-চারজনের চেয়ার উলটে পড়ে যাওয়াটা রুটিন ঘটনা ছিল।

সেইসব চেয়ার এখন আর সেভাবে দেখি না। আগে কিন্তু সেই চেয়ারগুলোই দেখা যেত এমন পাড়ার অনুষ্ঠান থেকে বিয়েবাড়ি সব জায়গায়!

তা, সেই চেয়ার পাতাটা বড় কাজ ছিল। সেসব ক্লাবের দাদা-কাকারাই করে দিত। তার সঙ্গে মঞ্চে চলত টেবিল সাজানো। এই টেবিলটা আসত পাড়ার কারও না কারও বাড়ি থেকে। আমাদের বাড়ি থেকেও যেত কোনও কোনও বছর। সেই টেবিলের ওপর পাতা হত সাদা টেবিল ক্লথ। মাঝে রাখা হত রবি ঠাকুরের বড় একটা ছবি। এটাও আনা হত পাড়ার একটা বাড়ি থেকে। দুটো ফুলদানিতে ফুল দিয়ে রাখা হত ছবির দু'পাশে। তারপর ছবিতে রবি ঠাকুরের কপালে দেওয়া হত চন্দনের টিপ! না মালাটা তখন দেওয়া হত না। সেটা এসে দিতেন প্রধান অতিথি!

এসব করতে করতে কখন যে বিকেল শেষ হয়ে আসত! দিন শেষের নরম সূর্য গড়িয়ে যেত চ্যাটার্জিপাড়ার জল ট্যাঙ্কের পিছনে। একটা-দুটো করে তারা ফুটতে শুরু করত গাঢ় হয়ে আসা নীল আকাশে। আর তখন বাঁশের যে চারটে খুঁটি মঞ্চের চারিপাশে পোঁতা থাকত তাতে ঝোলানো বড় বাটির মতো আলো জ্বালিয়ে দেওয়া হত!

তারপর শুরু হত মাইক টেস্টিং, মাইক টেস্টিং! ঘোষ সাউন্ড থেকে ভাড়া করা হত মাইক ও তার আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি! ধুতরো ফুলের মতো চোঙা লাগানো হত পাড়ায়!

মানে যারা এসে প্রোগ্রাম শুনবে না তাদেরও যাতে কানের মধ্যে যায় সবকিছু।

ভাইপো বা বিধানকাকাই মঞ্চে লাগানো মাইকের কাছে গিয়ে মাঝে মাঝে অমন করে মাইক টেস্টিং বলত। আমাদেরও ইচ্ছে করত অমন বলতে। কিন্তু আমাদের বলতে দেওয়া হত না। আসলে তখন সবাই এমন কাজে ব্যস্ত যে কাউকে গিয়ে এসব বায়না জানালে সে হয় কান মুলে দিত নয়ত জুলপি টেনে মামাবাড়ি দেখাত!

এরপর যে যার বাড়িতে চলে গিয়ে সাজগোজের পালা! ছেলেরা অবশ্যই পরত পাজামা-পাঞ্জাবি। আর মেয়েরা শাড়ি! আমার মিষ্টিদাদুর যেহেতু টেলারিং শপ ছিল তাই বেশ ক'টা পাঞ্জাবি ছিল আমার। তবে আমার প্রিয় ছিল গাঢ় নীল রঙের ওপর সাদা সুতো দিয়ে চিকনের কাজ করা একটা পাঞ্জাবি!

তখন আমাদের মানে ছোটদের মুখে আচ্ছা করে পাউডার লাগানো হত! বলা হত না হলে ঘেমে যাব! সেই পাউডার লাগিয়ে, চুল পাট পাট করে আঁচড়ে অর্ধেক ভূত আর অর্ধেক মানুষ সেজে আমরা সবাই চলে যেতাম মাঠে। পাড়ার দিদিরা, কাকিমারাও চলে আসত। বাটা কোম্পানির ছুটি হয়ে যেত পাঁচটায়। তাই কাকু-জেঠুরাও চলে আসত। মাঠে পেতে রাখা চেয়ার ভরে যেত নিমেষেই! তারপর পাশ দিয়ে যাওয়া পাড়ার রাস্তার পাশেও লোক দাঁড়াতে শুরু করত!

মাঠের পাশেই ছিল মালাপিসি আর চন্দনকাকাদের বাড়ি। ওদের বাড়ির একতলাটা ছিল আমাদের গ্রিন রুম। সেখানে যারা নাচ করবে তাদের সাজগোজ চলত। চলত শাড়ি পরানো, মেক-আপ করা, খড়িমাটি গুলে মুখে নকশা আঁকা, ফুলের গয়না পরা। আর চলত নাটকের মেক-আপ করা।

হারুদা নামে একজন মেক-আপ ম্যান আসত। সারাক্ষণ ফিল্টার ছাড়া সিগারেট খেত লোকটা। আর সাংঘাতিক গম্ভীর হয়ে মেক-আপ করত। নাটকের দলের মেক-আপ করতেই আসল সময় লাগত। নকল দাড়ি-গোঁফ ঠিকমতো সেট করাটাই ছিল বড় ব্যাপার!

আমরা কোথাও না থেকেও সবদিকেই থাকতাম। সোমাদি তো শুধু গান গাইবে। তাও মেক-আপ করত কেন কে জানে! মেক-আপের মধ্যে আমায় বলত, ‘যা তো রাজা বাড়ি থেকে আমার গানের খাতাটা নিয়ে আয় তো!’ আমি অমনি দৌড়তাম গুরুত্বপূর্ণ কাজ পেয়ে

আবার কেউ হয়তো বলত, ‘যা তো দেখ তো চা দিচ্ছে না কেন!’ শোনামাত্র আবার ছুট! এসব নানান কাজ সেরে এসে দাঁড়াতাম মঞ্চের নীচে এক কোনায়! দেখতাম ভাইপো ততক্ষণে মাইকে বলতে শুরু করেছে যে প্রধান অতিথি এসে গিয়েছেন!

আর দেখতাম সত্যি এসে গিয়েছে দুটো রিকশা। তার সামনেটার থেকে নামতেন প্রধান অতিথি আর পেছনেরটা থেকে নামত ক্লাবের দু'জন। মানে যারা প্রধান অতিথিকে আনতে গিয়েছিল তারা!

মাঠময় যে গুঞ্জন চলছিল এতক্ষণ, সেটা আচমকা থেমে যেত প্রধান অতিথি এলেই! আমার কেন যেন মনে হত ক্লাসে হেডস্যার ঢুকেছেন! আমার ভাই, টেটু কানের কাছে মুখ নিয়ে বলত, ‘দাদা আমার খুব হাসি পাচ্ছে!’ আর বলেই খিলখিল করে হেসে ফেলত!

তারপর যা হয় তাই হত। মানে হয় পাড়ার শুক্লাদি নয়তো চন্দ্রিমাদি উদ্বোধনী সঙ্গীত গাইত। তারপর প্রধান অতিথি রবি ঠাকুরের ছবিতে মালা দিয়ে গম্ভীরভাবে কিছু বলতেন! আর এসব সারা হলে শুরু হত পাড়ার কচিকাচাদের অপটু গলার গান আর আবৃত্তি!

বাচ্চাদের পরে বড়দের পালা। তারাও কেউ গান গাইত। কেউ আবৃত্তি করত। কেউ আবার নাচতও!

তার মাঝে মাইক হঠাৎ হঠাৎ চ্যাঁ চ্যাঁ করে উঠত। ওদিকে বাচ্চাদের চিৎকার চলত। গণেশদা ঘুগনির ঠেলা লাগাত মাঠের একপাশে। বানওয়ারিকাকু নিয়ে আসত ফুচকার ঝাঁকা। আসত নেপালদার মশলা মুড়ির গাড়ি। আরও টুকটাক ডিম টোস্ট। চায়ের কেটলি!

এদিকে একটার পর একটা গান-নাচ-আবৃত্তি চলছে আর ওদিকে লোকজন টুকটাক খাওয়াদাওয়া করছে। ভাইপোও মাঝে এসে আমাদের হাতে বেগুনি নয়তো ভেজিটেবল চপ ধরিয়ে দিয়ে যেত!

আমি কোনও অনুষ্ঠানে ভাগ নিতাম না। ছোটবেলায় কথা বলতে গেলেই কথা আটকে যেত আমার। লোকে নানান সময়ে ব্যঙ্গ করত। বলত, ‘তোতলা’! তাই কেমন একটা ভয় লাগত সবার সামনে কথা বলতে। মঞ্চে উঠতে বললেই পালিয়ে যেতাম। স্কুলে যদিও ধরে বেঁধে নাটকে আমায় ঢোকানো হত। কিন্তু তার বাইরে মঞ্চের থেকে দূরে থাকতেই আমার ভাল লাগত। এখানেও তার অন্যথা হয়নি।

তবে এসবের মধ্যে সবাই আগ্রহ নিয়ে বসে থাকত নাটকের জন্য। মানে দুটো নাটক হত। একটা রবীন্দ্রনাথের লেখা কোনও নাটক আর অন্যটা যে কোনও একটা নাটক। নাটক শুরু হলেই দেখতাম জনতা বেশ শান্ত হয়ে গিয়েছে। সবাই আগ্রহ নিয়ে দেখছে। আমি নাটকের মাঝে আস্তে আস্তে মঞ্চের পেছনে টাঙানো কাপড়ের উল্টোদিকে গিয়ে দাঁড়াতাম। দেখতাম ভাইপো মাথা নিচু করে এক মনে নাটকের ডায়ালগ প্রম্পট করে যাচ্ছে! আমি খালি ভাবতাম, এই রে একবার ভুল পড়লেই চিত্তির! কেলেঙ্কারি কাণ্ড হয়ে যাবে!

কিন্তু কী অবাক, ভাইপো পরপর দুটো নাটকে প্রম্পট করত। কিন্তু একবারও কোথাও আটকাত না! আমার কী যে ভাল লাগত! ছোটবেলায় যেমন অনেক কিছু হওয়ার ইচ্ছে করত, তেমন ওই রবীন্দ্র জয়ন্তীর সন্ধ্যায় ভাইপোকে দেখে আমার মনে হত বড় হলে আমিও প্রম্পটার হব!

প্রম্পটার হলে কি রোজগারপাতি হয়? জীবনধারণ করা যায়? তোতলা যারা তারা কি আদৌ এই কাজটা করতে পারে? সেসবের কোনও ধারণাই ছিল না। কিন্তু ভাইপো যে অমন মসৃণভাবে একের পর এক ডায়ালগ বলে যেত সেটা দেখে কী ভাল যে লাগত আমার!

দুটো নাটকের পর অনুষ্ঠান শেষ হত একটা সমবেত গান দিয়ে। মঞ্চের মাঝে দুটো সারিতে দাঁড়াত পাড়ার যুবক আর যুবতীরা। সামনের সারিতে মেয়েরা আর পেছনের সারিতে ছেলেরা। মেয়েদের শাড়ি হত প্রায় একরকম আর ছেলেদের পাঞ্জাবিও হত সাদা। সামনের সারিতে মেয়েদের মধ্যে এসে দাঁড়াত পাড়ার চিত্রপিসি। সে-ই হারমোনিয়াম বাজাত। পাশে মেঝেতে বসে তবলা আর এসরাজ বাজাত পাড়ার দু’জন কাকু।

এবার শুরু হত বৃন্দ-সঙ্গীত! গান শুনতে তো ভাল লাগতই। কিন্তু আমার তার চেয়েও বেশি ভাল লাগত ওদের দেখতে। সবাই কেমন মাথা নেড়ে একসঙ্গে গান গাইছে! এই দৃশ্যের মধ্যে কী যে একটা আনন্দ লুকিয়ে থাকত!

যে সব্যদা সারাদিন ছোট্ট মুদির দোকানে স্যান্ডো গেঞ্জি আর লুঙ্গি পরে বসে থাকে, যে মানিককাকা গভীর রাতে বিধ্বস্ত হয়ে অফিস থেকে ফেরে! যে কাজলদা চাকরি পায় না বলে সারাক্ষণ মনখারাপ করে বসে থাকে ভগবানের কাঠের গোলায়! যে বিনিদি সারা বাটানগর ঘুরে টিউশনি করে বেড়ায়! যে কমলাদির কিছুতেই বিয়ে হচ্ছে না! যে রাঙাপিসিকে তার বর বাড়িতে এসে তুলে দিয়ে গিয়েছে আর কোনওদিন ফিরিয়ে নেবে না বলে, তারা সবাই এই একটা সময়ে যেন নিজের মধ্যে থেকে আসল মানুষটা হয়ে বেরিয়ে আসত! সেই আলোর তলার সবার মুখ তখন কী উজ্জ্বল! জীবনে যেন আর কোনও কষ্টই তাদের নেই! সবাই তখন একসঙ্গে গাইত, ‘শাসনে যতই ঘেরো আছে বল দুর্বলেরও, /হও-না যতই বড়ো আছেন ভগবান।’

অরুণাচল মাঠ আর নেই। তাতে অনেক বাড়ি হয়ে গিয়েছে। পাশের একচিলতে একটা জমি আছে শুধু। তাতে নাকি টুকটাক অনুষ্ঠান হয় শুনেছি। বাটানগর ছেড়ে কলকাতায় চলে এসেছি আমরা বহু বছর। তবু আজও রবীন্দ্র জয়ন্তী বললেই ছোটবেলার এইসব স্মৃতি হুড়মুড় করে এসে জড়ো হয় মনে! সেই অনুষ্ঠান করার উত্তেজনা, আনন্দ এ জীবনে আর কোথাও তো পেলাম না! কে জানে এমন আনন্দ হয়তো ছিল অন্য জায়গাতেও! কিন্তু আমারই দোষে হয়তো সেসবের কাছে আর পৌঁছতে পারিনি!

তাই এখনও মনে সেইসব গান ঘুরে ঘুরে আসে। চোখ বন্ধ করলেই দেখতেই পাই সারি দেওয়া সব হাসিখুশি মুখ! খুব সাধারণ মধ্যবিত্ত পাড়ার নিজস্ব উৎসব! কিন্তু উৎসব তো! দেখতে পাই চিত্রাপিসি গাইছে— ‘হও না যতই বড়ো' আর বাকিরা সমবেতভাবে বলছে— ‘আছেন ভগবান।’

জানি না সত্যি ভগবান আছেন কিনা! কিন্তু আমাদের সেই মফস্সল শহরে, সেই মধ্য আশির সময়ে ভগবান না থাকলেও কাকা-পিসি-দাদা-দিদিরা সবাই ছিল একে অপরের জন্য! একে অপরের পাশে!

আজ সেই সবাই মিলে থাকাটাই কেমন যেন রূপকথার মতো লাগে। মনে হয় সব অলীক! মনে হয় সত্যি কি অমন দিন ছিল কখনও? নাকি এও ভোর রাতে দেখা কোনও স্বপ্ন! কোনও গল্প কথা! মিছিমিছি কোনও স্মৃতি!

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%