বাহাদুর আর এক-পা-ওলা দৈত্য

চঞ্চলকুমার ঘোষ

এক ছিল এক-পা-ওলা দৈত্য। এক-পা নিয়েই দৈত্য চারদিকে ঘুরে বেড়াত। যখন যেখানে যেত, সেখানেই মানুষ ধরে খেত।

ঘুরতে ঘুরতে এক নগরে এসে বাসা বাধল দৈত্য। দৈত্যের উপদ্রবে সারা নগরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ল। সবাই ভয়ে ভয়ে থাকে এই বুঝি দৈত্য এসে তাকে ধরল। দু-একজন সাহস করে দৈত্যের সঙ্গে লড়াই করতে গিয়েছিল। তাদের সবাই দৈত্যের হাতে মারা পড়ল। প্রাণের ভয়ে নগরের লোকেরা ঘর ছেড়ে পালাতে আরম্ভ করল দূর দেশে।

সেই নগরের কিছু দূরেই ছিল এক ভূটিয়া গ্রাম। সেই গ্রামের লোকেদের যেমন সাহস তেমনি শক্তি। কাউকেই তারা ভয় পেত না। সেই গ্রামের মোড়লের ছেলের নাম বাহাদুর। একদিন বাহাদুর ঘুরতে ঘুরতে সেই নগরে এল।

তাকে দেখেই সবাই বলল, ‘তুমি এখানে এসেছ কেন? এ দৈত্যের নগরী, যে-কোনো সময় দৈত্য এসে তোমাকে মেরে ফেলবে।’

বাহাদুর বলল, ‘তবে তোমরা এখানে রয়েছ কেন?’

‘আমাদের যে যাওয়ার কোনো জায়গা নেই।’

‘তোমরা দৈত্যের সঙ্গে লড়াই করো।’

‘দৈত্যের গায়ে ভীষণ শক্তি, আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করেও তাকে মারতে পারব না।’

বাহাদুর বলল, ‘আমি দৈত্যের সঙ্গে লড়াই করব।’

বাহাদুরের কথা শুনে সবাই ভীষণ ভয় পেয়ে গেল। বলল, ‘কেন অকারণে নিজের প্রাণটা দেবে। তুমি যেখান থেকে এসেছ সেইখানে চলে যাও।’

বাহাদুর কোনো কথা শুনল না। সেনগরের লোকেদের বলল, ‘তোমরা সবাই ঘুমাও, আজ আমি নগর পাহারা দেব।’

সবাই যে-যার ঘরে চলে গেল। বাহাদুর তলোয়ার নিয়ে নগর পাহারা দিতে লাগল। খানিক পরেই দৈত্য এসে হাজির।

বাহাদুরকে দেখেই চিৎকার করে উঠল, ‘কে রে তুই?’

বাহাদুর গম্ভীর গলায় বলল, ‘আমি ভূটিয়া গ্রামের বাহাদুর। তোর সাথে লড়াই করতে এসেছি।’

দৈত্যের সেকী হাসি, ‘আমার সাথে লড়াই করবি? আয় দেখি তোর কত শক্তি।’

দুইজনে লড়াই শুরু হয়ে গেল। কেউ কারোর চেয়ে কম যায় না। একবার দৈত্য বাহাদুরকে উলটে দেয় তো আর একবার বাহাদুর দৈত্যকে উলটে দেয়।

তিনদিন ধরে লড়াই চলল। ক্রমশ বাহাদুর হাঁপিয়ে পড়ল। বুঝতে পারল আর বেশিক্ষণ দৈত্যের সঙ্গে লড়াই করা সম্ভব নয়। দৈত্যকে দূরে ছিটকে ফেলে দিয়ে দৌড়োতে আরম্ভ করল।

বাহাদুরকে পালাতে দেখে দৈত্য তার পেছনে ছুটতে আরম্ভ করল। দুইজনেই প্রাণপণে দৌড়োতে থাকে। দৈত্য বাহাদুরকে প্রায় ধরে ফেলে আর কী! হঠাৎ বাহাদুরের মনে হল কে যেন তাকে জলার দিকে দৌড়োতে বলল।

পাহাড়ের ডানদিকে ছিল বিরাট জলা, একটুও জল ছিল না সেখানে, শুধুই কাদা। বাহাদুর লাফ দিয়ে পড়ল কাদার মধ্যে। এক পা ডুবে যাওয়ার আগেই আর-এক পায়ে ভর দিয়ে এগিয়ে গেল। এমনিভাবে বেশ কয়েক পা এগিয়ে যেতেই দৈত্য এসে লাফ দিল কাদার মধ্যে। সঙ্গে সঙ্গে তার পা কাদায় আটকে গেল। যতই পা নাড়াচাড়া করে ততই কাদার মধ্যে তার এক পা ডুবে যায়, কিছুতেই আর কাদা থেকে উঠতে পারে না। সেখানেই আটকা পড়ে ছটফট করতে করতে মারা পড়ল দৈত্য।

বাহাদুর দুই পায়ে ভর দিয়ে কাদা থেকে উঠে নগরের লোকদের খবর দিতেই সবাই ছুটে আসে। দ্যাখে কাদার ওপর মরে পড়ে রয়েছে এক-পা-ওলা দৈত্য।

সকল অধ্যায়
১.
ওঝা ও পাহাড়ি ভূত
২.
দুই সূর্য
৩.
মহিষ ও রাখালছেলে
৪.
তিন বন্ধু
৫.
বাঘ মামার কথা
৬.
কুঁজো আর অন্ধ
৭.
দেবতার অভিশাপ
৮.
সাতবোকা
৯.
বাহাদুর আর এক-পা-ওলা দৈত্য
১০.
সাধু ও মহাজন
১১.
চালাক ভোলানাথ
১২.
বামুন আর শেয়াল
১৩.
আকাশপুরীর রাজকন্যা
১৪.
অতি চালাকের গলায় দড়ি
১৫.
তিন জামাই
১৬.
শেয়ালবউ-এর বুদ্ধি
১৭.
শেয়াল আর বোকা বাঘ
১৮.
বুদ্ধিমান চোর
১৯.
শুয়োরের শিং
২০.
রাখালছেলে ও পরির দেশের রাজকন্যা
২১.
তাঁতির কুঁজ
২২.
চার চোর
২৩.
কাঠুরে নাপিত আর রাজকন্যা
২৪.
মহেশ্বর
২৫.
আয়না
২৬.
শেয়াল ও বুড়োবুড়ি
২৭.
এক দাঁত ফোকলা
২৮.
বুদ্ধি থাকলেই উপায় হয়
২৯.
ভীম আর জলদৈত্য
৩০.
চার ভাই
৩১.
সুরের জাদু
৩২.
ভূত ও ভূতনাথ
৩৩.
রসিক রাজু

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%