চঞ্চলকুমার ঘোষ
এক ছিল কুঁজো আর এক অন্ধ। দু-জনের খুব বন্ধুত্ব। দু-জন পথের ধারে বসে ভিক্ষে করত। একদিন কুঁজো বলল, ‘গ্রামে আর ভিক্ষে করে কিছুই পাওয়া যায় না, চল শহরে যাই।’ কুঁজোর কথায় রাজি হয়ে গেল অন্ধ।
পরদিন দু-জনে বেরিয়ে পড়ল। পথের ধারেই ছিল জঙ্গল। তারা যখন সেই জঙ্গলে এসে পৌঁছাল সন্ধে হয়ে গিয়েছে। কুঁজো বলল, ‘আজকের রাতটা এই জঙ্গলে কাটাতে হবে।’
অন্ধ আর কী করে, কুঁজোর কথাতেই মত দিল। দু-জনের কাছে যা খাবার ছিল তাই ভাগ করে খেয়ে গাছতলায় শুয়ে পড়ল।
সেই জঙ্গলে ছিল ডাকাতের আড্ডা, তারা ডাকাতি করে এনে যা পেত সেই জঙ্গলে লুকিয়ে রাখত। কুঁজো গাছের আড়ালে বসে সব দেখল। সকালবেলায় ডাকাতরা চলে যেতেই দু-জনে মিলে মাটি খুঁড়ে সব টাকাপয়সা বের করে নিল। সারাদিন ভিক্ষে করে যা পেত, তাই ভাগ করে খেত।
একসঙ্গে এত টাকাপয়সা দেখে কুঁজোর মাথায় দুষ্টুবুদ্ধি চাপল, ভাবল অন্ধকে যদি মেরে ফেলা যায় তাহলে আর ভাগ দিতে হবে না, আমি একাই সব টাকাপয়সা ভোগ করতে পারব।
কুঁজো সুযোগ খুঁজতে লাগল কেমন করে অন্ধকে মারা যায়। হঠাৎ তার চোখে পড়ল বিরাট একটা গোখরো সাপ মরে পড়ে রয়েছে। কুঁজো সাপটাকে তুলে নিয়ে এল।
অন্ধ তখন ভাত রাঁধবে বলে কাঠ জ্বালাচ্ছিল। কুঁজো একপাত্র জলের মধ্যে সাপটা রেখে আগুনের ওপর বসিয়ে দিল। অন্ধ কিছুই জানতে পারল না। কুঁজো বলল, ‘জল ফুটে উঠলে তুই চাল দিয়ে দিস, আমি স্নান করে আসছি।’
খানিক পরে অন্ধ পাত্রের ঢাকনা খুলতেই গরম ভাপ এসে লাগল তার চোখে-মুখে। সঙ্গে সঙ্গে অদ্ভুত এক কান্ড! অন্ধ চোখ খুলতেই দেখে চারপাশের সবকিছু পরিষ্কার হয়ে গেছে। সব স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে, আনন্দে লাফাতে আরম্ভ করল অন্ধ। হঠাৎ তার নজরে পড়ল যে পাতে জল গরম হচ্ছে তাকে বিরাট একটা মরা সাপ। অন্ধ বুঝতে পারল কুঁজো তাকে মারবার জন্যে খাবার পাত্রে সাপ এনে রেখেছিল।

রাগে নদীর পাড়ে ছুটে গেল অন্ধ। কুঁজো তখন স্নান করছিল। অন্ধ পেছন থেকে এক লাথি মারল তার কুঁজে। লাথি খেয়ে মাটিতে পড়ে গেল কুঁজো, আর সঙ্গে সঙ্গে আর-এক কান্ড, কুঁজ ফেটে গিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়াল কুঁজো।
তখন তাদের যে কি আনন্দ! দু-জনেই দু-জনের কাছে ক্ষমা চেয়ে সব সম্পত্তি ভাগ করে গ্রামে ফিরে গেল। তারপর বিয়ে-থা করে সুখে দিন কাটাতে লাগল।

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন