আমাদের বাড়ি

স্মরণজিৎ চক্রবর্তী

আমাদের বাড়ি ছিল বাটানগরে। মানে ঠিক বাটানগর নয়, তার পাশের ছোট্ট মফস্সল নঙ্গীতে। কিন্তু বাটানগর নামের ছোট্ট টাউনটা নঙ্গীর একদম পাশে বলে গোটা অঞ্চলটাকেই চলতি কথায় বাটানগর বলা হয় ।

সেখানেই ছোট্ট একটা পাড়া। নাম সর্দারপাড়া। রাম বচনের গলি পার করে স্টেশন রোড দিয়ে একটু এগিয়ে, অরুণাচল ক্লাবের উল্টোদিকে, বাঁহাতে মোড় নিয়ে ঢুকলেই সেই পাড়া। আর সেই পাড়ার প্রথম বাঁদিকের যে বাড়িটার মধ্যে দিয়ে একটা নারকেলগাছ উঠে গিয়েছে, সেটাই ছিল আমাদের বাড়ি।

হ্যাঁ, বাড়িটা দেখতে একটু অদ্ভুতই ছিল। বড় দোতলা বাড়ি। সাদা রঙের। বেশ ছড়ানো। আর তার রাস্তার দিকের দোতলার বারান্দা ফুঁড়ে, তিনতলার ছাদ ফুঁড়ে একটা নারকেলগাছ উঠে গিয়েছে আকাশের দিকে। মনে আছে ছাদে দাঁড়িয়ে আমরা হাত বাড়িয়েই নারকেলপাতা ছিঁড়তাম! তারপর সেই পাতা দিয়ে ঘড়ি বানিয়ে পরতাম।

সারা বাটানগরে এমন বাড়ি আর একটাও ছিল না। আমাদের বাড়ি বলছি বটে, কিন্তু আসলে এই বাড়িতে নীচের তলায় ভাড়া থাকতাম আমরা। কিন্তু ওই বয়সে ‘আমার তোমার’ বলে ভাগ করাটা সেভাবে তো মনে আসে না, তাই আমারও আসত না।

বাড়িটায় ছিল আড়াইখানা ঘর, একটা চৌকো ঢাকা বারান্দা, রান্নাঘর আর স্যাঁৎসেঁতে ছোট্ট একটা বাথরুম। বাড়ির পাশেই ছিল উঠোন। আর সেই উঠোনের গা ঘেঁষে ছিল পুকুর! বাড়িতে ঢোকার মুখেই ছিল একটা কোল্যাপসিবল গেট। সেই গেটে আমরা ভাইবোনেরা ঝুলে ঝুলে ‘কন্ডাক্টর কন্ডাক্টর’ খেলতাম! ছোটবেলায় অনেক কিছু হতে চাওয়া আমার মনটা মাঝে মাঝে কন্ডাক্টরও হতে চাইত!

কাঁধে মায়ের ব্যাগ ঝুলিয়ে আর ন’কাকার জমানো বাসের টিকিটগুলো বুড়ো আঙুল দিয়ে চিড়িক চিড়িক করতে করতে চিৎকার করতাম, ‘আসুন আসুন। ঠেলাঠেলি করবেন না। পেছনের দিকে এগিয়ে যান! নিউল্যান্ড, বাটামোড়, ব্রেসব্রিজ, বেলঘড়িয়া, পুরী, দার্জিলিং, দেরাদুন! আসুন।’

যে পুকুরটার কথা বললাম সেটা ছিল যোগেন সর্দারের পুকুর। বেশ বড় ছিল পুকুরটা। মাঝে মাঝে ফ্লুরোসেন্ট রঙের কচুরিপানায় ভরে যেত গোটা পুকুর। আবার সেটা পরিষ্কার করালেই সবুজ রঙের জল বেরিয়ে পড়ত। জলে কেমন যেন একটা হালকা বুনো গন্ধ ছিল। পুকুরের এক পাড়ে ছিল বড় বাঁশঝাড়। আর অন্যদিকে একটা কলাবন। পুকুরে নামার জন্য ভাঙাচোরা ঘাট ছিল একটা। কিন্তু জল ভাল ছিল না বলে আমার কোনওদিন সাঁতার শেখা হয়নি। তবে আসল কারণটা হল ভয়। জলে খুব ভয় লাগত আমার। কেমন যেন দম বন্ধ হয়ে আসত! তাই মা, কাকা, মিষ্টিদাদু ও অন্যান্যরা সাঁতার কাটলেও আমি পাড়ে দাঁড়িয়ে ওদের খুশি হতে দেখে, আনন্দ করতে দেখে, নিজেও খুশি হয়ে উঠতাম!

ওই যে উঠোনটার কথা বললাম তার একপাশে সিমেন্টে বাঁধানো একটা ছোট্ট চাতাল ছিল। আর সেই চাতালের পাশে ছিল একটা টিউবওয়েল। বাড়িতে একটা ছোট্ট বাথরুম থাকলেও, মেয়েরা ছাড়া বাকি আমরা সবাই ওই টিউবওয়েলের জল পাম্প করে নিয়ে সিমেন্ট-বাঁধানো চাতালে দাঁড়িয়ে মাথায় ঢালতাম!

ছোট্ট বাথরুমটা ছিল আমার ভয়ের জায়গা। শ্যাওলা ধরা মেঝে। একপাশে বালতি ভরা জল। বাথরুমের ওপরে একটা চৌকো মতো ফুটো ছিল। রাতে বাথরুম করতে গিয়ে ওই দিকে তাকাতে ভয় করত খুব। বাবা যে উত্তমকুমারের বিকেলে ভোরের ফুল সিনেমার ভূতের গল্পের অংশটা বলেছিল, খালি মনে হত ওই চৌকো দিয়ে অমন একটা কালো লোমশ হাত বেরিয়ে আসবে আমাকে ধরতে!

এ ছাড়াও ছিল নিশির ভয়। আমাদের বলা হত রাতে নাকি নিশি এসে নাম ধরে ডাকে। তিনবার ডাকে। আর সেই ডাকে যদি কেউ সাড়া দিয়েছে, ব্যাস তা হলে নিশি তাকে নিয়ে চলে যায়!

রাতে শোওয়ার সময় আমার মনে হত যেই ডাকুক আমি বাবা কাউকে সাড়া দেব না! রাতে, ঘুমোবার আগে, বালিশে তাই ভগবানের নাম লিখতাম! প্রার্থনা করতাম নিশি যেন না ডাকে!

আমাদের বাড়িটা ছিল একমুঠো। চড়াই পাখির বুকের মতো! কোল্যাপসিবল গেট দিয়ে ঢুকে, একটুখানি গিয়েই শেষ!

তবু তার মধ্যে আমরা অনেকে থাকতাম। সকালে রান্না করত মা। আর বিকেলে কাকিমা। আমি ডাকতাম কাকুমা বলে! সেজকাকার স্ত্রী।

বাবারা পাঁচ ভাই। জেঠু আর ছোটকাকা থাকত দুর্গাপুরে। বাবা মেজ। বাবার পরের ভাই সেজকাকা, যাঁকে আমি অদ্ভুত কারণে ভাইপো বলে ডাকতাম, সে, তাঁর স্ত্রী ও একমাত্র ছেলে টেটুকে নিয়ে থাকত আমাদের সঙ্গেই। আর থাকত ন’কাকা, ঠাকুরদা ও ঠাকুমা! ন’কাকাকে আমি বলতাম পঙ্কা! আর ঠাকুরদাকে বলতাম মিষ্টিদাদু।

আর থাকত পিসিরা। না, এই বাড়িতে নয়, তবে খুব কাছেই। নিশ্বাস বন্ধ করে এক দৌড়ে চলে যাওয়া যায় এমন দূরত্বে! কাছে ছিল বলে প্রায়ই তাঁরাও এসে আমাদের ওই বাড়িতেই থাকত। আর রোজ জগতলা বলে বাটানগরের উত্তরদিকের একটা জায়গা থেকে আসত মিষ্টিদাদুর অন্যান্য দুই ভাই। মানে আমার কুট্টিদাদু আর ছোটদাদু! এঁদের আসায় আমাদের ওই বাড়িটা প্রায় রোজই ছোটখাটো একটা পাড়া হয়ে উঠত যেন!

তবু কোনওদিন ভিড় বলে মনে হত না আমার! সন্ধে হলেই যখন লোডশেডিং হত, বাবা আমাদের নিয়ে বসত সেই উঠোনটায়। চাঁদের আলোয় মাদুর পেতে বসতাম আমরা সবাই। বাড়িওয়ালা জেঠু আর জেঠুর স্ত্রী, যাঁকে আমি মাম্মাম বলতাম, তাঁদের ছেলে, শঙ্করদা আর মেয়ে সোমাদিও এসে যোগ দিত সেই জমায়েতে !

বাবা নেপাল থেকে একটা টেপরেকর্ডার কিনে এনেছিল। ন্যাশনাল প্যানাসোনিক-এর। ছোট্ট মফস্সল শহরে সে ছিল এক আশ্চর্যের জিনিস! সেই রেকর্ডারে গান রেকর্ড করা হত। ন’কাকা মানে আমার পঙ্কা, বাজাত হারমোনিয়াম। আর সোমাদি গাইত গান। আমার পিসতুতো দিদি, বুইদিও গলা মেলাত। আর আমার খুড়তুতো ভাই টেটুও কিছু পরে ওর সেই পাঁচ-ছ' বছর বয়সের নিজের উচ্চারণে যোগ দিত গানে।

একটা গান ছিল, ‘আমি কান পেতে রই...’

এই গানটায় কী ছিল কে জানে! পঙ্কা বা সোমাদি গানটা ধরলেই কীসের যে একটা কষ্ট হত আমার! মনে হত বুকের মধ্যে আচমকা কেমন যেন একটা কুয়াশা নেমে এল! কেমন যেন বাতাস কমে এল চারিদিকে! গলার ভেতর কীসের যেন একটা ব্যথা! আমি আজও জানি না সেই আট-নয় বছর বয়সে আমার কেন অমন হত! বা আজ এই মধ্য চল্লিশে এসেও ওই গানটা শুনলে কেন এমন হয়!

কিন্তু গানটা অমন জমায়েতে প্রায়ই হত। আর আমি প্রাণপণে মাথা নিচু করে বসে থাকতাম। যাতে কেউ আমার চোখের জল দেখতে না পায় !

এমনিতেই কষ্টের গল্প শুনলে বা সিনেমা দেখলে আমি কাঁদি বলে ভাইবোনেরা খ্যাপাত আমায়। সেখানে যদি দেখত গান শুনেও অমন হচ্ছে, তা হলে আর মানসম্মান বাকি থাকত না কিছু!

আমি যে সময়ের কথা বলছি তখন ‘ছেলেরা কাঁদে না'-র যুগ। কোনও ছেলে কাঁদলেই তাকে মেয়ে বলা হত! ছোট্ট মফস্সল শহরে, বাইরের পৃথিবীর খবর খুব কিছু আসত না। জেন্ডার বায়াসনেস ছিল খুব। কাজকম্ম থেকে ইমোশন সবকিছুই ছেলে আর মেয়ে এই দুই ভাগে ভাগ করা থাকত! আমরা তখন বুঝতাম না যে মেয়েদের সহ্যগুণ, ধৈর্য আর সাহস ছেলেদের থেকে অনেক অনেক বেশি।

সেই আট-নয় বছরের আমিও ওই ভাগের ‘পুরুষ’-চিহ্নিত দিকে থাকার চেষ্টা করতাম। কাউকে চোখের জল দেখিয়ে ফেলার মতো ‘অপুরুষোচিত' কাজ করতে চাইতাম না!

একসময় ‘কারেন্ট’ চলে আসত। ছোট পাড়ায়, সন্ধ্যা-আকাশের তারার মতো পুট পুট করে জ্বলে উঠত আলো। আমাদের গান-কবিতার আসর ভেঙে যেত! কিন্তু ওই গান, ওই সুর মনের মধ্যে গুনগুন করে বেজেই চলত! সারা সন্ধে পেরিয়ে রাত পেরিয়ে সেই গান খুব মৃদু আর লাজুক স্বরে আমার মধ্যে বাজত। খেতে বসে কেন জানি না কষ্ট হত। মা বকত। রাতে বাবার পাশে শুয়েও ঘুম আসত না। বিছানার পাশের জানলা খোলা থাকত রাতে। জানলার পাশে সেই উঠোন আর তার পাশেই সবুজ জলের পুকুর। সেই পুকুর থেকে ভেসে আসত হাওয়া। জানলা দিয়ে ঝকঝকে আকাশ দেখতাম! দেখতাম কালপুরুষ ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছে আকাশে। মিষ্টিদাদু কালপুরুষ চিনিয়েছিল আমাদের। ধনুক নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে একটা লোক। কোমরে আবার বেল্ট! পায়ের কাছে কুকুর! লুব্ধক! সেই কালপুরুষের দিকে তাকিয়ে ভাবতাম সেও কি কান পেতে রয়েছে!

তারপর কখন যে ঘুমিয়ে পড়তাম! ঠিক সকাল সাতটায় উঠিয়ে দিত মা। ব্রাশে পেস্ট নিয়ে দাঁড়াতাম উঠোনে। আকাশ নীল। কালপুরুষ নেই! কিন্তু জানতাম আলোর ওদিকে সে আছে কোথাও। কান পেতে দাঁড়িয়ে আছে একা! বড় হওয়ার পরে বুঝেছি, এমন কত মানুষই যে অন্য মানুষের জন্য আলোর অন্যদিকে নিভৃতে দাঁড়িয়ে থাকে! কান পেতে রয়!

শঙ্করদা ছিল খুব দুষ্টু! দোতলার থেকে দাঁত ব্রাশ করে আমার মাথায় জল ঢালত। আর ওতেই আমার আড় ভাঙত আধভেজা হয়ে দাঁড়িয়ে, অক্ষম আক্রোশে হাত-পা ছুড়তাম আমি। শঙ্করদা সহ সবাই হাসত আমায় দেখে। শুধু সোমাদি রাগ করত শঙ্করদার ওপর। বারণ করত এমন করতে। নীচে নেমে এসে আমার মাথা মুছিয়ে দিয়ে বলত, “ও বাজে ছেলে। রাজা, তুই ওকে একদম পাত্তা দিবি না!’ এই সোমাদিই ছিল আমার মতো সমস্ত দুর্বলদের একমাত্র ভরসা! মাঝসমুদ্রের একমাত্র কাঠ!

কিন্তু ওইখান থেকেই শুরু হয়ে যেত দিন! মিষ্টিদাদুর বাজার যাওয়া। মায়ের রান্নার তোড়জোড়। বাবার অফিসে বেরবার তাড়া। আমাদের স্কুলে যাবার আগে রুটিন দেখে বই গুছোনো! আরও কত কী!

মফস্সলের পাড়া। ছোট। সবাই সবাইকে চিনত। আশপাশের বাড়ি থেকে দিদি, কাকিমারাও এসে পড়ত ছুটির দিনগুলোয়। বাড়ির সামনের ছোট্ট যে অরুণাচল ক্লাব, তার ছেলেপিলেরাও ফ্রিজের জল, চা এসব নানান আবদার নিয়ে এসে হাজির হত যখন তখন। মা কাউকে ফেরাত না! সব মিলিয়ে সারা বাড়ি গমগম করত সারাক্ষণ!

রাতের একাকী, নিশ্চুপ বাড়িটা যেন আলোর অন্যদিকে চলে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকত অজানা কেউ হয়ে!

এখন কত বছর কেটে গিয়েছে। আমরা কতদিন হল বাটানগর ছেড়ে চলে এসেছি কলকাতায়! তবু আজও বাটানগর গেলে আমি একবার আমার ছোটবেলার পাড়ার সেই পুরনো রাস্তায় যাই। নির্জন বাড়িটাকে দেখি। দেখি, সেই বারান্দার মধ্যে দিয়ে উঠে যাওয়া নারকেল গাছটাকে! দেখি পুরনো কোল্যাপসিবল গেট, সাহাদের লাইন-বাড়ি, মালাপিসিদের বাড়ির সেই ইটের টাল, যেখান থেকে একবার কত্ত কেউটে সাপের বাচ্চা বেরিয়েছিল! আর দেখি সেই নির্জন গলিটাকে! যা এঁকে বেঁকে চলে গিয়েছে আমার ছোটবেলা থেকে বড়বেলা অবধি!

কোনও কারণ নেই, তবু চোখে জল আসে। একসময়ে আলো আর আনন্দে ভরা বাড়িটাকে এখন কেমন যেন বৃদ্ধাবাসে একলা দিদিমার মতো লাগে! যেন দেখতে পাই মিষ্টিদাদু বাজার নিয়ে ঢুকছে। মায়ের রান্নার গন্ধে ছোট্ট তুলোর বলের মতো আমাদের কুকুর ‘টোপর’ গুটিগুটি এগিয়ে যাচ্ছে খাবার থালার দিকে! দেখি ভাইপো আমার জন্য কিনে আনছে ক্যাম্বিসের বল! পঙ্কা নিয়ে আসছে আমলকীর ছোট্ট প্যাকেট! বাবা গল্প বলছে কীভাবে পেলে সবাইকে কাটিয়ে গোল দিয়ে জিতিয়ে দিচ্ছে ব্রাজিলকে! যেন শুনতে পাই কোনও অজানা সন্ধে থেকে সোমাদি গাইছে, ‘ও আমার আপন হৃদয়গহন-দ্বারে / বারে বারে / কান পেতে রই।’

আমি আলতো করে বাড়ির সামনের পাঁচিলটাকে ছুঁই। আমার ছেলেবেলাকে স্পর্শ করি।

জানি এবাড়িতে আমরা ভাড়া থাকতাম মাত্র। জানি জেঠু, মাম্মাম, সোমাদি, শঙ্করদা, সেই পাড়ার বি-পিসি, চন্দনকাকা, গুপ্ত স্টোর্সের গুপ্তদা, ‘দি লাইফ’-এর আশিসকাকা, অরুণাচল সঙ্ঘের সেইসব দাদারা-কাকারা আমার রক্তের কেউ নয়! তবু আমারই লোক তো তারা! আমারই ছোটবেলার হাসি-কান্নার সঙ্গী।

আমরা যারা মফস্সল থেকে এসে বাসা বেঁধেছি কলকাতায়। কেউ বাড়ি কিনেছি, কেউ ফ্ল্যাট, কেউ-বা আবার ভাড়াবাড়িতেই আছি এখনও, তাদের সবার মতো আমারও ‘আমাদের বাড়ি’ বললে বাটানগরে সেই ছোটবেলার সাদা রঙের বাড়িটার কথাই মনে পড়ে। সেই বাড়িটা যার একদিকের বারান্দা ফুঁড়ে মাথা উঁচিয়ে দাঁড়িয়ে থাকত নারকেলগাছ! আর অন্যদিকের জানলায় দাঁড়িয়ে থাকত কালপুরুষ!

কষ্টের গল্প শোনার বা মনখারাপের সিনেমা দেখার মতো এসব মনে পড়লে আজও আমার সেই ছেলেবেলার মতোই চোখে জল আসে। শুধু এখন আর তা লুকোই না! কারণ চোখের জল দেখে ফেলার মতো আর কেউ নেই আশপাশে! ওই বাড়িটার মতো আমরাও যে যার জীবনে একলা! নিঃসঙ্গ!

অধ্যায় ১ / ৩৪
সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%