শেয়ালবউ-এর বুদ্ধি

চঞ্চলকুমার ঘোষ

কদিন ধরেই শেয়ালের শরীর খারাপ। চাষির বাগানে আখ চুরি করতে গিয়ে লাঠির ঘা খেয়ে সেই যে যন্ত্রণা শুরু হয়েছে তা কিছুতেই কমছে না। বউকে বলল, ‘একটা কিছু ব্যবস্থা করো, নইলে আমি আর বঁাচব না।’

শেয়ালবউ কী করবে ভেবে পায় না, একে জিজ্ঞেস করে, তাকে জিজ্ঞেস করে। শেষে এক বুড়ো শেয়াল বলল, ‘পূব-পারের জঙ্গলে এক রকমের গাছ আছে তার পাতার রস লাগিয়ে দিলেই সব ব্যথা সেরে যাবে।’

দুপুরবেলায় ছেলেমেয়েদের ঘুম পাড়িয়ে শেয়ালবউ গেল পুব-পারের জঙ্গলে পাতা আনতে। পাতা নিয়ে ফেরার পথ ধরতেই শেয়ালবউ দেখল জাম গাছের তলায় বসে আছে মস্ত এক বাঘ। ভাঁটার মতো তার চোখ দুটো জ্বলছে আর নিভছে। ভয়েতে বুক শুকিয়ে গেল শেয়ালবউ-এর, ভাবল এখন প্রাণ নিয়ে পালাই কী করে?

বাঘও সারাদিন কিছু খাবার পায়নি। শেয়ালবউকে দেখে যেই হালুম করে লাফ দিয়ে উঠল, শেয়ালবউ হাতজোড় করে বলল, ‘প্রণাম হই শ্বশুরমশাই, আপনি ভালো আছেন?’

শেয়ালবউ শ্বশুরমশাই বলে ডাকতেই বাঘের ভারি গর্ব হল। মাথা নেড়ে বলল, ‘আমি ভালো আছি, তোমাদের খবর কী?’

শেয়ালবউ মুখ কাঁদো-কাঁদো করে বলল, ‘আমার দুঃখের কথা আর কী বলব শ্বশুরমশাই, আপনার ভাগনে শেয়াল আমাকে একটুও শান্তি দেয় না। দিনরাত শুধু ঝগড়া করে আর বলে আমাদের ফেলে রেখে অন্য কোথাও চলে যাবে। এখন আমরা কী করি বলুন? আপনি যদি দয়া করে, এর বিচার করে দেন তাহলে খুব ভালো হয়।’

বাঘ ভাবল ভালোই হল শেয়ালবউকে খেয়ে আমার পেট ভরত না, ওর সঙ্গে গিয়ে শেয়াল আর তার বাচ্চাকাচ্চা সব ক-টাকে খাওয়া যাবে। একটু গম্ভীর হয়ে বলল, ‘তুমি যখন এত করে বলছ, তখন চলো গিয়ে বিচার করেই আসি।’

শেয়ালবউ বলল, তবে আমার সঙ্গে আসুন।

আগে আগে চলল শেয়ালবউ, পেছনে বাঘ। এ-রাস্তা সে-রাস্তা ঘুরে শেয়ালবউ বাড়ির দিকে চলল। বাঘের আর তর সয় না। সেবলল, ‘আর কতদূর, রাস্তা যে ফুরোয় না।’

বাঘ যাতে পরে পথ চিনতে না পারে সেইজন্যে খানিক পথ ঘুরে শেয়ালবউ গর্তের সামনে এসে দাঁড়াল। বাঘকে বলল, ‘শ্বশুরমশাই আমি ঘরে ঢুকি আপনি পেছন পেছন আসুন।’

শেয়ালবউ সুড়ুৎ করে তার গর্তের ভেতরে ঢুকে পড়ল। শেয়ালের গর্ত এত ছোটো যে বাঘ মাথাই গলাতে পারল না। ভেতরে ঢুকেই শেয়ালবউ গর্তের মধ্যে থেকে বলে উঠল, ‘শ্বশুরমশাই, আপনাকে আর কষ্ট করে গর্তে ঢুকতে হবে না। আমাদের সব ঝগড়া মিটে গেছে, আপনি এখন যেতে পারেন। পরে ঝগড়া হলে আপনাকে ডাকব।’

বাঘ আর কী করে, শিকার না পেয়ে হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরে গেল।

সকল অধ্যায়
১.
ওঝা ও পাহাড়ি ভূত
২.
দুই সূর্য
৩.
মহিষ ও রাখালছেলে
৪.
তিন বন্ধু
৫.
বাঘ মামার কথা
৬.
কুঁজো আর অন্ধ
৭.
দেবতার অভিশাপ
৮.
সাতবোকা
৯.
বাহাদুর আর এক-পা-ওলা দৈত্য
১০.
সাধু ও মহাজন
১১.
চালাক ভোলানাথ
১২.
বামুন আর শেয়াল
১৩.
আকাশপুরীর রাজকন্যা
১৪.
অতি চালাকের গলায় দড়ি
১৫.
তিন জামাই
১৬.
শেয়ালবউ-এর বুদ্ধি
১৭.
শেয়াল আর বোকা বাঘ
১৮.
বুদ্ধিমান চোর
১৯.
শুয়োরের শিং
২০.
রাখালছেলে ও পরির দেশের রাজকন্যা
২১.
তাঁতির কুঁজ
২২.
চার চোর
২৩.
কাঠুরে নাপিত আর রাজকন্যা
২৪.
মহেশ্বর
২৫.
আয়না
২৬.
শেয়াল ও বুড়োবুড়ি
২৭.
এক দাঁত ফোকলা
২৮.
বুদ্ধি থাকলেই উপায় হয়
২৯.
ভীম আর জলদৈত্য
৩০.
চার ভাই
৩১.
সুরের জাদু
৩২.
ভূত ও ভূতনাথ
৩৩.
রসিক রাজু

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%