রাখালছেলে ও পরির দেশের রাজকন্যা

চঞ্চলকুমার ঘোষ

পাহাড়-জঙ্গলের কোল বেয়ে বয়ে চলেছে ছোট্ট একটা নদী। তার তীর ধরে এগিয়ে গেলেই ঘন সবুজ মাঠ। সেখানে রোজ জমিদারের গোরুর পাল নিয়ে আসে রাখালছেলে। তার ঝুলিতে থাকে খাবার, কোমরে বঁাশি।

সবুজ মাঠে গোরুর পাল ছেড়ে দেয় রাখাল। সারাদিন তারা চরে বেড়ায় আর রাখালছেলে পাহাড়ে উঠে মস্ত এক পাথরে হেলান দিয়ে বঁাশি বাজায়। তার বঁাশির মধুর সুরে আকাশ-বাতাস ভরে ওঠে।

সেই পথে আকাশ বেয়ে মাঝে মাঝে উড়ে যেত পরির দল, সাত সাগর পেরিয়ে বহু দূরে আছে এক দ্বীপ। সেখানে পাওয়া যায় গজমোতির মালা, পরিরা সেখানে খেলা করে, গলায় পরে মালা, তারপর আবার উড়ে যায় মেঘের রাজ্যে।

একদিন সকাল থেকে আকাশ মেঘলা। গোরুর পাল মাঠে চরে বেড়াচ্ছিল। রাখালছেলে পাথরে হেলান দিয়ে বঁাশি বাজাচ্ছিল। সেই সময় সেইখান দিয়ে উড়ে যাচ্ছিল পরির দেশের রাজকন্যা। বঁাশির সুর কানে আসতেই থমকে দাঁড়িয়ে পড়ল। মেঘের ফাঁক দিয়ে চেয়ে দেখল, এক রাখাল ছেলে বঁাশি বাজাচ্ছে। কী অপূর্ব তার বঁাশির সুর। মেঘের বুক থেকে বাতাসে ভেসে নীচে নেমে এল পরি।

রাখালছেলে পরিকে দেখে অবাক! বঁাশি থামিয়ে বলল, ‘কে তুমি?’

পরি রাখালছেলের সামনে এসে হাসিমুখে বলল, ‘আমি পরির দেশের রাজকন্যা। তুমি বঁাশি থামালে কেন?’

রাখালছেলে কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছিল না, পরির দেশের রাজকন্যা তার সুর শুনে স্বর্গ থেকে নেমে এসেছে পৃথিবীতে।

রাজকন্যা বলল, ‘কী হল তুমি বঁাশি বাজাও?’

রাজকন্যার ডাকে আবার বঁাশি তুলে নিল রাখালছেলে। সুরে সুরে ভরে উঠল চারদিক। তন্ময় হয়ে গেল রাজকন্যা। হঠাৎ মেঘের ডাকে চমকে উঠল দু-জন। রাখালছেলে তাড়াতাড়ি বঁাশি থামিয়ে বলল, ‘আজ আমি যাই, একটু পরেই বৃষ্টি নামবে।’

পরির দেশের রাজকন্যা বলল, ‘আমার যে তোমার বঁাশির সুর শোনা হল না।’

রাখালছেলে বলল, ‘তুমি কাল এসো, আমি সারাদিন তোমাকে বঁাশি শোনাব।’

পরদিন সকাল বেলায় আবার তার গোরুর পাল নিয়ে মাঠে আসে রাখালছেলে। সকালের আলোয় চারদিক ঝলমল করছে। রাখালছেলে পাহাড়ের গায়ে হেলান দিয়ে চুপচাপ বসে ভাবে কখন পরির দেশের রাজকন্যা আসবে। বেলা হতেই রঙিনপাখা মেলে উড়ে আসে পরি। মাটিতে নেমেই সেরাখালছেলেকে বলল, ‘আজ সারা সকাল তোমার বঁাশি শুনব তারপর যাব সাগরের কূলে গজমোতির মালা আনতে।’

রাখালের বঁাশির সুরে কখন যে বেলা শেষ হয়ে যায় হুঁশ থাকে না রাজকন্যার। রাখালছেলে তার বঁাশি বাজিয়েই চলেছে। বিকেল হতেই পাহাড়ের কোলে জড়ো হতে থাকে গোরুর পাল। তারা হাম্বা হাম্বা করে ডাকতেই রাখালছেলে নীচের দিকে চেয়ে বলল, ‘সন্ধ্যে হয়ে এল রাজকন্যা, তুমি গজমোতির মালা আনতে যাবে না?’

রাজকন্যার চমক ভাঙল। চারদিকে তাকিয়ে বলল, ‘তাই তো, তোমার বঁাশি শুনতে শুনতে কখন যে দিন শেষ হয়ে গেছে খেয়াল করিনি। কাল আগে যাব সাগরের কূলে, সেখান থেকে গজমোতির মালা নিয়ে তারপর আসব তোমার কাছে।’

রাজকন্যা আকাশে পাখা মেলতেই রাখালছেলে গোরুর পাল নিয়ে ফিরে চলল গ্রামে। জমিদারের গোরুর পাল ঠিক সময়ে নিয়ে গিয়ে পৌঁছে দিতে হবে তার গোয়ালে।

পরদিন কোনো কিছুতেই মন নেই রাখালছেলের। গোরুর পাল মাঠে ছেড়ে দিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে কখন পরির দেশের রাজকন্যা আসবে। সকাল, দুপুর পার হয়ে গেল। হঠাৎ রাখালছেলে দেখল তার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে পরির দেশের রাজকন্যা। তার গলায় গজমোতির মালা ঝলমল করছে। রাখালছেলে বলল, ‘রাজকন্যা, তুমি এত দেরি করে এলে, আমার যে ফিরবার সময় হল।’

রাজকন্যা বলল, ‘এত তাড়াতাড়ি? আজ যে তোমার বঁাশি শোনা হল না।’

রাখালছেলে আর কী করে। আবার নতুন করে সুর ধরল। সন্ধে হল, রাত বেড়ে চলল। এদিকে জমিদারের লোকজন ভাবল কী হল আজ রাখালছেলের। এত রাত হয়ে গেল গোরু নিয়ে ফিরল না, এমন তো কোনোদিন হয় না।

সবাই গিয়ে বলল জমিদারের কাছে। জমিদার তখন তাকিয়ায় হেলান দিয়ে বসেছিলেন। সব শুনতেই হাউমাউ করে কেঁদে উঠলেন, ‘ওরে আমার সব গোরু নিয়ে পালিয়ে গেল রাখাল, ওরে তোরা আর দেরি করিস না। যেখান থেকে পারিস তাকে বেঁধে নিয়ে আয়।’

জমিদারের লোকজন ভয়ে ভয়ে বলল, ‘এই রাতের বেলায় কি তাকে খুঁজে পাব, তার চেয়ে ভোর হলেই আমরা সবাই মিলে বেরিয়ে পড়ব।’

সঙ্গে সঙ্গে জমিদার চেঁচিয়ে উঠল, ‘না না, তোদের কোনো কথা আমি শুনতে চাই না। আজ রাতেই তাকে ধরে আনা চাই। মনের সুখে তাকে চাবুকপেটা না করলে সারারাত আমার ঘুম হবে না।’

জমিদারের লোকেরা আর কী করে। বাধ্য হয়ে লণ্ঠন আর মোটা মোটা লাঠি নিয়ে বেরিয়ে পড়ল রাখালের খোঁজে। রাখালছেলে তখন পাথরের গায়ে হেলান দিয়ে বঁাশি বাজাচ্ছিল। তার পায়ের কাছে বসেছিল রাজকন্যা। হঠাৎ দূর থেকে জমিদারের লোকজনের চিৎকার চেঁচামেচি ভেসে আসতেই দু-জনে চমকে উঠল। রাখালছেলে ভয়ে ভয়ে বলল, ‘ওরা নিশ্চয়ই জমিদারের লোকজন, আমাকে খুঁজতে বেরিয়েছে। অনেক রাত হয়ে গিয়েছে। আজ তুমি যাও, এখনি আমাকে সব গোরু নিয়ে ফিরে যেতে হবে।’

রাজকন্যা উঠে দাঁড়িয়ে বলল, ‘আমি আবার কাল আসব।’

রাখালছেলে রাজকন্যার দিকে তাকিয়ে বলল, ‘আমি তোমার জন্যে অপেক্ষা করব।’

ততক্ষণে জমিদারের লোকজন চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা গোরুর পাল জড়ো করতে করতে পাহাড়ের কোলে এসে দাঁড়িয়েছে। চাঁদের আলোয় মুখ তুলতেই তারা দেখল রাখাল ছেলে বঁাশি হাতে আকাশের দিকে চেয়ে আছে। জমিদারের লোকজন তর তর করে উঠে গেল পাহাড়ে। একজন চেঁচিয়ে উঠল, ‘আমরা চারদিকে তোকে খুঁজে বেড়াচ্ছি আর তুই সব গোরু ছেড়ে দিয়ে এখানে বসে বঁাশি বাজাচ্ছিস। চল জমিদারের কাছে, জমিদারবাবু তোর মজা দেখাবেন।’

ভয়ে ভয়ে রাখালছেলে গোরুর পাল নিয়ে চলল জমিদারের বাড়ি। গোয়ালে গোরু রেখে জমিদারের সামনে এসে দাঁড়াতেই জমিদার রাগে চিৎকার করে উঠল, ‘এত রাত অবধি কোথায় ছিলি হারামজাদা?’

পাশ থেকে একজন বলল, ‘পাহাড়ে বসে বঁাশি বাজাচ্ছিল।’

রাগে গর গর করে উঠলেন জমিদার। গোরু ছেড়ে রাতদুপুর অবধি বঁাশি বাজাচ্ছিলি। এদিকে চিন্তায় চিন্তায় আমাদের চোখে ঘুম নেই। দাঁড়া এইবার তোর বঁাশি বাজাবার শখ জন্মের মতো মিটিয়ে দিচ্ছি।

দেয়ালে টাঙানো ছিল মস্ত বড়ো একটা চাবুক। সেই চাবুক পেড়ে নিয়ে জমিদার ঝাঁপিয়ে পড়লেন রাখালছেলের ওপর। সপাং সপাং করে চাবুকের ঘা পড়তে থাকে রাখালের পিঠের ওপর। রাখাল চিৎকার করে উঠল। তার পিঠ কেটে রক্ত ঝরতে থাকে। মার খেতে খেতে অজ্ঞান হয়ে পড়ল রাখাল। জমিদার হাতের চাবুক দূরে ছুড়ে ফেলে দিয়ে দারোয়ানকে বললেন, ‘এখান থেকে রাখালকে তুলে নিয়ে কয়েদখানায় রেখে দিয়ে আয় আর কাল থেকে নতুন রাখাল আমার গোরু চরাবে।’

জমিদারের লোকজন রাখালকে তুলে নিয়ে কয়েদখানায় রেখে দিয়ে এল। দিনের বেলায় কেউ সেখানে আসে না। রাত হলেই সেখানে আসে এক বুড়ি দাসি। রাখালকে সেখুব ভালোবাসে। ওষুধ এনে তার সারা গায়ে মাখিয়ে দেয়। গরম দুধ আর খাবার খাইয়ে দেয়। বুড়ির যত্নে আস্তে আস্তে রাখাল ভালো হয়ে উঠল।

ওদিকে পরির দেশের রাজকন্যা রাখালের বঁাশি শোনবার জন্য আকাশে পাখা মেলে উড়ে বেড়ায়। কোথায় রাখাল? চেয়ে দ্যাখে তার জায়গায় অন্য একজন রাখাল গোরু চরাচ্ছে। মন খারাপ হয়ে যায় পরির দেশের রাজকন্যার। একদিন, দু-দিন, তিনদিন আসে রাখালছেলের বঁাশির সুর শোনবার জন্য কোথায় রাখালছেলেকে খুঁজে পায় না।

সে তখন কয়েদখানায় শুয়ে শুয়ে স্বপ্ন দ্যাখে রাজকন্যার। রাজকন্যা যেন পাখা মেলে দিয়ে উড়ে এসেছে তার কাছে। চোখ খুলতেই কয়েদখানার গরাদের ফাঁক দিয়ে শুধু একফালি আকাশ চোখে পড়ে। রাজকন্যার জন্যে তার বুকের ভেতরটা হু-হু করে।

দেখতে দেখতে দশটা দিন কেটে গেল। বুড়ি দাসি গিয়ে জমিদারগিন্নিকে বলল, ‘মা তুমি একটিবার জমিদারবাবুকে বলো রাখালছেলেকে ছেড়ে দিতে। ছেলেমানুষ ভুল করে ফেলেছে।’

জমিদারের বউ গিয়ে জমিদারকে বলতেই তার কী মনে হল কে জানে নায়েবকে ডেকে বললেন, ‘ছেড়ে দাও রাখালকে, এবার থেকে ও মাঠের কাজ করবে।’

কয়েদখানা থেকে ছাড়া পেয়ে রাখাল তার বঁাশি নিয়ে বাইরে এসে দাঁড়াল। চারদিকে রোদ ঝলমল করছে। গাছে গাছে পাখিরা ডাকছে। রাখালছেলের মনে হল হয়তো তার জন্যে রাজকন্যা অপেক্ষা করছে। মাঠ পার হয়ে নদীর ধার দিয়ে পাহাড়ের কোলে এসে দাঁড়াল। দূরের মাঠে চরে বেড়াচ্ছে গোরুর পাল। গাছের পাতায় পাতায় বাতাসের শব্দ। কলকল করে বয়ে চলেছে নদী। কোথাও তো পরির দেশের রাজকন্যা নেই। দোয়েল পাখিকে ডেকে রাখালছেলে বলল, ‘দোয়েল, তুমি কি আমার রাজকন্যাকে দেখেছ?’

দোয়েল বলল, ‘দেখেছি রাখালছেলে। তোমার খোঁজে সেরোজ আসত, আকাশে আকাশে উড়ে বেড়াত তারপর আর তার খবর জানি না।’

তাহলে নিশ্চয়ই আজ সেআসবে।

দোয়েল বলল, ‘তুমি বঁাশি বাজাও, নিশ্চয় সেআসবে।’

‘তুমি ঠিক বলেছ দোয়েল, আমি বঁাশি বাজাব, আমার বঁাশির সুরেই সেআসবে।’

রাখালছেলে তাঁর বঁাশিতে সুর ধরে। সুরে সুরে চারদিক ভরে ওঠে। রাজকন্যা আর আসে না। বেলা বেড়ে চলে। রাখাল তার বঁাশি থামিয়ে আকাশের দিকে চেয়ে থাকে। দিন শেষ হয়। গোরুর পাল নিয়ে ফিরে চলে জমিদারের নতুন রাখাল। সেরাখালছেলের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘সন্ধে যে হয়ে এল, তুমি ঘরে যাবে না?’

রাখাল বলল, ‘তুমি যাও, আমি পরে যাব।’

নতুন রাখাল গোরুর পাল নিয়ে ফিরে যায়। চারদিক অন্ধকার হয়ে আসে। রাখালছেলে সব ভুলে আবার বঁাশির সুর তোলে। তার মনে হয় নিশ্চয়ই রাজকন্যা আসবে।

দু-দিন দু-রাত কেটে গেল। রাখালছেলে পাগলের মতো ঘুরে বেড়ায়। সামনে যাকে দ্যাখে তাকেই বলে, ‘তোমরা কি আমার রাজকন্যাকে দেখেছ?’

সবাই ভাবে রাখাল পাগল হয়ে গিয়েছে। রাখালের ভ্রূক্ষেপ নেই। ক্লান্ত দেহ, জামাকাপড় ছিঁড়ে গিয়েছে। চোখ দুটো গর্তে ঢুকে গেছে। মাথার ওপর রোদ ঝরে পড়ে। কখনো ঘন কালো মেঘের বুক থেকে বৃষ্টি ঝরে। রাখালছেলের বঁাশির সুরে সমস্ত প্রকৃতি কাঁদতে থাকে।

ধীরে ধীরে রাখালের সব শক্তি শেষ হয়ে আসে। সেবুঝতে পারে তার সময় শেষ হয়ে এসেছে। পাহাড়ের কোলে বড়ো পাথরটার সামনে এসে দাঁড়াল। শেষবারের মতো আকাশের দিকে তাকিয়ে বঁাশিতে সুর তুলল, তারপরই মাটিতে লুটিয়ে পড়ল তার প্রাণহীন দেহটা।

আকাশ, বাতাস, গাছপালা, বনের পশুপাখি সবাই হা-হা করে উঠল, আর আমরা কোনোদিন রাখালছেলের বঁাশির সুর শুনতে পাব না। কিন্তু হঠাৎ কোথা থেকে বাতাসে ভেসে এল সেই বঁাশির সুর, সবাই চমকে উঠল। কে বঁাশি বাজায়?

দোয়েল পাখি বলল, ‘ও রাখালের বঁাশির সুর, ওই সুরে সুরে এখনো সেখুঁজে বেড়াচ্ছে তার পরির দেশের রাজকন্যাকে।’

সকল অধ্যায়
১.
ওঝা ও পাহাড়ি ভূত
২.
দুই সূর্য
৩.
মহিষ ও রাখালছেলে
৪.
তিন বন্ধু
৫.
বাঘ মামার কথা
৬.
কুঁজো আর অন্ধ
৭.
দেবতার অভিশাপ
৮.
সাতবোকা
৯.
বাহাদুর আর এক-পা-ওলা দৈত্য
১০.
সাধু ও মহাজন
১১.
চালাক ভোলানাথ
১২.
বামুন আর শেয়াল
১৩.
আকাশপুরীর রাজকন্যা
১৪.
অতি চালাকের গলায় দড়ি
১৫.
তিন জামাই
১৬.
শেয়ালবউ-এর বুদ্ধি
১৭.
শেয়াল আর বোকা বাঘ
১৮.
বুদ্ধিমান চোর
১৯.
শুয়োরের শিং
২০.
রাখালছেলে ও পরির দেশের রাজকন্যা
২১.
তাঁতির কুঁজ
২২.
চার চোর
২৩.
কাঠুরে নাপিত আর রাজকন্যা
২৪.
মহেশ্বর
২৫.
আয়না
২৬.
শেয়াল ও বুড়োবুড়ি
২৭.
এক দাঁত ফোকলা
২৮.
বুদ্ধি থাকলেই উপায় হয়
২৯.
ভীম আর জলদৈত্য
৩০.
চার ভাই
৩১.
সুরের জাদু
৩২.
ভূত ও ভূতনাথ
৩৩.
রসিক রাজু

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%