আকাশপুরীর রাজকন্যা

চঞ্চলকুমার ঘোষ

রাজপুত্র, মন্ত্রীপুত্র আর কারিগরপুত্র। তিনজনের খুব ভাব। সবসময় একসঙ্গে থাকে, খায়-দায়, লেখাপড়া করে, শরীরচর্চা করে, আরও কত কিছু শেখে। তিনজনেরই যেমন শক্তি, তেমনি সাহস।

একদিন রাজপুত্র বলল, ‘আমি দেশভ্রমণে যাব।’ মন্ত্রীপুত্র আর কারিগরপুত্র সেকথা শুনে বলল, ‘আমরাও তোমার সাথে যাব।’ বাবা-মার অনুমতি নিয়ে তিনজনে বেরিয়ে পড়ল।

যেতে যেতে তারা জঙ্গলের ধারে ভারি সুন্দর এক জায়গায় এসে পৌঁছাল। রাজপুত্র বলল, ‘আমরা এখানেই রাতটা কাটাব।’

কারিগরপুত্র বলল, ‘তোমরা স্নান করে এসো, আমি রান্নার আয়োজন করি।’

রাজপুত্র আর মন্ত্রীপুত্র চলে গেল। কারিগরপুত্র যেই-না আগুন জ্বালিয়ে রান্না শেষ করেছে, এমন সময় কোথা থেকে হাজির হল এক দৈত্য। যেমন ভয়ংকর তার চেহারা তেমনি বিকট তার গর্জন। কারিগরপুত্রের সামনে এসে বলল, ‘কে তুই আমার রাজ্যের সীমানায় ঢুকেছিস?’

‘আমি কারিগরপুত্র।’

‘বিনা অনুমতিতে আমার রাজ্যের সীমানায় ঢুকেছিস কেন?’

কারিগরপুত্র একটুও ভয় না পেয়ে বলল, ‘আমরা না জেনে ঢুকে পড়েছি।’

‘তবে যা রান্না করেছিস সব খাবার আমাকে দিয়ে যা।’

‘এ আমার বন্ধুদের জন্য রান্না করেছি, আগে তারা খাবে, তারপর আমি খেয়ে যা বঁাচবে তোমাকে দেব।’

কারিগরপুত্রের কথা শুনে ভীষণ রেগে গেল দৈত্য। তাকে তুলে নিয়ে দূরে ছুড়ে ফেলে দিয়ে সব খাবার খেয়ে চলে গেল।

খানিক পরে মন্ত্রীপুত্র এসে কারিগরপুত্রের কাছে সব শুনে নিজেই রান্না করতে বসল। উনুনের ধোঁয়া আকাশে উঠতেই আবার দৈত্য এসে হাজির। কারিগরপুত্রের মতো মন্ত্রীপুত্রকেও দৈত্য ছুড়ে ফেলে দিয়ে সব খাবার নিয়ে চলে গেল।

একটু পরেই স্নান সেরে এসে রাজপুত্র দেখে রান্না হয়নি। দুই বন্ধুর মুখে সব শুনে নিজেই রান্না করতে বসল। এবার দৈত্য এসে খাবার চাইতেই রাজপুত্র গম্ভীর গলায় বলল, ‘আমার বন্ধুদের কাছ থেকে সব খাবার তুমি কেড়ে নিয়েছ, আর কোনো খাবার পাবে না।’

দৈত্য রেগে গিয়ে যেই-না রাজপুত্রকে ধরতে গেল। রাজপুত্রও ঝাঁপিয়ে পড়ল তার ওপর। দু-জনে শুরু হয়ে গেল তুমুল মারামারি। কেউ কারোর চেয়ে কম যায় না। লড়াই করতে করতে একসময় দৈত্য ক্লান্ত হয়ে পড়ল আর তখনি রাজপুত্র তাকে তুলে নিয়ে দূরে ছুড়ে ফেলে দিল। তার বুকের ওপর পা দিয়ে চেপে ধরতেই দৈত্য হাতজোড় করে বলল, ‘রাজপুত্র আমাকে ছেড়ে দাও, আজ থেকে তুমি আমার প্রভু।’

রাজপুত্র দৈত্যকে ছেড়ে দিল। দৈত্য খুশি হয়ে বলল, ‘তোমার মতো এত বড়ো বীর আমি কোথাও দেখিনি, তোমার সঙ্গে আমার মেয়ের বিয়ে দিতে চাই।’

রাজপুত্র বলল, ‘আমি দেশভ্রমণে বেরিয়েছি, তুমি কারিগরপুত্রের সঙ্গে তোমার মেয়ের বিয়ে দাও।’

মহাধুমধাম করে কারিগরপুত্রের সঙ্গে দৈত্যের মেয়ের বিয়ে হয়ে গেল। তারা দৈত্যের প্রাসাদেই রয়ে গেল। রাজপুত্র আর মন্ত্রীপুত্র বন্ধুর কাছে বিদায় নিয়ে বেরিয়ে পড়ল। দৈত্যও তাদের সঙ্গে চলল।

যেতে যেতে তারা এসে পড়ল এক নগরে। চারদিকে কোথাও লোকজন নেই। দোকান-বাড়ি-ঘর সবই বন্ধ। ঘুরতে ঘুরতে হঠাৎ তাদের চোখে পড়ল একটা বাড়ির দরজায় বসে এক বুড়ি কাঁদছে। তার কাছে গিয়ে রাজপুত্র জিজ্ঞেস করল, ‘বুড়িমা তুমি কাঁদছ কেন?’

বুড়ি বলল, ‘দুঃখের কথা কী বলব বাবা। এক রাক্ষসের উৎপাতে নগরের সবাই জঙ্গলে পালিয়ে গিয়েছে। আমার ছেলে আমাকে নিয়ে চলে যাবে বলছে। এই পূর্বপুরুষের বাড়িঘর ছেড়ে যেতে মন চাইছে না, তাই কাঁদছি।’

রাজপুত্র বলল, ‘তুমি কেঁদো না বুড়িমা। আমরা যখন এসেছি, তখন তোমায় কোথাও যেতে হবে না।’

তারা সেই নগরেই রয়ে গেল। রাত্রি হতেই দৈত্য রাজপুত্র আর মন্ত্রীপুত্রকে বলল, ‘তোমরা ঘুমাও আমি পাহারা দিচ্ছি।’

রাত গভীর হতেই দৈত্য শুনতে পেল কে যেন ভীষণ গর্জন করছে। দৈত্য বাইরে এসে দেখে বিরাট চেহারার এক রাক্ষস। তালগাছের মতো লম্বা। ভাঁটার মতো তার দুটো চোখ জ্বলছে আর নিভছে।

দৈত্যকে দেখে রাক্ষস গর্জন করে উঠল, ‘কে তুই, আমার রাজ্যে এসেছিস?’

‘আমি দৈত্য। আজ থেকে এ রাজ্য আমার।’

‘দাঁড়া দেখাচ্ছি এ রাজ্য কার।’

রাক্ষস ঝাঁপিয়ে পড়ল দৈত্যের ওপর। দু-জনে শুরু হয়ে গেল যুদ্ধ। কখনো মাটিতে কখনো আকাশে। একবার দৈত্য রাক্ষসকে আছাড় মারে তারপরেই রাক্ষস দৈত্যকে উলটে দেয়। সারারাত লড়াই চলবার পর দৈত্য রাক্ষসকে কাবু করে ফেলল, এক আছাড়ে রাক্ষসকে মেরে দৈত্য ঘরে ফিরে গেল ঘুমাতে।

সকাল হতেই নগরে যারা ছিল তারা দ্যাখে রাক্ষস মরে পড়ে আছে। তারা গিয়ে জঙ্গলে কবর দিতেই সব লোক ফিরে এল। তাদের তখন সেকী আনন্দ! সবাই বলাবলি করতে থাকে, কে এমন শক্তিমান আছে যে এই রাক্ষসকে মারল। রাজা চারদিকে লোক পাঠিয়ে দিলেন।

বুড়ি তখন রাজপুত্র, মন্ত্রীপুত্র আর দৈত্যকে নিয়ে রাজপ্রাসাদে গিয়ে সব বলতেই রাজা খুশি হয়ে রাজপুত্রকে বললেন, ‘তুমি আমার নগরকে বিপদ থেকে মুক্ত করেছ, তোমার সঙ্গে আমার মেয়ের বিয়ে দিতে চাই।’

রাজপুত্র বলল, ‘মহারাজ, আমি দেশভ্রমণে বেরিয়েছি। আপনি মন্ত্রীপুত্রের সঙ্গে রাজকন্যার বিয়ে দিন।’

রাজা রাজপুত্রের কথামতো মন্ত্রীপুত্রের সঙ্গে তার মেয়ের বিয়ে দিল। কয়েকদিন সেখানে কাটিয়ে বন্ধুর কাছ থেকে বিদায় নিয়ে রাজপুত্র আর দৈত্য আবার বেরিয়ে পড়ল।

কত গ্রাম-নগর-জঙ্গল-মরুভূমি পার হয়ে একদিন তারা এসে পড়ল বিরাট এক পাহাড়ের সামনে। এত উঁচু পাহাড় মনে হয় তার চূড়াটা গিয়ে ঠেকেছে আকাশে। সেই চূড়ায় বিরাট একটা প্রাসাদ। রাজপুত্রের খুব কৌতূহল হল। দৈত্যকে বলল, ‘চলো পাহাড়ে উঠে দেখি কার প্রাসাদ।’

দৈত্য রাজপুত্রকে কাঁধে নিয়ে তরতর করে পাহাড়ের চূড়ায় উঠে গেল। চারদিকে পাঁচিল দেওয়া প্রাসাদ। সেই পাঁচিল টপকে ভেতরে ঢুকে পড়ল দু-জন। অপূর্ব সুন্দর প্রাসাদ। কত কারুকার্য। বড়ো বড়ো ঘর। সব সাজানো-গোছানো। কোথাও লোকজন নেই। ঘুরতে ঘুরতে রাজপুত্র দ্যাখে অপূর্ব সুন্দরী একটা মেয়ে। এত তার রূপ যে চোখ ফেরানো যায় না। রাজপুত্রকে দেখেই সেবলল, ‘কে তুমি এই রাক্ষসপুরীতে এসেছ। যদি বঁাচতে চাও এখনি পালাও।’

রাজপুত্র বলল, ‘আমি রাজপুত্র কিন্তু তুমি কে? এই নির্জন পুরীতে একা এলে কেমন করে?’

আমি ছিলাম এক রাজকন্যা। এই আকাশপুরীর রাক্ষস আমার বাবা-মা-আত্মীয় পরিজন সবাইকে মেরে আমাকে বিয়ে করবে বলে এখানে বন্দি করে রেখেছে। কিন্তু তোমরা এখানে এলে কেমন করে?

রাজপুত্র সব কথা বলল। আকাশপুরীর রাজকন্যা তার কথা শুনে বলল, ‘তোমরা অপেক্ষা করো, রাক্ষসের আসার সময় হল।’

খানিক পরেই মেঘের মতো গর্জন করতে করতে আকাশে ভেসে এল রাক্ষস। দৈত্য আর রাজপুত্রকে দেখেই চিৎকার করে উঠল, ‘কে তোরা আমার প্রাসাদে এসেছিস? দাঁড়া তোদের শিক্ষা দিচ্ছি।’

রাক্ষস কাছে আসতেই রাজপুত্র দু-হাতে তাকে জাপটে ধরল তারপর শূন্যে পাক খাইয়ে ছুড়ে দিল বহু দূরে সমুদ্রে। সাগরের অতল তলায় তলিয়ে গেল রাক্ষস। তারপর রাজপুত্র রাজকন্যাকে বিয়ে করে সেখানেই রয়ে গেল।

তাদের যখন যা প্রয়োজন হয় দৈত্য এনে দেয়। কোনো কিছুরই অভাব নেই তাদের। সুখে দিন কাটে রাজপুত্র আর রাজকন্যার।

একদিন রাজকন্যা পাহাড়ের নীচে নদীতে স্নান করতে নেমেছে হঠাৎ তার পায়ের জুতো ছিটকে পড়ে গেল নদীর জলে। ঢেউ-এর তালে তালে সেই জুতো ভেসে চলল বহু দূরে। এক রাজা নদীতে স্নান করছিল। রাজকন্যার জুতো দেখে তুলে নিল। এত সুন্দর জুতো কোনোদিন দেখেনি রাজা। সেভাবল, যার এত সুন্দর জুতো না-জানি সেআরও কত সুন্দর। যেমন করেই হোক একে আমি রানি করব।

সেই রাজা ছিল যেমন শয়তান, তেমনি অত্যাচারী। তার সব খারাপ কাজের অনুচর ছিল এক ডাইনি। রাজা ডাইনিকে বলল, ‘তুমি সন্ধান করে দ্যাখো এই জুতো কার। তিনদিনের মধ্যে তাকে আমার কাছে আনা চাই।’

ডাইনি জুতো নিয়ে বেরিয়ে নদীর ধার দিয়ে যেতে যেতে আকাশপুরীর পাহাড়ের কাছে এসে দাঁড়িয়ে পড়ল। প্রাসাদের ছাদে তখন চুল খুলে দাঁড়িয়ে ছিল রাজকন্যা। তাকে দেখে ডাইনি ভাবল, এ জুতো আর কারও নয়, ওই রাজকন্যার।

সঙ্গে সঙ্গে মাছি হয়ে উড়ে গেল রাজপ্রাসাদে। এঘর-ওঘর ঘুরে চুপটি করে বসে রইল রান্নাঘরে। সেখানে সকলের জন্যে খাবার ঢাকা দিয়ে রাখা ছিল। দৈত্য আর রাজপুত্র গিয়েছিল শিকারে। রাজকন্যা যেই-না স্নান করতে গিয়েছে ডাইনি নিজের রূপ ধরে রাজপুত্র আর রাজকন্যার খাবারে মন্ত্র দিয়ে দিল। রাজকন্যা ফিরে আসতেই আবার মাছির রূপ ধরে ঘরের এক কোনায় বসে রইল।

সন্ধেবেলায় শিকার করে ফিরে রাজকন্যা আর রাজপুত্র সেই খাবার খেতেই ঘুমিয়ে পড়ল। আর সেকী ঘুম! ধাক্কাধাক্কিতে সে-ঘুম ভাঙল না। ডাইনি তাড়াতাড়ি নিজের রূপ ধরে রাজকন্যাকে কাঁধে তুলে নিয়ে চলল তার রাজার প্রাসাদে। দৈত্য পাহাড়ের নীচে এক গুহায় ঘুমিয়ে ছিল, সেকিছুই জানতে পারল না।

ডাইনি রাজকন্যাকে নিয়ে শয়তান রাজার রাজপ্রাসাদে এনে শুইয়ে দিল। রাজা তো রাজকন্যার রূপ দেখে অবাক। রাজকন্যার ঘুম ভাঙতেই বলল, ‘আমি তোমাকে বিয়ে করব।’

রাজকন্যা কিছুই বুঝতে পারে না। বলল, ‘কে তুমি? আমাকে কোথায় নিয়ে এসেছ?’

রাজা বলল, ‘আমি এই দেশের রাজা। তোমাকে বিয়ে করব বলে নিয়ে এসেছি।’

রাজকন্যা চেঁচিয়ে উঠল, ‘কখনোই আমি তোমাকে বিয়ে করব না। যদি ভালো চাও তো আমাকে আকাশপুরীতে পৌঁছে দিয়ে এসো, নয়তো আমার স্বামী আর তার অনুচর তোমাকে এমন শাস্তি দেবেন যা তুমি কল্পনাও করতে পারবে না।’

শয়তান রাজা রাজকন্যার কথায় কান দিল না। তাকে একটা ঘরে বন্দি করে রেখে চলে গেল।

পরদিন সকালে আকাশপুরীতে রাজপুত্রের ঘুম ভাঙতেই দ্যাখে রাজকন্যা নেই। চারদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করে দিল কিন্তু কোথাও রাজকন্যাকে পেল না। দৈত্য বলল, ‘নিশ্চয়ই কোনো শয়তান রাজকন্যাকে চুরি করে নিয়ে গিয়েছে।’

দু-জনে বেরিয়ে পড়ল। মন্ত্রীপুত্র আর কারিগরপুত্রও সব শুনে রাজপুত্রের সঙ্গে রাজকন্যাকে খুঁজতে থাকে। এক দেশ থেকে আর এক দেশ তারা ঘুরতে থাকে। কোথাও রাজকন্যার সন্ধান পায় না। শেষে হাজির হল শয়তান রাজার রাজ্যে। শুনতে পেল রাজার নাকি বিয়ে। রাজপুত্রের কেমন সন্দেহ হল। মন্ত্রীপুত্রকে বলতেই মন্ত্রীপুত্র এক জ্যোতিষীর সাজ পরে রাজার কাছে গিয়ে হাজির।

রাজপ্রাসাদে বসেছিল রাজা। মন্ত্রীপুত্র রাজাকে বলল, আর দশদিনের মধ্যেই আপনার বিয়ে হবে।

রাজা খুব খুশি। বলল, ‘আপনি যদি রাজকন্যাকে বিয়েতে রাজি করাতে পারেন, তবে যা চাইবেন তাই দেব।’

মন্ত্রী গিয়ে হাজির হল রাজকন্যার কাছে। তার কানে কানে অনেক কথা বলে, ফিরে গেল রাজপুত্রের কাছে।

পরদিন রাজকন্যা শয়তান রাজাকে বলল, ‘আমি তোমাকে বিয়ে করব যদি আমাকে কাঠের ঘোড়ায় আকাশে উড়িয়ে আনতে পার।’

রাজা কোনোদিন কাঠের ঘোড়া দেখেনি। সারা রাজ্যে ঢ্যাড়া পিটিয়ে দিল, যে কাঠের ঘোড়ার সন্ধান দিতে পারবে তাকে অনেক পুরস্কার দেওয়া হবে।

রাজপুত্র কারিগরপুত্রকে সেকথা বলতেই সেবলল, ‘তোমার কোনো চিন্তা নেই, আমি কাঠের ঘোড়া বানিয়ে দেব।’

তিনদিন তিনরাত ধরে কারিগরপুত্র ঘোড়া তৈরি করল। ঠিক যেন জ্যান্ত ঘোড়া। রাজার কাছে নিয়ে যেতেই রাজা খুব খুশি। কারিগরপুত্রকে দু-হাত ভরে সোনা-রূপো দিল। তারপর রাজকন্যাকে নিয়ে ঘোড়ায় চড়ে বসল। ঘোড়ার কান মোচড়াতেই ঘোড়া আকাশে উড়তে আরম্ভ করল।

কারিগরপুত্র এমন ঘোড়া তৈরি করেছিল যে আকাশে উঠেই ঘোড়া চলতে আরম্ভ করল আকাশপুরীর দিকে। শয়তান রাজা তাকে ফেরাবার কত চেষ্টা করল কিন্তু কিছুতেই ঘোড়া ফিরল না। ঘোড়া গিয়ে নামল আকাশপুরীর প্রাসাদে।

সেখানে দাঁড়িয়ে ছিল দৈত্য আর রাজপুত্র। দৈত্য শয়তান রাজার চুলের মুঠি ধরে ঘোরাতে ঘোরাতে তাকে শূন্যে ছুড়ে দিল। শয়তান রাজার সব শয়তানির জন্মের মতো শেষ হয়ে গেল।

রাজকন্যাকে ফিরে পেয়ে রাজপুত্রের সেকী আনন্দ! মহাধুমধাম করে সবাই ফিরে চলল যে-যার নিজের রাজ্যে।

সকল অধ্যায়
১.
ওঝা ও পাহাড়ি ভূত
২.
দুই সূর্য
৩.
মহিষ ও রাখালছেলে
৪.
তিন বন্ধু
৫.
বাঘ মামার কথা
৬.
কুঁজো আর অন্ধ
৭.
দেবতার অভিশাপ
৮.
সাতবোকা
৯.
বাহাদুর আর এক-পা-ওলা দৈত্য
১০.
সাধু ও মহাজন
১১.
চালাক ভোলানাথ
১২.
বামুন আর শেয়াল
১৩.
আকাশপুরীর রাজকন্যা
১৪.
অতি চালাকের গলায় দড়ি
১৫.
তিন জামাই
১৬.
শেয়ালবউ-এর বুদ্ধি
১৭.
শেয়াল আর বোকা বাঘ
১৮.
বুদ্ধিমান চোর
১৯.
শুয়োরের শিং
২০.
রাখালছেলে ও পরির দেশের রাজকন্যা
২১.
তাঁতির কুঁজ
২২.
চার চোর
২৩.
কাঠুরে নাপিত আর রাজকন্যা
২৪.
মহেশ্বর
২৫.
আয়না
২৬.
শেয়াল ও বুড়োবুড়ি
২৭.
এক দাঁত ফোকলা
২৮.
বুদ্ধি থাকলেই উপায় হয়
২৯.
ভীম আর জলদৈত্য
৩০.
চার ভাই
৩১.
সুরের জাদু
৩২.
ভূত ও ভূতনাথ
৩৩.
রসিক রাজু

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%