চঞ্চলকুমার ঘোষ
অনেক অনেক দিন আগেকার কথা। পাহাড়ের কোলে এক গ্রাম। সেই গ্রামের নাম তারাং। তারাং গ্রামে থাকত এক বুড়ো চাষি, নাম মুপানার। তার তিন মেয়ে। তিন মেয়েই যেমন সুন্দরী তেমনি গুণের।
মুপানার এত গরিব যে মেয়েদের বিয়ে দিতে পারছে না। খেটেখুটে যা আনত, তা খেতেই শেষ হয়ে যেত। মেয়েদের বিয়ে দেবার মতো পয়সা আর হাতে থাকত না। মাঝে মাঝে খুব চিন্তা হত মুপানার। মেয়েদের বিয়ে দিতে না পারলে পরে তাদের খাওয়াবে-পারবে কে?
মেয়েরা সান্ত্বনা দিয়ে বলত, ‘তুমি চিন্তা করো না বাবা, আমাদের ভাগ্যে যা আছে তাই হবে।’
একদিন মুপানার মাঠে গিয়েছে চাষ করতে। জঙ্গলের ধারেই তার জমি। কাজ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে গাছতলায় এসে বসেছে এমন সময় জঙ্গল থেকে মোটাসোটা চেহারার একটা ভেড়া তার সামনে এসে দাঁড়াল। মুপানারকে নমস্কার করে বলল, ‘আমি জঙ্গলের ভেড়াদের রাজা, ঘরে আমার সব কিছু আছে শুধু কোনো বউ নেই। আপনার বড়োমেয়েকে আমার ভীষণ পছন্দ। আমি তাকে বিয়ে করতে চাই।’
ভেড়ার কথা শুনে মুপানার তো হেসেই অস্থির। ভেড়ার সঙ্গে কি মানুষের বিয়ে হয়?
ভেড়া নাছোড়বান্দা। বলল, ‘আপনার মেয়ের কোনো কষ্ট হবে না। সেরানির মতো থাকবে।’
মুপানার তার কথায় রাজি হল না। পরদিন আবার ভেড়া এসে হাজির। হাতে তার দামি উপহার। মুপানারকে দিয়ে বলল, ‘এটা আপনার মেয়েকে দেবেন।’
মুপানার উপহার নিয়ে গিয়ে বড়ো মেয়েকে দিল। তারপর থেকে রোজ ভেড়া আসে আর একটা করে উপহার দিয়ে যায়। বড়োমেয়ে জিজ্ঞেস করল, ‘বাবা, আমাকে রোজ এত উপহার কে দেয়?’
মুপানার কিছুই বলে না। শেষে একদিন বড়ো মেয়ে বাবার পেছনে লুকিয়ে মাঠে গেল।
দুপুর বেলা ভেড়া এসে উপহার দিয়ে চলে যেতেই বড়োমেয়ে আড়াল থেকে বেরিয়ে এল। বাবার সামনে গিয়ে জিজ্ঞেস করল, ‘বাবা, ওই ভেড়াটা তোমাকে উপহার দিয়ে গেল কেন?’
মুপানার বলল, ‘সেকথা আমি তোকে কিছুতেই বলতে পারব না।’
বড়োমেয়ে জেদ ধরে, ‘না বাবা তোমাকে বলতেই হবে।’
মুপানার অগত্যা সব কথা খুলে বলল। বড়োমেয়ে বলল, ‘তুমি চিন্তা করো না বাবা, কাল ভেড়াকে বাড়িতে আসতে বলো।’
পরদিন মুপানার ভেড়াকে বাড়িতে নিয়ে এল। বড়োমেয়ে ভেড়ার সঙ্গে কথা বলে খুব খুশি। মুপানারকে বলল, ‘বাবা, তুমি আমাদের বিয়ের ব্যবস্থা করো।’
মুপানার আর কী করে! ভেড়ার সঙ্গেই মেয়ের বিয়ে দিল। কয়েকদিন শ্বশুরবাড়ি থেকে ভেড়া তার বউকে নিয়ে জঙ্গলে তার নিজের বাড়িতে চলে গেল। সেখানে বড়োমেয়ে সুখেই ঘরকন্না করতে থাকে।
তাদের বিয়ের খবর সারা জঙ্গলে ছড়িয়ে পড়ল। একদিন ভেড়া তার বউ-এর সঙ্গে বসে গল্প করছে এমন সময় বাইরে থেকে কেউ তার নাম ধরে ডাকে। ভেড়া বাইরে এসে দেখে অল্পবয়সি একটা শেয়াল।
ভেড়াকে দেখেই বলল, ‘শুনলাম তুমি নাকি সুন্দরী বউ নিয়ে এসেছ?’
ভেড়া সব কথা বলতেই শেয়াল তার হাত ধরে বলল, ‘ভাই, তুমি আমার জন্যেও এমন একটা বউ জোগাড় করে দাও।’
ভেড়া বলল, ‘আমার শ্বশুরমশাই-এর দুটো মেয়ে আছে, তুমি গিয়ে তাকে বলো, হয়তো তোমার সঙ্গে তার বিয়ে দিতে পারেন।’
শেয়াল খুশি হয়ে সেজেগুজে জঙ্গলের ধারে মুপানারের খেতের পাশে গিয়ে দাঁড়াল। দুপুরবেলায় কাজ শেষ করে মুপানার বাড়ি ফেরবার পথ ধরতেই শেয়াল হাতজোড় করে তার সামনে এসে দাঁড়াল। আচমকা সামনে শেয়ালকে দেখে ভয় পেয়ে গেল মুপানার।
শেয়াল তাড়াতাড়ি বলল, ‘ভয় পাবেন না, আমি আপনার বড়োজামাই-এর কাছ থেকে আসছি।’
বড়োজামাই-এর কথা শুনতেই ভয় কেটে গেল মুপানারের। শেয়ালকে বলল, ‘আমার মেয়ে-জামাই কেমন আছে?’
শেয়াল বলল, ‘তারা সবাই ভালো আছে। আমি এসেছি আপনার মেজোমেয়েকে বিয়ে করব বলে।’
শেয়ালের কথা শুনে ঘাবড়ে গেল মুপানার। পাছে না বললে শেয়াল রেগে যায় তাই আমতা-আমতা করে বলল, ‘ঠিক আছে বাড়িতে গিয়ে মেয়েকে জিজ্ঞেস করে দেখি।’
শেয়াল বলল, ‘ঠিক আছে, কাল আমি আবার আসব।’
মুপানার বাড়িতে গিয়ে কারো সঙ্গে কথা বলে না, খায় না। মেজোমেয়ে বলল, ‘তোমার কী হয়েছে বাবা?’
মুপানার বলল, ‘এক শেয়াল তোকে বিয়ে করেত চায়। কাল সেআবার আসবে বলেছে।’
মেজোমেয়ে বলল, ‘তুমি তাকে আসতে বলো।’
পরদিন মুপানার শেয়ালকে বাড়িতে নিয়ে এল। মেজোমেয়ে তার সঙ্গে কথাবার্তা বলে মুপানারকে বলল, ‘বাবা, তুমি আমাদের বিয়ের ব্যবস্থা করো।’
মুপানারের ইচ্ছে ছিল না শেয়ালের সঙ্গে মেয়ের বিয়ে দেয় কিন্তু কী আর করে। তাদের বিয়ে দিয়ে দিল। বিয়ে হয়ে গেলে শেয়াল তার বউকে নিয়ে চলে গেল জঙ্গলে।
শুধু মুপানারের ছোটোমেয়ে রয়ে গেল। বুড়ো-বুড়ি ভাবে, কবে তাদের ছোটোমেয়ের বিয়ে হবে।
একদিন শেয়াল গাছের তলায় বসে ছিল তার নজরে পড়ল উপরের ডালে একটা ঈগল বসে আছে। শেয়াল তার সঙ্গে ভাব করে গল্পগুজব শুরু করে দিল। ঈগলের কথাবার্তা শুনে ভালো লাগল শেয়ালের। মুপানারের ছোটোমেয়েকে বিয়ের কথা বলতেই রাজি হয়ে গেল ঈগল।
মুপানার এবার আর আপত্তি করল না। ঈগলের সঙ্গে তার ছোটোমেয়ের বিয়ে হয়ে গেল। ঈগল তাকে নিয়ে পাহাড়ের গুহায় চলে গেল। তিন মেয়ের বিয়ে দিয়ে সুখেই দিন কাটে মুপানার আর তার বউ-এর। মাঝে মাঝে জামাইরা আসে, কত কিছু উপহার দিয়ে যায়।
একদিন বউ মুপানারকে বলল, ‘তুমি তো তিন মেয়ের বিয়ে দিলে, তারা কে কেমন আছে একবার গিয়ে খোঁজ নিয়ে এসো।’
মুপানার বলল, ‘তুমি ঠিক বলেছ, আমি কালই বড়োমেয়ের বাড়ি যাব।’ পরদিন সকাল হতেই মুপানার বেরিয়ে পড়ল। দুপুরবেলায় গিয়ে পৌঁছাল বড়োমেয়ের বাড়ি।
বাবাকে দেখেই মেয়ে ছুটে এল। ভেড়া যত্ন করে তাকে ঘরে নিয়ে গেল। মুপানার ভেবেছিল তার মেয়ে বোধহয় খুব দুঃখকষ্টে আছে। ঘরে ঢুকেই তো অবাক! কত ভালো ভালো জিনিস চারদিকে ছড়ানো। মুপানার কোনোদিন সেসব জিনিস চোখেই দেখেনি। নরম গদিতে গিয়ে বসতেই নানা রকমের খাবার নিয়ে এল ভেড়া। কী সুন্দর তার স্বাদ।
মুপানার ভেবেছিল একদিন থেকেই চলে যাবে। কিন্তু মেয়ে-জামাই-এর যত্নে সেখান থেকে যেতে আর মন চাইছিল না। আরও কয়েকদিন রয়ে গেল সেখানে।
মুপানার কিছুতেই বুঝতে পারছিল না ভেড়া কোথা থেকে এত জিনিস পায়। মেয়েকে জিজ্ঞেস করল। মেয়ে প্রথমে কিছুতেই বলতে চায় না। শেষে বাবাকে ভেতরের একটা ঘরে নিয়ে গেল। সেখানে মস্ত বড়ো একটা পাথর পড়েছিল। মেয়ে বলল, ‘যখন আমাদের কোনো কিছু দরকার হয়, তখন তোমার জামাই এই পাথরে মাথা ঠুকে চাইলেই তা পেয়ে যাই।’
মুপানার আর কিছু বলল না। পরদিন মেয়ে-জামাই এর কাছ থেকে অনেক কিছু জিনিস নিয়ে বাড়ি ফিরে এল। বাড়িতে বউ তার জন্যে অপেক্ষা করছিল। মুপানার সব উপহার রেখে বউকে বলল, ‘এবার থেকে আমরা যা চাইব তাই পাব।’
চাষিবউ তো মুপানারের কথা শুনে অবাক। কিছুতেই তার কথা বিশ্বাস করেত পারে না। মুপানারের ভ্রূক্ষেপ নেই। দরজার বাইরে বিরাট একটা পাথর পড়ে ছিল। অনেক কষ্টে মুপানার সেই পাথরখানা ঘরের মধ্যে এনে দরজা বন্ধ করে দিল।
বউ বলল, ‘এই পাথর দিয়ে কী হবে?’

মুপানা বলল, ‘আমরা এই পাথরের কাছে যা চাইব তাই পাব। দ্যাখো কত খাবার নিয়ে আসি।’
বউ কিছু বলবার আগেই মুপানার ছুটে গিয়ে সজোরে মাথা ঠুকল পাথরের ওপর। সঙ্গে সঙ্গে মাথা ফেটে রক্তগঙ্গা। সেরক্ত আর সহজে বন্ধ হয় না। পুরো এক মাস লাগল সেই ফাটা সারাতে।
মুপানার সুস্থ হতেই বউ বলল, ‘অনেকদিন মেজোমেয়ের কোনো খবর পাইনি, তুমি একদিন ঘুরে এসো।’
মুপানারের মেয়ের জন্যে মন কেমন করছিল। একদিন খাবার-দাবার পোঁটলায় বেঁধে রওনা হল মেয়ের বাড়ি। দূর থেকে মুপানারকে আসতে দেখেই শেয়াল আর মেজো মেয়ে ছুটে এল। মেয়েকে দেখে মুপানার খুব খুশি। শেয়াল আদর-যত্ন করে তাকে বাড়ি নিয়ে এল। কিছুক্ষণের মধ্যেই তার জন্যে ভালো ভালো খাবার এসে গেল। এমন খাবার কোনোদিন খায়নি মুপানার।
সাতদিন রয়ে গেল মেয়ের বাড়ি। প্রতিদিন মুপানার ভাবে মেয়ে তার এত ভালো ভালো খাবার কোথায় পায়? জিজ্ঞেস করতেই মেয়ে রান্নাঘরে নিয়ে গেল। সেখানে মস্ত একটা উনুন জ্বলছিল। তার ওপর একটা পেতলের কড়াই।
মেজোমেয়ে বলল, ‘যখন কিছু দরকার হয় তখন শেয়াল এই কড়াই-এ মুখ রেখে বললেই কড়াই-এর মধ্যে জিনিস এসে যায়।’
মুপানার আর কিছুই বলল না। পরদিন বাড়ির দিকে রওনা হল। শেয়াল মস্ত একটা পোঁটলা করে নানান খাবার দিয়ে দিল। বাড়ি এসেই মুপানার সোজা রান্নাঘরে ঢুকে পড়ল। বউ রান্না করছিল। মুপানার তাকে সরিয়ে দিয়ে বড়ো কড়াইটা উনুনে চাপিয়ে দিল।
মুপানারের ব্যাপার-স্যাপার দেখে তার বউ তো অবাক। মুপানারকে জিজ্ঞেস করল, ‘কী রান্না করবে তুমি?’
মুপানার তার বউ-এর কথার জবাব না দিয়ে কড়াই গরম করতে আরম্ভ করল। কড়াই টকটকে লাল হতেই মুপানার এগিয়ে গেল। তার লম্বা সাদা দাড়ি। কড়াই-এর ছোঁয়া লাগতেই পড়পড় করে পুড়ে গেল সব দাড়ি।
বউ ভাবল মুপানারের মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছে। তাড়াতাড়ি গিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরতেই মুপানার হাউমাউ করে কেঁদে উঠল। ‘আমার সব দাড়ি পুড়ে গেল, সব দাড়ি পুড়ে গেল।’
বুড়ি অনেক কষ্টে তাকে শান্ত করল। তারপর সব শুনে বুড়ির সেকী হাসি। কিন্তু দাড়ি হারিয়ে বুড়োর এত মন খারাপ হয়ে গেল, যে এক সপ্তাহ আর ঘর থেকেই বেরোল না।
মুপানারের মন ভালো হতেই বুড়ি বলল, ‘এবার একদিন ছোটোমেয়ের বাড়ি থেকে ঘুরে এসো। দুই মেয়ের খবর নিয়ে এলে, ছোটো মেয়ের তো কোনো খবর পেলাম না।’
মুপানার বলল, ‘ঠিক আছে কালই যাব।’
গ্রাম থেকে ছোটোমেয়ের বাড়ি তিনদিনের পথ। মুপানার মাঠ-জঙ্গল পার হয়ে পাহাড়ের চূড়ায় এসে পৌঁছাল। তার ছোটো মেয়ে ঘুমোচ্ছিল। মুপানার গিয়ে দরজা নাড়তেই ছোটোমেয়ে বেরিয়ে এল। দাড়ি ছাড়া বাবাকে দেখে প্রথমে চিনতেই পারে না ছোটোমেয়ে। মুপানার কথা বলতেই বাবাকে চিনতে পারল।
আদর করে ঘরে নিয়ে গেল। খানিক পরে ঈগল এসে হাজির। শ্বশুরকে দেখে ঈগলের খুব আনন্দ। এখান থেকে ওখান থেকে অনেক কিছু খাবার জোগাড় করে নিয়ে আসে। মুপানার ভেবেছিল একদিন থাকবে। মেয়ে-জামাই-এর যত্নে সাতদিন রয়ে গেল।
মুপানার যাবার তোড়জোড় করতেই ঈগল বলল, ‘বাবা, আপনার আর দুই জামাই আপনাকে অনেক কিছু দিয়েছে, আমার সেইরকম কিছু দেবার নেই। ভগবান শুধু উড়বার ক্ষমতা দিয়েছে। আপনি আমার পিঠে চেপে বসুন আমি আপনাকে সারা পৃথিবী ঘুরিয়ে দেখাব।’
মুপানারের খুব আনন্দ। ঈগলের পিঠে চেপে শক্ত করে দড়ি দিয়ে নিজেকে বেঁধে নিল। ঈগল পাহাড়ের ওপর থেকে উড়তে শুরু করল। নীচে চোখের সামনে একের পর এক ভেসে উঠতে থাকে কত মাঠ, জঙ্গল, গ্রাম, নগর, নদী, বাড়িঘর, রাজপ্রাসাদ, মন্দির।
মুপানারের খুব আনন্দ। সারাদিন আকাশে উড়ে বিকেলবেলায় তার গ্রামের কাছে এনে ঈগল মুপানারকে নামিয়ে দিল। বাড়িতে ফিরে আসতেই বউ জিজ্ঞেস করল, ‘ছোটোমেয়ে কেমন আছে?’
মুপানার বলল, ‘মেয়ে ভালো আছে। এবার তোমার ছোটোজামাই আমাকে এমন জিনিস দেখাল, সেরকম কেউ দেখাতে পারবে না।’
বউ জিজ্ঞেস করল, ‘ছোটোজামাই আবার তোমাকে কী দেখাল?’
মুপানার মাথা নেড়ে বলল, ‘সেতোমায় বলছি না, আগে জিনিসটা তৈরি করি তারপর তোমাকে দেখাব।’
মুপানার হাট থেকে দড়ি, কাপড়, বঁাশ কিনে নিয়ে এল। বউ মুপানারের কান্ড দেখে বলল, ‘আগের দু-বার মেয়ের বাড়ি থেকে ঘুরে এসে মাথা ফাটালে, দাড়ি পোড়ালে এবার আবার কী করবে?’
মুপানার বউ-এর কথার কোনো জবাব দিল না। জিনিসপত্র নিয়ে পাখা তৈরির কাজ আরম্ভ করে দিল। কয়েকদিনের মধ্যেই দুটো সুন্দর পাখা তৈরি করে ফেলল মুপানার। ঠিক ঈগলের পাখার মতো দেখতে। তারপর বউকে ডেকে বলল, ‘এইবার তোমাকে পৃথিবী ঘুরিয়ে দেখাব।’
বউ প্রথমে কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছিল না। মুপানার সব কথা বলতেই বউ-এর বিশ্বাস হল। মুপানার পিঠে শক্ত করে ডানা দুটো বেঁধে বউকে নিয়ে চলল পাহাড়ে। মুপানারের বাড়ির কাছেই ছিল ছোটো একটা পাহাড়। দু-জনে পাহাড়ে গিয়ে উঠল।
চারদিক ঝলমল করছে রোদ। অল্প অল্প হাওয়া বইছে। মুপানার বউকে বলল, ‘তুমি আমাকে শক্ত করে ধরবে আর আমি আকাশে উড়ব।’
নীচের দিকে তাকাতেই বউ-এর কেমন ভয় ভয় করতে থাকে, যদি আমরা পড়ে যাই?
মুপানার বউকে সাহস দিয়ে বলল, ‘তোমার কোনো ভয় নেই আমি তো একবার উড়ে এসেছি।’
বউ-এর একটু সাহস হল। মুপানারকে জড়িয়ে ধরতেই মুপানার পাহাড় থেকে ঝাঁপ মারল। সোঁ সোঁ করে তারা নীচে নামতে আরম্ভ করল। মুপানার চেষ্টা করল বাতাসে ডানা ভাসাতে। চেষ্টা করেও ডানা ভাসাতে পারল না।
দু-জনে একসাথে ছিটকে পড়ল মাটিতে। আর তাদের আকাশে ওড়া হল না।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন